ঊন গল্প > অন্য আলোয় সমুদ্রদর্শন >

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:২৩ |

(শততম পোস্ট। উৎসর্গঃ যারা এখনো সমুদ্র দেখেনি)
নিয়মিত যে পিচ্চি ঢেউগুলো আসছিল মেয়েটির পা স্পর্শ না করেই ফিরে যাচ্ছিল। এবার তাই মেয়টি আরো একটু এগিয়ে দাঁড়াল। এবার জল উঠে এল হাঁটু পর্যন্ত। ঠান্ডা স্পর্শ। একটু যেন শির শির করে ওঠে। একটা বড়মাপের ঢেউ এসে হাঁটুরও ওপর উঠে গেল। সাথে যে কুঁচো শামুকগুলো ভেসে এসেছিল তাদের অনেকেই আর ফিরতে পারবে না জলে। বালিতে একদিন পরেই মৃত্যু ঘটবে। তখন সন্ধ্যা নামছে খুব ধীরে। নববধুর দুই ভ্রুর মাঝখানে লাল টিপের মত সূর্যটা টুপ করে ডুবে গেল। লাল কিছু আভা তখনো মেঘের গায়ে লেপ্টে আছে। নীল জলরাশী মুহূর্তে মনে হলো যেন বিশাল একটা দোয়াত উপুড় করে সমুদ্রে ঢেলে দেওয়া কালির মত।কৃষ্ণপক্ষ তাই চাঁদ উঠবে না। সেই কালো তির তির করে নড়তে থাকা জলরাশীর দিকে অনেকক্ষণ চেয়ে থাকল মেয়েটি। একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো নিজের অজান্তেই।

অন্য কারো জন্য যে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিল মেয়েটি সেই অন্যজন তখন তার বারান্দায় বসে নির্বাক আকাশ দেখছে। হাজার বার দেখা আকাশ,তবুও যেন মনে হয় অচেনা। আজই প্রথম দেখছে! আসলে সে আকাশ দেখছিল না। আকাশের দিকে চেয়ে রোজই সে আনমনা হয়ে রিওয়াইন্ড করে। ফেলে আসা টুকরো টুকরো স্মৃতি জোড়া দিয়ে একটা লম্বা সূতো বানায় তাতে ঘুড়ি বেঁধে আকাশে উড়িয়ে দিয়ে ফিরে যায় শৈশবে। যৌবনের প্যাক্ট স্মৃতিগুলো খুব একটা নাড়া দেয় না, কেননা সেসব কেবলই গড্ডালিকা প্রবাহের ইতিহাস।

মিকা। এর নাম মিকা। অদ্ভুতধরণের নাম। কেন এমন নাম তা নিয়ে আগে মাথা ঘামালেও এখন আর কিছুতেই কোন কিছু যেন যায়-আসে না ওর।মিকা। ব্যাস শুধুই মিকা।পরিণত বয়েসের মিকা আশ্চর্যজনকভাবে প্রকৃতির সবচেয়ে আশ্চর্য্য সৃষ্টি সমুদ্র দেখেনি! এটা নিয়ে অনেকদিন ধরে একধরণের অহমিকা তৈরি করেছিল সে! যেন খুব গর্ব করার মত একটা ব্যাপার! আসলে জীবনের বেপথু চক্রে ঘুরতে ঘুরতে কখন যেন একবার আবিষ্কার করল…সে সমুদ্র দেখেনি! কেন দেখেনি? তার চলনসই কোন কারণ বা ব্যাখ্যাও তার জানা নেই। শেষে এভাবে মিলিয়ে নেয় যে, দেখা হয়ে ওঠেনি।ব্যাস। মনুষ্য জীবনে কতকিছুই তো করা হয় না। কত মানুষই তো সারাটা জীবন হাজারো না-পাওয়া সম্বল করে মরে যায়,যায় না? খুব যায়! এটা ভেবেই একধরণের সেটেলমেন্ট করে নেয় মিকা।

যে মেয়েটি সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে পা ভেজাচ্ছিল তাকে ইনিয়ে বিনিয়ে অনেকবার মিকা বলেছে তার এই না-দেখা কষ্টের কথা। মিকার সেই পরিণত বয়সের বন্ধু শাদরা
মিকাকে বলেছে….
_ যাওনা, একদিন হুট করে চলে যাও, দেখবে ভাল লাগবে..
_কার সাথে যাব?
_সাথে লাগে নাকি? বোকা। একাই চলে যাও, নয়ত বউ-বাচ্চাদের নিয়েই যাও….
_না, এভাবে আর যাওয়া হয়না। যখন একা যাওয়ার বয়স ছিল তখনো যাওয়া যেহেতু হয়নি, আর কি দরকার!
_তোমার এই একগুয়েমির কারণে জীবনে কি কি হারিয়েছ জানো?
_জানি। নষ্ট সময়কে টেনে টেনে ভাল সময়ে নিতে পারিনি, জয়ীতার পেটের বাচ্চাটা ফেলে দেওয়ার সেই সাহসী সিদ্ধান্তটায় সায় নিতে পারিনি, তাকে তার স্বামীর শেকল থেকে মুক্ত করতে পারিনি,তোমাকে খুব সাহস করে কাছে টানতে পারিনি…… এমন আরো কত না-পারা আছে, যা নিয়ে আর ভাবি না।
শাদরা কিছুক্ষণ অবাক হয়ে অনেক চেনা মুখটা আবারো যেন নতুন করে দেখে। আবারো একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। ওর এই শ্বাসটাকে দীর্ঘ করাও একটা অভ্যেসে দাঁড়িয়ে গেছে। ভেতরে ভেতরে মিকার জন্য কষ্ট হয়,মায়া হয়,কখনো কখনো করুণাও হয়, কিন্তু যখনই বোঝে ‘না’ কে ‘হ্যাঁ’ করতে গেলে একটা বড়ধরণের চড়াই উৎরাই পেরুতে হবে,তখনই পরিণত বযস তাকে হ্যাচকা টানে থামিয়ে দেয়। কিছুতেই আর সে এগুতে পারে না। কোন কোন রাতে, অনেক রাতে মিকার কথা ভাবে। কোন কামনা বা অবসেশন নেই! কেবলই মনে হয় এই শেষহীন পথের শেষ কোথায?

শরৎ হেমন্ত পেরিয়ে একসময় শীতও পার হলো। অনেক দিন শাদরা আর মিকার দেখা হয়নি। আজকাল অবশ্য ওরা দেখা করার চেয়ে ফোনে কথা বলতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করে।ফোনের অনেক সুবিধে। চোখে ঘৃণা না করুণা,নাকি প্রত্যাখান তা বেশ চেপে রেখে কথা বলা যায়। হাসি না পেলেও খিল খিল করে হাসা যায়। মিকা তার ভেতরে বাসা বাঁধা আয়ূক্ষয়ী সেই পরম অনাত্মিয়দের কথা বলতে পারে, যারা খুব ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে মিকাকে শেষ করে দিচ্ছিল। শাদরা ব্যতিব্যস্ত হয়। অমঙ্গল আশঙ্কায় ফোনেই অস্ফুট শব্দ করে। মিকার এসব বেশ লাগে। জানে একদিন কোন এক মাহেন্দ্রক্ষণে তার মাথার ভেতর জায়গা করে নেওয়া পরমাত্মিয়টি বড় হবে, একদিন কাউকে সামান্যতম বিরক্ত না করেই সে আরো বড় হবে, এবং একদিন খুব কম সময়ের ভেতরই সব কিছু শেষের প্রান্তে নিয়ে যাবে, যেখান থেকে আর কেউ ফেরানোর চেষ্টা করেও তা পারবে না। এটা যে কষ্টের ভাবনা সেটাকে কি ভাবে যেন মিকা জয় করে ফেলেছিল!

শীত শেষ হওয়ার পর পরই যখন পাতাঝরা শুরু হলো,একদিন মিকা শাদরাকে খুব করে কাছে পেতে চাইল। শাদরাও ঠিক করেছিল আসবে। এই শহরের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত পর্যন্ত অনেক মানুষ যাওয়া-আসা করল,প্রতিমুহূর্তে অজস্র মানুষ একে অপরের কাছে আসল,আবার দূরে চলে গেল। কিন্তু শাদরার আসা হলো না। পরকীয়া ব্যাপারটা বোধহয় এমনই,খুব লুকিয়ে ভালবাসতে হয়। অনেক অভিজ্ঞতার মিশেলেও মানুষ যেন একেবারেই সেই শৈশবের ফুল ছুঁড়ে দেওয়ার লজ্জা আর বুক দুরু দুরু অবস্থানে চলে যায়। প্রেম বিয়ে সন্তান সংসার এসবের পরিণত অভিজ্ঞতাও কোন কাজে আসে না। তার পরও হতচ্ছাড়া মানব হৃদয় পরকীয়ায় লীন হয়। হতেই হয়। কখনো কখনো কোন উপায় থাকে না মানুষের।

শাদরা আসতে পারল না।মিকা জানে সে আসবে না। তার পরও কেমন একটা ঘোরলাগা টানে বিশ্বাস রেখেছিল, হয়ত আসবে। কিন্তু কেন আসবে সেটা মিকা জানায়নি। অথচ সেটা জানালে শাদরা যত বাধা বিপত্তিই থাকুক ছুঁটে চলে আসত! কেন আসত? এটাই বোধহয় মানুষ পরে ভাবে। ভাবে…..কেন আগে বলোনি? তুমি যদি বলতে…..কিন্তু বলার পর যদি না আসতো? তাই মিকাও বলেনি। পরিণত বয়সের সামাজিক অবৈধ সম্পর্ক বোধকরি এমনই। সেই রাতে, যে রাতে মিকা খুব করে শাদরা অনুভব করেছিল, খুব করে চেয়েছিল শাদরা এলে তার কোলে মাথা রেখে শোবে। হয়ত সেই শোয়াই শেষবারের মত পরিতৃপ্ত শোয়া হতো। কোন অতৃপ্ত কামনা নয়, কোন শরীরী চাহিদাও নয়, কেবলই শাদরাকে কাছে পাওয়া, কেবলই পরম শান্তিতে তার কোলে মাথা রেখে প্রগাঢ় লম্বা টানা ঘুমের রাজ্যে ডুবে যাওয়া……কিন্তু ঘুমোতে যাবার আগেই মাথার শত্রু আর নালি বন্ধ হওয়া শত্রু একসাথে আক্রমন করে বসল!

এ্যাম্বুলেন্স,হাসপাতাল,অক্সিজেন এসবের জন্য যে সময়টুকু পাওয়া গেল তা যথেষ্ট ছিল না, ডাক্তারদের মত সেরকমই। ভেতরে ভেতরে কতখানি শেষ করেছিল তা কেউ জানেনি বলেই নাকি সময়টা খুব কম ছিল। এই শহরে যখন কোথাও একসাথে হাজার বাতি জ্বলে উঠেছিল, যখন পরম আদরে কেউ তার সন্তানকে বুকে চেপে ধরছিল, যখন নতুন শয়ে শয়ে শিশুর আগমন ঘটছিল….. ঠিক সেই সময়ে, বরাদ্দের শেষ সময়ে মিকা শেষ বার চোখ মেলে চাইল…
ব্যতিব্যস্ত আত্মিয়রা ব্যাকুল। কে যেন জানতে চাইল, “কাউকে কি দেখতে চাও?” কোন কথা বেরুল না সেই মুখে। নাকে অক্সিজেন মাস্কটার উপরে ভাবলেশহীন চোখে মনে হয় মুহূর্তে কিছু বলতে চাওয়ার অনুভূতি। কে যেন মুখের কাছে কান নিয়ে শুনতে চাইল…..আরো কিছুক্ষণ বাদে একটা অস্পষ্ট শব্দ…..‘সমুদ্র দেখতে কেমন? ’ একসাথে সমস্বরে কেউ কেউ বলার চেষ্টা করল, কেউ কেউ বলতে থাকল…..কে শুনছে? বিকেলের আধোআলো আধোআঁধারেরর নীল জলের ওপর শেষ বারের মত চক্কর দেওয়া গাংচিলের নখরে ছোট মাছটা কিছুক্ষণ ছটফট করে শান্ত হয়ে গেল। এখন আর সীগালরাও নেই। এ্যালবাট্রসরা মাস্তুলে ছিল, তারাও ঘরে ফিরেছে। অনেক দূরে কিছু সাম্পান একবার ডুবে যাচ্ছে আবার যেন ভেসে উঠছে।

অনেক রাতে মিকার ফোনে একটা কল এলো। টেলিপ্যাথী না। স্রেফ শাদরার রুটিন কল। মিকার ছোট ছেলে বলেছিল খবরটা। ধাক্কাটা সামলানোর জন্য শাদরা প্রায় মিনিট খানেক পজ নিয়েছিল। তারপর ফোনটা কেটে দিয়েছিল। ঘোরের মধ্যে হেঁটে হেঁটে বড় আয়নাটার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ নিজের চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়েছিল। হাতে উঠে এসছিল চুলের কাঁটা। কাঁটা দুটো খুব ধীরে চোখের দিকে উঠে আসতে চেয়েও আসেনি। মানুষ বোধকরি তার একটা লোমকূপকেও প্রচন্ড ভালবাসে।

এরও সাত দিন পর একটা কিশোরী দাঁড়িয়েছিল বেলে ভূমিতে। একা। নিয়মিত যে পিচ্চি ঢেউগুলো আসছিল মেয়েটির পা স্পর্শ না করেই ফিরে যাচ্ছিল। এবার তাই মেয়টি আরো একটু এগিয়ে দাঁড়াল। এবার জল উঠে এল হাঁটু পর্যন্ত। ঠান্ডা স্পর্শ। একটু যেসন শির শির করে ওঠে। একটা বড়মাপের ঢেউ এসে হাঁটুরও ওপরে উঠে গেল।
দরিদ্র ঘরের অনাদরে বেড়ে ওঠা মেয়েটি দুটি চোখ হারিয়ে কতকাল যে অন্ধ ছিল, সে কার যেন দান করা একজোড়া চোখ পেয়ে হাসপাতাল ছাড়ার পরদিনই বলেছিল……. ‘সমুদ্র দেখতে কি অনেক টাকা লাগে বাবা!’ দিনমজুর বাপ মেয়েটির এই আব্দার মেটানোর জন্য সেই রাতেই ঘরের খুঁটিতে জমানো পয়সা দিয়ে মেয়েকে নিয়ে চলে গেছিল সমুদ্রে। কেন তা নিজেও যানে না। একটা জামা কিনে দিতে পারে না যে বাবা সে কেন এলো কেউ জানতে পারল না। বড় বড় দুটো চোখ দিয়ে মেয়েটি অবাক বিস্ময়ে অপার মমতায় সমুদ্র দেখতে থাকল। নিজের অজান্তেই জলের ধারা গন্ড বেয়ে নোনা জলে মিশে গেল!

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ও সমুদ্র কাছে এসো………………. ;
প্রকাশ করা হয়েছে: এন্টি গল্প  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১০ রাত ২:৩১ |

 

২৫৮ বার পঠিত৩৬১০

৪৩টি মন্তব্য

১. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:২৫

মনজুরুল হক বলেছেন: comment by: অপ্‌সরা বলেছেন: যাক শেষ পর্যন্ত একটা সমুদ্রের গল্প লিখলে।যদিও অনেক কষ্টের একটা গল্প।। তবুও অনেক সুন্দর!!

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:০৫

লেখক বলেছেন:
——————————————————————————–
অপ্‌সরা বলেছেন: যাক শেষ পর্যন্ত একটা সমুদ্রের গল্প লিখলে।যদিও অনেক কষ্টের একটা গল্প।। তবুও অনেক সুন্দর!!
——————————————————————————–এই মন্তব্যটি অপসরা যে পোস্টে করেছিলেন সেটি ড্রাফট হয়ে যাওয়ায় তার মন্তব্যটি
কপি পেষ্ট করা হলো।

২. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৩২

ত্রিশোনকু বলেছেন: অপূর্ব।

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৩৮

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ত্রিশোনকু।

৩. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:২০

 বলেছেন: হমমম…

মন কেন খারাপ হয়? (নিজেরেই জিজ্ঞেস করলাম্)

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৪২

লেখক বলেছেন:
আমিও নিজেরে অনেক জিজ্ঞাসাইছি, উত্তর পাই নাই! তবে মন খারাপ ব্যাপারটা সংক্রামক!!

৪. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৪৪

নাজিম উদদীন বলেছেন: হুমম, আবেগ না থাকলে কত সুন্দর দৃশ্য আমরা হারাতাম।

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:০৮

লেখক বলেছেন:
“বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, আর কেড়ে নিয়েছে আবেগ”কে বলেছিল মনে নেই, কিন্তু কথাটা ঠিক না। বিজ্ঞানের এই চরম উৎকর্ষের যুগেও হিউম্যান বিঙ অবধারিতভাবেই আবেগাক্রান্ত! কার্ল সেগানকেও তাই আবেগ কে টাচ করতে হয়।

৫. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৪৫

 বলেছেন: মাঝে মাঝে মনে হয়, আবেগ আছে বলেই অনুভব করতে পারি যে এখনো বেঁচে আছি।

কি অসাধারন সে অনুভূতি!

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:১১

লেখক বলেছেন:
কার্ল সেগানের লেখা “কন্ট্রাক্ট” ছবিতে স্পেসের অনেক জানা-অজানা দেখানোর পর কার্ল দেখালেন….স্পেস এর একটি যায়গা স্বর্গের মত! সেখানে পৌঁছে গেল মাদারশিপ। এবার শিপ থেকে নায়িকা নামলেন। দেখলেন তার মৃত স্বামী বালুকা বেলায় হেঁটে আসছে! দুজন কাছাকাছি হলো, কথা হলো, কিন্তু ছুঁয়ে দেখা গেল না! এক সময় লোকটি হাঁটতে হাঁটতে ফিরে গেল !! সেখানেও ওই আবেগটুকুর দরকার পড়েছিল।বেঁচে থাকার চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই, তা সে যতই বিকলাঙ্গভাবে হোক না কেন..

৬. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:২০

সামান্তা বলেছেন: খুব সুন্দর লিখা

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:০৩

লেখক বলেছেন:
আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগতম।

৭. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:২০

শফিউল আলম ইমন বলেছেন: লেখা অনেক ছোট কিন্তু গল্পের বিশালতা আছে। বেশ ভাল লাগল।
কেমন আছেন?

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৯

লেখক বলেছেন:

ভাল আছি ইমন। সময় নিয়ে পড়েছেন বোঝা গেল।

শুভেচ্ছা আর শুভকামনা।

৮. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:৪২

ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: একটূ খটকা লাগছে, প্রথম মেয়েটার সাথে দ্বিতীয় কিশোরীর সম্পর্ক কি?

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫০

লেখক বলেছেন:
প্রথম মেয়েটি সমুদ্র দেখে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ! কারণ “একজন” সমুদ্র দেখেই নি!!
দ্বিতীয় মেয়েটি সেই “একজন”এর মৃত্যু হলে তার দান করা চোখ দিয়ে সমুদ্র দেখে…..এবার কি খটকাটা দূর করতে পারলাম ?

৯. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৭

কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন: মনজুরুল, মন খারাপের অসুখ আমাকে ছাড়িয়ে ক্রমস বেড়ে উঠছে আদিগন্ত।

রহমান ঠিকই বলেছেন।

সমুদ্র একটার কত দামে কেনা যায়, কত বারুদ চাই মেয়েটির চোখের জল বাস্প করতে?

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:১০

লেখক বলেছেন:

আমি শুধু এটুকুই জানি
আমি শুধুমাত্র এতটুকুই জানি
অন্যের চোখে হলেও যে সমুদ্র দেখে

সে তো প্রাণ ভরেই দেখে।
আর যার চোখ, সে তো ডট! একটি একাকী ডট!

জলের কি বা সাধ্য যে সে বারুদ ঠেকায়?
তথাপী বারুদ নেভে সেই চোখেরই জলে!!
এ এক বিপ্রতীপ উপাখ্যান! যার শেষ নেই……

১০. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৮

আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: আবেগগুলো আজকাল নেমে যাচ্ছে- এলেখাটা পড়ে আবার চলাৎ করে উঠল!

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৮

লেখক বলেছেন:
যুক্তিহীন বোবা আর অবাধ্য আবেগ নিয়েই যেন বসবাস…………………………….

১১. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫০

আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: মাঝে মাঝে অসহ্য লাগে; মনে হয়, “ধুর,ছাই”বলে সবকিছুতে আগুন লাগিয়ে দিই।

আমার আগুন লাগানো হয় না, আগুনেই পুড়ি।

২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১০

লেখক বলেছেন:

মানুষের এই সময়কার সব চেয়ে অবাক করা বিষয় মনে হয়…..

মানুষ হঠাৎ করেই “শিশু”র মত আচরণ করে!
একটা অবুঝ শিশুকেও সে আপন ভেবে তার মনের কথা খুলে কয !
আর তখনই বুঝতে হয় ওই মানুষটার
ভয়ানকভাবে “ভাল-না-লাগা” রোগ হয়েছে !!
তখন আসলে কারো কিছুই করার থাকে না। কিছুই না।

১২. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:৪৩

বলেছেন: স্লামডগ মিলোনিয়ার, আজ দেখলাম, ভাল লাগলো।

২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২৮

লেখক বলেছেন:
দেখার চেষ্টা করেও কোন লাভ নাই ! পাব কৈ? হুমম। এফবি তে কমেন্টস দিলাম।

১৩. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৬

ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: মাথায় কিসসু নাই…সাহিত্যের মজাই লইতে পারলাম না!

২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১০

লেখক বলেছেন:
“সাহিত্যের মজা” লইতে পারেন নাই !
ভাল হইছে। গভীরে ঢুকলে কষ্ট,নিরবধি কষ্ট!!

১৪. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৩০

 বলেছেন: এইরকম লেখা যদি আর লেখেন আপনার খবর আছে মিয়া।

২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:০৩

লেখক বলেছেন:
আপনি লিখলে আমিও এই একই কথা বলতাম!
কিন্তু রক্তমাংশ হাড়গোড় আর পাঁজড়ের ভেতর কোথায় যেন একটা ধুকপুক করা যন্তর থাকে, সে হঠাৎ হঠাৎ করেই অবাধ্য হয়ে যায় !!

১৫. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:০৫

তারার হাসি বলেছেন:
আমি এরকম কিছু পাইনি; কমল পেয়েছে কড়ি,
শিশির পেয়েছে শঙ্খ, আর নীরা যা চেয়েছে তা-ই।-নিমেলেন্দু গুণ

২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৫৬

লেখক বলেছেন:
গুণ? নীরার জন্য ভালবাসা?
গুণের কবিতার উত্তর আমার জানা নেই। দুঃখিত।
আপনার মন্তব্য হলে আপ্রাণ চেষ্টা করতাম প্রতিউত্তর দেবার।

১৬. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৪১

আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: আবেগাক্রান্ত পৃথিবীটা কতসুন্দর সেটা আবার মনে করিয়ে দিলেন।+++++

২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫৮

লেখক বলেছেন:
আমি ওই অন্ধ মেয়েটির চেয়েও হতভাগা !
ও তো তাও কারো চোখ পেয়ে তাকে সার্থক করেছে।
আমার তো সে ভাগ্যও হয়নি! এখন ভাবি আর কি দরকার!এই তো বেশ আছি,
আকাশের কাছাকাছি।

১৭. ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪০

মনজুরুল হক বলেছেন:

@তারার হাসি।

“আমি এরকম কিছু পাইনি; ……………..এটা কি আপনার কথা, না পুরোটাই গুণের
কবিতা? যদি তা না হয়ে প্রথম অংশটুকু আপনার হয়, তাহলে বিণীত জিজ্ঞাস্যঃ……

আপনি কি আর একবার দয়া করে মন্তব্য করবেন ? প্রীত হতাম। জ্যাম হয়ে যাওয়া চিন্তার জট খুলত হয়ত।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৫৩

লেখক বলেছেন:

১৮. ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪৯

তারার হাসি বলেছেন:
মানুষ, (বিশেষ করে আমার মত যারা… যারা ভাল লিখতে পারে না) যখন অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে করতে পারে না তখন কবিদের আশ্রয় নেয়।
একবার ভাবেন রবীন্দ্রনাথ না থাকলে কি হত !!

২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৪

লেখক বলেছেন:

হ্যাঁ। রবীন্দ্রনাথ না থাকলে ….

“কেন যামিনী না যেতে জাগালে না…বেলা হলো মরি লাজে…” গানটা পেতাম না!!

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s