মনামি উপাখ্যান > উত্তাল ধূলিঝড় >

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৬ |

মনামি তুমি কি খুব ক্লান্ত?
হ্যাঁ।
মনামি তোমাকে তাবুও বলতে হচ্ছে!
হ্যাঁ।
মনামি,চাইনা,তবুও প্রশ্ন আসে, না ?
হ্যাঁ।
মনামি তারপর কি গরম পানি দিয়ে…
হ্যাঁ।
মনামি তোমার মুখে গরম পানি ঢেলেছে?
হ্যাঁ।
সেই পানিতে ঝাল মেশানো ছিল মনামি?
হ্যাঁ।
অথচ কি দৃঢ়চেতা তুমি, কিছুই বলনি !
না।
ওরা কি বলাতে চায় মনামি ?
…..
মনামি ওরা কি তোমাকে রাষ্ট্রদ্রোহি বলে?
হ্যাঁ।
মনামি তোমার তামাশাবিচার শুরু হবে…
হ্যাঁ।
মনামি তোমাকে বিচারে ফাঁসী দেওয়া হবে…
হ্যাঁ।

টানা দশদিন।হ্যাঁ,টানা দশদিন “নিতে পারার” পরীক্ষা,সইতে পারার পরীক্ষা,পুঞ্জিভূত ঘৃণা আর জমে থাকা যৌনতার স্খলন,বিজাতীয় পুলকে বারংবার মনামিতে উপগত হওয়ার পর
যখন তাদের একঘেয়েমি এসেছিল,যখন তাদের রক্তারক্তি দেখে ঘেন্না লেগেছিল,তখন মনামিকে কোর্টে চালান করা হয়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে দেখে মনামি নিজেই অবাক! তখনো উরুসন্ধিস্থল থেকে চুইয়ে চুইয়ে রক্ত গড়াচ্ছে!পা-বেয়ে সেই রক্তসমতলে মিশে যাচ্ছে! মাছিদের ডাকা হয়নি, কিভাবে যেন তারাও এসে যাচ্ছে। রক্তের ওপর মাছিদের হুটোপুটি। পরে, আরো পরে এ মাছি ঠিক বিপ্লবী হবে। জানলও না কর্তৃপক্ষ।

মনামি তুমি কি জান,তোমার অপরাধ?
হ্যাঁ।
মনামি তুমি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দ্রোহ করেছ।
হ্যাঁ।
রাষ্ট্রদ্রোহের শাস্তি কি জানো মনামি?
হ্যাঁ।
মনামি তোমার ফাঁসীর আদেশ হবে…
…..
মনামি তুমি কি কিছু বলবে কাউকে?
না।
মনামি কোন আপীল করবে তুমি?
না।
মনামি তোমার জন্য কেউ কিছু করল না!
…..
মনামি এখন তোমার ফাঁসীর রায় লেখা হচ্ছে..
…..
মনামি কিছুই কি বলার নেই তোমার?
না।
হায় মনামি,জগতে চাঁদ-সূর্যও এতটা একা নয়!
…..
তুমি কি ভীষণ একা মনামি! কি ভীষণ একা!
না।

হঠাৎ প্রচন্ড শব্দে বোমা ফাটে এজলাসে।কার্বাইডের গণ্ধে নাক জ্বলে ওঠে।ধোঁয়ায় ছেঁয়ে যায় চারিধার। তারপর আরো একটা।দুটো। পরপর। একের পর এক বোমা। ধোঁয়ার ভেতর থেকে দেদূতের মত বেরিয়ে আসে চারটে তরুণ। চারটে তরুণ ঘন ধোঁয়া থেকে বেরিয়ে আসে। একজন পাঁজাকোলে তুলে নেয় মনামিকে। চিৎকার এবং নৈশব্দ চিরে একটা চাপা অথচ পষ্ট শ্লোগান ভেসে আসে। সাথীদের কাঁধে মনামি। ভাঙ্গাচোরা মনামিকে কাঁধে নেওয়া তরুণ কি আরো ভার বইতে পারে? পারে। মনামিরা মিশে যায় মনামিদের ভিড়ে। দঙ্গলে।

বিরুদ্ধ স্রোতে যাত্রা………

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মনামিমনামি ;
প্রকাশ করা হয়েছে: কবিতা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:১২ |

 

২৫১ বার পঠিত২২

২২টি মন্তব্য

১. ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫৪

ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: রক্তের ওপর মাছিদের হুটোপুটি।-

চমৎকার দৃশ্যটা! খুবই ভালো লাগলো এই উপাখ্যান। মনামি পরিণত হয়ে গেছে এখন অনেক!

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৭

লেখক বলেছেন: মনামি এবার রিভেঞ্জে যাবে। মনামি আরো পরিনত হবে।

২. ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১০

জাতিশ্বর বলেছেন: অনেকদিন পর আইলাম বস। বাকিগুলা পড়ি আগে।

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০১

লেখক বলেছেন: আচ্ছা। ধন্যবাদ।

৩. ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৪

লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন: এই স্বপ্ন কেন আবার দেখান মনজুরুল হক? বিপ্লবের কি কিছু অবশেষ আছে এখন? ………সেই আশির দশকের কথা। আমরা ভাঙব আমর গড়ব…..মা……..পাভেল, নাতাশা, শাশা কে আবার এনে দাঁড় করিয়ে দিলেন আমার সামনে। মনামির জন্য অনেক ভালবাসা। আপনার জন্য শুভেচ্ছা। ভাল থাকুন।

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৬

লেখক বলেছেন:
অবশেষে মনামির সাথী পেলাম! হারানের নাতজামাই, ছোট বকুল পুরের যাত্রী,তানিয়া,নাতাশারা তো মরে না ভাই ! টারমিনেটেড হয়। স্মৃতি থেকে স্মৃতিতে। কাল থেকে কালান্তরে……।

আমার মনামি চলমান ইতিহাস। যে পথে হেঁটে যায়…ইতিহাসের বীজ বুনে যায়…
অঙ্কুরিত হবে কি হবে না, সে ভার তো সময়ের….

মনামিকে ভালবেসেছেন মানে আমাকে ঋগ্ধ-ঋৃণি করেছেন।

৪. ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০৫

একরামুল হক শামীম বলেছেন: হুমমম বিরুদ্ধ স্রোতে যাত্রা….
ভালো লাগলো

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:২১

লেখক বলেছেন:
মনামি আপাতত চলবে…..
ধন্যবাদ ভাইয়া।

৫. ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৫৯

নীল চাঁদ বলেছেন:

রাতে ঘুমুতে যাবার পূর্বে এক গুচ্ছ চমৎকার শব্দ মালার উচ্চারণ হল।
সত্যিই চমৎকার।

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৩

লেখক বলেছেন: আপনার নিবিড় নিদ্রা হোক।

৬. ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪৬

মনজুরুল হক বলেছেন: আপনারা এত চমৎকার করে বলেন কি করে ! ধন্যবাদ।

৭. ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:২২

শত রুপা বলেছেন: ভাল লাগলো।

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৩১

লেখক বলেছেন: ভাললাগার জন্য ধন্যবাদ।

৮. ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫৩

তারার হাসি বলেছেন:
তোমাদের জন্য মনামি,
তোমাদের জন্য পেয়েছি একটি দেশ
এক একটি প্রহর,
এক একটি প্রহরে তুমি বিপর্যস্থ হয়েছ…
…………
…………
পেয়েছি একটি দেশের স্বাধীনতা।

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:৪৫

লেখক বলেছেন:

মনামিরা কেবলই ধূপকাঠি হয়ে জ্বলে চলেছে! লোবান পোড়া গন্ধে চারিদিক সুবাসিত করে চলেছে! মনামিরা মা-মাকড়শা হয়ে নিজের বুকচিরে সন্তানদের ক্ষুন্নিবৃত্তি করেছে।

আমি-আপনি-মনামি…এই আমাদের হারিয়ে আবার ফিরে পাওয়া ভূবন…সেখানে আমরা সবাই একাকার!!

৯. ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:৫৪

টুশকি বলেছেন: অসাধারণ লাগলো

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:৩৫

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ টুশকি আপু। আরো খুশী হতাম যদি মনামিকে ভালবাসতেন। লেখা মোটেই অসাধারণ নয়। মনামি চরিত্রটা অসাধারণ।

১০. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:০৭

কঁাকন বলেছেন: অসাধারন
এটা মিস করছিলাম কিভাবে

অসাধারন বললে কম বলা হয়

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:১৫

লেখক বলেছেন:
থ্যাংকস কাঁকন। তবে কবিতাবে বোধহয় “তালাক” ই দিলাম। কবিতা লেখা অভ্যেসে দাঁড়িয়ে গেলে কেমন নিজেকে আবাল আবাল মনে হয়। মিউ মিউ করা লুলামি ঠেকে।
দেখি গ্রুপ কবিদের একজন লেখে দুইজনে কুড়িটা কমেন্ট করে। আবার দেখি শিশ্ন আর যোনি ছাড়া যেন কবিতা শালা সাবালোকই হয়না। এই সব ক্যাচালে আমার পোস্টে কিকুল শিরোমনিদের আগামন স্তব্ধ হয়ে গেছে। আজ মনামির একটা পার্ট ঘন্টা দুই পরে এডিট করতে গিয়ে “ড্রাফট” হয়ে গেছে ! আর ফেরৎ আনার ইচ্ছে হলো না।

শুভেচ্ছা।

১১. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:২০

আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: মনজু ভাই, আপনার অনুযোগ/অভিমানটুকু বুঝতে পারছি। অনুগ্রহ করে মনামি লেখা থামাবেন না। আপনার সাথে আমার পরিচয় বেশি দিনের না, তবু-ও মনে হলে এই অনুরোধ আমি করতেই পারি।

কবিতার শরীর পাল্টাতে সময় লাগবে না। আপনি অপেক্ষা করুন।

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:২৬

লেখক বলেছেন:
আশরাফ ফেরাচ্ছি ওটাকে। সমস্যা হলো মনামি উপাখ্যান আসলে কবিতা নয়….উপাখ্যান। গল্প-কবিতা মেলানো।

১২. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:২৯

আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: আমি জানি।

সবগুলো আমি সংগ্রহ করে রাখব।

শুধু বিশ্বাস রাখবেন, কবিতার শরীর পাল্টাতে সময় লাগবে না। আপনি অপেক্ষা করুন।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s