মনামি উপাখ্যান > বিরুদ্ধ স্রোতে যাত্রা >

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১০ |

মুক্তবাতাসে মুক্তপ্রাণের আধার হয়ে
মনামি বেশী দিন থিতু হতে পারে না।
ঘৃণা আর ক্ষোভের চারাকে জল দিয়ে
বড় করে তোলে মনামি। সেই ক্ষোভবৃক্ষ
বড় হলে পরে,ডালপালা ছড়িয়ে ঘন হলে পরে
মনামি একটি রাতকে বেছে নেয়। মনামি একা।
ঘন কালো অমানিশা আরো কৃষ্ণবর্ণ ছমছমে রাত।

প্রথম দেবতা,যাকে মনামি প্রথম ভেবেছে।
প্রথম দেবতা, যাকে মনামি স্মরণে রেখেছে।
প্রথম দেবতা, যার ঘরে মনামি উলঙ্গ ঢুকেছে।
প্রথম দেবতা, যার সামনে সম্পূর্ণ উলঙ্গ মনামি!

মনামি! এ্যাই তুই সেই মনামি না?
হ্যাঁ।
মনামি তুই ন্যাংটো হয়ে!? মনামি!!
হ্যাঁ।
মনামি তোর কি সামান্য লজ্জা হলো না?
না।
মনামি তোর এই শরীরটা..হ্যাঁ এটাই..
হ্যাঁ।
মনামি তুই আমার মেয়ের মত…….
না।
মনামি আমি হলপ করে বলছি..
না।
মনামি আমায় গুলি করে দিলি?
হ্যাঁ।
মনামি অসুর যেন কি বলেছিল…
মনামি আমি বাঁচলে মা হতিস….
না।

সময়ের কাটার চেয়ে বেগে ধাবিত হওয়া সময়কে পেছনে ফেলে মনামি এক থেকে আর একে ছুটে চলে। এক এক করে সাতটি দেবতা। সাত সাতটি বুলেট সাত সাতটি বুক আর কপাল ফুটো করে। সর্বশেষ যে দেবতা, মনামি তার চরম সময়ে হাজির ছিল। সে তার বউকে আদর করছিল। একটু পরই আদর মাখামাখিতে নেমেছিল। মনামি অপেক্ষা করেছিল। মনামি শেষ সময়ের আগে…একেবারে ঠিক শেষ সময়ের আগে,যখন দেবতার কামসঙ্গীতের বিস্তার…মুখ-আভোগ শেষে বিস্তার…স্খলন…ঠিক সেই সময়ে মনামি গুলি করেছিল। লাল টিপের মত কপালে ফোটা পরেছিল দেবতা। মনামি মিলিয়ে দেখেছিল, সেই সময়ের দেবতা আর এই সময়ের দেবতাকে। কতটা ফারাক! কতটা কাম আর ধর্ষভাব।

উলঙ্গ মনামি কাউকে লজ্জা পায়নি। ওই যে দেবতা যারা মনামির লজ্জা লুটেছিল তাদের কে কি লজ্জা! সম্পূর্ণ উলঙ্গ মনামি উলঙ্গ আকাশের তলে হেঁটে হেঁটে উলঙ্গ নদীতে স্নানে নেমেছিল। স্নিগ্ধ সুরভতি স্নান। আহা কি পরম সৌম পবিত্র স্নান।আকাশ আর জলের পরশ।

মনামি তুমি দগ্ধ ক্ষতবিক্ষত হচ্ছো?
না।
মনামি তোমার জিঘাংসা প্রশমিত?
না।
মনামি সামনে কত কাজ পড়ে আছে…
হ্যাঁ।

কি করে ফেরাবে তারে…………

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মনামিমনামি ;
প্রকাশ করা হয়েছে: এলেবেলে  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১০ রাত ২:৩০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

২৬০ বার পঠিত১৮

 

২২টি মন্তব্য

১. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৯

মমমম১২ বলেছেন: হুম তাদেরকে কিসের লজ্জা।

লজ্জা করে লাভটা কি।

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪৭

লেখক বলেছেন:
ওরা হলো পোশাক পরা উলঙ্গ।
ধন্যবাদ।

২. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২০

আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: আগেরগুলোর চেয়ে খানিকটা ব্যতিক্রম লাগল এটা। সমালোচনা কিংবা অন্যকিছু বলব না- মনামির জন্য শুধু ভালবাসা।

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৭

লেখক বলেছেন:
হুমম। মনামি শেষ হতে চলেছে। এটা শেষেরটার আগেরটা। হয়ত এর পরেরটাই শেষ।

৩. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৩০

তারার হাসি বলেছেন:
তৃপ্ত মনামি।

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:৩৮

লেখক বলেছেন: না।

৪. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪৮

আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন: চমৎকার ।

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:২৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আরাশি।

৫. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৮

আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: চলতে থাকুক অনন্তকাল। মনামির মরণ নেই। মরণে মনামির অরুচি।

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:২৫

লেখক বলেছেন: না আশরাফ। ভাবছি পরের পর্বতেই শেষ করে দেব। শুভেচ্ছা নিও।

৬. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:৪৪

কঁাকন বলেছেন: কবিতায় ততটা প্রকট নয় তবে মনোলগে বিরুদ্ধ শ্রোতে যাত্রার সুর টা দারুনভাবে ধরা পরেছে

২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৭

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ কাঁকন। এটা এই পর্বে আর কবিতা থাকেনি।
মনামি এক একটা স্টেজ পার হচ্ছে আর এক এক ধরণের উপাখ্যানে চিত্রিত হচ্ছে।

৭. ২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৪

সত্যান্বেষী বলেছেন: আশাবাদী হতে ইচ্ছে হয়, খুব একটা পারিনা যদিও। (পোস্টের সাথে সম্পর্কহীন)।

২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৪

লেখক বলেছেন:
সত্যিকারের আশাবাদী হতে চাই যা সম্বল করে, তা তো হতে পারছিনা! মনে হয় সেই সময়টাকেও আমি হারিয়ে ফেলেছি! ঘুণেধরা শরীর আর ক্ষতবিক্ষত মন কেবলই পিছুটানে সরিয়ে দেয় লক্ষ্য থেকে। মধ্যবিত্তের বিপ্লববিলাস !! মাঝে মাঝে নিজের ওপরই ঘেন্না লাগে।

৮. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১৬

তারার হাসি বলেছেন:
ক্লান্ত মনামি
কাঁদছে মনামি
হাসছে মনামি
অবসন্ন মনামি
তৃপ্ত মনামি
জম্বি মনামি।

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:১৮

লেখক বলেছেন:
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ
মনামির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের জন্য।

৯. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫৮

তারার হাসি বলেছেন:
মনামির জন্য আমার সহমর্মিতা নয়, আছে ভালবাসা।
ধন্যবাদ।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:০৮

লেখক বলেছেন:
লেখক সে জন্য কৃতজ্ঞ।তবে ভালবাসা মহার্ঘ।
তা যত্রতত্র প্রদান করতে নেই!
হিসেব করে খরচ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

শুভেচ্ছা।

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s