সকল মানুষের জন্য জাগ্রত হোক আমাদের ঘুমন্ত বিবেক

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০৭ |

কালো আফ্রিকা।কালো মানুষের আফ্রিকা। কালো আইনের কালো প্রয়োগের আফ্রিকা। হায় আফ্রিকা!
্ ইথিওপিয়া। মোট ভূখন্ডের মাত্র সাঁইত্রিশ ভাগ অঞ্চলে চাষাবাদ হয়।খনিজ যা আছে তা ইউরোপীয়দের দখলে। জাতিগত যুদ্ধবাজদের মরণখেলায় প্রতি দিন মৃত্যু ঘটে শত মানুষের। অনাহারে মৃত্যু ঘটে শত মানুষের। পশ্চিমা মিডিয়ায় উঠে যায় কঙ্কালসার ছবি। আমরা মেমরিতে রাখি না। আমাদের হার্ডডিস্কে অত জায়গা নেই!

্ রুয়ান্ডা। গৃহযুদ্ধের দামামা প্রতি দিন কেড়ে নিচ্ছে শত শত মানুষের প্রাণ! চার-পাঁচটি যুদ্ধবাজ গোষ্ঠি ভাগ করে নিয়েছে গোটা দেশের শাসন ব্যবস্থা। আমরা খুঁজে দেখি না। কারণ আমাদের ইজমের ভেতর পড়ে না ওরা!

্ ইরান,ইরাক আর তুরস্কের সেই হতভাগা কুর্দীরা! যাদের মারা হচ্ছে গত অর্ধশতাব্দী ধরে। মারছে ইরান,ইরাক আর হালে তুরস্ক। কিছুদিন আগেও তুরস্ক ইরাকের ভূখন্ডে ঢুকে নির্বিচারে বোমা ফেলে হত্যা করে এলো কুর্দীদের! সারা বিশ্ব তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল! আমরা জানি না। কেননা, কুর্দীরা আমাদের ভাই নয়!

্ মনিপুর। আমাদের পাশের মনিপুর।মনিপুর লিবারেশন আর্মি স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে চলেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী মনিপুরে হত্যাকান্ড চালিয়ে আসছে লাগাতার। ২০০৬ সালের জুন। লিবারেশন এর এক্তিয়ারভূক্ত এলাকায় ভারতীয় বাহিনীর নির্বিচার অত্যাচারে অতিষ্ট মনিপুরবাসী ফুঁসে ওঠে! নারীরা প্রতাশ্যে রাজপথে নেমে আসে সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে! কোলকাতার কাগজে সেই ছবি সেন্সর হয়ে ছাপা হয়! বেসরকারী চ্যানেলগুলোতে বিতর্ক হয়। আমরা খবরও পাই না! কেননা, মনিপুর আমাদের থেকে অনেক দূরে! মনিপুরের মানুষ মুসলমান নন!

্ গত তিন মাস ধরে শ্রীলংকান সেনাবাহিনী তামিল উচ্ছেদের নামে “পোড়ামাটি নীতি” নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে জাফনা উপদ্বীপে। একের পর এক তামিল ঘাটিগুলো গুড়িয়ে যাচ্ছে! তামিল যোদ্ধা,সাধারণ তামিল কেউই বাদ পড়ছে না! রক্তে লাল হয়ে যাচ্ছে ভারত মহাসাগর! আমরা দেখতে পাচ্ছিনা! কারণ তামিলরা আমাদের কাছের মানুষ নয়!

্ বতসোয়ানায় হুটু উপজাতির মানুষদের সম্মিলিত ভাবে হত্যা করছে ইউরোপীয় সাদারা আর সরকারী বাহিনী। আমরা কিছুই জানি না! কেননা, হুটুরা আমাদের কে?

্ দুশো বছর ধরে স্পেনীয়রা আমেরিকায় পত্তন গেঁড়ে এ্যাপাচীদের হত্যা করেছে। এখনো রেড ইন্ডিয়ানরা মৃত্যুবরণ করে চলেছে। এখনো আরিজোয়ানার ধূসর ধুলোয় রেড ইন্ডিয়ানের রক্ত শুষে যায়। এখনো এ্যাপাচীরা পাহাড়ের খাঁজে-ভাজে জীবন কাটিয়ে দেয়। এখনো রেড ইন্ডিয়ানরা কালো নিগ্রোদের মত বৈষম্য আর নির্যাতনের স্বীকার। আমরা চোখেও দেখি না, কানেও শুনিনা। কেননা, রেড ইন্ডিয়ানরা আমাদের আত্মিয় নয়!

আমরা কি কেবল মুসলমানদের হত্যা করা হলে কাঁদব? কেবলই আমাদের ধর্মের বলে তাদের জন্যই ব্যাথিত হব? কালো মানুষরা কি আমাদের ভাই নয়? পাহাড়িরা কি আমাদের মনুষ্য প্রজাতি নয়?

ফিলিস্তিনী শিশুদের করুণ মৃত্যু আমাদের ব্যাথিত করে। আমরা নিজেদের বিবেকের কাছে দংশিত হই। আমাদের মুখে খাবার ওঠে না। আমাদের সেই একাত্তরের কথা মনে পড়ে যায়। মনে হয় এক একটা শিশু যারা গাজায় ধ্বংসস্তুপের ভেতর কুঁকড়ে আছে সে আমার সন্তান! সে আমার ভাই, আমার বোন। আমি অসহায়ের মত শুধু করুণ মৃত্যুগুলোর সংখ্যা কমাতে চাই। আমি তো আর কিছু পারি না!

আমি এটাও মনে করতে চাই যে, গাজায় যে মানবতার কবর হচ্ছে,সেই একই রকম কবর হোক অত্যাচারীর। আমি এর পেছনের ইতিহাস জানি। আমি এই ইতিহাসের পরম্পরা জানি। কিন্তু হায়! আমার সেই জানা আর বোঝা কি আমাদের এক একটা শিশু হত্যার ভয়াবহ চিত্র দেখা থেকে ফেরাতে পারে! আমার সারাজীবনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর ঘৃণা উদ্গিরণ হয়ে চাপা দেয় সাম্রাজ্যবাদ আর তার দোসরদের।দগদগে ঘা হয়ে মানব সভ্যতার ললাটে লেগে থাকা ইজরায়েল আর তার অমানুষ শাসকদের জন্য আমার শরীরের শেষ রক্তবিন্দু থেকে উচ্চারিত ঘৃণা ছুঁড়ে দিতে চাই। আমার ক্ষমতা থাকলে আমি এখানে বসে হা-পিত্যেশ না করে ছুঁটে যেতে চাইতাম গাজায়, জিরুশালেমে। আমি তা পারি না।

কিন্তু আমি শুধু ওই গাজা নয়, সারা পৃথিবীর অসহায় মানুষদের কথাও ভাবতে চাই। ভাবতে চাই জাফনা,মনিপুর,বতসোয়ানা,ইথিওপিয়া,কুর্দীস্তান এর সেই সকল মানুষের কথা। যারা শাসকের বন্দুকের নলে বুক ঠেকিয়ে দীপ্ত কণ্ঠে উচ্চারণ করছে ….নেভার সে ডাই! নেভার সে ডাই!! এক একটা মুক্তিকামী মানুষের রক্ত থেকে জন্ম নেবে হাজার হাজার মুক্তিপাগল মানুষ। যারা বদলে দেবে অনেক অত্যাচারে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়া পঙ্গু পৃথিবীটাকে। আর আমি দুচোখ ভরে দেখব সেই সৃষ্টিশীল মানুষের জয়রথ…ছুটে চলেছে মহাকাল থেকে মহাকালে……

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গণহত্যা ;
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১০ রাত ২:২৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

৭৭৭ বার পঠিত৬৮১৬

৭১টি মন্তব্য

১. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০৮

সাঁঝবাতি’র রুপকথা বলেছেন: ++++++
এই কথাগুলোই আমি অনেককে বুঝাতে পারি না …

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১৩

লেখক বলেছেন:
অনেক দিন পর আপনাকে দেখে ভাললাগছে। শুভেচ্ছা নিন।
আমরা আসলে সব কথা আমাদের মত করে বলতে পারিনা।ভাল থাকবেন।

২. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০৯

কেমিকেল আলী বলেছেন: আপনাকে দেখে ভাল লাগছে। লোকমুখে শুনেছিলাম আপনি চলে গেছেন এখান থেকে।
সংবাদটি ভুল জেনে ভাল লাগছে।লেখা বিষয়ে পরে মন্তব্য করব।
ধন্যবাদ

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:০১

লেখক বলেছেন:
নারে ভাই, কোথায় যাব এত মানুষের ভালবাসা ফেলে! লেখকদের সম্ভবত অভিমানের মাত্রাটা একটু বেশী। আর কিছুই তো নেই! তাই ওই অভিমানটাই মাঝে মাঝে চাউর হয়ে ওঠে! আছি। আপনাদের সাথেই আছি। এত এত ভাই-বোন-বন্ধু আর কোথায় পাব …………

৩. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১১

আলমগীর কুমকুম বলেছেন: সকল মানুষের জন্য জাগ্রত হোক আমাদের ঘুমন্ত বিবেক

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫৮

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আলমগীর কুমকুম।

৪. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৬

সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: আর আমি দুচোখ ভরে দেখব সেই সৃষ্টিশঅল মানুষের জয়রথ…ছুটে চলেছে মহাকাল থেকে মহাকালে……

বেঁচে থাকুক স্বস্থ্য মানুষ

ভালো থাকুন আপনি।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৩৭

লেখক বলেছেন: আমি সারাটা সকাল বসে থাকব একটা খবরের জন্য….
আর একটি শিশুও মরবে না,,,
আর একটি মানুষকেও বন্দুকের নলে দাঁড়াতে হবে না…………

৫. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৭

আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: হমমম.খুব প্রয়োজনীয় লেখা মনজুরুল ভাই। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে লোকজন শুধু তারা মুসলমান বলেই করে ব্যাপারটা বোধকরি এভাবে সরলীকরন সম্ভব নয়।

কারন বলি বসনিয়ায় গণহত্যার শিকার হয়েছিলো আলবেনিয় মুসলিমরা, চেচনিয়ায় পুতিন নৃশংসভাবে হত্যা করে জাতিগত ভাবে মুসলিমদের, থাইল্যান্ডের সাউথে মুসলিম জংগিরা সামরিকবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার,ফিলিপাইনেও তাই।

কিন্তু এইগুলোর প্রতিবাদ কি বাংলাদেশে খুব বড় মাত্রায় আসে কিংবা মোল্লারাও খুব একটা কি মাঠে নামে?

দীর্ঘসময়ব্যাপি এক দখলদ্বারিত্ব, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, সেই সংগে মিডিয়া ফোকাসের কারনেই ফিলিস্তিনি ইস্যুটা মানুষের বেশি নজর করে।তাতে ধর্মের বড় একটা ফোকাস আছে।তবে কারনটা শুধুই ধর্মীয় এইটা বোধকরি ঠিক না।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪১

লেখক বলেছেন:
ব্যাপারটা ওভাবে হয়ত হাইলাইটেড হয়ে গেছে। আমি ওভাবে বলতে চাইনি। আর আপনি আরো যে নির্যাতনের চিত্রগুলো তুলে ধরলেন সেটাও আনতে পারিনি সময়াভাবে আর লেখা বড় হয়ে যাবার ভয়ে। বেশ কিছুদিন ধরে লিখতে পারছিলাম না। ব্লকডাউন হয়ে পড়ছিলাম।ডেড সী আর মেডিটেরিয়ানের ভেতর আরো অনেক করুণ কাহিনী রয়ে গছে। সেসব আমরা আনতে পারি না। পরে আর দিন সেসব লেখার ইচ্ছে রইল। “মরো” গেরিলাদের নিয়ে আমি অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তেমন কিছু পাইনি নেটে। তার পর কম্পুচিয়া তো আর এক ইতিহাস!ধন্যবাদ আপনাকে তথ্য সংযোজনের জন্য।

৬. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৯

আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: জগতজুড়ে সকল হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করবো আমরা।আমিও এটাই চাই।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৫২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শিমুল।

৭. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪৪

নষ্ট মাথার দুষ্ট বালিকা… বলেছেন: কিছু বলবনা…বলে কিইবা হবে?…কে শুনবে আমার কথা?

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৪৭

লেখক বলেছেন:

ইথার। ইথারের কোন কার্পণ্য নাই! তার ধারণ ক্ষমতা অফুরন্ত! আপনি কেন বলবেন না? সব বলাই একসময় পুঞ্জিভূত হয়ে মনুষ্য সমাজে ফিরে ফিরে আসে…আসেই…

৮. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫০

সত্যান্বেষী বলেছেন:

আমার চোয়ালে রক্ত হে অর্জুন আমি জানতাম, আমি ঠিকই জানতাম
আমি শিশু হত্যা থামাতে পারবো না, যুবতী হ্ত্যাও নয়!
ভ্রুণহত্যা! সেতো আরো সাঙ্ঘাতিক, আমি জানতাম হে অর্জুন
মানুষ জন্ম চায় না, মানুষের মৃত্যুই আজ ধ্রুব!

আমার নাভিতে রক্ত – আমি জানতাম, আমি ঠিকই জানতাম
আমি মানুষের এই রোষ থামাতে পারবো না, উন্মত্ততা থামাতে পারবো না!

আবুল হাসান/কুরুক্ষেত্রে আলাপ।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫৬

লেখক বলেছেন:

আবুল হাসান। আমার দেশের খুব অল্প যে ক’ জনের কবিতা অন্তরে রাখতে চাই তার অন্যতম। ৮৭ বা ৮৮ সালে ওর একটা বই(সংকলনও হতে পারে) বের হয়েছিল একুশে মেলায়। প্রচ্ছদে একটা হাতের তালুর ছবি ছিল। নামটা বা পাওয়া যায় কি-না বলতে পারেন?

৯. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫৭

সত্যান্বেষী বলেছেন:

আমার চোয়ালে রক্ত হে অর্জুন আমি জানতাম, আমি ঠিকই জানতাম
আমি শিশু হত্যা থামাতে পারবো না, যুবতী হ্ত্যাও নয়!
ভ্রুণহত্যা! সেতো আরো সাঙ্ঘাতিক, আমি জানতাম হে অর্জুন
মানুষ জন্ম চায় না, মানুষের মৃত্যুই আজ ধ্রুব!

আমার নাভিতে রক্ত – আমি জানতাম, আমি ঠিকই জানতাম
আমি মানুষের এই রোষ থামাতে পারবো না, উন্মত্ততা থামাতে পারবো না!

দুর্ভিক্ষ ও রাষ্ট্রবিপ্লব থামাতে পারব না

চালের আড়ত থেকে অভিনব চাল চুরি থামাতে পারব না,
রিলিফের কাপড়ে আমি মানুষের অধ:পতন ঢাকতে পারব না!

শেফালীর সোমত্ত গ্রীবায় লাগবে লাম্পট্যের লাল বিষ
আমি জানতাম হে অর্জুন অনাহারে অনেকেই যুবতী হয়েও আর যুবতী হবে না!

ভাই পলায়নে যাবে বোন তার বাসনা হারাবে আমি জানতাম
ফুল ফুটবে না, ফুল ফুটবে না, ফুল আর ফুটবে না, ফুল আর কখনো ফুটবে না!

আবুল হাসান/কুরুক্ষেত্রে আলাপ।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:২০

লেখক বলেছেন: অসাধারণ উপস্থাপনা। শ্রদ্ধা নিন।

১০. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:২২

সত্যান্বেষী বলেছেন: @লেখক: মাত্র তিনটি কবিতার বই প্রকাশ পেয়েছিল আটাশ বছর বেচে থাকা ধুমকেতুটির: রাজা যায় রাজা আসে, পৃথক পালঙ্ক, যে তুমি হরণ কর।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:০৭

লেখক বলেছেন: আমার মনে হচ্ছে ওই তিনটি বই নিয়ে একটা কাব্য সংকলন হয়েছিল।

১১. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:২৫

সরাহাল বলেছেন: মণিপুরের স্বাধীনতা আন্দোলনের কথা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। … নামটা মনে হয় পিপলস লিবারেশন আর্মি(PLA) হবে। PLA ছাড়াও সেখানে প্রায় ২৪টির মতো সশস্ত্র সংগঠন কাজ করছে যেমন UNLF, PREPAK, KYKL, KCP, PULP, NSCN(IM), NSCN(K) ইত্যাদি। ভারতীয় বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে মণিপুরে বিক্ষোভের একটি ফটো-গ্যালারি এখানে পাবেন – Click This Link

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪০

লেখক বলেছেন:

আমার নামটা মনে আসছিল না।শুধু শোনার উপর নির্ভর করে লেখা। ধন্যবাদ আপনাকে। আমি সেসময় অবিভূত হয়েছিলাম মনিপুরের মানুষের প্রতিবাদের সাহস দেখে। আর একবার হয়েছিলাম শ্রীকাকুলামের মানুষদের কথা শুনে।

অ.ট. (কিছু মনে করবেন না) আপনি কি মনিপুরী? তাহলে আমার শ্রদ্ধা নিন। সহমর্মিতা থাকল।

১২. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৩৫

আতিকুল হক বলেছেন: পৃথিবীটা বড় বেশি রক্তাক্ত হয়ে গেছে। উন্নতির কোন লক্ষন দেখছি না আমি।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৩৩

লেখক বলেছেন: আমরা কেউই আর কোন আশাভরসা দেখছিনা। মৃত্যুই যেন অনিবার্য পরিনতি!

১৩. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪১

নরাধম বলেছেন: প্রিয় পোস্ট। আমি এরকম একটা লিখাই লিখতে চেয়েছিলাম। তবে কিছু কিছু গণহত্যা বাদ গেছে। ধন্যবাদ।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:১০

লেখক বলেছেন:

হ্যাঁ, ব্যাপারটা খেয়ালে থাকার পরও বাদ দিতে হলো। অনেকদিন লেখা হয় না বলে ব্লকেড হয়ে গেছিল। এর পরের বার চেষ্টা করব আরো ইনফো যোগ করতে। চমৎকার মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অভিনন্দন।

১৪. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৬

 বলেছেন: সুদানের দারফুর গণহত্যাও , এখনো চলছে ।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৩৫

লেখক বলেছেন:
শুধু সুদান না, লেখার সময় আরো অনেক হত্যাকান্ডের কথা মাথায় আসেনি। দেখি পরে আবার বিষয়টা নিয়ে লিখতে পারি কি-না। ধন্যবাদ রইল।

১৫. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:০২

নীল চাঁদ বলেছেন:

মানবতার পরাজয়ে আমার মস্তক অবনত করলাম।
হায় অসহায় আর্তনাদ!
হায় অসহায় হাহাকার!!
হায় অসহায় ঘৃণা!!!
অবনত মস্তকে পাপ নিশ্চয়ই মোচন হয় না।
কমে না একটুকুনও!
তবে প্রার্থণা – কেবল সকল দহন হোক আমার!!!

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৪৫

লেখক বলেছেন:
“হিংস্র কটাক্ষে আমরা নিস্পৃহভাবে
উপেক্ষা করি সহস্র মানুষের অঙ্গুলি নির্দেশ,
কিন্তু মাথা নত করে সেবা করে যাই সরল শিশুদের……….”ল্যু সুন।দহিত হওয়া তো আত্মাতাড়িত মানুষের জন্মজন্মান্তরের নিয়তি!
যে বাসে সে ভাল করেই ভালবাসে। মানুষে যে প্রেম
বিগলিত যমুনা তারে ভাসায় কি রূপে?

১৬. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৩২

তারার হাসি বলেছেন:
আমি স্বপ্ন দেখি……এক একটা মুক্তিকামী মানুষের রক্ত থেকে জন্ম নেবে হাজার হাজার মুক্তিপাগল মানুষ !
ঘৃণা, মিথ্যাচার বলে কিছু থাকবে না ……
যুদ্ধ থাকবে না, হত্যা থাকবে না, রাসায়নিক অস্ত্র থাকবে না…কিন্তু …… আমরা মানুষ নামের জীব গুলি তা হতে দিব না……… নিজেদের স্বার্থেই।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৩৮

লেখক বলেছেন:
আমাদের এই সকল স্বপ্নগুলো কাঁচের ঘরে বন্দী থাকে।
আমরা আমাদের স্বপ্নগুলোকে কখনোই সাধারণে সম্মিলন ঘটাতে পারিনা।
আমাদের এই স্বপ্নগুলো বারে বারে কেবলই ভেঙ্গে ভেঙ্গে যায়।
আমরা এখন এমন স্বপ্ন দেখতে চাই যে স্বপ্নরা পাখা মেলে উড়ে উড়ে যাবে সেই সব আর্তনাদ করা মানুষদের কাছে। তাদের সর্বাঙ্গে মাখিয়ে দেবে সহমর্মিতা আর ভালবাসার প্রলেপ।

১৭. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৪৮

বিষাক্ত আলো বলেছেন: আপনার বেশ কিছু লেখা পড়েছি প্রিন্টেড অবস্থায়।

পোস্টে প্লাস।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:৪২

লেখক বলেছেন: এ আমার সৌভাগ্য। শুভ কামনা।

১৮. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:৪৩

বোলারস ব্যাকড্রাইভ বলেছেন: সকল মানুষের জন্য জাগ্রত হোক আমাদের ঘুমন্ত বিবেক

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৩০

লেখক বলেছেন: আমাদের সমবেদনা অর্পিত হোক নিপীড়িতের উপরে…..

১৯. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:২৭

আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

সকল মানুষের জন্য জাগ্রত হোক আমাদের ঘুমন্ত বিবেক ।

পোস্টের ভেতরের কথায় যেটুকু দ্বিমত ছিল, আর যা বলতে চেয়েছিলাম, উপরে আহসান হাবিব শিমুল বলে দিয়েছেন । ওনার সঙ্গে একমত ।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪২

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ ওটা নিয়ে আমিও আমার ব্যাখ্যা দিয়েছি। আমরা নিশ্চই জাত-পাত,সাদা-কালো সব মানুষের ওপরকার অত্যাচারের বিরুদ্ধে।

ধন্যবাদ আ.রা.শি

২০. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫৬

ফেরারী পাখি বলেছেন: উফ! অনেক দিন পর আপনাকে এবং আপনার লেখা গুলোকে পেলাম। সেদিন আপনার ব্লগে ঢুকে দেখি একটা লেখাও নেই।
কয়েকবার চেক করলাম, মনে হল সত্যি দেখেছি, নেই।কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, ভুল দেখেছি।আপনার লেখা খুব ভালো লাগলো। কারণ আমার ভাবনাগুলো অনেকটা এরকমই।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:২২

লেখক বলেছেন:

সত্যিই দেখেছিলেন। আরোপিত অভিমানে সরে যাচ্ছিলাম! বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ চলে, তাই বলে বাগডাসার সঙ্গে ? নৈব নৈব চ !

আপনার ভাবনাকে শেয়ার করতে পেরেছি জেনে আনন্দিত হলাম।

২১. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৩২

প্রশ্নোত্তর বলেছেন: আপনার আবেগকে শ্রদ্ধা জানাই। +

এবার একটু হতাশার কথা শোনাই – যতদিন প্বথিবীর মানুষের বিভক্তির এলিমেন্টগুলো মানুষ নিজে থেকে ধ্বংস করতে না পারবে, যতদিন মানুষ তার আসল ধর্ম মানবতায় দীক্ষা না নেবে, যতদিল শোষক বলে একটি শ্রেণীকে মানুষ তীব্র ঘ্বনায় পুড়িয়া না মারবে গণহত্যা থামবে না। বিবেকের পথ ধরে মানুষ অর্জন করুক মনুষ্যত্ব্!

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১১

লেখক বলেছেন:

লেনিন বলেছিলেন…যা বলতে শংকাবোধ করো তা বলো না। আমরা লেনিনকে বিস্মৃত।
তাই কেঁচোগন্ডুষ করে বলি। সত্যি কথা দৃঢ় ভাবে বললে আমাদের এলেম এর বারটা বেজে যায়!

তীব্র শ্রেণীঘৃণা ছাড়া শ্রেণী সংগ্রাম হয়না। শ্রেণী সংগ্রামে শোষককে পরাজিত না করা পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয়ও হয় না। এখন আমরা অবস্থান করছি শ্রেণী সহাবস্থানের জঘণ্য সংশোধনবাদের ভেতরে। পুঁজিতন্ত্রের ফিরে ফিরে আসার বিপদ বুঝেই মাও সে তুং সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে দীর্ঘায়ীত করতে বলেছিলেন।

২২. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১৪

আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: আপনি ফিরেছেন দেখে ভাল লাগছে। লেখা পড়ছি…………….

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪০

লেখক বলেছেন: আমি শুধু না, আপনারা সবাই ফিরেছেন, এটা আনন্দের খবর।

২৩. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১৯

আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: প্রিয়তে গেল। সাধুবাদ জানাচ্ছি আপনাকে এরকম লেখার জন্য।

২১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৬

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ আশরাফ। তোমার ম্যাসেঞ্জারের সম্মতিক্রমেই “তুমি” বলছি। ভাল থেকো।

২৪. ২১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২৩

সত্যান্বেষী বলেছেন: লেখক বলেছেন: ‘তীব্র শ্রেণীঘৃণা ছাড়া শ্রেণী সংগ্রাম হয়না। শ্রেণী সংগ্রামে শোষককে পরাজিত না করা পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয়ও হয় না। এখন আমরা অবস্থান করছি শ্রেণী সহাবস্থানের জঘণ্য সংশোধনবাদের ভেতরে।’

বিপ্লব, বিপ্লব।

২১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১৩

লেখক বলেছেন: এ ছাড়া কোনভাবেই মুক্তি নাই।

২৫. ২১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৪

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:২০

লেখক বলেছেন: কমেন্ট দিয়ে এসেছি। টানলে আবার যাওয়ার ইচ্ছা আছে।

২৬. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:২৮

ফারহান দাউদ বলেছেন: চীনের উইঘুরদের কথাও বাদ গেছে।

২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৪৬

লেখক বলেছেন: মনে করিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ।

২৭. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৩৫

ফারহান দাউদ বলেছেন: লেখা হয়নি স্বাধীনতাকামী বেলুচদের কথাও।

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৫

লেখক বলেছেন:
জ্বী। আমি চাইছিলাম শুধু কালোদের আনতে। বাকি অল্প এসে গেছে। আপনার পরামর্শ শিরধার্য্য।

২৮. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫৮

আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: আপনি কি কোন পত্রিকার সাথে জড়িত? এসব লেখা পত্রিকায় প্রকাশ হলে ভাল হত।
আপনার সম্পর্কে জানতে চাই। বিনীত কৌতূহল।

২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২০

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ আশরাফ, পত্রিকার সাথে জড়িত আমি। ঢাকার ৫টা দৈনিকে ক্রিকেট আর রাজনৈতিক কলাম লিখতাম। এখন শুধু রাজনৈতিক কলামই লিখি। ক্রিকেটকে চির তরে বাদ দিয়েছি। ঘেন্নায় ব্লগের ক্রিকেট পোস্টে কমেন্টও করি না আর।কিন্তু ক্রিকেট আজ যেখানে আছে সেটা আমি ৫ বছর আগেই বলে দিয়েছিলাম। সেটার খুবই কম নড়চড় হয়েছে।

এখন তিনটা কাগজে কলাম লিখি নিয়মিত। কোলকাতার “দ্য স্টেটসম্যান” কাগজে লিখি অনিয়মিত।এখানকার বেশ কয়েকটা লেখা কাগজে ছাপা হওয়া লেখার কপি পেষ্ট। কলাম লিখছি ১২/১৩ বছর ধরে।

ব্লগে আবজাব কবিতা-গল্প লিখতে গিয়ে আসলে আমি আমার কলামিস্ট স্বত্ত্বার সাথে অবিচারই করেছি।

আরো কথা ম্যাসেন্জারে হবে একদিন। খুব বেশি কষ্ট বয়ে বেড়াই বলে হড় হড় করে এত কথা বেরিয়ে এলো।
শুভেচ্ছা।

২৯. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:০১

আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:

জেনে ভাল লাগল।

কবিতা, গল্প লিখলে আপনার কলামিস্ট স্বত্তার সাথে অবিচার করা হবে, একথা সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। লেখার হাত সবার থাকে না।

আচ্ছা, ইয়াহুতে কথা হবে একদিন।

২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪৮

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা রইল আশরাফ মাহমুদ।

৩০. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:২২

শফিউল আলম ইমন বলেছেন: অনেক ভালো লাগল।
ভালো থাকুন।

২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ইমন। শুভেচ্ছা নেবেন।

৩১. ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:১৯

“গাজায় প্রতিটি মুসলিম শিশুর মৃত্যু” ধর্ম মার্কেটিং করার মহা
বানিজ্যিক সুযোগ এনে দেয় .. হেলায় সুযোগ হারাবো ক্যান ?

শহীদ আর মড়া … এই দুটোয় পার্থক্য আছে, হাদীস কুরান তাই বলে …

আফ্রিকার ঐ জীবন্ত কালো কঙ্কালগুলোতো অনেক দুরের কথা, টুইন টাওয়ারের নিচে এখন’ও মিশে আছে ত্রিশ/চল্লিশজন আপন বাঙ্গালী, কই তাদের জন্য তো পল্টনের রাস্তা কাপেনি কোনদিন ।

২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৪২

লেখক বলেছেন:

মনির, আমরা কি সব সত্য মেনে নিতে পারি? এখন যদি কোন ইহুদী লেখক গাজী সালাহউদ্দীনের সেই স্পেন জয়ের সময়কার গল্প হাজির করে দেখায় যে কি ভাবে শত শত বছর ধরে ইহুদীরা জিরুশালেম থেকে, হোবার থেকে বিতাড়িত হয়ে সারা আরবময় তাবুতে তাবুতে বেদুঈন হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে, আর ক্রমাগত মার খেয়ে এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে পালিয়ে বেড়িয়েছে ! তাহলে সেটা কি আমরা মেনে নেব?

না। আমরা তা মানতে চাইব না। আমরা ওদের মানুষই বলব না। আমরা বলব ইহুদী-নাসারা!

৩২. ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:০৮

অ্যামাটার বলেছেন: বিশ্লেষন সুন্দর;
আগে একটা অফটপিক অনুরোধ করি, ক্রিকেট নিয়ে কিছু লেখা আশা করছি, অন্তত ব্লগে তো এই বিষয়ে কারো সাথে অভিমান হয় নি, তাহলে এখানে ব্লগারদের দোষ কি! এখানে অন্তত লিখেন।”সকল মানুষের জন্য জাগ্রত হোক আমাদের ঘুমন্ত বিবেক”—সম্পূর্ণ সহমত। তবে পুরো চিত্রটা শুরুতেই তুলে আনলে ভাল হত। এখানে ফিলিস্তিনদের নির্যাতনের ব্যাপারটা বেশি সামনে আসছে কেননা এটাতো একেবারেই সাম্প্রতিক! তাছাড়া আন্তর্জাতিক মিডিয়ারও একটা ভূমিকা আছে। ধরে নিলাম বাংলাদেশের উগ্র ধর্মালম্বীরা কেবল একটা বিষয়ই নিয়ে মেতে আছে, তাহলে বি.বি.সি., সি.এন.এন, এ.পি, এরা-ও কি ধর্ম নিরপেক্ষতা হারাল? আল-জাজিরা’র কথাটা নাহয় না-ই বা বললাম!আসলে এক-একটার গুরুত্ব এক-এক রকমের, আর স্বিকৃত আন্তর্জাতিক মিডিয়া তাদের রেপ্যুটেশন ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর, তাই যেই ঘটনা যে’রকম ট্রিটমেন্ট ডিজার্ভ করে, তারা সেভাবেই তা প্রচার করে।

আপনি বলেছেন শ্রীলঙ্কার তামিলদের কথা, এটা তো পরিষ্কার যে তারা বিচ্ছিন্নতাবাদী। একটা নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠি স্টেট-কে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, সুতরাং তাদের দমন করতে রাষ্ট্রের বল প্রয়োক করা ছাড়া আর কি অন্য কোন পথ খোলা আছে? তাদের সমর্থন করলে একদিন তো আমাদের পার্বত্য সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোও প্রশ্রয় পাবে। কিংবা দক্ষিন বঙ্গে কিছু আন্ডার গ্রাউন্ড নামসর্বস্ব বামপন্থীদের ‘স্বাধীন বঙ্গভূমি’-কেও আমরা আর নৈতিকভাবে অস্বীকার করতে পারব না!

মনিপুরীদের ব্যাপারটা ভারতের আভ্যন্তরীন। কিছু স্যাটেলাইট চ্যানেলের কল্যাণে জানি, ভারত সরকার তাদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। তবে দমনের নামে নিপীড়ন হলে তা হবে দু:খ জনক।

আফ্রিকার কয়েকটা উদাহরণ দিয়েছেন। দেখুন, সেখানে কেউ বাইরে থেকে গিয়ে তাদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে না, বরং আফ্রিকান ক্ষুদ্রজাতিগোষ্ঠীগুলো এতটাই অসহিষ্ণু যে নিজেদের সম্পদটুকু তারা নিজেদের মধ্যেই বন্টন করতে সক্ষম না। রক্তপাতটা কেউ আরোপিত করে দেয় নি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের রক্ত ঝরাচ্ছে। এর পরও জাতিসংঘ প্রায় সবগুলো বিক্ষুদ্ধ অঞ্চলে নিজ উদ্যগে শান্তিরক্ষো বাহিনী মোতায়েন করেছে।

এই সবগুলো থেকে ফিলিস্তিনদের সমস্যাটা আলাদা। তাদেরই মাতৃভূমি থেকে তাদেরকে বিতাড়ন করে উল্টো তাদের উপরই হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে দখলদার বাহিনী, সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই এটা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশি দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়েছে।

আর বিশ্বের যে প্রান্তে যে কোন বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড অবশ্যই অবশ্যই এবং অবশ্যই একটা নিন্দনীয় কাজ।

২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:০৩

লেখক বলেছেন:
১। কোথাও কেউ বলেনি যে ফিলিস্তিনিরা গুরুত্ব হারিয়েছে।২।তামিল টাইগাররা বিচ্ছিন্নতাবাদী নয়। নিজেদের স্বধীন ভূখন্ডের জন্য স্বধীনতা সংগ্রাম করছে। আমরা যা করেছিলাম একাত্তরে। আমরা কি বিচ্ছিন্নতাবাদী ছিলাম?৩। মনিপুরীদের সংগ্রামও অভ্যন্তরীণ ? অবাক করলেন! স্বায়ত্বশাসনের সংগ্রাম অভ্যন্তরীণ হয় না।

৪।আফ্রিকায় যা হচ্ছে সে সম্পর্কে আপনার কোন ধারণাই নেই!

আপনার বক্তব্য ধরলে আমাদেরকে শুধুমাত্র গাজা’র হত্যাযজ্ঞ কে আমলে এনে বাকি সব হত্যা,নির্যাতন,নিপীড়ন,অত্যাচারকে “অভ্যন্তরীণ বলে খারিজ করে দিতে হবে!! এটা কি খুবই আত্মধর্মকেন্দ্রীক হয়ে গেল না? আমি কিন্তু পোস্টে লিখেছি …..

“সকল মানুষের জন্য জাগ্রত হোক আমাদের ঘুমন্ত বিবেক” ।

অ.ট. ক্রিকেট নিয়ে আর একদিন কথা হবে। তবে সিদ্ধান্ত হচ্ছে কখনোই বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে লিখব না। কমেন্টও না। আমি এখন দেখিও না। অথচ একসময়…….. থাক। অন্য দিন।

৩৩. ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৩৬

েজবীন বলেছেন: ওই সব অসহায় নিষ্পেষিত মানুষগুলোকে আমরা ভাবি সহিংসতা সৃষ্টিকারী বিচ্ছিন্নবাদী!!! …….

সকল মানুষের জন্য জাগ্রত হোক আমাদের ঘুমন্ত বিবেক ….শুধু সুনির্দিষ্ট নয় সবার জন্যেই…..

২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৪৫

লেখক বলেছেন:
আপনার অন্তরটা আকাশের মত অবারিত। আরো অবারিত হোক। আসুন আমরা সবার কথা বলি………..

৩৪. ২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:০২

মিঠাই বলেছেন: He he he he, let alone those distant killing in Rwanda or Ethiopia. Where go our morals when we don’t see what our own Army did against those tribes in Chittagong)?;) Four hundred Bangladeshis had been drowned by the Thai army, contemporary to Gaza aggression by the Israelis in December. How many protests did you notice here in this blog, or how many protesters did really show up in front of Thai Embassy in Dhaka? (But they had brought procession against Israeli killing, for sure).How many bloggers did change their profile pic to mourn those deaths of 400 (half of Gaza) Bangladeshis?;)

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:০২

লেখক বলেছেন:
আপনাকে অভিনন্দন। এমন সত্যের মুখোমুখি হওয়ার মত সাহস বা নৈতিকতা কোনটাই আমাদের তথাকথিত “মুসলিম ব্রাদারহুড”দের নেই। আমরা কি কেউ কল্পনা চাকমার অন্তর্ধান রহস্যের কিনারা করতে চেয়েছি? না। প্রায় আড়াই শ’ বছর ধরে মুসলিমদের হাতে কি পরিমান ইহুদী-খ্রীষ্টান নিহত হয়েছে আমরা সেটাই কেবল গুনিনা।
কিন্তু কত শত মুসলিম নিহত হলো সেটা আমরা উম্মাহ এর নামে গুণি এবং মাতম করি।
এই না হলে হিপোক্র্যাসি শব্দটার উৎপত্তি হবে কেন ?

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s