গার্মেন্ট শ্রমিকের লাশের হাতে হিরের আংটি, গলার ফুলের মালা। এক অভাবনীয় বায়োস্কোপ!!

RMG workers demo Mirpur Feb 08

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫৬ |

 

রাজেন তরফদারের পালঙ্ক ছবিতে ধলাকত্তা (উৎপল দত্ত) আক্ষেপ করে বলছেন- “বুঝলি রে মকবুল(আনোয়ার হোসেন) ছেলে বলেছে পালঙ্ক বেঁইচে ওরে য্যান ট্যাকা পাঠাই! কইলকেতায় কি মানুষ থাহে? এক বাড়ির মানুষ আর এক বাড়ির মাইনষের খোঁজ নেয়না রে মকবুল, সব ইঁট-কাঠ হয়া গেছে…..।” এই সময়টা চল্লিশের দশক। সে সময়কার কোলকাতা কে বর্ণনা করা হচ্ছে যন্ত্র-মানুষের সন্নিবেশের এক হৃদয়হীন শহর বলে। তখনো এই পূর্ব বাংলায় বোধহয় হৃদয়টিদয় নিয়ে মাতামাতিতে ছিল! এখনো অনেকে মনে করেন পূর্ব বাংলা এখনো অনেক মানবিক! এখানে এখনো মানুষের ভেতরে যান্ত্রিকতা আর পশুবৃত্তি তেমনি করে ব্যাকটেরিয়ার মত ছড়ায়নি। এমনটি যারা ভাবেন তারা এখনো এই বাংলাকে চল্লিশ বছরের পেছনের সেই বাংলা বলে ভুল করছেন।

উপরের এই ছবিটি কি বলছে? এই যে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আকর্ণবিস্তৃত হাসি দিয়ে গার্মেন্ট শ্রমিকদের ‘আনন্দউৎসব’কে আলোকিত করছেন, এই যে তার মুক্তোর মত দাঁতের ওপর রৌদ্রকিরোণ খেলা করছে, এই যে তার হাত থেকে একটি হিরের আংটি নিয়ে ওই গার্মেন্ট কর্মি ধন্য হয়ে যাচ্ছে, তাদের পাশে দাঁড়ানো ছোটখাট যে মানুষটি এক সময় তুখোড় স্ট্রাইকার ছিলেন বলেই বোধহয় বাউলি কেটে ড্রিবলিং করে টঙ্গীর দগদগে ক্ষতকে দূরে ঠেলে মন্ত্রীর পাশে নিজেকে ধুন্ধুমার স্ট্রাইকারের বেশে হাজির করতে পেরেছেন।

এই যে তারা এক মহা আনন্দঘন পরিবেশে গার্মেন্ট কর্মিদের এক ঘেয়ে জীবনে এক পশলা আনন্দ দেওয়ার কসরৎ করে যাচ্ছেন, তা দেখে কে বলবে মাত্র আগের দিনই ওদের নির্দেশে চার চার জন অসহায় গার্মেন্ট কর্মি আর নিরীহ গতরখাটা মানুষের নির্মম মৃত্যু হয়েছে! শত শত কর্মি এখনো হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে! তিন হাজার কমির নামে মামলা হওয়ায় তারা ফেরার ! হাজার হাজার পরিবারে ওই দিনের পর থেকে হাড়ি চড়েনি! কোলের শিশুগুলো রাতবিরেতে এখনো বাবা বাবা বলে ডেকে উঠছে! ঘরের সব কিছু এলোমেলো রেখে বউটা তার স্বামীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে! স্কুলে যাওয়া ছেলেমেয়েগুলোর স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে! আর যারা পালাতে পারেনি তারা মোটা শিকের গরাদে মাথা ঠেকিয়ে এক একটি প্রহর পার করছে এক একটি বছরের দৈর্ঘে! না। এই আনন্দউৎসব দেখে কোন হৃদয়বানের মনে হবে না যে মাত্র একদিন আগেই এই স্টেডিয়াম থেকে কয়েক মাইল দূরে ওমন নারকীয় হত্যাযজ্ঞ হয়েছে। এটাই এখনকার মিডিয়ার বাহাদুরী। এরা মানুষের হালসাকিন ভুলিয়ে দিতে পারে, দুঃখ কষ্ট বিস্মৃত করে দিতে পারে এক মুহ’র্তে। এমন নির্লজ্জ নারকীয় তামাশা বোধকরি এই হতচ্ছাড়া জগাখিঁচুড়ির তথাকথিত ভ্যবলামারানির দেশে আবালচন্ডিদের দ্বারাই সম্ভব। দেখুন লাশের গন্ধ হাতে মেখে কি অদ্ভুত আনন্দঘন উৎসবমাতম!

“বহুদিন পর পোশাক শ্রমিকদের একঘেয়ে জীবনে নেমে এসেছিল এক পশলা আনন্দ। জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ, ফকির আলমগীরের গানে গানে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও হাজারো শ্রমিক ভুলে গিয়েছিল প্রতিদিনের যান্ত্রিক কাজের মুহূর্তগুলো। রোববার রাজধানীর কমলাপুরে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে র‌্যাফেল ড্র, যেমন খুশি তেমন সাজ এবং গানে গানে মেতে উঠেছিল প্রায় ৩০ হাজার পোশাক কর্মী। উপলক্ষ ছিল বাটেক্সপো পোশাক কর্মী মিলনমেলা-০৯। বেলা আড়াইটায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পায়রা উড়িয়ে বিজিএমইএ আয়োজিত এই মিলনমেলা উদ্বোধন করেন। এ সময় শত শত বেলুন ওড়ানো হয়। পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এই প্রথম পোশাক র্কর্মীদের জন্য এ ধরনের আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করল। র‌্যাফেল ড্রতে বিজয়ী রাজধানীর এক্সেলগার্মেন্টের কর্মী শারমিনকে নিজ হাতে হীরার আংটি পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন শারমিন। এ যেন তার জীবনে এক পরম পাওয়া।” 

বেশ বেশ। আমরা কেবলই মৃত্যু নিয়ে থাকি কেন? আমাদের গার্মেন্ট শ্রমিকদের তো একটুআধটু ফুর্তিটুর্তি করারও খায়েশ হতে পারে! নিশ্চই পারে! পারে বৈকি। ফুর্তী করবে না-ই বা কেন? ওরা তো আর মরে যায়নি! মরে গেছে কোথাকার কোন এক ফ্যাক্টরির কিছু “বেয়াড়া-বে-আদব” শ্রমিক। তাতে ওদের কি? ওদের কে কি তেমনি করেই বোঝানো হয়নি? তাই যদি না হবে তাহলে মাত্র একদিন আগে চারজন শ্রমিকের নৃশংস মৃত্যুর পরের দিন কোন অশিক্ষিত আবেগাক্রান্ত শ্রমিকের পক্ষে কি সম্ভব এমন আনন্দউল্লাস করা? আচ্ছা কি হয়েছিল টঙ্গিরসই নিপ্পন গার্মেন্টে?

নিপ্পন গার্মেন্টের শ্রমিকরা দুই মাস ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না। তাদের বারে বারে বলা হচ্ছিল এই অর্ডারটা শেষ হলেই বেতন দেওয়া হবে। ওই দিন সংঘর্ষের আগে তাদের কথা দেওয়া হয়েছিল ওই দিনই বেতন দেওয়া হবে। অথচ সকালে সব শ্রমিকরা কাজে এসে দেখল মালিকের লোকজন কারখানা লে-অফ ঘোষণা করেছে। লে-অফ মানেই কারখানা অনিদৃষ্টকালের জন্য বন্ধ। এখন বন্ধ কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দেবে কে? না, এই প্রশ্নের উত্তরও কারো কাছে নেই। মালিক সরকার এবং এই সেক্টরের ধীমানরা আর সমাজের পরগাছা বুদ্ধিবৃত্তিক বেশ্যারা আশা করেন মাসের পর মাস বেতন না পেয়েও ওই গার্মেন্ট কর্মিরা কাজ করে মালিকের, দেশের রপ্তানিবাণিজ্যকে আরো উন্নতির সোপানে নিয়ে যাবে। মাসের পর মাস আধপেটা খেয়ে, ধারদেনা করে বেতনের আশায় শেয়াল-কুকুরের মত ফ্যাক্টরিগেটে বসে থাকবে ওরা। একসময় মালিক এসে দুএক টুকরো রুটি ছুঁড়ে দেবে আর ওরা হন্যে কুকুরের মত হামলে পড়বে সেই রুটির উপর। তার পর ওরা প্রভুভক্ত কুকুরের মতই মাথা নিচু করে যার যার ঘরে ফিরে যাবে! কিন্তু ওরা “বেয়াক্কেল-অবাধ্য”রা তা না করে মারমুখি হয়েছিল। আমরা যারা তিন বেলা দেশি,কন্টিনেন্টাল আর এ্যগ্রো মিশিয়ে আহার করে তৃপ্তির ঢেকুর ছাড়ি তারা কিছুতেই ঠাওর করতে পারব না ক্ষিদে পেটের মানুষ কি কি করতে পারে! 

না তারা তেমন কিছুই করেনি। শুধু পাওনা বেতন চেয়েছিল। তাতে রাষ্ট্রের পুলিশ ‘ভীষণ বেয়াদবি’ আর ‘ঊশৃংখলতা’ আবিষ্কার করেছিল। পুলিশের সাথে বাঁদরামি? এদেশে কে কবে এই ‘বাঁদরামি’ করে বেঁচে থেকেছে? কেউ না। আর তাই পুলিশ বরাবরের মত মালিকের পোষা গুন্ডার মত আচরণ করে এ্যাকশনে নেমেছিল। লাঠি, টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট এখন পুলিশের এ্যাকশনের মেজাজ আনতে পারেনা। তাই সরাসরি গুলি! সেই কবেকার ট্রেনিংয়ের কথা মনে করে নতুন নতুন ট্রেনিংয়ের ঝালাই আরকি! পটাপট চারটি লাশ পড়ে গেল।

এর পর যা যা হয়- লাশ গুম করা চলে, ধাপ্পাবাজীর সুরৎহাল হয়, একজন ম্যাজিস্ট্রেট সেই সুরৎহাল করেন। একটা চার বা পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, কমিটিকে কয়েকটা দিন সময় দেওয়া হয়, কমিটি একে তাকে ধরে ধরে হুমকি দিয়ে স্বাক্ষ্যপ্রমান সংগ্রহ করে, হাজার হাজার শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়, মৃত ব্যক্তির নামেও মামলা হয়, কয়েক দিন ধরপাকড় চলে, কেউ কেউ এর মধ্যে নতুন বাণিজ্য খুঁজে পায়, পুলিশ নাম কাটানোর বাবদে নতুন টাকা খাওয়ার ত্বরিকা বের করে…….আর বুড়িগঙ্গা এবং তুরাগের জল ধীরে ধীরে আরো গড়িয়ে দক্ষিণে চলে যায়। সাথে এই কেসটাও ডেড ফাইল হিসেবে হিমঘরে ঠাঁই পায়। আমরা এই ‘অসাধারণ’ নিয়মের ব্যতিক্রম এবারো দেখব না। এবং দেখিওনি।

টঙ্গীতে পুলিশের গুলিতে নিহত হতভাগ্যদের নিয়ে এখন নানা নাটক। লাশ নিয়ে দিনভর লুকোচুরির পর এবার নিহত দু’জনকেও করা হয়েছে মামলার আসামি। ‘নিহতের সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো বাড়াবাড়ি করছে’ পুলিশের এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলেছে আরেকটি লাশ। তাহলে এই মৃত্যুর দায় কার? দায় এড়াতেই কি পুলিশ নিহতদের লাশ নিয়ে লুকোচুরি করেছে? ইতিমধ্যেই এমন প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট দিলরুবা শরমিন বলেছেন, “পুলিশ এভাবে গুলি করে মানুষ মারতে পারে না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তি না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবেই। পুলিশের গুলিতে আহত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করে পুলিশ যেভাবে বিষয়টি চেপে গেছে তাতে পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হতে পারে। পুলিশের এ ভূমিকা মানবাধিকার ও সংবিধানের লঙ্ঘন। জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে পুলিশের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে।”

আ ম’ল যা! মানবাধিকার নেত্রীর এই কথা শুনে হাসিও তো পাচ্ছেনা!বলেন কি? ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’, বর্হিবিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি’ এসব কথা তো এখানে বেমানান! বরং মঙ্গল গ্রহে-ট্রহে গিয়ে বললে তাও কিছু একটা হতে পারে!

সংঘর্ষের ঘটনায় টঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় তিন হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে যে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে নিহত বাবুল শেখ ও শফিকুল ইসলাম রয়েছেন। শ্রমিকরা বলছেন, মৃত ব্যক্তিদের আসামি করে হীনমানসিকতার পরিচয় দিয়েছে পুলিশ। কুৎসিত প্রতিহিংসার কারণেই পুলিশ এ কাণ্ড করেছে বলে নিহতদের পরিবারের অভিযোগ।

রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পোশাক মালিক, শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে টঙ্গীর ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। লাশ গুম করার অভিযোগের মধ্যেই টঙ্গীতে নিহত আরেক ব্যক্তির লাশের খোঁজ দিয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে শনাক্ত একটি লাশ টঙ্গীতে শনিবার সংঘটিত সংঘর্ষে নিহত বলে জানিয়েছে তারা। এ নিয়ে ওই ঘটনায় তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হলো।

“শ্রমিকদের ভয়ে ভীত মালিক পক্ষ এবং সরকার শ্রমিকদের দেশের প্রচলিত আইন-কানুন আর বিচার ব্যবস্থা থেকে আলাদা জগতে ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছে। আগামীতে এই আশুলিয়া বা অন্যান্য শ্রমিক বেল্টগুলোতে কোন প্রকার বিদ্রোহ বা আন্দোলন যেন অংকুরেই বিনাশ করা যায় তারই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। খুবই বৈপরিত্যপূর্ণ ব্যাপার! শ্রমিক ছাড়া দেশের শিল্প চলেনা,চলছে না, শ্রমিক ছাড়া দেশ এক পা-ও এগুতে পারেনা, পারছে না। আবার শ্রমিককে নিয়ন্ত্রণ-নিবর্তন এবং নিপীড়নের জন্য সরকার-মালিক সবাই একসাথে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামছেন! তবে কি আশুলিয়া আর শ্রমিক অঞ্চলগুলো দেশের বিশেষ পুলিশ বা বিশেষ বাহিনীর নতুন ‘ট্রেনিং সেন্টার’ হয়ে উঠতে যাচ্ছে? এভাবেই কি সেই দেড়শো বছর আগেকার ব্যবস্থায় জোর করে উৎপাদন করিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে? সমস্ত শ্রমশক্তি ছিবড়ে শুষে নেওয়ার পাকাপাকি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে?” 

এই কিছুদিন আগে গত আগস্ট মাসেই এই কথাগুলো বলেছিলাম আতংকিত হয়ে। এখন দেখা যাচ্ছে সেই বিশেষ শিল্পাঞ্চল পুলিশ গঠনের আর দরকার হচ্ছেনা। নিয়মিত পুলিশই র‌্যাপিড এ্যাকশনে নেমে মালিক এবং সরকারকে “কাঙ্খিত” সাফল্য এনে দিচ্ছে! দুম করে গুলি শুরু। তারপর পটাপট চার-পাঁচটা লাশ পড়ে যাওয়া। তারও পরে একটা গার্মেন্ট শ্রমিকদের আনন্দউৎসব! হোয়াট আ কম্বিনেশন!!

তারা যে গার্মেন্ট নিয়ে বেশুমার মাতম করেন, বৈদেশিক মুদ্রার কারিগর বলে চরম তামাশা করেন, সেই গার্মেন্ট নারী শ্রমিকদের সত্যিকারের জীবনযাপন কেমন তা কি কখনো আমাদের মন্ত্রী বাহাদুর(অথবা বাহাদুরনী) দেখতে চেয়েছেন? আজ পর্যন্ত কি কোন গুলির হুকুম দেওয়া বা গুলি করার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা মালিক গ্রেফতার হয়েছেন? কারো কি কোন সাজা হয়েছে? কাউকে কি সরকার বাধ্য করেছে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে ? এই সবগুলো প্রশ্নেরই একটি উত্তর- না।

তাহলে কি ধরে নেওয়া যায়না যে প্রধান মন্ত্রীর যে উদাত্ত ঘোষণ-‘দায়ী মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, এটা কি শাক দিয়ে মাছ ঢাকা হয়ে যাচ্ছে না? শাক দিয়ে মাছ বা মাছ দিয়ে শাক, যাই ঢাকা হোক না কেন, আগামীতে একটা সময় এমন নিশ্চই আসছে যখন আর কোন ঢাকাঢাকিতে কুলোবে না। ঠিকই সত্য বেরিয়ে পড়বে। এখন নির্দিধায় বলে দেওয়া যায় যে, এখানে হাজার হাজার গার্মেন্ট শ্রমিকের শ্রম শোষণ হচ্ছে শুধু না তাকে শৃংখলিত করে অনেকটা হ্যান্ডকাফ পরানোর মত করে বন্দি করে তার শ্রম নিংড়ে নেওয়া হচ্ছে। কৃতদাসদের এভাবে শ্রম নিংড়ে নেওয়া হতো। সেই কৃতদাসের সাথে এখনকার আধুনিক কারখানা শ্রমিকের কি কোন তফাৎ আছে? না, নেই

এখন তো তবুও এটি হচ্ছে। আরো পরে হয়ত আক্ষরিক অর্থেই এই শ্রমিকদের মাটির তলাকার কুঠরিতে বন্দি করে লাগাতার বৃদ্ধবয়স পর্যন্ত শ্রম নিংড়ে নেওয়া হবে। তাদের চারপাশে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ঘুরবে মালিক/সরকারের ঠ্যাঙ্গাড়ে বাহিনী। কেউ কাজে ফাঁকি দিলে ওমনি শপাং চাবুকের বাড়ি। আর পুরো ব্যাপারটা লোকচক্ষুর আড়ালে করার জন্য এই শিল্পগুলোকে শহরের বাইরে লোকচক্ষুর আড়ালে নিয়ে যাওয়া হবে, যার আলামত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এবং এই যে দেড়শ বছর আগের দাস ব্যবস্থার মত শ্রম শোষণ চলছে, এ নিয়ে উচ্চকণ্ঠে বলার মতও কেউ থাকবেনা, কারণ বলনেঅলাদের ইতিমধ্যেই কিনে ফেলা হবে(প্রায় কেনা সম্পন্ন) সকলে তখন বলবেন- উন্নয়ন না হলে দেশ এগুবে কি করে? দেশকে এগুনোর জন্য কাউকে না কাউকে তো আত্মাহুতি দিতেই হয়, নাকি? কেউ কেউ পোঁদ চুলকে চুলকে কবিতা লিখবে-“তোমাদের রক্তঘামে আমাদের এই সভ্যতা তর তর করে এগিয়ে যাচ্ছে হে মহান শ্রমদানকারী ভাইয়েরা আমার!” 

এরই আলামত কি আমরা গত ১লা নভেম্বরে কমলাপুর স্টেডিয়ামে দেখলাম? লাশের গন্ধ ঢাকার জন্য ফুলের সমারোহ ঘটিয়ে চার চারটি লাশের শরীরের হাঁড়গোড় দিয়ে বানানো হিরের আংটি যার হাতে পরিয়ে দেওয়া হলো, হয়ত এর পরের এ্যাকশনেই ওই মেয়েটি কতল হতে পারে, অথবা ওর বাবা, কিংবা ওর স্বামী! সেই যাই হোক, আপাতত ও সত্যি ধন্য এদেশের শিল্পপতিরা যে কোন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ছাড়াই তেল আর জল মেশাতে পারেন তা দেখে। মেয়েগুলি কিন্তু একবারও ছিঃ বলেনি, তাহলে আমরা কেন বলব!

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ৪টি লাশ এবং হিরের আংটি ;
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রবন্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:৫৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

৮১২ বার পঠিত২৬৪২৮

 

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

 

৬৪টি মন্তব্য

১-৩১

১. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৩০

রাতমজুর বলেছেন: স্যাবোটাজ।

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৪০

লেখক বলেছেন:

না না, আন্তর্জাতিক এবং পার্শ্ববর্তি দেশের গভীর ষড়যন্ত্র। তারা আমাদের উন্নয়নে পরশ্রীকাতর হয়ে এসব করাচ্ছে! ধিক তাদের!!

২. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৫০

কাব্য বলেছেন: আরো,কতো রঙ্গ যে দেখবো !

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৪০

লেখক বলেছেন:

রঙ্গ এখানে নিত্যনতুন ফরমেটে আসছে….আরো আসবে। চার-পাঁ শ’ মানুষ মরে যাবার পরও দেখবেন বত্রিশ দাঁত বের করে কুতুবরা হাসছেন স্বর্গীয় হাসি।

৩. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৯০

রুবেল শাহ বলেছেন:

চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার নাই আমাদের …………?

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪২০

লেখক বলেছেন:

আছে রুবেল, অন্তরের সমস্ত ঘৃণা এক করে থুথু ছুঁড়ে দেওয়া। আর কিছু পারি বা না পারি থুথু দিতে পারব নিশ্চই।

৪. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৩০

ওসমানজি২ বলেছেন: কয়েকদিন আগে বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছিলেন বিজিএমই তথা সালাম মূর্শেদী সরকারকে ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল (মনে আছে, মন্দার কথা বলে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে প্রণোদনার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল এই সালাম মূর্শেদী)। আর এখন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে পাশে নিয়ে উৎসবে মেতে উঠে সেই সালাম মুর্শেদী। সেলুকাস!

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২১০

লেখক বলেছেন:

বঙ্গ দেশে আগে কেবলমাত্র একটি কালচারই অনুকরণীয় ছিল- জলপাই কালচার। মেয়ের বাপেরা জলপাইয়ের সাথে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকত। এখন রেজিম বদলেছে।

এখন দেশে দবদবিয়ে বেড়াচ্ছে গার্মেন্ট কালচার। অন্য অর্থে দর্জি কালচার। সারা শরীর হাতিয়ে-হুতিয়ে মাপ নিয়ে ছেড়ে দেবে!

দেশের রাজনীতি,অর্থনীতি,সংস্কৃতি,সামাজিক সংস্কৃতি সবই এখন ওরা নিয়ন্ত্রণ করছে। সে কারণেই এসব কিছুর ভেতর এ্যাসেম্বিলিংয়ের গন্ধ!! সামন্তবাদী খুশবু!!

৫. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৫০

ওসমানজি২ বলেছেন: Click This Link

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৮০

লেখক বলেছেন:

আপনার লেখাটি পড়লাম। খুবই সময়োপযোগী লেখা।

৬. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৮০

পল্লী বাউল বলেছেন: যে কোন বিপ্লব, সংগ্রাম চাপা দেয়ার জন্য এটি বেনিয়া মুনাফালোভীদের একটি পুরোনো কৌশল। গতকাল পত্রিকায় পোষাককর্মীদের নিয়ে একটি ফ্যাশনশোর (কিছু পোষাককর্মীর উদ্ভট পোষাক পরিহিত) ছবি দেখতে দেখতে ভাবছিলাম কিছু লোক নিজেদের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে কতভাবেই না ব্যবহার করে!!!

পোস্টের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। যে কোন অন্যায় শোষনের বিরুদ্ধে মন্জু ভাইয়ের লেখনি এভাবেই সচল থাকুক।

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৪০

লেখক বলেছেন:

যতদিন শ্বাস থাকবে ততদিন আমি আমার কাজ করে যাব। তাতে কি হবে না হবে সে নিয়ে এখন আর ভাবিনা। আমি নিজেকে খালি এই বলে সান্তনা দেই যে তোমার আর হারাবার কি আছে?

৭. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২২০

বলেছেন: চলেন বাটেক্সপোর ফ্যাশন শো তে যাই ।

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৩০

লেখক বলেছেন:

এই ভয়ার্ত মেয়েগুলির রক্ত-ঘামের ফসল

এই মেয়েটি। জয় বাটেক্সপোর জয়!!

৮. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৪০

বলেছেন: গরু মেরে জুতা দানের কি জঘন্য নমুনা এ?

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৩০

লেখক বলেছেন:

ঠিক এই রকমই ঘটেছিল ষাঁটনলে লঞ্চ ডুবে ৪ শ মানুষ মারা যাবার পর! কবে যে কোন শালা বলেছিল-বাঙালি নাকি আবেগাক্রান্ত সংবেদনশীল!! তারে পাইলে গরু এবং জুতা দু’ই মারতাম।

০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২১০

লেখক বলেছেন:

এর পর থেকে হবে…কামান মেরে মশা দাগা। এরা পারে তাও! তাও পারে এরা।

৯. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৪০

চাচামিঞা বলেছেন: সেড বাট ট্রু……

=================================

অফটপিকঃ

কিছুদিন আগে গার্মেন্ডস ছুটির পরের একটা দৃশ্য চোখে এলো…..সম্ভবত ওরা প্রেমিক প্রেমিকা……দুজনেই একই গার্মেন্ডস কর্মী……হাত ধরে যাচ্ছিলো….প্রেমিকের হাতে চাইনিজ মোবাইল ….জোরে জোরে রোমান্টিক হিন্দী গান হচ্ছে……চমৎকার লাগলো দেখতে……

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৬০

লেখক বলেছেন:

সাধু-সণ্ণ্যাসী, পীর-ফকিরদেরও যখন বাচ্চাকাচ্চা হয়, তখন গার্মেন্ট কর্মিরা কি দোষ করল!

ওই ছেলেটি এক সময় তিনটি বিয়ে করবে। তিন বউ গার্মেন্টে কাজ করে পয়সা আনবে, আর ও পায়ের উপর পা তুলে হিন্দী গান শুনবে।

১০. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৫০

বলেছেন: কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা…

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৭০

লেখক বলেছেন:

ভাল ভাষার দরকার নেই বৃত্ত, যা মনে আসে তাই-ই সই। এখন চুপ করে থাকার সময় নাই। কিছুই হবেনা, তারপরও বলে যেতে হবে।

১১. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৭০

মনজুরুল হক বলেছেন:

উপরের জলপাই এর বন্দুক তাক করা দেখে কি মনে হয় তার সামনে এক নিরীহ গার্মেন্ট কর্মি? এই নিরীহ মেয়েরাই যেন দেশের প্রধান শত্রু!! ঘেন্নায় গা রি রি করে।

মনে হচ্ছে না তিনি বর্হিশত্রু থেকে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করছেন??!!

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৮০

লেখক বলেছেন:

নিজের দেশ যারা বারে বারে দখল করতে পারে, তারা ভিন দেশ দখল করা বা তাদের আক্রমন ঠেকানোর সময়ই তো পায়না।

১২. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৯০

রশিদুল হাসান বলেছেন: এইসব দেখতে দেখতে আমরাও অভ্যস্থ হয়ে উঠেছি। এইগুলো আমাদেরকে আর এতটা ভাবায় না। নির্লিপ্ততা আমাদেরকে এত বেশি পেয়ে বসেছে যে, এইগুলো স্বাভাবিক ব্যাপার মনে করে হেসে উড়িয়ে দেই। যাপিত জীবনের অংশ মনে করে মেনে নিই।

এইযে এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল সুশীল, সমাজসেবী কিংবা তথাকথিত বুদ্ধিজীবি কোনো মহল থেকেই তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না । বরং কিছু কিছু সরকারের পক্ষে সাফাই গেয়েছে। হায়রে স্বদেশ!! হায় অর্জিত স্বাধীনতা!!!

অনেক ধন্যবাদ মনজুরুল ভাই।

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫০০

লেখক বলেছেন:

ওয়ালমার্ট নামক বায়িং হাউস নাকি একাই পুরো বাংলাদেশ কিনে নিতে পারে! সেই ওয়ালমার্ট বা ওই রকম আরো কিছু পশ্চিমা টাকাঅলাদের বদাণ্যতায় আমাদের সালাম মুর্শেদিরাও এটা ওটা কিনে নিতে পারে। বুদ্ধিবৃত্তিক পরগাছা আর দুঃশ্চরিত্র রাজনীতিক কিনতে কত আর লাগে!

আমরা হয় সোলড, অথবা পেইড আপ।

তলপেট বোঝাই করে রাখুন। একটা সময় আসবে যখন ভীষণভাবে এদের মুখে মুত্রত্যাগের দরকার পড়বে…..

১৩. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৬০

|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:

রাষ্ট্রীয় অনাচারের কুৎসিত এক সমাজের বাসিন্দা আমরা, কুৎসিত সব আপোষ করেই ক্লীবের মতো বেঁচে থাকা…।

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৩০

লেখক বলেছেন:

পশ্চিমের উগ্র সমাজকে যতই আমরা গালাগালি করি না কেন তাদেরও কোথাও যেন অন্তমিল আছে, সুর আছে, ছন্দ আছে। কিন্তু এই পোড়া দেশের সব কিছুই ক্রমশঃ অন্ধাকারাচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে। তারই ভেতর আমরা হাতড়ে হাতড়ে পথ হারাচ্ছি……….

না। কোথাও কোন আলোর দিশা নাই।

১৪. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৪০

মুভি পাগল বলেছেন: ++

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৯০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ মুভি পাগল।

১৫. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৬০

জিপিএস বলেছেন: লাশের গন্ধ হাতে মেখে কি অদ্ভুত আনন্দঘন উৎসবমাতম!

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৩০

লেখক বলেছেন:

ছেনালি বলব না হিপোক্র্যাসি বলব? যা-ই বলি না কেন তা কম বলা হবে।

১৬. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৭০

কালপুরুষ বলেছেন: ভাল লিখেছেন। কিছু বলার মতো কথা খুঁজে পাচ্ছিনা। ভেতরটা জ্বলে যাচ্ছে রাগে দুঃখে।

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৪০

লেখক বলেছেন:

কি আর করবেন দাদা! এটাই আমাদের সোনার বাংলা! এখানে সবই সম্ভব। বাঘে-মোষে একঘাটে জলও খায়।

১৭. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪২০

প্রশ্নোত্তর বলেছেন:

কেবল বাংলাদেশই নয়, বাংলাদেশের আশে-পাশে একটু চোখ রাখলেই দেখতে পাবেন ভিন্ন মোড়কে হুবহু একইরকমের ঘটনা – ভারত, পাকিস্তান, শ্রীনংকা, সবখানেই এক চিত্র। এই ঘটনাগুলো আসলে তরান্বিত করবে দক্ষিন এশিয়ার একটি সোশালিস্ট ফেডারেশনের।

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৬০

লেখক বলেছেন:

এই দক্ষিণ এশিয় সোশালিস্ট ফেডারেশনের কথা শুনছি বেশ কিছু দিন ধরে। শুনে আশাবাদী হওয়ার ইচ্ছা জাগে। কিন্তু পোড়া মন সায় দেয় না! চিন্তা করে দেখি এখন বেশ কয়েকজন বামপন্থী সাংসদ মোহাজোটের ব্যানারে ক্ষমতায়।, একজন নয় দুই জন বাম মন্ত্রী, এবং তারা এমন দুই দপ্তরের মন্ত্রী যেখানে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করা যায়- শিক্ষা আর শিল্প। অথচ এদের আমলেই আমরা দেখছি শ্রমিকদের মারার জন্য আগে যে পুলিশ “ভুল হয়েছে” বলত, তারা এখন প্রকাশ্যে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। সরকারের কয়দিন আগের বিপ্লবী শ্রমিক নেতারা এখন নির্বিচারে শ্রমিক হত্যার পক্ষে সাফাই গাইছে।

সুমনের গানটা মনে পড়ে….আজকে যে মুখে মারে বিশ্ব / নির্বাক হয়ে যাকে কাল সে!!

তেমনি আজকে যে বিপ্লবী ছাত্র / ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে যাবে কাল সে…. আর তার পরেই গুলি চালাবার আদেশ দিয়ে সরকারী বনে যাবে কাল সে।

আপনাকে আরো একটু সরব আশা করছি। আমি তো এখন প্রায় অনিয়মিতই…

১৮. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৪০

বলেছেন: ঘড়ির কাটা এক ঘন্টা না আগায়া আমাদের উচিত ছিল ক্যালেন্ডারে ১০০ বছর পিছানো । এখন ১৯০৯ সাল।

শালার কপাল … নিজের উপরই ঘেন্না লাগতেছে ।

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৩০

লেখক বলেছেন:

কিছুতেই এই ঘোর অমানিশা থেকে মুক্তি নাই মনির! এই প্যাঁচপেচে কাদাময় সভ্যতা, দগদগে ঘাঅলা সংস্কৃতি, চামড়া ছিলে তুলে নেওয়া মানবতা আর নিজের ত্যাগ করা বর্জ্যের মত প্রেমটুকু দিয়ে যারা দেশ প্রেমের পরাকাষ্ঠা দেখায় তাদের ঘেরাটোপেই তোমাকে আমাকে আরো বেশ কিছুদিন বেঁচে থাকতে হবে!

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৮০

লেখক বলেছেন:

মালমশলা রেডি করে রাখ। ঈদের আগেই পোস্ট দিতে হবে। নো মার্সি।

১৯. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৯০

শ।মসীর বলেছেন: শয়তান বলেছেন: চলেন বাটেক্সপোর ফ্যাশন শো তে যাই ।দাওয়াত কেমনে পাই।

রাইটে মাইয়া নাচায়, আর দিনে কেমেরার সামনে বড়বড় কথা কয় আনিসুল হকরা ।

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:১১০

লেখক বলেছেন:

সামন্তপ্রভুর দয়ায় সামন্তচিন্তার হাত ধরে এদের যাওয়ার দৌড় তো ওই পর্যন্তই। দেশের টাকায় পোদ্দারি করে আর দেশের গুষ্ঠি উর্দ্ধার করে সকাল-বিকাল ।

২০. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৮০

বলেছেন: দক্ষিণ এশিয় সোশালিস্ট ফেডারেশনের কথা আমি শুনি নাই । একটু শোনাবেন এর রূপরেখা কর্মপরিধী ?

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৭০

লেখক বলেছেন:

এটা কিছুই না। এরকম একটি সম্ভবনার কথা বলেছেন প্রশ্ন। আর আমিও বলছি, কাজটা হওয়া দরকার। এখানে এ ধরণের কোন কনফেডারেশন ছাড়া মেহনতি মানুষের টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

২১. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১১০

মুকুট বলেছেন: খেটে খাওয়া এই পোশাকশ্রমিকদের ভাগ্যের এই নির্মম পরিহাস শেষ হবে কবে?

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২১০

লেখক বলেছেন:

আমরা সবাই খুশি হতাম যদি এই পরিহাস শেষ হতো, কিন্তু আমরা দেখছি আরো নিত্য নতুন কায়দায় শোষণের মাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। জানি না এর শেষ কোথায়….

২২. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৬০

অপ্‌সরা বলেছেন: তুমি শুধু মনখারাপ করা পোস্ট নিয়ে আসো ভাইয়া।

এই খবরগুলো শুধুই পড়ে যাই। কখনও ভাবিনা কিভাবে এসব বন্ধ হবে।

০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৮০

লেখক বলেছেন:

কি আর করা যাবে ভাইয়া। এটাই তো বাস্তবতা। আমিও তো চাই শীতের সকালের চনমনে রোদ আর খেজুর রসের মিষ্টি গল্প লিখব, সন্ধ্যে বেলা লাল হয়ে ডুবতে থাকা সূর্য নিয়ে কবিতা লিখব, দক্ষিণা হাওয়ায় উড়ে যাওয়া আঁচলের লুটোপুটি নিয়ে নষ্টালজিক হব…. কিন্তু চোখের সামনে এই বাস্তবতা আর সব কিছুকে ভুলিয়ে দেয়।

একদিন বন্ধ হবে অপসরা। আমি আমার কাজ করে যাব। কবে বন্ধ হবে সেটি ভাবলে তো হতাশ হয়ে পড়ব! তাই ভাবি না।

এক সপ্তাহ ধরে তোমার কোন পোস্ট আসছে না কিন্তু…

২৩. ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৯০

মেহবুবা বলেছেন: আপনার পোষ্টে সহমত জানাই । আমরা অনেক মানুষকে ঠিক মানুষ বলে মনে করি না সেটা ভুলে যাই ।

তবে ঘটনার পরে একদিন কোন একটা চ্যানেলে ওবায়দুল গনি চন্দন নামে একজন গার্মেন্টস কর্মীদের সাথে কথা বলে দেখলাম জানাল তাদের বেতন বাকী রাখা হয় নি ।

০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৩০

লেখক বলেছেন:

আপনার বোধহয় কোথাও ভুল হচ্ছে মেহবুবা। বেতন বাকি না থাকলে তারা ফ্যাক্টরি গেটে ঘেরাও দেবে কেন? আর পুলিশ কমিশনারই বা কেন বলবেন– “ফ্যাক্টরি লে-অফ কারার আগে আমাদের জানালে এই অবস্থা হতো না” ফ্যাক্টরি কখন লে-অফ হয় তা নিশ্চই আপনার অজানা নয়।

আর ওবায়দুল গনি চন্দন নামে যে গার্মেন্ট কর্মীর কথা বললেন সে গার্মেন্ট কর্মী নয়। সম্ভবত আপনি চ্যানেল প্রতিবেকের কথা বলছেন। চন্দন একটি চ্যানেলের প্রতিবেদক। ওরা এধরণের “এ্যাম্বেডেড” নিউজ করে থাকে। এতে ওদের পাঁচতারা হোটেলে বিয়ারটিয়ার জোটে।

অবাক হলাম! বেতন বাকি নেই, অথচ হতভাগা শ্রমিকরা মনের সুখে গুলি খেয়ে মরছে! নিশ্চই ওরা ফ্যান্টাসী কিংডম দেখার বায়না করে থাকবে!!

২৪. ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫৩০

মেহবুবা বলেছেন: ওবায়দুল গনি চন্দন নামে একজন গার্মেন্ট>>> কথাটা আসলে ওবায়দুল গনি চন্দন নামে একজন প্রতিবেদক গার্মেন্টস কর্মীদের>>> হবে ।

বাকী বিষয়টার ভেতরে প্রবেশের বিষয়ে নিজের অজ্ঞানতা থাকতে পারে ।

ধন্যবাদ ।

০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১১০

লেখক বলেছেন:

অজ্ঞানতা নয় মেহবুবা, আমরা সকলেই আসলে বিষয়ের বাইরের দিকগুলো দেখি, কেননা আমরা একটা নিরাপদ শ্রেণীর মানুষ। মধ্যবিত্তরা খুব বেশি কাছাকাছি যেতেও পারে না। তার মানে এটা বলছি না যে ওদের দুঃখ বুঝতে হলে ওদের ঘরে গিয়ে বসতে হবে!

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ মেহবুবা। এধরণের পোস্টে সাধারণত মেয়েরা আসলেও মন্তব্য করেনা। দেখেই চলে যায়। আপনি যে পড়েছেন, এবং মতামত দিয়েছেন সেটার জন্যই আপনার অভিনন্দন প্রাপ্য।

২৫. ০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৬০

মনজুরুল হক বলেছেন:

আজ শ্রীমান সালাম মুর্শেদী বাটেক্সপোর সমাপনী ভাষণে জাতির সামনে আরো কিছু বেয়াইবাড়ির আব্দার তুলে ধরেছেন! যার সার কথা হলো সেই ঈদের আগে প্রত্যাশা করেও না পাওয়া প্রণোদনার টাকা!! আরো কিছু চসকপ্রদ খবর আছে তার বয়ানে……

১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৯০

লেখক বলেছেন:

আরো কিছু মজার (আসলে হিপোক্র্যাসি) ইনসেনটিভ দিচ্ছে সরকার বাহাদুর। দেখি এ নিয়ে আর এক ফর্দ লেখা দিতে পারি কি না।

২৬. ০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:২০০

শরিফ নজমুল বলেছেন: আপনার পোষ্টে সহমত প্রকাশ করে এই অন্যায়ের প্রতিবাদে আমিও শরিক হচ্ছি। রাজনৈতিক নেতারা নীতির সাথে কম্প্রোমইজ করেন বলেই এর কোন শেষ হ্য় না। তবুও এ ধরনের প্রতিবাদ এক সময় কাজে আসবে ..

Click This Link

০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৩০

লেখক বলেছেন:

আপনার পোস্টটি পড়ে এলাম। চমৎকার লিখেছেন। এই যে আপনি আশাবাদী হচ্ছেন, এটাই আমাদের পুরষ্কার। লেখালেখি করে আর কিছু হোক না হোক, এটুকুই বা কম কি?

ভাল থাকবেন।

২৭. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২০০

সত্যান্বেষী বলেছেন: পোস্ট প্রিয়তে। সময় নিয়ে পড়তে হবে।

১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৫০

লেখক বলেছেন:

আপনাকে লগড ইন দেখি, কিন্তু সাড়াশব্দ পাই না! বুঝি ব্যস্ত আছেন। তাই সেদিন আপনার পুরোনো পোস্টে মন্তব্য করে এসেছিলাম।

আসলেই আপনি অনেক দিন কোন পোস্ট লিখছেন না। এভাবে চলতে থাকলে একসময় দেখবেন আর লেখার আর্জ আসছে না! সেটা খুব সহজে তাড়ানোও যাবে না কিন্ত…..

২৮. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৪৪০

বলেছেন: অটঃ আজকের মানিকগণ্জ সফর বাতিল হৈছে ।

১৩ ই নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৪০

লেখক বলেছেন:

সাড়া শব্দ না দেখেই বুঝেছি। কিন্তু কেন? লোক যোগাড় হয় নাই?

২৯. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১১০

বলেছেন: চারজন সিক রিপোর্ট করে আছে । একজন নতুন বৌয়ের সাথে দেখা করতে গেছে । সব আইলসার ডিপোট !!!!

১৩ ই নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:২৭০

লেখক বলেছেন:

হুম। কি আর করা। নেক্সট টাইম প্রোগ্রাম করেন। তবে পুরোনো দালানের দেখারই বা কি আছে? তার চেয়ে আমাদের কারো গ্রামের বাড়িতে যাওয়া যায়। মাছ ধরার ব্যবস্থা থাকলে সোনায় সোহাগা!

৩০. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১৪০

রাগ ইমন বলেছেন: কর্পোরেট বেশ্যাবৃত্তি ।

পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অপূর্ব ছেনালি ।

আর কি বলবো?

বেতনের নিশ্চয়তা , কাজের নিশ্চয়তা , ওভারটাইমের টাকা , মাতৃকালীন ছুটি – কিছুই না দিয়ে হীরার আংটি ।

থাক, মুখে গালি চলে আসছে

১৪ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৩০

লেখক বলেছেন:

তাও পিওর পুঁজিবাদ নয় রাগ ইমন। এটা হলো নাপতা পুঁজিবাদ, যারা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেয়ে অন্যের ধামা ধরতে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। কতটা নির্লজ্জ বেহাপনা হলে চার চার জন লাশের দগদগে স্মৃতি শুকোনোর আগেই এমন বেলেল্লেপনা হতে পারে!

মুখে গালি চলে এলে তা ঝেড়ে দেওয়াই ভাল, তা না হলে খামোখা এসিডিটি হয়!

৩১. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪৯০

ডলুপূত্র বলেছেন: ছি বেহায়া!

১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৮০

লেখক বলেছেন:

তার আর বলতে!

 

Top of Form

আপনার মন্তব্য লিখুন

কীবোর্ডঃ  বাংলা                                    ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয় ভার্চুয়াল   english

নাম

       

Bottom of Form

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s