নিরপরাধ বললেই হলো? না হয় একজন নিরপরাধ বাপ্পী বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে, তা নিয়ে এত কান্নাকাটির কী আছে?

POLICE HUMILUTION

০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২০ |

 

রাষ্ট্রের মাথায় যেন বাজ পড়েছিল! রাষ্ট্রের অস্তিত্ব যেন ধূলো মিশে যাচ্ছিল! রাষ্ট্রের কর্ণধাররা যেন স্বস্তিতে দু’দণ্ড তিষ্টোতে পারছিলেন না! রাষ্ট্র যেন এক ঘৃণ্য অপবাদ মাথায় নিয়ে এগুতে পারছিল না! তামাম বিশ্বে বোধকরি এই রাষ্ট্রটি জাতে ওঠার মত কৌলিণ্য লাভে ব্যর্থ হচ্ছিল! আর সে কারণেই রাষ্ট্র এবং তার শাসকরা প্রথমে আবিষ্কার করেন সর্টকাট পন্থা-স্রেফ ঠান্ডা মাথায় মানুষ খুন। কায়দা করে বলা হলো- ‘দেশে সন্ত্রাস ব্যাপকভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তাই এদের দমনের জন্য রাষ্ট্রের হাতে, সরকারের হাতে খুন ব্যাতিরেকে আর কোন পথ খোলা নেই’। শুরু হলো “অপারেশন ক্লিনহার্ট”। একে একে বিচার বর্হিভূত ভাবে ধরে ধরে মানুষ খুন হতে থাকল। বলা হলো ‘হার্ট এ্যাটাক’। সেটা বিএনপি জমানা। এর কুশিলব ছিলেন জেনারেল হাসান মসউদ চৌধুরী, যিনি তদারকি আমলে দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান দপ্তর- দূর্নীতি দমন কমিশন বা দুধক এর কর্ণধার ছিলেন, এবং এখন দূর্নীতির বোঝা মাথায় নিয়ে নিজেকে মুক্ত করার কোশেশ করে যাচ্ছেন।

এর পর সেই আমলেই এই হত্যাকান্ডের রূপ চেহারা একই রেখে নাম পরিবর্তন হয়ে হলো-‘ক্রসফায়ার’, যা তদারকি আমলেও বিপুল বিক্রমে চলেছে। একের পর এক ঝরে পড়েছে মনুষ্য প্রাণ। বলা হয়েছে-সন্ত্রাসী, তার নামে এত এত হত্যা মামলা সহ আরো অনেক অনেক মামলা ইত্যাদি রয়েছে। এই সাথে একটি বহুল বর্ণিত বহুল চর্চিত গল্পও বলা হয় যা এখানে পুনরুল্লেখ অনাবশ্যক। মানুষের মুখে মুখে ওই গল্প মুখস্থ প্রায়। চলছে। নির্বিচার ‘ক্রসফায়ার’ চলছে। রাষ্ট্রের এই অত্যাধুনিক হিপোক্র্যাসি দেখে দু’চার জন বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষ কুঁই কুঁই করে এবং দু’একটি তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠন একটু প্রাতিষ্ঠানিক কায়দায় প্রতিবাদ-ট্রতিবাদ করেছেন বটে তাতে এসব হত্যালীলার কিসসু যায় আসেনি। 

সে সময় এখনকার সরকারী দল যারা বিরোধীদলের তকমায় ছিলেন তারা ‘দৃঢ় ভাবে’ ঘোষণা করেছিলেন-” আমরা ক্ষমতায় গেলে এই এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং বন্ধ করব।” শুধু যে মাঠ গরম করে বলেছিলেন তাই নয়, তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও এই ঘোষণা দিয়েছিলেন। আরো মজার ব্যাপার মহাজোট ক্ষমতাগ্রহণের পর পরই সয়ং প্রধান মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন- “এযাবত ঘটিত সকল বিনাবিচারের হত্যাকান্ডের যথাযথ বিচার করা হবে। আর নতুন করে কোন ‘ক্রসফায়ার’ ঘটবে না”। আমরা আম নাগরিকরা প্রমাদ গুনেছিলাম। ঘর পোড়া গরুতো সাদা মেঘেও সিঁদুরের রঙ দেখতে পাই। আর যথারীতি আমরা দেখলাম মাত্র কিছুদিন তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’ বন্ধ হবার পর যেন আর একটি ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্র তৈরি করার জন্যই সারা দেশে বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু খুন-খারাবি হলো, ব্যাস, সরকার নতুন উদ্যোমে আবার ‘ক্রসফায়ার’ শুরু করার অজুহাত পেয়ে গেল, এবং এরপর বিপুল বিক্রমে ‘ক্রসফায়ার’ শুরু হলো। এবার নাম বদলে বলা হলো- এনকাউন্টার। তারও পরে আরো সুশীলীয় কায়দায় বলা হলো “বন্দুকযুদ্ধ”। বেশ।

এখন তাহলে আর এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং নেই! আছে নিপাট ভদ্রগোছের নিরিহ বন্দুযুদ্ধ। বেশ। এটাকে রাষ্ট্রিক এলেমে স্বতঃসিদ্ধ করার জন্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী এই হত্যার স্বপক্ষে দিনের পর দিন রাশি রাশি যুক্তি হাজির করতে থাকলেন। বিদেশ মন্ত্রী যদি বলেন-বিনা বিচারে হত্যা করা অন্যায়, তো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলে বসেন- “চরমপন্থিদের ধরতে গিয়ে কি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী (র‌্যাব-পুলিশ) দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গুলি খাবে?” সত্যিই তো! আমাদের কোটি টাকা ব্যয়ে শিক্ষাপ্রাপ্ত সৈন্যরাতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গুলি খেতে পারেনা! আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা তো দু’পয়সার সন্ত্রাসীর হাতে মরতে পারেনা! কিন্তু এত যে কাড়ি কাড়ি গুলির খোসা, পাইপ গান, বন্দুক, পিস্তল, রাইফেল আর অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্রর ছবি সুন্দর করে সাজিয়ে কখনো ফুলের আকার দিয়ে সংবাদপত্রে ছাপা হয়, কই একটি বারও তো একজন র‌্যাব বা পুলিশ সদস্যের গুলি খাওয়া বা আহত হওয়ার হাসপাতাল বেডের ছবি ছাপা হলো না! 

যাক এত জটিলতায় কাজ নেই। আমরা জানতে না চাইলেও আমাদেরকে খুব নগ্নভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এগুলো ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’। আমরা এপর্যন্তই জানার অধিকার রাখি, এর বাইরে নয়।

এই হত্যাকান্ডগুলোকে আম নাগরিকদের কাছে কি ভাবে গ্রহণযোগ্য করা হয়েছে বা হচ্ছে? সেখানেও এক চমৎকারিত্ব আছে। নাগরিকরা নাকি ‘সন্ত্রাসী’দের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে এখন র‌্যাব কর্তৃক ‘বন্দুযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী নিহত হলে মিষ্টি বিলায়। এই বিলানোর খবর এবং ছবি ছাপা হয়। তা দেখে যারা এখনো মিষ্টি বিলাননি তারাও যেন অতিস্বত্তর মিষ্টি বিলানো এবং প্রয়োজনে মিলাদটিলাদও পড়িয়ে দিতে উৎসাহি হন! এইখানটিতে সরকারের এই বিনাবিচারের হত্যাগুলোকে মিডিয়া শুধু জায়েজই করেনা, বরং উৎসাহ দেয়। 

এই মিডিয়ার ধার ধারেনা কে? খোদ সরকারকেও কখনো কখনো মিডিয়ার ধার ধারতে হয়। আমরা জানিনা কি ভাবে সরকার মিডিয়াকে ‘ম্যানেজ’ করে! তবে মিডিয়ারও যে একটা অপ্রচ্ছন্ন ভূমিকা আছে তা অস্বীকার করার উপায় আছে কি? মিডিয়া, আম নাগরিক, তথাকথিত সুশীল সমাজ, জাতির বিবেক বলে ফেনায়িত শিক্ষিত শ্রেণী, দেশের ক্ষমতাবান এলিট ক্লাস এবং অপরাপর শ্রেণীসমূহ নিজেদের কাছে নিজেরাই একধরণের মেকশিফট লজিক মেক করেন এবং সেই মেক করা লজিকের ছাঁচে এই ‘বন্দুকযুদ্ধ’কে ফেলে নিজের বিবেকের কাছে দায়মুক্তিও পেয়ে থাকেন। কৌশলটি ভারি অদ্ভুত! অন্যায়কে ন্যায় করার অদ্ভুত এক হিপোক্র্যাসি। এই যুক্তি সমূহের অন্যতম যুক্তি হলো ‘নিরপরাধ” কেউ নয়, মারা যাচ্ছে দাগি আসামী আর ভয়ংকর সন্ত্রাসী! কারা নির্ধারণ করছেন? কেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা! 
“( গত ৪ অক্টোবর যাত্রাবাড়ীর নামাপাড়া বস্তি লাগোয়া মাঠে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাইজ উদ্দিন ওরফে সাজু গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। নিহতের স্ত্রী বন্যা আক্তার যূথী (২১) তখন সমকালকে বলেছিলেন, তার স্বামী সাজু জেনারেটরের ব্যবসা করেন। ঘটনার চার দিন আগে তার স্বামীকে বাসা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর ডিবি বাবুল নামে র‌্যাবের এক সোর্সের মাধ্যমে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। তা না হলে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। স্বামীর জীবন বাঁচাতে তিনি ভগ্নিপতি আবদুর রহিমের মাধ্যমে র‌্যাবের এক কর্মকর্তাকে দুই দফায় সাত লাখ টাকা দেন। তবে তারপরও তারা কথা রাখেনি।(সমকাল। ২১.১০.২০০৯)” 
বিভিন্ন বাহিনী থেকে নিয়ে কঠোর ট্রেনিং পাওয়া দেশপ্রেমিক বাহিনী। কিন্তু তাহলে আদালত, বিচারক আর আইন বিষয়ক অন্যান্য দপ্তর রয়েছে কি জন্য? না, এই প্রশ্নের উত্তর নেই, উত্তর হয়না!এ হলো অনেক উপমার মাত্র একটি!!

কিন্তু মুশকিল হলো এই বাহিনীর কিছু সদস্যের কিছু অতি “হিতকর্ম” যখন আর চেপে রাখা যায় না তখন বাধ্য হয়েই প্রকাশ করতে হয়। সেই প্রকাশে দেখা যায় একজন এএসআই বা এসআই র‌্যাব পরিচয়ে নিরীহ পথচারীকে ধরে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে লাখ টাকা, সোনা-দানা কেড়ে নিয়েছে, সংগবদ্ধ ভাবে ডাকাতি করতে গিয়ে গ্রামবাসীর ঘেরাওয়ে পড়েছে! এইসব খবরের শত খবরের একটি দুটি যা প্রকাশ্যে আসে তা-ই এমন। বেশ চলছে তো চলুক। এখন দেখুন সেই মিডিয়া হঠাৎ এক ‘নিরপরাধ’ অভিনয় শিল্পির ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মৃত্যুতে কেঁদে কেটে জারেজার হচ্ছে…..

“’বন্দুকযুদ্ধের’ নামে তরুণ মডেল, অভিনেতা কায়সার মাহমুদ বাপ্পীকে হত্যা করেছে র‌্যাব। খিলগাঁও, বাড্ডা এলাকার সন্ত্রাসী কামরুল ইসলাম বাপ্পীকে ধরতে গিয়ে কায়সার মাহমুদ বাপ্পীকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হলো। নিহত বাপ্পীর বিরুদ্ধে রাজধানীর কোনো থানায় মামলা তো দূরের কথা, একটি জিডিও নেই। একজন সোর্সের দেওয়া ভুল তথ্যে তপ্ত বুলেটে নিভে গেছে নির্দোষ এক তরুণ অভিনয়শিল্পীর জীবনপ্রদীপ। মর্মান্তিক এই ভুলের কারণে এক মায়ের বুকের নিধি চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল। সন্তানহারা অভাগিনী মায়ের কান্না অভিশাপের বিষবাষ্প হয়ে আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে একটি সুখী পরিবারে সর্বনাশার কালো ছায়া কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তার বিবরণ দিয়েছেন বাপ্পীর মা। আছিয়া আক্তার বলেন, ‘র‌্যাবের এই ভুল অমার্জনীয়। এরপরও ঘাতকদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করতে ভয় পাচ্ছি। কোনো অপরাধ না করেই বাপ্পী ‘সন্ত্রাসী’ হয়েছে, র‌্যাবের গুলিতে মারা গেছে। মামলা করলে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে? কারণ, যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অপরাধ প্রমাণ না করেই কাউকে হত্যা করে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে সুবিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।’ এ কথা বলার সময় তার চোখে জমাট বাঁধা অশ্রু নীরবে ঝরতে থাকে দু’গাল বেয়ে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একজন মা। আমি তার কাছে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে বলব, আপনি সন্তানহারা মায়ের বেদনা বুঝবেন। আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। আমি দোষীদের শাস্তি চাই।’ 

নিহত বাপ্পী সন্ত্রাসী কি-না কিংবা তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা রয়েছে কি-না তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি পুলিশ। খিলগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নবজ্যোতি খীসা বলেন, ‘বাপ্পীর বাসা রামপুরা এলাকায়। তার বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তা রামপুরা থানা পুলিশ বলতে পারবে। আমার থানায় কোনো অভিযোগ নেই।’ 
রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ আলী আহমেদ হাশমী বলেন, ‘বাপ্পী নামে এক সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। নিহত বাপ্পী ওই হত্যা মামলার আসামি
 
কি-না তা আমার পক্ষে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। যতদূর জানি, নিহত বাপ্পীর বিরুদ্ধে আমার থানায় কোনো অভিযোগ নেই।’ তবে বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী নিশ্চিত করে বলেন, ‘কায়সার মাহমুদ বাপ্পী নামে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমার থানায় কোনো মামলা নেই(সমকাল। ২১.১০.২০০৯)

এই খবরটি পড়লে আমাদের মনে হবে মিডিয়া বোধহয় বরাবরই এধরণের হত্যাকান্ডের বিরোধীতা করে আসছে! হা হোতষ্মি! তা তো কখনো হয়নি! এই খবরের আরো একটি অভুত বৈপরিত্য আছে, সেটি আরো ভয়াবহ! একজন প্রতিষ্ঠিত মানবাধীকার নেত্রীর এই বিবৃতিটি আরো একটি কদাকার দিক উন্মোচিত করে দিচ্ছে। “সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল সমকালকে বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই এ ধরনের আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা করে আসছিলাম। অবিলম্বে আইনবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা উচিত। বিনা বিচারে সন্ত্রাসী মারতে গিয়ে নিরপরাধ কাউকে হত্যা করলে তার মাশুল কে দেবে? এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সরকার সংবিধান হাতে নিয়ে শপথ করেছে, তারা আইন রক্ষা করবে। কিন্তু তা হচ্ছে না।’ ‘ভুলক্রমে’ বাপ্পীকে হত্যা গুরুতর অপরাধ(সমকাল।২১.১০.২০০৯)” 

এখানে লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে সুলতানা কামাল কিন্তু বিনা বিচারে ‘সন্ত্রাসী’ মারায় কোন দোষ দেখছেন না! তিনি বলছেন-‘ বিনা বিচারে সন্ত্রাসী মারতে গিয়ে নিরপরাধ কাউকে হত্যা করলে তার মাশুল কে দেবে? এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।’ তার মানে কি? সন্ত্রাসী হলে তাকে বিনা বিচারে মারা জায়েজ! এটাই কি বলা হচ্ছেনা? সন্ত্রাসী মারতে গিয়ে ভুলক্রমে কোন ‘নিরপরাধ’ কাউকে মারা হলেই সেটা ‘মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’! কি ভয়াবহ নগ্ন সত্যটি এই নেত্রী বলে বসলেন! 

সন্ত্রাসীদের সাজা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্র একটি সংবিধান মোতাবেক সেই সংবিধানের রক্ষকদের নিয়োগ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণেরই সেই সংবিধানকে রক্ষা করার মহান দায়িত্ব। পাশাপাশি দেশে আদালত, পুলিশ, আইনজীবী, এমন আরো ডজন ডজন প্রতিষ্ঠান আছে যারা দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্য রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে মাস মাস বেতন ভাতা পাচ্ছেন। সেই সভ্যতার ঊষা লগ্ন থেকে মানুষ সভ্য থাকা এবং সভ্যতা অটুট রাখার জন্য আইন প্রণয়ন করেছে, তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করেছে। সেই আইনে এক জনও নিরপরাধ মানুষ যেন সাজা না পায় তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের টাকায় বছরের পর বছর বিচারপতিগণ শিক্ষা লাভ করেছেন। তারা যেন ভুল না করেন সেজন্য নানাবিধ সামাজিক যাচাই-বাছাই শেষেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের কলমের খোঁচায় যেন একজন নিরপরাধ মানুষের ফাঁসি না হয় সেজন্য তারা দিনের পর দিন যুক্তিতর্ক, সাওয়াল জবাব এবং পূঙ্খানুপূঙ্খরূপে একজনের অপরাধ তুল্য দন্ডে ফেলে পুনঃপুনঃ যাচাইয়ের পরই তার শাস্তি নিশ্চিত করেন। আর এখন সেই মহামান্য বিচারপতিদের চোখের সামনেই রাষ্ট্র দিনের পর দিন সংবিধান লঙ্ঘন করে চলেছে। তা দেখে নিরোর মত বাঁশী বাজিয়ে চলেছেন আমাদের সমাজের এই উঁচুতলাকার মানুষগুলো! এদেরই একজনের এই বানী শুনে এতে আর কোন সন্দেহই থাকে না যে এই বিবেকবানদের বিচারে ‘সন্ত্রাসী’কে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযৃদ্ধে’ হত্যা করা জায়েজ! শুধু এই ডামাডোলে সোর্সের বা অন্য কোন টেকনিক্যাল ভুলে ‘নিরপরাধ’ কেউ মারা গেলেই সেটি “মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন” হয়ে যায়! হায় রে গণতান্ত্রিক ঘেরাটোপের শব্দাবলি!

এখন কি জবাব দেবেন মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী? কি জবাব দেবেন একসময় ‘ক্রসফায়ার’ বন্ধ করতে চাওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? যদিও তারা এসব উটকো প্রশ্নের জবাব দিতে অভ্যস্থ নন, যদিও তারা এই ধরণের ছুটছাট সংবাদকে আমলে আনেন না, তার পরও যদি সত্যি সত্যি জবাব দিতেন তাহলে হয়ত বলতেন- “হাজার হাজার ভাল, সৎ, আদর্শবান কর্মকর্তা এবং কর্মচারিদের ভেতর এমন দু’চার জন থাকতেই পারে,এমন ভুল একটু-আধটু হতেই পারে!” এ ছাড়া আর কি কিছু বলবার মত আছে? থাকলে নিশ্চই তারা বলতেন।

শেষ কথা হলো; এই আমাদের রাজনীতিকরা সংবিধান সংবিধান করে এত এত চিৎকার আর যুক্তিতর্ক করেন, সংবিধান রক্ষার জন্য জান কুরবান করবেন বলে ঘোষণা দেন, তারা কি বুঝতে পারছেন যে তারা প্রতিনিয়ত সংবিধান লঙ্ঘন করে চলেছেন? সন্ত্রাসী, নিরপরাধ, অল্প অপরাধী, কথিত আসামী, ভিন্ন মতের ভিন্ন পথের রাজনীতিক,চোর-ডাকাত এবং সম্ভাব্য বিপজ্জনক ব্যক্তিদের কে যে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা করা হচ্ছে প্রায় নিয়মিতই (এবং মিডিয়ায় রোজ রোজ লিখতে হচ্ছে বলে তারা আলাদা একটা লোগোও বানিয়ে রেখেছে) সেই প্রতিটি হত্যার দায়ভার নিতে হবে এই রাষ্ট্রকে, রাষ্ট্রের শাসকদেরকে, কেননা যে সরকার তার সাংসদদের দিয়ে আইন বানিয়ে সেই আইন প্রতিষ্ঠা করার জন্য আদালত বানিয়ে সেই আদালতে সুশিক্ষিত বিচারক এবং আইনজীবী বসিয়ে রেখেছে, সেই আইনের আওতায় আনার জন্য জনগণের করের টাকায় বিভিন্ন বাহিনী তৈরি করা হয়েছে, সেই বাহিনীর কাজ কি হবে তা নির্ধারণের জন্য সরকারী একাধিক দপ্তর খুলে রাখা হয়েছে, সমাজের যে শিক্ষিত অংশ বা সুশীল সমাজ বা এলিট ক্ষমতাবান শ্রেণী যে আইন আর সংবিধানের সমর্থক-হেফাজতকারী, যারা এই রাষ্ট্রটিকে আধুনিক বলে আরো আধুনিক করার জন্য ‘জনগণের’ জান-মাল রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদের প্রত্যেককেই এই ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ দায়ভার নিতে হবে। সেটা যতদিন না হবে ততদিন এই রাষ্ট্র বা এই সমাজকে কোন ভাবেই আইয়েমে জাহেলিয়াতের কলঙ্কমুক্ত করা যাবেনা। রাষ্ট্র দিন দিন মধ্যযুগীয় বর্বর রাষ্ট্রের কলঙ্ক বহন করে চলবে।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বন্দুকযুদ্ধ চলছে-চলবে ;
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রবন্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:৫৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

৪৩৮ বার পঠিত১৪৩১৮

 

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

 

৪৩টি মন্তব্য

১-২২

১. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪১০

ম* বলেছেন: বহু প্রতিক্ষিত দুইহাজার নয় সালে এসে ক্রসফায়ার নামক জঙ্গলী ব্যাবস্থা’টা কি আদৌ কোন সভ্য রাষ্ট্রের গুনাগুনের মধ্যে পরে?

কোন রাষ্ট্র ব্যাবস্থায় ক্রসফায়ারের মত নিত্যকার ব্যাপার মানে কি এই নয় যে, সে রাষ্ট্রের আইন ব্যাবস্থা আদতে “সম্পূর্ণ ব্যর্থ” ?

০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৩০

লেখক বলেছেন:

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এর মে মাসের প্রতিবেদনের কিছু অংশঃ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, বাংলাদেশের র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা বা পুলিশ সদস্যরা খুব সহজেই মানুষ হত্যা করেও পার পেয়ে যায়। তবে এসব হত্যাকারী বা নির্যাতনকারীদেরও অন্য অপরাধীদের মতো বিচারের আওতায় আনা উচিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করেন, দায়িত্ব পালন করতে গেলে সহিংস পদ্ধতি ব্যবহার করাসহ যে কোনো কিছু করার অধিকার তাদের আছে। তারা এর শিকার ব্যক্তিদের এ বার্তাটি পৌঁছে দেন যে, এর বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইতে গেলে চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তা করেও ফায়দা হবে না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বাংলাদেশের সেকেলে আইনী ব্যবস্থাও এ পরিস্থিতির জন্য অংশত দায়ী। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের আর্টিকেল ৪৬ সংসদকে এ ক্ষমতা দিয়েছে যে, তা কোনো সরকারি কর্মকর্তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যে কোনো কাজ করলেও তাকে অব্যাহতি বা ক্ষমা করার আইন প্রণয়ন করতে পারে। সংস্থাটির মতে এটি আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড লঙ্ঘন।

কোন রাষ্ট্রে বাস করছি মনির!

সেদিন সবাকের পোস্টে দেখলাম তোমার মন্তব্যঃ “কি জবাব দেব আমাদের সন্তানদের?” এটা আমারো উৎকন্ঠা।

২. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪১০

রুবেল শাহ বলেছেন:

লেখাটা ষ্টিক করা হোক ……………..

০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৩০

লেখক বলেছেন:

তাতে তো কিছুই যায়-আসে না রুবেল। আমরা এখন গোল্ডফিসেরও অধম হয়েছি! চোখের পাতা একবার খোলা-বন্ধ করলেই সব ভুলে যাই! তা না হলে কিভাবে একটা সভ্য দেশ বলে বিজ্ঞাপিত দেশ-জাতি এসব মেনে নেয়, নিশ্চুপ থাকে, আরোপিত নিরাপত্তায় থাকে?

৩. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৭০

অতন্দ্র তওসিফ বলেছেন: না হয় একজন নিরপরাধ বাপ্পী বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে, তা নিয়ে এত কান্নাকাটির কী আছে?

++

০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৮০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ তওসিফ।

৪. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৮০

অতন্দ্র তওসিফ বলেছেন: Click This Link

০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১০০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ অতন্দ্র তওসিফ। তারেক এবং তার কথামালা’র পোস্টটা পড়লাম। মন খারাপ করা ছাড়া এখন আমাদের বোধহয় কিছুই করার নেই। এর পরে হয়ত আমরা সমস্বরে বলব…………. মরে যাওয়া ছাড়া এ থেকে আমাদের মুক্তি নেই!

৫. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৬০

সীমানা ছাড়িয়ে বলেছেন: ক্রসফায়ারে অনেক সন্ত্রাসী মরেছে। তাই সিস্টেমটা যতই জংলী আর অমানবিক হোক না কেন, আমি এটা সমর্থন করি। তবে ক্রসফায়ারের নামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা সমর্থনযোগ্য নয়। বিএনপি যখন অপারেশন ক্লিন হার্ট শুরু করে তখন কিন্তু সন্ত্রাস অনেক কমে গিয়েছিল। তার আগে আওয়ামী লীগ ব্যাপক সন্ত্রাস রেখে গিয়েছিল। বিএনপি অবশ্য এটা ষোল আনা পুশিয়ে দিয়েছে সীমাহীন করাপশন দিয়ে।

০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৭০

লেখক বলেছেন:

“ক্রসফায়ারে অনেক সন্ত্রাসী মরেছে। তাই সিস্টেমটা যতই জংলী আর অমানবিক হোক না কেন, আমি এটা সমর্থন করি। তবে ক্রসফায়ারের নামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা সমর্থনযোগ্য নয়।”

উঁহু, তা তো হবে না! নিরপরাধের মৃত্যুও আপনাকে সমর্থন করতে হবে। নো ওয়ে স্যার।

কেননা আপনি যাকে “নিরপরাধ” ভাবছেন ওই সকল বাহিনী তাকে সন্ত্রাসী ভাবছে! আপনার-আমার ভাবনায় কিসসু যায়-আসে না। যাদের হাতে বন্দুক তারা যেটা সাব্যস্ত করবেন তাই-ই ঠিক। সুতরাং আপনাকে নিরপরাধীর মৃত্যুও সমর্থন করতে হবে। এমনকি আপনার নিকটআত্মিয় হলেও।

০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৫০

লেখক বলেছেন:

বাই দ্য ওয়ে, নিজের নামের বানানটা আগে ঠিক করুন। “সীমানা পেরিয়ে” লিখতে যে সীমানা “পেড়িয়ে” যায় তার চিন্তার সীমানা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যায়!

৬. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৩৩০

আতিকুল হক বলেছেন: সন্ত্রাসী হলেই বিনা বিচারে মারা ঠিক আছে, নিরপরাধী হলেই ভুল – এমন ধারনা নিয়ে ক্রসফায়ারে নির্দোষ মানুষের মৃত্যু কখনই ঠেকানো যাবে না। অপরাধ যাই হোক বিনা বিচারে মারাই অন্যায় সেই বোধটুকু দরকার।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই অবস্হান থেকে সরকার বা আইন প্রয়োগকারী সংস্হার খুব একটা সমালোচনা করা যায় না। কারন তারা আমাদের সমাজেরই অংশ। আমরা যারা আমজনতা তারাই কি এটা বিশ্বাস করি? করি না। তাহলে গনপিটুনিতে কেউ মারাও যেত না, গাড়ি দূর্ঘটনায় দ্বিকবিদিক শূন্য হয়ে পালাতে গিয়ে নতুন করে আরো দূর্ঘটনা ঘটত না।

সরকার সমাজের বাইরের কিছু না। আমাদের প্রচলিত রাজনীতির ধারায় সমাজের সবচেয়ে নষ্ট অংশটাই রাজনীতি বা সরকারে আসে। তাই ক্রসফায়ার সহসাই থামবে এটা মনে করি না।

০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৫০

লেখক বলেছেন:

যাদের প্রোরচোনায় এই বাহিনী গঠন এবং হত্যাযজ্ঞ চলছে তাদের দেশেও সন্ত্রাস ব্যাপকভাবেই আছে। সেখানেও কালোদের বেলায় এনকাউন্টার আর সাদাদের বেলায় কাষ্টডি।

আমাদেরও তাই। কুখ্যাত বাংলা ভাই শায়খ রহমানকে নিরাপত্তা হেফাজতে। বিচারের আওতায়। বিচার অতঃপর মৃত্যুদন্ড। আর চরমপন্থী আখ্যা দিয়ে বাম কর্মিদের সরাসরি “ক্রসফায়ার”।

এই বিপরীত মূল্যায়ন কোন সামাজিক অন্যায়বোধ সৃষ্ট নয়, এটা শ্রেণীজাত সমস্যা।

৭. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:০৬০

সীমানা ছাড়িয়ে বলেছেন: প্রফাইল খুলবার সময় আমি ঐ বানানটা ঠিক ওভাবে খেয়াল করি নাই। পরে বুঝলাম যে বানান ভুল হয়ে গেছে। কিন্তু নামের বানান ঠিক করার কোন অপশন দেখলাম না। … ভুল আমরা সবাই করি, কিন্তু সেটা নিয়ে খোটা দেয়াটা কতখানি যৌক্তিক। আপনি একটা ব্লগ লিখে নিশ্চই আশা করেন না যে সবাই আপনার বক্তব্য সমর্থন করবে। তাহলে ত আর এটা ব্লগ হত না। আমি আমার মতামত কেবল ব্যক্ত করেছি। আমার মতামত ভুলও হতে পারে। আবার নাও হতে পারে। যাই হোক, থিওরি আর প্র্যাক্টিক্যালের মধ্যে যে অনেক ফারাক থাকে এই জিনিসটা আমাদের বুঝতে হবে।

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৭০

লেখক বলেছেন:

না। খোঁটার প্রসঙ্গটা এজন্য এসেছে যে, আপনি একবার বলছেন-ক্রসফায়ারে অনেক সন্ত্রাসী মরেছে, সে কারণে আপনি এটা সমর্থন করেন। আবার বলছেন নিরপরাধ মানুষ হত্যা সমর্থনযোগ্য না। দুটি কন্ট্রাডিক্ট করে না?

আদালতের বাইরে আপনি-আমি মানুষকে “সন্ত্রাসী” ট্যাগ লাগানোর কে?

আবার

হত্যা করা ব্যক্তিকে “নিরপরাধ” সাব্যস্ত করারই বা আপনি-আমি কে?

এরকম সরলিকরণের কারণ ওই একটিই, ক্ষমতাসীনদ্বারা প্রভাবিত চিন্তা, যা কার্যত একটা গন্ডির ভেতরেই আবদ্ধ। ওখান থেকে বেরুতে পারছেন না।

৮. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২০০

রুবেল শাহ বলেছেন: বেশ্যার দালারা ……গণতন্ত্রের ইমাম আমলাদের ভোর হয় …….. সঙ্গমরত অভিজাত গুলশানে

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০৯০

লেখক বলেছেন:

লিঙ্ক দুটোর জন্য অনেক ধন্যবাদ রুবেল। যেহেতু আগে চোখে পড়েনি তাই এতদিন বাদে আর কমেন্ট করলাম না। শুধুই প্লাস।

৯. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২২০

সাহোশি৬ বলেছেন: মূল সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের সিস্টেমে। পুরা সিস্টেমটাই গলদে ভরা।

১। আমাদের সমাজে এত সন্ত্রাসী তৈরি হচ্ছে কিভাবে?

২। ছিচকে সন্ত্রাসীদের র্যাব ধরতে পারে, বড় বড় সন্ত্রাসীগুলো র্যাবের চোখের সামনে ঘুরে বেড়ায়, তাদের টিকিটি পর্যন্ত স্পর্শ করার সাহস র্যাবের নেই।

৩। আমাদের বিচার বিভাগ এত সহজে অপরাধীদের জামিন দেয় কিভাবে?

৪। জামিনে ছাড়া পেয়ে অপরাধীরা দ্বিগুন উৎসাহে অপরাধ করতে থাকে। একজন অপরাধীর জন্য জেল থেকে ফেরৎ আসা অথবা জামিনে ছাড়া পাওয়া যেন সন্ত্রাসে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের সমান।

৫। প্রথমত আমাদের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্ত্রাসীদের ধরতে ব্যর্থ, যা-ও বা দু-একটা ধরে ওরা পরেরদিনই জামিন নিয়ে বেরিয়ে চলে আসে। একজন অপরাধী থাকবে জেলের ভিতরে, বাইরে নয়, এই নিশ্চয়তা প্রদান করবে কে?

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০৪০

লেখক বলেছেন:

আপনার উত্তরগুলো ভাগ করেই দিচ্ছি আমার মত করে….

১। চরম শোষণ আর বৈষম্যমূলক সমাজে এটা হবেই। করছে সমাজের ক্ষমতাবানরা।

২। হ্যাঁ, ওরা আদেশিত আছেন ছিঁচকেদের ধরার জন্য। রাঘব-বোয়াল ওদের জালের ফাঁক চেনে, অথবা জালে বড় বড় ফাঁক ইচ্ছে করেই রাখা হয়।

৩। সব দেশের বিচার বিভাগই তাই করে। বরং আমাদের বিচার বিভাগ সবচেয়ে কম জামিন দেয়। জামিন দেওয়াই কি মেরে ফেলার পূর্বশর্ত? এসব আসলে কোন ব্যাখ্যাই নয়। মূল কথা হলো এই “মেরে ফেলা” আইনটি কি সবার জন্য প্রযোজ্য হচ্ছে? মোটেই নয়। এটা বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠির বেলায় প্রযোজ্য।

৪। তাহলে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, মওদুদ, হুদা ইত্যাদিরাও কি জামিন পেয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে দুর্নীতি করছে? না কি করছে না?

৫। রেব তৈরির আগে কিভাবে কাজ হতো? তখনকার চেয়ে সন্ত্রাস কমেছে না বেড়েছে?

আসলে এসব ব্যাখ্যাট্যাখ্যায় কোন লাভ নেই। বিশেষ উদ্দেশ্যে বিশেষ মহলের বিশেষ দায়িত্ব পালিত হচ্ছে মাত্র। সময় পেরুলে আরো আলামত প্রকাশ্যে আসবে। আসবেই।

আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

১০. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৪৭০

রোহান বলেছেন: এই ইস্যুতে পাবলিক সমর্থন থাকছেই এটা যতই জংলী আর অসভ্যই হোক না কেনো। বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা আর অব্যবস্থাপনা এর একটা কারণ তো অবশ্যই। এই সুযোগটা এখন আইন শৃংখলার লোকজন ভালোভাবেই নিচ্ছে। আগে জানতাম আসামীদের এনকাউন্টারের ভয় দেখানো হয়, আজকাল পাবলিকলি এইসব হুমকী ধমকি দিয়ে অনেক কিছু করা হচ্ছে শোনা যায়। ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার — এইসব অসভ্য সিস্টেমকে অজনপ্রিয় করতে হলে স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থার ফাঁক ফোকর গুলো বন্ধ করতে হবে।

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৮০

লেখক বলেছেন:

স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থার ফাঁক-ফোকোড় সীসা দিয়ে বন্ধ করলেও কাজ হবেনা, কেননা ওটাই বন্দুকযুদ্ধের একমাত্র অজুহাত নয়!

এটা বিশেষ উদ্দেশ্যে বিশেষ মহলের বিশেষ দায়িত্ব পালিত হচ্ছে মাত্র।

১১. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:২১০

শ*  বলেছেন: দেশে এখন সবচেয়ে সস্তা হল মানুষের প্রান ।

০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৯০

লেখক বলেছেন:

সব মানুষের না। বিশেষ শ্রেণীর মানুষের! কারো কারো প্রাণ রক্ষার জন্য জাতি নিত্যনতুন প্রটেকশন আইন বানাচ্ছে না?

১২. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৩০

শ*  বলেছেন: হ । অতি মানব/ মানবীরা বাদে আমরা সবাই তুচ্ছ

০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৮০

লেখক বলেছেন:

অ.ট. কাজে গেলাম। বিশেষ একটা দরকারে অসময়ে লগইন করেছিলাম।

মেইল না করে থাকলে করে দেবেন।

১৩. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৯০

তারিক মাহমুদ (তারিক) বলেছেন: ভালো পোষ্ট। কিন্তু এতে কি ওদের কোন বোধ উদয় হবে? ওরা তো ক্ষমাতার শীষায় নিজের কানের ফুটো বন্ধ করে রেখেছে। তাই নায় কি?

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৫০

লেখক বলেছেন:

বোধদয় হোক না হোক প্রতিবাদ প্রতিবাদই। এটা অব্যহত থাকবে…..

১৪. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৩০

অপ্‌সরা বলেছেন: ভাইয়া , কোথায় উধাও হয়েছিলে????????

কালকেই ভাবছিলাম কই হারালে আবার!!!!

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৭০

লেখক বলেছেন:

উধাও না ভাইয়া, এমনিই ব্লগে আসতে ইচ্ছে করেনি। কেন, কিসে, কি হয় এসব নিয়ে ভেবে ভেবে কুল-কিনারা পাইনা, তাই মাঝে মাঝে সবই অর্থহীন মনে হতে থাকে। আর তখনই মনে হয় ….আমি লিখলেই বা কি হয়? আর না লিখলেই বা কি হয়? আসলে কোন কিছুতেই এখন আর কোন কিছু হয়না! এটা যখন বুঝি তখন সব উৎসাহ ঝিমিয়ে পড়ে! চুপ করে বসে থাকি। একসময় আবার মেজাজ খারাপ হয়, আবার ঘেন্না ধরে, তখন আবার লিখতে শুরু করি……..এভাবেই একসময় থেমে যবে সব কিছু শেষ বারের মত।

কেমন ছিলে? আবারো অনেক দিন তোমার পোস্ট দেখা হয়নি! কি যে হলো আমার!!

১৫. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪২০

রাতমজুর বলেছেন:

ক্যাজুয়াল্টি।

উই আর এক্সপ্যান্ডেবল।

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৬০

লেখক বলেছেন:

আসলেই। একটাই থিম এখন- ক্যাজ্যুয়াল্টি!!

১৬. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৩০

 

ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: নতুন করে আর কিইবা বলার আছে, এই ব্লগে আপনি তো লাগাতার বলেই যাচ্ছেন। কিন্তু শুনছে কে, আমরা সংগঠিত হচ্ছি কোথায়??

তবু্ও এই পোস্টে আপনি তাৎপর্যপূর্ণ যে দিকটা নজরে এনেছেন তার তুলনা নাই।

এই যে মানবাধিকারের নামে গজিয়ে ওঠা কিছু অধিকার হরণকারী এদের চিনে রাখা দরকার। বিভিন্ন ঘটনায় তাদের আসল চেহারায় যখন বের হয়ে আসে তখন প্রকৃত মুখচ্ছবিটা ধরা পড়ে যায়। এবারেই নতুন না। এই সেই দিনকার কথা, তত্ত্বাবধায়ক নামধারী সামরিক-সুশীল সরকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে এই মহিলা হরদম কুৎসিত চেঁচামেচি করতো। মুখে তখন, গণতন্ত্র হরণকারীদের বিরুদ্ধে, অসভ্য দানবীয় নির্যাতন আর ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের বিপক্ষে একটা টু শব্দাটিও তাকে করতে দেখা যায়নি। এই তো সুলতানা কামাল….

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৫৬০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ ঘোর-কলিযুগ।

জানি। হয়ত কোন কিছুতেই কিছু হবেনা। হয়না। তবুও বিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া তো এড়ানো যায়না! কি আর হবে? হতে পারে নিজের আয়ূ সংক্ষিপ্ত করে ফেলছি! হতে পারে এক শ্রেণীর মানুষের চক্ষুশূল হয়ে উঠছি………তার পরও যতটুকু আয়ূ বরাদ্দ আছে আমি বলেই যাব। আমি আমার ঘৃণা জানিয়েই যাব আমৃত্যু।

এই যে নেত্রী, এদের মত মানুষরাই এই অ্যাফ্লুয়েন্ট সমাজের বিবেক! আমরা এদের মাথায় করে নাচি। এরা আমাদের প্রথপ্রদর্শকের ভূমিকায় নির্লজ্জের মত দাঁড়িয়ে যায়। যতদিন এইসব হিপোক্র্যাট বর্ণচোরাদের দাপট থাকবে এই সমাজে ততদিন আমাদের এই ঘোর অমানিশায় কালাতিপাত করে যেতে হবে। এ যেন আমাদের অলঙ্ঘনীয় এক প্রাচীর। হয়ত কোন একদিন এই প্রাচীরও পেরুনো সম্ভব হবে। কি যায়-আসে তখন আমরা না থাকলে?

১৮. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২৪০

ত্রিশোনকু বলেছেন: যে দেশের আইন বলে একটি নিরাপরাধ লোককেও বাঁচাতে দশজন অপরাধীকে ছেড়ে দেয়া যেতে পারে (burden of proof) সে দেশে extra judiciary killing সংবিধানের সুস্পষ্ট লংঘন।

পোষ্টটি স্টিকি করা হোক।

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৯০

লেখক বলেছেন:

থ্যাঙ্কস আ লট স্যার।

নাম্বারটা টুকে নিয়েছি। এইমাত্র পোস্টে ঢুকলাম। সারাদিন তো দেখার সুযোগ হয়নি।

এক্ষুনি ফোন করছি। আর তা না হলে কাল।

১৯. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৬০

মনজুরুল হক বলেছেন:

@ত্রিশোনকু। আপনার সাথে আরো বেশ কিছু বিষয়ে কথা আছে, তাই আজ আর নয়, কালই সময় করে ফোন দেব।

০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৭০

লেখক বলেছেন:

চুপ করে গেলেন কেন ত্রিশোনকু?

২০. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১২০

পল্লী বাউল বলেছেন: বন্দুক যুদ্ধ চলছে-চলবে

নিরহ বাপ্পীরা মরছে মরবে

তাতে রাষ্ট্রযন্ত্রের কি আসবে যাবে?

কিছুই করার ক্ষমতাহীন অক্ষম বাউল

শুধু এ পোস্টে ১টা প্লাস দিয়ে তার দায় সারবে………..

কেমন আছেন মন্জু ভাই? আপনাকে দেখিনা অনেকদিন।

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৩০

লেখক বলেছেন:

এখনো মনে হয় একটা প্লাস বা একটুখানি সমর্থন, ওতে কি আসে যায়? কিন্তু অনন্ত মহাকালের হিসেবে আমাদের এই যে ৬০/৭০ বছরের জীবন, সেখানে আমরা তো কত শত শত বছরের পরিকল্পনা ফেঁদে বসে থাকি। অবচেতনে জানি, একদিন আমাদের পরের প্রজন্ম এভাবে ভাববে না। তারা আরো সক্রিয় হবে। হিপোক্র্যাট হবে না আমাদের মত! হয়ত আপনার ছেলেই শুধু একটা প্লাস না দিয়ে ঝাঁপ দেবে আগুনে।

কাউকে না কাউকে তো ঝাঁপ দিতেই হবে।

ভাল আছি বাউল। আপনার খবর জানতাম না। শুনলাম”শ” এর কাছে। এখন কি ঢাকায়?

আমি ভাল আছি। শুভেচ্ছা নিন।

২১. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৪০

সত্যান্বেষী বলেছেন: ভাবছি কখন যে আমাকে হঠাৎ করে কালো শকুনেরা বাসা থেকে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ার করে দেয়। হায় বেচে থাকার অধিকারদাতা বাংলাদেশ আমার। কি নির্মম নির্বিচারে তুমি সন্ত্রাস করে যাচ্ছ!

২২. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৯০

মনজুরুল হক বলেছেন:

ধর্মে বিশ্বাসীদের তাও একজন খোদা থাকে, চূড়ান্ত নিরুপায়ে তার কাছে মিনতি জানানো যায়, কিন্তু কালো পোশাক ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারে দিলে কোথাও আর্জি জানানো যায়না।

দেখুনঃ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরাও বিচারে মৃত্যুদন্ডের রায় হবার পরও মহামান্য প্রেসিডেন্ট এর কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারে, অথচ ক্রসফায়ারের মৃত্যুর আগে সেখানেও প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ নেই। এমন অসহায়ত্ব বোধহয় জাহান্নামেও নেই।

 

Top of Form

আপনার মন্তব্য লিখুন

কীবোর্ডঃ  বাংলা                                    ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয় ভার্চুয়াল   english

নাম

       

Bottom of Form

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s