একমুঠো জুঁই ফুল অথবা একথালা গরম ভাতের গল্প।

10501783_418799564944665_5114718735812254511_n

১৪ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৩৫ |


ঝিমধরা আকাশ থেকে অকৃপণ বৃষ্টি ঝরে চলেছে। উত্তরের আকাশ অনেকটা নীচে নেমে এসেছে, যদিও তা দেখার উপায় নাই। যদিও তা বোঝার উপায় নাই। ইন্তাজ মিয়ার বস্তিতে কখনো সূর্য ওঠে না। ইন্তাজ মিয়ার বস্তিতে কখনো আকাশ দেখা যায় না। হারানরা বড় হয়েছে আকাশ না দেখে না দেখে। শুধু মাত্র বড় রাস্তায় গেলে একটুকরো ধোঁয়াটে আকাশের দেখা মেলে। যদিও এ নিয়ে হারান বা তার মত কারোই তেমন কোন মাথাব্যথা কোন কালেও ছিল না। হারানের পিচুটি লাগা চোখ তা বাদে অনেক কিছুই দেখে। মনে রাখে না, কিন্তু দেখে। সক্কাল বেলা গার্মেন্টের মেয়েগুলোকে কুচি পায়ে দৌড়াতে দেখে। জয়নাল, খবির, রসুল আর শমশেরকে তেল দেওয়া চুলে তেড়ি কেটে রিকসা নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখে। আব্দুল বুড়ো বিড়ি ফুকতে ফুকতে খুক খুক কাশে আর ক্যাঁচোর ক্যাঁচোর করে রিকসা টানে। তাকেও দেখে। দুপুরে জবা, মিনতি, কুলসুম এমন কয়েকজনকে মুদি দোকানে ফিস ফিস করতে দেখে। আর দেখে রাতে তার মা হঠাৎ মোটা হয়ে যায়। দুই জন হয়ে যায়। কি সব ফিস ফিস কথা শোনে আবার সব নিশ্চুপ। ঝিমধরা আকাশ আরো নিচে নেমে এসেছে। হারানের বাপ আজ কাজে গেল না। সারা দিন বিড়ি ফুকবে আর মা’র সাথে ক্যাচাল করবে। হারান এক একটা দিন এভাবেই পেছনে ঠেলে দেয়। এমনিতেও দিনগুলো চলেই যেত, তথাপি হারানের মনে হয় যত দিন যাবে, ও তত বড় হতে থাকবে। ও বড় হবে আর বেশি বেশি চাল, বেশি বেশি ভাত। সাদা সাদা জুঁই ফুলের মত ফকফকা ভাত। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত!


ঝিম বর্ষা কেটে মাস দুয়েক পরে বেশ ফকফকা আকাশ। তাও হারানকে বড় রাস্তায় গিয়ে দেখতে হয়। গত দুই মাসে হারানের বাপ আর একটা ‘মা’ ধরে ভেগেছে। ওর মা হারানদের চারটেকে নিয়ে সেই আগের ঝুপড়িতে এখনো। এসব কোন বিকার হারানকে ধরে না। ওর মাথায় সেই পুরোনো চিন্তা। যত বড় তত বেশি ভাত। তারও তিন মাস পরে হারানদের সেই ঝুপড়িটাও ছাড়তে হয়। এবার ঝুপড়ির বারান্দা। একচিলতে বারান্দায় হারানের মা কুকুর ছানার মত চার চারটে বাচ্চা নিয়ে কোঁকাতে থাকে। ইন্তাজের বস্তি এবং এর আশেপাশের ঘিনঘিনে এলাকার এ নিয়ে কারো দিনপ্রবাহে সামান্যতম বিচ্যুতিও ঘটে না। চোখ সওয়া। বড় রাস্তার ওপারে, আরো মাইলখানেক গেলে যে কাঁচঘেরা বাড়ি সেখানে হারানের মা খুব সকালে যেয়ে সেই রাতে ফেরে। সাথে ভাত থাকে বলে হারানের কষ্ট নেই। হারান সারা দিন তিন ভাই-বোন নিয়ে অপেক্ষায় কাটিয়ে দেয়। জানে, রাতে মা এবং ভাত একই সাথে আসবে। কিন্তু একদিন আসে না। মা আসে। ভাত আসে না। হারানকে বিড় বিড় করে কি কি সব বলে ওর মা। হারানের কানে সে সব কথা ঢোকে না।কি বুঝে চুপ করে শুয়ে পড়ে। ক্ষিদেয় ঘুম আসার কথা নয়, অন্তত তেমনটিই সাধারণের ধারণা! কিন্তু এখানে অংকের হিসেব-নিকেশ খুব সহজেই মিলে যায়। হারানরা ঘুমাতে পারে, কারণ এই আধপেটা খাওয়া নতুন কিছু না।


পর দিন সকালে হারান ছোট্ট একটা ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। মা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে-
-হারান কই যাছ ?
-চাইল আনতে। খুব সোজাসাপ্টা কথা। মা আরো অবাক হয়-
-চাইল কি রাস্তায় গড়াইতেছে নাকি? তরে এই বুদ্ধি ক্যাডা দিছে?
-চাইল আনতে যাই। আবারো সেই নির্লিপ্ত উত্তর। ওর মায়ের কপালে ওঠা চোখের সামনে দিয়ে হারান হনহনিয়ে চলে যায়। তার পর ওর মা ফ্ল্যাশব্যাকে কি কি ভেবেছিল সেই ভাবনার হাত ধরে আমরা এগুব না।


হারান সটান চলে গেছিল মিয়া বাজারের চালের আড়তে। অনেকক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে তারপর এক সায়েবের চালের ব্যাগটা রিকসায় তুলে দিয়েছিল। আড়তদার প্রথমে ঝামটা দিয়ে উঠলেও কি মনে করে পরে আর কিছু বলেনি। হয়ত হারানের করুন মুখটাই এর কারণ। জানা যায় না। কেননা অমন অনেক করুণ মুখ প্রতিদিন শত শত ঝামটা আর নিকেশি গালি খেয়ে অভস্থ, আর মহাজনও রগরগে গালি দিয়ে অভ্যস্থ। ঘন্টা কয়েক বাদে হারান সাহস করে এলামেলো ছিটিয়ে থাকা চাল ঝাড়ু দিয়ে একখানে গুছিয়ে দেয়। দিন শেষে হারানের সেই ছোট্ট ব্যাগে কেজি খানেক চালের যোগান হয়ে যায়। হারান বীর দর্পে বাড়ি ফেরে।
গল্পের এখানটাতে কোন রকম ট্যুইস্ট নেই। আমরা এই গল্পটা এখান থেকে টেনে অন্য চমৎকার পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারি। হরহামেশা যা হয়ও, কিন্তু এখানে তেমনটি ঘটবার সুযোগ নেই।


হারান, গেদি,শাবানা, বেলি আর তাদের মা। এই পাঁচজনের সেই বারান্দার সংসার হিসেবমত ভালই চলার কথা। বড় রাস্তায় কার্পেটিং হয়। জয়তুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরই জয়তুন এই বস্তি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যায়। সেই আব্দুল বুড়ো হঠাৎ মরে যায়। সারা বছর টুপি না পরা মানুষগুলো কি কি সব সুর করে বলে আর একটা খাটিয়ায় বুড়োকে নিয়ে যায়। বিকেলে খাটিয়াটা ফিরে আসে। বুড়ো ফেরে না। এরই মধ্যে হারান প্রতিদিনই একটু একটু করে বড় হতে থাকে। হারান আগেই জানত-ও যত বড় হবে, তত চাল বেশি আসবে। কোথা থেকে কি হয় হারান বা তার মা বোঝে না। হারান খুব শরীর খারাপ নিয়ে বারান্দায় শুয়ে থাকে। কবিরাজ এসে কি সব গাছের রসটস দিয়ে যায়। হারানের গলা দিয়ে সেসব জ্বলতে জ্বলতে নামে। দশ-পনের দিন পর হারান আবার সেই ব্যাগ হাতে। বড় রাস্তা। মিয়া বাজার। চালের আড়ৎ। অসুখের কারণে হারানদের ঘরে যা ছিল তা শেষ। দুর্বল শরীর নিয়ে হারানের সেই ছোট্ট ব্যাগে আজ আধা কেজি চালও হয়নি। হারান বড় হয়েছে, তাই সে জানে আরো চাল দরকার। সবার অলক্ষে হারান আড়তের একেবারে শেষ মাথায় চলে যায়। লাট দেওয়া চালের বস্তা ছাত পর্যন্ত ঠেকেছে। দুই সারি বস্তার ফাঁকে যে একচিলতে জায়গা সেখানে হারান গুটিশুটি মেরে বসে থাকে। ও জানে আর একটু পরেই মহাজন তার লোকজন নিয়ে চলে যাবে তালা বন্ধ করে! তখন সে ইচ্ছামত ব্যাগ ভরে চাল নিয়ে বাড়ি যাবে…..

কিন্তু অতটুকু মাথায় এটা আসে না যে বন্ধ আড়ৎ থেকে সে বেরুবে কি করে! একসময় সবাই চলে যায়। হারান উঠে দাঁড়িয়ে ভোমা দিয়ে বস্তা ফুটো করে তার নিচে ব্যাগ পেতে ধরে……হড়হড়িয়ে চাল পড়তে থাকে…..একসময় ছোট্ট ব্যাগটা ভরেও যায়…..হারানের খুব রাগ হয় কেন সে আজ একটা বড় ব্যাগ আনেনি! সেই ছোট্ট ব্যাগটা নিয়ে এবার হারান ফিরে যেতে চায়…..কিন্তু একি! হঠাৎ হুড়মুড় করে উপরের বস্তাগুলো গড়িয়ে পড়তে থাকে……প্রথমটা পায়ের উপর….তার পরেরটা বুকের উপর…..তারপর আরো…..শেষ দিকে নিজের কানেই গোঙানির শব্দটা আসে….. চিৎকার করে মা-কে ডাকতে চায়…… গলা দিয়ে কোন শব্দ বেরোয় না! আবারো জোরে মা-কে ডাকে…..মা যেন অনেক দূরে, তাই মনে হয় শুনতে পাচ্ছেনা, আরো জোরে ডাকতে হবে…..হারান দেখে হঠাৎ সে আকাশে উড়ছে! মেঘের উপর বসে উড়ছে…..অনেক নিচে ওর মা, গেদি, শাবানা, বেলি ওরাও প্রজাপতির মত উড়ে বেড়াচ্ছে…..হারান চিৎকার করে ওদের ডাকে, ওরা শুনতে পায় না…..হারানের রাগ হয়, আবার ডাকে, আবার…তারপর ডট।

পুনশ্চঃ এটা কোন গল্প নয়।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গরমভাতের গল্প ;
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:৫৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

৬০৪ বার পঠিত৩৭১১৭

 

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

 

৭১টি মন্তব্য

১-৩৬

১. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৪৪০

গোয়েবলস বলেছেন: প্রিয়তে

১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:০৫০

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা।

২. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৪৫০

রুবেল শাহ বলেছেন: মনজুরুল ভাই

কপি নিয়ে গেলাম হাতে সময় না থাকায়……………

শুভেচ্ছা রইল

১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:০৯০

লেখক বলেছেন:

প্রীতি শুভেচ্ছা রুবেল। সময় হলে আবার দেখা হবে। ভাল থাকুন।

৩. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৪৫০

ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: আসলেই…এগুলো গল্প নয়। এগুলো ছোট ছোট জীবনের টুকরো!

১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৩১০

লেখক বলেছেন:

এগুলো ছোট ছোট জীবনের টুকরো। জোড়া দিলে আবার ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ে……

৪. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৫৭০

মনজুরুল হক বলেছেন:

উত্তর বিশিলের বালুমাঠ বস্তির একটি ছেলে ঠিক এভাবেই মারা গেছে! খবরটা গত ১২ জুলাই সমকাল-এ বক্স আকারে ছাপা হয়েছিল। সে কারণেই এটি গল্প নয়।

এমন আরো অনেক “গল্প”ও আসলে গল্প নয়। যে মা তার সন্তানকে হারিয়েছে তার সামনে এখন এক বস্তা চাউলের কি মূল্য আমরা জানিনা। শুধু জানি, এর পরেও তার জীবন থেমে থাকবে না। মরণ ক্ষুধা তাকে এবং বাকি সন্তানদের কুরে কুরে খাবে। সেই কুরে খাওয়ার কোন শব্দই ঝাঁ-চকচকে জেল্লা আর শান দেওয়া কর্পোরেট তিলোত্তমা মহানগরীর আরবানাইজড নাগরিকদের কাছে পৌঁছুবে না।

৫. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:০১০

মনজুরুল হক বলেছেন:

স্যরি ভাই জেনন। আপনার পাঠানো উপহারটি পোস্টে যেন বিদ্রুপ করল, তাই মুছে দিলাম। কিছু মনে করবেন না।

১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:২৮০

লেখক বলেছেন: বেশ। এবার খুশিতো ?

৬. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:০৫০

মনির হাসান বলেছেন: পুনশ্চঃ এটা কোন গল্প নয়।

১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৩৩০

লেখক বলেছেন:

আসলেই কোন গল্প নয়!

অট. মনির কি দিন দিন এ্যামিবা-প্রটোজোয়া হয়ে যাচ্ছে !!

৭. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:২১০

অন্য কেউ বলেছেন: কখনোই পৌঁছুবে না।

১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:১১০

লেখক বলেছেন: কখনোই পৌঁছায় না।

৮. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৪১০

মেটালিফেরাস বলেছেন: পোস্টের ছবিটা অনেক না বলা কথা বলে দিল।

১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:১৫০

লেখক বলেছেন: আ পিস অব রিয়েলিটি!

৯. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:০০০

পলাশমিঞা বলেছেন: কেমন আছেন ভাইসাব।

আজ একটা কথা বলছি রাগ কইরেন্না। প্রথম বলছি আপনার লেখাটা দেখে ব্লগে থামলাম, সাধারণত থামিনা।

এখন আসল কথা, আপনি একজন লেখক, আপনার লেখায় তিক্ত বাস্তব এবং নেংটা সত্য আকুলি বিকুলি করে বলে, ”হে সভ্য মানুষ তোমরা মানুষ হও”

আপনার সব লেখা আমি পড়ে শেষ করতে পারিনা, এটাও পারিনি জানিনা কেন তবুও আমি আপনার লেখা পড়তে ভালোবাসি, না পড়ার কারণ আপনি বাস্তব নিয়ে লেখেন।

যাউগ্গা, ভালো লেখক বলে আপনাকে রাগাতে চাইনি

কেমন চলছে দিনকাল?

একটা উপন্যাস লেখেন, জানি তেমন বাজার পাবেন, আর কে জানে বাজার যে পাবেনা, সব মিলিয়ে একটা বই প্রকাশ করেন, সভ্য মানুষগুলা থোড়া সভ্যতা দেখবে।

সালাম বড়ভাই

১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:১০০

লেখক বলেছেন:

হা হা হা ! পলাশমিঞা ভাল আছেন তো? না ভাই রাগ করব কেন? আপনি তো ভাল কথাই বলেছেন।

আশা করছি আগামী বই মেলায় একটা উপন্যাস শেষ করে ছাপাতে পারব। এখন যদি আমার পালিশার রাজি হন।

দিনকাল কেটে যাচ্ছে সময়ের ফাপরে, গড্ডালিকা প্রবাহে…..ভাল থাকুন ভাই।

১০. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:১১০

আবদুর রহমান (রোমাস) বলেছেন: কমরেড স্যালুট!!

আমার মনটা খুব খারাপ…….. আসার সময় আপনার সাথে দেখা করে আসতে পারি নাই। আমি কিন্তু অনেক বার ফোন করেছিলাম কিন্তু আপনাকে ফোনে পাই নাই।……….এই ছোট ভাই টার জন্য দোয়া করবেন।

১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:১৪০

লেখক বলেছেন:

তুমি কোথায় রোমাস ? বাইরে যাবে বলেছিলে… চলে গেছ নাকি? ইউরোপ, না অস্ট্রেলিয়া ?

ভাল থেকো ভাইয়া। সব সময় তোমার কথা মনে পড়বে…..ব্লগেই দেখা হবে রোজ…।

১১. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:১৩০

জেনন বলেছেন:

১২. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:১৭০

শফিউল আলম ইমন বলেছেন: অসাধারণ লিখেছেন। এভাবে যারা বেঁচে আছে তাদের জন্য খুব খারাপ লাগে। আমাদের আসলেই কিছু করা উচিত। মনজুর ভাই কেমন আছেন?

১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:২৭০

লেখক বলেছেন:

কী আর করবেন ইমন! যদিও আমাদের সামান্য ক্ষমতা আর সামর্থ দিয়ে তেমন কিছই করা যায় না। হয়ত সাময়ীক রিলিফ হতে পারে তা। তাও করতে যান, দখবেন কত ফেরকা বের হয়েছে! এভাবে কেন করলে? ওভাবে কেন করলে না? তোমাকে কে করতে বলেছে? এই সব মতলববাজী, এ্যাটেনশন সিকার… এধরণের অনেক অপবাদ শুনতে হবে। হবেই। কারণ ড্রয়িংরুমে বসে সমালোচনা ছাড়া আর কিছু করা যায় না। ওরা তাই করে।

তবে এটা ঠিক, নিন্দুকের কথা শুনে বসে থাকলে বিবেকের জবাবদিহি তো থামবে না!

ভাল আছি ইমন। দেশে আসছেন কবে ?

১৩. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:৫৩০

শয়তান বলেছেন:

এইনিয়া তিনবার ঘুইরা গেলাম ।

কিন্তু যা লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে তা আসছে না ।

আমার ব্যর্থতা !

১৪ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:০৬০

লেখক বলেছেন: যা আসে নাই তারে জোর কইরা আনেন নাই সেইটাই ভাল করছেন।

১৪. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:০৯০

আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

আপাতত বুকিং ।

১৪ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৪২০

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ শিপন।

১৫. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:৫৪০

নাজিম উদদীন বলেছেন: হুমম, কিছু মানুষ এভাবেই জীবন পার করছে, চাল, ধোঁয়া ওড়া শাদা ভাতের স্বপ্ন নিয়ে তারা জীবন্মৃত হয়ে বেঁচে থাকে।

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ২:০৩০

লেখক বলেছেন:

বৈষম্যটা ক্রমশঃ বাড়তে বাড়তে একেবারে মুখোমুখি অবস্থানে এসে গেছে! এখন শুধু বিস্ফোরণের অপেক্ষা।

১৬. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১:২৪০

ইষ্টিকুটুম বলেছেন: ্জীবনের টুকরো টুক্রো গল্প!!

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ২:০৪০

লেখক বলেছেন:

হ্যাঁ ভাই জীবনের টুকরো টুকরো গল্প…আবার এটি কোন গল্প নয়!

১৭. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:১৬০

আকাশ অম্বর বলেছেন:

অনেক ধন্যবাদ ‘গল্পটার’ জন্য। পুনশ্চঃ এটা কোন গল্প নয়।

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:১৭০

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ আকাশ অম্বর।

১৮. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৪৯০

মনির হাসান বলেছেন: না মনজু ভাই উল্টাটা । এমিবা প্রটোজোয়াদের আর গোনায় না ধরার স্ট্রাটেজি রপ্ত করতেছি বস্‌ ।

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:২১০

লেখক বলেছেন:

থ্যাংকস মনির। জীবন মানেই প্রতিমুহূর্তে লড়াই করে বেঁচে থাকা। লড়াই মানে প্রতিমুহূর্তে শত্রুকে সঠিক ভাবে চিনতে শেখা।

১৯. ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০৬০

অলস ছেলে বলেছেন: ভালো লেগেছে।

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:১৯০

লেখক বলেছেন:

শুনে ভাল লাগল। তবে গল্প, না গল্পের বিষয়বস্তু সেটা জানতে পারলে আরো ভাল লাগত। ধন্যবাদ অলস ছেলে।

২০. ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০৭০

অলস ছেলে বলেছেন: ভালো লেগেছে।

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৭০

লেখক বলেছেন: থ্যাঙ্কস।

২১. ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:২৬০

আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

এটা গল্প নয়, বাস্তব ! গল্পের মতো বাস্তব ।

এইসব বাস্তবের মুখোমুখি হতে আমরা ভয় পাই ।

আমরা আমাদের মতো করে থাকি,

চোখ মুদে, সবকিছু দেখে, অথচ কিছুই না দেখে ।

আর কিছু বলার পাচ্ছিনা ।

১৬ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ২:৪৪০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ শিপন। আমি অক্ষম মানুষ! এদের জন্য কিছুই করতে পারিনা। আমার সারা মাসের রোজগার দিলেও এদের কয়েকজনকেই কেবল বাঁচানো যায়, কয়েক দিন পেটপুরে ভাত খাওয়ানো যায়, তারপর ? তারপর কি আমি জানি না। আমরা জানিনা!

অথচ এর দুই পোস্ট আগে দেখবেন “কি হালে বেঁচে আছে আমাদের শিশুরা” শিরনামের লেখাটায় ছিচকাঁদুনে ঘরে বসে কি-বোর্ডে ঝড় তোলা পাব্লিকরা কি বলেছে! ঘেন্নায় আমার আর লেখার মানসিকতা থাকেনি। কি করব ? এই সব অপগন্ডদের নিয়েই আমাদের বসবাস করতে হয়!

ভাল থাকুন।

২২. ১৬ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:৪৩০

শফিউল আলম ইমন বলেছেন: মনজুর ভাই আপনার লেখা পড়ে আপনাকে চেনা যায়। অসম্ভব ধরণের শ্রদ্ধা করি আপনাকে, আপনার চিন্তা ধারার সাথে আমার যথেষ্ঠ মিল আছে। দেশে আসলে তো অবশ্যই আপনার সাথে দেখা করবো।

১৬ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:৪৮০

লেখক বলেছেন: কবে আসবেন ? নিশ্চই দেখা হবে। অপেক্ষায় থাকলাম…….

২৩. ১৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ২:৪৮০

মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: আসলেই গল্প নয়। বাস্তবের চিত্র। ভাল লাগলো।

১৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:২০০

লেখক বলেছেন:

শুভেচ্ছা মুক্তি দা। ভাল আছেনতো ?

২৪. ১৭ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১:১০০

রিজওয়ানুল ইসলাম রুদ্র বলেছেন: মামা কেমন আছেন? গল্পটা ভালো লাগলো। অনলাইনে আমার ছবিটা দেখার আমন্ত্রণ জানাই। বিস্তারিত :Click This Link

১৭ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৮০

লেখক বলেছেন:

অনেক দিন পর ? খুব ব্যস্ত ছিলে নাকি ? দেখলাম তোমার ছবি। কেন যে এটা নিয়ে মোকাম্মেল জেলাসিয়াস হলো এখন বুঝলাম! চলুক……..থেমে যেও না আবার ।

২৫. ১৭ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৬০

রিজওয়ানুল ইসলাম রুদ্র বলেছেন: মামা মোকাম্মেল না মোরশেদুল ইসলাম! ভোট দরকার মামা… কম্পিটিশানে সিলেক্টেড হয়েছে যে…

১৭ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২০০

লেখক বলেছেন:

আচ্ছা, রেজি: করে ভোট দিয়ে দেব। চিন্তা করো না। আরো পরে এই পোস্ট পুরোটা না দিয়ে শুধু লিংক দিয়ে আর একটা পোস্ট দিও। তাহলে শুধুমাত্র ভোটের ক্যাম্পেইনটা করা যাবে।

২৬. ১৭ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৬০

অর্জুন দেব বলেছেন: অন্য সবকিছুর চেয়ে কলম শক্তিশালী। এই লেখাটিই এর প্রমাণ।

১৭ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৪০

লেখক বলেছেন:

নারে ভাই, কর্পোরেট জমানায় কলম ক্রমশ: অর্থহীন হয়ে পড়ছে……………………

ভাল থাকুন।

২৭. ১৭ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২১০

অপ্‌সরা বলেছেন: এত কষ্টের গল্প লিখেছো ভাইয়া! শেষে বস্তাগুলো যেন আমার বুকের উপরই পড়লো এমন করে চমকে গেছি।

১৭ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৩০

লেখক বলেছেন:

যতটা লিখেছি, মূল কষ্টটা তার চেয়েও বেশি ভাইয়া! এই খবরটা দেখ………………

“উত্তর বিশিলের বালুমাঠ বস্তির একটি ছেলে ঠিক এভাবেই মারা গেছে! খবরটা গত ১২ জুলাই সমকাল-এ বক্স আকারে ছাপা হয়েছিল। সে কারণেই এটি গল্প নয়।

এমন আরো অনেক “গল্প”ও আসলে গল্প নয়। যে মা তার সন্তানকে হারিয়েছে তার সামনে এখন এক বস্তা চাউলের কি মূল্য আমরা জানিনা। শুধু জানি, এর পরেও তার জীবন থেমে থাকবে না। মরণ ক্ষুধা তাকে এবং বাকি সন্তানদের কুরে কুরে খাবে। সেই কুরে খাওয়ার কোন শব্দই ঝাঁ-চকচকে জেল্লা আর শান দেওয়া কর্পোরেট তিলোত্তমা মহানগরীর আরবানাইজড নাগরিকদের কাছে পৌঁছুবে না”।

২৮. ১৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৮:১৫০

রিজওয়ানুল ইসলাম রুদ্র বলেছেন: আমি পরে ভোট দেওয়া+রেজিস্ট্রেশন এর নিয়মগুলো নিয়ে একটা পোস্ট দেব। তবে কতটা সাড়া পাবো জানি না… আপনার সহযোগিতা দরকার। ধন্যবাদ।

১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:৩৮০

লেখক বলেছেন: আমার সহযোগীতা থাকবে রুদ্র। চিন্তা করো না।

২৯. ১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ২:৫৫০

মগ্নতা বলেছেন: খুব খুব ভালো লেখা। ভাল লাগল।

১৮ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৫৬০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ মগ্নতা। লিখলাম গল্প, কিন্তু বাস্তবে এটা ঘটেছে! অসহায়ের মত ছেলেটি মারা গেছে! শুধু মাত্র এক থালা ভাতের “লোভে” ছেলেটি চাল আনতে গেছিল!

৩০. ২২ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:৪১০

আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: আসলেই গল্প নয়, বাস্তবতার খই।

২৪ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৫২০

লেখক বলেছেন:

সারা শরীরময় ছিটিয়ে থাকা অনেক অনেক ক্লেদ-কালিমার একটি মাত্র চিত্রণ এটি……

ধন্যবাদ আশরাফ। ভাল থাকুন।

৩১. ২৪ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:২৮০

ফেরারী পাখি বলেছেন: আপনার এই গল্পটা মনোযোগ দিয়ে পড়ি নাই। পড়ড পরে মন্তব্য করবো।

কিন্তু তার আগে বলেন, আপনি কোথায়?

ক’দিন ব্লগে দেখছি না মনে হয়।

খুব ব্যাস্ত?

২৪ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৫০০

লেখক বলেছেন:

ব্যস্ত একটু ছিলাম, তবে সেটা কারণ নয়। কারণটা অপ্সরার কমেন্টে বলেছি। মাঝে মাঝেই এমন হয়, নিজের ভেতর নিজেকে গুটিয়ে রাখতে হয়। অভিমানের হাত ধরে অনেকটা দূর চলে যেতে হয়। রূঢ় বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষীক সম্পর্ক খুব ক্লান্ত করে তোলে………………………

ভাল আছেন আপনি ?

৩২. ২৪ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:২৬০

রণদীপম বসু বলেছেন: এটা গল্প হলে পৃথিবীতে আর কোন গল্পই থাকে না। সব মরে যাবে।

২৪ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৫১০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দাদা। জীবন মনে হয় এমনই….

৩৩. ২৪ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:৩৯০

অপ্‌সরা বলেছেন: ভাইয়া , কই হারালে??

২৪ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৪৩০

লেখক বলেছেন:

হারাইনি অচীন পাখি। ক’দিন ধরেই মনটা খারাপ! নানাবিধ টেনশন আর ক্লান্তি ভর করেছিল। নেটও খারাপ ছিল। হঠাৎ মনে হলো আমি ভীষণরকম একা! তাই এককিত্বেই ডুব দিলাম ক’দিন। দেখলাম তাতেও ভাল লাগে না।

তুমি মনে করবে জানতাম। তোমরা ভাল ছিলে তো ?

৩৪. ২৪ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৫৭০

অপ্‌সরা বলেছেন: মনে না করে উপায় আছে?? জানোনা তুমি না দেখলে আমি কোনো পোস্ট দেবোনা শপথ করেছি। তবুও তুমি আসলেনা, দেখলে না, আমার নতুন পোস্ট । কিন্তু এত মন খারাপ ছিলো যে গান শুনতে শুনতে একটা গানের রিভিউ না লিখে পারলাম না অভ্যাসবশত।যাইহোক এইবারের মত মাফ করা গেলো।

আর তুমি কি সিংহ রাশী? একসাথে মন খারাপ হলো কেনো তোমারো?

২৫ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০৪০

লেখক বলেছেন:

কি আশ্চর্য ! আমিও সিংহ রাশী!! ১১ আগস্ট। তুমিও তাহলে ওই আগস্টেই…………

৩৫. ২৫ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০৭০

অপ্‌সরা বলেছেন: হুম আমি তোমার চাইতে মাত্র ৬ দিনের ছোটো।

০১ লা আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:০০০

লেখক বলেছেন:

আমি কিন্তু ঠিক সময়েই পোস্ট দেব।

৩৬. ৩১ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:০৯০

রাতের বৃষ্টির শব্দ বলেছেন: নাম টা দেখে ডুকলামম এই নামে একটা কবিতা পড়ে ছিলাম মহা দেব সাহার মনে হয়।

নাম টা কি সেখান থেকে নেয়া???

০১ লা আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৫৯০

লেখক বলেছেন: জ্বী না।

 

Top of Form

আপনার মন্তব্য লিখুন

কীবোর্ডঃ  বাংলা                                    ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয় ভার্চুয়াল   english

নাম

       

Bottom of Form

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s