এন্টি গল্প > সেই ডানকানা মাছটি আর ফিরে আসেনি >

10428616_699126100203926_3955546228946692414_n

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩০ |

দোআঁশ এলেবেলে মাটি কেটে কেটে খুব ধীরে এগুনো নদীর স্রোত যেখানে এসে প্রথম গোত্তা খেল সেই অপেক্ষাকৃত শক্ত উঁচুমতন মাটির পাড়ে ঘোড়ার খুরের মত একটা গোলমতন বাঁক নিয়েছিল। ওইখানটিতে জল সমানে দক্ষিণে যেতে যেতে কি ভেবে যেন একেবারে তীরের কাছে উত্তরেও যেত। এই উত্তরে যাওয়াকে বলে রায়ভাটা। প্রবাহমান স্রোতের বিপরীতমুখি যাত্রার মতই বিপরীত চিন্তার সপ্রতিভ এক মেয়ে রোজ সকাল-সন্ধ্যেয় থালা-বাসন নিয়ে নদীতে নামলেই রায়ভাটায় একটি ডানকানার বাচ্চা দেখতো। রোজ দেখত বলে তার মনে হতো সেই একটাই ডানকানা বুঝি রোজ রোজ আসে! হতে পারে অন্য কোন ডানকানাও আসে, কিন্তু মেয়েটি জানে সেই ডানকানাটিই আসে। আর তাতে করে তার মনে হয় সে বুঝি তাকে দেখেই আসে। মেয়েটির এই অদ্ভুত ভাবনার আর এক সাথী ছিল- একটি নুয়ে প্রায় জল ছোঁয়া হিজল। কালচে সবুজ পাতা নিয়ে পরম সখ্যতায় জল ছুঁই ছুঁই অবস্থায় কোনও মতে টিকে থাকা হিজলটি অকাতরে শেঁকড় বিছিয়ে মেয়েটির দাঁড়াবার জায়গা করে দিয়েছিল।

থালা-বাসন ধুয়ে ওই শেঁকড়ের উপর রেখে একাকী নিরবে কথা বলে যেত মেয়েটি। তারপর একেবারে নেয়ে ভেজা কাপড়ে বাড়ি ফিরত। রোজকার নিয়ম। রোজকার বাড়ি ফেরা। অনেকগুলো রোজ যোগ হয়ে এক একটি বছর হয়ে যায়, জীবন আরো একটু ডাঙ্গর হয়ে ওঠে, শরীরের এখানে সেখানে অযাচিত নতুন নতুন উপকরণ আর রেখাচিত্র ফুটে ওঠে, শরীরের ভাঁজগুলো আরো প্রকট হয়ে ওঠে, সেই ভাজেঁ ভাঁজে ভেজা কাপড় লেপ্টে কি যেন এক মহান শিল্প গড়ে তোলে তা কিছুতেই মেয়েটির জানবার কথা নয়, জানেওনি। কিন্তু যাদের জানবার কথা, যাদের চোখে এই বঙ্কিম রেখা ফুটে উঠে তাদেরও শরীরের কিছু অংশে রক্ত সঞ্চালন হঠাৎ বাড়িয়ে দেবার কথা তারা ঠিকই জেনে নেয়, ঠিকই একদিন কামার্ত চোখ অনিমার বাঁকে আটকে গিয়ে গলার কাছেও কি যেন আটকে দেয় সলেমানের। সলেমান বার কয়েক ঢোক গেলে। চোখ সেঁটে থাকে অনিমার বেঢপ ফুলে ওঠা পেছনটাতে, সেখান থেকে টপ টপ করে গড়িয়ে পড়া জলের একটা রেখা থেকে যায় ধুলোওড়া পথে। অনিমা বড় হয়ে ওঠে।

ভবেশ ঠাকুরের কোন জমি জিরেত ছিলনা। বাপ ঠার্কুদার আমলের বেহারাগিরিই আয়ের উৎস। পাল্কির একদিকে নিজে অন্য দিকে বড় ছেলে নিতেশ। আশপাশের চার-পাঁচ গ্রামে এই ভবেশেরই পাল্কি টিকে ছিল। নদীর পাড়ে একটা দোচালা ঘর আর সেই ঘরের উঠোনে ঠাঁয় নিশ্চুপ বসে থাকা একটা পাল্কি। এই ছিল ভবেশের সম্পদ। ঘাড়ে কড়া পড়ে যাওয়া নিতেশ কিছুদিন আইগুঁই করে একদিন বাড়ি থেকে পালাল। কোথায় চলে গেল কেউ জানেনা। ভবেশ অগত্যা আরো দুজন বেহারা ঠিক করে রাখল ঠিকই কিন্তু ইদানিং আর বিয়ে-শাদি আসছিল না। ভবেশ এই গ্রামে জন্মে থেকে আর কিছু শেখেনি। জমিতে কাজ করে কত মানুষ পেটের ভাত করে। ভবেশ তাও পারেনা। কিন্তু বিয়োনোর বেলায় ভবেশের বউ ভবেশের ওই না-পারায় থেমে থাকেনি। গুণে গুণে সাতটি সন্তান বিইয়েছে। অনিমা তাদেরই একটি। বাকিগুলো পর পর সিঁড়ির মত, বড় থেকে ছোট।

বেমক্কা আর সব গ্রামের মত এই গ্রামেও দিন বদলের ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছিল। আগের মত এখন আর চোখের জলে ভাসতে ভাসতে কোন বাড়ির ছোট্ট বউটি পাল্কিতে ঠেসেঠুসে উঠে বসেনা। রিকসা ভ্যানে পা দুলিয়ে হাওয়া খেতে খেতে শশুরবাড়ি যায়। চিকন একপায়ে চলা পথগুলো শরীর বিছিয়ে চওড়া হয়ে গেল। সেই চওড়া পথে নিঃশব্দে ভ্যান চলে। অনায়াসে চারজনে বসা যায়। বর-বউ সেই সাথে দুই তিন শালা-শালী! এমন যুতের পেল্লাই কারবার চালু হয়ে ভবেশের পাল্কিকে উঠোনেই বসিয়ে রাখল। পাল্কি নড়েনা, ভবেশের ঘরে চালও আসেনা, হাড়িও চড়েনা, কিন্তু থালা-বাসন হাতে অনিমা হিজল শিঁকড়ে বসে জলে পা ডুবিয়ে ডানকানার সাথে কথা কয়ে চলে।

বরুণদেব রুষ্ঠ হলেন কিনা বোঝা গেলনা, কিন্তু নদীর জলের কেপ্পনতা ক্রমেই বাড়তে থাকল। এবারের শুকনো কালে জল নেমে গেল অনেকটা দূরে। হিজলের শেঁকড় ছাড়িয়ে আরো দূরে। ডাকানার বাচ্চাটি তবুও আসে। অনিমা আরো একটু এগিয়ে বসে। ওপারের খৈ-বাবরা গাছগুলো ন্যাংটো দাঁড়িয়ে থাকে। তাতে থোকায় থোকায় ধরে থাকা জিলিপির মত বাবরা পেঁকে গোলাপিলাল হয়ে থাকে। রাজ্যের কাকেরা আসত আগে। এখন কমে গেছে, তবুও আসে। বাবরার ভেতরে দুধসাদা শাঁস ঠোঁটে নিয়ে উড়াল দেয়। বৈশাখের শুরুতেই নদীটা তিরতিরিয়ে বইতেও যেন কত কষ্ট! অনিমা বোঝে না, কিন্তু জল কমে যাওয়া নিয়ে সারা গ্রামের কারোই যেন কোন কিছু করবার নেই। ওরই বা কি করবার আছে? প্রায় খালের চেহারা নদীর পাড় এখন অনেক উঁচু, সেই উঁচু পাড়ে উঠে অনিমা একটু যেন হাঁপিয়ে ওঠে। আগেকার নিয়মেই তার ভেজা এক প্যাঁচের শাড়ি থেকে জল চুইয়ে পড়ে। একটা ঝোঁপমত জায়গায় এসে জল যেন একটু বেশি পড়ে। সেইখানে একটা শক্ত হাত ওর মুখে চেপে বসে। বাড়ির পথটা বদলে যায়। শ্যাওড়া, জারুল আর ঘন আঁশশ্যাওড়া ঝোঁপের ভেতর খানিকটা ধস্তাধস্তি। ঠেলে আসা চিৎকারটা বেরুতে পারেনা হাত চাপায়। শরীরের ভেতর আর একটা মাংশল শরীর ঢুকে পড়ে। দিনে দুপুরে অনিমা ঘুমিয়ে পড়ে। শাড়িতে তখনো জল থাকায় টক টকে লাল রক্ত একটু পানসে দেখায়। সলেমান একা বেরিয়ে বীরদর্পে হেঁটে চলে যায়। তারপর সেই চিরচেনা নাটুকে সংলাপঃ

-হতভাগী ত’রে কিডা এই কাম করলো?
-নিরবতা।
-কইস না ক্যান, কিডা করলো?
-নিরবতা।
-অ পোড়ামুখি, কতা কইস না ক্যান, অ ভগবান আমার এই সব্বোনাশ কিডা করলো গো……
-নিরবতা এবং অনিমার প্রস্থান।

আরো একটি বছর কি ভাবে যেন ভবেশরা পার করে দেয়, অথবা এভাবেই এক একটা বছর পার হয়েই যায়। বছর পার হতে কোন মাঝি-মাল্লা লাগেনা, নৌকা লাগেনা, সাঁকো লাগেনা, বছররা এভাবেই পার হয়ে যায়। ভবেশ পাল্কিটা বেঁচতে চায়, কে কিনবে? একদিন ভবেশের বউ পাল্কিটা ভেঙ্গে চুলো জ্বালায়। ভবেশ সারা বেলা উঠোনে মাথায় হাত রেখে বসে থাকে। এ পাড়ায় আর মাত্র একঘর হিঁদু, সেই নরেন খুড়ো পরামর্শ দেয়-‘অ ভবেশ সব তো গেল, ইবার এট্টা গাই গরু আছে সেইডে বেইচে আবাল কেন, তারপর ঘানি বসা। গাইডা যে আইধ সের দুদ দেয় তা দি কি হবে’? ভবেশ ভাবে। আইধ সের দুধ! তারচে’ তো ঘানি বানানোই ভাল। বাপের আমলের মোটা গাব গাছটা কেটে কিছুদিনের মধ্যেই ভবেশের বাড়ির পেছনে একটা ঘানি কল বসে। বড় বড় পাথর ঘানির উপর বসিয়ে চোখ বাঁধা বলদ গরুটা ঘানি টানে। কখনো কখনো অনিমা আর তার ছোট ভাই-বোনরাও ঘানিতে চড়ে বসে। আগে গ্রামের মানুষ তিন মাইল দূরে সাহা বাড়িতে যেত সর্ষে, তিল আর ফালি ফালি করে কাটা নারকেল নিয়ে। এখন নিজের গ্রামেই ভবেশ বেহারার ঘানিতে ভাঙ্গায়। তিন বেলার আহার দুই বেলা বা একবেলায় পৌঁছানো ভবেশের বাড়িতে আবার তিন বেলাতেই হাড়ি চড়ে। অনিমা সেই শরীরে আর একটা শরীর ঢুকে যাওয়া দিনটির কথা আর মনে করেনা। ওদের আর কোন সমস্যা নেই।

কিন্তু প্রযুক্তি নামক এক অদ্ভুত ব্যাপার আছে দুনিয়ায়, যার খবর ভবেশদের মত মানুষরা রাখে না। যে রিকশা ভ্যান ভবেশের পাল্কিকে বেকার বানিয়ে চুলোয় ঢুকিয়েছিল, সেই ভ্যানই ভবেশের ঘানিকে সতিন বানিয়ে দিল!সর্দার বাড়ির বেকার ছেলেটা একটা সেকেন্ডহ্যান্ড হলার আর একটা শ্যালো কিনে মোটা শক্ত কাঠের ওপর স্ক্রু এঁটে ভ্যানের উপর বসাল। ব্যাস, হয়ে গেল চলমান মাড়াই কল। গ্রামশুদ্ধ লোক দেখতে এলো তার এই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। ভ্যান চালিয়ে একেবারে বাড়ির উঠেনে এসে সর্দারের পো হাঁক ছাড়ে- ‘অ কাকি, ভাঙ্গাবা নাকি’? কাকিরা বলেন ‘বয় এট্টু বয়, তিল আছে চাইড্ডে, ভাঙ্গায়ে দে’। ভবেশের ঘানির ক্যাঁচোর ক্যাঁচোর কমতে কমতে একেবারেই কমে গেল। ভবেশ বাধ্য হয়ে যে দামে আগে ভাঙ্গাতো তার অর্ধেকে নামিয়ে আনল। ওতে যা আসে তা দিয়ে বলদটারও খাবার হয়না। নদীর জল কমে সেই ডানকানাটিরও আর দেখা নেই। সেও কি খাবারের আশায় অন্য পথ নিয়েছে? অনিমা এখনো খুঁজে ফেরে। তিরতিরে জলে কখনো কখনো আসে সেই মাছটা।

ভবেশের তোবড়ানো গালে আরো কিছু নতুন ভাঁজ ফেলে সময় আরো একবার ঘুরে এলো এই বৈশাখ থেকে আর বৈশাখে। সর্দারের পো এখন একা নয়, সাথে আরো তিন জন ভ্যান নিয়ে বাড়ি বাড়ি ছোঁটে। সলেমান তার বন্ধুদের বীরত্বের কাহিনী শোনানোর পর তারাও ঘানির কাছে এসে বসে। রোজ রোজ ওই ছেলেদেরে বসে থাকতে দেখে ভবেশের বউ একদিন একটাকে ডেকে ঘরে আনে। অনিমার হাতে এক গ্লাস জল দিয়ে ঘরে ঠেলে দেয়। অনিমা বোঝেনা। ঝাঁপ দরোজাটা বন্ধ হয়ে যায়। ঘানিতে সর্ষে-তিল কিছুই নেই, তবুও ভবেশের বউ ঘানিটা ঘুরিয়ে দেয়। চোখ বাঁধা বেবোধ বলদটা ঘুরেই চলে…..ঘানিতে কড়ের তেল দেওয়া হয়না কতকাল, তাই ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দটা নিখুঁত ভাবে ঢেকে দেয় অনিমার চাপা চিৎকারটা! ভবেশ উঠোনের কোণায় বসে হুকো টানার ভান করে। ভবেশের বউ এটা ওটা নাড়া নাড়ি করে নিজেকে বোঝায়, সে যেন মহা ব্যস্ত! ঘরে অনিমার শরীরে অন্য আর ঘানি অদ্ভুত বিজাতীয় শব্দে ঘুরে চলে। রোজ। নিয়ম করে। ঘানি ঘোরে ক্যাঁচোর ক্যাঁচোর করে, আর সেই শব্দে চাপা পড়ে যায় অনিমার নিত্যদিনের জারজ শব্দ। কিছুদিন বাদে গ্রামময় রাষ্ট্র হয়ে যায় ব্যাপারটা। এখন আর ঘানিটা না ঘোরালেও চলে, তারপরও অভ্যেস বসে ভবেশের বউ ঘানি ঘোরায়, পাছে লোকে কি বলে! কি লজ্জায়ই না পড়তে হবে!

আরো বছর তিনেক পর অনিমার কাহিনী সেই শুকিয়ে খাল হয়ে যাওয়া নদীটার মতই বিস্মৃত হয়ে ওঠে। পালা করে অনিমা ঘরে ঢোকে। শোয়। শিহরণের ভান করে। একটু হাসির ছোঁয়া ঠোঁটে লেপ্টে রাখে। ওঠে। নদীর সেই রায়ভাটার কাছটিতে চুপ করে বসে থাকে। এখন এর জলের তোড় নেই বলে রায়ভাটা নেই। ডাকানাটিও আসেনা। অনিমার শরীর বলে একটা শক্ত সমর্থ ‘সলেমান’ খুঁজে মা হয়ে যাওয়া, অথচ মন খুঁজে ফেরে সেই ডানকানা মাছটিকে! এই অদ্ভুত আয়ের পথেও ভবেশের সাত আটটি পেটের খেরাক কমে আসে। অনিমার ছোট বোনটিকে ‘অনিমা’ হতে বলে যেদিন সেই দিনই প্রথম জ্বলে ওঠে অনিমা! আধা ভর্তি জলের কলসি মায়ের মাথায় ভাঙ্গে। ভবেশ আর তার বউ খিস্তি করে……
-খানকি মাগী তর এত্তো দেমাগ ক্যান রে? তরে এহন আর কেউ নোচে না বুজিশ না?
-কি করবা? তাই বইলে শেফালীরে শোয়াবা? অতটুক মাইয়ে নিতি পারবে? তুমরা কি মানুষ না পশু?
-আর দেমাগ দেহাইস নে, প্যাটে খাতি পারতিছিস না আবার নিতি পারবি নে কইস ক্যান?
-শালা হারামির বাচ্চা, আর একবার শেফালরি কথা মুখি আনলি দাও দে এক কোপ দেব..

এই কথোপোকথন শেফালীর কানে গেলেও তার কোন ভাবান্তর হয়না। মাত্র দশ-এগার বছরের মেয়েটির বুঝে কেনই বা এই সব অতি মানবীয় বিষয়াদি আসবে? সে কলসি ভাঙ্গা চাড়া নিয়ে এক্কা দোক্কা খেলতে থাকে। এক্কা দোক্কার ভয়ানক ক্ষমতা! পেটে ভাত আছে কি নেই তাতে এক্কা দোক্কার কিছুই যায়-আসে না।

সেবার ঘন বর্ষার সময় ভবেশের দূর সম্পর্কের এক ভাইপো এলো। নিখিল। বাদায় যায়। গওনা নৌকা নিয়ে এক একবার বাদায় যায়, দুই তিন মাস পর ফেরে। গোলপাতা কাটার কাজ। ওই দুই-তিন মাসে নিখিল কত কিছু যে শেখে। এবার শিখেছে দুবলার চরে রাশ মেলায় তাড়ি আর হাড়িয়া খাওয়ার ধুম পড়ে। ওই খানে বড় বড় সওদাগরি নাও আসে। তারা নাও থেকে এটা ওটা নামায়। আবার যাবার সময় এটা ওটা ভরে নিয়ে যায়। অনিমাদের বাড়ি আসার আগে নিখিলকে এক সওদাগর কানে কানে কি কি যেন বলেছিল। নিখিল বাড়ি ফিরে চুপি চুপি একে ওকে ধরে ধরে লোক জোগাড় করে। এক নাও লোক হতে লাগে প্রায় কুড়ি-পঁচিশ জন। নিখিলের গ্রামে ঠিক হয়ে আছে প্রায় পনের ষোল জন। নিখিল তিন চার দিন থেকে ভবেশ কে রাজি করিয়ে ফেলে।

-‘ভেইবে দেকো কাকা, তুমরা সক্কলে মিলে যাবা, সেইকেনে ম্যালা কাজ। তুমি কাকিমা কাজ করবা, আমি অনিমারে বে করবো। আমরা সংসার পাতব, কও, খারাপ কৈছি’?

অনিমাকে বিয়ে করার কথা বলায় ভবেশ আর তার বউ এক কথায় রাজি হয়ে যায়। নিখিল যা ভাবেওনি তাই ঘটে যায়। অনিমা নিখিলকে রাতে একসাথেই থাকতে দেয় ভবেশ। তলে তলে ঘানি, বলদ, ঘরের টুকিটাকি বিক্রি করে একদিন ভবেশরা খুব ভোরে বাড়ি ছাড়ে। সেই কাক ভোরে অনিমা একবার ছুঁটে যায় হিজল গাছটার নিচে! অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। ডানকানা মাছটা আসেনা। ওই মাছটা যে গত এক দুই বছর ধরেই আসেনা সেটা যেনেও অনিমা আশায় আশায় শেষ বারের মত ঘোলা জলে চকচকে চোখে চেয়ে থাকে। হিজল গাছটাই শুধু একটা দোলা দিয়ে বলে দেয়- ভাল থাকিস রে অনিমা……..।

রাশ পূর্ণিমার পর দিন দুবলার চরের খাড়ির ধারে নোঙ্গর ফেলা বড় গওনা নাওয়ে নিখিলের গ্রামের সেই পনের ষোল জনের সাথে উঠে বসে ভবেশ আর তার পরিবার। আগের রাতে পূর্ণিমা ছিল বলে সাগরের পানি ফুলে অনেকটা উপরে উঠে এসছিল। কুয়াশায় খুব কাছের মানুষকেও ছায় ছায়া মনে হয়। ভবেশ একে ওকে জিজ্ঞেস করে-‘আমরা কন যাচ্চি’? উত্তর আসে-‘জানিনে’। ভবেশ এটা বোঝে, তারা যেখানেই যাক না কেন সেখানে নিশ্চই ভাতের অভাব নেই। নাও ছাড়ার সময় কেন এই ভর সন্ধ্যে সেটা ভবেশ যেমন বোঝে না, তেমনি নিখিলও বোঝে না।

সূর্যটা টুপ করে ডুবে যেতেই মনে হলো সাগরের ভেতর কেউ যেন এক দোয়াত কালি ঢেলে দিয়েছে! ছোট ছোট ঢেউ গুলো সেই বড় দোয়াত কালির মধ্যেই দুলে দুলে উঠছে। মাঝে মাঝে জোনাকির মত কি যেন চিক চিক করে জ্বলছে। কে যেন একজন খুব শুদ্ধ ভাষায় পরিষ্কার গলায় বলে- ওগুলো ফসফরাস, রাত হলে ওভাবে জ্বলে। মা ভবতারিনী আর বদর বদর বলে নাওটা ছেড়ে দিল। ভট্ ভট্ করে ইঞ্জিনের শব্দে পাক পাখালি ঝটপট করে উড়ে গেল….অজানা এক কালো অচেনার দিকে ছুটে চললো কালো দৈত্যের মত নৌকাটা…………

সাধারণত এখানেই এই ধরণের গল্পের পরিসমাপ্তি ঘটে। এই ধরণের হা-ভাতে মানুষদের সাকিন এর পর আর কোথাও কোন অক্ষরেই লেখা হয়না। এই মানুষগুলো এমনি হঠাৎ করেই নো-বডি হয়ে যায়। এর পর এই ইতিহাস হয় মাটি চাপা পড়ে, নয়ত মুখে মুখে কিছুদিন ঘুরে ফিরে একসময় হাই তোলা অতীত হয়ে যায়। কিন্তু এই গল্পের অনিমা সেটি হতে দেয়নি। শরীরের মধ্যে আর এক শক্ত শরীরকে ঢুকতে দেখেছিল সেই ছোট্ট ডানকানা দেখে খুশিতে উচ্ছ্বলতার বয়সে। সেই শরীরই অনিমাকে রুখে দেয়। সেই হিজল,ডানকানা স্মৃতি আর কোথা থেকে পাওয়া এক বিজাতীয় ঘৃণা মেশানো জিঘাংশা অনিমাকে হঠাৎ জলে ঝাঁপ দিতে শক্তি যোগায়। নৌকো আর থামেনি। অনিমাকে ছাড়াই নৌকো চলে গেছিল। অনিমা ফিরে এসেছিল একা।

বছর দশেক পরে একটি ছেলে চোখ উল্টে মরো মরো হলে সদর হাসপাতালে ছোঁটে তার বাপ-মা। সাত দিন থাকার পর ডাক্তার বলে দেয় ‘বাড়ি নিয়ে যাও, ওর যে রোগ হয়েছে তার চিকিৎসা তোমরা করতে পারবে না, অনেক টাকার দরকার’। উদ্ভ্রান্ত বাবা-মা বাড়ি ফিরলে পড়শিরা পরামর্শ দেয় ‘কালি ভক্ত তারা মায়ের চরণে নে যাও, দেকপা তুমার ছেইলে ঠিক বেঁইচে ওটপে’। ঠিকই বাবা-মা তার ছেলেকে নিয়ে মায়ের পায়ে হত্যে দিয়ে পড়ে। সাক্ষাৎ কালিকে ভর করিয়ে মা সেই মুমূর্ষ ছেলেকে বাঁচিয়ে তোলে। খুশিতে মায়ের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে আর ওঠে না সেই রমণী, যার স্বামীর নাম সলেমান!‘বল মা, কি দেব তোরে? বল মা? জুড়া পাঁঠা দেব মা’! মা কিছুই বলে না। ভক্তরা বলে-‘যাও, ছেলে নিয়ে বাড়ি যাও, মায়ের এখন ভর আসার সময় হয়েচে’। ভর ওঠা শেষ হলে মা হিজল তলে গিয়ে বসেন রোজকার নিয়মে। তার পর এক ভাবে তাকিয়ে থাকেন কার যেন আসার আশায়।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এন্টিগল্পমনজুরুল হকের গল্পডানকানা মাছঅভাবশেঁকড় ছিড়ে বাঁচার চেষ্টা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: এন্টি গল্প  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:২৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

৪৫৮ বার পঠিত৩৪৯১২

 

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

 

৪৯টি মন্তব্য

১-২৫

১. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩৮০

ত্রিশোনকু বলেছেন: “ভর ওঠা শেষ হলে মা হিজল তলে গিয়ে বসেন রোজকার নিয়মে। তার পর এক ভাবে তাকিয়ে থাকেন কার যেন আসার আশায়।”

-কোথায় কি যেন নেই।

অপুর্ব।

কথকের মুন্সিয়ানা প্রশংসার্হ।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২৪০

লেখক বলেছেন:

খুব দ্রুত পড়ে ফেললেন! মাত্র আট মিনিটে পড়ে আবার চমৎকার মন্তব্যও করলেন! সাধু! সাধু!

টানা কিছুদিন অন্য টাইপ লিখতে লিখতে গল্প লেখা ভুলে যাচ্ছিলাম। তাই আবার গল্পে ফিরতেই এই চেষ্টা।

২. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪৮০

নীল বেদনা বলেছেন:

জনাব,

মন্তব্য করার ক্ষমতা নেই। সৃষ্টি বুঝি একেই বলে?!

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৩৭০

লেখক বলেছেন:

জানিনা আর কারো চোখ ভেজে কিনা! আমার চোখ ভিজে উঠলেই বুঝি কিছু একটা হলেও হয়েছে। না ভিজলে বুঝি কিসসু হয়নি, স্রেফ আবোলতাবোল।

আপনি একে ‘সৃষ্টি’ বলায় আপ্লুত হলাম।

৩. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫২০

দ্রোহি বলেছেন:

অসাধারন!

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৪১০

লেখক বলেছেন:

আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ দ্রোহি।

৪. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫৮০

বৃত্তবন্দী বলেছেন: নির্বাক…

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০৯০

লেখক বলেছেন:

মাই প্লেজার!

৫. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১২০

শয়তান বলেছেন: অনেকদিন পর । সেই আগের স্বাদ

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৪৩০

লেখক বলেছেন:

হ্যাঁ, হিসেব করে দেখলাম ম্যালা দিন এন্টিগল্প লিখি না! ভুলে গেলাম কিনা যাচাই করতে গিয়ে লিখে ফেললাম।

কটকটিতে তাহলে আগের স্বাদ আছে!!!!

৬. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১৭০

মগ্নতা বলেছেন: +

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:১২০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ মগ্নতা।

৭. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২৩০

পাপতাড়ুয়া বলেছেন: নির্মোহ পড়তে চেয়েও ব্যর্থ হয়ে শোকেজে।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:২৩০

লেখক বলেছেন:

সেকি কথা! শোকেসে ?

আপনি তো দেখি আমারে লেখকই বানাইয়া দেবেন!!

৮. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:২৪০

হিমালয়৭৭৭ বলেছেন: আমার গল্পটার একটা দৃশ্যচিত্র অপূর্ব লেগেছে : “মেয়েটির এই অদ্ভুত ভাবনার আর এক সাথী ছিল- একটি নুয়ে প্রায় জল ছোঁয়া হিজল। কালচে সবুজ পাতা নিয়ে পরম সখ্যতায় জল ছুঁই ছুঁই অবস্থায় কোনও মতে টিকে থাকা হিজলটি অকাতরে শেঁকড় বিছিয়ে মেয়েটির দাঁড়াবার জায়গা করে দিয়েছিল।”

….ডানকান মাছকে সেন্টার পয়েন্ট ধরে বেশ বড়ব্যাসার্ধের একটা বৃত্ত আকার প্রয়াসটাও ভাল লেগেছে। ডানকান মাছ গল্পে সাবজেক্ট, অবজেক্ট কিছুইনা, তবুও গল্প জুড়েই মাছটা রয়ে যায়। কখনো লেখকের ভাবনায়, কখনো পাঠকের ভাবনায়, কখনো অনর্থকই। তবুও গল্প থেকে ডানকান মাছ সরেনা। এটা একটা দুর্দান্ত কাজ। তবে এর বাইরে এন্টিগল্পটা সেভাবে টানলোনা। সাধারণত গল্পের শুরুতে নারীচরিত্রগুলোর একটু অন্যরকম বর্ণনা দেখলে বাঙলা গল্পগুলোতে একটা নেগেটিভ চরিত্রের আগমন মোটামুটি কমন একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জল, শাড়ি, অনিমা…এগুলোর নিখৃত বর্ণনা আসার পর সলেমান চরিত্রটা প্রেডিক্ট করা হযে গিয়েছিল।। গল্পের মোহভঙ্গের শুরুটাও এখানে। মাঝে কিছুক্ষণ ঐতিহ্য আকড়ে ধরবো-নাকি ভেঙ্গে ফেলবো জীবনের তাগিদে, এরকম একটা দোটানা এসেছিল, সেখানে দ্বন্দ্বটা ভাল লাগছিল। এরপরই অনিমার মানুষ থেকে শরীর হযে যাওয়া, ঘানির কৃত্রিম শব্দ করা, এখানেও বহুল চর্চিত ব্যাপারগুলো চলে এসেছে। মানুষের জীবনটাই একটা বহুলচর্চিত ব্যাপার, তাই বহুলচর্চাটা থাকবেই গল্পে, কিন্তু সেক্ষেত্রে দৃশ্যচিত্রগুলো শক্তিশালী হলে হয়ত এটা চোখে পড়েনা। কিন্তু এখানে ঘরের ভেতরে অনিমার শরীর হয়ে যাওয়ার সময় বাইরের দৃশ্যগুলো যেভাবে আনা হযেছে সিনেমাতে কোন আপত্তিকর দৃশ্যে এধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়মিতই দেখানো হচ্ছে। তাই দৃশ্যচিত্র বিবেচনায় এন্টিগল্প এখানেই ম্লান হয়ে পড়ে।

এরপর এন্ডিঙ। এন্ডিঙটাকে আরোপিত মনে হয়েছে। নৌকা থেকে লাফ দেয়ার মাঝে শেষ করে দিলে সেটা হত নাটকীয়, আর এখন যেটা হয়েছে সেটাকে বলবো সিনেমাটিক। নাটকীয়-সিনেমাটিক, কোনটাকেই ঠিক গ্রহণযোগ্য সমাধান হিসেবে দেখতে ইচ্ছে করেনা। ডানকানা মাছ-অনিমা-হিজল গাছ-কিঙবা কোন ছোট্ট চরিত্র মিলেমিশে এই গল্পের এন্ডিঙটাকে অন্যকোন দিকে নেয়ার বেশ ভালই একটা সম্ভাবনা রেখেছিল।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২১০

লেখক বলেছেন:

আমার এ ধরণের গল্প পোস্টে আপনার মন্তব্য কাঙ্খিত থাকে। সত্যি বলতে কি অধীর অপেক্ষাতেই থাকি। চমৎকার বিশ্লেষণ করেছেন।

সাধারণত এই সময়ে আমি পিসি অন করার সময় পাইনা। আজ ক্রিকেট দেখার ছলে একটু সময় করে নিলাম। রাতে ফিরে এ বিষয়ে আরো কথা হবে। আপনাকে আবারো আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখছি।

৯. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৪৫০

কঁাকন বলেছেন: ভালো লাগলো

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২২০

লেখক বলেছেন:

অশেষ ধন্যবাদ কাঁকন।

১০. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৫৪০

নাজিম উদদীন বলেছেন: মনজু ভাই জবাব নাই।

একেবারে ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’ আর ‘পদ্মানদীর মাঝি’র মিশেল।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩২০

লেখক বলেছেন:

আসলে লক্ষ্যে স্থির থাকতে পারিনা নাজিম। কেবলই নিরস গদ্য লিখতে লিখতে গল্প লেখার কথা ভুলে যাই। কবিতা লিখতে লজ্জা পাই! কিন্তু যখনই দেখি আমার এই গল্পের চেয়ে দেশের কোন একটি জাজ্বোল্যমান সমস্যা নিয়ে লেখা জরুরী এবং কর্তব্য, তখন গল্প আর আসেনা!

এখন থেকে ঠিক করেছি গল্প কোন ভাবেই আর বন্ধ করব না।

ধন্যবাদ নাজিম।

১১. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৫১০

আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: অনেকদিন পর আপনার কোন গল্প পড়লাম, আমি ভেবেছিলাম এইসব ছেড়ে দিয়েছেন।

চমৎকার লাগল সেটা না বললে-ও হয়ে যায়।

এরকম আরো চাই।

=====================

ডানকানা কী? মনে হচ্ছে মাছজাতীয় কিছু বা শুশুক নাকি?

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৬০

লেখক বলেছেন:

রূপক অর্থে ব্যবহার করা মাছটি নিয়ে ইতিমধ্যেই যথাযথ ব্যাখ্যা এসেছে। মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ আশরাফ। আসলেই প্রায় ভুলে বসেছিলাম! যেমন ইচ্ছে করেই আর কবিতায় যেতে পারছিনা। হয়, লেখকের মাঝে মাঝে এমন একমুখিনতায় পেয়ে বসে।

আমি মনে করি-আমি কবিতা লিখতে পারিনা। কেউ কেউ বলেন -পারি। সম্ভবত আমার কবিতাও চেষ্টা করা উচিৎ, আর তা আপনার সহচর্যে থেকে।

১২. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:২২০

নাজিম উদদীন বলেছেন: ডানকিনে মাছ জসীম উদ্দীনের ‘রাখাল ছেলে’ কবিতায় আছে, গুঁড়া মাছ, হালকা হলুদ বর্ণের,ধড়ের মাঝ বরাবর একটা কালো দাগ আছে,সারাক্ষণ পানিতে কিলবিল করে এবং সাধারণত দলবেঁধে ঘুরে বেড়ায়। @ আশরাফ মাহমুদ

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৫০

লেখক বলেছেন:

ঠিক তাই। এরা খুব অল্প পানিতে একা একাও ঘোরে। পানিতে পা নামালেও ভয় পেয়ে পালায় না। একটু দূরে গিয়ে আগন্তককে দেখে! খই বা মুড়ি দিলে একেবারে কাছে এসে ঠোকর দেয়….

১৩. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:১৪০

ত্রিশোনকু বলেছেন: “খুব দ্রুত পড়ে ফেললেন! মাত্র আট মিনিটে পড়ে আবার চমৎকার মন্তব্যও করলেন! সাধু! সাধু!”

-কি বোর্ডের গতি দেখে ভেবেছেন বাংলা পড়ার গতির দশাও এক? বাংলা কি বোর্ডে লেখার ব্য়স এক বছর। বাংলা পড়ার -৪৪ । দ্রুত পড়তে হত তখন। কখন ধরা পড়ে যাই। ভাড়ার ঘরে মোমের আলোয় পড়া, লোকিয়ে। সমরেশ বসুর “নারী ও স্কুটার ” ঐটুকু ছেলেকে পড়তে দেখে বাবা মা নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন।

আর প্রথম মন্তব্য করার তাগিদ তো ছিলই।

@আশরাফ মাহমুদ (নাজিম উদদীনের সাথে আরেকটু যোগ): ডানকানা মাছ সবসময় ভেসে থাকে। সাধারনত শুধু পকুরেই দেখা যায়। নদী বা বিশাল জলাশয়ে কখনো দেখিনি। ঘাটলার ধারে জটলা ররে থাকে। অনেকেই এ মাছটি খায় না কানা কুহকের মত ( এক কিশোরের.)।

“ডানকানা মাছ কিলবিল করে”- জসিমউদ্দিন

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫১০

লেখক বলেছেন:

হুম। কোন এক পর্বে কার যেন কমেন্টে দেখলাম বলেছেন- “আপনার বাঁদরামী……..”

“নারী ও স্কুটার” গিলেছে যে সে নিশ্চই “বিবর” ও দেখেছে! এই-ই হয়! ক্যাডেট কলেজে বজ্র আঁটুনি দিতে দিতে এক সময় গেরো ফস্কেই যায়! আমারচে’ তিন বছরের ছোট ভাগ্নে (চাচাতো বোনের ছেলে) ঝিনেদা ক্যাডেট কলেজে গিয়ে পো.পা হয়ে এলো!

ধন্যবাদ জসিমউদ্দিনকেও মনে রাখার জন্য।

১৪. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:২৪০

নতুন রাজা বলেছেন: অসম্ভব ভালো লাগলো……….

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০৫০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ নতুন রাজা।

১৫. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৩০

তায়েফ আহমাদ বলেছেন: প্রিয়তে গেলো।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০৬০

লেখক বলেছেন:

এই প্রান্ত থেকে কৃতজ্ঞতা রইল।

১৬. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০২০

শয়তান বলেছেন: ট্যাগের একটা কীওয়ার্ড এমন কেনো

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০৬০

লেখক বলেছেন:

নতুনত্ব কিংবা অভিনবত্ব!

১৭. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৫৮০

নাজনীন১ বলেছেন: গল্প-উপন্যাস মোটামুটি পড়লেও আমার ভাষাজ্ঞানে কিছু দৈন্যতা আছে, কিছু শব্দের মানে বুঝতে পারি না। আচ্ছা এন্টি গল্প, অনুকাব্য এসবের সংজ্ঞা কি? কেপ্পন মানে কি কাঁপন? গোলপিলাল মানে কি? কাইন্ডলী বললে খুশী হব।

আপনার কিছু গল্প-কবিতা আগেও নীরবে পড়ে গেছি, আমার কাছে কঠিন লেগেছিল সেগুলো। কি মন্তব্য করতে হবে বুঝিনি। আজকেরটা সহজ গল্প মনে হয়েছে। ভাল লেগেছে।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১৯০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ নাজনীন১। এন্টি গল্প সাধারণ গল্পের মতই, তবে এতে খানিকটা ভিন্ন মাত্রা এবং বর্ণনার বৈচিত্র থাকে। ট্রাডিশনাল গল্পের মত মনে হলেও কিছুটা বেখাপ্পা ধরণের গতিতে এগোয়। কিছু অব্যবহৃত শব্দও থাকে।

অনুকাব্য বিষয়ে বলতে পারব না। আমি কবিতা কম বুঝি।

কেপ্পন মানে কৃপণ।

গোলাপিলাল মানে লাল রঙের সাথে গোলাপি মিশেলে যে লাল হয় তাই। ‘খই বাবরা’ ফলটা পেঁচানো জিলাপির মত নদীর ধারে এর গাছ হয়। সারা গাছে কাঁটা থাকে। তেঁতুল যেমন লম্বা হয়ে ঝোলে, সেই তেঁতুলকে পেঁচিয়ে গোল করলে যেমন দেখায় এটা তেমনই দেখতে। পাকলে এরই রং গোলাপিলাল। ভেতরে দুধসাদা শাঁস হয়। কাকের প্রিয় খাবার। মানুষও খায়, বেশ মিষ্টি। যশোর,খুলনা,নড়াইল অঞ্চলে দেখা যায়।

১৮. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৪০

নাজিম উদদীন বলেছেন: রবীন্দ্রনাথের কথা ভাবেন একের পর এক পারিবারিক মৃত্যু, জমিদারীর কাজ সামলেও তিনি সাহিত্যের সাধনা করতেন। আপনিও পারবেন।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৭০

লেখক বলেছেন:

নাজিম রসিকতা করলেন না তো!

কিসের সাথে কি তুলনা! তিনি তো সাধক পুরুষ। বিভিন্ন বিষয়ে লেখার জন্য তাঁর বিশেষ বিশেষ চেয়ার ছিল। সাধারণত খুব ভোরে বাড়ির ছাতে চেয়ার পেতে বসে চেয়ারের হাতলে খাতা রেখে ধ্যানমগ্ন হয়ে লিখতেন। হাতলটা চওড়া করে বানানো ছিল। দূরে গড়াই নদীর দিকে তাকিয়ে শুকনোর সময়ে গরুর গাড়ি পারাপার দেখে তিনি “আমাদের ছোট নদী” লিখেছিলেন।

তার যে জিনিসটি মোটেই ছিলনা তা হলো- মৃত্যুভয়।

এই দেশে ধর্ম, রাজনীতি, শ্রেণী সংগ্রাম নিয়ে লিখলেই তাকে মৃত্যুভয় তাড়া করবে। আমাকেও করে। তারই ভেতর দুই ধরণের সংগ্রাম চালাতে হয়। প্রথমতঃ বেঁচে থাকা। দ্বিতীয়তঃ লিখে যাওয়া। আমি চাই আলাদা করে একটা নয়, বন্ধ হলে দুটোই যেন একসাথে বন্ধ হয়।

১৯. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪১০

গোঁপা বলেছেন: অসাধারণ।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫৪০

লেখক বলেছেন:

বহুদিন দেখি না আপনাকে,লালনমেলা সফরে গেছিলেন নাকি?

২০. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:০৬০

খারেজি বলেছেন: মনজু ভাই

দু’বার পরে ফেল্লাম।

অদ্ভুদ।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৪১০

লেখক বলেছেন:

এক মাস পরে আইসা দু’বার পড়লেই হবে? আপনারে না কইছিলাম, যুগাযুগ রাইখেন! কি একটা বিষয়ে আপনার না একটা পোস্ট দেওয়ার কথা আছিল? কই?

২১. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৩৪০

নাজনীন১ বলেছেন: ওহ্‌ হো! আসলে আমি ‘গোলাপী’ র এরকম বানানে অভ্যস্ত বলে ‘গোলাপিলাল’ যে একটা রঙের নাম সেটা মাথাতেই আসেনি। অথচ মুখে কত বলি! অনেক ধন্যবাদ।

২২. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:১০০

রাগ ইমন বলেছেন: কি করতে এসেছিলাম আর কিসে আটকা পড়লাম। এসেছিলাম গাড়িতে চেপে ধুলোর বস্তা হাতে , ধপ করে নামিয়ে (দায় শেষ করে) ঝপ করে কেটে পড়বো । ব্লগ বড্ড বেশি সময় নিয়ে নিচ্ছে আজকাল, ক্ষতি হচ্ছে আমার ।

কিন্তু, মন তো দেখি কালচে জলে পা ডুবিয়ে ডানকানা মাছ খুঁজতে বসে গেলো।


পড়তে খুবই ভালো লাগলো । যদিও অনুমানের বাইরে কিছু ছিলো না ( হিম যেমন বললেন) তারপরেও পড়তে খুবই ভালো লেগেছে । প্রকৃতির বর্ননাটুকু। হয়ত অনেক দিন গ্রামে যাই না , তাই বুভুক্ষুর মত গিলে ফেলেছি ।


সমাপনটি দুর্বল লেগেছে একটু। অনিমাদের সলেমানেরা বিয়ে করে না , তা সে যতই সুন্দরী হোক। গ্রামে অসম্মানিত হওয়ার ভয় প্রচন্ড । তাই বেশ বেখাপ্পা ।


তারপরেও , লেখার মুন্সিয়ানায় চমৎকার গল্প । ব্লগের খাতিরে সারাংশ করা হয়েছে , তাই অতৃপ্তি থেকেই গেলো , যেইটা ছোট গল্পের গুণ -ই তো তাই না?

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৪০

লেখক বলেছেন:

ঠিক ধরেছেন। ব্যাপারটা অনেকটা অডিয়েন্সের মত। অডিয়েন্স মাপে অভিনয় বের করা আর কি! “তুমি আমার জন্য মাত্র তিনটি বছর অপেক্ষা করতে পারনি” এই কথাটি চারটি ভিন্ন অভিনয় মাধ্যমে বললে চার রকম হতে হবে। তেমনি ব্লগও লেখকের প্রয়াসে অলখে নিয়ন্ত্রণ করে!

রাগই, তাড়াহুড়ায় একটু ভুল হচ্ছে মনে হয়…..অনিমাকে কিন্তু সলেমান বিয়ে করেনি! সলেমানের বউ অনিমার কাছে তার ছেলেকে নিয়ে এসেছে।

অন্য প্রসঙ্গঃ আমি প্রয়োজন পড়ায় লিঙ্কটা দিয়ে এসেছি। কোন মন্তব্য করিনি। ঘাড় বাঁধিয়ে কূট তর্ক ভাল লাগেনা। ওই পোস্ট আছে পোস্টের মতই, কিন্তু মন্তব্যের উত্তরগুলো প্রশ্নকর্তাকে তোলানো মনে হচ্ছে! লেখক আর মন্তব্যের উত্তরদাতাকে এক ব্যক্তি মনে হচ্ছেনা। লেখকের নিজস্ব স্ট্যান্ড না থাকলে পাওয়ারফুল কমেন্ট তাকে বায়াস্ট করতে পারে। করছেও তাই।

রেফারেন্স এবং বক্র খোঁচা, দু’ভাবেই আমার নাম ব্যবহৃত হলেও আমি করাত দিয়ে ধান কাটার অপচেষ্টা করতে অনিচ্ছুক।

২৩. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০৫০

খারেজি বলেছেন:

মনজু ভাই যে লেখাটার কথা কৈসিলাম, সেইটা সারাদিন বইসা লিখলাম।

বাট, লেখা শেষে রেফারেন্স মিলাইতে গিয়া দেখি, বই উধাও। সেই ফার্স্ট ইয়ারের বই। য়্যাকাডেমিক নাপতামিটা দিয়া ছুরি চালাইতাম স্বাধীনভাবে। কিন্তু যে ইকোনমিক্সে (পরিবেশগত দিক নিয়া) নাপতামি করতে হাত কাপে।

কাইল সারাদিন দেখি ওইগুলা ঘাটুম। প্রমিজ, তিনদিনে হয়া যাবে।

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৫০০

লেখক বলেছেন:

ঠিক আছে। তিন দিন লাগুক, তবুও একটা অনবদ্য লেখা বেরিয়ে আসুক আপনার হাত থেকে। আমি নিশ্চিত, হালে দেশের বুদ্ধিব্যাপারিরা এই বিষয়ে যে সব কথা বার্তা বলছেন, যে সব অলীক ধারণ পুষে বগোল বাজাচ্ছেন, আপনার লেখা সেই অসর্ম্পূর্ণতা ঢেকে দেবে।

অপেক্ষায় থাকলাম।

২৪. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৩৪০

মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:

দারুণ খুশি হয়েছি ‘আ লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আর্মস’-এর কথা শুনে।

অভিনন্দন… অনেক… অনেক…

এই গ্রন্থটি আপনাকে বাঁচিয়ে রাখবে; বাঁচিয়ে রাখবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকেও।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫৫০

লেখক বলেছেন:

একটু অন্যরকমভাবে আপনাদের অনেকের অমূল্য মন্তব্য বইটিতে সন্নিবেশিত হয়েছে। মূলত আপনাদের আন্তরিক উৎসাহ আর প্রেরণায় বাইটি প্রকাশ সম্ভব হয়েছে।

কৃতজ্ঞতা রইল রিপন।

২৫. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৫১০

রাগ ইমন বলেছেন: পাঠক হিসাবে নিজেকে বিশাল বেকুব প্রমান করতে পেরে আনন্দ বোধ করছি!

হায় রে ঘুম! হায় রে ঘুমন্ত চোখ!

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:০৬০

লেখক বলেছেন:

হুম। আপনার এনার্জি লেভেল রীতিমত ঈর্ষনীয়! পররাষ্ট্রমন্ত্রকে কাজ নিলে ডাকসাইটে কূটনীতিক হতেন!

পরম নিশ্চিন্ত ঘুম যে কতকাল দেখিনে….

 

Top of Form

আপনার মন্তব্য লিখুন

কীবোর্ডঃ  বাংলা                                    ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয় ভার্চুয়াল   english

নাম

       

Bottom of Form

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s