লিবিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমেরিকা-ব্রিটেন-ফ্রান্সের স্বার্থ কি? তিউনিসিয়া-মিশরে নিশ্চুপ, এখানে সরব কেন?

g11_25586105

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:১১ |

 

আরবের দেশে দেশে যে গণবিক্ষোভের ঢেউ লেগেছে তা নিশ্চয়ই আপনারা ফলো করছেন। বাংলা পত্র-পত্রিকা-ব্লগ-ম্যাগাজিনগুলোতে এই ঘটনার ‘খবর’ ছাড়া আর কোন গভীর বিশ্লেষণ আমার চোখে পড়েনি। সম্ভবত আমি মিস করে গেছি। কিন্তু ব্যাপক আলাপ-আলোচনা হলে নিশ্চয়ই তা চোখ এড়াতো না।

এর মানে কি বাংলাদেশে এই ঘটনার কোন ইম্পলিকেশন নেই? বাংলাদেশের গণমানুষের মনে কোন প্রভাব পড়ছে না বা পড়বে না এর? এত বড় একটা চলমান ঘটনা, বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে ৪৯.৮% মানুষ প্রতিদিন খাদ্যাভাবে থাকে, সেখানে কোন প্রভাব না ফেলেই পারে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মনোপলি পুঁজির কুক্ষিগত মিডিয়া মানুষের মানসপটে এর ছোঁয়া লাগতে দিতে নারাজ।

তিউনিসিয়া ও মিশরের দুর্দান্ত অভ্যুত্থানের পর এবার লিবিয়ায় শুরু হয়েছে ‘বিদোহ’। পশ্চিমা বিশ্ব একে গৃহযুদ্ধ বলে প্রচার করতে প্রাণপাত করছে। জাতিসংঘ ও ইইউ ইতিমধ্যেই স্যাংকশন ইম্পোজ করেছে। পশ্চিমা দেশগুলো বাজেয়াপ্ত করতে শুরু করেছে তাদের দেশে থাকা লিবিয়ার সম্পদ। পূর্বাঞ্চলের একাংশ বিদ্রোহীদের দখলে। সরকারী বাহিনী তা পুনঃরুদ্ধারের জন্য আজ থেকে পাল্টা-আক্রমণ শুরু করেছে।

কেমন যেন অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। বিপ্লবের নায়ক গাদ্দাফি কি নিজ দেশের নাগরিকদের এভাবে সাপ্রেস করবেন? যেই লোক ঔপনিবেশিক প্রভুদের হাত থেকে মুক্ত করে লিবিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করলেন, ব্যাপক সংস্কার করলেন রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক নীতি, অর্জন করলেন অভূতপূর্ব হিম্যান ডিভালাপমেন্ট ইন্ডেক্স রেটিং, এ্যাক্টিভলি সমর্থন করলে দেশে দেশে স্বাধীকারের আন্দোলন, নিজের দেশের রাজতন্ত্র হটিয়ে চালু করলেন ডিরেক্ট ডেমোক্রেসী – তাকে কি ডিক্টেটর বলা চলে? তাকে কি ধাই করে বলা যায় বিদায় হও? প্রসঙ্গতঃ আপনার নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে গাদ্দাফি প্রেসিডেন্টও নন প্রধানমন্ত্রীও নন, সুতরাং কোথা থেকে চলে যাবেন তিনি?

এদিকে আমেরিকার যুদ্ধবিমানবাহী নৌবহর সুয়েজ খালের কাছাকাছি চলে এসেছে। ব্রিটেইনের মিলিটারি একেবারে প্রস্তুত, ফ্রান্স ইতিমধ্যেই ঢুকে পড়বে পড়বে করছে। জাতিসংঘ হঠাৎ ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেছে, হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলে লিবিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করেছে। পশ্চিমা বিশ্ব আরেক ইরাক যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আরবদেশগুলোতে গণবিক্ষোভের ঢেউ কাঁপিয়ে দিয়েছে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর ‘স্ট্যাবিলিটির’ ধারণা। কিন্তু এত সহজে হটে যাবার কোন কারণ নেই গত শতকজুড়ে কয়েকশ’ যুদ্ধ বাঁধানো সাম্রাজ্যবাদের।

এখানে আরো একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার – পিক অয়েল। সভ্যতার শক্তির মূল উত্স অনবায়নযোগ্য খনিজ পেট্রোলিয়ামের উৎপাদন এখন কমতির দিকে, এই গ্রহের অভ্যন্তরের থাকা তেলের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ছাড়িয়ে এসেছি আমরা। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে পশ্চিমা বিশ্বে। এতদিন স্বীকার না করলেও আমেরিকাও এখন স্বীকার করছে পিক অয়েলের কথা। ব্রিটেইন একটি সংসদীয় কমিটি করেছে।

এ অবস্থায় তেল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলোতে যদি গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান ঘটে তাহলে তা প্রবল মাথাব্যাথার কারণ বটে। সুতরাং তেলের সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে হবে। এ নিয়ে বেয়াড়া লিবিয়াকে আয়ত্ব করার জন্য ‘গন-অভ্যুত্থানের’ মোড়ক ব্যবহার কথা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি না ভেবেই পারে না।

বিক্ষোভ শুরুর দিনই বিক্ষোভকারীরা কি করে মেশিনগান নিয়ে রাস্তায় নেমে গেল, কোথায় পেল এন্টি-এয়ারক্রাফট অস্ত্র যা দিয়ে মিলিটারীর বিমান ভূপাতিত করলো, কেন পশ্চিমা মিডিয়া তোলপাড় শুরু করলো মানবাধিকার মানবাধীকার বলে – এসব প্রশ্নের ফয়সালা হওয়া জরুরী।

বন্ধু ব্লগার “প্রশ্নোত্তর” এভাবে ভেবেছেন। আর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা কে কিভাবে ভাবছি সেটা প্রশ্নোত্তর জানতে চাইছেন। আমি লেখাটি হুবহু পোস্ট করলাম। এখানে আমার মতামত দেয়া হলো না। আমার যে যে ক্ষেত্রে দ্বিমত আছে তা আমি পোস্টে একর পর এক আপডেট করতে থাকব ব্রাকেট বন্দী করে।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): লিবিয়াআমেরিকাব্রিটেনজ্বালানী তেলপিক অয়েলমধ্যপ্রাচ্য ;
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:১৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

৫২৬ বার পঠিত১৪৯৬

 

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

 

৪৯টি মন্তব্য

১-২৪

১. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:১৩০

মিঠাপুর বলেছেন: তেল……।

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:৩৫০

লেখক বলেছেন: নিশ্চই তেল।

২. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:১৯০

rabbykhan9 বলেছেন: Click This Link

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ২:২২০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই। দেখলাম।

৩. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:২৫০

মোসাজস বলেছেন:

এইটা লিবিয়ার সাধারন জনগণের কোন বিদ্রোহ নয়|

অত্যাধুনিক অস্র নিয়ে মিলিশিয়া বাহিনী দেখতে পাচ্ছি, মুখ ঢাকা সিআইএর এজেন্ট থাকাটাও অসম্ভব কিছু না|

ইরাক-আফগানিস্হান ইস্যু আমেরিকানরা আর গিলছে না, আগামী বছরের ইলেকশনে জিততে হলে ওবামার আরেকটা যুদ্ব দরকার আর সেটা হলো লিবিয়া|

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:৩৪০

লেখক বলেছেন: ঠিক। এটাই আমেরিকা-ব্রিটেনের মূল লক্ষ্য। আর সেই কাজটার সুযোগ করে দিয়েছে গাদ্দাফি আন্দোলনরতদের উপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে।

এখন সেই সুযোগ নিচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব। তাদের “পোষা গোলাম” জাতিসঙ্ঘ তো আছেই হুকুমবরদার হিসেবে!

৪. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:৩১০

হায় ঈশ্বর! বলেছেন: হুম এই কথা গুলো বলতে চাইছিলাম ,কিন্তু সমালোচনার ভয়ে বলতে পারতেছিলাম না .

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:৩৯০

লেখক বলেছেন: সমালোচনার ভয় পেলে চলবে কেন? নিজের বিচার বিশ্লেষণতেো কারো কাছে বন্ধক রাখেননি, তাই না?

আমি নিজে তো “ট্যাগড” হয়ে আছি “আওয়ামী পন্থী” হিসেবে! কিন্তু সরকারের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে কেউ কি থামাতে পেরেছে?

নির্ভয়ে বলে যান। সমালোচকরা তাদের কাজ করবে, করুক।

৫. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:৩৮০

সত্যান্বেষী বলেছেন: একমাত্র সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ছাড়া সকল আন্দোলনের ফসল আমেরিকার ঘরেই উঠবে।

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ২:২৬০

লেখক বলেছেন: সেই সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোও এখন আমেরিকার “স্পন্সরশিপ” নিতে চাইছে!

নব্বই দশকের পর সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের রূপরেখা কিছুটা ভিন্ন হয়েছে। এখন শুধু মার্কসবাদ-লেনিনবাদ দিয়ে বোধ হয় নয়া গণতন্দ্র বিকোশিত হতে পারবে না।

সোস্যাল শ্যেভেনিস্টদের রুখতে হলে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পথ ধরতে হবে। তা না হলে সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ ক্ষমতা দখল করে সেই পুঁজিবাদী পদাঙ্কই অনুসরণ করবে।

৬. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:৫১০

দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: গাদ্দাফিকে ডিক্টেটর বলা যায় কিনা, এই প্রশ্নে খুবই অবাক হলাম! আজ থেকে ২০ বছর আগে কে কী করেছেন, তা দিয়ে যদি সারা জীবনের সার্টিফিকেট দেওয়া হয় তাহলে তো মুশকিল! গাদ্দাফিকে ডিক্টেটর না ভাবার পেছনে কোন সলিড কারণ আছে কি?

“এ অবস্থায় তেল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলোতে যদি গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান ঘটে তাহলে তা প্রবল মাথাব্যাথার কারণ বটে। ”

এটাও মাথায় ঢুকলনা। কবে, কোন গণতান্ত্রিক সরকার আমেরিকার তেল কেনায় বাধা দিয়েছে?? শাভেজের মত প্রবল পুঁজিবাদ বিরোধী প্রেসিডেন্টও তেল বেচতেছেন আমেরিকার কাছে, কই অন্যরকম কিছু তো দেখিনা!

গণতান্ত্রিক সরকার থাকলে যে আমেরিকার হস্তক্ষেপ থাকবেনা, এটা নিতান্তই একটা হাস্যকর ধারণা। দুনিয়ার সকল গণতান্ত্রিক দেশের সাথেই আমেরিকার সুসম্পর্ক, ভারত বলেন আর বাংলাদেশ, আমেরিকা তার সুবিধাটা সবার কাছ থেকে ঠিকই বুঝে নেয়।

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ২:২১০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দি ফিউরিয়াস ওয়ান। আপনার সাথে একমত।

আমি আরো পরে জানাব যে, গাদ্দাফি যে ঔপনিবেশিক শাসকদের হাত থেকে ক্ষমতা নিয়ে গণতন্ত্র দিয়েছিল সেটা কতটুকু ‘গণতন্ত্র’ ছিল!

মন্তব্য চলতে থাকুক। পরে কনক্লুশন টানা যাবে।

ফিউরিয়াস, আপনার সব কথা অকপটে বলে যান।

৭. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:৫২০

দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: সত্যান্বেষীর মন্তব্যে লাইক।

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৩:৪৮০

লেখক বলেছেন: যথার্থ।

৮. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:৫৬০

খারেজি বলেছেন: বিষয়টা আসলেই জটিল মনজু ভাই।

আম্রিকানরা তাদের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করবে এটা ঠিক। সৌদি বাদশা তাদের পোষা কুকুর, গাদ্দাফি বুনো কুকুর।

তবে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে জনরোষ, আর সে যে গত বিশ বছরে গণশত্রুর ভূমিকা পালন করেছে তাও তো অস্বীকার করা যায় না।

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ২:১৮০

লেখক বলেছেন: আমি আগেই বইলা নিছি। আমি এই বক্তব্যে সম্পূর্ণ সহমত নই। তবে আমার যে যে বিষয়ে দ্বিমত তা আমি এই পোস্টের কলেবর বৃদ্ধির সাথে সাথে আপডেট দিতে থাকব।

গাদ্দাফির বিরুদ্ধে জনরোষ যথার্থ এবং সেই জনরোষকে আর কেউ ইনক্যাশ করবে কি করবে না সে প্রশ্নে জনরোষ থেমে যায় না বা থেমে থাকতে পারেনা।

৯. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১:১৫০

সজল শর্মা বলেছেন: তেল।

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ২:৩১০

লেখক বলেছেন: সেই সাথে তেলের একছত্র আধিপত্য। গোটা মধ্যপ্রাচ্য করায়ত্ব করে রাখা।

১০. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১:১৬০

দিগন্ত বলেছেন: খারেজি – সঠিক বলেছেন। আমেরিকা স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছে বলে গাদ্দাফী খুব ভাল – এটা মেনে নিতে পারলাম না। গাদ্দাফীর সাহস থাকলে পদত্যাগ করে গণভোট করে দেখাক।

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ২:৩১০

লেখক বলেছেন: গাদ্দাফির বিরুদ্ধে জনরোষ যথার্থ এবং সেই জনরোষকে আর কেউ ইনক্যাশ করবে কি করবে না সে প্রশ্নে জনরোষ থেমে যায় না বা থেমে থাকতে পারেনা।

লিবিয়ার ন্যাশনাল ফ্রন্টকে সম্ভবত আমেরিকা সাহায্য সহযোগিতা করছে। তারা রাতারাতি এম-৫০ অটোমেটিক রাইফেল পাচ্ছে কিভাবে?

সে আমেরিকা সাহায্য করুক বা না করুক। লিবিয়ার জনগণ গাদ্দাফির বিরুদ্ধে যে গণবিক্ষোভ সংঘটিত করেছে সেটাই বড় কথা। এখন তাদের দায়িত্ব হবে চণ্ডাল সরিয়ে ফাঁসুড়েকে ডেকে না আনা।

১১. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ২:২২০

মনজুরুল হক বলেছেন: বার বার কারেন্টের যন্ত্রনায় অস্থির হয়ে আছি!

১২. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ২:৪৩০

অ্যামাটার বলেছেন: দারুন একটা বিষয় পয়েন্টআউট করেছেন মনজুরুল ভাই।

এখানে লিবিয়ার বিষয়টাকে পশ্চিমা মিডিয়া যেভাবেই হোক, বাকি আরব বিপ্লবের সাথে গুলিয়ে ফেলার চেষ্টার কমতি করছে না।

গাদ্দাফি(যদিও এর গোঁয়ার্তুমি নিয়েও অনেক প্রশ্ন আছে, পরে আসছি) কিন্তু হোসনি মোবারক কিংবা বেন আলী নন। তিনি পশ্চিমা প্রভুদের আশীর্বাদে ক্ষমতা আকড়ে থাকেননি, বরং দেশের ভেতরের সমর্থন নিয়েই দীর্ঘ চার দশক পশ্চিমাদের বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছিলেন।

একটা বিষয় কি খেয়াল করে দেখেছেন; লিবিয়ায় বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই বাহরেইন, জর্দান, ইয়েমেনের মানুষ রাস্তায় নেমেছিল তূলনামূলক বেশি ভায়োলেন্টলি। অথচ বিবিসি, সিএনএন-এর মত মত মিডিয়া জায়ান্ট সেগুলো ধীরে ধীরে ছোট আকারে ট্রিট করতে করতে শেষে একেবারে ব্লাকআউট করে দিল। সম্পূর্ণ অ্যাটেনশন দিল লিবিয়ার দিকে!

সৌদিতে সকল প্রকার বিক্ষোভ, সমাবেশ সহ যে কোনও রাজনৈতি কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতবড় মানবতা বিরোধী একটা পদক্ষেপ সম্বন্ধে পশ্চিমা নেতারা কি সামান্য কোনও প্রতিবাদ করেছে? একটা বাক্যব্যায় পর্যন্ত করেনি।

প্রশ্নোত্তরের প্রশ্নগুলো আমারও। এখনপর্যন্ত যেখানে যেখানে এই উত্তাপ লেগেছে, এর মধ্যে শুধুমাত্র লিবিয়ান রেবেলরাই কিভাবে এত অস্ত্র পেল? এটা কি ভোজবাজি!

যদিও গাদ্দাফির গোঁয়ার্তুমি সমর্থনযোগ্য নয়। তাছাড়া, এই গাদ্দাফি এখন আর সত্তর-আশির দশকের গাদ্দাফি নন। তদুপরি একটা বিষয় খেয়াল করে দেখেন, জাতিগত ভাবে আরব, লিবিয়ানদের মত অসভ্য একটা জাতিগোষ্ঠীকে দীর্ঘ চার দশকে সভ্য করে তোলার কৃতিত্ব কিন্তু তাকে দিতেই হবে। হোক না সে ডিক্টেটর।

মিডলইস্টে আমাদের যে সব শ্রমিক ভায়েরা কাজ করেন, তারা অধিকাংশই নির্মানশ্রমিক। প্রডাক্টিভ কোনও খাতে নয়, বরং বিলাস বহুল প্রাসাদ, হোটেল তৈরীতে তারা কাজ করতে যান। অপরদিকে, লিবিয়া ফেৎট শ্রমিকেরা বলছেন, তারা প্রত্যেকেই কাজ করতেন বিভিন্ন উৎপাদনমুখি ফ্যাক্টরিতে। এনটিভিতে দেখলাম, এক শ্রমিক বলছেন, তিনি কাজ করতেন এসি তৈরীর কারখানায়। সুতরাং, বোঝা যাচ্ছে, গাদ্দাফি লিবিয়ানদের গতানুগতিক আরবদের মত অকর্মণ্য নয়, বরং কলকারখানা তৈরী করে দেশটাকে একটা শক্তিশালী অর্ঠনীতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সুতরাং, হঠাৎই তার বিরুদ্ধে মানুষের এভাবে ক্ষেপে ওঠার মধ্যে অনেক প্রশ্ন আছে।

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ২:৫৪০

লেখক বলেছেন: অ্যামাটার। আপনার এই দীর্ঘ মন্তব্যে আমি অভিভূত! আপনার গভীরের ভাবনা সত্যিই প্রশংসনীয়।

এটাকে আমরা যারা মার্কসবাদে বিশ্বাস করি তারা বলি দ্বন্দ্বের বিপরীত দিক। অর্থাৎ সাধারণ দ্বন্দ্বকে বিশ্লেষণ করার সময় তার অভ্যন্তরের আরেকটি দ্বন্দ্বের দিকও বিশ্লেষণ করার দাবি রাখে।

সেই হিসেবে। লিবিয়ায় গাদ্দাফি এখন যতটা হিংস্র তাকে তার চেয়ে বেশি হিংস্র করে দেখানো হচ্ছে। আর এখানেই সাধারণ জনগণের আন্দোলনের জয়-পরাজয় নিহীত।

পরে আরো কথা হবে অ্যামাটার।

১৩. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ২:৫০০

মানবী বলেছেন: স্বার্থ অবশ্যই আছে তবে তার চেয়েও স্পষ্ট কারনটি ভিন্ন।

তউনিশিয়া আর মিশরে এসব ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের সরব হবার প্রয়োজন পড়েনি.. এসব রাষ্ট্র্রের প্রভূত্ব স্বীকার করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা বেন আলি আর মুবারককে তাঁরা যখন বলেছে “প্রতিবাদাকরীদের মারবেনা”- তারা মারেনি। যখন বলেছে, “ক্ষমতা ছেড়ে দাও”.. তারা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, কারন তাদের ক্ষমতার উৎস ছিলো এসব শক্তিধর রাষ্ট্রের সমর্থন।

গাদ্দাফীর ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ বিপরীত.. এসব রাষ্ট্রের সাথে বিরোধীতা করেই দীর্ঘদিন ক্ষমতা আঁকড়ে আছেন.. তাই এদের চোখ রাঙ্গানিতে তিনি বিচলিত নন…

তাই তাঁদের এখন চোখ রাঙ্গানো বাদ দিয়ে সরব হতে হয়েছে..

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৩:০২০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মানবী।

পুরো ঘটনাটা যদি ইরাকের কার্বন কপি না হয়ে তিউনিসিয়া বা মিশরের মত হয় তাহলে সেখানে কোন না কোন পরাশক্তির প্রয়োজন এবং সাহায্য সহযোগিতা নেয়াতে দোষের কিছু নেই। আমরা গাদ্দাফিকে “ফেরেশ্তা” বলছি না, কারণ “গ্রীন রেভুল্যুশন” এর নামে তিনি কার্যত অন্য আর একটি আরব বাদশাহ এর মতই ছিলেন ক্ষমতার শীর্ষদেশে। তার স্বেচ্ছাচারিতায় গত চার দশকে লিবিয়ায় জনগণের ধর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। সব ঠিক আছে। কিন্তু আমেরিকার এন্ট্রি তো ওই জনগণের পক্ষে ক্ষীর বা দুধের নহর হয়ে আসছে না। আসছে গোটা আরব ভূখণ্ডে যেন গণতান্ত্রিক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তার তেলের এজমালি সাম্রাজ্য ভেঙ্গে না দেয় সেই উছিলায়।

এই ক্ষেত্রে লিবিয়ার জনগণকে এখন দুই ধরণের লড়াই জারি রাখতে হবে। এক. গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান। দুই. আমেরিকার নগ্ন হস্তক্ষেপের প্রতিরোধ করা।

১৪. ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৩:৫৩০

রােসল আহেমদ বলেছেন: ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত আমেরিকা যে সব দেশ থেকে তেল আমাদানী করে সে সব দেশের শীর্ষ ১৫ টি দেশের তালিকার মধ্যে কোথাও লিবিয়া, মিশর বা তিউনিশিয়ার নাম নেই। দক্ষিন আমেরিকার সবচাইতে ৫ টি দেশ এই তালিকায়। মিডল ইস্টের মাত্র তিনটি, আফ্রকার তিনটি। উভয় লিস্টেই সবচেয়ে বেশী আমাদানী করে কানাডা থেকে এবং মেক্সিকো থেকে। সৌদী আরব তিন নম্বরে।

US Energy Information Administration এর ওয়েব সাইট থেকে পরিমানটাও জানতে পারবেন।

এখানে লিস্টটা দিলামঃ

ক্রুড অয়েলঃ (বেশী থেকে কম ক্রমানুসারে)

CANADA

MEXICO

SAUDI ARABIA

NIGERIA

VENEZUELA

IRAQ

ANGOLA

BRAZIL

ALGERIA

COLOMBIA

ECUADOR

RUSSIA

KUWAIT

UNITED KINGDOM

ARGENTINA

মোট পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্ট: (বেশী থেকে কম ক্রমানুসারে)

CANADA

MEXICO

SAUDI ARABIA

NIGERIA

VENEZUELA

RUSSIA

ALGERIA

IRAQ

ANGOLA

BRAZIL

UNITED KINGDOM

COLOMBIA

ECUADOR

VIRGIN ISLANDS

KUWAIT

১০ ই মার্চ, ২০১১ ভোর ৪:৩৩০

লেখক বলেছেন: আপনার তথ্যের জন্য ধন্যবাদ। তবে ভাই, আমরা কিন্তু বলছিনা যে শুধুমাত্র তেলের জন্যই লিবিয়ায় মার্কিন আগ্রাসনের পায়তারা হচ্ছে! আমরা বলছি তেলের দখল নেয়া বা দখল বজায় রাখার জন্য তাদের আরবে থাকতে হবে।

দ্বিতীয়তঃ আফ্রিকা, এশিয়ার আরব দেশগুলোয় গণতান্ত্রিক যে জোয়ার বইছে, সেটা পরে সমাজতান্ত্রিক জোয়ারে রূপান্তরিত হতে পারে। তিউনিসিয়ার আন্দোলনের অন্যতম চালিকা শক্তি সমাতন্ত্রিরা। মিশরেও তারা অন্যতম অংশীদার। সুতরাং দিকে দিকে এই নব জোয়ার আমেরিকার পছন্দ হতে পারে না। সে এখন গত শতাব্দীর মত

আরবে “কমিউনিস্ট ভূত” দেখছে!

১৫. ১০ ই মার্চ, ২০১১ ভোর ৫:১৪০

প্রজন্ম৮৬ বলেছেন: এই আরব গণজাগরনের বিষয়টি এখনো এতটাই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে যে এর বিশ্লেষন করার মত পরিস্থিতি তৈরী হয় নাই আমার মতে।কারন বিপ্লবের ফসল যে কোন চাষীর ঘরে যাবে তা পরিষ্কার নয়।

তিউনিসিয়ার ফলাফল যে এত তাড়াতাড়ি এভাবে চলে আসবে তা বোধহয় তাদের প্রতিবেশি দেশও টের পায় নাই।এবং ঐ বিপ্লবের দ্রুত সফলতাই মিসর ও এখন লিবিয়ায় প্রভাব ফেলছে!

মিসরে পরিস্থিতি এত ভয়ানক হতে পারে নাই কারন বিদ্রোহিরা শান্ত তবে অটল ছিল।

কিন্তু লিবিয়া শুরু থেকেই একটু বেশি গরম হয়ে গেছে কারন ঐখানে আগে থেকেই কিছু বিদ্রোহি সশস্ত্র দল ছিল আর গাদ্দাফিও গরম লোক।যেহেতু আমেরিকা ও ইউরোপ তেল নেয় ঐখান থেকে তাই লিবিয়ার পরিস্থিতি খারাপ হলে সেটা ওদের জন্যও খারাপ হবে। তার উপর যোগ হয়েছে বিমান থেকে বোমা মারার মত কান্ড। তাই আমেরিকার সামনে দাবী এবং সুযোগ তৈরী হয়েছে লিবিয়ায় সরাসরি নাক গলানোর।

যেহেতু ওখানে ব্যাপক ধ্বংস চলছে এবং অনেক দেশের স্বার্থ জড়িত রয়েছে তাই এই পর্যায়ে এটাকে পশ্চিম দ্বারা লিবিয়া দখলের পায়তারা বলতে পারছি না!

১০ ই মার্চ, ২০১১ ভোর ৫:৪৪০

লেখক বলেছেন: “যেহেতু ওখানে ব্যাপক ধ্বংস চলছে এবং অনেক দেশের স্বার্থ জড়িত রয়েছে তাই এই পর্যায়ে এটাকে পশ্চিম দ্বারা লিবিয়া দখলের পায়তারা বলতে পারছি না!”

বেশ। বলতে না পারলে ক্ষতি নেই। ধরে নেন আমেরিকা বেন গাজি বন্দরের পাশের বীচে সান বাথ করতে এসেছে? একটু সমুদ্র-রৌদ্র স্নাট্নান করে চলে যাবে! যাবার আগে “টেক কেয়ার” “টাটা বাই বাই”ও বলবে!!!

১৬. ১০ ই মার্চ, ২০১১ ভোর ৬:১৫০

প্রজন্ম৮৬ বলেছেন:  আপনি তো বেশ সিরিয়াস।

আচ্ছা আরেকটু খুলে বলি যে কেন দখলের পায়তারা বলতে পারছি না।

যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোন দেশ লিবিয়ার দখল করে সেখানের প্রশাসনে ইরাক বা আফগানিস্তানের মত নিজ দেশের লোক বসাবে না এটা নিশ্চিত থাকতে পারেন। আর সেটা যদি না করা হয় তাহলে তাকে দখল বলা হয় না।

লিবিয়া ও আরব বেশ কিছু দেশের সাধারন জনগন যেমন লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে বলছে তেমনই অনেকে এর পক্ষে বলছে। আর সংখ্যায় তারা মোটেও গুটিকয়েক আমরিকান দালাল নয়।

দখলের পায়তারা না বলার আরেকটি কারন হলো, পুরো বিষয়টাই নির্ভর করছে গাদ্দাফি’র সিদ্ধান্তের উপর।সে যদি জনগনকে শান্ত করতে ব্যার্থ হয়ে নিজ মানুষকে উপর থেকে বোমা ফেলে হত্যা করে তখন মানুষের জীবন রক্ষায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের হস্তক্ষেপকে উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলা যায় না। গাদ্দাফির ছেলে বলেছে যে “ঘরে ঢুকে বিদ্রোহ দমন করা হবে”!

এই পরিস্থিতিকে দখলের পায়তারা বলা যায় না বরং বলা যায় যে দখলের আমন্ত্রন!

আর লিবিয়ায় আমেরিকার যা দরকার সেটা তারা এমনিতেই পাচ্ছে।দেশ দখল করার কোন প্রয়োজন নেই।গাদ্দাফি মুখে মুখে বিরাট টেরর কিন্তু আমেরিকা ও পশ্চিমাদের স্বার্থ সংরক্ষন করেই এতদিন ক্ষমতায় টিকে ছিল!

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:২৯০

লেখক বলেছেন: আপনার নিক হইতে আমেরিকা বিষয়ে প্রভূত জ্ঞান লভিলাম। সেই কারণে আপনাকে অজস্র ধন্যবাদ জনাব। জ্ঞানের আরো যেটুকু কমতি রহিয়াছে তাহা ক্রমশঃ আপনার ব্লগে গিয়া জানিয়া আসিব!

১৭. ১১ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:২৬০

প্রজন্ম৮৬ বলেছেন: আমার কমেন্টে আপনি মনেহয় বিরক্ত হয়েছেন। যার জন্য আমি সত্যিই লজ্জিত ও বিরক্তিপ্রদানের জন্য দুঃখিত।

আপনি সিনিয়র ব্লগার যে কোন কারনেই হোক আপনি যদি আমার ব্লগে এসে দুর্বল হাতের দু-একটি লেখা পড়েন তাহলে আমি অনেক খুশী হব।

ভাল থাকবেন।

১১ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১:১৫০

লেখক বলেছেন: আমি কাউকে দুর্বল ভাবিনা ভাই।

আর যাব বলেছি যখন, তখন নিশ্চই যাব। আমি মনে করি একজন কিশোরের কাছেও বয়ষ্ক মানুষের শিক্ষণীয় আছে। এটা ব্যঙ্গ নয়।

তবে আমেরিকা বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন যথার্থ নয়। এ বিষয়ে আর একটু চোখ-কান খোলা রাখুন, সত্যটা দেখতে পারবেন।

১৮. ১১ ই মার্চ, ২০১১ বিকাল ৩:৪৬০

বৃষ্টি ভেজা সকাল ১১ বলেছেন:

সরি…………………………………………

ভুলতো মানুষেরি হয় নাকি??

অপ্রাঙ্গিক মন্তব্য করার জন্য আন্তরীকভাবে দুখিত। পোস্টের মন্তব্য পরে করছি।

আশাকরি পড়ার পর মুছে দেবেন কমেন্টটি।

১৯. ১১ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৯:২৩০

ও*  বলেছেন: প্রশ্নোত্তরের পীক অয়েল থিওরীর ব্যাপারে আগেই অবগত ছিলাম। তবে এই পার্টিকুলার ক্ষেত্রে গাদ্দাফীর সমর্থনের প্রকৃত কারন বোঝা গেলো না।

যেখানে হোসনী মোবারক পড়ে গেলে তিনি খুশি হন, অথচ গাদ্দাফী তার পছন্দের তালিকায়…একই রকম গনজোয়ারের ধাক্কায়…

আমি কনফিউজড!

১২ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:৫৩০

লেখক বলেছেন: আপাতদৃষ্টিতে কনফিউশন মনে হতে পারে, তবে দুই দেশের ব্যাপারটা একসাথে না ভেবে আলাদা আলাদা করে ভাবুন। প্রশ্নো বলতে চাইছে….

“যেই লোক ঔপনিবেশিক প্রভুদের হাত থেকে মুক্ত করে লিবিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করলেন, ব্যাপক সংস্কার করলেন রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক নীতি, অর্জন করলেন অভূতপূর্ব হিম্যান ডিভালাপমেন্ট ইন্ডেক্স রেটিং, এ্যাক্টিভলি সমর্থন করলে দেশে দেশে স্বাধীকারের আন্দোলন, নিজের দেশের রাজতন্ত্র হটিয়ে চালু করলেন ডিরেক্ট ডেমোক্রেসী – তাকে কি ডিক্টেটর বলা চলে? তাকে কি ধাই করে বলা যায় বিদায় হও?”

এইখানটিতে একটু গোলমেলে ঠেকছে, তাই তো? প্রশ্নো এখানে ঔপনিবেশিক শক্তির কাছ থেকে ক্ষমতা দখলকে বৈপ্লবিক বলছেন। সেটা আসলেই বৈপ্লবিক। কিন্তু সেই বিপ্লবটি করার পর চল্লিশ বছর পর এসে কি গাদ্দাফি সেই আগের যায়গাটিতে দাঁড়িয়ে আছেন? আমার মনে হয় না। সে সময় তিনি দেশকে শুত্রুমুক্ত করতে সোভিয়েত সহায়তা নিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই ঘটে গেছে ষাঁটের দশকের, তথা ৬০ সালের “মহাবিতর্ক”। যে বিতর্ক শুরু করেছিলেন চীনের চেয়ারম্যান মাও সেতুং। কেননা সে সময় ক্রুশশ্চেভ ঘোষণা দিয়েছিলেন- এখন আর সোভিয়েতকে “শ্রমিক শ্রেণীর একনায়তন্ত্র” বলার দরকার নেই! এখন সোভিয়েত ইউনিয়ন সমগ্র সোভিয়েত জনগণের, থথা সমগ্র জনগোষ্ঠির! এটা ছিল নয়া সামাজিক সাম্রাজ্যবাদে উপনীত হওয়ার কৌশল। মাও সেতুং এর বিরোধীতা করে সেই কিখ্যাত মহাবিতর্ক আরম্ভ করেন। সেটা অন্য প্রসঙ্গ। গাদ্দাফির সাথে এই প্রসঙ্গের একটা অদ্ভুত অন্তঃমিল আছে। গাদ্দাফি সে সময় হঠাৎ করে নিজেকে মাও এর অনুসারী ভাবা শুরু করলেন। যখন দেখলেন একজন সামরিক সেনা নায়কের পক্ষে মার্কসবাদ ধাতস্ত করা সম্ভব না, বা তার নিজেরই আর একজন প্রখ্যাত দার্শনিক হওয়ার খায়েশ হয়ে থাকবে! তাই তিনি মাও এর বিখ্যাত “রেড বুক” এর মত “গ্রীন বুক” প্রকাশ করলেন। যাতে সবুজ বিপ্লবের আহ্বান থাকল। মনে করা হয় সেই গ্রীন বুক এর সাফল্য হচ্ছে পরবর্তী লিবিয়ার কৃষি উন্নয়ন! কিন্তু গ্রীন বুক যে একটা ডগমা ছিল সেটা অচিরেই প্রমাণ হওয়ায় সেই নিজেকে ত্বাত্তিক ভাবার রাস্তা থেকে কিন্তু গাদ্দাফি সরে আসলেন না। বরং কঠোরভাবে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে রাখলেন। এবং যে গণতন্ত্র তিনি দেশবাসীকে দিলেন তাকে তারা গণতন্ত্র বললেও তা ছিল মূলত সেনা একনায়কতন্ত্র। এখন একজন সেনা শাসক যে কোনোভাবেই গণতন্ত্রে বিশ্বাস রাখেন না বা গণতন্ত্র দিতে পারেন না। সেটা যখন দিকে দিকে উচ্চারিত হতে থাকল, তখন তিনি নিজেকে আধ্যাত্তিক নেতা ভাবতে শুরু করলেন। এটা এখন পর্যন্ত বহাল আছে। তিনি প্রেসিডেন্টও নন। আবার প্রধানমন্ত্রীও নন। অথচ তিনি রাষ্ট্রের সর্বময় ক্শতার অধিকারী!

এভাবে ভাবলে প্রশ্নোর গাদ্দাফিকে আপহোল্ড করারর যুক্তিকে যুক্তিযুক্ত মনে হয়না। কার্যত যেখানে বেন আলী, মোবারক আর গাদ্দাফি একই ক্ষুরে মাথা কামানো ডিক্টেটর।

আপনি বলুন। পরে আবার আসছি….

২০. ১১ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৯:৫৯০

বিদ্রোহী কান্ডারী বলেছেন: Click This Link

পড়ে দেখতে পারেন। আপনার সাথে সহমত। বন্ধুর দুলাভাই লিবিয়ান তেল কোম্পানীতে চাকরী করতো। গন্ডগোল শুরু হওয়া মাত্র ফেরত এসেছে। সে বললো, বিক্ষোভের কোন কারন নাই, হঠাত করে কিছু লোক শুরু করলো বিক্ষোভ আর লোকেরা ইনফ্লুয়েন্স হয়ে গেল।

১২ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ১১:৩৬০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বিদ্রোহী কান্ডারী।

২১. ১১ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১০:৪১০

ও* বলেছেন: আর পীক অয়ল থিওরীটাও এক ধরনের ফীয়ার মঙ্গারিং বলে মনে হয়।

বহু পুরনো এই থিওরীতে কিছু ফাটল ধরেছে দু’বছর আগে রাশাতে চল্লিশ হাজার ফুট নিচে সুপারডীপ খনিতে তেল পাবার পর থেকে।

যেসব পুথির ওপর ভর করে পীক অয়েল থিউরী দাড়িয়ে আছে, তাদেরই বক্তব্য মতে ১২/১৮ হাজার ফুটের বেশি নিচে ‘ফসিল’ থাকার কথা নয়। এতো নিচে তেলের ভান্ডার দেখা মিলবার পরে, তেলের ‘একমাত্র’ উৎস ‘ফসিল’.. এই দাবী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়াও দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর বাইরেও তেলের অস্তিত্ব আছে, এখন ঠ্যলাগাড়ি নিয়ে হয়তো আমরা সেই তেল উত্তোলনে মত্ত হবো না, কিন্তু ফসিলের ওপর খামচা খামচি কমবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তেল শেষ হয়ে যাবে, সেটা সমস্যা না, এর মূল্যের অকারন উর্দ্ধগতি বড়ো সমস্যা।

আম্রিকাকে ধরতে হলে এসব সস্তা নিও কমুনিস্ট বালি হলে চলবে না।

আরো শক্ত কিছু চাই।

আর স্লামিস্ট ছাগুদের ইদানীকার ‘আম্রিকা ধর্ষণ’ এর সাথে কমুনিস্টদের ঐকতান আমাদের চিন্তায় ফেলে দেয়।

‘পুঁজিবাদী’ ইদানীং একটা গালি, এবং কিছু সন্দেহজনক চরিত্র যাকে তাকে এই তকমা দিতে কুন্ঠিত হন না।

তবে চিন্তাশীলতার কারনে যদি হঠাৎ পুজিবাদী হয়ে যায় কেউ, তবে তো চিন্তার বিষয়।

অনেকটা রাজাকার শব্দের মতো হয়ে যাবে তখন! এই রে! এসব বলে আমিও তো আবার পুঁজিবাদী না হয়ে যাই।

তবে, দেখতে হবে শব্দটা কোন কোনা হতে আসছে.. বাকিটুকু পাঠকের ওপর।

১৬ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১:১৯০

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যটা নিয়ে বেশ ভাবতে হচ্ছে। এখন ভেবে আজ রাতেই লিখব। বোঝেন অবস্থা! তার মানে সারাদিনই ভাবতে হবে!!!!!

২১ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৩:০৪০

লেখক বলেছেন: @ওঙ্কার । আর তো এলেন না। বলেছিলাম পরে আলোচনা হবে।

সম্ভব হলে আর একবার আলোচনাটি শুরু করতে চাই।

দেখুন সময় করতে পারেন কি-না।

২২. ১১ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:১২০

দীপান্বিতা বলেছেন: এভাবে তো ভেবে দেখিনি!…আমি ভাবতাম মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর শাসকরা বেশ স্বৈরাচারী তাই সাধারণ মানুষ ক্ষেপে উঠেছে গণতন্ত্রের জন্য……

আজ আবার জাপানে প্রকৃতি খুব শোধ তুলছে আমাদের সব ভুলের…

২১ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৩:০২০

লেখক বলেছেন: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর শাসকরা যে স্বৈরশাসক এতে কোনোই সন্দেহ নেই দীপান্বিতা। এরা একেকটা ফারও রাজাদের মতই। তবে পার্থক্য হচ্ছে সম্পদ বেশি থাকায় গরিবিটাও ঠিক দরিদ্রের মত নয়।

ভূমিকম্প আর সুনামির জন্য মানুষের অপরিনামদর্শীতাকে দোষ দেয়া যায়না। এই একটি ক্ষেত্রেই মানুষের দোষ নেই। এটা একেবারেই প্রাকৃতিক। তবে বিজ্ঞান যে মেধা মারনাস্ত্র আবিষ্কার, পরিমার্জন, আধুনিকিকরণে খরচ করছে সেটা এইসব ক্ষেত্রে ব্যয়ীত হলে হয়তবা এতদিনে কিছু একটা উপায় বার করা যেত!

ধন্যবাদ দীপান্বিতা।

২৩. ১২ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:৫৬০

ইচ্ছেফড়িং বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো একটা বিষয় নিয়ে ফ্রন্ট খুলেছেন। দেখি কে কি কয়।

এনিওয়ে ,২৩ নং এ আমাদের ওঙ্কার দাদা বাবুর জ্ঞান তো দেহি এদিক ওদিক তলদিক সবদিক দিয়া শুধু বাহির হইতাছে। এখন আর আমাদের চিন্তা কি ? কয়েক বছরের মধ্যে তেলের চাহিদা পৃথিবীর বাইরে থেকে মিটতে থাকবো। সব ঠিকঠাক। মঙ্গল থেকে পৃথিবী পর্যন্ত পাইপ লাইন বসবো, হড় হড় কইরা মঙ্গল থেকে পাইপ লাইনে তেল আসতে থাকবো। এতো তেল কে খাইবো?আমেরিকা-ইউরোপ আর তেল রাখোনের জায়গা পাইবোনা। উদ্বৃত্ত তেল হে্রা হাতে পায়ে ধইরা হগলরে বিলাইয়া বেড়াইবো। কেউ লইতে চাইবোনা। আসলে এই উদ্বৃত্ত তেল রাখনের দুঃশ্চিন্তার কারনেই তো মধ্যপ্রাচ্য জুইড়া হে্রা জায়গা খুঁইজা বেড়াইতেছে। তাই তো কয়েক দশক ধরে সেখানে এত রক্তপাত। আসলে আমরা কি বোকা, হেদের এই মহত্ত্বটুক পর্যন্ত আমাদের মাথায় ঢুকলোনা । আসলে সব দোষ আমাদের, খালি উলটা বুঝি। আজ দাদাবাবুর কথায় আমাদের সম্বিত ফিরে এয়েচে।ওঙ্কার দাদাবাবু এভাবে বুঝায় না দিলে কি হোতো বলুনতো!!

১২ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১:৩১০

লেখক বলেছেন: @ ইচ্ছেফড়িং।এভাবে শ্লেষাত্মকভাবে বলার কোন আবশ্যকতা ছিল কি? তিনি তার মতামত দিয়েছেন, আপনি আপনার মতামত দিন। পোস্টের শেষে বলা আছে এটা একটা আলোচনা পোস্ট। সবার সব ধরণের মতামতের জন্যই আলোচনা আহ্বান করা হয়েছে।

দয়া করে আপনি আপনার এ বিষয়ে ভাবনা কি সেটা নির্দ্বিধায় বলুন। অযথা খোঁচা খুঁচিতে কোন ইতিবাচক কিছু বেরিয়ে আসবে না, বরং পোস্টের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

ধন্যবাদ।

২৪. ২১ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৩:২৪০

বাদ দেন বলেছেন: ভাইয়েরা আমার , আপ্নারা কি একটু ভুগোল পড়বেন, লিবিয়া অবস্থান কই আর সোদি আরবের অবস্থান কই একটু স্ট্র্যাটেজিক লি ক্লিয়ার হইতেন

২১ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৩:৩৭০

লেখক বলেছেন: এখানে সৌদি আরব আসল কিভাবে?

কথা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন আর লিবিয়া নিয়ে।

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s