ধেয়ে আসছে প্রকৃতির প্রতিশোধের ভয়ংকর ড্রাগন! জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে কোথাও বাঁচার পথ নেই!!

brishti  5

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৭ |

নাইনএইটসেভেনসিক্সফাইভফোরথ্রীটুওয়ানজিরো……খুট করে একটা স্যুইচ টেপার শব্দ হলো। সাথে সাথে প্রচন্ড বিস্ফোরণ! মাটির তলাকার এয়ারটাইট ল্যাবটা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল জনমানুষের পৃথিবী থেকে! ঘটনাটি ১৯৭৫ সালের। একটা এক্সপেরিমেন্ট করা হয়েছিল। বিশেষ ব্যবস্থায় কয়েকজন মানুষ ওই মাটির তলাকার ঘরে জীবন আর মৃত্যুর মাঝামাঝি কোমায় থেকে গেছিল ৫০ বছর। পঞ্চাশ বছর পর ২০২৬ সালে তারা সেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। দলনেতা প্রথমে মাটির উপরে উঠে এসেই হোঁচট খায়, একি! পাহাড়-পর্বত, বৃক্ষ লতাপাতাহীন বিস্তির্ণ পোড়ামাটির এক বিশ্ব! কোথাও কোন প্রাণের চিহ্ন নেই! একে একে উঠে আসে বাকি সবাই। না, প্রাণের চিহ্ন নয় শুধু জলজ্যান্ত প্রাণও আছে! ওদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কিছু মানুষ ভয়ে দূরে পালায়। এই মানুষগুলো মানুষই তবে দেখতে ভীন গ্রহের এলিয়েনের মত! ওরা যতই কাছে ডাকে কেউ আসেনা! পারমানবিক তেজষ্ক্রিয়ায় এই মানুষদের এমন অবস্থা।

১৯৭৫ এর কোন এক সময় আকাশবাণী কোলকাতা বেতার থেকে আসিমভের রচনা অনুবাদ করে এই নাটকটি প্রচারিত হয়েছিল। সেই ল্যাবের লোকগুলি দেখতে চাইছিল, বিশ্ব অতি মাত্রায় উষ্ণ হয়ে উঠলে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে, লাগাতার আণবিক বোমা বিস্ফোরিত হলে, সারা পৃথিবী কার্বনে ছেয়ে গেলে তখনকার মানুষের কি দশা হবে, কি ভাবে তারা বাঁচবে? ২০২৬ সালে ল্যাবের সেই বিজ্ঞানীরা যে মানুষদের দেখেছিলেন সেই একই রকম মানুষ আমরা দেখি “টোটাল রিকল” মুভিতে। সম্পূর্ণ ব্যাপারটি কল্পনা হলেও সেই কল্পনা এতটাই বাস্তব যে আমরা ইতিমধ্যেই সেই নির্মম বাস্তবতা দেখতে পাচ্ছি।

মাত্র বিশ-পঁচিশ বছর আগেও রংপুর-দিনাজপুরে ক্ষেতের পাশে চার-পাঁচ ফুট মাটি খুঁড়লেই পানি উঠে আসত। বাঁশকল দিয়ে সেই পানি তুলে যশোয়া, কলম, কাটারিভোগ ধান উৎপাদন হতো। রংপুরের বালিপূর্ণ জমিতেও চার-পাঁচ ফুট মাটি খুঁড়ে পানি তুলে তামাকের ক্ষেতে সেচ দেওয়া হতো। এখন হয়না। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ওখানেও নেমে গেছে প্রায় সত্তর-আশি ফুট। ঢাকায় তো পাঁচ’শ হাজার ফুট খুঁড়েও শ্যালোর সাধ্য নেই যে পানি তোলে! এটা কেবল ডিপ টিউবঅয়েল দিয়ে পানি তোলার কারণে ঘটেনি। বছরের পর বছর বৃষ্টিপাত কমার কারণে এই দশা।

মাটির তলায় পানি কমে যাওয়ায় যে সকল গাছ অনেক গভীরে শেকড় দিয়ে রস টানতে পারেনা তারা মারা যাচ্ছে। লতাগুল্ম টিকে আছে কেবল নদী বা বিলের ধারে ধারে । পানির অভাবে দেশী ফুল-ফলের গাছ টিকতে পারছেনা, টিকে থাকছে একাশিয়া টাইপ গাছগুলো। নদী-বিল-হাওড়-জলাভূমির পানি কমে যাওয়ায় মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা শেষ হয়ে যাচ্ছে। কৃত্তিম ভাবে উর্বরতা বাড়ানোর জন্য ব্যাপকহারে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হচ্ছে। সেই রাসায়নিক সার আর কীটনাশকের মরণ ছোবলে জলজপ্রাণী, জলজ উদ্ভিদ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন আর আমাদের দেশে কোথাও বিনা সার-কীটনাশকে ফসল উৎপাদন হচ্ছেনা।

উন্নত বিশ্বে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের ফলে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণ হওয়ার ফলে জমাট বরফ গলে সমুদ্রে পড়ে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। যে পরিমান পানি নদীতে থাকার কথা তা না থাকায় আর সমুদ্র ফুলে ওঠায় সেই নোনা পানি নদী বেয়ে উঠে এসে মিঠা পানির উৎস ধ্বংস করে দিচ্ছে। নোনা পানি আসার ফলে মিঠা পানির সকল জলজ উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নোনা পলি জমে নদী তার স্বাভাবিক নব্যতা হারাচ্ছে। কিছুদিন আগের বহমান নদী জমাট হয়ে শুকনো খটখটে বেলেভূমি হয়ে যাচ্ছে, তাতে না হচ্ছে ফসল, না হচ্ছে কোন গাছগাছালি।

কিছুদিন আগেও মনে করা হতো এসব প্রাকৃতিক নিয়মের কারণেই হচ্ছে। আবার হয়ত সব ঠিক হয়ে যাবে। এখন আর তেম মনে করা যাচ্ছেনা। এখন আমরা জেনে গেছি কোথাকার কোন সভ্যতার বাগাড়ম্বরে, উন্নয়নের স্বেচ্ছাচারিতায় এসব ঘটছে। গত বিশ-পঁচিশ বছর ধরে এ নিয়ে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছিলেন। উন্নত বিশ্ব গা-করেনি। কারণ তারা বাজার অর্থনীতির মূল সূত্রে একচেটিয়া মুনাফা তোলার জন্য বর্তমানকে নির্মম ভাবে হত্যা করতে পারে, করেছেও। ইয়োরোপ-আমেরিকায় প্রতিবছর যে পরিমান কার্বন নিঃসরণ ঘটানো হয় তার ০.৫ ভাগও আমাদের মত অনুন্নত দেশ ঘটাতে পারেনা। আমাদের এখানে এখনো আমরা প্রথাগত প্রাচীন জৈব পদ্ধতি আস্থা রাখতে পারি। তাদের শেখানো প্রযুক্তি আমদানী করেও কিছু পরিমানে সনাতন দেশী পদ্ধতি প্রয়োগ করে চলেছি। সুতরাং আজ আমরা যে ভয়াবহ অস্তিত্বের সংকটে পড়েছি তার দায় আমাদের নয়, উন্নত বিশ্বের। তারা কি এটা অস্বীকার করছে? না, তা করছেনা, বরং এ নিয়ে তারা আমাদের মত দেশগুলোকে এক ধরণের দয়া দাক্ষিণ্য দেখাতে চাইছে। আমরাও সেই দয়া আর অনুকম্পার মূল্যমান বের করে কাঙ্গালের মত হাত পেতে অনুদানের লোভে প্রটেকশন মেজারের কথা ভুলে বসে আছি।

কি কি ভাবে গ্লোবাল ওয়ামিং ডিজাস্টার ঘটাচেছ?

তাৎক্ষণিক ডিজাস্টার ঘটছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে, ভয়ংকর ঘুর্ণিঝড়, হারিকেন, সাইক্লোন, সুনামি, হঠাৎ ভূমিধ্বস, কোথাও বা ভূপৃষ্ঠ অস্বাভাবিক আচরণ করছে। তার পরও এই অতিরিক্ত উষ্ণতা জীববৈচিত্রেও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। উপকুলীয় জনবসতির জীবন ধারা বদলে দিচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রের পানি এসে বিলে জমে যে ভয়বহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে তার জ্বলন্ত উদাহরণ ভবদহ বিলের জলাবদ্ধতা। ওই অঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরে এক ছটাক ফসলও ফলছে না। শুকনো পথ ঘাট সারা বছর পানির তলায় চলে গেছে। খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, নোয়াখালী, হাতিয়া, সন্দীপ সহ উপকূলের বিস্তির্ণ এলাকাজুড়ে মানুষের জীবন বৈচিত্র আমূল বদলে গেছে। একের পর এক সিডোর, আইলা, হারিকেনের আঘাতে উপকূলের মানুষের বেঁচে থাকার স্বাভাবিকতাই হুমকির মুখে।

প্রকৃতিতে আগে কিভাবে সমন্বয় হতোঃ

বিশ্বকে উষ্ণ করার প্রাকৃতিক মাধ্যম সূর্য। সূর্য তার স্বাভাবিক তাপ বিকিরণে কখনো বিশ্বকে উষ্ণ করে কখনো শীতল করে। এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যত দিন বাধাগ্রস্থ হয়নি ততদিন সূর্য আপন সাইকেলে কাজটি করে গেছে, এবং তা জীবের জন্য কখনোই ক্ষতিকর হয়নি। কিন্তু মনুষ্যসৃষ্ট তাপ বিকিরণ সূর্যের সেই সাইকেলকেও নষ্ট করে দিয়েছে। নথ বা সাউথ পোলের জমাট বরফ যতটুকু শীতল থাকলে গলে পড়বে না ততটুকু শীতলই থাকত। এখন আর থাকছে না। সূর্যের স্বাভাবিক তাপের সাথে যোগ হয়েছে মানুষের বানানো উত্তাপ। ফলে শীতল মেরুও গলে পড়ে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অ্যানথ্রোপজনিক ফ্যাক্টরঃ

ক্লাইমেট চেঞ্জ বিশ্বের এক বিশাল এলাকাকে ডিফ্রস্ট করে দিচ্ছে তার ফলে ভীতিকর রকম পরিবর্তন ঘটছে বিশ্বের পানি এবং রেডিয়েশনে। ভূমি দুষিতকরণ, আনআরবান ইন্ডস্ট্রিয়ালাইজেশন এবং জীবাষ্ম জ্বালানীর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার ফলে কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ ক্রমাগত বিশ্বকে গ্যাসচেম্বার করে দিচ্ছে।আরও দেখুন এখানে

এই ভয়ংকর ধ্বংস যজ্ঞের বিবরণ দিতে গেলে শেষ হবে না। আমরা যে বিপদ সম্পর্কে খুব কাছে থেকে অনুভব করছি তার বাইরেও আরো ভয়ানক বিপদ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। কি ভাবে গ্রীনহাউস ইফেক্ট হচ্ছে, কি ভাবে ওজনস্তর ফুটো হয়ে সূর্যের অতি বেগুণিরষ্মি আমাদের ক্ষতি করছে, চিকিৎসকরা কি কি ধরণের নতুন নতুন রোগবালাই আর উপসর্গের বিবরণ দিচ্ছেন, কার্বন নিঃসরণের ফলে স্বল্প মেয়াদি কি কি ক্ষতি আর দীর্ঘ মেয়াদি কি কি ক্ষতি তা নিয়ে এখন আর কারো সন্দেহ নেই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই বিপদে আমাদের প্রাকৃতিক ভাবে কি করণীয় আর রাষ্ট্রীয় ভাবেই বা কি করার আছে?

উষ্ণায়নের আগে এবং পরের রেখ চিত্র।

বিকল্প সম্ভবনাঃ
কথা উঠেছে আর কিছুদিন পরে বিশ্ব থেকে জীবাষ্ম জ্বালানী এমনিতেই উঠে যাবে, অর্থাৎ নিঃশেষ হয়ে যাবে, তখন নাকি আর কার্বন নিঃসরণের ব্যাপারই থাকবেনা! এই বিষয়টি মাথায় রেখেই বলা যায়- বিশ্ব এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে সেখান থেকে সে কিছুতেই প্রাকৃতিক সেই আদিম জমানায় ফিরতে পারে কি-না? এর সহজ উত্তর হচ্ছে, না, পারেনা। লুটেরা পুঁজির ধর্ম, বাজার অর্থনীতির চরিত্র, পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের মুনাফা দখলিকরণ, একচেটিয়া পুঁজির শোষণ, বিশ্ব মোগড়লগিরির উদগ্র বাসনা, বিজ্ঞানের নিত্য নতুন এক্সপেরিমেন্ট, ভয়ংকর সব মারনাস্ত্র বানানো, বিক্রি করা, ব্যবহার করা, আর সেই সব ব্যাহার করে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার কারণেই উন্নত বিশ্ব আর আগের অবস্থানে ফিরতে পারেনা। অর্থাৎ চাইলেই আমেরিকা-ইউরোপ আর প্রাক শিল্প বিপ্লব যুগে ফিরতে পারেনা। তাহলে তারা কি করবে? হ্যাঁ, এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বটে। তারা জীবাষ্ম জ্বালানী বাদ দিয়ে ব্যাটারি, সোলার, নিউক্লিয়ার পাওয়ার এ্যাপ্লাই করবে, প্রয়োজনে কার্বনের নিঃসরণ ঘটলেও তা যেন তাদের ক্ষতি করতে না পারে সেই ব্যবস্থাও তারা নেবে। ইতিমধ্যে তা নিচ্ছেও। তারা যদি গ্লোবাল ওয়ামিং কে এড়িয়ে বাঁচার পদ্ধতি আবিষ্কার করতে পারে(করবেও) তাহলে তো আর কার্বনের নিঃসরণ নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা থাকার কথা নয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের কি হবে? আমাদের এই ডিজাস্টার মোকাবেলা করে বাঁচার টেকনোলজি কোথায়? আমরা কি কি ব্যবস্থা নিয়েছি বা নিচ্ছি? বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ১০ বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করে ফেলেছে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সরকার এ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে ৬ টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যে ব্যবস্থা নিয়েছে তার মূলে খাদ্য নিরাপত্তা। অর্থাৎ কেবল মাত্র খাদ্য নিরাপত্তাই আমাদের সরকারের ধারণায় ক্লাইমেট চেঞ্জ এর বিরুদ্ধে একমাত্র প্রতিশেধক! কি আশ্চর্য! দেখুন আমাদের সরকারের অ্যাকশন প্ল্যান!

আমরা দেখলাম উন্নত বিশ্ব বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে নিরন্তর গবেষণা করে এমন কিছু পদ্ধতি এবং পথ বের করছে যা দিয়ে তারা আগামীতে এই ডিজাস্টার মোকাবেলা করতে সক্ষম। হয়ত করবেও। এই ক্ষেত্রে আমাদের কোন রকম প্রস্তুতিই নেই। আমাদের ৫৫ হাজার বর্গমাইলের এই ভূখন্ডের আনুমানিক ৬৭ শতাংশ চাষ যোগ্য। এই চাষযোগ্য জমির পরিমান গত ৪০ বছরে মারাত্মক ভাবে কমছে। ফসলি জমিতে বসতবাড়ি বানিয়ে বিশাল জনসংখ্যার থাকার ব্যবস্থা হচ্ছে। প্রতিবছর একটু একটু করে কমে যাচ্ছে ফসলী জমির পরিমান। এর পর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যেতে থাকলে সেই অঞ্চলের মানুষকে জায়গা দেওয়ার জন্য আরো ফসলী জমি কমে যাবে। তখন সেই বিশাল সংখ্যক মানুষকে অল্প পরিমানের জমির ফসলে খাদ্য নিরাপত্তা কে দেবে? আমাদের বিস্তির্ণ উপকুলের ফসল শেষ তো হবেই সেই অঞ্চলের মানুষ থাকবে কোথায়? নদীগুলোর যে ধারণক্ষমতা তাতে আর এক থেকে দুই ফুট পানি বাড়লে এই ঢাকাও সেই “ওয়াটার ওয়ার্ল্ড” হয়ে যাবে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার দেশওয়ারি পরিসংখ্যান।

এইমুহূর্তে আমাদের করণীয় কি?

এখন আমাদের ব্রত হওয়া উচিৎ টাকা নয়, “তোমাদের এই মরণ খেলা বন্ধ কর” এই শ্লোগান তোলা। আমরা আমাদের প্রাকৃতিক বৈচিত্র নিজেরা যে ভাবে যতটুকু ধ্বংস করছি বা করেছি তার রিকভার হবে না হয়ত, কিন্তু উন্নত বিশ্বের ওয়ামিংয়ের কুফল আমরা কেন ঘাড় পেতে মেনে নেব? এই একটিই প্রশ্ন আমাদের বাঁচা-মরার মাঝে স্থির হয়ে আছে। আমরা কোনটি করব? বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করে বিশ্বজনমত প্রভাবিত করব, নাকি আমাদের যেটুকু শিল্পায়ন তা বন্ধ করে সেই পঞ্চশের দশকে ফিরে যাব?

আমরা কি এইরকম ভবিষ্যৎ কল্পনা করি?

আমরা আমার জমিনে পারমাবিক রিঅ্যাক্টর বসাইনি। আমাদের হাজার হাজার শিল্প কারখানা মাত্রতিরিক্ত বায়ূদুষণ করছেনা। আমাদের কার্বন নিঃসরণের পরিমান আমেরিকার একটি স্টেটের চেয়েও অনেক কম। আমাদের কোন পারমানবিক বর্জ্য নেই। আমাদের লাখ লাখ গাড়ি অনবরত কার্বন ডাই অক্সাইড ছড়িয়ে দিচ্ছেনা। আমাদের কোন জাহাজ নিউট্রন বর্জ্য ছড়াচ্ছেনা। আমাদের উষ্ণকরণে হিমালয় থেকে জমাট বরফ গলে যাচ্ছেনা। আমাদের প্রকৃতি যেটুকু ক্ষতি করে চলেছে তা তাদেরই গছিয়ে দেওয়া তথাকথিত শিল্পায়নের নামে, টেকনোলজির নামে বাজারিকরণ। আর তাই যদি হয় তাহলে আমরা কেন শুধুমাত্র ৭০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গ্যাসচেম্বারে রেখে যাব?

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গ্লোবাল ওয়ার্মিংবিশ্বায়নবৈশ্বিক উষ্ণতাক্লাইমেট ডিজাস্টারপ্রকৃতির প্রতিশোথ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রবন্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:২১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

২৯৮০ বার পঠিত৬৫৯৬৫৩

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

৯৬টি মন্তব্য

১-৪৮

১. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৪০

আবুল হাসনাত সুজন বলেছেন: সুন্দর

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩০০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ।

কিন্তু কি সুন্দর তা তো বললেন না! এই অনিশ্চয়তা আর ভয়াবহ বিপর্যয়ই কি সুন্দর?

মেলাতে পারছি না ভাই।

২. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৬০

কালপুরুষ বলেছেন: ভাল পোস্ট। প্রিয়তে নিলাম।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩২০

লেখক বলেছেন:

তার চেয়েও জরুরী আপনার পরামর্শ।

আমরা এখন কি ভাবে এগুতে পারি?

আপনার আরও কিছু জানানোর আছে বলে ভাবছি। সময় করে বলে যাবেন দাদা। কাজে দেবে।

৩. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৬০

এরশাদ বাদশা বলেছেন: চমৎকার তথ্য-উপাত্ত সহ অসাধারন একটি পোস্ট। নিজের ঘিলুতে যোগ করার মতো কিছু নেই বলে শুধুই গোগ্রাসে গিললাম।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৪০

লেখক বলেছেন:

বলেন কি? এ বিষয়ে আমাদের যার যেটুকু সামর্থ আছে তাই দিয়ে অন্তত উন্নত বিশ্বকে একটা ম্যাসেজ দেওয়া দরকার যে আমরা এটা মানছি না। তোমাদের এই ধ্বংসযজ্ঞ আমাদের নিয়তি মোটেই নয়। এর জন্য তোমাদের আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।

যে কোন প্রান্ত থেকে ম্যাসেজগুলো যেতে থাকুক। জোরদার হোক ক্যাম্পেইন।

৪. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৮০

আলিম আল রাজি বলেছেন: Sundor

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩২০

লেখক বলেছেন:

ঠিক ঠিক!

৫. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫২০

তায়েফ আহমাদ বলেছেন: সত্যিই বলছি, ভয়ে আমার হাত পা………।

আমাদের নেক্সট জেনারেশনের তো দাঁড়াবার জায়গাও থাকবে না!

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩৪০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ তায়েফ আহমাদ।

নেক্সট জেনারেশন নিয়ে আরো পরে বড় করে একটা মন্তব্য করব। সময় করে দেখে গেলে খুশি হবো। সেই সাথে আপনার মূল্যবান আলোচনাই চাই।

৬. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৬০

বলেছেন:

জলবায়ু নিয়ে বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর বাণিজ্যও চোখে পড়ার মতো।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৬০

লেখক বলেছেন:

সেটা আর এক চ্যাপ্টার। সেই জলবায়ূবাণিজ্য চটকদার ফ্রেমে সারা দেশজুড়ে বিস্তৃত। কিছুই যায় আসে না ওদের। বিজনেসটাই আসল কথা। ওই অধ্যায় পরের বার।

৭. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১৫০

মনে রেখ বলেছেন: ভালো লিখেছেন। ধন্যবাদ এমন তথ্য দেবার জন্য।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫০০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।

৮. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২০০

বিডি আইডল বলেছেন: এই বিষয়ে আমার ব্যাক্তিগত কিছু পড়াশোনা আর আগ্রহ আছে…হাতে সময় নেই…পরে কমেন্টাবো

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৮০

লেখক বলেছেন:

সময় করে আসবেন বিডি। এই বিষয়ে আমিও খুব কম জানি। জোড়াতালি দিয়ে লিখলাম। এখন আপনাদের মতামত পেলে এই লেখাটি সয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে।

আমার একটা অনুরোধঃ আমরা এই ক্লাইমেট চেঞ্জ এর বিপদ মাথায় রেখে আর কি কি করতে পারি ? আপনার মতামত চাইছি।

৯. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৪০

মেজো ছেলে বলেছেন:

ভয় হচ্ছে।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৩৭০

লেখক বলেছেন:

ভয় পাওয়া ভাল। ভয় পেলে সতর্ক হওয়ার শর্ত পুরণ হয়।

১০. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩২০

এখন ও বৃষ্টি ভালবাসি বলেছেন: ভয়ই লাগে

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৩৮০

লেখক বলেছেন:

যতটুকু ভয়ের বিবরণ দেওয়া হয়েছে আসল ভয় তার চেয়ে অনেক বেশী!

১১. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০১০

বলেছেন: গোটা উপকুল এলাকায় বাধ দিলে কাজ হবে ? সম্ভব কি অসম্ভব জানি না তবে এছাড়া আর কি সমাধান হতে পারে ? নেদারল্যান্ডে যদি সম্ভব হয় … এখানে কেন না ।

দ্বিতীয়ত সৌরশক্তি । শতভাগ সৌরশক্তি নির্ভর হতে হবে । আজ হোক কাল হোক । যত আগে তত ভালো । সারা বিশ্বের জন্যই ভালো ।

তৃতীয়ত শহরের পানির লেভেল নিয়ে যেটা বললেন … হার্ড সারফেস … রাস্তা, পেভমেন্ট, ফুটপাথ ইত্যাদি অনেক কমাতে হবে । বৃষ্টির পানি সব স্যয়ারেজ দিয়ে সরাওসরি নদী’খালে পরে … নিচে মাটিতে যেতে পারেনা । হার্ড সারফেসই এজন্য দায়ী ।

আরো আলোচনা হোক … তারপর অংশ নেব ।

এরকম পোস্টের জন্য সাধুবাদ মনজু ভাই …

অটঃ সরকার দেখলাম জাহাজ শিল্প নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেছে .. লোকেশন চেঞ্জ নীতিমালা তৈরি ইত্যাদি … জানিনা কতদুর কি হবে … তারপরও নিখাদ অন্ধকারে এক রশ্মি আলো। আপনাকে, আপনাদের’কে আবারো সাধুবাদ ।

১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০৬০

লেখক বলেছেন:

জরুরী কিছু প্রশ্ন তুলেছ মনির। একজন আর্কিটেকচারাল মাইন্ড থেকে এমনই সমাধানমূলক মন্তব্য পেয়ে ভাল লাগছে। এবার তোমার কথায় আসি……….

উপকুলে বাঁধ কোন সমাধান নয়। আশির দশকে ইউরোপ থেকে কোটি কোটি টাকা এসেছিল “ভেড়িবাঁধ” প্রকল্পের নামে। রাতারাতি নদীর পাড় ঘেসে উঁচু বাঁধ দিয়ে বন্যা ঠেকানোর নামে ভাওতাবাজি করা হয়েছিল। ধান্দাবাজ কিছু মানুষ বাঁধের গমন পথ টের পেয়ে এক রাতের মধ্যে পাকা টয়লেট বানিয়ে সেটা ভেঙ্গে ফেলার আওতায় নিয়ে হাজার হাজার টাকা কামিয়ে নেয়। লাভের মধ্যে নিট লাভ একটুই।

এই বাঁধের ফলে বর্ষায় বিলে জমা পানি টানের সময় খাল-নদী দিয়ে বেরুতে না পেরে বিলেই থেকে যায়। কৃষকরা পানি টেনে যাওয়াকে বলে “জমি ওঠা” অর্থাৎ পানি টেনে যাবার সাথে সাথে বিনা চাষে অথবা সামান্য চাষে রোপা ধান লাগানো যায়। ওই বাঁধের পর আর তা হয়নি। বিলের প্রান্তে হলেও বিলে মাঝখানে চিরস্থায়ী জলাবদ্ধতা ঘটে গেছে। পরে কোথাও কোথাও এমন হয়েছে যে পাম্প দিয়ে বিলের পানি বের করতে হয়েছে। সেই কাজ করার ফান্ড কে দেবে? ফলে দু’একটা করার পর আর হয়নি। এবং আজও সেই সব বিলে কোন ধান ফলে না।

এমনিতেই আমাদের ল্যান্ড স্ট্রাকচার এলোমেলো। অপরিকল্পিত ভাবে বাঁধ দেওয়া, আবার কোথাও কোথাও বাঁধ কাটা। যে কারণে পানির স্বাভাবিক ধর্ম নীচের দিকে প্রবাহিত হওয়াও বাধাগ্রস্থ হয়েছে, হবে।

উপকুল দিয়ে কতগুলো নদী-খাল বঙ্গপোসাগরে পড়েছে মনে রাখতে হবে। সেই সব খাল-নদীতে বাঁধ দেওয়া যাবে না। ড্যাম করার জন্য দেশের বাজেটের পাঁচগুণ টাকা লাগবে। আর সেই সব নদী-খালে এখনই স্রোত নেই! ড্যাম করার পর এমনিতেই মরে যাবে। সুতরাং বাঁধ বা ড্যাম সমাধান দিচ্ছেনা।

এবার হার্ড সারফেস। আনুমানিক ৬০ বর্গ কিলোমিটারের ঢাকা বা সব শহর মিলে যে বর্গ কিলোমিটার হয় তার বাইরেও তো বৃষ্টি পড়ে, এবং তা আন্ডার সারফেসে যেতে পারে। আসলে যে পরিমান পানি সারা বছর শুষে তুলে নেওয়া হয় তার সিকি ভাগও বৃষ্টির পানি পড়েনা। কেন পড়েনা? সেটাই আলোচ্যঃ

সমুদ্র থেকে আগের নিয়মেই বাষ্পিয়ভবন হচ্ছে। আগের মতই বাষ্প উঠে আসছে, মেঘও হচ্ছে, কিন্তু সেই মেঘকে টেনে বৃষ্টিতে পরিনত করার জন্য এ্যাটমোস্ফিয়ার যতটুকু ঠান্ডা থাকা দরকার তা নেই, বরং গড় টেম্পারেচার বেড়ে সেই মেঘ, বাষ্পকে উড়িয়ে দিচ্ছে। খেয়াল করা দরকার ঢাকার আশেপাশে যে পরিমান বৃষ্টি হয় তার ষাঁট ভাগও হয়না ঢাকায়!

ইউরোপ,আমেরিকা, এমনকি চীন-জাপানও কৃত্তিমভাবে নাইট্রোজেন স্প্রে করে মেঘ থেকে বৃষ্টি নামাচ্ছে। কেন? যে টাকায় বৃষ্টি নামাচ্ছে তার চেয়ে কম টাকাতেই তারা পানি কিনতে পারে! যেহেতু সেই পানি ইচ্ছে করলেই মাটিতে পুতে দেওয়া যাবেনা তাই মেঘ থেকে বৃষ্টিই চাই।

চেরাপুঞ্জির মত জায়গাতেও এখন আর সারা বছর বৃষ্টি হচ্ছেনা! ভারতের রাজস্থানের কিছু অঞ্চলে গত ৪০ বছরের মধ্যে এক ফোঁটা বৃষ্টি পড়েনি! সেখানে হাজার হাজার গ্যালন পানি ঢেলেও মরুবিস্তার ঠেকানো যায়নি। যায়না।

গত মাসে একটা বাস্তব উদাহরণ দেখে এলাম। গড়াই নদী যেখানে মধুমতি নাম নিয়ে গোপালগঞ্জের দিকে বাঁক নিয়েছে সেই জায়গাটা সমুদ্র তীর থেকে ১ শ ৩০ মাইল! এই এতদূর পর্যন্ত নোনা পানি উঠে এসেছে। এই অঞ্চলে এখন ধানের বদলে দেদারছে চিংড়ি চাষ হচ্ছে! নারিকেল-সুপারী ছাড়া নতুন কোন গাছ হচ্ছেনা। পুরোনো আম-কাঁঠাল বাড়ছে না!

এ বিষয়ে আরো কিছু বলার আশা রাখি…………………

১২. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:০৫০

নাজমুল হক রাসেল বলেছেন: ধন্যবাদ। কিন্তু সরকারের ক্লাইমেট চেঞ্জ একাশন প্লান নিয়ে সমালোচনার তেমন কিছু নেই। ওখানে যে ৬ টি পদক্ষেপ এর কথা বলা হয়েছে তার সাথে দ্বিমতের কোন কারন নেই, এবং অবশ্যই খাদ্য নিরাপত্তা ই সবচেয়ে ঝুকিপুর্ন সেক্টর। ওই সেক্টর গুলোর জন্য এখন দরকার আলাদা দুরদর্শি প্লান এবং টাকা। বাংলাদেশ সরকার নিজের তহবিল থেকে টাকা বরাদ্দ করেছে [নেপাল, মালদিপ চমক দেখাতে পারে পাহারের গোরায় মিটিং করে, সমুদ্রের তলায় মিটিং করে কিন্তু বাংলাদেশ ই প্রথম দেশ যে জাতীয় তহবিল থেকে বরাদ্দ রেখেছে] কিন্তু বাকি টাকা কোথা থেকে আসবে? গ্লোবাল চেঞ্জ শুধু বাংলাদেশের ব্যপার না, তাই এটা ঠেকানোর জন্য একসাথে কাজ করার কোন বকল্প নেই। আর অভিযোজনের টাকা কিভাবে ম্যানেজ হবে সেটা নির্ভর করছে আপনার কুটনৈতিক দক্ষতা কতটুকু, জাতীয় ভাবে ইস্যু টাকে কিভাবে দেখছেন, জনগন কভাবে দেখছে তার উপরে।

আর দ্বীতিয় ব্যাপার, প্রকৃতি কখনোও বাড়াবাড়ি সহ্য করেনা। যদি কেউ তার জন্য কিছু না করে সে নিজেই জানে কিভাবে ম্যানেজ করতে হয়। সেক্ষেত্রেও অবশ্য বাংলাদেশের মত দেশগুলো সবচেয়ে বেশী খতিগ্রস্ত হবে। কারন দুর্বলের শক সাম্লানোর ক্ষমতা কম। আর প্রকৃতির বিচার বরই ভয়াভহ হয়। দেখেন কি হয়।

১০ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০১০

লেখক বলেছেন:

আপনার আরো কিছু মন্তব্য আশা করেছিলাম। সময় করে আর একবার আসলে বাধিত হই। এই পোস্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যই হচ্ছে জনসচেতনতা বাড়ানো। শুধু আমার-আপনার বিষয় নয়, বিষয়টা সমগ্র দেশের স্বার্থের সাথে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িত।

ধন্যবাদ নাজমুল হক রাসেল।

১৩. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:০৬০

নাজমুল হক রাসেল বলেছেন: ধন্যবাদ। কিন্তু সরকারের ক্লাইমেট চেঞ্জ একাশন প্লান নিয়ে সমালোচনার তেমন কিছু নেই। ওখানে যে ৬ টি পদক্ষেপ এর কথা বলা হয়েছে তার সাথে দ্বিমতের কোন কারন নেই, এবং অবশ্যই খাদ্য নিরাপত্তা ই সবচেয়ে ঝুকিপুর্ন সেক্টর। ওই সেক্টর গুলোর জন্য এখন দরকার আলাদা দুরদর্শি প্লান এবং টাকা। বাংলাদেশ সরকার নিজের তহবিল থেকে টাকা বরাদ্দ করেছে [নেপাল, মালদিপ চমক দেখাতে পারে পাহারের গোরায় মিটিং করে, সমুদ্রের তলায় মিটিং করে কিন্তু বাংলাদেশ ই প্রথম দেশ যে জাতীয় তহবিল থেকে বরাদ্দ রেখেছে] কিন্তু বাকি টাকা কোথা থেকে আসবে? গ্লোবাল চেঞ্জ শুধু বাংলাদেশের ব্যপার না, তাই এটা ঠেকানোর জন্য একসাথে কাজ করার কোন বকল্প নেই। আর অভিযোজনের টাকা কিভাবে ম্যানেজ হবে সেটা নির্ভর করছে আপনার কুটনৈতিক দক্ষতা কতটুকু, জাতীয় ভাবে ইস্যু টাকে কিভাবে দেখছেন, জনগন কভাবে দেখছে তার উপরে।

আর দ্বীতিয় ব্যাপার, প্রকৃতি কখনোও বাড়াবাড়ি সহ্য করেনা। যদি কেউ তার জন্য কিছু না করে সে নিজেই জানে কিভাবে ম্যানেজ করতে হয়। সেক্ষেত্রেও অবশ্য বাংলাদেশের মত দেশগুলো সবচেয়ে বেশী খতিগ্রস্ত হবে। কারন দুর্বলের শক সাম্লানোর ক্ষমতা কম। আর প্রকৃতির বিচার বরই ভয়াভহ হয়। দেখেন কি হয়।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:২৯০

লেখক বলেছেন:

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

অবশ্যই খাদ্য নিরাপত্তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সেক্টর। সরকার খারাপ করেছে বলা হয়নি, বলা হয়েছে সরকারের একমাত্র প্রতিশেধক।

খাদ্য নিরাপত্তা কোন স্থায়ী সেক্টর নয়। এটা সাময়ীক। দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে সরকার যা করতে পারেঃ

১.পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীতে কোন প্রকার প্রতিবন্ধক না দিয়ে সরাসরি সাগরে নামতে দেওয়া। প্রতিবন্ধকতা থাকেলে তা দূর করা। তা ড্রেজিং করে হোক বা গতিপথ সোজা করে হোক।

২.সারা বছর যেটুকু বৃষ্টি হয় সেই পানি সংরক্ষণ করা। এ নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে পানি বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন। এটা খুব বিশাল বাজেটের কাজ নয়। খানিকটা অবকাঠামো বদলে দিলেই সেটা করা সম্ভব।

৩.অপচিত পানির পুর্নব্যবহার। রিসাইকেল করে ব্যবহার করা পানি পুনঃব্যহার করা যায়। এটাও মাথা ভারি প্রকল্প নয়অ ইউরোপের প্রায় সব দেশেই এটা করা হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। আমরা এখনো সুপেয় পানি দিয়ে গাড়ি ধুই, ভবন ভেজাই, গাছে দেই!

৪.এক্ষুণি গাড়িতে সিএনজি’র ব্যবহার বন্ধ করে গ্যাস রিজার্ভ করা। পাইপ লাইনে বসত বাড়িতে গ্যাস বন্ধ করা।

৫.চিংড়ি, ইউক্যালিপটাস, ইপিল-ইপিল এখনই বন্ধ করা।কুড়ি-পঁচিশ বছরের মাস্টার প্ল্যান নিয়ে উপকূলীয় বেষ্টনী গড়ে তোলা।

দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই বিষয়য়ে সরকার ঠিক এর উল্টোটাই করছে! সিজনে ধান-চালের রিজার্ভ কোন দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা হতে পারেনা।

১৪. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:১১০

অন্ধকার বলেছেন: চমত্কার…

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:১০০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ।

১৫. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৪৪০

নাজমুল হক রাসেল বলেছেন: ধন্যবাদ। খাদ্য নিরাপত্তা ই কিন্তু একমাত্র পিলার ন্য। এর সাথে আরো ৫ তি আছে যেমন দুর্যোগ প্রশমন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কোনোটাই কোন্টার থেকে আসলে কম গুরুত্ত্বপুর্ন না। কিন্তু কাউকে না কাউকে তো এক নং জায়গাটা দিতে হবে।

আর খাদ্য নিরাপত্তা স্তায়ী সেক্টর না বলতে কি বুঝাতে চেয়েছেন আমি আসলে বুজতে পারিনি। গ্লোবাল চেঞ্জ এর এই সময়ে আপনি যদি নেট ফুড ইম্পোর্টিং দেশ হিসাবে পরে থাকেন তাহলে তো সামান্য ঝড় বাদলেই আপনাকে বিদেশ থেকে কখন চাল ভর্তি প্লেন আসবে সেদিকে তাকিয়া থাকতে হবে। নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসাবে আপনি কখনই খাদ্য নিরাপত্তা এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ত্ব দিতেই হবে নইলে সবসময় ই আরেকটা বিপদের হুমকি নিয়ে থাকতে হবে। ২০০৭ এ সিডর এর সময়ে আমাদের নিয়ে খেল্টাই না দেখালো আমাদের বিদেশী বন্ধুরা।

দীর্ঘমেয়াদে সরকার আসলে অনেক কিছুই করতে পারে। তবে ভাটির দেশ হিসাবে নদীর নিয়মিত নাব্যতা বজায় রাখাটা খুব এ গুরুত্ত্বপুর্ন। তবে এটা শুদু ড্রেজিং দিয়ে হবেনা এর জন্য দরকার আপ্সট্রিম থেকে নিয়মিত পানির প্রবাহ। সেটার জন্য দিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক কার্যকরি পানিচুক্তির কোন বিকল্প নেই। সেই সাথে হিমালয়ের বরফ গলার কারনে গঙ্ঘা অববাহিকায় যে পরিমান পানির অতিরিক্ত প্রবাহ বাড়বে ২০৫০ এর মধ্য তার জন্য কোন ধরনের নাব্যতাই যথেস্ট বলে মনে হয়না যদি না আঞ্চলিক কোন ব্যাবস্থা না নেয়া হয়। মেকং বেসিনের ব্যাবস্থাপনা আমাদের জন্য একটি ভাল উদাহরন।

বৃস্টিপাত আসলে বনায়নের মাধ্যমে বাড়ানো যায়। আপনি দেখবেন খুলনা এবং সিলেটে বৃস্টপাতের পরিমানের বেশি। সেটা প্রচুর গাছপালার কারনেই। আমাদের যে পরিমান বৃষ্টি হয় তা ধরে রেখে অন্য কাযে ব্যবাহার কোনমতেই অর্থনৈতিক ভাবে এবং পরিবেশগত ভাবে সমর্থিত না। রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম এবং বৃস্টির পানি দিয়ে সুপেয় পানির অভাব পুরন করা ইত্যাদি কোন প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। পাশাপাশি আমাদের সেই টেকনোলজিও নেই।

আমাদের উপকুলিয় বেস্টনি আমরা নিজেরাই নস্ট করছি। বাংলাদেশের সাপেক্ষে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ এর মাত্রা ৭০-৮০ ভাগ এর মাধ্যমে কমিয়ে আনা যায়। যেকোন দুর্যোগে আমাদের দেশের মানুষের সচেতনতা আমাদের বিশাল অর্জন এবং এই সচেতনতাই দুর্জোগের মাত্রা অনেক কমিয়ে দেয়। এর সাথে একটু আইনী সহায়তা , ভৈত অবকাঠামোগত আর তথ্যগত সুবিধা নিশ্চিত হলে যেকোন ধরনের বিপর্যয়ে দেশ টিকে থাকবে। ভিয়েতনাম এক্ষেত্রে ভালো উদাহরন কারন তারা ম্যানগ্রোভ নস্ট করে ব্যপক দুর্যোগ সহ্য করেছে। আবার তার গড়ে তুলেছে। আমাদের আরেকটু ধাক্কা খেতে হবে এ ব্যপারে।

সরকারকে আসলে একতরফা এভাবে বলে লাভ নেই। পরিবেশগত দিক থেকে আমাদের বিগত ২/৩ টী সরকার অনেক বেশী সেন্সিটিভ আশেপাশের দেশের থেকে। আমাদের জাতিয় পর্যায়ের পলিসিগুলোতে পরিবেশ বিশয়টি অবধারীত ভাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, আইন ও আছে।

তবে আমরা এক পানি সিদ্ধ করে আর গাড়িতে সিএনজি দিয়ে যে পরিমান গ্যাস অপচয় করি এটা পারলে কাল থেকেই বন্ধ হওয়া দরকার।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪২০

লেখক বলেছেন:

অনেক ধন্যবাদ নাজমুল হক রাসেল।

আপনার এই মন্তব্যের সাথে কোন ভাবেই দ্বিমত নেই। এ বিষয়ে আজ আরও পরে বিস্তারিত আলোচনার ইচ্ছে আছে। আপাতত এটুকুই।

আপনার অংশগ্রহণে এই আলোচনা নিঃসন্দেহে সমৃদ্ধ হচ্ছে।

১৬. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:০২০

শ* বলেছেন: অটঃ সো বি ইট

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৩০

লেখক বলেছেন:

অ.ট. আজই হবে।

১৭. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:১৮০

করবি বলেছেন: যারা এই বিষয়ে পন্ডিত

এগিয়ে আসুন ভাবুন

কি করা যায়

আমরাত শুধু ভয় পেতে জানি…..!!

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৯০

লেখক বলেছেন:

আমার মনে হয়না এই বিষয়ে আলাদা ভাবে কেউ বিশেষ পান্ডিত্য অর্জন করেছে! আমি-আপনি সবাই এই বিষয়ে আমাদের মতামত, আমাদের আতংক, আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শেয়ার করতে পারি।

আপনার মতামত পেলে ভাল লাগত।

এখন আমাদের সামনে একটাই লক্ষ্যঃ এই বিষয়ে একটা প্রেসার গ্রুপ তৈরি করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে চাপ অব্যহত রাখা। সে কাজে আমি-আপনি সবাই সক্রিয় হতে পারি।

১৮. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:২৪০

অক্টোপাস বলেছেন: অসাধারন লিখেছেন। ধন্যবাদ।

যারা চালকের আসনে আছেন তাদের চোখে ‘টাকা-দেখার-চশমা’ ছাড়া আর অন্য কিছু নেই যে!

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০৯০

লেখক বলেছেন:

সেটাই। তারা মনে করেন টাকা হলেই সমুদ্র গর্জন ঠেকিয়ে দেওয়া যাবে! টাকা হলেই বৃষ্টিকে টেনে নামানো যাবে! টাকা হলেই বিক্ষোভরত জনতাকে চুপ করিয়ে দেওয়া যাবে!!!

১৯. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৫৯০

অলস ছেলে বলেছেন: +

গ্যাস চেম্বারে রেখে যাবো নিজের ইচ্ছায় না, জঙ্গলের আইনে বিশ্ব চলছে, তার নীতিতে।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১০০

লেখক বলেছেন:

তাইতো। কোন কিছুই আমাদের ইচ্ছাধীন নাই।

এই জঙ্গলের আইনকে যত ক্ষুদ্র শক্তি দিয়েই হোক না কেন আসুন একটা ধাক্কা মারি…

২০. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৩০০

মুনশিয়ানা বলেছেন: আর তাই যদি হয় তাহলে আমরা কেন শুধুমাত্র ৭০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গ্যাসচেম্বারে রেখে যাব?

প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা প্রাকৃতিক দুষন, টাকার অঙ্কে এর কি কোন ক্ষতিপুরন হয়? টাকা দিয়ে হয়তো কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়, কিন্ত আমার যদি পরিকল্পনাই না থাকে, তবে এই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কি ভাবে আমাকে রক্ষা করবে?

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫৪০

লেখক বলেছেন:

আমাদেরকে তো তেমনই বোঝানো হচ্ছে! বলা হয়েছিল কোপেনহেগেন থেকে কি নিয়ে ফিরব তার উপর নির্ভর করছে সম্মেলনের ভবিষ্যৎ! যেহেতু প্রস্তাবিত টাকা হাতে পাইনি সেহেতু সফলতা নেই।

আমাদের সরকার প্রধান বলেছিলেনঃ “এই বিপর্যয়ের জন্য আমরা দায়ী নই, সুতরাং আমাদের ক্ষতি মেটাতে এই অংকের টাকা প্রয়োজন”। তারাও আপাতত টাকা না দিলেও ভবিষ্যতে দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। অর্থাৎ এক অর্থে আমাদের ধারণা দেওয়া হচ্ছে আমরা ন্যাচারাল ক্লাইমেট ডিজাস্টারের ক্ষতিপুরণ পাচ্ছি !!!

২১. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৪৩০

বুমবুম বলেছেন: হুমমমম

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৩০০

লেখক বলেছেন:

বেশ।

২২. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১৪০

শ*  বলেছেন: অন্য কেস

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১৮০

লেখক বলেছেন:

বুঝি নাই….

ফোন দেন।

২৩. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০৯০

এ আর খান বলেছেন: খুব কঠিন মনে হইতাছে…

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৮০

লেখক বলেছেন:

কি? লেখা, নাকি পরিস্থিতি? যদি একটু খুলে বলতেন….

আমরা চাইছি এই যে বললেন-“খুব কঠিন মনে হইতেছে” এটাকেই ক্যাম্পেইন হিসেবে ধরে নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে। আবার আপনাকে আহ্বান করছি। আসুন।

২৪. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৭০

পি মুন্সী বলেছেন: আমাদের মিঠা পানি প্রসঙ্গে:

মিঠা শব্দটা ব্যবহার করলাম: অর্থাৎ হিমালয়ের বরফ গলা সূত্রে যে পানি আমাদের ছোট বড় নদী নালা, মাটি, মাটির বহু নীচে শোষিত হওয়া ইত্যাদির পর সাগরে গিয়ে মিশেছে, আমাদের এই সম্পদ যে কী জিনিষ এটা সম্ভবত পানের অর্থাৎ সুপেয় পানির অভাব কোনদিন দেখা দেয় যদি তবে আমরা হয়ত টের পাব – এই মিঠা পানি কী জিনিষ এর মূল্য কী।

এত জিনিষ থাকতে আমরা কেন মাছভাতের বাঙালি হলাম? কারণ, এমনিতেই তো মাছ রান্নার বিভিন্ন পদ্ধতি ও কাঁটা বেছে বা নরম কাঁটাসহ চিবিয়ে তা খাওয়ায় আমাদের উপর দিয়ে দুনিয়ার আর কেউ যেতে পারে নাই; বিদেশের কোন হোটেলে একমাত্র বাংলাদেশি বাবুর্চি থাকলেই মাছ মেনুতে দেখা পাওয়া সম্ভব; কিন্তু এরচেয়েও বড় ব্যাপার হলো, মিঠা পানির সুস্বাদু মাছ; আমাদের এএলাকার বাইরে মাছ বলতে সামুদ্রিক মাছই বুঝা হয়; মিঠা পানি না থাকলে মিঠা পানির সুস্বাদু মাছের বালাই নাই, মাছ রান্নার বিভিন্ন তরিকা- ভাজা, চচ্চড়ি, দোপেয়াজা, ভুণা, ঝোল, রসারসা, বড়া, পোড়া, ভর্তা, ভাপানো, শুটকি ইত্যাদি আবিস্কারেও কোন কারণ নাই – নাই মাছেভাতের কোন সংস্কৃতি।

আজকের জমানায় সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো আমরা এখনও আমাদের শহরগুলোতে ৯০ ভাগের বেশি পানি সরবরাহ করছি মাটির নীচের পানি তুলে। অথচ সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট অর্থাৎ নদীর পানি শোধন করে আজকের দিনে যে কোন শহরে পানি সরবরাহ করা রেওয়াজে পরিণত হয়ে আছে; কারণ এটা সহজ, সব অর্থেই সাশ্রয়ী ও মানরক্ষা করা সম্ভব। বিভিন্ন দেশে প্রায় দেড় দুইশ কিলোমিটার দূরের নদী থেকে পানি বয়ে এনে তা শোধন পরিবেশনের খবরও আমরা জানি।

কিন্তু বাংলাদেশে এই জমিদারী ব্যবস্হা কারণ কী? কারণ, আমরা ইতোমধ্যেই আমাদের নদীগুলোকে এমন দূষণের পর্যয়ে নিয়ে গেছি এবং একাজে আমরা এত সিদ্ধহস্ত যে বুড়িগঙ্গা তো বহু আগেই বাদ শীতলক্ষ্যার পানিও শোধন যোগ্যতা হারিয়েছে।

এক্ষেত্রে দায়িত্ত্ববানদের ভাবটা এমন যেন চলছে তো, একটা বিপর্যয়ে সব কিছু ভেঙ্গে পড়ে স্তব্দ হবার আগে কিছু করার দরকার কি!

আপনার পানির স্তর বিপুল ভাবে নামার কথা পড়ে আমরা মনে হচ্ছে, একটা বিপর্যয়ের আহ্বান করে আমরা অপেক্ষা করছি।

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৬০

লেখক বলেছেন: 

পানির স্তর বিপুল ভাবে নামার কথা পড়ে আমরা মনে হচ্ছে, একটা বিপর্যয়ের আহ্বান করে আমরা অপেক্ষা করছি।

এটা স্রেফ আত্মহত্যা। আর তা সেই নীতি নির্ধারক নন কেবল, তামাম জনমানুষকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা। আমরা জানি আত্মহত্যা স্বপ্রণোদিত, কিন্তু এখানে তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে! একটা জাতি তার দেশের তাবত মানুষ নিয়ে কত ভাবে আত্মহত্যায় ঝাঁপ দিতে পারে তার উৎকৃষ্ট নমূনা এই বাংলাদেশ। এখনো এখানে ওয়াসার ফিল্টার্ড পানি দিয়ে গাড়ি ধোয়া হয়, বাগানে ফুলে চাষ হয়!

ভাবুন একবার এই শহরে টানা পাঁচ দিন কোন কারণে গ্যাস থাকল না! কী ঘটতে পারে?

ভারত পাইপ লাইনে গ্যাস নেওয়ার জন্য বছরের পর বছর দেন-দরবার করছে, মায়ানমার থেকে নেওয়ার জন্য করিডোর চাইছে। আর আমরা পাইপ লাইনের গ্যাস দিয়ে পানি গরম করছি, বাচ্চাদের কাঁথা শুকোচ্ছি, শীতের ঘর গরম করতে চূলা জ্বালয়ে রাখছি!

একে পরিবেশ বিপর্যয়, উষ্ণায়ন, কার্বন নিঃসরণ, তার উপর যেটুকু প্রাকৃতিক সম্পদ ভাগ্যগুণে পেয়েছি তার চূড়ান্ত অপব্যবহার! খুব বেশী দেরী নেই। আর বছর দশেক পরই এই বাঙালিকে একবেলা রেধে তিন বেলা খেতে হবে! লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে কেরোসিন কিনতে হবে! বাড়ি বাড়ি হিটার বন্ধ করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কমান্ডো কায়দায় হানা দেবে!

তখন মানুষ গালি দেওয়ার জন্য এদের খুঁজেও পাবেনা, কারণ ততদিনে এরা ফ্রেমে বাঁধাই হয়ে দেওয়ালে লটকে গেছেন।

২৫. ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫১০

মেটালিফেরাস বলেছেন: অভিনন্দন নিন কমরেড। ব্যস্ততায় ব্লগে আসতে পারি নাই। আপনার স্মৃতিকথায় একটার পরে আর কমেন্টও করতে পারি নাই।

আপনার এই লেখাটা সময়োপযোগী। বিশ্লেষণও ভাল লাগল। আমার একটি বিনীত প্রশ্ন ছিল : ধরুন আমাদের দেশের এই সব ক্যাম্পেইন আমরা নিয়মিত চালিয়ে গেলাম, পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে, ব্লগে, মেইলে সব খানেই প্রচার চালানো হল। কিন্তু যারা এই ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী তাদের কাছে সেই ক্যাম্পেইন কি ভাবে পৌঁছাবে? আর পৌঁছালেও তারা যদি গ্রাহ্য না করে তখন আমাদের পলিসি কি হবে?

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:০৮০

লেখক বলেছেন:

আপনার প্রশ্নটি দেখতে ছোট মনে হলেও এর বিস্তার অনেক। অনেক কিছু বলতে হবে। আজ আবার পুরোনো মাথা ব্যথাটা বেড়ে গেছে, তাই আজ আর পারছিনা, কাল বিস্তারিত লিখব।

ভাল থাকুন।

২৬. ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১৪০

নাজমুল আহমেদ বলেছেন: এককথায় ভয়ংকর অবস্থা….

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:২৬০

লেখক বলেছেন:

আমরা যতটা লিখছি বাস্তব অবস্থা আরো ভয়ংকর। আর বিপদের কথা হচ্ছে এ নিয়ে সারা দেশের মানুষ একেবারেই আলোচনার বাইরে। আমরা কেউই আসলে ঠিকভাবে জানিনা আমাদের বিপদ কি ভাবে ঘনিয়ে আসছে!

২৭. ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০৫০

দীপান্বিতা বলেছেন: আপনি কতো গভীরভাবে ভেবেছেন!…পড়তে পড়তে বেশ ভয়ই লাগে!……কি সমাধান এর! …উদ্ভিদই বোধহয় কিছুটা হলেও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে, তাই না!

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৭০

লেখক বলেছেন:

ঠিক বলেছেন। স্বল্প মেয়াদী এবং দীর্ঘ মেয়াদী দু’ভাবেই বৃক্ষই আমাদের রক্ষা করতে পারে। আর পারে প্রকৃতি ধ্বংসের মত আত্মহত্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারা।

এমন একটা জনগুরুত্বপূর্ণ পোস্টে আপনার উপস্থিতি দেখে আশাবাদী হই, আমরা এখনো শুধু নিজের কথা না ভেবে সবার কথা ভাবতে ভুলিনি!!

ধন্যবাদ দীপান্বিতা।

২৮. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১৬০

সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: মন দিয়ে পড়লাম। ভহাবহতা তো এখনও কিছু কিছু চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি। উপকূল অঞ্চলের সোনা ফলা জমি সব পানির নিচে। জানি না এর থেকে পরিত্রান পাব কি না? তবুও মানুষের আগ্রাসন কমে না। নিজেকে নিয়েই ব্যাস্ত। কাল যে তার নিজের তৈরী স্বর্গ নরকে পরিনত হবে তখন কি হবে এ চিন্তা সে করে না। ধন্যবাদ ভাল পোস্ট।

১০ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০৮০

লেখক বলেছেন:

পরের কিস্তিতে উপকূলের সেই সোনা ফলা জমির কথা লেখার ইচ্ছে আছে। নিজের চোখে দেখে এসে কেবলই মনে হচ্ছে কোথাও কি কেউ নেই যে আমাদের এই হন্তারকদের বোঝায় –তারা আত্মহত্যা করে চলেছে! কেউ কি নেই তাদের এই আত্মহনন ঠেকায়!!

২৯. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩২০

পল্লী বাউল বলেছেন: কিছু লোকের বর্তমান বিলাসিতার বিনিময়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক ভয়ংকর ভবিষ্যত।

১০ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩৯০

লেখক বলেছেন:

এমন আত্মহননকারী জাতি আর কোথাও খুঁজে পাবেন না!

নিজেরা নিজেদের ধ্বংস করার খেলায় আমরা বরাবরই ফার্স্ট!!

৩০. ১১ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০১০

বলেছেন: আমি আর কিছু বলার সাহস পাচ্ছি না ।

১১ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১৩০

লেখক বলেছেন:

তুমি যদি এই কথা বলো, তাহলে আমরা লে-ম্যান আর কি বলব?

৩১. ১১ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১৬০

নাজনীন১ বলেছেন: দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ আমি। ক্ষতিগ্রস্ত আমরাই সবার আগে হব, হচ্ছি, কোন সন্দেহ নাই। আমি নিজের যা জানা আছে তার থেকে বেশী জেনেছি এ পোস্ট থেকে। বেশীর ভাগ কথাই বলা হয়ে গেছে।

এর মাঝে আমি একটু অপচয় রোধের জন্য প্রিপেইড সিস্টেমের গ্যাস, বিদ্যুৎ এসবের কথা বলতে চাই। কার্বন শোষণের জন্য যেমন সবুজ বনানীর বিকল্প নেই, তেমনি যদি ওজোন স্তর মেরামতের আরো কোন ব্যবস্থা করা যেত বা আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি শোষণের কোন ব্যবস্থা……যদিও কল্পকাহিনীর মতো শোনাচ্ছে। এবং এ জাতীয় গবেষণা উন্নত বিশ্বের পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু করে দেয়া দরকার।

সুয়ারেজ লাইনের পানি নদীতে ফেলার আগেই প্রসেস করা দরকার যাতে দূষিত কিছু যেন নদীতে না পড়ে। কলকারখানার বর্জ্য যেন নদীতে না ফেলা হয়, অন্য কোন উপায় বের করা দরকার এ ব্যাপারে।

ধন্যবাদ, সচেতনতা তৈরী করার মতো পোস্ট। অবশ্য আপনার পোস্টগুলো বরাবরই এরকম।

১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০২০

লেখক বলেছেন: এর মাঝে আমি একটু অপচয় রোধের জন্য প্রিপেইড সিস্টেমের গ্যাস, বিদ্যুৎ এসবের কথা বলতে চাই। কার্বন শোষণের জন্য যেমন সবুজ বনানীর বিকল্প নেই, তেমনি যদি ওজোন স্তর মেরামতের আরো কোন ব্যবস্থা করা যেত বা আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি শোষণের কোন ব্যবস্থা……যদিও কল্পকাহিনীর মতো শোনাচ্ছে। এবং এ জাতীয় গবেষণা উন্নত বিশ্বের পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু করে দেয়া দরকার।

আপনার এই পরামর্শ মোটেই কল্পকাহিনীর মত শোনাচ্ছেনা। এটাই বাস্তবতা। এখনই যদি আমাদের এই ধরণের কৌশলগত ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে পরে সময় পাওয়া যাবেনা। বিপর্যয় এত দ্রুত আসবে যে সময়কে হার মানিয়ে আমরা বিপদের মুখোমুখি হয়ে যাব, এবং অসহায়ের মত খাবি খেতে থাকব।

অনেক ধন্যবাদ নাজনীন১।

৩২. ১১ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৭০

অপ্‌সরা বলেছেন: লাস্টের ছবিটা দেখে তো নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ভাইয়া!!!

১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১২০

লেখক বলেছেন:

আগামী কয়েক বছর পরে সত্যি সত্যিই দম বন্ধ হয়ে আসবে……।

৩৩. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩০০

ফ্লাইওভার বলেছেন: চমৎকার তথ্য-উপাত্ত সহ অসাধারন একটি পোস্ট।

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৬০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফ্লাইওভার।

৩৪. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:২৬০

কৌশিক বলেছেন: আপনার পোস্ট পড়ে তো ভয় লেগে গেলো বস। ২০১২ নামে একটা মুভি দেখলাম কয়দিন আগে। সেখানে দেখলাম পৃথিবীর একটা মহাবিপর্যয়ের সংবাদ লইয়া উন্নত বিশ্বের পলিটিক্স। তারা সংবাদটাকে গোপন কইরা নিজেদের বাচানোর জন্য পরিকল্পনা করেছে এবং নিজেদের বাছাইকৃত লোকদের বাচানোর জন্য বিশাল বিশাল জাহাজ বানিয়েছে।

আমাদের কি এমন ভবিষ্যতের দিকেই যেতে হবে?

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪২০

লেখক বলেছেন:

ইনফ্যাক্ট আমাদের ভবিষ্যৎ বলে কিছু নেই! আমরা বর্তমানে খেতে-পরতে পারছি এটাই আমাদের মত মানুষদের যেন পরম পাওয়া!

উন্নত বিশ্ব নিজেদের বাঁচানোর জন্য যা কিছুই করুক না কেন তাতে আমাদের লাভ নেই। আমাদের মনে হয় নূহ নবীর নৌকার প্রয়োজন হতে পারে। শুধু আওয়ামী লীগের নৌকায় কাজ হবেনা।

৩৫. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩২০

সব যদি আজ বদলে যেত বলেছেন: অনকে কিছু জানলাম। প্রকিতি তার নিজের মত করে এই প্ৃথিবীকে বাসযোগ্য করে রাখবে।

হয়ত এর জন্য অনেক ভয়াবহ বিপর্যয়ের প্রয়োজন।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০২০

লেখক বলেছেন:

ভাল বলেছেন তো!

একটা চরম বিপর্যয়ই আর একটা নতুন সৃষ্টি করতে পারে……।

৩৬. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:০৫০

শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: অসাধারণ লেখা মনজু ভাই। সহজ করে এর চেয়ে ভাল লেখা হয়তো সম্ভব না। প্রিয়তে নিলাম।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৫০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ মাসুম। কৃতজ্ঞতা জানাই….

৩৭. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১৮০

ফ্লাইওভার বলেছেন: এ বানদন যাবে না চিরে

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫০০

লেখক বলেছেন: খুব ভাল কথা।

৩৮. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২৮০

বিপ্লব কান্তি বলেছেন: আমাদের প্রধান সমস্যা হল জনসংখ্যা। জনসংখ্যার বাসস্হানের প্রয়োজন মেটাতে বাংলাদেশ শেষ হয়ে গেল । অবশিষ্ট কি আছে ?

আমার দেখা পাহাড়গুলো এখন বসতবাড়ি। হাজার হাজার গাছ চোখের সামনে কেটে ফেলা হল। আমার ছোটবেলায় ১০-১২ বছর আগে যে পাহাড়ে বিকেল বেলা উঠে পড়তাম ফলমূল আনার জন্য। সে পাহাড়ে এখন আর একটি গাছ ও নেই । গুল্ম কিছু আছে বলে কয়েকদিন পরে সেগুলো ও থাকবে না।

ধানি জমিগুলো প্রত্যেকদিন ধ্বংস করা হচ্ছে। বসতবাড়ি বানানো হচ্ছে। চারিদিকে রাস্তাঘাট বাঁধ দেয়া হচ্ছে।

আমাদের এলাকায় টিউবওয়েলে ৮-১০ বছর আগে আপনা আপনি পানি পড়ত । ৪০-৫০ ফুট পাইপ মাটির ভিতরে ঢুকিয়ে দিলেই হত । এখন ৬০০ ফুট গভীরে পাইপ দিয়ে ও পানি পাওয়া যায় না । কি ভয়ঙ্কর পরিবর্তন ঘটতেছে সবার চোখের সামনে ।

উদ্ভিদ ও প্রানীবিদ্যায় গ্রীন হাউজ ইফেক্ট অনেকবার মুখস্হ করেছি । এখন দেখতেছি বাস্তবে।

অন্যদিকে ভারত আমাদের মরার উপর খাড়া ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে । ফারাক্কা দিয়ে পদ্মা নদী শেষ করে দিয়েছে। যদি টিপাইমুখ হয় এবং এর দ্বারা কোন পানি ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাহলে সব শেষ । কুশিয়ারা নদী- সুরমা , মেঘনা সব নদী শুকিয়ে যাবে । নদীতে পানিপ্রবাহ না থাকলে সাগর থেকে নোনা জল উঠে আসবে ।

বিশ্বের তাপ বৃদ্ধি ও তার প্রভাবে বাংলাদেশ যতটুকু না ক্ষতিগ্রস্হ হবে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়ে গেছে বাংলাদেশের জনসংখ্যার কারনে । জনসংখ্যা ও ফারাক্কার প্রভাবে বাংলাদেশ আগেই শেষ হয়ে যাবে বৈশ্বিক তাপ বৃদ্ধির প্রভাব বাদই দিচ্ছি ।

আমাদের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কোন উপায় দেখছি না।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:২৬০

লেখক বলেছেন:

বিপ্লব কান্তি,

আপনি কিছু জরুরী বিষয় তুলেছেন। যদিও এই বিষয়গুলি পোস্টে আলোচনা হয়েছে, তারপরও এ নিয়ে আরো আলোচনা দাবী রাখে। আজ এই শেষ বেলা দেখে বিস্তারিত আলোচনা করা গেল না। আশা করি কাল এই বিষয়ে আরো কথা হবে।

ভাল থাকবেন।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৩০০

লেখক বলেছেন:

এ বিষয়ে আরো একটি পোস্ট দিতে যাচ্ছি, তখন আপনার এই প্রশ্নগুলিও অর্ন্তভুক্ত থাকবে। পড়বেন আশা করি।

৩৯. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৪০০

ত্রিভুজ বলেছেন: অনেক গুরুত্বপূর্ন কিন্তু অবহেলিত (অন্তত এই ব্লগে) একটি বিষয়ে চমৎকার লেখাটা দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। এগুলো নিয়ে ওয়েবে আর্টিকেল পড়ে মন খারাপ ছাড়া আর কিছুই করার মত খুঁজে পাই না।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৮০

লেখক বলেছেন:

মন খারাপের কি আছে! কেউ কেউ মনে করেন, এটা ঘটবে আরো একশ’ বছর দেড়শ’ বছর পরে, যেহেতু আমরা থাকব না তাই চিন্তার কি আছে? আবার কেউ কেউ মনে করেন, আমাদের পরবর্তি প্রজন্মের জন্য একটা বাসযোগ্য জমিন রেখে যাওয়া আমাদের জন্মগত দায়িত্ব।

আবার আমাদের কেউ কেউ এই দুই দলের কোনটিতেও পড়েন না! বুঝে নিলাম মন খারাপও এক ধরণের প্রতিবাদ। আপাতত সেটাই চলুক…

৪০. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৪০

সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:

খুব ভালো একটা লেখা…..

আগেই পড়েছি……ঠিক বুঝতে পারিনা কি লেখা দরকার……….

আপনি যেমন গুছিয়ে লিখেছেন ………

আসলে জানেনই তো কি হচ্ছে এইসব নিয়ে বসা সব মহাসম্মেলনে!

গ্লোবাল ওয়ার্মিং সত্যিই চিন্তার বিষয়……..

কেমন আছেন মনজুরুল ভাই?

বইটা কবে আসছে?

গেলোবারের বইমেলার স্মৃতিগুলো ভাবাচ্ছে…….

ভালো থাকবেন।

শুভকামনা।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:১৬০

লেখক বলেছেন:

লগ অফ করে চলে যাচ্ছিলাম….

গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে আমাদের তেমন কিছু করার নেই সচেতনতা বৃদ্ধি করা ছাড়া। আর যদি ওদের চাপে ফেলে কিছু টাকা আনতে পারি তো সেটা দিয়ে কর্তাদের আরো কিছু বাবুগিরি চালু করা যায়, এই আর কি!

ভাল আছি সাজি। তবে কি কারণে যেন ব্লগে আর সেই টানটা পাচ্ছিনা আমার সিরিজ শেষ করার পর পরই!

বই সম্ভবত ১০ তারিখের আগেই চলে আসবে।

গেল বারের স্মৃতি শুধু? আসলে প্রতিটি দিনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন এক মুঠো সোনা রোদ্দুর মাখা শীতের সকাল! ভয়ানক মিস করব এবারের মেলায় আপনার অনুপস্থিতি। দেখতে দেখতে কি ভাবে একটি বছর পার হয়ে এলাম!কি আশ্চর্য!!

৪১. ১৫ ই মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:১৪০

ঢাকাইয়া টোকাই বলেছেন: নেডারল্যান্ড সরকার ২০০৫ সালে বাংলাদেশের উপকুলে তাদের নিজেদের দেশের মতন করেই বেরিবাধ বানাতে আগ্রহি ছিল কিন্তু তারা চেয়েছিল নিজেদের কন্ট্রুলে কাজটা করার জাতে কোন কারচুপির সুজোগ না থাকে। তখনকার সরকার তাতে আগ্রহ দেখায়নি। নেদারল্যান্ড সরকার আমাদের দেশে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন নদী নালার বাধের কাজের জন্য, তাদের নিজস্ব ইন্জিনিয়ার রাই বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন বাধ বানিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করে। এবং সেসব রিসার্চের রেসাল্ট দিয়ে তারা নিজেদের দেশের বাধ বানায়।

গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জন্য তাদের বর্তমান উপকুলের বেরিবাধ নতুন করে বানাতে হবে, তাই তারা বাংলাদেশে এক্সপেরিমেন্ট করতে চেয়েছিল।

এতে দুই দেশেরই লাভ হত কিন্তু আমাদের সনাম ধন্য পলিটিশিয়ান বাস্টার্ডদের জন্য কাজটা হয়নাই।

আগে আমাদের পলিটিশিয়ান গুলারে সব ব্রাশ ফায়ার কইরা মারতে হবে, তাহলে দেখবেন সব সমস্যার সমাধান হয়া গেসে।

১৬ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১:১৯০

লেখক বলেছেন: নারে ভাই, ব্রাশ ফায়ার করে মেরে ফেললেই যদি সব কিছুর সমাধান হয়ে যেত তাহলে বন্দুক হাতে মঈন-উ-আহমদরাই আজীবন থেকে যাবার চেষ্টা করত।

নেদারল্যান্ড যে প্রজেক্ট নিয়ে এসেছিল সেটা শুনেছি। তারা যে কারণে সরে গেছে সেটাও খুব স্বাভাবিক। কোন প্রকল্প শুরু হলে আমাদের দেশের লোকেরা সেখান থেকে যেভাবে শুষে ছোবড়া বানায় তা জেনে এদেশের কারো দায়িত্বে প্রকল্প ছাড়ার কথা নয়। তারা ঠিক কাজটিই করেছে। চুরি-চামারি পৃথিবীর সব দেশেই কম-বেশি হয়, কিন্তু এখানে যেরকম হয় সেটাকে শুধু চুরি বললে কম বলা হবে, বলা যেতে পারে “কায়মনবাক্যে চুরিধর্ম” অর্থাৎ চুরি করাটাকে আমরা ধর্মজ্ঞান করি, কর্তব্য জ্ঞান করি, এবং অবশ্যপালনীয় জ্ঞান করি।

তাহলে এখন যা আছে সেই অবস্থাতেই থাকুক! মরুক উপকূলের মানুষ।

৪২. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৫৮০

গরম কফি বলেছেন:

এর পরে আর কথানাই । শুধু প্রিয়তে নেয়া বাকি ছিল সেটাও সম্পন্য হলো।

১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:৩৬০

লেখক বলেছেন: এত দিনে মনে হয় ‘গরম কফি’ আর গরম নেই!

ভাল আছেন তো?

৪৩. ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:৪৯০

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: ক্যালগেরী ইউনির ডেভিড কিথ ইকোইন্জ্ঞিনিয়ারিং এর একটা এ্যপ্লাইড মডেল নিয়া কাজ করছিলো, জিনিসটা কি দেখছিলেন বস?!

৪৪. ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:৫৪০

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: Click This Link

আসলে আমার কেনো জানি মনে হয় কিছুই হবে না, আমি যতটুকু পড়ছি শুধু দূষনকে দোষারোপ করাটা একটা হাস্যকার ব্যাপার। তবু আপনেরা জ্ঞানি গুনী মানুষ, যদি উপরের লিংকটা থিকা কিছু তথ্য যদি আমারে বুঝায়া দিতেন, তাইলে আরেকটু নতুন কইরা ভাবতাম!

১৩ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:৪৩০

লেখক বলেছেন: ডেভিড কিথের কিনা জানি না, তবে এই ধরণের একটা প্রিভিউ পড়িছিলাম “ন্যাচার”-এ।

আসলেই কিছু হবেনা।খুব সত্যি কথা। এই হতে হতে এত বছর চলে যাবে যে আমাদের চোদ্দপুরুষের কিছু হবেনা। সমস্যা এইটা না। সমস্যা হলো এই প্রপাগান্ডা দিয়ে যেটা করা হবে সেটায়।

এইসব থেকে “মুক্তির” লক্ষ্যে যেসব মেজার নেয়া হবে (নিতে বাধ্য করা হবে) সেই সবের কুফল ভোগ করবে আমাদের দেশের প্রান্তিক মানুষগুলো। এলিট যে কয়েক লাখ কয়েক কোটি আছে তাদের কিছুই হবেনা।

তেশ মারা যাচ্ছে যাদের তারা ওই প্রান্তিক মানুষ। কারণ ক্লাইমেট ডিজাস্টার বলি আর অন্য যে নামেই বলি, তার মধ্যেও পশ্চিমা বিশ্বের জন্য যেসব কাজ বা প্রজেক্ট হ্যাজার্ড মনে হবে সেই সব প্রজেক্ট এই সব দেশে চালান করা হবে(এখন যা হচ্ছে)। সেই সব প্রজেক্টের ব্যাকফায়ার হিসাবে যা পাব তা হলো নগদ কারেন্সি। আর যা ধীরে ধীরে পাব, তা হলো ন্যাচারে আমাদের অধিকারহীনতা। আমার ন্যাচারকে আর আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। বিপদটা আসলে সেখানেই।

খুলনার দক্ষিণাঞ্চলের জমিতে এখন আর ধান হয় না! চিংড়ি হয়। ১২০০ টাকা কেজি! সেই চিংড়ি যায় ইউরোপে। আর ইউরোপ থেকে আসে ডলার। যা যায় ঢাকার কিছু মানুষের হাতে। চিংড়ি চাষার হাতে যায় টাকা। যা সে কুলিগিরি বা ভ্যান চালিয়েও কামাতে পারে। বা কামলা খেটেও কামাতে পারে। কিন্তু তাকে তা করতে দেয়া হবেনা।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে বাংলাদেশ তলিয়ে যেতে সময় নেবে কয়েক হাজার বছর! তার আগেই যেটা হবে তা হলো প্রকৃতির উপর এদেশের মানুষের নিয়ন্ত্রণ লুট হয়ে যাওয়া। তাতেও ক্ষতি নেই। কিন্তু যে বিশাল সংখ্যক মানুষ এদেশে প্রকৃতির উপর নির্ভর করে বাঁচে তাদের কষ্ট বাড়বে। সেই মানুষদের কথাই বলা দরকার।

একমাত্র ভূমিকম্প ছাড়া আর যে কোনো ডিজাস্টোরের সরাসরি ভিকটিম সাধারণ মানুষ। যাদের দেখার কেউ নেই। তাই বলার চেষ্টা করা হয়েছে- তারা যেন তার বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন প্রকৃতি ধংস হতে না দেয়।

৪৫. ০৫ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ৯:০৫০

শান ই মিল্লাত বলেছেন: চিন্তার বিষয়। সামনে কী বিপদের সম্মুখীন হতে যাচ্ছি আমরা, যার জন্য আমরাই দায়ী…

২১ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৩:৩৭০

লেখক বলেছেন:

মহাবিপদ। যদিও অনেকেই একে ফ্লুক ভেবে কল্পিত সখানুভূতি পেতে চান!

৪৬. ১০ ই আগস্ট, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪০০

ওয়ে অফ লিবার্টি বলেছেন: চমৎকার তথ্য-উপাত্ত সহ অসাধারন একটি পোস্ট। ধন্যবাদ।

২১ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৩:৩৯০

লেখক বলেছেন:

ওয়ে অফ লিবার্টি। থ্যাঙ্কস আ লট।

এমন হলে কেমন হয়……ইন টাচ্ লিবার্টি?

৪৭. ১৯ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১০:৩৪০

কনক ২০২০ বলেছেন: প্রত্যেক নক্ষত্র এবং গ্রহ তার নিজ নিজ কক্ষপথে পরীব্রাজমান / ঘূর্ণয়োমান (আল কুরআন সুরা আর-রহমান) । প্রকৃতী তার নিজের নিয়মেই চলবে এটাই চিরন্তন সত্য । আর তাই যদি না হতো তাহলে পৃথিবীতে স্থলবলে কিছুই থাকতো না সবই সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে যেতো । প্রকৃতী তার ভারসাম্য রক্ষার জন্য সরল সমীকরণ তৈরী করে । এটাই প্রকৃতী তত্ত্ব ।

১৭ ই জুন, ২০১২ সকাল ১১:২১০

লেখক বলেছেন: জ্বি জনাব। আপনি ঠিক বলেছেন।

৪৮. ১৬ ই জুন, ২০১২ দুপুর ১২:১২০

লুব্ধক০১ বলেছেন: ++++++++++++++++++

১৭ ই জুন, ২০১২ সকাল ১১:২১০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ লুব্ধক০১।
Top of Form

আপনার মন্তব্য লিখুন

কীবোর্ডঃ  বাংলা                                    ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয় ভার্চুয়াল   english

নাম

       

Bottom of Form

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s