সারি সারি লাশের ভেতর আরো একটি জ্যান্ত লাশ হয়ে মিশে যাই!!!

স্মৃতি সতত পাথরচাপা কষ্টের মত

স্মৃতি সতত পাথরচাপা কষ্টের মত

২৬ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১০:০৭ |

স্বাধীনতা দিবসে সবাই যখন প্রাণোচ্ছল খুশির জোয়ারে ভাসে, আনন্দে উদ্বেল হয়, সারাটা শহরময় লাল-সবুজের রঙে রঙে ছেয়ে যায়, শিশুদের গালে মুখে পতাকা অঙ্কিত হয়, চ্যানেলগুলোতে কৃতজ্ঞতার ডালি উপড় করে ঢালা হয়……আমি তখন আমার ঘরের কোণে একাকী বসে থাকি! চোখ বন্ধ করলেই বায়োস্কোপের মত ভেসে ওঠে সমগ্র একাত্তরের ক্যানভাস। সেই ভয়াবহ মেশিনগানের শব্দ, আহত মানুষদের মরণ চিৎকার, আর ভূখা নাঙ্গা মানুষদের চিৎকার আমার কানের পর্দা ভেদ করে মগজে আঘাত করে! সারি সারি লাশের ভেতর আরো একটি জ্যান্ত লাশ হয়ে মিশে যাই।

দিল্লির সম্রাট আলাউদ্দীন রাজপুতানার চিতোর আক্রমণ করেন ও ছয় মাস কাল অবরোধের পর অধিকার করেন। নগর রক্ষার্থে রাজপুতগণ প্রাণপণে যুদ্ধ করে নিহত হন। দুর্গের অভ্যন্তরে রানী পদ্মিনীর সঙ্গে তেরো হাজার রাজপুত রমণী ‘জহরব্রতের’ অনুষ্ঠান করে প্রাণ বিসর্জন করেন। সময়কাল ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দ।

‘অপারেশন ডে-ব্রেক’ গল্পের প্রধান দুই চরিত্র দুটি কিশোর হানাদার জার্মান বাহিনী দ্বারা ঘেরাও হয়ে মাটির তলে গুপ্ত কুঠিতে আশ্রয় নেয়। ওই দুই পোলিশ কিশোরকে জার্মান সেনাধ্যক্ষ প্রাণে বাঁচার জন্য উঠে আসার শেষ সুযোগ দেয়। ওরা ওঠে না। একসময় বাঙ্কারটিতে পানি ঢেলে পূর্ণ করে দেওয়া হয়। মুখ-নাক-চোখ পর্যন্ত পানি উঠে যেতে দুই ভাই একে অপরের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করে! তেরো-চৌদ্দ বছরের কিশোররা প্রাণের চেয়ে স্বাধীনতা বড়ো জেনেছিল। সময়কাল ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ।

জেরেমি এবাইদ। মিশরীয় ইহুদি। কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়াতে একাধিক ব্যবসা তার। কায়রোর অভিজাত পলীতে বসবাস। অভিজাত মহলে ওঠা-বসা। মিশরের নেতা জেনারেল নাগিব শর্ত দেন, এবাইদ ইসরাইলে যেতে পারবে, তবে তার সকল সহায়সম্পত্তি মিশরে রেখে যেতে হবে। এবাইদ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি; স্থাবর-অস্থাবর সব ফেলে একবস্ত্রে জেরুজালেমে পা রাখেন। সময়কাল ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ।

ইতিহাসের এই তিনটি কাহিনীতে পরতে পরতে দেশপ্রেমের জয়গান। স্থান-কাল-পাত্র ভেদে প্রতিটি ক্ষেত্রে জীবনের চেয়ে, সম্পদের চেয়ে, আরাম-আয়েশের চেয়ে দেশপ্রেম, স্বাধীনতা, স্বদেশভূমি অনেক বড়ো হয়ে প্রতিভাত। অমলিন। মহান। এই তিনটি ঘটনার পরে শতাব্দী শেষে আমরা দেখি, ভারতের অজস্র মিশ্র জাতির সম্মিলনে রাজপুত সবার ওপরে। অন্যান্য জাতির কাছে রাজপুতদের পরিচয় বীরের জাতি। হিটলারের ন্যাৎসি বাহিনী প্রায় পুরো ইউরোপই দখল করেছিল। জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে খাঁক করেছিল লাখ লাখ মানুষকে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আক্রমন নির্যাতন চলেছিল পোলিশদের ওপর। বিশেষ করে পোলিশ ইহুদিদের ওপর। পোলিশদের চরম আত্মত্যাগের কারণেই আজো পুরো ইউরোপে পোলিশরা স্বাধীনচেতা অনমনীয় জাতি। বীরের জাতি। পোলিশ কিশোরী আনা ফ্যাঙ্ক তার ডায়রি লিখে রেখেছিল। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক বিক্রিত সেই ডায়রিটি।

শত-সহস্র বছর ধরে ইহুদিরা ভূমিহীন। পথে পথে, তাঁবুতে তাঁবুতে ঘুরে বেড়িয়েছে। একখণ্ড জমি। একটা দেশ। একটা পা রাখার মাটি কী, তা তাদের চেয়ে আর কে ভালো বোঝে? খ্রিস্টান, মুসলমান দ্বারা শত শত বছর ধরে নিপীড়িত হয়েছে তারা। একখণ্ড জমির জন্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম অপেক্ষা করেছে। আজ যেমন করছে ফিলিস্তিনিরা। আজ যেমন ফিলিস্তিনিরা নিজের দেশ থাকার পরও উদ্বাস্তু। ইহূদি-খ্রীষ্টান দ্বারা নির্যাতিত।

ইহুদিরা যেদিন ভূমি পেয়েছে তার পর থেকে আর ভুল করেনি একটিও। আশ্রয় দেয়নি তাদের দেশের কোনো রাজাকারকে, কোনো আলবদরকে, কোনো দালালকে, কোনো কোলাবরেটরকে, কোনো চামচাকে, কোনো দোদুল্যমানকে, কোনো সন্দেহগ্রস্তকে, কোনো ঘাপটি মারা সাধুবেশি হন্তারককে, কোনো জ্ঞানপাপী পুরোনোপন্থীকে। তাই তারা আজ ছড়ি ঘোরাচ্ছে পুরো আরব বিশ্বের মাথার ওপর। ওরা কখনো মাথায় বসায়নি কোনো স্বাধীনতাপন্থী-মুক্তিযুদ্ধপন্থী ভেকধারী কোলাবরেটরদের। এক মুহূর্তের জন্যও না। বংশপরম্পরার শত্রুকে ছাড় দেয়নি। চল্লিশ বছর আগে এবং এখনো যে স্কুল শিক্ষয়িত্রী বিকাল চারটে অব্দি স্কুলে পড়াচ্ছেন, তিনিই সন্ধ্যে ছটা থেকে রাত বারোটা অব্দি ন্যাশনাল গার্ডের দায়িত্ব পালন করছেন। পৃথিবীর প্রায় সব দেশ রোড ডিভাইডার সাজায় ফার্ন, ইউক্যালিপটাস, পাম দিয়ে। ওরা সাজায় আপেল-কমলা লেবু গাছ দিয়ে। কেননা ওরা জানে, শুধুই সৌন্ধর্য্য নয়, প্রয়োজন টিকে থাকা। তাই তারা ভূমি-স্বদেশ-স্বাধীনতা-আত্মমর্যাদা-পূর্বপুরুষদের আত্মত্যাগের মহিমা বোঝে। ঋণ বোঝে। আমরা বুঝি না। আমরা বুঝিনি।

এই তিনটি উদ্ধৃত ঘটনার মতো অনেক হৃদয়গ্রাহী ঘটনাবলি ঘটে গেছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে। লাখ লাখ বাঙালির আত্মত্যাগে সিক্ত হয়েছে এই মাটি। হাজারো অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত লাল পেড়ে শাড়ির মতো মেলে আছে এই বাঙলার ঘাসে। কিন্তু এসব তো কাব্যের মতো। আবেগের কথা। রূঢ় বাস্তব কী? আমরা অকপটে আমাদের স্বাধীনতা-স্বদেশভূমি-দেশ মাতৃকাকে তুলে দিয়েছি ধর্ষকের হাতে। হন্তারকের হাতে। আমরা মৌসুমি স্মৃতিচারণবাদী। বছরে দুবার দুচার দিনের জন্য ঘটা করে তাদের স্মরণ করি। এনার্কিস্টের মতো হতাশা ব্যক্ত করি। ক্ষোভ প্রকাশ করি। শেষে বেলাজ-বেহায়ার মতো ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত নিয়ে নির্লিপ্ত মামদোবাজি করি। বেজন্মা-জারজের মতো তাদের দেওয়া, রক্তস্নাত ভূমিতে স্বাধীনতাবিরোধী বেশ্যা জঠরে প্রতিনিয়ত স্বাধীনতাবিরোধী প্রজন্ম তৈরি করি। যাদের কাছে ৭১ সালটা হলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র!

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আমরা কী করেছি? গোটাকতক মনুমেন্ট (খুব বেশি মূর্তি গড়তে পারিনি ‘পাপ’ হবে বলে) সামান্য কটা টাকা ভাতা (মুখ চিনে চিনে), সরকারি চাকরিতে অসম্মানজনক কিছু কোটা (রং চিনে চিনে), আর একটা সাদা হাতি- মন্ত্রণালয়। যাদের কাজ সার্টিফিকেট বিক্রি করা, নবায়ন করা আর রাজাকারের বাচ্চাদের টার্মিনেট করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানে রূপ দেওয়া। অবশ্য এসবের বিপরীতে অনেক কিছু করেও বা কী হতো? কারণ আমরা তো রাজাকারদের হাতেই দেশটা, ভূমিটা, স্বাধীনতাটা, আত্মমর্যাদাটা তুলে দিয়েছি। দেশমাতাকে ধর্ষিতা হতে ধর্ষকের হাতে তুলে দেওয়ার পর উপঢৌকন কী পেলাম না-পেলাম তাতে কী-ই বা এসে যায়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লিপিবদ্ধ ইতিহাস কলঙ্কিত-খণ্ডিত-ভগ্ন। আমাদের শহীদদের তালিকায় সন্দেহের কালো চাদর। আমাদের বীরদের কাতারে চাষাভূষা নেই। অধিকাংশই সেনা। যেন চাষারা যুদ্ধ করেনি। করলেও মরেনি। মরলেও ‘শহীদ’ হয়নি।

আমাদের খানাকতক মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র অসম্পূর্ণ। বাকোয়াজ। আমাদের সাহিত্যে-উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধ ঘটনাভিত্তিক। বর্ণনামূলক। নিরাপদ অবস্থান থেকে দেখা। আমাদের কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ খামখেয়ালি তামাশায় বাণীবদ্ধ। আমাদের সংগ্রহশালায় গোটাকতক বন্দুকের নল আর মর্টারের খোসা। আমাদের যুদ্ধকালীন রণহুঙ্কার যেন পরিত্যাজ্য। ‘জয়বাংলা’ যেন দলীয় আনুগত্য। আমাদের মননে কোনো মুক্তিযুদ্ধের চিহ্ন নেই। কৃতজ্ঞতা, দায়বদ্ধতা, ঋণ শোধ করার অন্তরের বাধ্যবাধকতা তো দূরের কথা। আমাদের স্বাধীনতা আর বিজয়ের দিন যেন মেঘাচ্ছন্ন। বিজয় এবং স্বাধীনতা দিবস যেন ক্যালেন্ডারের ভুল তথ্য।

এই হচ্ছি আমরা। আবেগগ্রস্ত কবির ভাষায় ‘লড়াকু বাঙালি’। অর্ধশিক্ষিত মতলববাজ ফেরেপবাজদের ভাষায় ‘বীরের জাত বাঙালি’। যে জাতি তার মাতৃভূমি উপহার দেওয়া শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করেনা, রক্তের অব্যক্ত ভাষা বোঝে না, যে জাতি তার স্বদেশ-স্বাধীনতার মর্ম বোঝে না, বীরদের বীরত্বকে ভূলুণ্ঠিত করে ধর্ষিতা হতে দেয় আর বিজাতীয় পুলকে ধেই ধেই করে নাচে সে জাতি আবার বীর হয় কী করে? আমি বুঝি না। আমার বোধে আসে না!

স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার অধ্যুষিত জোট সরকারকে ঊনচলিশ-চলিশ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছিল। এর পররও হয়ত তা-ই হবে। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তারা নিজেদের স্বাধীনতার ‘পক্ষের’ শক্তি বলে বেশুমার বাতেনি-জাহেরি করলেও তাদের ভেতর আয়েশে বেড়ে চলেছে রাজাকারি চিন্তা আর অঙ্কুরিত হচ্ছে নয়া ধর্মানুভূতির জজবা। এই মানুষদের অনেকেই একসময় মুক্তিযোদ্ধা ছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের অনুগামী ছিল। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। এরা জেনেশুনেই সরাসরি রাজাকারি সমর্থন করেছে। জেনেশুনে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বেঈমানি করেছে। এখনো দেশের সিভিল এবং মিলিটারি ব্যুরোক্র্যাসির প্রধান প্রধান পদগুলো শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করাদের দখলে। পাকিস্তানপন্থী কোলাবরেটরদের দখলে। এ জাতি এরশাদের মতো মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীর নয় বছরের শাসন মেনে নিয়েছে। পাকিস্তানপন্থাকে বরণডালায় বরণ করেছে। এ জাতির একাধিক মহামান্য বিচারপতি মুক্তিযুদ্ধকে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সঙ্গে বেঈমানি করার জন্য পয়দা হওয়া সেনা শাসনকে বৈধতা দিয়েছে। ক্রমে ক্রমে আমরা প্রায় পঞ্চান্ন-ষাট ভাগ মানুষ মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সঙ্গে বেঈমানি করার কাতারে চলে গেছি। কী করে বলি তাই আমরা বীরের জাতি? আমরা আসলে জাতিগতভাবে দালাল। তামাশা উপভোগী দর্শক। আত্মবিস্তৃত অপগণ্ড। অকাট মুর্খ।

আমাদেরকে যদি রাশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, এল সালভাদরের মতো যুগ যুগ ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম যুদ্ধ করতে হতো, আমাদের প্রজন্মগুলো যদি ভয়াবহ দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আগুনে পুড়ে পুড়ে অঙ্গার হতো, যদি আমাদের আত্মমর্যাদা শত শত বছর ধরে পদদলিত হতো এবং তা হলে আমরা বুঝতে শিখতাম। দাম দিতে পারতাম। দাম নিতে পারতাম। হতে পারতাম ওই রাজপুত আত্মহননকারী রমণীদের মতো, যারা বর্বর মুঘলদের বশ্যতা স্বীকারের চেয়ে মৃত্যুকে শ্রেয় ভেবেছিল। হতে পারতাম ওই পোলিশ কিশোরের মতো, জাত্যাভিমানী। হতে পারতাম জেরেমি এবাইদের মতো, যে কোটি টাকার মায়া ভুলতে পারে একখণ্ড মাটির জন্য। স্বদেশের জন্য।

আমরা এখন কেবলই মানুষকে স্মৃতিটিতি ভুলে সামনে এগুনোর নসিয়ত করি। কেবলই সামনে এগুনোর জন্য পেছনের সকল গৌরব দুপায়ে ঠেলে সরিয়ে দেই। আমরা এখন হিপোক্র্যাসির চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে ষোলই ডিসেম্বর, ছাব্বিশে মার্চ সাদা ফিনফিনে জামা-পাজামা,লালপেড়ে সাদা শাড়ি পরে সেলিব্রেটির মত নিজেকে উপস্থাপন করি…চলতে থাকে বেটাক্যাম….হ্যান্ডিক্যাম আর চ্যানেলে চ্যানেলে সুখের পায়রা ওড়ানোর বালখিল্য আদিক্ষেতা। পেছনে ওৎ পেতে থাকা বহুবর্ণের রাজাকাররা-যুদ্ধাপরাধীরা। তাম্বুল রসে রঞ্জিত অধরে তৃপ্তির হাসি ফুটিয়ে আরো একটি বিজয় দিবস-স্বাধীনতা দিবসের আগে আরো কিছু দালাল গড়ে তোলার ফন্দি করতে থাকে।

সব পাওয়া ইতিহাসবিস্মৃত মানুষ ক্ষণে ক্ষণে আগুয়ান হতে থাকে রংবেরং এর রাজাকারীর মোহনার দিকে। বাহাত্তরের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে বিসমিল্লাহ আর রাষ্ট্রধর্মের তকমা লাগে! নিরাপদ নিরুপদ্রপ ঘুরে বেড়ায় গোলাম আযম আর তার চিহ্নিত দোসররা। বিচারের নামে অনন্তকালের মোহনায় ঘাঁটি গেড়ে থাকে বিচারালয়! প্রতি বছর একটু একটু করে চাষাভূষা সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা চলে যেতে থাকে পেছনের কাতারে….তারপর এক সময় তারা ‘নেই’ হয়ে যায়! সেই জায়গাগুলো দখল করে ‘দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী’র জওয়ান আর বীরপ্রতিক-বীরউত্তম-বীরশ্রেষ্ঠ অফিসারগণ! আর ঠিক সেই সময়ে লাখ লাখ নিহত যোদ্ধা চরম গ্লানির পরম ঘৃণায় পাশ ফিরে শোয়। শুয়েই থাকে।

নোটঃ আমার মাথায় অসুখ করার পর আমি আর দীর্ঘক্ষণ গুছিয়ে লিখতে পারছি না! প্রাসঙ্গিক মনে হওয়ায় পুরোনো এই লেখাটি কিছুটা পরিমার্জন পরিবর্ধন করে প্রকাশ করলাম।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মুক্তিযুদ্ধরাজাকারযুদ্ধাপরাধীর বিচারকোলাবরেটরচেতনাস্বাধীনতা দিবস ;
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রবন্ধমুক্তিযুদ্ধ  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

১৪২ বার পঠিত০২০৬

 

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

 

২০টি মন্তব্য

১-১০

১. ২৬ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১০:০৯০

ভুদাই বলেছেন: লজ্জাজনক। স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে এখন ব্যাবসা চলছে।

২৬ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১১:০০০

লেখক বলেছেন: শুধু ব্যবসা নয়, এজমালি সম্পত্তির ব্যবসা!

২. ২৬ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১০:২০০

রুদ্রপ্রতাপ বলেছেন: আগেই পড়েছি, যেটা আমি বলেছি, সেটা এখানেও বলি, আপনার লাশের পাশে আমারও একটু যায়গা রেখেন…

৩১ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৮:৫৪০

লেখক বলেছেন: আমার লাশের পাশে শত শত তরুণের লাশ! যে লাশগুলো একদিন জীবন মুখে নিয়ে জীবন হাতে নিয়ে উঠে আসবে….প্রশ্ন করবে, জবাবদিহিতা চাইবে

তোমার প্রপিকটা সুন্দর হয়েছে!

৩. ২৬ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১১:২৯০

পারভেজ আলম বলেছেন: ঔপনিবেশিক আমলে আমাদের ভুখন্ডের ওপর আমাদের অধিকার ছিল না, ছিল না আমাদের স্বাধীন অস্তিত্বের ওপর অধিকার, এখনো নাই। উপনিবেশ আমাদের ভুখন্ড থেকে কেড়ে নিয়েছে স্বস্তা শ্রম, স্বস্তা কাঁচামাল, আবার আমাদের ভুখন্ডকেই বানিয়েছে তাদের বাজার। প্রায় ৬০ বছর আগে খাতা কলমে উপনিবেশ বিদায় নিলেও এই পরিস্থিতি এক বিন্দু বদলায় নাই, বরং নতুন করে আরো প্রকট হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতি টিকিয়ে রাখছে নয়া উপনিবেশের কড়ি বর্গা শ্রেণী। বাঙালির আপামর জনসাধারণের মুক্তি সংগ্রামের নানান সাফল্যের মালিকানা দাবি করে ভোগ দখল করছে এই কড়ি বর্গারা। তারপরও বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম অব্যাহত আছে, বহু বাধা বিপত্তী ষড়যন্ত্র পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে মালিকানা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। হাজার চেষ্টা করলেও নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের সুবিশাল ইতিহাস “সাড়া জাগানো ৩০ মিনিট” এর নাটকে ভোলানো যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে শ্রেফ ৯ মাসের ঘটনায় আবদ্ধ রেখে, স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্ক আর বাঙালি বনাম বাংলাদেশী বিতর্কে ব্যস্ত রেখে ভোলানো যাবেনা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য। বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম চলছে এবং চলবে। নিজ ভুখন্ড, প্রাকৃতিক সম্পদ, নিজ মনন, অস্তিত্বের ওপর মালিকানা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে, উপনিবেশের ছাপচিত্র ঝেড়ে পুছে বাঙলার প্রতিটা ইঞ্চি থেকে দূর না করা পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে, বাঙলার বুক থেকে উপনিবেশের কড়ি বর্গাদের উৎখাত না করা পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে, পৃথিবীর বুক থেকে উপনিবেশ নামক বর্বরতার মৃত্যু নিশ্চিত না করা পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে। এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে বাঙলার নতুন প্রজন্মের সাহসী মুক্তিযোদ্ধারা।

অসাধারণ লাগল আপনার লেখাটা। জবাবদিহিতার শক্তি যোগাতে আরো দীর্ঘদিন এমন লেখা লিখে যান এই কামনা করি।

২৭ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১:০১০

লেখক বলেছেন: প্রিয় পারভেজ, আমার ব্যালান্স শেষের পথে। তাই আজ কমেন্টের উত্তরে ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করছি। কাল কথা হবে বন্ধু।

৪. ৩১ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৯:১৬০

শায়মা বলেছেন: ভাইয়ামনি

কেমন আছো এখন?

লেখাটা এত অসুস্থ্যতার মধ্যেও লিখেছো।

তোমার কাছে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এক্কেবারে অন্যরকম একটা ব্যাপার। তুমি নিজে দেখেছো সে সময়টা। যা আমি কল্পনা দিয়েও দেখতে পাইনা।

৩১ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৯:২৬০

লেখক বলেছেন:

নারে ভাইয়া, মাথায় সেই সুস্থ্যতা তো নেই! চাপা ব্যথাটা সর্বক্ষণ গেঁথে আছে।

লেখাটার বেশীরভাগই আগে লেখা ছিল। সেদিন কাগজের নিয়মিত লেখা দেয়ার বাধ্যবাধকতায় সেটিই কিছুটা যোগ করে শেষ করলাম। খুব কষ্ট হচ্ছিল, তাও করতে হলো। নামিদামী লেখক হলে কাগজঅলারা বলে দিত…”অনিবার্য কারণে মনজুরুল হক-এর নিয়মিত কলামটি আজ প্রকাশিত হলো না”! যেহেতু তা নই, তাই লিখতেই হয়।

তুই একেবারে নিচের এই অংশটুকু খেয়াল করিসনি…..

“নোটঃ আমার মাথায় অসুখ করার পর আমি আর দীর্ঘক্ষণ গুছিয়ে লিখতে পারছি না! প্রাসঙ্গিক মনে হওয়ায় পুরোনো এই লেখাটি কিছুটা পরিমার্জন পরিবর্ধন করে প্রকাশ করলাম। ”

৫. ৩১ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১০:২১০

নিহন বলেছেন: সালাম ।

৩১ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১১:০৮০

লেখক বলেছেন: হুম। ওলেকুম সালাম নিহন। ভালো আছ?

৬. ০১ লা এপ্রিল, ২০১১ রাত ৩:৪৪০

ভিয়েনাস বলেছেন: আমরা এখন হিপোক্র্যাসির চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে ষোলই ডিসেম্বর, ছাব্বিশে মার্চ সাদা ফিনফিনে জামা-পাজামা,লালপেড়ে সাদা শাড়ি পরে সেলিব্রেটির মত নিজেকে উপস্থাপন করি…চলতে থাকে বেটাক্যাম….হ্যান্ডিক্যাম আর চ্যানেলে চ্যানেলে সুখের পায়রা ওড়ানোর বালখিল্য আদিক্ষেত…………………

আমাদের বিশেষ বিশেষ দিন গুলো এখন চ্যানেলে চ্যানেলে বন্দি…….

অসুস্থতার মাঝেও অসাধারন লিখা।

সুস্থতা কামনা করছি।

০১ লা এপ্রিল, ২০১১ ভোর ৪:৩১০

লেখক বলেছেন:

প্রায় মারা যাচ্ছিলাম ভিয়েনাস! আমার মাথায় একটা পুরোনো ব্যথা আছে। ২৩ তারিখে একজনের সঙ্গে ঝগড়া করে (মান-অভিমান টাইপ আর কি!) প্রচণ্ড শকড হয়ে হঠাৎ সেই ব্যথাটা সহ্যে সীমা ছাড়ায়। তারপর হাসপাতাল, সিটি স্ক্যান, এমআরআই……।

সম্ভবত মাথায় স্বল্প মাত্রায় রক্ষক্ষরণ হয়েছে! বিপি অসম্ভব হাই হয়ে গেছিল। টানা চার-পাঁচ দিন শুয়ে থাকার পর আজ তিন-চার দিন ধরে একটু ভাল। এখন রাত একটার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ি (আজ দেরী হচ্ছে, কারণ কাল ছুটির দিন )।

তোমাদের অসংখ্য শুভকামনায় নিশ্চই সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে উঠব।

ভালো থেকো।

৭. ০১ লা এপ্রিল, ২০১১ ভোর ৬:৫৮০

নিহন বলেছেন: এইতো ভাইয়া,ভালো।আপনি কেমন আছেন??

০১ লা এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:৫৭০

লেখক বলেছেন: ভালো ছিলাম না নিহন। এখন ভালো আছি।

চেষ্টা করছি আবার নিয়মিত লেখালেখি করার।

ভালো থেকো।

৮. ০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:৪৩০

বৃষ্টি ভেজা সকাল ১১ বলেছেন: আপনাকে একটা “সরি” বলব বলব করেও কেন জানি বলা হয়নি, যদিও সেটা আরো তাড়াতারি বলা উচিত ছিল।

আমার অনিচ্ছাকৃত ভূল আচরনের কারনে কেউ আমার উপর বিরক্ত হোক কিংবার কষ্ট পাক, সেটা আমি কখনোই চাইনা। আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, ভাল থাকবেন।

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১১ রাত ৩:১৫০

লেখক বলেছেন:

যদ্দুর মনে পড়ে আগেও তুমি ‘স্যরি’ বলেছ।

আমি ওসব নিয়ে কিছু মনে করিনি, তাই স্যরি বলার পর যে কিছু একটা

বলতে হয় সেটা করিনি।

টেক ইট ইজি! আমি জানি ওই পোস্টের এ্যাটমোস্ফিয়ার ছিল আড্ডার।

তাই সেখানে তোমাদের কথপোকথন একটু অগোছালো হয়েছিল।

আমি মনে রাখিনি ওসব।

জাস্ট ভুলে যাও।

ভালো থেকো।

৯. ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৯০

বৃষ্টি ভেজা সকাল ১১ বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া, ভাল থাকবেন।

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:৪৩০

লেখক বলেছেন:

তোমাকেও ধন্যবাদ।

ভালো থেকো।

১০. ১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:৪২০

সিদ্দিক আহমেদ বলেছেন: শায়মা আপার সাজেশানে আপনার লেখা পড়তে এলাম আমি পুরোপুরি বোকা সেজে গেলাম । অসাধারন অসাধারন অসাধারন অসাধারন অসাধারন অসাধারন অসাধারন অসাধারন অসাধারন অসাধারন অসাধারন অসাধারন অসাধারন অসাধারন

১৭ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৩:৪৩০

লেখক বলেছেন: শায়মার সাজেশন! ও বাড়িয়ে বলে!!

তুমিও বাড়িয়ে বললে। লেখার বিষয় অবশ্যই দরকারি।

তবে অসাধারণ নয় কোনভাবেই।

শুভেচ্ছা রইল।

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s