এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি [১২] একে একে লাশ হয়ে যাচ্ছিল চেনা মানুষগুলো

556719_379430475481805_599501349_n

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৭ |

কয়েক দিন বাদেই অপক্ষোর শেষ হলো। পাঁচ জনের এক টিমের সাথে আমাকেও সিলেক্ট করা হলো। মনে মনে চিন্তা হলো-মা যদি রাজি না হন! বাবাও কি শেষ মুহূর্তে সায় দেবেন? কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে মা সানন্দেই রাজি হয়ে গেলেন! আমি গোছগাছ করে নিলাম। তেমন কিছুই না, শুধু মায়ের কাছ থেকে কিছু পাকিস্তানী টাকা নিলাম। সাথে আর কোন কাপড়-চোপড় নেই। নেওয়া বারণ! বোনেদের সবাই জানল আমি দেশে যাচ্ছি….. বাড়ি থেকে বেরুব এমন সময় মেঝ বোনটি, যে খুবই কম কথা বলে, সে হঠাৎ বলে উঠল-‘ভাইজান আমার মাটির ঘরটা নিয়ে আসতে পারবা’? মুহূর্তেই চোখ ছলছল করে উঠল! মা মাঝে মাঝে আমার স্কুলের জন্য মাটি দিয়ে আম, পেয়ারা, আনারস বানিয়ে দিতেন। ওর খুব সখ ছিল বলে ওকেও একটা মাটির ঘর বানিয়ে দিয়েছিলেন মা। সেটা আমি খড় জ্বেলে পুড়িয়ে শক্ত করে দিয়েছিলাম। ও মনে করছে আজো সেই ঘর আমাদের বাড়ির কোথাও পড়ে আছে! অবুঝ আব্দার! সত্যি কথা না বলে বলে দিলাম-‘আচ্ছা দেখি পেলে নিয়ে আসব’। বাবা বার বার করে বলে দিচ্ছেন কি ভাবে থাকতে হবে, কি ভাবে বাঁচতে হবে, কি ভাবে ফিরে আসতে হবে…। আমাকে শেষ বেলায় অভয় দিয়ে বললেন-‘যা করার ওরাই(টিমের বাকি চার জন) করবে, তুমি শুধু ওদের সাথে থাকবে আর ঘুরে ঘুরে দেখবে ওখানকার কি অবস্থা। আমি মাথা নিচু করে বাধ্য ছেলের মত সব শুনে যাচ্ছিলাম। ক্যাম্পে যেয়ে শেষ মুহূর্তের কথাবার্তা সেরে আমরা বেরিয়ে পড়লাম।

সীমান্ত পর্যন্ত মেইন রোড ধরে এগুনোর পর ঠিক সীমান্তের কাছে গিয়ে আমরা বা দিকে নেমে গেলাম। তারপর বাংলাদেশ সীমানায় ঢোকার পর আবার মেইন রোডে উঠে হাঁটছি…….সেটা ছিল খুব সম্ভব জুলাই মাস। মাঝে মাঝে বৃষ্টি, আবার ভ্যাপঁসা গরম। গরমে দর দর করে ঘামছি আর হাঁটছি। ইচ্ছা করলে রিকসায় যাওয়া যায়, কিন্তু খরচ করার মত অত টাকা আমাদের সাথে নেই, তাই হাঁটাই সই। ভৈরবের পারে এসে সোজা বাঁশের মাচা দেওয়া সাঁকো পার না হয়ে আরো আধা মাইল মত বায়ে গিয়ে আমরা নদী পেরুলাম। আমাদের টিমে যে পাঁচ জন আছি তার তিন জন মেহেরপুরের, আমি আর যশোরের সেই ছেলেটি । আমি জানিনা ওদের কারো কাছে গ্রেনেড আছে কি-না, ওদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে আছে। আমার কাছে কিছুই নেই। নদী তীরের মেহেরপুর পাড়টা খাড়া, দেখতে মনে হয় অনেক উঁচু থেকে হঠাৎ নদী নেমে গেছে। মাঝে মাঝে দু’একটা বাড়ি। যেখানে বাঁশের সাঁকো ঠিক সাঁকো পেরুলেই থানা। আগে পুলিশ থাকলেও এখন সেটা পাক বাহিনীর দখলে। থানা থেকে আরো পুবে ইপিআর ক্যাম্প পাক বাহিনীর মূল ঘাঁটি। আর এই থানা হচ্ছে আউটপোস্ট ক্যাম্প। আমরা হাঁটতে হাঁটতে এক সময় মূল শহরে চলে এলাম। শহরে ঢোকার আগেই লিডার বলে দিলেন- আমরা একসাথে জড়ো হয়ে থাকব না, আবার বিচ্ছিন্ন হয়েও না। একটু দূরত্ব বজায় রেখে হাঁটব, যেন কেউ মনে না করে যে, এরা একসাথে একদল হয়ে আছে। সেই মত প্রথমে তিন জন হাঁটছে, আর তাদের পেছনে আমরা দুজন কিছুটা দূরত্ব রেখে হাঁটছি……

মেহেরপুরে বড় পাকা রাস্তা একটাই। সব কিছু এই পাকা রাস্তার পাশে। রাস্তা ধরে হাঁটছি…..এক সময় সেই যে স্কুল ঘরে আমরা একরাত কাটিয়ে ওপারে চলে গেছিলাম সেই স্কুলটার কাছে এসেই আমি এক দৌড়ে স্কুলের ভেতর চলে গেলোম! সামনের তিনজন জানতেই পারল না! আমার সাথের জন না না করার আগেই আমি দৌড়! কিছুই না শুধু স্কুলটা দেখতে ইচ্ছে করল। ফাঁকা খা খা করছে স্কুলটা। এখন মনে হলো স্কুল চলে, কারণ সেই টানা লম্বা খালি ঘরের বদলে সারা ঘর জুড়ে বেঞ্চ পাতা। আমাকে হাত ধরে টেনে আনল আমার সাথী ছেলেটা (ছেলে না লোক? অনেক লম্বা, আর গোঁপ আছে) ততক্ষণে আগের তিনজন অনেক দূরে চলে গেছে। আমরা জোরে হেঁটে আবার তাদের কাছাকাছি চলে এলাম। বাজারের কাছে এসে একটা ঘুমটি দোকানে আমরা সবাই একসাথে বসলাম, কিন্তু দুটো দলের মত হয়ে। লিডার দোকানের লোকটাকে চোখ টিপে কি যেন ইশারা করতেই দোকানদার আমাদেরকে একটা করে গজা বের করে দিল। লিডার তার সাথে ফিস ফিস করতে লাগল। একটু পরেই মেইন রোড দিয়ে চার-পাঁচটা মিলিটারি লরী চলে গেল। কিছুক্ষণ পর পরই ওরকম লরী যাচ্ছে আর আসছে। ওদের কথা শেষ হলে লিডার আমাদের কাছে ডেকে যার যার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন। এবার আমরা ভাগ হয়ে যাব। প্রত্যেকে একা একা ঘুরবো। শহরে কয়টা ক্যাম্প, কোথায় কোথায় অস্থায়ী ক্যাম্প, কোন ক্যাম্প থেকে অপারেশনে বের হয়, শহরের অন্য কোথায় ছোট ছোট ফাঁড়ি, এসডিওর বাড়ির সামনে মিলিটারি থাকে কি-না, ইপিআর ক্যাম্পে কোন বাঙালি আছে কি-না যে যেভাবে পারি এই সব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। ‘ভাইডু তুমি, তুমি কিন্তু কোন হিরোগিরি দেখাতি যাবা না, খালি ঘুরি বেড়াবা আর চোখ কান খুলা রাখবা’- এই কথাটি বলা হলো আমাকে উদ্দেশ্য করে। ঠিক সন্ধ্যে হলে বড় রাস্তার শেষ মাথায় বাস স্ট্যান্ডে সবাই মিলিত হবো বলেই যে যার মত সরে গেলাম। দোকানদার টাকা নিল না।

আমি এই শহরের কিছুই চিনিনা। এখন কোন দিকে যাই? এক স্কুলটা চিনি সে তো দেখেই এসেছি। আমি তেমন কোন ঝুঁকি না নিয়ে বাজারের মধ্যে হেঁটে বেড়াতে লাগলাম। দুপুরের খাওয়ার সময়ও পার হয়ে গেছে, খাওয়ার ইচ্ছাও নেই। একবার মনে হলো পকেটে টাকা আছে কিছু কিনি, কিন্তু কি কিনব ঠিক করতে না পেরে ঘুরতেই থাকলাম। ঘুরছি আর যেখানে জটলা দেখছি সেখানেই দাঁড়িয়ে কান পাতছি….. এরকমই এক জটলায় শুনতে পেলাম সুবান খুনকার কে মুক্তিবাহিনীর কোন এক গেরিলা দল হামলা করেও মারতে পারেনি। নামটা মনে রাখলাম-‘সুবান খুনকার’। উদ্দেশ্যহীন হাঁটতে হাঁটতে এক সময় চলে এলাম চুয়াডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ডের কাছে, যেখানে আমাদের আসার কথা সন্ধ্যায়। চুপ করে বসে আছি একটা বেঞ্চে। একবার মনে হলো একটা সিগারেট কিনে ধরাই! কিন্তু টানতে পারিনা বলে আর কিনলাম না। একবার চাচাতো ভাইদের সাথে ঘোড়া দৌড় দেখতে গিয়ে ফেরার সময় রাত হয়ে গেলে সেই ভাই বগা সিগারেট কিনে নিজে একটা আর আমাকে একটা ধরিয়ে দিয়েছিল! আমি এক টান দিতেই কাশতে কাশতে প্রায় বমি করে দিচ্ছিলাম! তার পর আর কোনদিন খাইনি। চুয়াডাঙ্গার এক একটা বাস ছেড়ে যাচ্ছে আর আমার মনে হচ্ছে একটায় উঠে বসলেই তো হয়! সোজা বাড়ি গিয়ে নামব! আমাদের বাড়ি, আমাদের পাড়া, লিচুতলার কথা মনে হতেই মনটা হু হু করে উঠল!

শহরে যে সবখানে একটা যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব তাও নয়। আবার সব কিছুই ঠিক আছে তাও মনে হচ্ছেনা। তবে এই শহরে প্রথম রাতেই যেমন লোকের গমগমে ভাব দেখেছিলাম এখন তেমন না। সবাই কেমন যেন চুপচাপ। চার-পাঁচ জন একসাথে হলেই ফিসফাস! সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত আমার ঘোরাঘুরির মধ্যে যা যা পড়ল তার সবই মনে রাখার চেষ্টা করলাম। বাস স্ট্যান্ডের একটু দূরে চুয়াডাঙ্গার দিকে হাঁটতেই দেখলাম বালির বস্তা দিয়ে রাস্তার দুপাশে দুইটা বাঙ্কার বানানো। একটা বাঙ্কারে ৮/১০ জন পাক সেনা। বাঙ্কারের পিছনেই তাবু। দুইজন বাঙ্কারে মেশিন গান নিয়ে দাঁড়ানো, আর তাবুর ভিতর তাবুর একমাথা খুলে ৬/৭ জন বসে আছে। হাঁটতে হাঁটতে অনেক কাছে চলে এসেছি…..হঠাৎ লিডারের কথা মনে পড়ল-‘ভাইডু তুমি, তুমি কিন্তু কোন হিরোগিরি দেখাতি যাবা না, খালি ঘুরি বেড়াবা আর চোখ কান খুলা রাখবা’। আর এগোলাম না। দূর থেকেই দেখছি। একবার মনে হলো ইস্ আমার কাছে যদি একটা গ্রেনেড থাকত! কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এলাম বাস স্ট্যান্ডে। এবার বাস স্ট্যান্ডে কিছু ভাসা ভাসা কথা শুনছিলাম…. কার ছেলেকে কবে কোন জায়গা থেকে ধরে এনে মেরেছে, কি ভাবে মেরেছে সেই সব বিবরণ। সন্ধ্যার অনেক পরে লিডার আর তিন জন পৃথক পৃথক হয়ে ফিরল। এবার চারজনে একসাথে বসে আছি । ওরা বড় তিন জন একে অপরের সাথে কথা বলে যাচ্ছে। অপেক্ষা করছি আমার সাথে যে ছিল তার জন্য। এলো না। অনেক রাত হলেও এলো না। লিডার খুব চিন্তা করছিলেন। সে তো এখানকারই ছেলে, তাহলে কি বাড়ি পালিয়ে গেল? বাকি দুজনকে জিজ্ঞস করল লিডার-‘ওর বাড়ি চেনো’? ওরা বলল-গ্রামের নাম জানি, কিন্তু কোন বাড়ি তা জানিনা। লিডার প্ল্যান নিচ্ছিল এই বাস স্ট্যান্ডেই রাত কাটানোর। আমি সাথে সাথে বলে উঠলাম-“না না এখানে বড় রাস্তার পাশে দুটো বাঙ্কারে ওরা আছে”…‘কত দূর’ আমি বললাম- ‘এই তো, আধা মাইলেরও কম’ , লিডার পিঠে হাত রাখলেন। আমি মাতব্বরি করে হঠাৎ জিজ্ঞেস করলাম-‘কোথায় কোথায় ক্যাম্প আছে’? সাথে সাথে লিডার নিজের মুখে আঙ্গুল রেখে চুপ করতে বললেন।

মেহেরপুরের যে দুইজন ছিল তাদের একজন বলল-শহরের পশ্চিমে একেবারে শেষ মাথায় আমার আত্মিয় বাড়ি আছে, আমরা সেখানেই থাকব। লিডার সাথে সাথে নাকোচ করে দিলেন। এখানেই থাকব, না এই রাতেই ফিরে যাব সেই চিন্তায় লিডার বলে দিলেন –একজনে রেখে ফিরছি না। সকাল পর্যন্ত দেখব। সে যেখানেই থাকুক এখানে আসবে। আর না আসলে কাল ফিরে যাব। শেষ পর্যন্ত থাকার জায়গা ঠিক হলো বাস স্ট্যান্ডেই। এত কাছে পাক আর্মি জেনেও সেখানে থাকার ব্যবস্থা হলো। মোটামুটি ভাল ব্যবস্থা! একটা বাসে দুই জন করে থাকব। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে –বাসের হেল্পার বলতে হবে। আমি বললাম-আমিও হেল্পার? –না তুমি কবা ‘আমি পানি মারি’। পানি মারা বোঝ তো?- বুঝি। আমি থাকলাম লিডারের সাথে। বাসে উঠে আবারও আমি খবর কি কি পাওয়া গেল জানতে চাইলে এবার তিনি বললেন-‘ভাল খবর পাওয়া গেছে, একটা অপারেশন করাই যায়, কিন্তু আমরা বললেই কি করবে? স্যারদের মর্জি হলে করবে’। ‘স্যারদের মর্জি’ কাকে বলা হচ্ছে সেটা না বললেও আমি বুঝলাম। মশার কামড়ে অতিষ্ট হলেও দেখলাম লিডার ঘুমিয়ে গেলেন। আমার ঘুম এলো না। কখনোই রাতে শোয়ার সাথে সাথে আমার ঘুম আসেনা। আকাশ-পাতাল ভেবে চলেছি আমি……..

মুক্তিযোদ্ধারা কোথাও কোন অপারেশন করতে চাইলে তারা তা করতে পারত না। ‘স্যার’ মানে উইং কমান্ডার সাহেবই ঠিক করতেন কোথায় কি ভাবে কবে অপারেশন করতে হবে। এমনকি গেরিলা টিমও তাদের ইচ্ছামত এ্যাকশনে যেতে পারত না। একদিন এই নিয়ে ঝগড়া শুনেছি , ইপিআররা বলত- ‘তোমরা সিভিলিয়ানরা কি বোঝ ? কয়দিনের ট্রেনিং তোমাদের? খালি খালি যাবা আর ধপাধপ মরবা’। মুক্তিযোদ্ধারা সামনে হয়ত কিছু বলত না, কিন্তু তারাও অপারেশনে গিয়ে সব নির্দেশ মানত না। গুলি খেয়ে আহত হলে, কেউ হারিয়ে গেলে (মাঝে মাঝে টিম থেকে দুএকজন ফিরত না, তখন ধরে নেওয়া হতো তারা মারা গেছে, কিন্তু একবার একজনের খবর পাওয়া গেল যে সে বাড়ি চলে গেছে, মারা যায়নি, তার পর থেকে বলা হতো ‘হারিয়ে গেছে’) হারানোর কথা মনে হতেই সেই ছেলেটির কথা মনে হলো, স্কুলের কাছ থেকে আমাকে হাত ধরে টেনে এনেছিল, সে কি আর ফিরবে না? ধরা পড়ল? মারা গেল? এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম। খুব ভোরে বাসের লোকদের ডাকাডাকি আর চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গল। কয়েকজনে একসাথে প্রশ্ন করছে-এ্যাই তুমরা কিডা গো? এইকেনে কি কচ্চো? লিডার লাফ দিয়ে উঠেই ফিসফিস করে বলল- বিচ্ছু, টিম। সাথে সাথে ওরা চুপ! এরপর ওরাই নামিয়ে নাস্তাটাস্তা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে চাইল। লিডারের মুড অফ। সকালেও সেই ছেলেটি না আসায় গুম মেরে আছেন। পেট খালি। আমার খুব রাগ হচ্ছে। ক্ষিদে লেগেছে সেটাও বলতে ভয় পাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর লিডার বললেন-যার যার মত আলাদা হয়ে দুই ঘন্টার মধ্যে যেখান দিয়ে নদী পার হয়েছিলাম সেখানে চলে যাবে। আমরা মাথা ঝাঁকিয়ে আলাদা হয়ে গেলাম। আমার একেবারে ছোট বেলায় চুয়াডাঙ্গার মত একটা সকাল। মর্নিং স্কুলের সময় স্কুলের সামনে পিঠে নিয়ে ফেরিঅলা বসত। হাঁটতে হাঁটতে একটা প্রাইমারী স্কুলের সামনে দেখলাম এক লোক ঘোল নিয়ে বসেছে। পয়সা বের করে ঢক ঢক করে এক গ্লাস ঘোল খেলাম। আরো একটু যেয়ে একটা চৌরাস্তার পাশে পেলাম আমার সবচে’ প্রিয় জিনিস-কুলপি মালাই! দূর থেকেই বড় হাঁড়িতে লাল কাপড় পেঁচানো দেখেই মনটা আনচান করে উঠল। কাছে গিয়ে একসাথে দুইটা কুলপি মালাই নিলাম। মনে পড়ল কতদিন খাইনা! শেষে কলার পাতায় যেটুকু লেগে ছিল তাও চেটে খেলাম। খুব ইচ্ছে হলো ছোট বোনদের জন্য নিয়ে যাই। মালাইঅলা বলল- কিসে দেব? আমি আর কোথাও প্লাস্টিকের ঠোঙ্গা পাইনা। কলাপাতায় নিলে তো সাথে সাথে গলে যাবে! মালাইঅলা উঠে গিয়ে বিস্কুটের দোকান থেকে একটা বিস্কুটের পলিথিন নিয়ে আসল। তাতে পাঁচটা মালাই নিয়ে আবার হাঁটা। লিডার বকতে পারে ভেবে প্যাকেটটা প্যান্টের কোমরের বর্ডারের ভেতরে ঢুকিয়ে নিলাম। তলপেটের কাছটা ঠান্ডা হয়ে গেল!

এক সময় সেই নদীর পারে পৌঁছুলাম। চার জন। সেই একজন নেই। আর এলো না। আমরা ফিরে চললাম আবার ভারতে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল প্রায়। ক্যাম্প থেকে একটু দূরে থাকতেই দেখলাম বিএসএফ ক্যাম্প আর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের মাঝে যে মাঠের মত ফাঁকা জায়গা সেখানে অনেক বড় জটলা। ঘটনা কি? জটলা দেখলেই আমাদের মাথায় প্রথমেই চিন্তা আসত কেউ মারা গেছে! কারো লাশ! কাছে এসে দেখলাম ঠিকই লাশ। একজন মহিলার লাশ ! শাড়িটা হাঁটুর কাছে উঠে আছে। টান টান চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। খুব সকালেই এই লাশটা এই দুই ক্যাম্পের মাঝামাঝি পাটক্ষেতে পাওয়া গেছে। পুলিশ আসেনি তাই এখনো কেউ নেয়নি। লোকজন বলাবলি করছিল- এটা এই তিন দলের কারো কাজ। বিএসএফ, মুক্তিযোদ্ধা অথবা নতুন ক্যাম্প করা ভারতীয় আর্মি, (দিন দশেক আগে এই দুই ক্যাম্পের থেকে একটু দূরে ভারতীয় আর্মি বেতাই থেকে ক্যাম্প সরিয়ে এখানে এনেছে। দুইটা চাকা লাগানো কামান মেহেরপুরের দিকে তাক করা। এদের প্রায় সবাই শিখ। এরা আসার পর থেকেই গ্রামের লোকরা ভয়ে ভয়ে থাকে)। আমরা ক্যাম্পে চলে গেলাম। সেখানেও এই একই আলোচনা-কারা করল এই জঘন্য কাজ? মহিলাকে রেপ করার পর মেরে ফেলা হয়েছে। ওই লাশটাই মনে হয় শুরু করে দিল! এর পর থেকে কেবলই লাশের সংখ্যা বাড়তে লাগল। আমরা ধরে নিলাম আমাদের সাথের সেও লাশ হয়ে গেছে। দুই দিন পরই দেখলাম এক মুক্তিযোদ্ধার লাশ। এরাও ক্রমে ক্রমে সাহসী হয়ে উঠছিল। অনেক ভেতরে চলে যাচ্ছিল। কেউ কেউ লাশ হয়ে সেখানেই পড়ে থাকছিল, আবার কেউ কেউ আহত হয়ে সাথীদের ঘাড়ে চড়ে এসে ক্যাম্পে মারা যাচ্ছিল। আমরা মনে হয় লাশ দেখে অভ্যস্থ হয়ে উঠছিলাম, কারণ লাশ দেখে তো আমার কান্না আসার কথা! খুব কাছে থেকে মৃত্যু দেখা শুরু হলো……………….

চলবে……

প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্ব। তৃতীয় পর্ব। চতুর্থ পর্ব। পঞ্চম পর্ব। ষষ্ঠ পর্ব। সপ্তম পর্ব। অষ্টম পর্ব। নবম পর্ব। দশম পর্ব। একাদশ পর্ব।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতিকিশোর মুক্তিযোদ্ধামুক্তিযুদ্ধবাঙ্গালীবাংলাদেশীবাংলাদেশ১৯৭১৭১৭১মনজুরুল হকস্মৃতিকথাগেরিলাপাকিস্তানপূর্ব বাংলাবিহারী197171’71bangladeshfreedom fighterliberation warbangladeshibanglaeast pakistanwest pakistan…. ; ; ; ; ; ; ; ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধস্মৃতিকথা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:০৯ |বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

৪২৩ বার পঠিত৪৬০২১

 

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

 

৬০টি মন্তব্য

১-৩০

১. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৯০

ফারহান দাউদ বলেছেন: যুদ্ধের ভয়াবহতা টের পাওয়া যাচ্ছে এখান থেকে।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৩০

লেখক বলেছেন:

অনুভবে আন্তরিকতায় উপলব্ধির জন্য ধন্যবাদ ফারহান।

২. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০১০

ফারহান দাউদ বলেছেন: আর আবারো দাবী রাখছি, খুঁটিনাটি সব তুলে রাখুন, আমরা যারা যুদ্ধের দিন দেখিনি, তারা জানতে চাই সবকিছু।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৬০

লেখক বলেছেন:

প্রথমে ভেবেছিলাম বিশেষ বিশেষ ঘটনা আর মূল বিষয়গুলি লিখেই সিরিজটা শেষ করে দেব। এখন দেখা যাচ্ছে আপনাদের অনেকেই সেই সময়কার খুটিনাটি সব কিছু তুলে আনতে বলছেন। আসলেই যা উল্লেখ না করলে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাই সিরিজটি মনে হচ্ছে আরো বড় হবে।

কথা দিচ্ছি- সব তুলে আনব।

ধন্যবাদ ফারহান।

৩. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১০০

লুৎফুল কাদের বলেছেন: Did 5th person ever came back? +

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৪০

লেখক বলেছেন:

মেহেরপুর থেকে?

না। একজন ফেরেন নি।

আর যদি বলেন যুদ্ধশেষে দেশে ফিরেছিল কি-না?

সেটা জানিনা। কারণ এর পরে অনেক কিছুই ভাগ হয়ে গিয়েছিল।

৪. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৫০

শ।মসীর বলেছেন: যুদ্ধ দিন আর শৈশব- সমানে সমান, কেউ যেন কাউকে ছেড়ে কথা বলছেনা, সময়ে সময়ে দুজনই নিজ পথে ঠিকানা খুজতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৭০

লেখক বলেছেন:

ঘাত-প্রতিঘাতে জোর করেই পরিণত হয়ে গেছিলাম ঠিকই, কিন্তু শৈশব ভুলি কি করে!

এতকিছুর মধ্যেও ফাঁক পেলেই পাখির বাসা খোঁজা, মাটি দিয়ে মার্বেল বানিয়ে রোদে শুকোতে দেওয়া, রায় বুড়োর পেঁপে চুরি করা থেমে থাকেনি!!

আপনি এই দিকটা ঠিক আমার চিন্তার সাথে মিলিয়েই ধরতে পেরেছেন।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা শামসীর।

৫. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩১০

শ* বলেছেন: বিচ্ছু টীম !!

একেবারে পারফেক্ট একটা নাম । মাটির গন্ধ মেশানো আছে নামটায় ।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৪০

লেখক বলেছেন:

তখন মানুষের যা মাথায় আসত তাই দিয়েই এক একটা ইতিহাস গড়ে উঠত।

আসলেই, নামটার মধ্যে মাটির গন্ধ মেশানো আছে…..

৬. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৪০

সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:

বোনদের কথা ভেবে কুলফী নেয়া…….এই যুদ্ধের মাঝেও…….

একেই বলে ভাই।

কিযে অদ্ভুত লাগলো মনজুরুল ভাই, এই টান।

লেখার মনজুরুল ভাই এর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া দেখছি………অসাধারন।

শুভকামনা।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৮০

লেখক বলেছেন:

আমার সেই কুলফি বাড়ি এনেছিলাম ঠিকই, কিন্তু গলে দুধ হয়ে গেছিল! তারপরও তা পেয়ে বোনদের মুখের হাসি ভুলবার নয়!

সেই বিদেশে বসে দেশের এই এক স্মৃতিকথায় প্রতিদিন যেভাবে প্রেরণা যুগিয়ে যাচ্ছেন সেটাও এমনিতে আসে না সাজি। এর জন্য টান লাগে, যে “টান” খুব যত্ন করে লালন করে চলেছেন অহর্নিশী। অভিনন্দন।

৭. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৫২০

রাজর্ষী বলেছেন: মহাকাব্যিক

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৫০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ রাজর্ষী।

৮. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৩১০

ফিরোজ-২ বলেছেন: যুদ্ধের ভয়াবহতা টের পাওয়া যাচ্ছে এখান থেকে।

দাবী রাখছি, খুঁটিনাটি সব তুলে রাখুন, আমরা যারা যুদ্ধের দিন দেখিনি, তারা জানতে চাই সবকিছু।

মনজুরুল ভাই এর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া দেখছি………অসাধারন।

শুভকামনা।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৬০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ ফিরোজ-২ । আপনার দাবি আরো অনেকেরই দাবি । সে হিসেবে ডিটেইল বলে যাব।

সাথে থাকার জন্য শুভেচ্ছা নিন।

৯. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৫২০

মাহবুব সুমন বলেছেন: পড়ছি

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৭০

লেখক বলেছেন:

কৃতজ্ঞতা।

১০. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১১০

বিডি আইডল বলেছেন: এই সিরিজটা পড়া হয়নি….প্রথম থেকে পড়ে নি….

ধন্যবাদ মনজু ভাই

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৮০

লেখক বলেছেন:

বিডি খবর ভাল তো?

অনেক দিন খামোখা মিস করছিলাম আপনাকে।

ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল। এমন বিজয়ের দিনে আবার সব পূর্ণ হয়ে উঠেছে দেখে ভাল লাগছে।

১১. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪১০

সানুনয় বলেছেন: গল্প সুন্দর করতে গিয়ে কিছু বাদ দিবেন না। যা যা আপনার জীবনে ঘটেছে, যা যা মনে পরে সব লিখবেন। কিছু বাদ দিবেন না।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৯০

লেখক বলেছেন:

নিশ্চই। একবার যখন কথা দিয়েছি, নিশ্চই কথা রাখব।

শুভেচ্ছা রইল।

১২. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫১০

সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: শুরু হলো যুদ্ধের ভয়াবহতা। যদিও এই ভয়াবহতা ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় বড় শহরে আগেই শুরু করেদিয়েছিল পাকআর্মি । কিন্তু এবারে শুরু হল প্রতিরোধ করতে যেয়ে । পরে পরে মার না খেয়ে ওদের মেরে মরার প্রতিজ্ঞায় বাঙ্গালী এখন বেপরোয়া।

কুলফী আমারও খুব প্রিয়। বঙ্গবন্ধু মারা যাবার পর সঙ্গত কারনেই কিছুদিনের জন্য আমার বাবাকে ঢাকা ছাড়তে হয়। তখন বাবা কুষ্টিয়ার জগতি সুগারমিলে মেডিকেল অফিসার হিসাবে জয়েন করেন। তখন কুলফি খেয়েছিলাম। সেই কুলফির স্বাদ আমার জ্বিভে এখনও লেগে আছে। মাঝে মাঝে ঢাকায় ১লা বৈশাখে কুলফি পেতাম কিন্তু বিশ্রি স্বাদের সেগুলি স্যাকারিন দেয়া।

২০০৭ এ শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে যেয়ে আবার আমি কুলফি ওয়ালা পাই। আমি সেদিন অনেকগুলি কুলফি খেয়েছি। ঠিক যেন স্বাদ তেমনি আছে।

আপনার কুলফি খাবার কথা শুনে মনে হল আপনার সেই মনটা বোধ হয় কুলফি দেখে আমার মনের মতই কাঙ্গাল হয়েছি।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০৮০

লেখক বলেছেন:

শত প্রতিবন্ধকতা আর বিপদের পরও কৈশরের স্বভাবজাত প্রবনতা কি সহজে যায়? ছুট পেলেই মার্বেল খেলতে থাকা ছেলেদের দলে ভিড়ে যেতাম। পরক্ষণেই মনে হতো আমার কি খেলার সময় আছে…………

কখনো কখনো মন খরাপ হতো, আবার কখনো কখনো নিজেকে ওদের চেয়ে পরিনত মনে হতো।

১৩. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫১০

মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলির মতোই- আপনার এই লেখা আজীবন বেঁচে থাকবে।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩২০

লেখক বলেছেন:

আর কোথাও থাকুক না থাকুক আপনাদের হৃদয়ে থাকলেই আমার পরিশ্রম সার্থক হবে। অন্তত আমাদের পরবর্তি প্রজন্মকে বলতে পারব -এই তোমাদের সিঁড়ির ধাপগুলো…….

১৪. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৬০

নাজমুল আহমেদ বলেছেন: আসল লড়াই শুরু হয়ে গেছে দেখছি….

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩০০

লেখক বলেছেন:

নিরন্তর লড়াই। লড়াইয়ের ময়দানের বাইরেও নিরন্তর লড়াই।

শুভ কামনা নাজমুল।

১৫. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২০০

নির্ঝরিনী বলেছেন: তন্ময় হয়ে পড়লাম…

সাধারন মানুষরাও দেখছি, যার যার সাধ্যমত সাহায্য করেছে!!!!!!!

সেই দোকানদার ছেলেটার টাকা না নেয়া…বাসের লোকদের বিচ্ছু বাহিনী শুনেই চুপ করে যাওয়া, সেই সাথে সাহায্য করতে চাওয়া…

এই বাহিনীর কি নির্দেশ ছিলো যে, কেউ একজন না ফিরলে তার জন্য অপেক্ষা করা…

কারন আগের পর্বে জেলেদের সাথে যখন গিয়েছিলন, তখন তো নির্দেশ ছিলো কারো জন্য অপেক্ষা না করা…

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৩০

লেখক বলেছেন:

সেটা ছিল বিপদে পড়লে বা ধরা পড়লে আর কেউ সাহায্য করতে যাবে না।

আর এটা হচ্ছে লিডার জানেন না যে কি ঘটেছে। সেটা জানার জন্য এবং রিস্ক কমাতে রাত থাকতে হয়েছিল। পর দিন লিডার তার খোঁজও করেননি ।

সাধারণ মানুষ আরো অনেক ক্ষেত্রে সহমর্মীতা দেখিয়েছে।

১৬. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৬০

পল্লী বাউল বলেছেন: মুগ্ধতা ক্রমেই বাড়ছে……

পরের পর্বের জন্য্ অধীর প্রতীক্ষায়।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১০০

লেখক বলেছেন:

ঢাকায় এসে আবার দেখা না করে চলে যাবেন না যেন….

১৭. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪২০

বলেছেন:

সিনেমায় ধর্ষন দৃশ্য বা নৃশংস হত্যাদৃশ্য দেখে গায়ে ঘাম নামে, একাত্তরে আপনার অবস্থানে থাকলে জানি কি করতাম!!

পুরো শরীরে শীত নামে।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১১০

লেখক বলেছেন:

পুরো শরীরে শীত নামে!

১৮. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৭০

মেজো ছেলে বলেছেন: কঠিন যুদ্ধ!!

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১৭০

লেখক বলেছেন:

ঠিক বলেছেন।

১৯. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৮০

যীশূ বলেছেন: গল্পের মত মনেহয়। কি দারুন দিন কাটিয়েছেন আপনি!!!!!!!

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২২০

লেখক বলেছেন:

স্বপ্নের মত! যখন মৃত্যুভয় তাড়া করত তখন রিতিমত শিহরিত হতাম!!

২০. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯০

ম্যাকানিক বলেছেন: বেশ দেরি করে ফেললাম আজকে মঞ্জু ভাই ।

থামবেন না প্লিজ।

অন্তত আমাদের পরবর্তি প্রজন্মকে বলতে পারব -এই তোমাদের সিঁড়ির ধাপগুলো…….

সহমত

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৩০

লেখক বলেছেন:

কথা দিয়েছি। অতএব থামার সুযোগ নেই।

খুঁটিনাটি সবই প্রকাশ করে যেতে চাই। সব।

২১. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৭০

মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: পরে কি সেই একজনের আর খবর পেয়েছিলেন?

ফারহানের অনুরোধটার সাথে একমত। বড় হলেও বিস্তারিত লিখুন। আমাদের সবারই জানা দরকার।

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৫০

লেখক বলেছেন:

নাহ্ । সে মিসিং। তবে আমরা ধরে নিয়েছিলাম সে মারা যায়নি। মনে হয় কষ্ট সইতে না পেরে বাড়ি ফিরে গেছে। এই ধরণের আরো ক্যারেক্টার ছিল (যেগুলো আরো পরে আসবে)।

২২. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১০০

পারভেজ মাসুদ বলেছেন: হক ভাই, এই পোস্টটা একটু পড়বেন প্লীজ?

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪০০

লেখক বলেছেন:

এই মাত্র ফ্রী হলাম। যাচ্ছি আপনার পোস্টে….

২৩. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৬০

পারভেজ মাসুদ বলেছেন: হক ভাই, থ্যাঙ্কস।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৭০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ পারভেজ।

অ.ট. আপনি কি কোন পত্রিকায় কাজ করেন? স্পোটর্স সেকশনে?

২৪. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫১০

ত্রিশোনকু বলেছেন: পড়ছি আর হারিয়ে যাচ্ছি ‘৭১ সেই দিন গুলোতে। যুদ্ধের ভয়াবহতা বাড়ছে লেখায় তা বোঝা যাচ্ছে।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২৫০

লেখক বলেছেন:

দিনগুলো ধীরে ধীরে ডিসেম্বরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে…

২৫. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫৬০

পারভেজ মাসুদ বলেছেন:

হক ভাই,

না, আমি পত্রিকায় কাজ করি না। পত্রিকায় লেখার যোগ্যতা আমার নেই। কয়েকবার ওদের কাছে লেখা পাঠিয়েছি, ওরা ছাপানোর উপযুক্ত বিবেচনা করেনি। আমি ভাই বিদ্যুতের মিস্ত্রী।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩১০

লেখক বলেছেন:

আমি এই নামে একজনকে চিনতাম। সে পত্রিকায় কাজ করত, সে কারণে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আর কিছু না।

ভাল বলেছেন-“বিদ্যুতের মিস্ত্রী”!!

২৬. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫২০

রাগ ইমন বলেছেন: কিছুই বাদ দেবেন না মনজু ভাই । সজোর অনুরোধ। সিরিজ যত লম্বা হয় ততই ভালো । যত বেশি খুটি নাটি লিখবেন ততই ভালো ।

যুদ্ধের পরের কাহিনীও চাই । হোক তা ভিন্ন নামে , দরকার আছে সর্প গহবরে প্রবেশের গল্প গুলাও ।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৫০

লেখক বলেছেন:

আচ্ছা। কিছুই বাদ দেব না। গত দুইটা পর্ব থেকে মনে হচ্ছিল ওভার ল্যাপ করি…

পাঠকের পেশেন্স নিয়ে কিঞ্চিৎ চিন্তিত ছিলাম। আজ ভেবে দেখলাম; বলে যাওয়া উচিৎ, এই বলাবলি এতটা বছর পর শুরু করে মাঝ পথে থেমে গেলে নিজের সাথেই প্রতারণা করা হবে!

প্রতারক হতে চাইনা।

সর্পগহবরটানাহয়এখনথাকুক।

২৭. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২১০

ফেরারী পাখি বলেছেন: আমি উল্টো দিক তেকে পড়ছি।

ইস! সে সময় মানুষ কত নির্মোহ ছিলেন। নিজের সন্তানের জীবন তুচ্ছ করতেও আপনার বাবা-মা দ্বিধা করেননি।

লেখাটা পড়তে পড়তে আমারই ভয় ভয় করছিল।

আপনি আমাদের মুক্ত হবার সংগ্রামের একজন খুবই নিবিড় সাক্ষী। আপনাকে অভিবাদন।

যুদ্ধ হয়তো এরকম অনেকেই প্রত্যক্ষ করেছেন, কিন্তু আপনার লেখার মত করে কোন লেখা চোখে পড়েনি।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৮০

লেখক বলেছেন:

নিজের চোখে দেখা বলেই মনে হয় বর্ণনায় সেটা ফুটে উঠছে…..

আমি সে সময়ের নিরব স্বাক্ষী। নিরবেই সেই সব দিনের কথা বলে যেতে চাইছি। জানি না কতটুকু সক্ষম হচ্ছি।

অনেক ধন্যবাদ পাখি।

২৮. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১১০

অপ্‌সরা বলেছেন: আমার দাদুবাড়ী যশোর! ছোটবেলায় বেশ কয়েকবার এসব জায়গায় গেছি। তোমার মত করে কখনও কেনো যেন কেউ শুনায়নি মুক্তিযুদ্ধের গল্প!

চুয়াডাঙা, মেহেরপুর যেসব জায়গার কথা বলছো , চোখের সামনে ভাসছে জায়গা গুলোর ছবি । দেখতে পাচ্ছি চলচ্চিত্রের মত যেন কি ঘটে গেছে একদিন এসবখানে।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৩০

লেখক বলেছেন:

আমার যা কিছু সুখের আর দুঃখের স্মৃতি, সবই ওই চুয়াডাঙ্গা, যশোর, খুলনা আর দর্শনা ঘিরে…… আমার ফেলে আসা শৈশব।

২৯. ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২২০

শিপন আবদুর রাজ্জাক বলেছেন:

ক্রমান্বয়ে বাড়ে লাশের মিছিল

ক্রমান্বয়ে বেড়ে যায় ঋণ,

তখন ডাক এসেছিলো প্রাণে-প্রাণে

দিন বদলের দিন !

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৮০

লেখক বলেছেন:

কি এক অসামান্য সময়কে

সেই সময়ের প্রজন্ম বুকে ধারণ করেছিল!

কি ভয়ংকর সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নে

বিভোর হয়ে হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছিল!

৩০. ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫৪০

মেহবুবা বলেছেন: ছোট খাট সব বিস্তারিত বলছেন ।

পড়তে বসলে দিব্যচোখে দেখতে পাই সেখানে ছিলাম ।

কুলফি মালাইয়ের কথা নিয়ে সামছার মনোভাব আমারো ।

পড়ছি । আপনার এই লেখা একবার পড়লে ঠিক ধরতে পারি না । একাধিকবার পড়তে হয় ।

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৩০

লেখক বলেছেন:

ডিসেম্বরের মধ্যেই সিরিজটি শেষ করার তাগিদে আরো অনেক কিছু এড়িয়ে যেতে হয়েছে। তারপরও ডিসেম্বরে শেষ হলো না। জানুয়ারীতে তাড়াহুড়া করে শেষ করতে হলো।

ভাল থাকুন মেহবুবা।

 

Top of Form

আপনার মন্তব্য লিখুন

কীবোর্ডঃ  বাংলা                                    ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয় ভার্চুয়াল   english

নাম

       

Bottom of Form

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s