এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি [১৩] ক্রমেই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে…

556719_379430475481805_599501349_n

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৬ |

যে মহিলার লাশটি পড়ে ছিল তিনকুলে তার কেউ ছিলনা। দুই তিনটা ছাগল নিয়েই তার সংসার। সবাই বলাবলি করত সে নাকি ‘খারাপ মেয়ে মানুষ’! বিএসএফ ক্যাম্পে-ট্যাম্পে যেত, বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে যেত, কিন্তু যারা তার নামে গিবত ছড়াত সেই তারাই তার মৃত্যুর পর প্রশ্ন তুলল-কে মেরেছে? সন্দেহের তীর বেশির ভাগেরই ভারতীয় আর্মির দিকে। যারা মুক্তিযোদ্ধাদের পছন্দ করত না তাদের আঙ্গুল সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের দিকে। সারাদিন কানাঘুসা চলার পর বিকেলের দিকে পুলিশ এসে লাশ নিয়ে গেল। হঠাৎই যেন সব আলোচনা থেমে গেল। এই ঘটনার মাত্র দুই দিন পর ঠিক একই রকম ভাবে আর এক নারীর লাশ পাওয়া গেল। একে পাওয়া গেল একেবারে সীমান্তে। পাক বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ধর্ষণ করেছে। একদিন সুযোগ পেয়ে সে পালাতে পেরেছে,কিন্তু পালিয়েও বাঁচতে পারেনি! মুক্তিযোদ্ধারা যখন তাকে সীমান্ত থেকে উর্দ্ধার করে তখন তার গায়ে গুলি ছিল। ক্যাম্পে আনার পর মারা যায়। ধর্ষণ কি জিনিস সে সম্পর্কে ভাসা ভাসা বুঝলেও সব কিছু বুঝতাম না। ওই মেয়েটিকে দেখার পর আমার গা গুলিয়ে বমি আসছিল! সারা শরীর ক্ষত বিক্ষত! শাড়ি-ব্লাউজ ছেঁড়া! ঠোঁটে-মুখে ক্ষত। ওই দিন থেকে যতরকম অপরাধীর কথা আমার মাথায় ছিল তাদের সবার চেয়ে এই ধর্ষণকারীদের উপর সবচেয়ে বেশি ঘৃণা হলো। ওখানে জটলার ভেতরে না থেকে যদি আমি তাকে একা একা দেখতাম তাহলে মনে হয় হাউমাউ করে কান্না থামাতে পারতাম না। গত কয়েক মাসে লাশ কম দেখিনি, কিন্তু এই লাশটি দেখার পর দুই তিন দিন মনমরা হয়ে ছিলাম। কোন কিছু ভাল লাগত না। তা আবার কাউকে বোঝাতেও পারতাম না।

ভারতীয় সেনাবাহিনী আমাদের ক্যাম্পের কাছে ক্যাম্প করার পর আমাদের মনোবল বেড়ে যায়। আগে যেমন মনে হতো-আমাদের কামান নেই, ট্যাঙ্ক নেই, যুদ্ধবিমান নেই…. এখন আর তেমন মনে হচ্ছিল না। আমরা ওদের চিনি না জানি না, তার পরও যখন দেখতাম মেহেরপুরের দিকে তাক করা কামান নল উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, তখন মনে হতো ওটা আমাদেরই কামান! আমার যেমন মনে হচ্ছিল তেমনি কমান্ডারদেরও মনে হচ্ছিল কি না জানি না, কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প হওয়ার পর থেকেই আমাদের অপারেশনের মাত্রা বেড়ে গেছিল। গেরিলা টিমগুলো অনেক দিনের টার্গেট নিয়ে বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে যাচ্ছিল। এই সময় একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করলাম! গেরিলা টিম গঠনের সময় সেই টিমে একজনও আর্মি বা ইপিআর নেই! সব টিমগুলোই সিভিলিয়ানদের নিয়ে বানানো হচ্ছিল। বাবা ইন্সট্রাক্টর ছিলেন বলে বাবা কখনো গেরিলা টিমে যেতেন না। আর মেহেরপুর থেকে ফেরার পর আমাকেও আর টিমে দিতে চাইলেন না। আমিও বাবার অমতে জোরাজুরি করিনি। বাবা কি মনে করে এটা করলেন জানি না। আমরা ‘রেকি’ করে ফিরে আসার পর যে টিমটা গিয়েছিল তারা ফিরে আসে চার-পাঁচ দিন পরে। সাতজনের টিম গিয়ে ফিরে আসে মাত্র চারজন। তিন জন নেই। আমরা জানতাম না ফিরলে বলা হতো ‘হারিয়ে গেছে’, কিন্তু এবার ওরা এসে বলল- তিন জন ক্যাজ্যুয়াল্টি। মানে শহীদ! খুবই আশ্চর্য্য হলাম! এই যে তিনজন ফিরল না। তিন তিনজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হলো তা নিয়ে ক্যাম্পে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখলাম না! কারো যেন কিছুই হয়নি। আমি রাতে বাবাকে এ নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করতেই বাবা মাথা নিচু করে থাকলেন। আমি আরও পীড়াপীড়ি করার পর বাবা বললেন-এই কারণেই তোমাকে আর দিতে চাইনি। এখন আর ‘রেকি’র দরকার নেই। ওরা গেছিল এ্যাকশন করতে। তাতে তো লোক মারা যাবেই। বাবা এমন ঠান্ডা ভাবে কথাগুলো বললেন যেন কিছুই হয়নি। আমার কাছে যুদ্ধের অনেক নিয়মের মধ্যে এই নিয়মটা ভাল লাগল না। পরে বাবা আবার আমাকে বোঝালেন-‘আমাদের কি করার আছে বলো’? আমিও এর পর মনে মনে মেনে নিলাম-আমাদের কি করার আছে!!

আগষ্ট মাস শুরু হয়ে গেছে। এই মাসটা এলেই আমি দিন গুণতে থাকতাম আগে। কবে এগার তারিখ আসবে? দেশে থাকতে আমার জন্মদিনও খুব ঘটা করে পালন করা হতো না। সে সময় আমাদের মত পরিবারের কারোরই বোধহয় তেমন করে জন্মদিন পালিত হতো না। একেবারে কিছু না হলেও মা পায়েস রান্না করতেন। সন্ধ্যায় পাড়ার কাকা-কাকীরা এটা ওটা নিয়ে আসতেন। সেই এটা ওটা বলতে তেমন কিছুই না। নাবিস্কো বিস্কুটের চার কোণা প্যাকেট। তার মধ্যে ক্রিম দেওয়া। একবার ন’য়া কাকা একটিন বিস্কুট দিয়েছিলেন। গোল টিনের কৌটো। ভেতরে সল্টেড বিস্কুট। মানে নোনতা বিস্কুট। সেটা আর রেজাউল মামা একটা হারমোনিয়াম বাঁশী (মাউথ অরগান) কিনে দিয়েছিলেন। সেটাই আমার সবচেয়ে দামি গিফ্ট ছিল। আমি নাকি ছোট বেলা থেকেই মাউথ অরগান খুবই পছন্দ করতাম। এখানে এই বিদেশেও আমি মনে মনে এগার আগষ্ট কবে আসবে ভাবছিলাম, কিন্তু এখন যে এই সব করার সময় নয় সেটা ঠিকই বুঝতে পারছিলাম। তাই মা-বাবা কাউকেই কিছু বলিনি। সম্ভবত নয় আগষ্ট বা দশ আগষ্ট যেদিন আমি ঠিক করেছি কোন কিছু না করলেও মা’কে অন্তত বলি যে আমার জন্ম দিন আসছে মা! কিন্তু তা আর হলো না। আমি জানতেও পারিনি মা আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন জন্মদিনে আমাকে একজোড়া জুতো কিনে দেবেন। আমার চামড়ার স্যান্ডেল হারানোর পর থেকে আমি স্পঞ্জের স্যান্ডেল পায়েই চলাফেরা করতাম।

নতুন এক লিডারের নেতৃত্বে পাঁচ বা ছয় তারিখে গেরিলা টিম ভেতরে চলে গেছিল। আমি জানতাম না। যেহেতু আমি যাব না, তাই খোঁজও নেইনি। সেই টিমের ফেরার দিন পার হওয়ার পরও যখন ফিরছিল না, তখন রি-কাভার টিম পাঠানো হয়েছিল, সেটাও আমি জানি না। সেই রি-কাভার টিম ফিরে আসে ১০ আগষ্ট। তারা রিপোর্ট করেছিল-ওই টিমের কেউই আর বেঁচে নেই! খবরটা শোনার পর আমি হতভম্বের মত বসে ছিলাম। কিচ্ছু করতে ইচ্ছে করছিল না। গড় গড় করে ফেরা টিম অফিসিয়ালি রিপোর্ট করে যাচ্ছে………ওরা রেকি করে আসার কারণে নদীর পাড়ের ফাঁড়ি টার্গেট করেছিল। রেকি অনুয়ায়ী ওখানে থাকার কথা দশ থেকে পনের জন পাক সেনা, কিন্তু ওখানে ছিল প্রায় শ’খানেক। নদী পেরিয়ে ওরা দুই দিক থেকে ঘিরে ফাঁড়ি এ্যাটাক করেছিল। দু’একজন পাক সেনা মারা গেলেও যেতে পারে, কিন্তু ওরা রেঞ্জের মধ্যে চলে যাওয়ায় মেশিনগানের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। দুইটা লাশ গ্রামবাসী পেয়েছে। আর বাকি লাশ পাক সেনারা নিয়ে গেছে, তাদের সাথে…….আমি আর শুনছিলাম না। কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ করছে! মনে হচ্ছে ওরা যে কথা বলছে তা অনেক দূর থেকে……চোখের সামনে বার বার লিডারের কথাগুলো ভেসে উঠছিল.. ‘ভাল খবর পাওয়া গেছে, একটা অপারেশন করাই যায়, কিন্তু আমরা বললেই কি করবে? স্যারদের মর্জি হলে করবে’। তাহলে কি আমার লিডার ভুল খবর এনেছিল? আমি দৌড়ে লিডারের তাবুতে গেলাম। নেই। তার টিম নিয়ে চলে গেছে।

এই প্রথম দেখলাম সাত সাতজন গেরিলা মারা যাবার পর ক্যাম্পে শোক নেমে এলো। এ নিয়ে আমাদের ক্যাম্পে মারা গেল মোট দশজন। আর হারিয়ে গেছে পাঁচ জন। ইয়াসিন কাকার তাবুতে মাইনে আহত হয়ে আছে দুইজন, কিন্তু এর একজনও ইপিআর বা আর্মি নয়। সবাই সিভিলিয়ান। মুক্তিযোদ্ধা। আমার বাড়িতে খবরটা পাওয়ার পর এই টিমে যদি আমি থাকতাম তাহলে কি হতো সেই চিন্তা করে মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকলেন। কে কে মারা গেল, তারা দেখতে কেমন, আমি কি তাদের চিনি? কেউ কি কম বয়সী ছিল? এই সব ভাবছি, ঘুম এলো না। প্রচন্ড গরম পড়েছিল সেদিন। মাঝরাতের দিকে বৃষ্টি নামল। আমি উঠে গিয়ে বারান্দায় ডো’য়ার পাশে বসে থাকলাম। অনেকক্ষণ ধরে বৃষ্টি হলো। আজ আর বৃষ্টিতে পুরোনো কথা মনে করে কেউ আফসোস করল না। আরো অনেক পরে মা আমাকে তুলে নিয়ে শুইয়ে দিলেন। এক সময় ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে দেখলাম মা শুধু পায়েস রান্না করেছেন। বুঝলাম- আজ আগষ্ট মাসের এগার তারিখ। আমার জন্মদিন। আমার জুতো কেনা হলো না, (সেই থেকে আজও, ওই এগার তারিখ এলে কিছু একটা হয়ই, আমার জন্মদিন পালন করা আর হয়ে ওঠে না)।

এরও পাঁচ ছয় দিন পরে একদিন দু’টি গাড়িতে করে কয়েকজন লোক আসল আমাদের ক্যাম্পে। কানাঘুসা হচ্ছিল, অস্থায়ী সরকারের লোক। একটা জিপ ছিল টাটা, অন্যটা পাকিস্তান ইপআরের সেই উইলস জিপ। তাদের দুই জন ছিল খাকি পোশাক পরা ঘাড়ে এসএমজি ঝোলানো। আর বাকিরা কেউ প্যান্ট কেউ বা পায়জামা-পাঞ্জাবী পরা। তারা ঘুরে ঘুরে ক্যাম্প দেখে দুপুরে খেয়ে ক্যাপ্টেনের সাথে কথাবার্তা বলে চলে গেলেন। তারা আসার পর প্রথমে বলা হয়েছিল ক্যাম্পে থাকা সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের সাথে কথা বলবে, কিন্তু পরে দেখা গেল তারা শুধু ঘুরে ঘুরে ক্যাম্প দেখেই চলে গেলেন। তাদের একজকে দেখলাম আমাদের ক্যাপ্টেন সালাম দিলেন। তারা কে কি তা আমার জানার ইচ্ছে হয়নি। তাই কাউকে কিছু জিজ্ঞেসও করিনি। আমার মনে হয়েছিল ওদের খুব ডাঁট। সবার সাথে মেশেন না। আমি একটা ব্যাপারে কিছুতেই নিশ্চিত হতে পারছিলাম না-আমাদের খাবার, টাকা পয়সা, রেশন অস্ত্রপাতি কারা দেয়? আমার পরিচিত যারা ছিলেন তারাও এবং বাবাও এ ব্যাপারে পরিষ্কার কিছু বলতে পারতেন না। তখন নিজে নিজেই ভেবে নিয়েছিলাম-এসব নিশ্চই ভারত দেয়। তাদের জায়গা, তাদের খাবার, তাদের তাবু, তাদের গোলাবারুদ, সবই তো তাদের দেওয়া!

আর এটা নিয়েই একদিন জগন্নাথ আমাকে আরো অনেক খবর জানাল। আমাদের এই যুদ্ধে নাকি তাদের কাজের ক্ষতি হচ্ছে। সরকারী বাহিনী নাকি আমাদের সাহায্য করার নামে তাদের পার্টিকে নির্মূল করছে। আমার মাথায় অতসব ঢুকত না। আমি হা করে শুধু শুনতাম। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করতাম- তোমাদের সরকারের সিআরপি বা মিলিটারি কেন তোমাদের মারবে? আমাদেরকে তো পাকিস্তানীরা মারছে, তারা তো ভীনদেশী! জগন্নাথ হেসে বলেছিল-‘এখনই বুঝবে না, আরো বড় হও তখন বুঝবে, তোমরা এখানে আছ বলেই শত শত গ্রামে এখন আমাদের মিলিটারি ঘাঁটি গেঁড়েছে। তা না হলে ওরা ব্যারাকেই থাকত। আমাদেরকে শুধু পুলিশ আর সিআরপি মোকাবেলা করতে হতো। আমার মাথায় যে কিছুই ঢুকছে না সেটা জগন্নাথ বুঝতে পারল। এ নিয়ে আর কথা বাড়াল না। তবে আবারও একটা ছোট্ট বই দিল আমাকে-‘হিউনান বা হোনানের কৃষি আন্দোলন’(সঠিক নাম আরও পরে জেনেছি) এটা পড়ে তেমন মজা পেলাম না, যেমন পেয়েছিলাম ‘যে গল্পের শেষ নেই’ পড়ে। তবুও পড়লাম।

আগষ্টের মাঝামাঝিতে আমাদের ক্যাম্পের লোক অনেক কমে গেল, কারণ ফ্রন্টে যে বাঙ্কার ছিল সেখানে আরো কয়েকটা নতুন বাঙ্কার খোঁড়া হলো। সেখানে এখন রাত দিন মুক্তিযোদ্ধারা পাহারা দিচ্ছিল। ক্যাম্পের তিন ভাগের এক ভাগ লোক বাঙ্কারে চলে গেল। বাবাও কয়েক দিনের জন্য চলে গেলেন। এখন প্রায় দিনই রাত হলেই গোলাগুলি হয়। আমরা ঘরে বসেই অনুমান করি, এটা মেশিনগানের গুলি, এটা রাইফেল, এটা মর্টারের গোলা..অজানা আশংকায় রাতে ঘুম হয়না। শেষ রাতের দিকে ঘুম আসে। আবার খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে যায়। এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর আমি প্রায় রাতেই ক্যাম্পে থাকি। ক্যাম্পে এখন লোক কম। একা এক তাবুতে থাকি। সাথে আমার বেড়াল। সারাদিন তার খোঁজ পাওয়া যায়না, কিন্তু সন্ধ্যা হলেই হান্ডিখানা থেকে বেড়ালটা চলে আসে। মাথার কাছে পেছনের পা নিয়ে গোল হয়ে শুয়ে থাকে। বেড়ালটা আমার জেনে বাবুর্চিরা তাকে কাটাকুটি খেতে দেয়। আমি এখন আর কনডেন্সড মিল্কের কৌটা কেটে দিতে পারিনা। বাবুর্চিরাই দেয়। অনেক রাতে বা প্রায় শেষ রাতে ঘুমানোর পরও খুব সকালে উঠতে হয়। উঠেই সবাই আগে খবর নেয়- কোনো ক্যাজ্যুয়াল্টি? এটা প্রায় নিয়ম হয়ে গিয়েছিল।

এর সপ্তাহ খানেক পর একেবারে নতুন একদল মুক্তিযোদ্ধা এলো। এদের সবাই সিভিলিয়ান। একদিন যথারিতি খুব ভোরে উঠে ফ্রন্টের খবর নিচ্ছি, শুনলাম নতুন টিম এসেছে। যখন শুনলাম তারা সবাই চুয়াডাঙ্গার ছেলে, আমি সারা ক্যাম্প খোঁজাখুঁজি করতে থাকলাম। মনে মনে ভীষণ ভাল লাগছে, নিশ্চই কেউ না কেউ চেনা মানুষ পাব। কেন এমন মনে হলো তা জানিনা। শেষে জানা গেল যারা এসেছে তারা এসেই শুয়ে পড়েছে। দুপুরের দিকে তারা উঠলে আবার গেলাম। একটা বড় তাবুতে সবাই আছে। কেউ শুয়ে, কেউ বসে। সবার কাছেই একটা ছোট মত পোটলা বা ব্যাগ। তাবুর দুই পাশ দিয়ে তারা আছে। মাঝখানটা খালি। আমি সেই খালি জায়গা ধরে এক পা দু পা করে হাঁটছি আর সবার মুখের দিকে তাকাচ্ছি! ওরাও এতটুকুন পিচ্চির তাকানো দেখে মনে হয় রেগে গেছে! কেউ হাসেও না, কথাও বলে না! হঠাৎ শোয়া থেকে একজন উঠে বসেই বলে উঠল- ‘কেঁ রে মনজু না? হ্যাঁ রে তুঁই এখানে? তুঁই এখানে কি কঁরছিস’? আমি আনন্দের চোটে এক লাফে তার কাছে একেবারে কোলের মধ্যে গিয়ে বসলাম। (এমদাদুল কাকা। আমার চেয়ে খুব বেশি বড় না। ওর বয়স হবে উনিশ-বিশ। আমরা ঈদগাহ পাড়ায় যাওয়ার আগে যখন মাঝার পাড়ায় থাকতাম তখন এমদাদুল কাকা দের পাশের বাসাতেই থাকতাম। পাশে মানে একবারেই এক সাথে। একটা প্রাচীরের ভেতর তিনটা একই রকম চৌচালা টিনের ঘর ছিল, তার একটাতে আমরা আর একটাতে কাকারা থাকত। ওরা নয় ভাইবোন ছিল বলে নিজেদের ঘরে জায়গা হতো না। এই এমদাদুল কাকা , তার ছোটটা শহিদুল কাকা অথবা আলেয়া ফুফু আমাদের ঘরে আমার সাথে ঘুমাত। আমাদের দুইটা ঘরের একটাতে আমি একা থাকতাম। কাকার বাবা ছিলেন চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশনের হেডক্লার্ক। ওদের আদি বাড়ি বর্ধমান। আমরা যখন ওই পাড়ায় থাকতাম তখন আমি থ্রী তে পড়ি। আমরা তখন তিন ভাই বোন। এই কাকারা কেউ চুয়াডাঙ্গার ভাষায় কথা বলত না, বলত বর্ধমানের ভাষায়। প্রায় সব কথায়ই চন্দ্রবিন্দু দিত। এটা নিয়ে আমরা হাসাহাসি করতাম)। আমি খুশির চোটে একদমে কাকাকে সব কিছু বলতে শুরু করেছি….. কাকা থামিয়ে দিয়ে আমাকে নিয়েই উঠে দাঁড়ালেন। ওদের গ্রুপ লিডারের কাছে বলে সোজা আমার হাত ধরে আমাদের বাড়ি। মা তো কাকাকে দেখে আকাশ থেকে পড়লেন!

কয়েক ঘন্টা পর। মা “চুয়াডাঙ্গার খবর কি” বলতেই কাকা একটু গুম মেরে থেকে বলতে আরম্ভ করলেন…..হঠাৎ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন-তোর কি মজিদ হাওলাদারের কথা মনে আছে, সেই যে স্টেশনে বুক স্টল…..আমি সাথে সাথে বললাম- হ্যাঁ হ্যাঁ মনে আছে, কালো মত । আমরা গেলে বলত লাটিমের টাকায় বই কেন, লাভ হবে.. হ্যাঁ সেই মজিদ ভাইকে ডেকে নিয়ে মেরে ফেলেছে, আচ্ছা বলুন ভাবী, এই লোকটা কার কি ক্ষতি করেছিল?…এর পর বলে যেতে থাকলেন হত্যা নির্যাতন আর ধ্বংসের কাহিনী…………

চলবে……..
প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্ব। তৃতীয় পর্ব। চতুর্থ পর্ব। পঞ্চম পর্ব। ষষ্ঠ পর্ব। সপ্তম পর্ব। অষ্টম পর্ব। নবম পর্ব। দশম পর্ব। একাদশ পর্ব। দ্বাদশ পর্ব।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতিকিশোর মুক্তিযোদ্ধামুক্তিযুদ্ধবাঙ্গালীবাংলাদেশীবাংলাদেশ১৯৭১৭১৭১মনজুরুল হকস্মৃতিকথাগেরিলাপাকিস্তানপূর্ব বাংলাবিহারী197171’71bangladeshfreedom fighterliberation warbangladeshibanglaeast pakistanwest pakistan…. ; ; ; ; ; ; ; ; ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধস্মৃতিকথা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:১১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

৪৬৬ বার পঠিত৩৬৮২৬

 

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

 

৬৮টি মন্তব্য

১-৩৫

১. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৩০

আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: আপনার চলমান সিরিজের সবগুলো পোস্ট আমি না বলে সঙগ্রহ করে রাখছি। একটু বলে রাখলাম। অসাধারণ লেখাগুলোর জন্য অশেষ ধন্যবাদ, মঞ্জু ভাই।

বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৩০

লেখক বলেছেন:

ব্লগে লেখা মানেই “জনগণের সম্পত্তি”। এর কোন অংশ বা পুরোটাও তাই। এতে আবার “অনুমতি” লাগে নাকি?

আপনারা যারা দেশের বাইরে থাকেন, এই সব দিনে দেশের জন্য আপনাদের প্রাণ কেঁদে ওঠে এটা আমি অনুভবে বুঝি। সম্ভবত একেই বলে মাটির টান! আর সেই টানেই আজ আপনি অনেক আগেই লগইন করে দেশের গন্ধ নিতে চাইছেন। চাইছেন বিজয়ের আনন্দ সবার সাথে শেয়ার করতে……..এটা মনে মনে দাঁড় করিয়ে আপনার/ আপনাদের জন্য গর্বে বুকটা ভরে উঠছে! মনে পড়ে যাচ্ছে সৈয়দ মুজতবা আলীর সেই লাইনটি…..”ইনহাস্ত ওয়াতানাম”…এই তো আমার জন্মভূমি!!

নিরাপদে থাকুন আশরাফ।

২. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৭০

সাফির বলেছেন: মনজুরুল ভাই অসাধারণ লেখাগুলোর জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৩০

লেখক বলেছেন:

আপনাকেও বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

আর এই পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

৩. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৪০

লুৎফুল কাদের বলেছেন: +++

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৭০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ লুৎফুল কাদের।

৪. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৩০

ফিউশন ফাইভ বলেছেন: ভারতীয় সেনাবাহিনী আমাদের ক্যাম্পের কাছে ক্যাম্প করার পর আমাদের মনোবল বেড়ে যায়।

যে কারণেই হোক না কেন, যে উদ্দেশ্যই থাকুক না কেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের মনে হয় কোনো তুলনাই হয় না। ভারত পরে যদিও আধিপত্যবাদী রূপে আবির্ভূত হয়েছে, তবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অসামান্য অবদানের জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। সেই কৃতজ্ঞতা যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে জানানো হয়, তাতে আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৯০

লেখক বলেছেন:

ভারতের সরকার, আন্তার্জাতিক রাজনৈতিক উপাদান, সে যে কারণেই হোক ভারতের এই ভূমিকা নিঃসন্দেহে শ্রদ্ধাভরে স্মরণযোগ্য। আমরা কৃতঘ্ন না হলে তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় ভাবেই কৃতজ্ঞতা জানানো হলে আমারও পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

তবে নিজের চোখে দেখার কারণে আমার আরো মনে হয় শুধু সরকারই নয়, ভারতের সাধারণ জনগণ বিশেষ করে পশ্চিম বঙ্গের মানুষের যে অকৃত্তিম সহানুভূতি আর সহযোগীতা ছিল তা না থাকলে প্রায় এক কোটি মানুষ ওখানে নয়টা মাস টিকতে পারত না। তাদের প্রতিও আমার অকুন্ঠ শ্রদ্ধা ।

৫. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২২০

জাতেমাতাল বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধকে যে ভাবে আপনি ভেতর থেকে দেখছেন, তার বর্ণনা দিচ্ছেন তা খুবই অপ্রচলিত। যাকে বলে নির্মোহ দৃষ্টিতে দেখা।

গেরিলা টিমের সিভিলিয়ানদের বিষয়টা আগে এভাবে কখনও শুনি নাই। বেশ অবাক লাগলো।

যত বীরত্ব আত্মাহুতি সব নাম না জানাদের, আর মেডেল পদকের জন্য অন্যরা???

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৪০

লেখক বলেছেন:

এ নিয়ে সম্ভবত আমার ১০ তম পোস্টে একটা বিতর্ক শুরু হয়েছিল।

মেডেল পাওয়ার বিষয়টার ব্যাখ্যা এরকমঃ বীরশ্রেষ্ঠ, বীরপ্রতিক, বীরউত্তম পদকগুলো সেনাবাহিনীর ডিপার্টমেন্টাল পদক। এ কারণেই নাকি সাধারণ মানুষ পায়নি বা খুব কম পেয়েছে।

আমার কথা হলো, ভারতের বাহিনীও অনেকবার যুদ্ধ করে বীরত্বসূচক পদক পেয়েছে। তাদের দেশে সেনাবাহিনীর নিজস্ব পদকের চেয়েও মর্যাদাপূর্ণ পদ্মভূষণ, পদ্মশ্রী, পদ্মচক্রের মত পদকের ব্যবস্থা করে ভারত যদি তার আম নাগরিকদের শ্রদ্ধা জানাতে পারে, তাহলে আমরা পারলাম না কেন?

এর সহজ উত্তরঃ পাকিস্তানী আবহ তখন ভাল ভাবেই কাজ করছিল। এখনো করে!

এটা পাকিস্তানী কালচার….এভরীথিং মেকিং বাই দ্য আর্মি।

৬. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৫০

শ*  বলেছেন: তাহলে আপনার বয়সের কাছাকাছি কোন যোদ্ধাকে এই পর্বের সময় পর্যন্ত আপনি দেখেন নি অথবা শোনেন নি ?

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪২০

লেখক বলেছেন:

কেন, প্রথম দিকের কোন এক পোস্টে তো আছে, আমার চেয়েও ছোট একটি ছেলের মাইনে হাত উড়ে গেছিল। যদিও সে আমার মত ফ্রন্টে যেত না।

হ্যাঁ, ফ্রন্টে গেছে এমন কেউ আমাদের ক্যাম্পে ছিল না। নিশ্চই অন্যত্র ছিল।

৭. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৯০

শ।মসীর বলেছেন: আচ্ছা ঠিক কত সংখ্যক ইপিআর বা আর্মির লোক ছিল সে সময়। রিগুলার ফোর্সের সাথে জনযোদ্ধাদের একটা বিশাল গ্যাপ চোখে পড়ে, সেটা কি ফোর্স আর নন ফোর্সের কারনে, ডিসিপ্লিনারি ও ট্রেনিং ইস্যুতে , নাকি অন্য কোন ব্যাপার ছিল।

বিজয়ের এই দিনে আজ কিছু ভাল লাগছেনা।

আমরা কত ঠুনকো , মুজাহীদ শুয়োরের মুখে শুনতে হয় স্বাধীনতা রক্ষা করার কথা। সত্যিই কিছু ভাল লাগছেনা ।

স্বস্তা রাজনিতীর কি বীসবাস্প আমাদের ঘিরে আছে। পনের কোটি মানুষ নিয়ে কি পৈশাচিক খেলা খেলে চলেছে গুটিকয় নেতারা।

আমি প্রচন্ড আশাবাদী মানুষ- তবুও শুধুই অন্ধকারই দেখতে পাই।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৮০

লেখক বলেছেন:

রেগুলার ফোর্সের সাথে জনযোদ্ধাদের একটা বিশাল গ্যাপ ভাল ভাবেই ছিল, সেটা ছিল ফোর্স আর নন ফোর্সের কারনে, ডিসিপ্লিনারি ও ট্রেনিং ইস্যুতে । ফোর্স মানে চাকরিজীবী। সে যুদ্ধ করার জন্যই বেতন পায়, ভাতা পায়, সুঁই সূতো থেকে শুরু করে জ্বালানী কাঠ পর্যন্ত পায়। তাদের যুদ্ধে জড়ানোর পেছনে যতটা দেশপ্রেম তার চেয়ে বেশি “অফিশিয়াল ডিউটি” । সিনিয়রস কমান্ড ফলো করা।

আর সাধারণ মানুষের যুদ্ধে যাওয়ার পেছনে একমাত্র কারণ তার দেশপ্রেম। সে কারণে সে কৌশলগত বিষয় ভাবার চেয়ে শত্রু নিধনের কথা বেশি ভাববে। তার কাছে কড়া ট্রেনিং, কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, আর উদ্ধতন’র অর্ডার ফলো করার খুব একটা দায় নেই………বিরোধটা বাধত এ নিয়েই।

আমিও হতাশ। গত কয়েকদিন ধরে দেশি-বিদেশী নিউজ আর রিভিউ ফলো করে দেখলাম শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বিচার করার কোন উপায় আর নেই! সব প্রমানাদির দলিলপত্র নষ্ট করে ফেলা হয়েছে! আর তা করেছে গত জোট সরকারের হুকুমে পুলিশের এক গোয়েন্দা বিভাগ। এখন?

শুধুই হতাশা। আর এ কারণেই মুজাহিদরা এককাঠি সরেস মন্তব্য করেও পার পায়।

এখন আমরা কি করতে পারি তার কোন কুল কিনারা পাইনা।

৮. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:২৭০

ফারহান দাউদ বলেছেন: ১২ আর ১৩ পর্ব দু’টি পড়লে বোঝা যায় বিজয় দিবস যতটা আনন্দের তার চেয়ে অনেক বেশি বেদনার, অনেক বেশি হারানোর, অনেক বেশি রক্তের দামে কেনা এক দিন। বেশি কথা বলতে চাইছি না, লিখতে থাকুন।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২৫০

লেখক বলেছেন:

আজ ৩৮ বছর পার হয়ে গেলেও আমি কখনো বিজয় দিবসের আনন্দে সামিল হতে পারিনি। আমার কাছে এই আনন্দ খুব বড় বেদনা হয়ে ভেসে ওঠে। 

ঠিক এই দিনে আমরা যখন ঘটা করে বিজয় দিবস উদযাপন করি ঠিক সেই মুহূর্তে ত্রিশ লাখ শহীদের নব্বই লাখ আপনজন চোখের জল ফেলে! পুরোনো বাক্সো থেকে মলিন ঝাপসা হয়ে ওঠা ছবি বের করে! ৩৮ টা বছর ধরে সেই একই কান্না নতুন করে ঝরতে থাকে! আমি তাই ৩৮ টা বছরে কোনদিনও বিজয় মিছিলে যাইনি। আমি আমার ঘরের কোণে একাকী বসে থাকি। কেবলই একাকী!!!

৯. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪২০

মুনশিয়ানা বলেছেন: ফারহানের কথার সাথে একমত…

এত রক্তাক্ত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অর্জন, আমরা মনে হয় সব সময় উপলদ্ধি করতে পারি না। এই অর্জন আমাদের জন্য তীব্র বেদনার। অনেক কিছু হারানোর পর আমাদের এই প্রাপ্তি…

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২৬০

লেখক বলেছেন:

ঠিক এই দিনে আমরা যখন ঘটা করে বিজয় দিবস উদযাপন করি ঠিক সেই মুহূর্তে ত্রিশ লাখ শহীদের নব্বই লাখ আপনজন চোখের জল ফেলে! পুরোনো বাক্সো থেকে মলিন ঝাপসা হয়ে ওঠা ছবি বের করে! ৩৮ টা বছর ধরে সেই একই কান্না নতুন করে ঝরতে থাকে! আমি তাই ৩৮ টা বছরে কোনদিনও বিজয় মিছিলে যাইনি। আমি আমার ঘরের কোণে একাকী বসে থাকি। কেবলই একাকী!!!

১০. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৫১০

ম্যাকানিক বলেছেন: ঠিক এই দিনে আমরা যখন ঘটা করে বিজয় দিবস উদযাপন করি ঠিক সেই মুহূর্তে ত্রিশ লাখ শহীদের নব্বই লাখ আপনজন চোখের জল ফেলে! পুরোনো বাক্সো থেকে মলিন ঝাপসা হয়ে ওঠা ছবি বের করে! ৩৮ টা বছর ধরে সেই একই কান্না নতুন করে ঝরতে থাকে! আমি তাই ৩৮ টা বছরে কোনদিনও বিজয় মিছিলে যাইনি। আমি আমার ঘরের কোণে একাকী বসে থাকি। কেবলই একাকী!!!

আপনি শুধু একা নন যেসব পরিবার ৭১ এ সাফারার তারা কেউই মনে হয় এই দিন আসলে ঠিক থাকতে পারেন না।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৪০

লেখক বলেছেন:

এই পরিবারগুলোর কথা ভেবে আমি আঁৎকে উঠি! কি অবর্ণনীয় কষ্ট সয়ে চলেছেন তারা……আনন্দের বিপরীতে এক ভয়াবহ ব্যথা!

১১. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:২৩০

রাজর্ষী বলেছেন: ভাই , একটা পোস্ট দিয়েন সময় পেলে , ঐ দলিল নস্ট করা নিয়ে।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৫০

লেখক বলেছেন:

এই সরিজটা শেষ হলেই দেব।

আমরা কত আশায় বুক বেঁধে থাকি, আর বাস্তবাতা কি হতাশাজনক!

১২. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৪০

নাজমুল আহমেদ বলেছেন: মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৬০

লেখক বলেছেন:

আপনাকেও মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

আপনার সেই রাষ্ট্রদূত মানুষ হোক।

১৩. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪০০

নিশ্চুপ নিরবতা বলেছেন: আপডেটেড

Click This Link

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৮০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ ভাই।

আমি কিছু যোগাড় করে একাউন্টে পাঠিয়ে পোস্টে বলে আসব।

১৪. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৬০

মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

আমারদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সরকারের রাজনৈতিক সুবিধা ছিল কী ছিল না, সেটি বাদ দিয়ে যদি সাধারন জনগণের সাহায্যের কথা বলি, আসলেই অতুলনীয়।

মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রে কিছু আছে (যদিও কিছুটা হলেও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বইটি এখন, তারপরও যে সব সত্যি ঘটনা/তথ্য আছে – ওগুলো তো আর মিথ্যে নয়। )

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সব সময় একটা কথা ভাবি, যতই পড়ি, দেখি, বোঝার চেষ্টা করি – কিন্তু কখনই ঐ সময়ের একজন মানুষের অনুভূতি ঠিকভাবে অনুভব করতে পারব না। কারন ঐ সময়টয় ছিলাম না বলেই। একটা অস্থির সময়, নিজের মাতৃভূমি’র জন্য সবাই লড়ছে, ভবিষ্যত অনিশ্চিত, নিজের জাতীয়, সামাজিক পরিচয়, চারপাশের নির্যাতন, হত্যা, প্রতিরোধ – সময়টায় না থাকলে আমাদের প্রজন্মের কারও পক্ষেই অনুভব করা সম্ভব না।

একটা ১২/১৩ বছর বয়সী ছেলের দিন শুরু হয় লাশ দেখে, কল্পনাও করতে পারি না অনুভূতিটি।

করতে পারি শুধু শ্রদ্ধা। সেটিই রেখে গেলাম।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৪১০

লেখক বলেছেন:

এই অনিঃশেষ শ্রদ্ধাটুকু আমার বেঁচে থাকার উপাদান।

আর কোথাও কিছু চাইবার নেই।

ভাল থাকুন সৌরভ।

আজকের এই দিনটিতে সেই ৩৮ বছর আগে যে সব ঘরে ঘরে স্বজন হারানোর ব্যথা গুমরে গুমরে ওঠে, তাদের শুকনো ভাতে দুধ ভাতের দরকার নেই, অন্তত লবনের ব্যবস্থা হোক।

১৫. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৫০

নাজনীন১ বলেছেন: ৭১-এর এ দিনে মনে হয় মূলত শহরের লোকজনই আনন্দ মিছিল করেছিল। যেসব পরিবারের সদস্যরা যুদ্ধে গিয়েছিল তারা হতো কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল, কিন্তু আশংকা ঠিকই ছিল সবাই বেঁচে ফিরবে তো? কেউ মারা যায়নি তো?

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪৪০

লেখক বলেছেন:

না নাজনীন। একাত্তারের এই বিশেষ দিনে আনন্দ হয়নি। দেশের এক একটা অঞ্চল মুক্ত হয়েছিল এক একটা দিনে। অধিকাংশ জায়গাই মুক্ত হয়েছিল ৭ তারিখে, এবং তার পর থেকে। খুলনার শিরোমনি আর ঢাকার মিরপুর ১৬ তারিখেও মুক্ত ছিল না!

আশংকা’রা আজো প্রবল শক্তিতে বেঁচে আছে বাঙালির ঘরের ভেতরে…

১৬. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৯০

ত্রিশোনকু বলেছেন: “ঠিক এই দিনে আমরা যখন ঘটা করে বিজয় দিবস উদযাপন করি ঠিক সেই মুহূর্তে ত্রিশ লাখ শহীদের নব্বই লাখ আপনজন চোখের জল ফেলে! পুরোনো বাক্সো থেকে মলিন ঝাপসা হয়ে ওঠা ছবি বের করে! ৩৮ টা বছর ধরে সেই একই কান্না নতুন করে ঝরতে থাকে!”

-অতি কঠিন, অত্যন্ত বেদনাদায়ক সত্য।


আপনার মুক্তিযুদ্ধ কথন ঘোর লাগিয়েছে।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪০০

লেখক বলেছেন:

আমি বিজয় দিবস নিয়ে ওভাবেই ভাবতে ভাবতে ৩৮ টা বছর পার হয়ে গেল!

১৭. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৯০

ত্রিশোনকু বলেছেন: “ঠিক এই দিনে আমরা যখন ঘটা করে বিজয় দিবস উদযাপন করি ঠিক সেই মুহূর্তে ত্রিশ লাখ শহীদের নব্বই লাখ আপনজন চোখের জল ফেলে! পুরোনো বাক্সো থেকে মলিন ঝাপসা হয়ে ওঠা ছবি বের করে! ৩৮ টা বছর ধরে সেই একই কান্না নতুন করে ঝরতে থাকে!”

-অতি কঠিন, অত্যন্ত বেদনাদায়ক সত্য।


আপনার মুক্তিযুদ্ধ কথন ঘোর লাগিয়েছে।

১৮. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২০০

ত্রিশোনকু বলেছেন: “ঠিক এই দিনে আমরা যখন ঘটা করে বিজয় দিবস উদযাপন করি ঠিক সেই মুহূর্তে ত্রিশ লাখ শহীদের নব্বই লাখ আপনজন চোখের জল ফেলে! পুরোনো বাক্সো থেকে মলিন ঝাপসা হয়ে ওঠা ছবি বের করে! ৩৮ টা বছর ধরে সেই একই কান্না নতুন করে ঝরতে থাকে!”

-অতি কঠিন, অত্যন্ত বেদনাদায়ক সত্য।


আপনার মুক্তিযুদ্ধ কথন ঘোর লাগিয়েছে।

১৯. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪৬০

পল্লী বাউল বলেছেন: আপনার সাথে আমার একটা ভাল মিল আছে। আপনারই মতো কিভাবে কিভাবে যেন আমার জম্মদিনটা কোন দিনই পালন করা হয়ে উঠে না।

পরের পর্বগুলো পড়ার জন্য গাঁ শিউরানো অপেক্ষা।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০৮০

লেখক বলেছেন:

অদ্ভুত কাকতাল যেন! কোন বছরই ওটা হয়ে ওঠে না! এবারো হয়নি!

আর কিছুক্ষণ পরই বসে যাবো…………….টানা চার ঘন্টা…………

২০. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০৫০

সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: আপনার লেখা পড়ে আমি শুধু জানি। আমার কোন জিজ্ঞাসা নেই, কোন প্রশ্ন নেই, তবু শুধুই উত্তর পেয়ে যাচ্ছি। প্রতিটি প্যারাই মনে হচ্ছে যেন আমারই প্রশ্নের উত্তর।

ধন্যবাদ ।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৪০

লেখক বলেছেন:

লেখকের সার্থকতা তখনই, যখন তার লেখা পড়ে পাঠক ভাবে-এটি আমারই অনুভূতি।

আর এই সার্থকতা আমায় দিলেন আপনি/আপনারা। এটাই আমার অনেক বড় পুরষ্কার।

২১. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১৯০

সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:

যে গল্পের শেষ নেই বইটা পড়েছিলাম মনে আছে। কার লেখা। কি বিষয় কিছু মনে নেই।অনেকদিন ধরে একটা লেখা লিখছি……………..এই একই শিরোণামে।কোনদিন পোষ্ট করতেও পারি……যদিও অনেক বড় হবে সেই লেখা……..

আপনার লেখায় মিশে আছি ।

কেবল অগাস্ট মাস।আপনার জন্মদিনের মাস।

কবে যে শেষ হবে এই যুদ্ধ…………..

ভালো থাকবেন ।সাবধানে থাকবেন।

স্মৃতিতে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে নিজের অবসরটুকুর অনেকটাই লেখায় দিচ্ছেন।

সুস্হ থাকবেন।এই শুভকামনা।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫০০

লেখক বলেছেন:

“যে গল্পের শেষ নেই” বইটার লেখক দেবী প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। বইটা মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশ আর শ্রেণী বিভাগ, শরীরত্বত্ত্ব, সমাজের নির্মাণ এই সব নিয়ে ছোটদের বোঝার জন্য সহজ করে লেখা।

আপনার লেখা শেষ করে পোস্ট করুন।

শেষে যেটা বলেছেন সেটা আমিও ভুঝতে পারছি! রোজ রাত১০ টায় শুরু করে ২/৩ টার সময় লেখা শেষ করে রাত ৫/৬ টা পর্যন্ত জেগে কমেন্টের উত্তর দেওয়া মোটেই সহজ কথা নয়। এই কয়দিনে ঠিক মত ঘুমও হচ্ছে না। যেকোন সময় অসুস্থ্য হয়ে পড়তে পারি, সেই ভয় আছেই।

কত আপনজনের মত বললেন!

হ্যাঁ, ভাল থাকার চেষ্টা করব।

শুভ কামনা সাজি।

২২. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩০০

মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: শুভাশিষ রইল।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৭০

লেখক বলেছেন:

ভাল থাকুন রিপন।

২৩. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৮০

দীপান্বিতা বলেছেন: বিজয় দিবসে সেই ছোট্ট মুক্তিযোদ্ধাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫১০

লেখক বলেছেন:

আপনাকেও অনেক অনেক শুভেচ্ছা দীপান্বিতা।

২৪. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০৮০

নির্ঝরিনী বলেছেন: সিক্ত নয়নে সেই সকল বীরঙ্গনা আর অজানা লাখো শহীদের প্রানের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।

আমাদের হৃদয়ে তারা বেঁচে থাক অনন্তকাল….

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৬০

লেখক বলেছেন:

সিক্ত নয়নে সেই সকল বীরঙ্গনা আর অজানা লাখো শহীদের প্রানের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।

আমাদের হৃদয়ে তারা বেঁচে থাক অনন্তকাল….

আপনার এই অসাধারণ মন্তব্যটিই আমি কপি করলাম

২৫. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৮০

দর্পণ বলেছেন: প্লাস দিতে পারিনা ভাই। লিখেই প্লাস দিলাম। কারণ আমি এখনও প্লাস দিতে সক্ষম হইনাই।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৭০

লেখক বলেছেন:

কোন সমস্যা নাই। আপনি যে পড়ে দু’লাইন লিখেছেন সেটাই বড় প্লাস হয়ে গেছে।

ভাল থাকবেন।

২৬. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৭০

সুনীল সমুদ্র বলেছেন:

লেখা পড়েই বোঝা যায়, শক্তিমান একজন লেখকের অসাধারণ লেখা।

আগের পর্বগুলো আমার পড়া হয়নি।

ভাবছি সেগুলোও পড়বো সময় করে।

ভালো লেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১০০

লেখক বলেছেন:

আমার ব্লগে আপনাকে স্বগতম সুনীল সমুদ্র।

এই সিরিজের লেখাগুলো কষ্ট করে পড়লে কৃতজ্ঞ হই।

ভাল থাকবেন।

২৭. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫০০

রাগ ইমন বলেছেন: রেগুলার ফোর্সের সাথে জনযোদ্ধাদের একটা বিশাল গ্যাপ ভাল ভাবেই ছিল, সেটা ছিল ফোর্স আর নন ফোর্সের কারনে, ডিসিপ্লিনারি ও ট্রেনিং ইস্যুতে । ফোর্স মানে চাকরিজীবী। সে যুদ্ধ করার জন্যই বেতন পায়, ভাতা পায়, সুঁই সূতো থেকে শুরু করে জ্বালানী কাঠ পর্যন্ত পায়। তাদের যুদ্ধে জড়ানোর পেছনে যতটা দেশপ্রেম তার চেয়ে বেশি “অফিশিয়াল ডিউটি” । সিনিয়রস কমান্ড ফলো করা।

আর সাধারণ মানুষের যুদ্ধে যাওয়ার পেছনে একমাত্র কারণ তার দেশপ্রেম। সে কারণে সে কৌশলগত বিষয় ভাবার চেয়ে শত্রু নিধনের কথা বেশি ভাববে। তার কাছে কড়া ট্রেনিং, কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, আর উদ্ধতন’র অর্ডার ফলো করার খুব একটা দায় নেই………বিরোধটা বাধত এ নিয়েই

——– আপনার অভিজ্ঞতায় এ রকম দেখে থাকলে আমার সেইটা নিয়ে কিছু বলার নাই। কিন্তু মনজু ভাই, একটু অতি সরলীকরণ কি মনে হয় না ? আরেকবার পড়ে দেখতে অনুরোধ করি আপনাকে।

যেই সব গুটিকয় বাঙ্গালী অফিসার ( সেনাবাহিনী , বিমান বাহিনীতে বাঙ্গালী ইচ্ছে করেই নেওয়া হত না , নিলেও সাধারন ইনফ্যান্ট্রি বানিয়ে রাখতো , মানে বোঝেন তো ? সেই বৃটিশের হয়ে যুদ্ধ করার মতই বেতন ভুক্ত দাস) পালিয়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন , পালিয়ে আসতে গিয়ে মারা গিয়েছেন , মরবেন জেনেই যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন – তাদের সাথে সিভিলিয়ানদের একমাত্র ট্রেনিং এর পার্থক্য ছাড়া আসলেই কি আর কোন পার্থক্য ছিলো ?

দেশপ্রেমের পরিমাণ উর্দি পরলে আর বেতন পেলে কমে যায় এই রকম মনে হলে- আর্মি কিংবা ফোর্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ কম নেই আমারও তবু মনে হলো ভুল বুঝাবুঝির পরিমাণ অনেক বেশি ।

২ টা উদাহরণ দেই ।

আব্বু যেই কয়টা মাস যশোর সাতক্ষীরা এলাকা পাহারা দিয়েছেন, সেইখানে যুদ্ধের ট্রেইন্ড অফিসার ছিলেন আব্বু একা । আরেকজন সামান্য ট্রেনিং প্রাপ্ত ছিলেন যাকে আব্বু আরেকটু পলিশ করে নিয়েছেন । খুব সোজা একটা প্রশ্ন করি ।

১। যুদ্ধের কলাকৌশল , পাকিস্তান আর্মির ভিতরের জ্ঞান সম্পন্ন একমাত্র অফিসারকে ফ্রন্টে পাঠিয়ে মরার সুযোগ করে দেওয়া হোক । আর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ বাদ বাকিরা ট্রেইনার ও ট্রেনিং , প্ল্যানিং এর অভাবে বাকি সময়টা মরে মরুক।

২। একমাত্র ট্রেইনারকে বাচিয়ে রেখে বাকিদের ট্রেনিং দিয়ে যুদ্ধের কলা কৌশল শেখানো হোক যাতে জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে ।

আপনি হলে কোনটা করতেন? যুদ্ধে আবেগের কোন জায়গা থাকে না মনজু ভাই । এইটা পিওর অংক ও হিসাব নিকাশ । এইখানে ট্রেইন্ড সোলজারের দাম , সিভিলিয়ানের চেয়ে বেশি যুদ্ধের জয়ের সার্থে , প্রেস্টিজ ইস্যুতে নয় ।

২য় উদাহরন । আব্বু বেতন পান নাই । যুদ্ধের বেশ কয়েক মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ ফোর্সের সাথে যোগাযোগই ছিলো না । পরে যোগাযোগ হলে উনি শেষের দু কি তিন মাস বেতন পেয়েছিলেন যা তিনি পুরোটাই ফেরত দিয়েছেন । বেতন পাওয়া যাবে বলে যুদ্ধ করতে হবে – এই মানসিকতা থাকলে তো পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করলেই ” ফোর্সদের” বেশি লাভ হইত । যেইটা হয়েছে এরশাদের , হো মো এরশাদের ।

আমি জানি , আব্বুর মত অফিসার আর এরশাদের মত অফিসার , মাঝামাঝি যত প্রকার লোক হতে পারে যুদ্ধে সকলেই ছিলো । অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ করেছে চাপে পড়ে , পরিস্থিতির শিকার হয়ে , অনেকে রাজাকারি করেছে বেতন আর রাইফেলের লোভে – এই সব আব্বুর মুখেই শোনা । সুতরাং এইটা মনে হয় আমাদের সকলের জন্যই মনে রাখা জরুরি যে মুক্তিযোদ্ধা ফোর্স আর মুক্তিযোদ্ধা সিভিলিয়ান এর সাদা – কালো এর চেয়ে মাঝের গ্রে মানুষেরাই অনেক বেশি ।

কিছু মনে করবেন না মনজু ভাই , আজকের আর্মিকে ঘৃণা করার অনেক কারন আছে বৈকি কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অফিসারদের ভিতরের ” মাটির মানুষ” অফিসার , এরিস্টোক্র্যাট , ছুপা পাকি অফিসার, আমেরিকান চর অফিসার থেকে শুরু করে দেশের জন্য যে কোন মূল্যে প্রাণ দিতে প্রস্তুত অফিসারদের বৈচিত্রকে মনে করিয়ে দেওয়াটা সবার জন্য জরুরী মনে হলো ।

সে বৈচিত্র আজো আছে ।


পাকি ফোর্সে বাঙ্গালী অফিসারের সংখ্যা এতই নগন্য ছিলো যে একা ফোর্স লড়লে জীবনেও স্বাধীনতা পাইতাম না । মুক্তিযুদ্ধ আক্ষরিক অর্থেই একটা জনযুদ্ধ ছিলো । সাধারণের যুদ্ধ ছিলো । সাধারনের যুদ্ধ ছিলো বলেই বেশি তাড়াতাড়ি স্বাধীনতা পেয়ে গিয়েছি , এর মূল্য সবাই বুঝে উঠার আগেই খুব সম্ভবত । তাই কারো কারো মুখে এখনো ৭১ ” গন্ডগোলের” বছর ।

সামরিক বাহিনীতে অনেক বেহুদা পদক থাকে । মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পদক তৈরী করে কাউকে কাউকে বড় করে বাকিদের ছোট করাটাই একটা চরম অশ্লীল নোংরামি হয়েছে । যদি এইটাকে সম্মানের একমাত্র পথ ভেবে থাকেন । অথচ আমি জানি বা আমি যেভাবে বুঝেছি , এই বীর শ্রেষ্ঠ ইত্যাদি আসলে প্রতীকি , অনেকটা ভালো করলে বেতন বাড়বে ধরনের ইন্সেন্টিভ । যোদ্ধাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য করা হয় ।

কিন্তু প্রতি বছর কয়টা সামরিক পদককে সাধারন মানুষের চোখে মুখে ছুড়ে দিয়ে মুখ গুলোকে থেতলে দেওয়া আর বাপ মাকে ডেকে এনে নিউজ করার নাটকটা তার চেয়েও বড় নোংরামি । এইটা সামরিক ব্যারাকে ঠিক আছে । কিন্তু অমুক বীরশ্রেষ্ঠের মা স্যান্ডেল পরেন না , তমুক বীরপ্রতিকের বাবা চিকিৎসা পাচ্ছেন না , এই সব নাটক দেখলে বমিই আসে শুধু । মানুষকে অপমানের আর বাকি আছে কি ?

জুতার অধিকার , চিকিৎসার অধিকার কি সবার জন্য নয় ? সারা দেশ ছেলে কুরবানী দিয়েছে , মেয়ে কুরবানী দিয়েছে একটা স্বাধীন সাম্যবাদী দেশ এর আশায় । তাহলে এই ভেদাভেদ তুলে বিশেষ সুবিধা চাওয়া কেন ? সাংবাদিকরা এইটা বুঝেন না ?

তাছাড়া প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেউ মারা গেলে তার পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব বাহিনী নেবে এই চুক্তি করেই লোকে যোগ দেয় । এইটা আইন গত দায় দায়িত্ব । সেইটারে সেনসেশনাল নিউজ না বানায় , সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করায় সাহায্য করলে বেশি উপকার হইত।

—————- কাউকে দুঃখ দিতে চাই না , কেউ পেয়ে গেলে ক্ষমাপ্রার্থী ।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৫০

লেখক বলেছেন:

সরলিকরণ যে হয়েছে সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই। মুক্তিযোদ্ধারা যখন দলধরে মোটামুটি নিরাপদে ফ্রন্টে যাচ্ছে, ঠিক তখনই হয়ত কোন একজন মেজর নূর মোহাম্মদ লায়ালপুর থেকে পালিয়ে দুর্গম মরু, পাহাড় ডিঙ্গিয়ে সীমান্তে আসতে চাইছে দেশের জন্য যুদ্ধ করবে বলে! হয়ত ক্যাপ্টেন নাঈম বাগদান হয়ে যাওয়ার পরও হাতের আংটি খুলে রনাঙ্গনে চলে যাচ্ছে! এইরকম শত শত উদাহরন আছে, ছিল।

আরো ছিল ব্যারাকে প্রথম হামলার আগেই নিজ নিজ পরিবারকে ক্যাম্পের গাড়িতে করে নিরাপদে বাড়ি বা অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেওয়া। খুব তথ্য বিশ্লেষক না হলে আসলে এই বিষয়টি বিবেচানায় ভুল থেকেই যাবে। কিন্তু মোটাদাগে বাঙালি-পাঞ্জাবী নির্বিশেষে অফিসারদের সাথে যে ডিপার্টমেন্টাল বিভেদ ছিল, যা অন্তত ওই রনাঙ্গনে বা গেরিলা যুদ্ধের আনাচে-কানাচে প্রকট হওয়া উচিৎ ছিলনা, তাও ঘটেছে।

চূড়ান্তবিচারে সেন্স অব প্রায়োরিটি নিয়ে বিবাদ থেকেই যাবে। যারা ভারতে গিয়ে হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়ে যুদ্ধ করেছে, তারা মনে করে তাদের আত্মত্যাগ সর্বোচ্চ! আবার যারা দেশে প্রতিটি মুহূর্তে শত্রু পরিবেষ্টিত অবস্থায় যে কোন সময় প্রাণটা চলে যাবে জেনেও সংগ্রাম করেছে, গেরিলা দলকে আশ্রয় দিয়েছে, নিজের জীবন বিপন্ন করেও মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচিয়েছে তারা মনে করতেই পারে তাদের আত্মত্যাগেই দেশ স্বাধীন হয়েছে!

আমরা এই জাজমেন্ট দেবার কেউ না। ইতিহাসের এই ট্যুইস্ট বেশ গোলমেলে। তবে আমি কমেন্টে যেটা বলেছি সেটা আমাদের দেশের ক্লাসিফিকেশনের ফল। পাকিস্তানের ঘারানার ট্রেনিং আমাদের অফিসারদেরকেও সৈন্য থেকে পৃথক করে ফেলেছিল। অনেকেই সেই ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। কেউ কেউ পারেন নি।

একটা টাটকা উদাহরণ দেইঃ গতবছর গণস্বাক্ষর কর্মসূচীর কারণে আমাকে বেশ ক’বার সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সাথে বসতে হয়েছিল। এতটা বছর পরেও আমি সেই বিভাজনের প্রকাশ দেখেছি।

অফিসার আর সাধারণ মানুষ(সৈন্য) নিয়ে আর একটা উপমাঃ হিটলারের বাহিনী যখন লেনিনগ্রাদ আক্রমন করে প্রায় দখল করে ফেলে সেই সময় রেড আর্মির প্রতিরোধ টিমে জোসেফ স্ট্যালিনের ছেলেও ছিল। এই ছেলেটিকে নাজিরা বন্দি করে নিয়ে গেছিল।

যুদ্ধ শেষে বন্দি বিনিময়ের সময় একটি প্রস্তাব আসে….স্ট্যালিনের ছেলের বিনিময়ে একজন নাজি জেনারেলকে চাওয়া হয়। স্ট্যালিন সাথে সাথেই নাকোচ করে দিয়ে বলেন————–” একজন সাধারণ সৈন্যের বিনিময়ে একজন জেনারেলকে ছাড়তেপারিনা”!

আমিও এটা বিশ্বাস করি।

অনেক ধন্যবাদ রাগ ইমন।

২৮. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৮০

মুনশিয়ানা বলেছেন: (সেই থেকে আজও, ওই এগার তারিখ এলে কিছু একটা হয়ই, আমার জন্মদিন পালন করা আর হয়ে ওঠে না)। এ কথাটা আপনি বহুবার বলেছেন, আজ আবার তা নতুন করে মনে পড়ল।

আমার মনে হয়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভুমিকাকে দুই ভাগে ভাগ করে দেখতে হবে। এক দিকে ভারতীয় সরকার, অন্যদিকে ভারতীয় জনগন (বিশেষ করে পঃবঙ্গের জনগন)। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভারতের নিজস্ব অনেক স্বার্থই ছিল এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় ভারত সরকারের ভুমিকা সব সময়ই যে প্রশ্নমুক্ত ছিল তা নয়। অনেক উদাহরনই এখানে টানা যায়।

তবে ভারতীয় জনগন (বিশেষ করে পঃবঙ্গের জনগন) এর কথা বলতে গেলে আমাদের স্বীকার করতেই হবে আমাদের প্রতি তাদের মমত্ব আর ভালবাসার টান অনেক নিখাদ। আমাদের জন্য তাদের অনেক বাড়তি ঝক্কি আর ঝামেলা পোয়াতে হয়েছে। তাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের সব সময় মনে রাখা উচিত।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৩০

লেখক বলেছেন:

নিজের চোখে দেখার কারণে আমার আরো মনে হয় শুধু সরকারই নয়, ভারতের সাধারণ জনগণ বিশেষ করে পশ্চিম বঙ্গের মানুষের যে অকৃত্তিম সহানুভূতি আর সহযোগীতা ছিল তা না থাকলে প্রায় এক কোটি মানুষ ওখানে নয়টা মাস টিকতে পারত না।

পশ্চিম বঙ্গের সাথে কেন্দ্রের যে টানাপোড়েন ছিল সেটা সিঁকেয় তুলে রেখে তারা আমাদের অকুন্ঠ সমর্থন দিয়ে গেছেন। সেটা যে শুধু মাত্র ভাষার নৈকট্য আমি তা মনে করিনা। এর পেছনে তাদের নিজেদের স্বাধীনতার আকাংখাও মিলে মিশে ছিল। আর সে কারণেই ধর্মের বিশাল পার্থক্যও কোন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তাদের এই ত্যাগের প্রতি আমার অকুন্ঠ শ্রদ্ধা ।

২৯. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪৯০

রাগ ইমন বলেছেন: প্লাস

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫১০

লেখক বলেছেন:

থ্যাঙ্কস।

৩০. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০১০

ফেরারী পাখি বলেছেন: এরকম একটা সময়কে খুব কাছে থেকে দেখে আমাদের হাতে যে ছবি তুলে দিচ্ছেন তার জন্য আপনার কাছে রইল আজীবন কৃতজ্ঞতা।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫০০

লেখক বলেছেন:

এই ব্লগ, আপনাদের অকুণ্ঠ অনুপ্রেরণা না থাকলে হয়ত কোন দিনও লেখা হতো না। হয়ত শুরু করতাম, কিন্তু শেষ হতো না।

এ জন্য বরং আমিই আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

৩১. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৬০

অপ্‌সরা বলেছেন: মুনশিয়ানা বলেছেন: (সেই থেকে আজও, ওই এগার তারিখ এলে কিছু একটা হয়ই, আমার জন্মদিন পালন করা আর হয়ে ওঠে না)। এ কথাটা আপনি বহুবার বলেছেন, আজ আবার তা নতুন করে মনে পড়ল।

আমাকেও বলেছো ভাইয়া।

এখন বুঝি জন্মদিনের সাথে কি কষ্টের স্মৃতিটাই না জড়িয়ে আছে তোমার।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৫০

লেখক বলেছেন:

……………………….

৩২. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৫০

যীশূ বলেছেন: পড়ছি………

২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৪০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ যীশূ।

৩৩. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩৬০

ত্রেয়া বলেছেন: পড়ছি……

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০৬০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ ত্রেয়া।

৩৪. ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৩০

শিপন আবদুর রাজ্জাক বলেছেন:

৩৮ বছর কাটলো !

মা ! তোমার সন্তানদের রক্তের ঋণ শোধ হলো না !

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২০০

লেখক বলেছেন:

পেছনে কেবলই আঁধার দেখি

সমুখে পারাবার!

এখন নীল আকাশে কোথাও শকুন নেই

এখন আমাদের ভেতর-বাড়িতে শকুনের আনাগোনা।

৩৫. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৪০

মেহবুবা বলেছেন: যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে আপনার বয়স দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল । নয় মাসের যুদ্ধ আপনাকে অনেকটা বড় করে দিয়ে বিজয় এনেছিল ।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৩০

লেখক বলেছেন:

শুধু বড়ই করেনি, আমাকে বিচ্ছিন্নও করে দিয়েছিল! আমি বয়সের মাপে সবার থেকে আলাদা হয়ে গেছিলাম!

 

Top of Form

আপনার মন্তব্য লিখুন

কীবোর্ডঃ  বাংলা                                    ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয় ভার্চুয়াল   english

নাম

       

Bottom of Form

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s