এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি [ ৫ ] অচেনা আঁধারে বাবার তালাশ

Litle figher

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০০ |

যে যে পথে গেছিলাম সেই সেই পথে ফেরার সময় আর পথ অচেনা মনে হলো না। মনে মনে এটা ভেবেই শুধু অসহায় বোধ করছিলাম-কোথা থেকে শুরু করব? লাখ লাখ মানুষের ভিড়ে কোথায় বাবাকে খুঁজব? জনে জনে জিজ্ঞেস করব, নাকি শুধুই মুক্তিযোদ্ধাদের জিজ্ঞেস করব? মুক্তিযোদ্ধাদের কোথায় পাব? এমন অন্ধকারে হাতড়াতে হাতড়াতে বহরমপুর এসে গেলাম। কয়েকদিন আগে যে রেস্টুরেন্টে অনেকক্ষণ বসে ছিলাম সেই রেস্টুরেন্টকেই আপন আর চেনা মনে হল। বুন্দিয়া পরোটা খেয়ে ওই রেস্টুরেন্টের কাউন্টারে বসা লোকটিকে সব কিছু খুলে বললাম। তিনি আমাকে সাহায্য করবেন আস্বাস দিয়ে বসতে বললেন। বসে রইলাম চুপচাপ। বেশ কিছুক্ষণ পরে তিনি আমাকে ডেকে বললেন-তোমাকে শুরু করতে হবে এক প্রান্ত থেকে, যেখানে সেখানে খুঁজে লাভ নেই, শুধু শরণার্থী ক্যাম্প আর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে খুঁজবে। তিনি যা যা বলে দিলেন আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম, কিন্তু মনে মনে আরো ঘাবড়ে গেলাম! তার পরও মন শক্ত করে বললাম-‘আমি তাহলে দক্ষিণ দিক থেকেই শুরু করি’। এর পর তিনি কাকে যেন ডেকে বললেন-‘এই খোকাকে কৃষ্ণনগরের বাস স্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য একটা রিকসা করে দাও’। সেইমত আমার চেয়ে একটু বড় একটা ছেলে আমাকে হাত ধরে বাইরে নিয়ে এসে একটা রিকসা ডেকে তাতে উঠিয়ে দিল। একটু পরে আমি কৃষ্ণনগরের বাসে চেপে বসলাম।

কোথা দিয়ে এলাম কিছুই মনে নেই! প্রায় বিকেল নাগাদ পৌঁছুলাম কৃষ্ণনগরে। সেখানে কাকে কি জিজ্ঞেস করব কিছুই বুঝতে না পেরে বাস স্ট্যান্ডেই নিরূপায় বসে রইলাম। একসময় সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত হয়ে এলো। এখানে এসে একটা ব্যাপারে একটু ভাল লাগছিল, আমরা চুয়াডাঙ্গায় যে ভাষায় কথা বলতাম এখানেও দেখলাম সেই রকমই কথা বলে সবাই। এখন কোথায় যাব, কোথায় থাকব এই চিন্তায় প্রথমেই মাথায় এলো যেখানে শরণার্থীরা থাকে সেখানেই থাকতে হবে। বাস স্ট্যান্ডের পাশেই একটা ছোট মাঠের মত খালি যায়গায় দেখলাম তাবু খাটানো শরণার্থী শিবির। তারই পাশে গিয়ে বসে পড়লাম। এই প্রথম নিজেকে ভীষণ অসহায় মনে হলো! আগে তো মা-বোন সাথে ছিল, এখন আমি একা! অনেক রাত পর্যন্ত ঘুম এলো না। তারপর কখন ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই। খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেল মানুষের চিৎকার শুনে।

আমার কাছে এই সময়ে একটা ব্যাপার বেশ সোজা মনে হচ্ছিল,যে কোন হোটেলে বা রেস্টুরেন্টে গেলে অনেক খবর পাওয়া যায়। কাউন্টারের লোক বা যারা খায় তারা কেউ না কেউ অনেক খবর দিতে পারে। কাছের একটা রেস্টুরেন্টে বসে নাস্তা করে সেখানেই জেনে নিলাম এখানে বর্ডার কত দূরে, কাছের শরণার্থী শিবিরগুলো কোথায়, এইসব। সেই মত আবার বেরিয়ে টেম্পোতে চড়ে রওনা হলাম কল্যাণী শরণার্থী শিবির। অনেক বেলা হওয়ার পর কল্যাণী পৌঁছানোর পর আবার আমার মাথা ঘুরে উঠল! হাজার হাজার মানুষ কয়েক মাইল জুড়ে তাবু খাটিয়ে আছে! অনেক দূর থেকেই মানুষের চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছে। মূল শরণার্থী শিবিরে ঢোকার পর দুএকজনকে জিজ্ঞেস করার পর মনে হলো এভাবে কেউ কিচ্ছু বলতে পারবে না। অনেকে তো কথাই বলতে চায় না। সবাই সবাইকে নিয়ে ব্যস্ত। আমি চেষ্টা করছিলাম আমার বয়সী বা আমার থেকে একটু বড় যারা তাদের কাছে খবর নিতে, কিন্তু তারা আমার কথা শুনে কেউ হাসে, আবার কেউ বলে- এভাবে বাবা পাওয়া যায় নাকি? পাগল কোথাকার!

দুপুরের পর এক মুক্তিযোদ্ধা আমাকে পাশে ডেকে অনেকক্ষণ কথা বললেন। সব শুনে তিনি আমাকে শিকারপুরের একটা ট্রাকে তুলে দিলেন। এটা আরও দক্ষিণে না উত্তরে তা মনে নেই। তিনি আমাকে বলে দিলেন‘ শিকারপুর হচ্ছে আমাদের যশোরের বর্ডার। যদিও তোমার বাবা মেহেরপুর ইউনিটে ছিলেন, তবুও তুমি শিকারপুর থেকেই শুরু কর। আর এভাবে শরণার্থী শিবিরে কেউ কিছু বলতে পারবে না, তার চেয়ে বরং তুমি একেবারে বর্ডারে চলে যাবে’। আমার কাছে টাকা-পয়সা আছে কিনা তাও জিজ্ঞেস করলেন তিনি। আমি ‘আছে’ বলায় আমাকে পিঠ চাপড়ে অভয় দিয়ে ট্রাকে তুলে দিলেন। একসময় শিকারপুরে এসে নামলাম। এর ওর কাছে জিজ্ঞেস করে চলে গেলাম মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় বিশ-ত্রিশ জনকে জিজ্ঞেস করেও কোন কুলকিনারা হলো না। তবে কৃষ্ণনগরের মত আমাকে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হলো না। ওরা একটা বারান্দায় থাকতে দিলেন। সকালে উঠে আবার রওনা দেব। কিন্তু কোন দিকে? কোথায়? বাবার চেয়ে একটু বেশি বয়সী একজন মুক্তিযোদ্ধা আমাকে সোজা বাড়ি(মুর্শীদাবাদ) ফিরে যেতে বললেন। এভাবে নাকি আমি জীবনেও বাবাকে খুঁজে পাব না! এক পর্যায়ে তিনি বললেন-তোমার বাবা বেঁচে আছে কিনা তা কি জানো? আমি অসহায়ের মত মাথা নাড়ালাম শুধু। কেন জানিনা ওই লোকটির উপর খুব রাগ হচ্ছিল। কোনভাবেই আমি ভাবতে চাচ্ছিলাম না যে বাবা মারা গেছেন। ওখান থেকে বেরিয়ে আবার আমার উত্তরে যাত্রা।

এবার আর আমি বড় বাসে বা ট্রেনে না চড়ে ছোট ছোট মিনি বাসে আর টেম্পো তে চড়ে বর্ডার ধরে উত্তরে এগুতে থাকলাম। দুই তিন দিন পর আরো হতাশ হয়ে একটা বড় লরির ড্রাইভারের কাছে আমার বিষয় বলায় ড্রাইভার বলল- তোমার উচিৎ হবে তোমার বাবা জয়বাংলার যে সীমান্ত দিয়ে ঢুকতে পারে সেখানে খোঁজ করা। আমি তাকে মেহরেপুরের কথা বলায় তিনি বললেন-আমার সাথে থাকো। আমি সন্ধ্যায় ওদিকেই যাব। আমি তার সাথেই থেকে গেলাম। প্রথম আর দ্বিতীয় দিনের কথা মনে ছিল, কিন্তু এখন আমি আর মনে করতে পারছিলাম না যে কত দিন আমি বেরিয়েছি! আমার পরনে ইংলিশ হাফপ্যান্ট আর কেরোলিনের সার্ট। কেরোলিনের সাট ময়লা হয়নি, কিন্তু প্যান্ট কালো হয়ে গেছে। প্যান্টের পকেটে যে টাকা আছে সেটা আমি অতি যত্নে রেখেছি। ট্রাক বা মিনি বাসে আমার কাছ থেকে কেউ ভাড়া নেয়নি। খাওয়া ছাড়া আর টাকাও খরচ হয়নি। এক একবার মনে হচ্ছিল এভাবে হবে না। বাড়ি ফিরে যাই। আবার যখন ওই বাড়ির বড় মামার কথা মনে পড়ে তখন মনে হয় যে করেই হোক বাবাকে পেতে হবে। আর যদি বাবাকে নাও পাই তবুও আর ওখানে থাকব না। একধরণের জিদ হচ্ছিল মনে মনে।

সন্ধ্যার দিকে সেই ট্রাকে আমি আবার রওনা হলাম। এবার একটু ভাল লাগছিল এটা ভেবে যে সেই বেতাই যাচ্ছি, সেখানে সেই বুড়ো মানুষটা মানে নিরঞ্জনের বাবা আছেন যিনি আমাদের চিনেছিলেন। ট্রাক ছুটে চলেছে। ট্রাক কোন জায়গা দিয়ে যাচেছ কিছুই জানিনা। একসময় আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। ট্রাকের ড্রাইভারও আমাকে ডাকল না। সকালে যখন ড্রাইভারের ডাকে ঘুম ভাঙ্গল তখন ড্রাইভার লজ্জিত হয়েই বলল-আমার তো মনেই নেই যে তোমাকে তেহট্ট থানায় নামিয়ে দেব! তেহট্ট কোথায় জিজ্ঞেস করতে সে জানাল বেতাই এর পাশে, ওটা থানা শহর। আমি পাশে তাকিয়ে দেখলাম একটা সাইনবোর্ডে লেখা রাধিকাপুর (পশ্চিম দিনাজপুর)! মাথা ঘুরে উঠল! এ কোথায় এলাম! ড্রাইভারের উপর রাগ হচ্ছিলনা, কিন্তু কেন ডেকে দিল না ভেবে কান্না পাচ্ছিল। এবার ড্রাইভার নিজের পয়সায় আমাকে নাস্তা করিয়ে বললেন-‌”ভালই হলো, তুমি এবার এখানেও খুঁজতে পারবে”। আমি কিছুই বলছি না। আরও কিছু সময় পরে ড্রাইভার আমাকে একটা মিনি বাসে তুলে দিল। বাসটা যাবে মালদহ। তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চললাম মালদহ। এদিন আমার ভয় একটু একটু করে কমে যেতে লাগল। মনে হলো অনেকটা পথ তো ঘুরে বেড়াচ্ছি, এখন পর্যন্ত কোন সমস্যা যখন হয়নি, তখন আর মনে হয় কোন ভয় নেই। মালদহ শহরে এসে নামলাম। আবারও এক রেস্টুরেন্ট। আবাও সেই রেস্টুরেন্টের কাউন্টারের মানুষটিকে কাকা বলে জিজ্ঞসাবাদ।

এখানে এসে জানলাম এই মালদহ বর্ডার পার হলে ওপারের রাজশাহী। মালদহ থেকে মিনি বাসে চলে এলাম আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের বর্ডারে। আমি জানি নেই, তবুও এখানে সেই একই জিজ্ঞাসাবাদ করে চললাম। দুই দিন ধরে এখানে বর্ডারে, শিবিরে আর ছোট ছোট ক্যাম্পগুলোতে খুঁজে আবার ফিরে এলাম মালদহ শহরে। রাতে সেখানে বাস স্ট্যান্ডের পাশে টিনের ছাপড়ায় থেকে পর দিন সকালে জিজ্ঞেস করে করে গিয়ে উঠলাম আরো দক্ষিণে শিকারপুর যাওয়ার বাসে। দুপুরের দিকে বাসটা একটা স্টপেজে থামার পর মনে হলো এই জায়গাটা আমি চিনি! আমি ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক ওদিক তাকাচিছলাম। বাসের হেল্পারকে জিজ্ঞস কললাম-এটা কোথায়? “বেতাই”। হেল্পার জবাব দিল। আমি তাড়াতাড়ি লাফ দিয়ে বাস থেকে নেমে গেলাম। পেছন থেকে হেল্পার বলল-“তুই না শিকারপুর যাবি বলছিলি”? আমি কোন কথা না বলে আর এক দিকে সরে গেলাম। বুঝতে পারলাম শিকারপুর আরও দূরে। বাসটা ছেড়ে চলে গেল।

বাস স্ট্যান্ডের কাছেই একটা মুদি দোকানে যেয়ে জিজ্ঞেস করলাম -‘এখানে নিরঞ্জনের দোকান কোনটা’? যায়গাটা ছোট। প্রথম জন বলতে না পারলেও এর পরে আর জনকে জিজ্ঞেস করতেই দেখিয়ে দিল- ওই যে ছোট বটতলা, ওর পাশেই তিনটে দোকানের পরে। আমি কথামত সেই দোকানে গিয়ে সেই বৃদ্ধকে দেখলাম না। একজন ফর্সামত লোক বসে আছে একটা ছোট বাক্সো সামনে নিয়ে। লোকটা চিকন লিকলিকে। তার কাছে নিরঞ্জনের নাম জিজ্ঞেস করতেই বলল-‘আমার নাম নিরঞ্জন, কেন কি চাও’? আমি সেই বৃদ্ধের সাথে আমাদের কি কি কথা হয়েছিল সব খুলে বলার পর তিনি বললেন- ‘বাবা তো এখন নেই, তেহট্ট গেছে মাল আনতে’। আবার চুপ করে বসে থাকায় তিনি আমার আসল ঘটনা জানতে চাইলেন। আমি সব খুলে বলার পর বললেন- রাস্তার ওপারে একটা হাইস্কুল আছে, ওখানে রোজই মুক্তিযোদ্ধারা আসে। কেউ কেউ থাকে আবার কেউ কেউ পরদিন চলে যায়। ওটা একটা অস্থায়ী ক্যাম্প। তুমি ওখানে খোঁজ করো। তিনি হেসে হেসে কথা বলা ছাড়া আর কিছুই করলেন না। আমার মনে হচ্ছিল তার বাবা থাকলে নিশ্চই আমাকে আদর করে অনেক কিছু করতেন। আমার যে রাগ হচ্ছিল তা নয়, কেমন যেন মনে হচ্ছিল-উনি আমাকে কাছে ডেকে বসতে বললেন না কেন?

রাস্তা পার হয়ে সেই হাই স্কুলে গিয়ে দেখলাম সত্যিই অনেক মুক্তিযোদ্ধা। সবাই ভীষণ ব্যস্ত। কারোরই যেন কথা বলার অবসর নেই। প্রথম কয়েকজনকে কিছু জিজ্ঞেস করতেই তারা যার যার কাজে চলে গেলেন। আবার একজনকে জিজ্ঞেস কললাম। এবার তিনি আমার কথা শুনতে চাইলেন। আমি আগ্রহী হয়ে তাকে সব বলার পর তিনি আমাকে আদর করে বললেন- “এখানে এখন এই নামে তো কেউ নেই বাপ, তবে রোজই নতুন নতুন লোক আসে। হয়ত এমনও হতে পারে তোমার বাবা বেঁচে আছেন, এবং এখানেই এসে আবার বর্ডারে চলে গেছেন”! তার সাথে যখন কথা বলছি সে সময় আর একজন এসে ঘটনা কি জানতে চাইল। সেই প্রথম জন তাকে বলার পর দ্বিতীয় জন বলল-“আসো, আমার সাথে আসো”। আমি তার সাথে চলে গেলাম। তিনি এ ঘর ও ঘর আমাকে নিয়ে ঘুরে একটা লম্বা ঘরের কাছে এসে বললেন-এখানে একজন ইনামুল আছে, দাঁড়াও দেখি। ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখা গেল যার কথা বলা হচ্ছে তিনি ইনামুল ঠিক তবে আমার বাবা নয়। তিনিও অন্য অনেকের মত আমাকে বাড়ি ফিরে যেতে বললেন। আমি ওখান থেকে বেরিয়ে এসে কি করব ভাবতে ভাবতে শহরের এক প্রান্তে বিশাল বট তলায় কালী মন্দিরের কাছে চলে গেলাম। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো।

আমি মন্দিরের পাশেই বসে আছি। কি ভাবে অনেক রাত হয়ে গেল বুঝিনি। ওই মন্দিরেই প্রসাদ খেলাম। আতপ চাল ভেজানো, কলা, চিড়া আর দই দিয়ে মাখানো। এর আগেও কৃষ্ণনগরে একরাতে মন্দিরের খাবার খেয়েছিলাম। রাতে আর কোথাও গেলাম না। শুয়ে পড়লাম মন্দিরের বারান্দায়। সকাল হলে আবারো সেই ক্যাম্প। আবারো নেই। এদিন সেই বৃদ্ধকে (নিরঞ্জনের বাবা) পেলাম। তিনিও আমাকে বাড়ি ফিরে যেতে বললেন। সাথে এই কথাও বললেন-তোমরা কোথাও থাকার যায়গা না পেলে তোমার মাকে নিয়ে এখানে চলে আসো। আমার একটা চালা ঘর আছে সেখানে থাকতে পারবে। কেন জানিনা এই লোকটকে আমার আপন দাদু মনে হচ্ছিল। রাতে মন্দিরে ছিলাম শুনে বললেন-‘কেন, আমার এখানে আসতি পাইরতে, আইসলে না কেন? আর আইজ যদি না ফিরে যাও তালি আমার এইহেনে থাকতি পারবা’। আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে আবার বেরিয়ে পড়লাম। সারা বিকেল, সন্ধ্যা এদিক ওদিক ঘুরে আবার রাতে সেই হাইস্কুল ক্যাম্পে গিয়ে আবার খোঁজ নিলাম। আবারও হতাশ হতে হলো। তবে আজ সেই লোকগুলো জানাল –”আজ রাতে একটা টিম আসার কথা আছে”। এই কথা শুনে আমি আজ আর মন্দিরে গেলাম না। ওই ক্যাম্পের যে বড় ঘরটা তার বারান্দায় বসে থাকলাম। ক্রমে রাত বাড়তে থাকল। এক সময় ক্লান্ত আমি কুন্ডলি পাকিয়ে শুয়ে পড়লাম। অনেক রাতে ঘুমের ভেরতেই আবছা শুনতে পেলাম অনেক লোক কথা বলতে বলতে সেই ঘরে ঢুকছে। আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।

আমার কোন স্বপ্নের কথা মনে থাকেনা। কিন্তু ঘুমালেই স্বপ্ন দেখি আমি পথে পথে বাবাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। খুব সকালে দরজার খিল খোলার শব্দে ঘুম ভাঙ্গলেও আমি শুয়েই ছিলাম। কয়েকজন লোক কথা বলছে। কিছু কিছু শুনছি কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না। তারপর আমার কাছে এসে কে যেন বলল-‘হ্যাঁ এখানে, এই তো! এই ছেলেটাই…..” আমি দেওয়ালের দিকে মুখ করে শুয়ে ছিলাম। কে যেন আমাকে টান দিয়ে ঘুরিয়ে দিল! আমার পাশে দাঁড়ানো লোকটি একটু ঝুঁকে আছেন। আমার মুখটা দেখেই তিনি চিৎকার করে উঠলেন! আমি ধড়ফড় করে উঠে বসলাম! বাবা! আমার বাবা! আমার বাবা! আমার বুকের ভিতর থেকে ঠেলে কান্না বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে…..মুহূর্তে বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরলেন…..কাকে যেন বললেন-তোমরা রাতে বল নাই কেন, আমি ঘরের ভিতর সারারাত, আমার আমার ছেলে এখানে এই অবস্থায়……বাবা বাচ্চাদের মত কাঁদছেন! আমিও ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছি…..আমার মাথায় টপ টপ করে বাবার চোখের পানি পড়ছে…..আমি বাবার বুকে মুখ ঘসে চলেছি…. সারা শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে…..মনে হলো দূরে কোথাও একসাথে অনেকগুলো বাজ পড়ল…..কতক্ষণ এভাবে ছিলাম জানিনা, বাবা আমার মুখটা সোজা করে শুধু বললেন-মা? ‘সবাই আছে’ বলতেই আবার তার বুকে আমার মাথা চেপে ধরে রাখলেন…..আমার মনে হলো আমি বাবার বুকে মাথা রেখে যেন কতকাল হয় কাঁদছি…..বাবা আমাকে কোলে করে উঠে দাঁড়ালেন, দেখলাম আরো কয়েক জনের চোখেও পানি। আমার মাথায় অনেক অচেনা হাত। পূব দিক থেকে লাল হয়ে সূর্য উঠছে…..বাবার গলা জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে মাথা রেখে মনে হলো আমার ঘুম পাচ্ছে………..

চলবে……………

পর্ব > ১
পর্ব > ২
পর্ব > ৩
পর্ব > ৪

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতিকিশোর মুক্তিযোদ্ধামুক্তিযুদ্ধবাঙ্গালীবাংলাদেশীবাংলাদেশ১৯৭১৭১৭১মনজুরুল হকস্মৃতিকথাগেরিলাপাকিস্তানপূর্ব বাংলাবিহারী197171’71bangladeshfreedom fighterliberation warbangladeshibanglaeast pakistanwest pakistan…. ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধস্মৃতিকথা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:০২ |বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

৬৫৮ বার পঠিত৬৯২৩৪

 

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

 

৯২টি মন্তব্য

১-৪৬

১. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৮০

আমি এবং আঁধার বলেছেন: শুধু এই লেখাটা পড়ার জন্য এতক্ষণ জেগে আছি। অবশেষে পেলাম। পড়া শেষ করে আবার মন্তব্য করবো।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৫০

লেখক বলেছেন:

শরীরটা বেশ খারাপ। আমার মাইগ্রেনের সমস্যা আছে। একটু এদিক-ওদিক হলেই মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়। কাল থেকেই কষ্ট হচ্ছে। আজ তাই অনেক দেরি হলো পোস্ট দিতে।

২. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১০০

রাগিব বলেছেন: অসাধারণ স্মৃতি। শ্রদ্ধা রইলো আপনার বাবার জন্য।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৮০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ রাগিব। জানিনা কি হচ্ছে, আমি কেবল লিখে যাচ্ছি।

৩. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৪০

আমি এবং আঁধার বলেছেন: চোখ কখন যে ভিজে গেছে টেরই পাইনি। এতো অল্প বয়সে কি অসীম দায়িত্ব চেপে বসেছিলো আপনার কাঁধে!!! আপনাকে অভিবাদন।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০০০

লেখক বলেছেন:

অনিবার্য সেই বাস্তবতা কত নিষ্ঠুর ছিল যে আমার মা আমাকে অচেনা পথে একাই ছেড়ে দিলেন! এখন ভাবলে গায়ে কাঁটা দেয়, অথচ তখন কি অবলীলায় পথে নেমে গেছি,,,

৪. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৪০

শ* বলেছেন: তার মানে মুক্তুযোদ্ধারা সংগঠিত হওয়া শুরু করেছিল এপ্রিল/মে থেকেই ?

ট্যাগ এ কী ওয়ার্ড আরও কিছু দেন ।

টাইপো গুলা থাকুক ।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৬০

লেখক বলেছেন:

বুঝি নাই কোন টাইপো?

৫. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৫০

শ* বলেছেন: মুক্তুযোদ্ধারা =মুক্তিযোদ্ধারা

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৪৬০

লেখক বলেছেন:

ঠিক আছে।

৬. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩১০

নাজনীন১ বলেছেন: আজকে আপনার এ লেখা পড়ার সাথে পিছনের কিছু লেখায় ঢুঁ মারলাম, সেপ্টেম্বর ২০০৮। আপনি যে একটা জীবন্ত ইতিহাস, এটা আমার আগে জানা ছিল না। অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে। ভাল থাকুন। আপনার বাবাকেও শ্রদ্ধা।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৪৮০

লেখক বলেছেন:

ওহ হো! আপনি মনে হয় আসল লেখাটা পাননি! একটা লেখা ড্রাফটে আছে।

নারে ভাই আমি ইতিহাস টিতিহাস কিছুই না। বলা যেতে পারে ইতিহাসের কোন এক খাঁজে বা ভাঁজে একটা চরিত্র মাত্র, যে ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে ভেসে গেছিল ইতিহাসের সাথে।

৭. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩২০

হোসাইন১৯৫০ বলেছেন: সালাম আমাদের এসব অগ্রজদের প্রতি ।

যাদের জন্য আমরা স্বাধীন জাতি ।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৪৯০

লেখক বলেছেন:

আপনাকে সশ্রদ্ধ অভিবাদন।

৮. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫০০

মোঃমোজাম হক বলেছেন: ভিনদেশে এই বয়সে কত সাহসের সঙ্গে ঘুড়ে বেড়ালেন!একটি বারের জন্যও ভয় লাগলোনা?আপনার মায়ের মনওতো বেশ শক্ত ছিল।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৮০

লেখক বলেছেন:

ভয় লাগেনি তা তো নয়! ভয়ে কুকঁড়ে গেছি! কিন্তু উপায় কি? ভয় পেয়ে বসে থাকলে যদি চলত তাহলে কে তার অতটুকুন সন্তানকে বাইলে ঠেলে দেয়!

আমার মা অসম্ভব সাহসী মানুষ। চার চার বার অপারেশন টেবিল থেকে ফিরে বেঁচে আছেন এখনো। তবে এখন রোগ ব্যধিতে কাহিল প্রায়…

৯. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৭০

ঘুমঘুম বলেছেন: অন্যরকম একটা অনুভূতি হচ্ছে। চলুক এই অসাধারণ লেখা।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৪০

লেখক বলেছেন:

আশা করি চলবে এই ডিসেম্বরে।

পড়া এবং চমৎকার মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।

১০. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:২০০

লুৎফুল কাদের বলেছেন: Thank you very much.

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৬০

লেখক বলেছেন:

আপনাকেও ধন্যবাদ।

১১. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩০০

চানমেয়া বলেছেন:

মনজু ভাই….

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৮০

লেখক বলেছেন:

আপনি মাঝপথে এলেন! এলেনই যখন তখন চলুন সাথে সাথে …. ….

১২. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৩০

* বলেছেন:

চানমেয়া বলেছেন:

মনজু ভাই….

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৯০

লেখক বলেছেন:

শেষ করি আগে, তার পর তোমার সাথে কথা আছে।

১৩. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৫৪০

চানমেয়া বলেছেন:

সিরিজটারে স্টিক করা হৌক।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১০

লেখক বলেছেন: না খারেজি। এখনই স্টিকি করা ঠিক হবেনা। সিরিজটা আগে শেষ করি……

১৪. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২৫০

আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

আপনার বয়স তখন ১১ছিল, তাইনা মনজু ভাই ?

সাধারণ যে কোন সময়ে ১১ বছরের একটা ছেলে সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে এভাবে বাবাকে খুঁজে বেরাচ্ছে, ভাবায় যায় না ! কিন্তু সে সময়টা এমনই ছিল ! সে সময়ে সবার বুকের পাটা স্বাভাবিকের চে’ অনেক বেশী চওড়া ছিল !

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৪০

লেখক বলেছেন:

আরাশি ঠিক যায়গাটা ধরতে পেরেছেন “কিন্তু সে সময়টা এমনই ছিল !”

এটাই আসল কথা। এখন এই পরিনত বয়সে অচেনা যায়গায় যাবার আগে দশ বার ভাবতে হবে! এখন অনিশ্চয়তায় লাফ দিতে কুড়ি বার ভাবতে হবে, কিন্তু সেই সময়!

হ্যাঁ সময়ই নির্ধারণ করে দেয় মানুষের কৃতকর্তব্য। ১১ বছরের কিশোর মুহূর্তে পরনিত হয়ে ওঠে!

১৫. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২৫০

সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:

বাবা ছেলের দেখা হওয়ার সেই আনন্দে কাঁদছি……..

কত্তগুলো বছর চলে গেছে………

মনেই হচ্ছে না………..

আপনার মঙ্গল কামনা করছি………..স্মৃতিগুলো জড়ো হোক আরো।

অনেক শুভকামনা।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৯০

লেখক বলেছেন:

সে যে কি কষ্ট আর কি আনন্দ ছিল তা বর্ণনা করলেও অসম্পূর্ণ থেকে যাবে!!

মনে হবে সিনেম্যাটিক

মনে হবে নাটকীয়

কিন্তু যে অপার্থীব নাটকীয়তা সেটা ধারণ করা যাবেনা।

সেই থেকে ৩৮ টা বছর!

কত বার যে বাবা এই স্মৃতি মন্থন করে করে ব্যথিত হয়েছেন!!

১৬. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৫৫০

আতিকুল হক বলেছেন: অসাধারন। লেখাটা এত জীবন্ত লাগছিল – যেন দেখতে পাচ্ছি।

ধন্যবাদ।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৬০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ আতিকুল হক। সাথে থাকবেন আশা করি।

১৭. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:১০০

ম্যাকানিক বলেছেন: ডিসেম্বর মাস হিসেবে এই পোস্ট কে স্টিকি করার অনুরোধ রইলো।

মঞ্জু ভাই আমার বাবাও একজন মুক্তিযোদ্ধা যদিও আমার জন্ম স্বাধীন বাংলাদেশে তারপরেও আপনার লেখার সাথে একধরনের একাত্মতা বোধ করছি।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩২০

লেখক বলেছেন:

আপাতত না।

আপনার বাবাকে আমার স্যলুট।

আমার দেখা মুক্তিযোদ্ধাদের আমার সাধারণ মানুষ মনে হয়না

মনে হয় অতিমানব বা স্বর্গ থেকে আগত!!

১৮. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৩৭০

জোবাইর বলেছেন: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষ-কোটি মানুষের যে দুঃখ-কষ্ট ও ত্যাগ-তিতিক্ষা ছিল তা আপনার অমলিন স্মৃতি থেকে আজকের প্রজন্ম উপলদ্ধি করতে পারবে। আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৮০

লেখক বলেছেন:

আমার এই ইতিহাস খুবই তুচ্ছ। এর চেয়ে আরও অনেক আত্মত্যাগের ইতিহাসে ভাস্বর আমাদের সেই মহান মুক্তিযুদ্ধ। যার যথাযথ মূল্যায়ন হয়ত হয়নি, আর হবেও না।

১৯. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০৩০

হোরাস্‌ বলেছেন: আপনার বাবাকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনাটা কল্পনাকেও হার মানায়। লেখা বরাবরের মতই অসাধারণ।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩২০

লেখক বলেছেন:

আমার যতটুকু ক্ষমতা তা দিয়ে বর্ণনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আসল ঘটনা তখনকার আবেগ কি পুরোপুরি ধরা সম্ভব? মনে হয় না। আমার বাবাকেও পরে মা সহ অনেকে জিজ্ঞেস করেছে, কিন্তু বাবাও গুছিয়ে বলতে পারেনি তার কেমন লেগেছিল। বাবা মনে করেছিলেন আমরা জায়গামত পৌঁছুতে পারিনি। হয়ত কোনও আশ্রয় শিবিরে আছি। হয়ত বেঁচেও আছি…………

২০. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৪৮০

রোহান বলেছেন: পড়ে যাচ্ছি…

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৮০

লেখক বলেছেন:

শেষ পর্যন্ত থাকুন রোহান। এই মাসেই শেষ হবে।

২১. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:০১০

মাহবুব সুমন বলেছেন: লেখক সত্বা বাদ দিয়ে একজন সাধারন মানুষ হিসেবে বিস্তারিত লিখুন, মাটির কাছাকাছি লেখা হয়ে থাকবে। ভালো লাগছে……..

আমার ব্লগে সিরিজটা দিন, ওখানে অনেকেই পড়তে পারবে। প্রথমে না হয় ইবুক হয়ে থাকবে। তারপর ছাপা। কি বলেন ?

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০০০

লেখক বলেছেন:

সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি ভাই। জানিনা কতটুকু পারছি।

আমার ব্লগে যে আমার একাউন্ট নেই! দেখি কি করা যায়…….

২২. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৮০

ফিরোজ-২ বলেছেন: অসাধারণ স্মৃতি। শ্রদ্ধা রইলো আপনার বাবার জন্য।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০২০

লেখক বলেছেন:

আজ আমার বাবা বেঁচে থাকলে তিনি হয়ত পরিতৃপ্ত হতেন। তবে আমার মা এই সিরিজ পড়ছেন, সঙ্গ দিচ্ছেন, কোন কোন নাম মনে করিয়ে দিচ্ছেন।

২৩. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫৫০

মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: স্যালুট!!

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৩০

লেখক বলেছেন:

কৃতজ্ঞতা রিপন।

২৪. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:০২০

যীশূ বলেছেন: আপনার স্মৃতিশক্তি, লেখার ধরন সব মিলিয়ে অসাধারণ!

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৩০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ যীশু।

সাথে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা।

২৫. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১০০

পল্লী বাউল বলেছেন: সশস্ত্র স্যালুট !!!

লেখা পুরোপুরি শেষ হোক, তারপর আপনার সাথে কথা আছে।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৪০

লেখক বলেছেন:

নিশ্চই দাদা। দেখা হবে নিশ্চই।

ঢাকায় এলেই ফোন দেবেন মনে করে।

২৬. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৪০

মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: স্যালুট!!!!!!!!!!!!!!

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৫০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ মুনীর উদ্দীন শামীম।

২৭. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০৩০

মুনশিয়ানা বলেছেন: আমার পাশে দাঁড়ানো লোকটি একটু ঝুঁকে আছেন। আমার মুখটা দেখেই তিনি চিৎকার করে উঠলেন! আমি ধড়ফড় করে উঠে বসলাম! বাবা! আমার বাবা! আমার বাবা!

সশ্রদ্ধ অভিবাদন হে সাহসী কিশোর….

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৮০

লেখক বলেছেন:

আপনার সশ্রদ্ধ অভিবাধন আমাকে ঋগ্ধ করল, ঋণী করল, আমি আপ্লুত হলাম।

২৮. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২১০

নাজমুল আহমেদ বলেছেন: কি রকম যে লাগছে বলতে পারছি না….. কল্পনাকেও হার মানাচ্ছে সব কিছু।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৫০

লেখক বলেছেন:

এ কারণেই চাচ্ছি যে করেই হোক এই ডিসেম্বরেই পুরো ইতিহাস যেন তুলে আনতে পারি। এই উদ্যোগ একবার থেমে গেলে আবার পিছিয়ে যাব।

এখন আমারই মনে হয় কল্পনা! অথচ কি নিরেট বাস্তবতা!

২৯. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৪০

চতুষ্কোণ বলেছেন: কমেন্টের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি মনজুরুল ভাই! ক্ষমা করবেন।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫২০

লেখক বলেছেন:

দরকার নেই। শুধুই পড়ে যান।

৩০. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩২০

তামিম ইরফান বলেছেন: আপনার সে সময়কার অনুভুতিটা অনুভব করার চেষ্টা করলাম…..

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৪০

লেখক বলেছেন:

মনে করাটাও কষ্ট তামিম।

আবার মনে করে স্মৃতি মন্থণ করাটা আনন্দের। পরম আনন্দের।

৩১. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৮০

ত্রিশোনকু বলেছেন: ঘোরের মধ্যে ঢুকে পড়েছি। অসাধারন।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৬০

লেখক বলেছেন:

পাশে থাকুন বন্ধু। বড় ভরসা পাই।

৩২. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১২০

জাতেমাতাল বলেছেন: অসাধারন, সাথে আছি…

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৭০

লেখক বলেছেন:

এটা যে কত বড় ভরসা তা বলে বোঝানো যাবে না।

৩৩. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২০০

সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন: সবগুলো একসাথে প্রিয়তে রাখব……..এক নিঃশ্বাসে আবারো শেষ করলাম

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৯০

লেখক বলেছেন:

কৃতজ্ঞতা সারওয়ার ইবনে কায়সার। অসীম কৃতজ্ঞতা।

৩৪. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৮০

দীপঙ্কর বলেছেন:

আমারও

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৩০

লেখক বলেছেন:

ঠিক। তোমারও।

৩৫. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৩০

নির্ঝরিনী বলেছেন: পড়তে পড়তে আমারও মনে হচ্ছিল, বাবাকে বুঝি আর খুঁজে পাওয়া হল না…শেষে এসে বাবা, ছেলের দেখা পাবার মুহূর্তটা কেমন যে….লিখে অথবা ভাষায় সেটা প্রকাশ করা সম্ভব না, এটুকুই শুধু মনে হলো…

বার বার চোখ ভিজে যাচ্ছে….

বাবা, ছেলে দুজনের প্রতিই রইলো শ্রদ্ধা।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৯০

লেখক বলেছেন:

সে এক অপার্থীব অনুভূতি যা বর্ণনা করা যায়না, কেবল অনুভব করা যায়। আপনি অনুভব করতে পেরেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।

৩৬. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৭০

শ।মসীর বলেছেন: লাইফ ইজ বিউটিফুল আমার চয়েসে এক নং মুভী..আমি কেঁদে ছিলাম এই মুভী দেখে।

আজ আবার………। আমার টাকা আর আনুষাঙ্গিক সুবিধা থাকলে আপনার আজকের পর্ব নিয়ে মুভী বানাতাম।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৭০

লেখক বলেছেন:

আপনি এত আবেগাক্রান্ত মন্তব্য করছেন যে আমার থেমে যাওয়া কান্না নতুন করে বয়ে আসছে…….

৩৭. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৭০

শ।মসীর বলেছেন: আমার দুই বন্ধুর বাবা মুক্তি যোদ্ধা। একজন অসুস্হ, আরেকজন আমাকে কোন সুযোগ না দিয়ে গত বছর চলে গেছেন।

আমার ইচ্ছা ছিল একটা মুভী ক্যামেরা কিনে শুধু সেই সব দিনের কথা গুলো রেকর্ড করে রাখব। রাজনীতি নয় শুধু গৌরব গাঁথার জন্য। সেটা হলনা।

কামরুল ইসলাম ভূইয়ার জনযুদ্ধের গনযোদ্ধা পড়ে আমি শুধু শিহরিত হই, নিজেকে বসাই সেই সব দিন গুলোতে।

পার্ল হারবার দেখি , ২য় বিশ্ব যুদ্ধের অনেক মুভী দেখী, অন্যের গৌরব গাঁথা দেখে শিহরিত হই, আমর নিজের গুলো যে আরও বেশী শিহরনের সেটা দেখার কোন উপাই নাই।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০২০

লেখক বলেছেন:

আমিও অজস্র যুদ্ধের ছবি দেখেছি। “ফল অব বার্লিন” থেকে শুরু করে “শিল্ডার লিস্ট”। “অপারেশন ডে ব্রেক” থেকে “হরনেস্ট নেস্ট”! আর এই সব মুভী দেখার সময় আমি আমাতে হারিয়ে গিয়ে কেঁদেছি কত বার, কত কত দিনের পর দিন……আজও।

৩৮. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১১০

পরশমনি বলেছেন: অসাধারন, সাথে আছি…

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৩০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ পরশমনি। সাথে থাকুন।

৩৯. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৮০

রোহান বলেছেন: @শামসীর ভাই: একটা চেষ্টা করবেন নাকি… আনাড়ী হাতের আনকোরা কাজ হলে হবে তবুও…

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৫০

লেখক বলেছেন:

এতটা ভাবছি না রোহান। শুধু যদি বই আকারে ছাপা হয় তাতেই অনেক বড় পাওয়া।

৪০. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৫০

শ।মসীর বলেছেন: @রোহান : ইচ্ছাত আছে ….।

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৬০

লেখক বলেছেন:

কামনা করি আপনার ইচ্ছা ফলবান হোক ।

৪১. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:১২০

রাজর্ষী বলেছেন: অসম্ভব ভালো লাগলো। ধন্যাবাদ।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৫০

লেখক বলেছেন:

নিয়মিত পড়ার জন্য ধন্যবাদ রাজর্ষী।

৪২. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৮০

সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: আমি যে কেঁদে আকুল হলাম।

কিভাবে লিখে যাচ্ছেন ইতিহাস নামক জীবন কাহিনী। যেখানে নেই কোন আবেগ অথচ প্রতিটি মূহুর্ত আবেগে পরিপূর্ন।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫৭০

লেখক বলেছেন:

কোন পর্বে যেন কমেন্টের উত্তরে বলেছিলাম……..আমি ইতিহাস নির্মাণ করছি না, ইতিহাসের হাত ধরে সেই সকল স্মৃতিতে ঘুরে আসছি কেবল।

৪৩. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৬০

মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: মনে হচ্ছে যেন সেই সময়টায় ফিরে গিয়েছি

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৭০

লেখক বলেছেন:

এই কয়দিন আমি যেন সেখানে বসেই লিখছি….কি অদ্ভুত এক অনুভূতি!

৪৪. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৭০

অপ্‌সরা বলেছেন: এত কষ্টের পরে শেষ পর্যন্ত বাবাকে পেয়ে তোমার ঠিক কেমন লেগেছিলো জানিনা। তবে ভালোলাগার চাইতেও অনেক বেশী ছিলো সেটা সেই দূরদিনেও সেটা বুঝতে পারছি ভাইয়া।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৭০

লেখক বলেছেন:

জগতের কোন ভালাগা এর সমান হতে পারেনা অপসরা।

এ এক অপার্থীব আনন্দ।

৪৫. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২১০

ত্রেয়া বলেছেন: আমার মুখটা দেখেই তিনি চিৎকার করে উঠলেন! আমি ধড়ফড় করে উঠে বসলাম! বাবা! আমার বাবা! আমার বাবা!

পড়তে পড়তে কখন যে হুড়মূড় করে কাঁদতে শুরু করলাম বুঝতেও পারিনি….।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৮০

লেখক বলেছেন:

এই পর্বটা লেখার সময় আমাকে অনেকবারই থেমে যেতে হয়েছে। আবার মন শক্ত করে এগুতে হয়েছে। লেখার পর মনে হয়েছে বাবা কি ছিলেন সেটা আজ মর্মে মর্মে বুঝি, কারণ বাবা আর আমাদের মাঝে বেঁচে নেই।

৪৬. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩০০

মেহবুবা বলেছেন: পড়তে পড়তে মনে হল কোন একটা মুভি দেখছি ।

প্রতিবার ঠিক করি দুটো করে পর্ব পড়ব ।

একটা পড়বার পর এমন হয়ে যাই যে আরেকটা পড়ার অবস্থা থাকে না ।

আমি তো খুলনার মেয়ে , আপনার বোন হব নিশ্চয় ।

আমার অনুরোধ এটা বই হিসেবে আসুক ।

জানি না কোন কাজে আসব কিনা , প্রয়োজন হলে জানাবেন ।

অনেক ধন্যবাদ মন্জুরুল হক ভাই ।

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৩০

লেখক বলেছেন:

“আমি তো খুলনার মেয়ে , আপনার বোন হব নিশ্চয় ।

আমার অনুরোধ এটা বই হিসেবে আসুক ।

জানি না কোন কাজে আসব কিনা , প্রয়োজন হলে জানাবেন ।

অনেক ধন্যবাদ মন্জুরুল হক ভাই ।”

 

নিশ্চই, প্রয়োজন হলে জানাব। বই করার চেষ্টা হচ্ছে। এক বন্ধু কথাও দিয়েছেন। এখন শুধু শেষের অপেক্ষা।

নিশ্চই বোন হবেন।

ভাল থাকবেন মেহবুবা।

 

Top of Form

আপনার মন্তব্য লিখুন

কীবোর্ডঃ  বাংলা                                    ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয় ভার্চুয়াল   english

নাম

       

Bottom of Form

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s