এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি [৮] অ্যা লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আমর্স

556719_379430475481805_599501349_n

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৭ |

আর্মার তাবুর দায়িত্ব তেমন কঠিন কিছু ছিলনা। এক একটা টিম তাদের অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার সময় শুধু সংখ্যা লিখে রাখা, আবার তারা ফিরে অস্ত্র জমা দিয়ে যাওয়ার সময় সংখ্যা লিখে রাখা। আর দিনে যেন কেউ তাবুতে ঢুকে কোন কিছু না নিতে পারে সেটা দেখা। এখানে থাকার সুবাদে বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র দেখার সুযোগ হয়েছিল। সারাদিন খুটিয়ে খুটিয়ে কেবলই দেখতাম। মনে মনে সখ হতো পিস্তল দেখা, পিস্তল দিয়ে কি ভাবে গুলি করে তা দেখার, কিন্তু এই তাবুতে কোন পিস্তল ছিলনা। সারা ক্যাম্পে সম্ভবত একটিই পিস্তল ছিল ক্যাপ্টেন এর কাছে। অলস সময় পেরিয়ে যায়। যদিও এই তাবু সহ অন্যান্য সব কিছু পাহারার জন্য রাইফল কাঁধে সেন্ট্রি ছিল, তবুও এই তাবুর জন্য আলাদা আমি পাহারার কাজ করছিলাম।

প্রায় একমাস পার হওয়ার পরও আমি আমার ২০ টাকা ভাতা (পরিবার ছিল বলে বাবা মাসে ৭০ টাকা ভাতা পেতেন। আর আমাকে দেওয়ার কথা ২০ টাকা, কিন্তু কি ভাবে কোথা থেকে টাকা নিতে হয় সেটা কখনো বোঝার চেষ্টা করিনি। এই সময়ে যখন আমার কোন কাজ নেই তখন ‘অফিস টেন্ট’ এ গিয়ে একদিন আমি ভয়ে ভয়ে বললাম-‘আমার ২০ টাকা দেবেন’? যিনি এই তাবুতে কাজ করতেন তাকে সবাই ‘বাবু’ বলত, আমিও তাকে বাবু বলেই ডাকলাম। তিনি কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে বললেন-‘তুমিও কি বেতন পাও’? আমি থতমত খেয়ে বললাম-‘আমি জানি না, আমাকে ২০ টাকা দেওয়ার কথা’। ওই দিন এ নিয়ে আর কিছু হলো না। দিন কয়েক পরে একদিন বাবুই আমাকে ডেকে ২০ টাকা ধরিয়ে দিলেন। টাকাটা পাওয়ার পর অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছিল। সেদিন আমি বাড়ি ফিরে কাউকে কিছু না বলে সাইকেল নিয়ে সোজা বেতাই বাজারে চলে গেলাম। ছোট বোনদের জন্য প্লাস্টিকের চুড়ি, ফিতা ক্লিপ আরও কি কি কিনে ফেরার সময় একটা বড় তরমুজ কিনলাম। আমাদের এখানে দেখেছি কালো কালো ছোট তরমুজ, কিন্তু বেতাই বাজারের সাদা রঙের বড় জাপানী তরমুজ, যার ভেতরে টকটকা লাল দেখে কিনে নিলাম। বাড়ি ফেরার পর মা অবাক হয়ে টাকার কথা জানতে চাইলেন। আমি মা’কে বেতনের(ভাতা) কথা বলতেই মা আরও অবাক হলেন। বাবার ৭০ টাকা দিয়ে আমাদের খুবই কষ্টে চলছিল। একেবারেই প্রয়োজনীয় চাল-ডাল ছাড়া বাড়তি কিছুই হতো না। আমরা যদি শরণার্থী শিবিরে থাকতাম তাহলে সবই নাকি বিনা পয়সায় পাওয়া যেত। আমরা আলাদা জায়গায় থাকার কারণে শরণার্থীদের রেশন পেতাম না। মাঝে মাঝে ক্যাম্প থেকে যেটা পেতাম তা নিয়মিত নয়, ওটা আলাদা ভাবে দেওয়া হতো। সে কারণে আমাদের সখ-আল্লাদ বলে কিছু ছিলনা। মায়ের যে গহনা ছিল তা খুব হিসেব করে বেঁচতে হতো। কবে দেশ স্বাধীন হবে, কতদিন এখানে থাকতে হবে তার কিছুই ঠিক ছিলনা বলে মা খুব হিসেব করে খরচ করতেন।

মে মাসের শেষ দিকে অথবা জুনের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধারা বড় একটা অপারেশন করে। সেই অপারেশনে পাক সেনাদের একটা আউটপোস্টের দখলও নিয়ে নিয়েছিল,যদিও পরে ছেড়ে আসতে হয়। কমপক্ষে সাত-আট জন পাক সেনাকে খতম করে বেশ কিছু হাতিয়ারও দখল করেছিল। এই ঘটনার পর দিন ক্যাম্পে দুইটা ঘড়িয়াল (ভেড়ার চেয়ে একটু বড়, অনেকটা দুম্বার মত দেখতে, ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে দেওয়া হতো) জবাই করা হলো। আমাকে এক কিলো মত মাংশ দিয়েছিল। সেটা মনে হয় দুই তিন মাসের মধ্যে প্রথম মাংশ খাওয়া। বাড়িতে মাংশ দিয়ে আমি আবার ক্যাম্পে ফিরে গেছি। সন্ধ্যায় সবাই খাওয়া-দাওয়া করে যার যার কাজে চলে গেছে, এমন সময় ফ্রন্টে একের পর এক মর্টার শেল ফাঁটতে লাগল! সেদিন পাক সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের লাইন বা বাঙ্কার বরাবর অলআউট এ্যাটাক করল। সাথে সাথে হুইসেল বেজে উঠল। যারা যারা খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়েছিলেন তারা ঝটপট তৈরি হয়েই ফলইন করে দাঁড়াল। ক্যাপ্টেন সাহেব চরকির মত ছোটাছুটি করছেন…..কিছুক্ষণ পর ক্যাম্প প্রায় ফাঁকা করে সবাই মার্চ করল….. এক একটা টিমকে মার্চ করিয়ে আর একটা টিমকে অনর্গল নির্দেশ দিচ্ছেন ক্যাপ্টেন…..তিনি এমনিই একটু তোতলাতেন, ওই সময় রাগে উত্তেজনায় এক কথা বার বার বলছিলেন….। যে সেকেন্দার কাকা কখনোই ফ্রন্টে যেতেন না তিনিও চলে গেলেন…..ডাক্তার,বাবুর্চি আর কয়েকজন ছাড়া পুরো ক্যাম্প ফাঁকা! সেকেন্দার কাকা যে টিমের সাথে গেলেন সেই টিমে আমিও যাওয়ার জন্য আবদার করলাম। কাকা জোরে ধমক দিয়ে চলে গেলেন। সব শেষ টিমে গেলেন ক্যাপ্টেন। সেই রাতে আমি আর বাড়ি ফিরলাম না। ভয়ে সারারাত ঘুমাতেও পারলাম না। বাবা চলে গেছেন প্রথম টিমেই। আমি যে মা’কে বলে আসব তাও যেতে পারলাম না। সারা রাত থেমে থেমে প্রচন্ড গোলাগুলি হলো। অনেক রাতে অথবা খুব ভোরের দিকে আমি তাবুর ভেতর ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে জানা গেল আমাদের কেউ মারা যায়নি, কিন্তু তিন-চার জনের কারো গায়ে কারো পায়ে গুলি লেগেছে, তাদের সবাইকে ক্যাম্পেও আনা গেছে।

আরও কয়েকদিন পরে যারা বাঙ্কারে যেত তাদের নিয়ে আরও কিছু নতুন লোক নিয়ে(যাদের প্রায় সবাই কলেজের ছাত্র) আর একটা টিম বানানো হলো। তখন আবার শিফট চেঞ্জ করার লোকের অভাব। আর তাই আবার আমার ডাক পড়ল খাবার নিয়ে যাওয়ার জন্য। আগে সন্ধ্যার পর পরই যেতে হতো, কিন্তু ওই বড় গোলাগুলির পর থেকে আরও আগেই খাবার নিয়ে যেতে হতো। সেই মত আমি সন্ধ্যার আগেই বেরিয়ে পড়লাম। চেনা পথ ধরেই হাঁটছি, সন্ধ্যা হবে হবে, তখনও সূর্য ডোবেনি। বড় রাস্তার ধারে যে খাল ছিল সেখানে দুটি ছেলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছিল। আমি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কি মনে করে একটু দাঁড়ালাম। ওরা পটাপট বড়শি ফেলছে আর পুঁটি মাছ ধরছে। শামুক এর চাড়ার কাছে যে শক্তমত জিনিস থাকে সেটা বড়শিতে গেঁথে মাছ ধরছে। আমি আনমনে দেখতে দেখতে এক সময় মাথা থেকে ডেকচি নামিয়ে রেখে বসে পড়লাম। ওদের সাথে কথা এটা ওটা কথা বলছি আর মাছ ধরা দেখছি…..
কখন সূর্য ডুবে গেছে খেয়ালও করিনি, ওরা যখন বড়শি খালুই গোছগাছ করছে তখন খেয়াল হলো আমার! তাড়াতাড়ি উঠেই জোরে জোরে হাঁটা ধরলাম। তার পরও অনেক দেরি হয়ে গেল। পোস্টের ওরা কেউ ধমক দিলনা, কিন্তু ফিরতে চাইলে বলল-‘দরকার নেই, অনেক রাত হয়ে গেছে, অবস্থাও ভাল না, তুমি থেকেই যাও, সকালে আমাদের সাথে গেলেই হবে’। থাকার ব্যাপারে আমার কোন সমস্যা ছিলনা। আগে কখনো ফ্রন্টে বাঙ্কারে থাকিনি, তাই আমি কিছু না বলে থেকেই গেলাম। এখানে এদিন ছিল সাত জন। সবাইকেই চিনতাম, কিন্তু কারোই নাম জানিনা। গড়ে সবাইকে কাকা বা চাচ্চু বলি। এই বাঙ্কারটা ছিল বর্ডারের ওপারে, মানে বাংলাদেশ সীমানার ভেতরে একটা খালের পাড়ে। পাক সেনারা এই পর্যন্ত আসত না । প্রথম রাত অর্থাৎ রাত বারটার আগে আমি বাঙ্কারের বাইরে যে পাহারা দিচ্ছিল তার সাথেই থাকলাম। সেই লোকটি মেহেরপুরে ডিগ্রী পড়তেন। সারাক্ষণ আমার সাথে কথা বলছিলেন। আমার তো আর কথা নেই, আমি ঘুরে ফিরে কিভাবে আসলাম, কি ভাবে কি করলাম সেই সব বলে যাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পরে তিনি আমাকে বাঙ্কারের ভেতরে পাঠিয়ে বললেন-ঘুমাও যাও।

আমি শুয়ে থাকলাম ঠিকই কিন্তু ঘুম এলোনা। কেবলই ভয় হচ্ছে, যদি পাক সেনারা আসে? যদি গোলাগুলি হয়? আবোল তাবোল ভাবতে ভাবতে প্রায় ভোর হয়ে এলো। তখন ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে…..হঠাৎ শুরু হলো গোলাগুলি….লাগাতার গুলি হচ্ছে…..বাইরের সেই লোকটি বাঙ্কারে ঢুকেই চিৎকার করে বলল-‘কর্ডন’! কর্ডন কি তা বুঝলাম না, তবে সাথে সাথে সবাই নিজ নিজ হাতিয়ার নিয়ে হুড়মুড় করে বেরিয়ে আসলে আমিও বেরিয়ে আসলাম…..সেই লোকটি আবার বলল- ‘কর্ডন করেছে, ব্যাক সাইড ক্লিয়ার, পালাও…….’ কিছু না বুঝে আমি বোকার মত দাঁড়িয়ে থাকলাম…..কে যেন আমার একটা হাত ধরে দৌড় দিতে বলল…..দৌড় দিলাম…..খালের পাড়ে এসে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ল…..খালের এপারটাই ভারত। খালের এপারে উঠে আসল সবাই, আমি তখনও খাল থেকে উঠতে পারিনি…..সেই প্রথম লোকটি আবার খালে লাফিয়ে পড়ে আমাকে টেনে তুলল। এবার পেছন ফিরে আরো অকেনটা দূরে এসে সবাই মাটিতে শুয়ে পজিশন নিল। একজন আমার মাথা মাটির সাথে ঠেকিয়ে চিৎকার করে বলল- একদম মাথা তুলবি না। আমরা দূর থেকে দেখছি…..তিন পাশ থেকে তিনটি দল বাঙ্কারটাকে গুলি করে চলেছে। কোন হাতিয়ার ছিলনা কিন্তু খাবারের ডেকচি বাঙ্কারে রয়ে গেল। ঘন্টা খানেক বা ওইরকম কিছু সময় পর আমরা ক্যাম্পের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। সারাটা পথ ওরা সবাই মিলে যে যার মত কথা বলছিল। ক্যাম্পে যখন ফিরলাম তখন সকাল হয়ে গেছে। আমি আর বাড়ি গেলাম না। আর্মার টেন্টেই শুয়ে পড়লাম। ওরা চলে গেল রিপোর্ট করতে। সারারাত ধক্কলের পর শোয়ার সাথে সাথেই ঘুমে ঢলে পড়লাম। অঘোর ঘুম। আর কিছু মনে নেই।

বেলা বারটা একটার দিকে সেকেন্দার কাকা আরও কয়েকজন আমাকে ডেকে তুলে বলল-‘ভাতিজা পেপারে তুমার ছবি উঠে গেছে’! আমি চোখ ডলতে ডলতে উঠে তাবুর বাইরে এলাম। দেখলাম বাবা একটা কাপড়ের ভাঁজ করা টুলে বসে আছেন, আর তাকে ঘিরে আরও অনেকে কি কি সব বলাবলি করছে। আমি খালি গা দেখে আবার তাবুতে ঢুকে আমার গেঞ্জিটা নিয়ে পরলাম। বাবা আমাকে কাছে ডেকে নিলেন, কিন্তু কি হয়েছে সেই ঘটনা বললেন সেকেন্দার কাকা………..সেকেন্দার কাকা ঘুমাত তাবুর ঠিক মাঝ খানে। আর সেই বিছানার চারপাশ দিয়ে সাজানো থাকত বিভিন্ন অস্ত্রপাতি, গোলাবারুদ। সেই বিছানায় আমি ঘুমের ঘোরে এপাশে সরে গ্রেনেড আর মর্টার শেলের উপরেই চলে গেছিলাম। আবার আর একপাশে সরে হেলান দেওয়া বন্দুকের উপরেও আমার হাত-পা পড়েছিল। সেই সব অস্ত্র এমন ভাবে ছিল যে আমাকে দেখে মনে হচ্ছিল আমি অত সব গোলাবারুদের ভেতরে শুয়ে আছি! সেই দিন বিদেশী সাংবাদিকদের একটা টিম এসেছিল আমাদের ক্যাম্পে। তারা এই তাবুর কাছে আমার শুয়ে থাকা দেখে কাকাকে তাবুর একটা পাশ তুলে দিতে বলে। কাকা হুক খুলে তাবুর একপাশ তুলে দেওয়ার পর তারা অনেকগুলো ছবি তুলে নিয়েছিল। তার পর আমি কি ভাবে এইখানে আছি, কি কি করি সবই তারা লিখে নিয়েছিল……….। আমি হা করে সব শুনছিলাম। নিজে কি ভাবে শুয়ে ছিলাম সেটা না বুঝলেও খালি গায়ে শুয়েছিলাম এটা মনে হতে কেমন যেন লাগল। বাবা আর যারা তাকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিল তারা সবাই অদ্ভুত ভাবে আমাকে দেখছে!

এর পর আমার রোজকার ডিউটি হলো কাকা আর বাবাকে বিরক্ত করা! কোন পেপারে ছবি ছাপা হবে, কি ভাবে সেটা পাওয়া যাবে? বাবা একদিন বিরক্ত হয়ে বললেন-‘ওরা তো ভারতীয় সাংবাদিক না যে এখানকার পেপারে ছাপা হবে? ওরা ইংল্যান্ডের। ছাপা হলে ইংল্যান্ডের পেপারেই হবে, সেটা এখানে পাওয়া যাবেনা। আমি বুঝলাম সবই, কিন্তু আবেগ আর উৎকণ্ঠা থেকেই গেল! কিছুদিন পর পরই বাবা-কাকাকে বিরক্ত করতে থাকলাম। এর মধ্যে বাবা কি এক কাজে কয়েক দিনের জন্য সাতক্ষীরা বর্ডারে গেলেন। ফিরলেন সাত-আট দিন পর বিকেলে। সারা সন্ধ্যা বাড়িতেই থাকলেন। রাতে খেয়ে ক্যাম্পে যাবেন, এমন সময় তার হাত ব্যাগ খুলে একটা পেপার বের করলেন। আমি তখনও কিছু বুঝতে পারছিনা। সবাইকে কাছে ডাকলে দেখলাম একটা ইংরেজি পোপার! সাথে সাথে হুমড়ি খেয়ে পড়লাম…..বাবা পাতা উল্টে একটা পাতা মেলে ধরলেন। সারা পাতা জুড়ে যুদ্ধের ছবি! তার মধ্যে একটা ছবিতে একটা ছেলে খালি গায়ে শুয়ে আছে…..তার কোলের ভেতর কয়েকটা গ্রেনেড, আশে পাশে বন্দুক, গোলাবারুদ…. বাবা জোরে জোরে পড়লেন- ‘অ্যা লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আমর্স’। ততক্ষণে মা আর বোনেরা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ছবিটা দেখছে….বাবা পোপারটা ভাঁজ করে ক্যাম্পে চলে গেলেন।

( ১৯৭৬ সালে বাবাকে পরিত্যাক্ত সম্পত্তি হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া বাড়ি থেকে পুলিশ যেদিন উচ্ছেদ করে তখন আমি দর্শনায় মামার বাড়ি। বাবা-মা, ভাই-বোন (দেশ স্বাধীনের বছর দুই পরে আমার একমাত্র ভাইয়ের জন্ম হয়) সহ মালপত্র রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে! সারাদিন বাড়ির বাইরে বাবা ঠাঁয় বসে ছিলেন, কষ্টে ঘেন্নায় কারো কাছে সাহায্য চাইতে যাননি। পর দিন কোর্টের অর্ডারে বাসায় উঠতে পেরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু যে আঘাত তিনি পেয়েছিলেন সেই আঘাতের কারণে তার নিজের মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট, আমার সেই পোপারকাটিং, যুদ্ধশেষে পাওয়া মেডেল সব জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন)।

চলবে……………….

প্রথম পর্ব । দ্বিতীয় পর্ব । তৃতীয় পর্ব । চতুর্থ পর্ব । পঞ্চম পর্ব । ষষ্ঠ পর্ব । সপ্তম পর্ব ।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতিকিশোর মুক্তিযোদ্ধামুক্তিযুদ্ধবাঙ্গালীবাংলাদেশীবাংলাদেশ১৯৭১৭১৭১মনজুরুল হকস্মৃতিকথাগেরিলাপাকিস্তানপূর্ব বাংলাবিহারী197171’71bangladeshfreedom fighterliberation warbangladeshibanglaeast pakistanwest pakistan…. ; ; ; ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধস্মৃতিকথা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:০৪ |বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

৫১৩ বার পঠিত৫৬৪২৪

 

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

 

৬৪টি মন্তব্য

১-৩৩

১. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪০০

আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেছেন: +++

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১১০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ মনসুর।

২. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪২০

অলস ছেলে বলেছেন: নিয়মিতই পড়ছি। সেই সব দিনের কথা জানতে অদ্ভুত লাগছে। ভালো লাগছে।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১০০

লেখক বলেছেন:

শুনে ভাল লাগল। আজকাল তো এ নিয়ে কিছু লেখা-পড়া মানেই মোটা দাগে ভাগ হয়ে যাওয়া!

ধন্যবাদ অলস ছেলে।

৩. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৮০

ফিউশন ফাইভ বলেছেন: ইতিহাস থেকে আমরা জানছি, আমরা মুক্তিযুদ্ধের পর সব সরকারই অনেক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছে। বইয়ের কল্যাণে এখন বহু পাঠকের জানা, মুজিব আমলে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে কী অমানবিক আচরণ করেছে সেই সময়ের সরকার। এক আহমদ ছফা ছাড়া কেউ তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি।

আপনার লেখা থেকে দেখছি, ১৯৭৬ সালে, জিয়ার আমলেও আরেক মুক্তিযোদ্ধার পরিবার একইরকম অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছে।

দুঃখ লাগছে, ক্ষোভের আগুনে কিছু ইতিহাসও পুড়ে ছাই হয়ে গেল চিরতরে। ইংল্যান্ডে ছাপা হওয়া কাগজ সেই ক্যাম্পে কিভাবে পেয়েছিলেন আপনারা? কাগজের নামটা কি মনে পড়ে?

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৩০

লেখক বলেছেন:

নিশ্চিতভাবে মনে পড়েনা। কাগজটার উপরে নামটা যেভাবে লেখা সেটা মেলালে মনে হয় “দ্য টেলিগ্রাফ” অথবা “গার্ডিয়ান”।

সে সময় ফটোকপি মেশিনও ছিলনা । থাকলে হয়ত নিজ উদ্যোগেই কপি করে রাখতাম। আমার কাজিন ২০/২৫ বছর ধরে লন্ডনে আছে। তাকেও বলেছিলাম আর্কাইভ দেখে বের করতে পারে কি-না। পায়নি(সম্ভবত অত খোঁজাখুঁজি করতেও যায়নি)

বাবা যখন ২০০৭ এ ঢাকায় মারা যান তার আগে বলে গেছিলেন- আমাকে যেন মরনোত্তর গার্ড অব অনার না দেওয়া হয়! আমি মারা যাবার পর কোন গ্রুপের কাউন্সিলকেই জানাইনি। পর দিন সংবাদ পত্রে খবর দেখে কেউ কেউ ফোন করে “কেন জানালাম না, জানালে এই হতো সেই হতো” বলে আফসোস করার ভান করেছিল।

কাগজটা ক্যাম্পে নয়, বাবা সাতক্ষীরা থেকে ফেরার সময় পেয়েছিলেন।

৪. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২১০

রাগিব বলেছেন: পত্রিকাটির নাম কি আপনার জানা আছে? আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভে খোঁজ করে দেখতে পারি।

৫. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৭০

মনজুরুল হক বলেছেন:

না রাগিব মনে পড়ে না। “দ্য টেলিগ্রাফ” অথবা “গার্ডিয়ান” হতে পারে, তবে নিশ্চিত নই। সে সময় আমাদের দেশের বাংলা খবরের কাগজও আমরা চোখে দেখতাম না, তাই তারিখ, সংখ্যা, বিশেষ পাতা কি-না এসবের কিছুই জানতাম না।

৬. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩০০

রাগিব বলেছেন: মোটামুটি মাসটা কি মনে আছে? তাহলে গার্ডিয়ান কিংবা টেলিগ্রাফের আর্কাইভ ঘাটতে পারি।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৫০

লেখক বলেছেন:

জুন কিংবা জুলাই হতে পারে।

৭. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪২০

লুৎফুল কাদের বলেছেন: I salute you little fighter.

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৮০

লেখক বলেছেন:

আপনাকেও স্যালুট বন্ধু।

৮. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৪০

হোরাস্‌ বলেছেন: একটানে পরে ফেল্লাম। একই কথা বারবার রিপিট করতে চাইনা জন্যে আর কিছু বললাম না।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩১০

লেখক বলেছেন:

ঠিক আছে। দরকার নেই। এসে পড়ে গেছেন এটুকুতেই আমার সার্থকতা।

৯. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৭০

ম্যাকানিক বলেছেন: ১৯৭৬ সালে বাবাকে পরিত্যাক্ত সম্পত্তি হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া বাড়ি থেকে পুলিশ যেদিন উচ্ছেদ করে তখন আমি দর্শনায় মামার বাড়ি। বাবা-মা, ভাই-বোন (দেশ স্বাধীনের বছর দুই পরে আমার একমাত্র ভাইয়ের জন্ম হয়) সহ মালপত্র রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে! সারাদিন বাড়ির বাইরে বাবা ঠাঁয় বসে ছিলেন, কষ্টে ঘেন্নায় কারো কাছে সাহায্য চাইতে যাননি। পর দিন কোর্টের অর্ডারে বাসায় উঠতে পেরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু যে আঘাত তিনি পেয়েছিলেন সেই আঘাতের কারণে তার নিজের মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট, আমার সেই পোপারকাটিং, যুদ্ধশেষে পাওয়া মেডেল সব জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন)।

৭৬ এ আমার বাবাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো ফায়ারিং স্কোয়াডে দিবে বলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুন করে জিয়া সরকারের বানানো লিস্টে নাম ও দিতে যান নি কখনও।

মুজিব সরকারের দেয়া রিলিফের দুই বান টিন খুলে নিতে আসছিলো আমার দাদার পোড়া বাড়ী থেকে।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৭০

লেখক বলেছেন:

আপনার মত এমন অনেক কষ্ট জমে ছিল বলে এতকাল এসব লিখিনি। ঘেন্নায়-কষ্টে আমার বাবা কিছুতেই সেই সব দিনগুলির কথা মনে করতে চাইতেন না। যুদ্ধের পর আমাদের ভাড়া বাড়িতে একটা ইঁটও ছিল না। একাত্তরের এপ্রিলে আমার বড় চাচাতো ভাইকে বিহারীরা ধরে নিয়ে মেরে ফেলেছে…এমন আরও অনেক কথা আছে যা আমি এই সিরিজে উল্লেখ করতে চাইনি। কি ভাবে যেন আজ বেরিয়ে এলো।

আর আমি? আমার কথা থাক। আমি কি পেয়েছি সেই হিসেব আমি কোন কালেও করতে যাব না।

আপনার পরিবারের প্রতি অকুন্ঠ সহানুভূতি রইল।

১০. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:১৬০

রাজর্ষী বলেছেন: আপনাকে স্যালুট। শেষ প্যারাটা পড়ার পরে মনে হলো যে ৭৬ এ মনে হয় আবার পাকিস্তান/ বিহারীরা ফিরে এসেছিলো।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৪০

লেখক বলেছেন:

আবার ৮১ তেও মনে হয় ফিরে এসেছিল। বিশ্বে বোধ হয় আমরাই একমাত্র জাতি, যারা দেশের জন্য জীবন দেওয়া অকুতভয় যোদ্ধাদের জাত-গোষ্ঠি-শ্রেণী-ধর্ম বিচার করে মোটা দাগে পার্থক্যরেখা টেনে দিয়েছি!

১১. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:১০০

ফিরোজ-২ বলেছেন: I salute you little fighter

একটানে পরে ফেল্লাম। একই কথা বারবার রিপিট করতে চাইনা জন্যে আর কিছু বললাম না। +++

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৬০

লেখক বলেছেন:

প্রতি দিন যে ভাবে সাথে থেকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন তাতেকরে আমারও ঋণের বোঝা বেড়ে যাচ্ছে।

১২. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:২২০

সাধারণমানুষ বলেছেন: এক নিঃশ্বাসে পড়ে গেলাম ++++++++++

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১৪০

লেখক বলেছেন:

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

১৩. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৩০

চতুষ্কোণ বলেছেন: ৬, ৭ পড়া হয়নি। আগে ঐ দুইটা পড়ে নেই তারপর এইটা।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২৩০

লেখক বলেছেন:

সবগুলো পর্বেই আগের পর্বের লিংক দিচ্ছি।

আপনি তো প্রথম থেকেই আছেন।

ভাল থাকুন।

১৪. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৬০

আমি এবং আঁধার বলেছেন: একনিঃশ্বাসে পড়লাম।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৭০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ আমি এবং আঁধার।

১৫. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৩০

চতুষ্কোণ বলেছেন: ছবির কথা জেনে ভাবছিলাম আপনাকে অনুরোধ করব কিন্তু শেষ প্যারাটা পড়ে দমে গেলাম। আপনার পুরো পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা………..।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৭০

লেখক বলেছেন:

আপনাকে অভিবাদন।

১৬. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫৮০

সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: অ্যা লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আমর্স —–

এক অসাধারন অধ্যায় খুলে দিলেন।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৩০

লেখক বলেছেন:

সেই তো শুরু, যুদ্ধ করেই চলেছি…তাও যেন অসমাপ্ত।

এই অধ্যায়টাই আমার জীবনকে একটা মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে, তারপর একটা লক্ষ্যে ঘুরিয়েও দিয়েছে, সে কথা আর একদিন।

১৭. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৭০

নাজমুল আহমেদ বলেছেন: স্যালুট লিটল ফাইটার…….

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৪০

লেখক বলেছেন:

স্যালুট সকল যুদ্ধসৈনিক কে…….শত স্যালুট।

১৮. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৩০

অন্যরকম বলেছেন: সিরিয়ালি পড়া শুরু করলাম!

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৫০

লেখক বলেছেন:

শুভকামনা রইল।

১৯. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৪০

যীশূ বলেছেন: পেপার কাটিংটা খুব দেখতে ইচ্ছে করছিলো।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৬০

লেখক বলেছেন:

আমার আফসোসের যে সীমা নেই…

২০. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৬০

সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:

“অ্যা লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আমর্স’”।……..এবার আমরাও দেখলাম তাঁকে……..।

অনেক শুভকামনা…….

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩০০

লেখক বলেছেন:

এখনো সে ঘুমায়।

ঘুমায় হতাশা,কষ্ট আর নির্মমতার স্মৃতি বুকে নিয়ে।

ভাল থাকুন সাজি।

২১. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৬০

শ।মসীর বলেছেন: আমি আনমনে দেখতে দেখতে এক সময় মাথা থেকে ডেকচি নামিয়ে রেখে বসে পড়লাম। ওদের সাথে কথা এটা ওটা কথা বলছি আর মাছ ধরা দেখছি…..

কখন সূর্য ডুবে গেছে খেয়ালও করিনি, ওরা যখন বড়শি খালুই গোছগাছ করছে তখন খেয়াল হলো আমার! -যুদ্ধের মাঝেও শৈশব ঠিকি খুজে নেয় তার পথ।

ছবি গুলোকে মিস করলাম।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৪০

লেখক বলেছেন:

শৈশব হারানো যে কি কষ্ট তা আমি জানি।

শুধু যে যুদ্ধের সময় তা নয় এর পরেও আর শৈশব কি তা অনুভবে আসেনি।

আমাকে মনে হয় টান দিয়ে বড় করে দেওয়া হয়েছিল!

২২. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৯০

ত্রিশোনকু বলেছেন: “অ্যা লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আমর্স’”-অপূর্ব। পেপারকাটিংএর শেষ গতির ঘটনা পড়তে খুব কষ্ট লাগলো।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩২০

লেখক বলেছেন:

এই কষ্টটা আমার বাবা আমৃত্যু সয়ে গেছেন।

আর এখন আমিও সয়ে চলেছি……………।

২৩. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৩০

মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:

উত্তোলিত হাতের মুষ্ঠি কী তুমি চাও?

সর্বনাশ, না সুনীল আকাশ?…

দুপুর ঘুরে কিশোর তুমি বিকেল বেলায়

বাড়ী ফিরলে তোমাকে ভীষণ ক্লান্ত দেখায়…

(মনজুর ভাই, আপনার ছোটবেলার একটা ছবি দিন প্লিজ।)

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৯০

লেখক বলেছেন:

আমার ছোটবেলার ছবি তেমন নেই (অবশ্য বড় বেলারও নেই, ছবির জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে অপ্রস্তুত লাগে) তাও যা আছে কাল-পরশু স্ক্যান করে দেব।

গত কয়েকদিন ধরে মায়ের এ্যালবাম খুঁজে খুঁজে দু’একটা পেয়েছি।

চার লাইনের চমৎকার পঙতিমালার জন্য ধন্যবাদ রিপন।

২৪. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৮০

পল্লী বাউল বলেছেন: আবারো মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়লাম একটানা।

থ্যান্কস এ বিগ ফাইটার উহথ পেন।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৬০

লেখক বলেছেন:

আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ দাদা।

২৫. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৭০

মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: কেমন যে একটা অনুভূতি হচ্ছে বলে বোঝাতে পারব না।

নিজের দেশের জন্য যে মানুষটি তার পরিবার সহ যুদ্ধ করেছে, সেই মানুষটিকে একটি স্বাধীন দেশের সরকার বাড়ী থেকে বের করে দেয়।

এতটাই দু্র্ভাগা জাতি আমরা – সেই সরকারগুলোকেই এখনও ভোট দিই।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০১০

লেখক বলেছেন:

এই কষ্টটা আমার বাবা আমৃত্যু সয়ে গেছেন।

আর এখন আমিও সয়ে চলেছি……………।

যত দিন বাঁচব সেই কষ্ট নিয়েই বাঁচতে হবে।

২৬. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪০০

নির্ঝরিনী বলেছেন: শেষের প্যারাটা পড়ে খুব খারাপ লাগলো।

স্যালুট লিটল ফাইটার….

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৮০

লেখক বলেছেন:

এখন আর এসবে কিছু হয় না! প্রুফ হয়ে গেছি……

কৃতজ্ঞতা।

২৭. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৫৯০

শ*  বলেছেন: এই পর্বে একমাত্র পত্রিকার ঐ ফটোটাকেই মিস করছি ।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২৫০

লেখক বলেছেন:

টেকনোলজির সুযোগ থাকলে মিস হতো না!

২৮. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৩০

প্রায়াপাস বলেছেন: স্যালুট আপনাকে। অসাধারণ লেখা। এক নিঃশ্বাসে সবগুলো পর্ব পড়ে ফেললাম। আপনি একজন লিভিং লিজেন্ড। আমেরিকায় থাকলে আজকে আপনাকে নিয়ে মুভি বানানো হত।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৩০

লেখক বলেছেন:

এই মন্তব্যের প্রতিউত্তরে কি বলা উচিৎ বুঝতে পারলাম না!

আর যারা অকাতরে প্রাণ দিয়ে আমাদের দেশটাকে আমাদের করে দিয়ে গেছে তারা আর কিছু না পাক যেন আপানার মন্তব্যের মত এমন কিছু স্বীকৃতি অন্তত পায়।

ভাল থাকবেন

২৯. ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৩০

* বলেছেন:

ক্রমশ: তপ্ত হচ্ছি

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৭০

লেখক বলেছেন:

ইন্ট্রোডাকশন পর্ব প্রায় শেষ! ১৩ বা ১৪ থেকে আসল ঘটনার শুরু…..

৩০. ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪১০

মুনশিয়ানা বলেছেন: অ্যা লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আমর্স…

মাঝখানে ছোট একটা বিরতির পর আজ আবার পড়া শুরু করলাম, মনজু ভাই। আশা করি এখন থেকে নিয়মিত থাকবো।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৮০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ মুনশিয়ারা। সাথে থাকুন। আত্মশক্তিতে বলিয়ান হই…..

৩১. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৪৬০

শিপন আবদুর রাজ্জাক বলেছেন:

শেষের নোটটি পড়ে আর কিছুই বলার নাই ।

শুধু এই পোড়া চোখ জ্বালা করে..একটু ভিজলো..এ-ই যা !

২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫২০

লেখক বলেছেন:

শেষ দিকে বাবা নিজেকে গোটাতে গোটাতে ঘরের কোণে ঠাঁই দিয়েছিলেন।

তার পর থেকে আমি নিজেকে গোটাতে গোটাতে আমার ঘরে ঠাঁই নিয়েছি, কোণায় যেতে খুব বেশী দেরী নেই!

বিশেষ বিশেষ দিনে উৎফুল্ল মানুষের উদ্দাম ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার ভয়েই বোধহয় ক্রমশঃ নিজেকে দূর থেকে আরো দূরে সরিয়ে নিচ্ছি……

১৬, ২৬ দিনগুলো আসলেই আমি ব্যাকুল হয়ে পড়ি! টিভি খুললেই কিছু একটা দেখেই চোখ বন্ধ করে ফিরে যাই ৩৮ বছর পেছনের সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্তগুলোয়!

তারপর হিসেব মেলাতে না পেরে অমনোযোগী ছাত্রের মত উদ্ভ্রান্ত হই! সারাটা দিন হতাশা আর ব্যর্থতার ঘোরে কাটার পর কোন এক মুহূর্তে মনে পড়ে যায়………

আমি পেরেছিলাম

আমরা পেরেছিলাম!!!

৩২. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:০৬০

ত্রেয়া বলেছেন: “অ্যা লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আমর্স”।

এই নাম দেখেই পোস্টে ঢুকেছিলাম তখন।তারপর প্রথম থেকে পড়তে চাইলাম।

পড়ছি আর ভেতরে ভেতরে বারবার ভাবছি আমার এই দেশ যার জন্যে এত ভালোবাসা আমার,,, তাকে আমার বলার জন্যে এত্ত এত্ত দূর্গম পথ পাড়ি দিয়েছেন আপনারা,, আমরা এর কতটুকুন মূল্য দিতে পারলাম??

লজ্জা আমাদের!!

২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৬০

লেখক বলেছেন:

আর কে কি চেয়ে পাননি, কে কি চেয়েছেন, কে কি চাইবেন-জানিনা।

আমার তো কিছুই চাওয়ার নেই! আমি যে মানুষের সাথে একাত্ম হয়ে এক একজন মানুষ লক্ষ মানুষ হয়ে হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম, আমার সেই মানুষ আজো দুবেলা পেটপুরে ভাত পায়না। সেই মানুষ আজো অভাবের তাড়নায় কোলের সন্তান বিক্রি করে দেয়!

এর নাম যদি স্বাধীনতা হয়, তবে সেই স্বাধীনতা আমরা চাইনি।

৩৩. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫৪০

মেহবুবা বলেছেন: পড়ছি , শুনছি , দেখছি ।

কিছু বলতে ইচ্ছে করে না ।

বলব না ।

অনেক ক্ষোভে কি হয় জানেন ? কিছু হয় না । সব নিভে যায় ।

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২১০

লেখক বলেছেন:

আমার তো অনেক ক্ষোভে-ঘেন্নায় ক্লান্ত হয়ে ঘুম আসে….

 

Top of Form

আপনার মন্তব্য লিখুন

কীবোর্ডঃ  বাংলা                                    ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয় ভার্চুয়াল   english

নাম

       

Bottom of Form

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s