এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি [৯] যুদ্ধের ভেতরে আর এক যুদ্ধ

556719_379430475481805_599501349_n

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৭ |

আমাদের এই শহরতলী গোছের গ্রামটাতে তেমন ধনীর বসবাস ছিল না। এক জমিদার ছিল তার বাড়ি এখন ভগ্নদশা। তার পুকুরটি সারা গ্রামের মানুষের নাওয়া-খাওয়ার জলের সংস্থান। আমরা যখন এখানে একেবারে নতুন, সে সময় আশেপাশের প্রায় সকলেই ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখত আমাদের। কেউ সরাসরি ঘৃণা করত, কেউ বা করুনা। বেশ কিছুদিন কেটে যাওয়ার পরে ধীরে ধীরে এই অবস্থা বদলে গেল। আমরা যার বাড়িতে থাকছিলাম সেই রায় বুড়োর বাড়ির পাশের বাড়িটি মালতিদের। মালতির মা আমার মায়ের চেয়ে একটু বেশি বয়স হবে। ওদের আদি বাস গোপালগঞ্জের গোবরা। ৪৭ এ দেশ ভাগের পর মালতির মায়েদের এমন অবস্থা ছিলনা যে তারা বিনিময় করে পশ্চিম বঙ্গে আসবে। মাটি কামড়ে পড়ে ছিল। কিন্তু শুধুই মাটি কামড়ে থাকলে যে বাঁচা যায় না, বাঁচার জন্য কৌশল আর ক্ষমতা থাকতে হয়, তা ছিলনা তাদের। আশেপাশের ভেন্নাবাড়ি, হরিদাসপুরের মানুষরা নাকি দলে দলে ইন্ডিয়া চলে যাচ্ছে! জমি জমা নিয়ে গেরস্ত পরিবার, হুট করে কি করবে ঠিক করতে পারেনি মালতির দাদু। একদিন ভর সন্ধ্যায় মালতির দাদুদের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে মালতির মা’কে তুলে নিয়ে গেল ! অসম্ভব সুন্দরী হওয়াটাই যেন কাল হলো। সারারাত ধরে একজনের পর একজন ছিঁড়েকুটে খেল মালতির মা’কে! পরদিন অচেতন মেয়েকে নিয়ে তার দাদু উঠে বসল ভাটিয়াপাড়ার লঞ্চে। লঞ্চ, ট্রেন,হাঁটা শেষ হতে এই বেতাই ইউনিয়নের লালবাজার।

শরীরের উপর দিয়ে পাশবিকতা সওয়া সেই মালতির মা আমার মা’কে বোন বলে কাছে টেনে নিয়েছিল। বলেছিল-‘ভয় পাচ্ছিস কেন, আমি তোর বোন আছি না’? এ এক পরম আশ্রয়।

রায় বুড়োর স্ত্রী নেই। পঞ্চাশে মারা গেছে। সেও সেই ঘরে আগুন দিয়ে ভিটেছাড়া করে ভিটে দখলের মরণ খেলা! রায় বুড়োর ছেলে জগা তখন শিশু। চোখের সামনে মা’কে জ্বলে পুড়ে খাক হতে দেখে সেই যে স্মৃতিভ্রষ্ট হলো, আর স্বাভাবিক হয়নি। এখন তাকে সবাই জগা পাগল বলে জানে। এই জগা মাঝে মাঝে মায়ের গোসলের পানি এনে দিত। কোন কোন দিন আমাদের ঘরে খাবার না থাকলে জগা ঘর থেকে চাল এনে দিয়ে বলত-আমার তো মা’ও নাই দিদিও নাই! তুমিই আমার দিদি! মা বলতেন আমরা দেশে থাকতে কোনদিনই টের পাইনি এরা কে কি ভাবে দেশ ছেড়েছে! কে কি পরিমানে কষ্ট বয়ে বেড়ায়, আর কেনই বা এরা পূর্ব বাংলার মানুষদের ঘৃণা করে! মা’ও ওদের সাথে সেই সব অতীত দিনের গল্প করতেন।

মামা বাড়ির পাশে যে খালটি ছিল তার ওপারেই যশোরের(নড়ালের) সীমানা। খালের পর থেকেই বিল। সেই বিলের মাঝ বরাবার একটা রাস্তা ধরে গেলেই গলক এর বাড়ি। সেই পঞ্চাশেই ইঁটের দো’তলা। পাশাপাশি তিনটি বাড়ি। তিনটিই পাকা। গলকের বাড়ির মাইল খানেক দূরেই “ভূতের বাড়ি”। আসলে সেটা ছিল নীলকুঠি। নীলকর চলে যাবার পর পরিত্যাক্ত। দালাদের গা বেয়ে বট গাছ গজিয়ে এক ভয় ধরানোর চেহারা। সেই গলকের সাথে মুসলমানদের কাইজে (কাজিয়া) লাগলে গলক বন্দুক ছোঁড়ে। মুসলমানদের বন্দুক ছিলনা বলে তারা হেরে যায়, কিন্তু দেশটা তো এখন পাকিস্তান, তাই নড়াল থেকে পুলিশ এসে গলকের সব বন্দুক নিয়ে যায়। তার পরই গলকের সাথে আবার কাজিয়া করে মুসলমানরা জেতে। বিজয়ীরা গলককে সাথে সাথে কেটে টুকরো টুকরো করে খালে ভাসিয়ে দেয়। বিল পাড়ি দিয়ে গলকের বাড়ির বউ-ঝি রা এসে ওঠে মা’দের বাড়িতে। নানা প্রসিদ্ধ আলেম হওয়ার পরও সেই পুরো পরিবারকে রক্ষা করে ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। নানার এই ভূমিকা আর মায়ের আপন করে নেওয়ার কারণে ওরা খুব শিগগিরই আমাদেরকে আপন করে নেয়। এই সময়টাতে আমাদের মনেই হতো না যে আমরা বিদেশে আশ্রিত। প্রায় পুরো গ্রামের মানুষ বাংলাদেশের নিজের ভিটে ছেড়ে এখানে রিফিউজি হয়েছে। আর আমরা হয়েছি শরণার্থী।

গ্রামের মানুষদের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর ওরাই দেখল আমরা খুব অমানবিক ভাবে বাস করছি। তখন মালতির মামা, রায় বুড়ো, অশ্ব-বিশ্ব’র দাদু-দিদিমা একটা ভাল যায়গা দেখে আমাদের টিনের ঘর তুলে দেয়। ঘরটি ছোট হলেও তাতে একটা বারান্দা থাকে। সামনে নিকোনো উঠোন থাকে। এই সময় মালতি, কেশবের মা, জগদিশের মা আর বিশ্বর দিদিমা মা’কে সেলাইয়ের কাজ এনে দেয়। মা সেলাই শুরু করেন। মুর্শীদাবাদের কথা মা কখনো মনে করতে চাইতেন না, কিন্তু রেজাউল মামা যে কষ্ট করে সেলাই মেশিনটা এনে দিয়েছিলেন সে জন্য বার বার তাকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আমাদের আপন কেউ না। দীর্ঘদিন একসাথে থাকার কারণে ধর্ম ভাই-বোন সম্পর্ক। সেই ধর্ম ভাই দেশে ফিরে যেয়ে কেমন আছে সেটা নিয়েও মা মাঝে মাঝে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলতেন। মা সেলাই শুরু করার পর আমি তিন বোনের জন্য একই রকম প্রিন্টের কাপড় কিনে এনেছিলাম। মা একই রকম ডিজাইনে তিন জনের জামা বানিয়ে দিয়েছিল। তিনটি মেয়ে যখন একই রকম জামা গায়ে এবাড়ি ওবাড়ি যেত সবাই তাদের আদর করত। মনে হয় এই সময়টাতে আমরা সুখেই ছিলাম। ততদিনে বাড়ি ছাড়ার এবং আশ্রয়হীনতার কষ্ট অনেকটাই মুছে গেছে। সন্ধ্যে বেলা আমিও বোনদের নিয়ে হ্যারিকেন জ্বেলে পড়তে বসাতাম। বড় বোনটি যার বয়স মাত্র আট সে মাঝে মাঝে মা’র সাথে রান্নাও করতে লাগল। কে জানত কিছুদিন পরই তাকে নিয়মিত রান্না করতে হবে?

এর কিছুদিন পরে মায়ের পুরোনো রোগ গ্যাস্ট্রিক ভীষণ বেড়ে গেল। মা সরাক্ষণ ব্যথায় ছটফট করতেন। দাদু-দিদিমা’রা আমাকে বললেন- জালুটি গ্রামে যাওয়ার পথে অর্জুন গাছ আছে। সেখান থেকে অর্জুনের ছাল এনে বেঁটে খাওয়ালে ব্যথা কমবে। এই কাজটা আম চুয়াডাঙ্গাতেও করেছি। আমার কাছে নতুন কিছু না। মা অসুস্থ্য হওয়ার পর ওইটুকুন মেয়ে আমাদের সমস্ত রান্নাবান্না করত। রায় বুড়ো আমাকে একটা গুলতি বানিয়ে দিয়েছিল। আমি সময় পেলেই সেই গুলতি নিয়ে পাখি শিকারে বেরিয়ে পড়তাম। সাথে থাকত বড় বোনটি। কোনদিনই পাখি মারতে পারিনি, কিন্তু ফেরার সময় গাছের মরা ডালপালা কুড়িয়ে আনতাম। তাই দিয়েই রান্নাবান্না হতো। আমি তো আগেই “বড়” হয়ে গেছি, এবার অবস্থার নির্মম বাস্তবতায় আট বছরের বোনটিও ‘মা’ হয়ে উঠল। তখন সে নিজেই ছোট বোনদের গোসল করানো, খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানোর কাজগুলো করতে লাগল, যেটা আগে মা আর আমি করতাম।

আরও কিছুদিন পরে একদিন দেখি ক্যাম্প ঝাড়ু–টাড়ু– দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে। ব্যাপার কি? সেক্টর কমান্ডার আসবেন ভিজিটে। সারা ক্যাম্পে যেন সাজ সাজ রব রব। আমি দৌড়ে বাড়ি এসে আমার ভাল প্যান্ট আর পরিষ্কার সার্ট পরে গেলাম। দুপুর থেকেই ক্যাম্পের সবাই অপেক্ষা করছে। আমার ভেতরও কেমন যেন মনে হচ্ছে! সেক্টর কমান্ডার কেমন, কি করেন, কাকে কি বলবেন, আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করলে কি কি বলব সব মনে মনে ভাবছি। বিকেলের দিকে তিনি এলেন। একটা উইলস জিপ (এই ছোট্ট নিচুমত গাড়িটা আমার ভারী পছন্দ হতো। আমাদের ক্যাম্পেও একটা ছিল। ক্যাপ্টেন সাহেব কখনো তেহট্ট বা কৃষ্ণনগরে গেলে এই জিপেই যেতেন। ড্রাইভার ওসমান কাকা বলেছিলেন-এটা আমেরিকান জিপ) এসে থামল। চার-পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধা নেমে ড্রাইভারের পাশের দরোজা খুলে দিলে নেমে এলেন সেক্টর কমান্ডার। আরে আমি তো ইনাকে চিনি! আমি দেখেই চিনেছি, এই লোককে আমি হ্যাবা ডাক্তারের বাড়িতে দেখেছি! আমার আনন্দ আর ধরে না! আমি সামনে যাকে পাচ্ছি তাকেই বলছি সেক্টর কমান্ডার সাহেবকে আমি চিনি! তার সাথে হাত মিলিয়েছি! ইনি মেজর আবু ওসমান চৌধুরী। আমরা সবাই তিনটি লাইন করে দাঁড়িয়ে আছি। বাবা প্রথম লাইনে। আমি একেবারে শেষের লাইনে। তিনি একে একে সবার সাথে হাত মেলাচ্ছেন আর এটা ওটা বলছেন। তার পাশাপাশি হাঁটছেন ক্যাপ্টেন আজম চৌধুরী। শেষ লাইনে এসে আমার সামনে দাঁড়িয়েই তিনি মাথা ঘুরিয়ে ক্যাপ্টেনের দিকে তাকালেন। দেখলাম ক্যাপ্টেন হাসছেন। আমার বুক ঢিপ ঢিপ করছে। আমি কতক্ষণ হাত বাড়িয়েছিলাম জানিনা তিনি আমার হাতটা ধরলেন দুই হাত দিয়ে। তার পর যখন সরে আমার পাশের জনের কাছে গেলেন তখনই আমি বলে উঠলাম-‘আমি আপনাকে চিনি’! সাথে সাথে তিনি আবার ফিরে এসে আমার গাল টিপে দিলেন, কিন্তু জিজ্ঞেস করলেন না যে কি ভাবে চিনি। পরে সেকেন্দার কাকা শিখিয়ে দিলেন- ‘ফুয়া এ্যামনে কয় নাকি? কইতা-‘আমি আপনাকে চিনি স্যার’। তারপর স্যালুট দিতা? আমার মেজাজ খারাপ হলো, ধুর! এত নিয়ম মানে কে? সেক্টর কমান্ডার চলে যাবার পর দিনই বাবা একটা টিম নিয়ে সাতক্ষীরা বর্ডারে চলে গেলেন। বাবার টিমে যারা গেল তারা সবাই লেখাপড়া জানা লোক। কেন গেলেন, তারা কি করবেন জানতেও পারলাম না। বাড়িতে বলে গেলেন ফিরতে পনের দিন বা তারও বেশি লাগতে পারে। যদি মাস পার হয়ে যায় তাহলে যেন আমি তার বেতন তুলে আনতে পারি সে জন্য সেকেন্দার কাকাকেও বলে গেলেন।

বাবা চলে যাওয়ার পর আমি আবার ক্যাম্পে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। কখনো খাবার নিয়ে ফ্রন্টে যাওয়া, কখনো ডাক্তার কাকার সাথে এ্যাসিসটেন্ট হওয়া, কখনো বা রাইফেলে ফুলথ্রু মেরে রাইফেল পরিষ্কার করা। আবার ট্রেনিংয়ের জন্য যারা নতুন তাদের রাইফেল সাজিয়ে দেওয়া, গ্রাউন্ডসিট বিছিয়ে দেওয়া। আর এই সব কাজের সময় আমার সারাক্ষণের সাথী আমার সেই সাদা বেড়ালটি। কৌটার দুধ খেয়ে ওটা এখন বেশ গাব্দাগোব্দা। আমি যে পথে ক্যাম্পে যাওয়া-আসা করতাম সেই পথের ধারেই একটা বাঁশঝাড় ছিল, তার নিচেই ক্যাপ্টেনের তাবু। তিনি যদি কখনো তাবুর বাইরে বসে থাকতেন তাহলে আমাকে দেখলেই ডাক দিতেন। তিনি অনেক সময়ই রেডিও শুনতেন। একটু পুরোনো হলেই রেডিওর ব্যাটারী বদলাতেন। আমার লোভ ছিল তার পুরোনো ব্যাটারী নেওয়া। আমি সেই ব্যাটারী নিয়ে মুখ খুলে ভেতরের কালো কালো কয়লার গুড়ো বের করে ভেতরের কার্বন আর কার্বনের উপরের ক্যাপ জমাতাম। ইয়াসিন কাকার কাছ থেকে লিকোপ্লাস্ট এর খালি রিল নিয়ে তার মধ্যে ব্যাটারী দিয়ে লিকোপ্লাস্ট দিয়ে মুখ আর পিছন দিক আটকে টর্চ লাইট বানিয়েছিলাম। মাহানন্দে সেই টর্চ জ্বেলে রাতে বাড়ি ফিরতাম। কিন্তু সেই ব্যাটারীর নেশাই যে একদিন আমার জন্য কাল হয়ে যাবে তা আমি ঘুণাক্ষরেও জানতে পারিনি……….

চলবে………….

প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্ব। তৃতীয় পর্ব। চতুর্থ পর্ব। পঞ্চম পর্ব। ষষ্ঠ পর্ব। সপ্তম পর্ব। অষ্টম পর্ব।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতিকিশোর মুক্তিযোদ্ধামুক্তিযুদ্ধবাঙ্গালীবাংলাদেশীবাংলাদেশ১৯৭১৭১৭১মনজুরুল হকস্মৃতিকথাগেরিলাপাকিস্তানপূর্ব বাংলাবিহারী197171’71bangladeshfreedom fighterliberation warbangladeshibanglaeast pakistanwest pakistan…. ; ; ; ; ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধস্মৃতিকথা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:০৫ |বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

৫২৩ বার পঠিত০৬৮২২

 

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

 

৬৮টি মন্তব্য

১-৩৪

১. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৫০

সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন: অপেক্ষায় থাকলাম পরের পর্বের……

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০২০

লেখক বলেছেন:

রোজই লিখছি। টানা লিখে যাচ্ছি। দেখি কত দিনে শেষ করতে পারি……

২. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৮০

কালপুরুষ বলেছেন: আপনার এই সিরিজটা বই আকারে প্রকাশ করতে পারেন। সবকটি পর্ব এখনো পড়া হয়ে ওঠেনি। ছুটির দিনে পড়ে ফেলবো আশা করছি।

চলুক…..

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩১০

লেখক বলেছেন:

আগে লেখা শেষ করি দাদা। বই এর ব্যাপারে তার পর ভাবা যাবে।

অনেক ধন্যবাদ দাদা।

৩. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১২০

লুৎফুল কাদের বলেছেন: +++

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৬০

লেখক বলেছেন:

নিয়মিত পড়ার জন্য ধন্যবাদ লুৎফুল কাদের।

৪. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৮০

মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: কিছুই বলার নেই, +

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৩০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ সৌরভ।

৫. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৭০

শ।মসীর বলেছেন: মুক্তিযোদ্ধাদের বেতন দেয়া হত এই তথ্য জানা ছিলনা। আরও অনেক ইতিহাস ও জানা হল।

এমন জায়গায় শেষ করলেন …….

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৪০

লেখক বলেছেন:

খুব খারাপ কিছু না, ছোট একটা দুর্ঘটনা।

আজ খুব টায়ার্ড লাগছিল, তাই ওখানেই শেষ করতে হলো।

৬. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৫০

নির্ঝরিনী বলেছেন: অসাধারন একটা সিরিজ।

মন্ত্রমুগ্ধের মত পড়ছি…

+++++

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৪০

লেখক বলেছেন:

আর প্রতিদিনই আমাকে কৃতজ্ঞ করে চলেছেন…..

৭. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫১০

শ।মসীর বলেছেন: অপেক্ষায় থাকলাম ……………..ভাল থাকুন।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৫০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ শামসীর। চেষ্টা করছি রোজই লিখে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে। না পারলে এই ডিসেম্বরে নিশ্চই শেষ করতে পারব আশা রাখি।

ভাল থাকুন।

৮. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৮০

দীপান্বিতা বলেছেন: অসাধারণ লাগছে!……অপেক্ষা রইলো……

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১২০

লেখক বলেছেন:

কি আশ্চর্য্য! এই পুচকি বোনটিরও দেখি ৩৮ বছর আগেকার ইতিহাস ভাল লেগে গেল!

দেখে ভাল লাগল।

তোমাকে আন্তরিক ধন্যবাদ দীপান্বিতা।

৯. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৬০

ম্যাকানিক বলেছেন: পরের পর্বের অপেক্ষায়।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২৪০

লেখক বলেছেন:

নিশ্চই যথা সময়ে পেয়ে যাবেন।

আগের পর্বে আপনার কাহিনী শুনে মনটা বিষন্ন হয়ে আছে।

১০. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১২০

শ*  বলেছেন: এইপর্বে যেটার আভাষ দিয়েছিলেন তা কি মিস করেছি কোথাও ?

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২০০

লেখক বলেছেন:

যেটার আভাস দিয়েছিলাম সেটাতো পর্ব ৫ এ আছে।

আর ২-এ যে আভাস ছিল সেটা আরও পরে আসবে।

১১. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৩৪০

শ*  বলেছেন: ঠিকাছে । অপেক্ষায় রৈলাম

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২৪০

লেখক বলেছেন:

যথা সময়ে অপেক্ষার অবসান হবে আশা করি….

১২. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৪২০

রাজর্ষী বলেছেন: যথারীতি ভালো লাগলো। ধন্যবাদ দেশ বিভাগের সময়ের উপর কিছু আলোকপাত করার জন্য। মানবতার বিরুদ্ধে অনেক পাপ হয়েছিলো সে সময় যা সম্পর্কে এই প্রজন্মের ধারনা খুবই কম।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:০৩০

লেখক বলেছেন:

কেন মুর্শীদাবাদের মুসলিমরা অধিকাংশই আমাদের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল সেও এক

নির্মমতার ইতিহাস। খুব একটা প্রাসঙ্গিক নয় বলে সেই পাতায় আর গেলাম না।

এই লেখারই শেষ দিকে এমন কিছু বিব্রতকর বিষয় আসবে যা কিছুতেই মেনে নিতে রাজি হবনা আমরা, তার পরও সে সব ইতিহাস ঘটিত,এবং চোখের সামনে।

১৩. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০৭০

জোবাইর বলেছেন: দেরিতে হলেও নিয়মিত পরে যাচ্ছি আপনার ঐতিহাসিক সিরিজটি। প্রতিদিন একটি করে পর্ব লেখা খুবই শ্রম সাপেক্ষ ব্যাপার। তার জন্য আপনাকে কৃতজ্ঞচিত্তে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যুদ্ধের কাহিনী যোদ্ধার মুখে শুনার আনন্দই আলাদা। ভালো থাকুন।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:০৭০

লেখক বলেছেন:

হ্যাঁ জোবাইর, কষ্ট হচ্ছে, সারাদিন অফিসে কাজ করে রাতে বাসায় ফিরেই তো বসা যায়না। বসতে বসতে রাত ১১/১২টা! তারপর টানা লিখে যাওয়া আসলেই কষ্টকর। কিন্তু আমি জানি, একবার থেমে গেলে আলসেমিতে পেয়ে বসবে, আর এগুবেনা। তাই রোজই লিখতে হবে এমন তাড়না জাগরুক রাখতে চাইছি।

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

১৪. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:০৫০

চতুষ্কোণ বলেছেন: প্রায় প্রতিটা পর্বেই একই কমেন্ট করে যাচ্ছি। তাই ওদিকে আর গেলাম না।

শুধু বলি আপনার ভাষার স্বচ্ছতা মুগ্ধ করার মতো। পরের পর্বের অপেক্ষায়…

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:১১০

লেখক বলেছেন:

কৃজ্ঞতা চতুষ্কোণ। আমি চেষ্টা করি খুব প্রচলিত চেনা শব্দ ব্যবহার করতে। যে কথা সরল ভাষায় বলা যায় তাকে দুর্বোধ্য করার কি দরকার।

অপক্ষোর জন্য ধন্যবাদ।

১৫. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১৯০

মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:

….

কুয়াশার মধ্যে এক শিশু যায় ভোরের ইস্কুলে

নিথর দীঘির পারে বসে আছে বক

আমি কি ভুলেছি সব

স্মৃতি, তুমি এত প্রতারক?

আমি কি দেখিনি কোন মন্থর বিকেলে

শিমুল তুলার ওড়াওড়ি?

মোষের ঘাড়ের মতো পরিশ্রমী মানুষের পাশে

শিউলি ফুলের মতো বালিকার হাসি

নিইনি কি খেজুর রসের ঘ্রাণ

শুনিনি কি দুপুরে চিলের

তীক্ষ্ণ স্বর?

বিষন্ন আলোয় এই বাংলাদেশ…

এ আমারই সাড়ে তিন হাত ভূমি

যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো

আমি বিষপান করে মরে যাবো…।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৫০

লেখক বলেছেন:

একসময় উচ্চস্বরে সুনীল আবৃত্তি করতাম। এখনো আপ্লুত হই।

এই লেখার সাথে কি অপূর্ব সম্মিলন ঘটেছে!

কুয়াশার মধ্যে এক শিশু যায় ভোরের ইস্কুলে

নিথর দীঘির পারে বসে আছে বক

আমি কি ভুলেছি সব

স্মৃতি, তুমি এত প্রতারক?

আপনার মননে মুগ্ধ হলাম রিপন।

১৬. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫২০

ত্রিশোনকু বলেছেন: অসাধারন। পরের পর্বের অপেক্ষায়।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:১২০

লেখক বলেছেন:

পথের সাথী।

সাথে থাকুন।

পাশে থাকুন।

তাতেই এই অধম কৃতজ্ঞ।

১৭. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১১০

সামছা আকিদা জাহান বলেছেন:

এখোনো সমুখে রয়েছে সুচির শর্বরী

ঘুমায় অরুন সুদূর অস্ত-অচলে।

বিশ্ব জগৎ নিঃশ্বাস বায়ু সম্বরি

স্তব্ধ আসনে প্রহর গুনিছে বিরলে।

সবে দেখা দিল অকুল তিমির সন্তরি

দূর দিগন্তে ক্ষীন শশাংক বাঁকা—-

পরের পর্বের অপেক্ষায় —-

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৮০

লেখক বলেছেন:

………

শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে কবিতায়ই আশ্রয় খুঁজতে হয়

শেষ পর্যন্ত আমাদের না বলা কথা কবিতার হাত ধরেই

মুক্তি পায়, আমরা ওখানেই আঁচল পেতে স্মৃতিময়তা

কুড়োই আর বিলাই, আকণ্ঠ মদ পানের মত স্মৃতি পান করি……..

১৮. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩০০

মেঘ বলেছেন: পড়ছি……..

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৪০

লেখক বলেছেন:

একটু কষ্ট করে প্রথম থেকে পড়তে হবে বন্ধু! তা না হলে সূতোটা ধরতে কষ্ট হবে।

ভাল থেকো মেঘ।

যাতায়াত সমস্যা কি মিটেছে? এখন নাকি কি সব লেন-ফেন চালু করেছে…..

১৯. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৯০

দীপান্বিতা বলেছেন: আমি কিন্তু মোটেও পুচকি নই!

পরের পর্ব আজই দেবেন তো!

১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৫০

লেখক বলেছেন:

তথাস্ত! তুমি মোটেও পুচকি নও!

পরের পর্ব দিয়েছি। কষ্ট করে পড়ে নিও।

সামনের কোন একটা পর্বে তোমাদের ওদিকটাতেও একটা ঝটিকা সফর আছে….

২০. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০০০

মেটালিফেরাস বলেছেন: মন্ত্রমুগ্ধ’র মত পড়ে গেলাম। গ্রেট। খুব মিস করতাম ব্লগটা না দেখলে। আগের পর্ব পড়ে আসি।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৭০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ। কৃতজ্ঞতা রইল।

২১. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫৭০

পল্লী বাউল বলেছেন: অপূর্ব।

পরের পর্ব কি আজকেই আসছে?

১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৮০

লেখক বলেছেন:

অলরেডি পোস্টেড। ভাল আছেন দাদা?

২২. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৯০

সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:

কাল বিকালে ব্লগে বসা হয়নি…….অনেক রাতে মনে হলো আজ সিরিজটা পড়া হয়নি। এসে পড়ে গেছিলাম।

ভাবছিলাম সিরিজটা শেষ হয়ে যাবে……মন খারাপ লাগছিলো।

অনেকদিন আগে দেশ এ মাধুকরী উপন্যাসটা ধারাবাহিক পড়তাম।

সাতদিন কেমন যে অপেক্ষায় থাকতাম……।

অনেকদিন পর তার চেয়ে অনেক বেশী টান লাগছে এই সিরিজ পড়তে….

মনে হচ্ছে সবাই পড়ুক…..

এই ডিসেম্বর মাসে ব্লগের সেরা পোষ্ট এটা……

অনেক শুভকামনা….ভালো থাকবেন।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫১০

লেখক বলেছেন:

আপনি অনেক বড় কমপ্লিমেন্টস দিয়ে দিলেন সাজি!

আমি নিতান্তু ঘরের কোণে পড়ে থাকা এক অতি সাধারণ মানুষ। কোনদিনও বড় মাপের আসরে বেমানান ঠেকবে বলে যাওয়ার সাহস করিনি। সেই আমি যদি একটা সিরিজ লিখে আপাদেরকে টেনে আনতে পেরেছি, তাহলে ধরে নিতে হবে এতদিন সম্ভবত এরই অপেক্ষাতে ছিলাম।

ভাল থাকবেন অনেক।

২৩. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৮০

হোরাস্‌ বলেছেন: “প্রায় পুরো গ্রামের মানুষ বাংলাদেশের নিজের ভিটে ছেড়ে এখানে রিফিউজি হয়েছে। ”

এত ঘটনা থাকতে এই লাইনটি আমার মনে গেঁথে গেল। এটা কতটা কষ্টের হতে পারে সেটা বোধহয় আমরা কোনদিনও বুঝতে পারব না।

পড়ে যাচ্ছি।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৮০

লেখক বলেছেন:

আমরা কোনদিনও জানতে পারতাম না সেই অবর্ণনীয় কষ্টের কথা।

দেশ ছাড়ার যে কি কষ্ট সেটা আমরা বুঝেছিলাম নয় মাসব্যাপী, আর ওরা বুঝে এবং জ্বলে চলেছে অর্ধ শতাব্দীব্যাপী!!

২৪. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:২১০

রাজর্ষী বলেছেন: আমি বুঝেছি কেনো মুর্শিদাবাদের মুসলিমরা বিরোধি ছিলো। বিহারী মুসলিম আর পুর্ববাংলার হিন্দুদের কস্টের ইতিহাস তো আসলে একই।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৫০

লেখক বলেছেন:

হ্যাঁ, আসলেই দুই পক্ষেরই কষ্টের ইতিহাস একই। এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে সেই ইতিহাস ব্যাপক আলোচনার সুযোগ নেই। পরে অন্য কোন দিন আলোচনা তোলা যাবে।

ভাল থাকুন রাজর্ষী।

২৫. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৮০

নাজমুল আহমেদ বলেছেন:

মন্ত্রমুগ্ধের মত পড়ে যাই…. দারুন লাগে পড়তে।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৬০

লেখক বলেছেন:

অনেক ধন্যবাদ নাজমুল।

২৬. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২১০

পল্লী বাউল বলেছেন: এইতো বস, আছি ভালই।

১৮ তারিখের দিকে ঢাকা আসতে পারি, দেখা হবে আশাকরি।

অনেক দিন আপনাকে দেখি না।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৮০

লেখক বলেছেন:

নিশ্চই দেখা হবে, তবে ১৮ তারিখ সন্ধ্যায় আমি একটা কাজে ব্যস্ত থাকব। ১৮ তারিখ দিনে বা ১৯ এর যে কোন সময় দেখা হতে পারে। ঢাকায় এসেই একটা কল দেবেন।

২৭. ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৭০

*বলেছেন:

কতো রকমের যুদ্ধযে একই সময়ে বেড়ে উঠেছিলো!!!

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৯০

লেখক বলেছেন:

ওগুলো ছিল হিডেন ওয়্যার। যার কণামাত্র জানতে পারতাম না কোন দিন, তাও জেনেছিলাম!!!

২৮. ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫২০

মুনশিয়ানা বলেছেন:  আসলেই কত রকমের যুদ্ধ যে একই সময়ে চলছিল।

কেউ লড়ছে ফ্রন্টে অস্ত্র হাতে শত্রুর মুখোমুখি, আর কেউ লড়ছে তার নাদান কৈশোরকে পিছনে ফেলে দ্রুত বড় হয়ে ওঠার লড়াই– যাতে বাবার মত সরাসরি অস্ত্র হাতে শত্রুর মুখোমুখি হওয়া যায়।

আর এই সব যুদ্ধের বাইরে রয়েছে সীমিত সামর্থ্য নিয়ে নারীদের স্রেফ টিকে থাকার লড়াই, রোগ অসুখ আর অভাবের বিরুদ্ধে।

খুব ভাল বলেছেন আমি রোদের ছেলে:

কতো রকমের যুদ্ধযে একই সময়ে বেড়ে উঠেছিলো!!!

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০০০

লেখক বলেছেন:

“শরীরের উপর দিয়ে পাশবিকতা সওয়া সেই মালতির মা আমার মা’কে বোন বলে কাছে টেনে নিয়েছিল। বলেছিল-‘ভয় পাচ্ছিস কেন, আমি তোর বোন আছি না’? এ এক পরম আশ্রয়।”

 

মালতির মায়ের এই কথাটিই আমার মায়ের কাছে আপন বোনের কোলে পরম আশ্রয় হয়ে উঠেছিল! মুহূতেই উঠে গিয়েছিল ধর্মাধর্মীর দেওয়াল। মানুষ যে প্রাকৃতিক ভাবেই একে অপরের প্রতি”মানুষ হিসেবে” নির্ভরশীল এর চেয়ে বড় প্রমান আর কি হতে পারে!!!

২৯. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৪০

দীপান্বিতা বলেছেন: পড়লাম পরের দুটোই……ওই বয়সেই আপনি দারুণ সাহসী হয়ে উঠে ছিলেন!

পর্বটির অপেক্ষা রইলো… ‘তোমাদের ওদিকটাতেও’ বলতে কলকাতা না জলপাইগুড়ি! আপনিতো আমাদের বাড়ির সামনে হোলি চাইল্ডের রাস্তার কথাও জানেন!!

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৭০

লেখক বলেছেন:

মৃত্যভয় উঠে গেলে যা হয় আরকি! সারপ্লাস! সারপ্লাস!!

না, ঠিক ওই হোলি চাইল্ড অব্দি সেবার যাওয়া হয়নি (ওখানে গেছি ২০০৫ এ), তবে নিউ জলপাইগুড়ি, ফাঁসীদেওয়া গিয়েছিলাম।

৩০. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২০০

রাগ ইমন বলেছেন: আছি। খুবই সুন্দর এগিয়ে চলেছে।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৬০

লেখক বলেছেন:

আজ সময়াভাবে একটু হোচট খেলাম।

কাল আবার যথারিতি পরের পর্ব দিতে পারব।

৩১. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৬০

অপ্‌সরা বলেছেন: আট বছরের পিচ্চি একটা মেয়ে রান্না করছে ভাবাই যায়না। কি অপরিসীম কষ্টের দিন কাটিয়েছিলে তোমরা!

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৩০

লেখক বলেছেন:

ওর মত অনেক অনেক মেয়ের হাতে পুতুলের বদলে উঠে এসেছিল হাড়ি-কড়াই-খুনতি, চোখ লাল হয়ে গেছিল ধোঁয়ায়। বাস্তব মনে হয় এমনই…

৩২. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:১৮০

ত্রেয়া বলেছেন: আপনার সাবলীল লখনীর জন্যেই যেন দৃশ্যগুলি আরও আপন লাগছে।

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০১০

লেখক বলেছেন:

সম্ভবত।

৩৩. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৭০

শিপন আবদুর রাজ্জাক বলেছেন:

এই পর্বটা পড়তে পড়তে একটা কথা মনে এলো । তবু তো ভালো, মনজুরুল হক লিখতে জানেন, ভালো মতনই লিখতে জানেন । তাঁর লেখাটা, অনুভূতি দিয়ে ছড়িয়ে দিতে পারছেন সবার মাঝে, কিন্তু এরকম অজানা কতো মুক্তিযোদ্ধাই না কতোভাবে নিগৃহীত আজকাল ! তাদের খবর আমাদের অজানা । হায় !

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৫০

লেখক বলেছেন:

অজানা সেই যোদ্ধাদের সংখ্যা কত আমরা জানিনা। আমাদের ব্যস্ত জীবনের প্রটোকলের কোথাও তাদের এন্ট্রি নেই! কেবল বছরের বিশেষ বিশেষ দিনে স্টুপিড বক্সে কুমিরছানার মত প্রদর্শিত হন তারা!!

আর কত কাল চলবে এই হিপোক্র্যাসী?

৩৪. ০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৩০

মেহবুবা বলেছেন: পড়ছি অথবা দেখছি চোখের সামনে ।

কেন যেন এখানে আপনার ছোটবেলা পথের পাঁচালীর অপুর কথা মনে করিয়ে দিল । তার তিন দূর্গা দিদি একই রকম জামা গায়ে গাঁয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।

জায়গাটাও কল্পনায় দেখতে পেলাম বিভূতি ভূষনের বাড়ীর কাছে কোথাও ।( আসলে বারাকপুর , বনগাঁ পড়েছিলাম যশোরের কাছে ) ।

০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:১১০

লেখক বলেছেন:

আপনি কি ভাবে যেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আমার শৈশব মনে করিয়ে দিচ্ছেন মেহবুবা! ছোটবেলায় ট্রেন চলে যওয়ার পর পরই দৌড়ে রেল লাইনে কান ঠেকিয়ে শব্দ শুনতাম, তামার পাঁচ পয়সা লাইনে রেখে চ্যাপ্টা বানাতাম……..এসব দেখে আমার ন’য়া কাকা আমাকে “অপু” বলে ডাকতেন। যুদ্ধ থেকে ফেরার পরপরই আমি বইয়ে আসক্ত হলে কাকা আমায় “পথের পাঁচালী” কিনে দিয়েছিলেন। সেই থেকে আমার নিজস্ব সংগ্রহের প্রতিটি বইতে সিরিয়াল নাম্বার “অপু” দিয়ে করা!

বিভূতি বাবুর বাড়ির আবহ আর চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর-দর্শনা-বেনাপোল-পেট্রাপোল-হরিদাশপুরের আবহ প্রায় একই রকম।

 

Top of Form

আপনার মন্তব্য লিখুন

কীবোর্ডঃ  বাংলা                                    ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয় ভার্চুয়াল   english

নাম

       

Bottom of Form

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s