এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি [১৪] শত শত মানুষের মৃত্যু আর বিভৎসতার গল্প

Litle figher

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪০ |
এমদাদুল কাকা বলে যাচ্ছেন…..‘আমাদের কলেজেই অস্থায়ী ক্যাম্প করে দু’ইটা ট্যাঙ্ক বসিয়ে রেখেছে। নতুন হাসপাতাল..মা সাথে সাথে বললেন-‘আমরা তো ভারতে আসার আগে কয়েকদিন ওই হাসপাতালেই ছিলাম’! হ্যাঁ, সেই হাসপাতালই ওদের মূল ক্যাম্প। সারা শহর থেকে লোকজন ধরে নিয়ে হাসপাতালে টর্চার করেছে। স্টাফদের যে কোয়ার্টার তার মধ্যে গাদাগাদি করা মানুষ। ওখানে রোজ বন্দি মানুষদের মেরে দক্ষিণ দিকের বাবলা বনের মাটিতে পুতে ফেলছে’! (আমি যেন চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলাম হাসপাতালে আমাদের বাসার ভেতরেও মানুষ, তাদেরকে ধরে নিয়ে খুন করছে…..) একাডেমি স্কুলের পাশে যে কবরস্থান সেখানেও বড় গর্ত করে প্রতিদিন মেরে মেরে সেই গর্তে ফেলে মাটি চাপা দিচ্ছে! আব্বা মা আর আলেয়া, শহিদুলকে নিয়ে বর্ধমানে চলে গেছেন। আমি আর ভাইয়ারা বাড়িতেই থেকে গেলাম। এই পর্যন্ত ছিলাম, গত দশ-পনের দিন আগে আমাদের পাড়ায় রেইড দিলে আমরা পালালাম। অন্য ভাইরা আলোকদিয়া বাজারে এক বাড়িতে আছে। আমি বর্ডার পার হয়ে চলে এসেছি। কত যে মানুষ খুন হয়ে গেছে তা গুণে বলতে পারব না ভাবী! আবুল বাসার জোয়ার্দারকেও ধরে নিয়ে কয়েক মাস আটকে রেখে খুন করে হাসপাতালের সামনের রাস্তায় ফেলে রেখেছিল। আমরা খবর পেয়ে দেখতে গিয়েছিলাম। ওরা কোন নামিদামী লোককে মেরে সাথে সাথে মাটিতে পুতে ফেলত না। তার লাশ হয় ঝুলিয়ে রাখত না হয় লাইট পোস্টের সাথে বেঁধে রাখত! আমরা দেখতাম আর গা শিউরে উঠত! রেল বাজারের ফজল বিহারী হয়েছে খুন করার কসাই। সে-ই সব খুন গুলো করে। পেশকার অফিসের একজনকে চার-পাঁচ দিন গাছের সাথে বেঁধে তার পর খুন করেছে। দর্শনা, আলমডাঙ্গা, আনসার বাড়িয়া, জয়রামপুর গোকুলখালি..এই সব জায়গা থেকে লোকজন ধরে এনে গাছের সাথে বেঁধে নখ উপড়ে নিচ্ছে, নাকে-মুখে গরম পানি ঢালছে….. তার পর অত্যাচার শেষ হলে হত্যা করে গলায় দড়ি বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে রাখছে! লোকজন জড়ো হয়ে যারাই দেখছে তাদের বলছে…..প্যাঁড়চোৎ মুক্তিকো লিয়ে এ্যায়সাই নতিজা হোগা….কাকা অনেকক্ষণ কথা বলার পর একটু থামল। মা গালে হাত দিয়ে বসে আছেন। আমি কেবলই ভেবে চলেছি…যদি আমরা না পালাতাম তাহলে আমাদের তো এই একই দশা হতো.. কল্পনায় গাছের সাথে ঝোলানো মানুষ চিন্তা করে কেঁপে উঠলাম। কাকা আবার শুরু করতেই মা থামিয়ে দিলেন-‘আর দরকার নেই ভাই, ভাল লাগছে না শুনতে’…..

এমদাদুল কাকা একটু পরেই ক্যাম্পে ফিরে গেলেন, কিন্তু রাতে এসে আমাদের বাড়িতে খেয়ে গেলেন। বাবার কাছে আবার এক দফা বর্ণনা দিলেন কাকা। বাবা কয়েকজনের নাম বলল, তারা বেঁচে আছে কি না তা কাকা বলতে পারলেন না। পর দিন থেকেই কাকার টিমের ট্রেনিং শুরু হয়ে গেল। এই নতুন টিমের ট্রেনিংও বাবা দিলেন। কাকাদের এই টিমটাকে শুধুই গেরিলা ট্রেনিং দেওয়া হলো। আগষ্টের প্রায় শেষ দিকে কাকাদের টিম গোলাবারুদ নিয়ে অপারেশনে চলে গেলেন। এরা আর মেহেরপুরে না থেমে সোজা চলে যাবেন চুয়াডাঙ্গা। সে জন্য এদের টিমের লিডারকে দেওয়া হলো এসএমজি, আর বাকি সবাইকে অনেকগুলো করে গ্রেনেড। কাকা যাবার দিনও মা অনেকক্ষণ কাঁদলেন। বাবা কাকাকে জড়িয়ে ধরে অভয় দিলেন, কিন্তু কাকা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন না! বরং হেসে দিয়ে বললেন- ‘যে ভাবেই হোক বেঁচে থাকবি, আমি বাড়ি যাচ্ছি, হয়ত খুব শিগগিরই দেখা হবে……’ আমার কান্না পেলেও কাঁদতে পারলাম না। এই কয়দিন যে কি আনন্দে কেটেছে তা বোঝানো যাবে না। কাকা চলে যাচ্ছে দেখে ভীষণ মন খারাপ। আবার মনে হচ্ছে, ইস আমি যদি কাকার সাথে যেতে পারতাম! এমদাদুল কাকা হাসতে হাসতেই চলে গেলেন……

আগষ্ট মাস শেষ হয়ে গেল। আমি বেশ অনেক দিন ধরেই কোন অপারেশনে যাই না। সারা দিন ক্যাম্পেই এটা ওটা করে কেটে যায়। বোনরা আমাদের পাড়ায় বেশ মানিয়ে নিয়েছে। পাড়ার বাচ্চাদের সাথে তারা সারাদিন খেলা করে। এখন আর কেউ তাদের রান্নাঘরে গেলে ওরে ওরে করে ওঠে না। কলে পানি আনতে গেলেও কলটা ধুয়ে নেয় না। আমাদের বাজার সদাই না থাকলে কারো না কারো বাড়ি থেকে কাঁচা তরিতরকারি আসে। রায় বুড়োর বড়শি নিয়ে আমি আমার কেবলই ছোট বোন স্বপ্নাকে নিয়ে মাছ ধরে আনি। একশ বা দু’শ গ্রাম মত পুঁটি মাছ পেলেই আমরা মহানন্দে মেতে উঠি। একদিন গুলতি নিয়ে আমি আর সেই শরণার্থী ছেলেটা রফিক পাখি শিকারে যেয়ে সারাদিন কিছুই পেলাম না (কোনদিনও পেতাম না) শেষে সন্ধ্যার দিকে একটা কানা কুহক (কাকের মত দেখতে গায়ে কালোর উপরে টকটকে লাল মেশানো) মারলাম। এই পাখি যে খাওয়া যায়না সেটা জেনে ফেলে দিচ্ছিলাম। তার পর কি মনে করে সেটা নিয়েই বাড়ি ফিরলাম। মা তো দেখেই দুর দুর করে ফেলে দিতে চাইলেন। আমি স্বপ্না আর মেঝ বোন চন্দনা মিলে মাকে বোঝালাম- খাওয়া যায়না কে বলল? খেলেই হয়! মা গজ গজ করতে থাকলেন। অশ্ব-বিশ্বর মা’ও মানা করল। আমরা ঠিক করেছি, কারো কথাই শোনা হবে না। সেই মত আমি আর স্বপ্না মিলে পাখিটা ছিলে রান্নার যোগাড় করে ফেললাম। অশ্ব-বিশ্বর মা ‘অ ঘেন্না কি ঘেন্না’ বলে রাম রাম করতে করতে চলে গেলেন। যথারিতি সেই কুহক পাখি রান্না হলো। আমরা চার ভাই বোনে দিব্যি খেলাম। বাবা মা কেউ ছুঁলেন না। যদিও বাবা এ নিয়ে কিছু বলেন নি, কিন্তু মা অবিরাম বকাবকি করতেই থাকলেন। আমাদের কাছে কবুতরের মাংসের মতই মনে হলো। ওই সময় দেখলাম আমরা চার ভাই বোন একটা আলাদা টিম! মা’কে পাত্তা না দিয়েও নিজেদের জিদ বজায় রাখলাম।

সেপ্টম্বরের শুরুর দিকে। একদিন জগন্নাথ আমাদের বাড়ি এসে একটা পত্রিকা দিয়ে গেল। অমৃতবাজার বা আনন্দবাজার হবে হয়ত। সেখানে আমাদের যুদ্ধের খবরের পাশাপাশি আরো অনেক খবর আছে আমাকে সেই সব খবর পড়ার কথা বলে গেল জগন্নাথ। সেই কাগজেই একটা নাম পেলাম-চুয়াডাঙ্গার বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান জোয়ার্দার লাল্টু। তার কিছু অপারেশনের খবর পড়ে ভীষণ ভাল লাগল। শেষের পাতার আগের পাতায় একটা খবর দেখলাম কলম দিয়ে গোল করে দাগ দেওয়া। মনে হলো এটা বোধহয় আমাকে পড়ার জন্য দিয়েছে। একদল নকশালের জেল ব্রেক করে পালানো এবং ধরা পড়ার পর তাদের মেরে ফেলার কথা সেই খবরে। খবরটা পড়েই ছুঁটে গেলাম জগন্নাথের বাড়িতে। আমাকে দেখেই জগন্নাথ একটু হাসল। ‘দাগ দেওয়া খবরটা পড়েছ’ আমি মাথা নাড়তেই বললেন-‘তেমাকে ওটা পড়ানোর জন্যই দিয়েছি’। এই সময় কি বলব, কি বললে ভাল হবে না বুঝতে পেরে আমি চুপ করেই থাকলাম। আমরা দুজনেই চুপ করে বসে আছি। অনেকক্ষণ পরে জগন্নাথ আর একটা ভাঁজ করা খবরের কাগজ আমার হাতে দিয়ে বলল-‘এটা যেন কেউ না দেখে’। আমি সবজান্তার মত মাথা ঝাঁকিয়ে চলে এলাম। রায় বুড়োর বাড়ির পেছনে আম গাছের নিচে বসে সাথে সাথে পড়ে ফেললাম সব লেখা। কি ভয়ংকর ভয়ংকর সব কথাবার্তা! জগন্নাথের বাড়িতে যে মাও সে তুং এর ছবি দেখেছিলাম সেই ছবি এই কাগজেও দেখলাম। সাথে আরো একটা ছবি দেখলাম, একবারে শুকনো মত , লম্বাটে মুখ, বড় বড় চোখ, গালে ভাঁজ পড়া।

এই কাগজটা পড়ার পর আমার সব কিছু কেমন যেন জট পাকিয়ে গেল। আমরা পাকিস্তান চাইনা বলে পাকিস্তানীরা আমাদেরকে গুলি করে মারছে। আমরা স্বাধীন হতে চাই বলে যুদ্ধ করছি। পাকিস্তান আমাদের শত্রু, আমরা ভারতে পালিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি, এই সব ঠিক ঠাক জানি। শুনে শুনে প্রায় সবই মুখস্থ, কিন্তু নিজের দেশের মানুষকে নিজের দেশের পুলিশ কেন মারে সেটা কিছুতেই মাথায় এলো না। একবার মনে মনে ভাবি ধ্যাৎ এতে আমাদের কি? আবার যখন সেই ছেলেগুলোর লাশের ছবি দেখি তখনই মন খারাপ হয়ে যায়।

আরো কয়েকদিন পরে ভেতরের খবর এলো। এমদাদুল কাকাদের টিম চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে দর্শনা যাওয়ার যে পথ সেই পথে কেদারগঞ্জে পাক বাহিনীর পোস্টে হামলা করে অনেক সৈন্য মেরেছে। কাকাদের টিমের কেউ ক্যাজ্যুয়াল্টি নেই। ক্যাম্পের অনেকেই দেখলাম বাবাকে বাহবা দিয়ে গেল! ‘আপনার টিম তো কেল্লা ফতে হক সাহেব’! বাবা বললেন-‘ওই টিমের প্রত্যেকটা ছেলে সাহসী আর ডিটারমাইন্ড, ওরা ভাল করবে’। আবারো একবার আফসোস হলো আমার! ইস্ আমি যতি এমদাদুল কাকার টিমে থাকতে পারতাম!

সেপ্টম্বরের শেষ দিকে একদিন ভারতীয় বাহিনীর কয়েকজন আমাদের ক্যাম্পে এলো। কি ব্যাপার? তারা নাকি আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মিটেংয়ে বসবে। আমি খবরটা শুনেই এক দৌড়ে বাড়ি গিয়ে জামা-প্যান্ট বদলে আসলাম। প্রথম থেকেই ঠিক করে রেখেছি এই মিটিংয়ে আমি থাকবই থাকব। ক্যাম্পে ফিরে দেখলাম সবাই গোছগাছ করছে। আরো অনেকক্ষণ পরে আমাদের সেই ট্রেনিংয়ের মাঠে কয়েকটা টেবিল আর কাপড়ের চেয়ার বসানো হলো। তারা এবং আমাদের ক্যাপ্টেন, কমান্ডাররা বসার আগেই আমরা সবাই মাটিতে বসে গেলাম। এক সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওরা এলো। তারপর শুরু হলো মিটিং। মিটিংয়ের মূল কথা আমাদের আক্রমন বাড়ানোর জন্য কি কি করা যেতে পারে? আমাদের কি ধরণের সাহায্য দরকার এই সব। আমি আল্লারাখার কাছে বেশ কিছু উর্দু শিখেছিলাম। ভারতে এসে দেখলাম হিন্দিও অনেকটা উর্দুর মত। অনেক হিন্দি কথা বুঝতাম, কিন্তু বলতে পারতাম না। শুধু কিছু কিছু সাধারণ কথা বলতে পারতাম। ওরা মিটিং করে যাওয়ার কিছু দিন পর আমাদের ক্যাম্পের খাবার দাবার বেশ ভাল হয়ে গেল। এখন সপ্তাহে দুই দিন ভেড়ার মাংস, আর বাকি চারদিন সুমুদ্রের মাছ। এর কোন মাছই চিনতাম না। জীবনেও এই সব মাছ খাইনি। প্রথম প্রথম ঘেন্না লাগত। পরে ঠিক হয়ে গেল। “কাইন মাগুর” নামে এক ধরণের মাছ দিত, ইয়া বড় বড় মাগুর। তার গায়ের বিভিন্ন জায়গায় ছাল উঠে গেছে! দেখলেই ভয় লাগত। আমরা আগে যে রেশন পেতাম তাতে আমাদের দেশের পেঁয়াজের মতই পেঁয়াজ ছিল। এখন বড় বড় পেঁয়াজ। শুনলাম এগুলো পাঞ্জাবের পেঁয়াজ। এই পেঁয়াজ দিয়ে রুটি খাওয়া অভ্যেস হয়ে গেল। ভারতেও যে একটা পাঞ্জাব আছে সেটা এই প্রথম জানলাম। আগে জানতাম পাকিস্তানে পাঞ্জাব আছে, তারাই পাঞ্জাবী। কিন্তু ভারতেও পাঞ্জাব কেন? বাবা খুব সহজেই ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝালেন-এটা আমাদের দুই বাংলার মত। এর আগে পর্যন্ত আমার ধারণা ছিল ভারতের সবাই আমাদের মত বাঙালি! শধু আর্মিরা ছাড়া সবাই বাংলায় কথা বলে!

এরও কিছুদিন পরে আমাদের ক্যাম্পে কয়েকটা ফোর ইঞ্চ মর্টার আসল। আগে টু ইঞ্চ মর্টার দেখেছি। কিচ্ছু না, ছোট্ট একটা কলের পাইপের মত ! তার মধ্যে রকেটের মত দেখতে একটা গোলা ছেড়ে দিলেই দুম্! ফোর ইঞ্চ মর্টারটা মাঠের একপাশে ফিট করে মিথ্যে মিথ্যে প্রাকটিস চললো। কয়েকদিনের মিথ্যে প্রাকটিসের পরে একদিন আসল প্রাকটিস হলো। আমি দূরে দাঁড়িয়ে আছি। কিছুতেই আমাকে কাছে ভিড়তে দিল না। সেখানে দাঁড়িয়েই আগে ভাগে কানে আঙ্গুল দিয়ে রেখেছি। দেখলাম মর্টারের পাশে এজন হাঁটুগেঁড়ে বসে আছে, তার মাথায় লোহার হেলমেট। আর একজন একটা গোলা হাতে নিয়ে নলের মুখে ছেড়ে দিয়েই মাথা সরিয়ে কানে হাত দিয়ে বসে পড়ল! এক সেকেন্ডের মধ্যে দুড়ুম শব্দ করে গোলাটা ছুঁটে গেল। মাটি কেঁপে উঠল। এই মর্টার আর মেশিনগান আসার পর আমার মনে হলো আমরাও এখন পাক বাহিনীর সমান! আমি আমার পরিচিত যারাই আছে সবাইকে অনুরোধ করেও ব্যর্থ হলাম। জানতাম বাবা দেবেন না, তাই সেকেন্দার কাকা থেকে শুরু করে সব কাকাকেই বললাম। নাহ্ কাজ হলো না। কোন ভাবেই আমাকে মর্টারের গোলা ছুঁড়তে দেওয়া হলো না। মনে মনে খুব রাগ হলো। ঠিক করলাম এরপর হয় ফ্রন্টে যাব, নয়ত জগন্নাথের সাথে জলাপাইগুড়ি যাব। জগন্নাথ কিছুদিন আগে আমাকে নিতে চাইলেও আমি যাইনি। আমার এই ক্যাম্প আর বাড়ি, বাড়ি আর ক্যাম্প ভাল লাগছিল না। অক্টোবরের শুরুতেই এলো সেই সুযোগ………

চলবে……….

প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্ব পঞ্চম পর্ব ষষ্ঠ পর্ব সপ্তম পর্ব অষ্টম পর্ব নবম পর্বদশম পর্ব একাদশ পর্ব দ্বাদশ পর্ব ত্রয়োদশ পর্ব

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতিকিশোর মুক্তিযোদ্ধামুক্তিযুদ্ধবাঙ্গালীবাংলাদেশীবাংলাদেশ১৯৭১৭১৭১মনজুরুল হকস্মৃতিকথাগেরিলাপাকিস্তানপূর্ব বাংলাবিহারী197171’71bangladeshfreedom fighterliberation warbangladeshibanglaeast pakistanwest pakistan…. ; ; ; ; ; ; ; ; ; ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধস্মৃতিকথা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:১১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

৪৬২ বার পঠিত৪৬২২৪

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

৬২টি মন্তব্য

১-৩১

১. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫১০

দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন: ভালো লেগেছে। চলুক।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪১০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ দুরন্ত স্বপ্নচারী।

২. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৮০

ফিউশন ফাইভ বলেছেন: রেল বাজারের ফজল বিহারীর প্রসঙ্গ এসেছে এই পর্বে। আপনাদের এলাকাটি কি বিহারী অধ্যুষিত ছিল? তাদের সকলেই কি বাঙালি নিধনযজ্ঞে অংশ নিয়েছিল? তারা তো দীর্ঘকাল বাঙালিদের সঙ্গে মিলেমিশে থেকেছে। তাদের এই ক্ষোভের কারণ কী বলে মনে করেন?

এইটুকুন ছেলে জগন্নাথের কথা পড়ে বিস্মিত হই। ওই বয়সে একটা ছেলে কিভাবে অতোটা পরিণত হয়ে ওঠে?

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৮০

লেখক বলেছেন:

রেলের প্রায় নব্বই ভাগ কর্মচারী বিহারী ছিল। ফজল বিহারী খুব সৌখিন মানুষ ছিল। ষ্টেশনের পাশেই তার বাড়ি। সৈয়দপুর, পার্ব্বতিপুর, সান্তাহার, ঈশ্বরদী, পোড়াদহ,যশোর, খুলনার ষ্টেশনের পাশে বিহারীদের বেশি বসবাস। রেল ঘিরেই তাদের জীবন-জীবিকা।

জগন্নাথ ছিল কলেজ কোরের ক্যাডার।

ওর কথাগুলো অনেক পরে মেলালে দেখতাম কি নির্মম সত্যি কথা সে বলেছিল।

৩. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৯০

শ* বলেছেন: মাস কিলিং কোন অঞ্চলে বেশী হয়েছিল? আপনাদের দক্ষিনাঞ্চলে না আমাদের পুর্বাঞ্চলে ? আমি সার্বিক সংখ্যার দিকে ইঙ্গিত করছি ।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৫০

লেখক বলেছেন:

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলেই বেশি। চুয়াডাঙ্গাকে সে সময় ধরা হত সেকেন্ড ক্যাপিটাল। আর মেহেরপুর তো অস্থায়ী সরকারের রাজধানী।

খুলনার শিরোমনিতে (যেখানে মেজর জলিলের এক অসামান্য যুদ্ধ জয়ের ইতিহাস আন্তার্জাতিক ভাবে স্বীকৃত, এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন “ব্যাটল অব আল-আমিন” এর সাথে “ব্যাটল অব শিরোমনি”ও পড়ানো হয়)

শিরোমনি মুক্ত হয় ১৭ তারিখে। ওই এক যুদ্ধেই শত শত মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছিল। আর খুলনায় খালিশপুর ছিল প্রায় ৯০ ভাগ বিহারী অধ্যুসিত। সেখানেও বাঙালি কচুকাটা হয়েছিল। তেমনি সৈয়দপুর আর ঈশ্বরদীতে আরো ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চলেছিল।

৪. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৯০

লুৎফুল কাদের বলেছেন: Waiting for next post. +

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৩০

লেখক বলেছেন:

থ্যাঙ্কস আ লট।

৫. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০১০

শ* বলেছেন: দোস্ত মোহাম্মদ- একজন রাজাকার

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:২৬০

লেখক বলেছেন: দোস্ত মোহাম্মদ- একজন রাজাকার

৬. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩১০

শ* বলেছেন: তারমানে এইসব মাস কিলিংয়ের সাথে স্থানগত স্ট্রেটেজিক ইম্পর্টেন্স তেমন একটা ছিল না ? নিছক ঘৃনা বিদ্বেষ এবং সুবিধাগত দিকগুলিই প্রাধান্য পেয়েছিল ?

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৯০

লেখক বলেছেন:

না, ঠিক তাও নয়। বিহারী অধ্যুসিত অঞ্চলগুলোকে পাক বাহিনী মনে করত তাদের কমান্ড অঞ্চল। এখানে কিলিং ছিল ব্যক্তি রেশারেশির ফলে। আর যে সব অঞ্চলে পাক বাহিনী বাধার সামনে পড়েছিল সেখানে কিলিং ছিল রিভেঞ্জ মূলক। চুয়াডাঙ্গা ছিল রিভেঞ্জের অংশ।

যেমন মিরপুরের বিহারীরা কিলিং করেছিল আঞ্চলিক প্রাধান্যের কারণে, কারণ মিরপুরটা তৈরিই করা হয়েছিল তাদের অর্থাৎ মোহাজের দের জন্য। সেখানে তারা ছিল নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ।

৭. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৭০

মুক্ত বয়ান বলেছেন: এটা ব্যক্তি কথন হয়ে যাচ্ছে। ইতিহাসের পাতায় কপচানি দেখার চেয়ে কারো চোখে ইতিহাস দেখা অনেক আগ্রহোদ্দীপক।

ধন্যবাদ।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫১০

লেখক বলেছেন:

কি আর করা যাবে ভাই মুক্ত বয়ান! আপনার আগ্রহমোচন করতে এই পোস্ট ব্যর্থ, কারণ এটা স্মৃতিচারণ, “ইতিহাস” নয়। ব্যক্তি স্মৃতিচারণে ব্যক্তি কথনই তো হওয়ার কথা! না কি ভুল বললাম?

ধন্যবাদ।

৮. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:২১০

মাহবুব সুমন বলেছেন: আপনাদের ক্যাম্পে যারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আসতো তারা কি যুবক্যাম্প আর ট্রেইনিং ক্যাম্প পার হয়ে আসতো না ? ক্যাম্পে কি ইনডাকশন হতো না পুরোদমে ট্রেইনিংও হতো ?

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৫০

লেখক বলেছেন:

ক্যাম্পটা ছিল মূলত ইপিআরদের ক্যাম্প। বেশির ভাগই ইপিআর। ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে এখানে খুব কমই আসত।

স্থানীয় ছোট ছোট দল আসলে ওখানেই ট্রেনিং হতো। ইপিআরদের তো ট্রেনিংয়ের দরকার ছিল না। ইপিআররা আর পুরোনো মুক্তিযোদ্ধারাই ট্রেনিং দিত। গেরিলা টিমে কোন ইপিআর যেত না।

৯. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৪৯০

ফিরোজ-২ বলেছেন: ভালো লেগেছে। চলুক। +++

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৬০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ ফিরোজ-২

১০. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৩০

সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩০০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ সামছা আকিদা জাহান। আজ আর সময় মত দিতে পারলাম না। সারাদিন কাজের চাপে বাসায় ফিরতে এই রাত প্রায় সাড়ে এগারটা!

লিখে শেষ করতে পারলে ভোরের দিকে পোস্ট করতে পারি….

১১. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:০১০

ত্রিশোনকু বলেছেন: কানা কুহক: আমরা বলতাম কানা কুড়কা। কয়েকবার মেরেছি ছোটবেলায়। খাইনি কখনো। এখন মনে হচ্ছে খেয়ে দেখলেই হত।


আপনার স্মৃতি ইর্ষা করার মত। পরের কিস্তির জন্য আগ্রহে অপেক্ষা…..

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৬০

লেখক বলেছেন:

এতদিনে আর মনে নেই, তবে খেতে যখন পেরেছিলাম তখন ধরে নিতে হবে খাওয়া যায় বৈকি।

আজ আর লিখতে পারলাম না ভাই। ভোরে বা সকালে দেখি…….

১২. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৭০

নাজমুল আহমেদ বলেছেন: পরের পর্বের অধীর অপেক্ষায়……

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৮০

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ নাজমুল।

আজ যথা সময়ে না পারলেও কাল পারব আশা করি।

১৩. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৮০

ফারহান দাউদ বলেছেন: আমরা এই গণহত্যার বিচার চাই।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩২০

লেখক বলেছেন:

আমরা এই গণহত্যার বিচার চাই।

১৪. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১২০

মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:

জননীর নাভিমূল ছিঁড়ে উলঙ্গ শিশুর মত

বেরিয়ে এসেছো পথে, স্বাধীনতা, তুমি দীর্ঘজীবী হও।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪১০

লেখক বলেছেন:

স্বাধীনতা তুমি শিশুর হাতের থালা কেড়ে নিয়ে

বই তুলে দাও

স্বাধীনতা তুমি বস্তিঘরের ফুটো চালে পড়া

কষ্টের জলে তৃষ্ণা মেটাও

১৫. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪২০

দর্পণ বলেছেন: +

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৪০

লেখক বলেছেন:

হ্যাঁ পেলাম। কৃতজ্ঞ।

১৬. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪২০

অপ্‌সরা বলেছেন: গাছের সাথে বেঁধে যেভাবে মেরে ফেলার বর্ণনা দিয়েছো ভাইয়া।পড়েই শিউরে উঠতে হয়।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৬০

লেখক বলেছেন:

তার পরও আমাদের কোন এক মেয়ে বলে….”আফ্রিদী ম্যারী মি” !! গ্যালারিতে পাকিস্তানী পতাকা ওড়ে!! ধিক্কার জানানোর ভাষা পাই না।

১৭. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৪০

পল্লী বাউল বলেছেন: কত প্রাণের বিনিময়ে যে আমাদের স্বাধীনতা তা আমরা মাঝে মাঝে ভুলে যাই। আমাদের হৃদয়কে নাড়া দেয়ার জন্য এ ধরনের লেখনির খুব প্রয়োজন।

অটঃ কাজ আসছি, দেখা হবে আশাকরি।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৬০

লেখক বলেছেন:

অথচ দেখুন, মাত্র আটত্রিশ বছরে কি পরিমানে মরচে ধরেছে সেই ধারালো চেতনায়!!

ঠিক আছে। অপেক্ষায় থাকলাম।

১৮. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৬০

পল্লী বাউল বলেছেন: @ কাজ = কাল

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:২৭০

লেখক বলেছেন:

ঠিক আছে।

১৯. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৩০

শ* বলেছেন: আজকেও আবার ফাকি

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪২০

লেখক বলেছেন:

গুগলে দেখুন………..

২০. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪০০

সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:

সাথে আছি মনজুরুল ভাই……….

কি এক অমোঘ টান এই যুদ্ধের গল্পের।

শুভকামনা।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪২০

লেখক বলেছেন:

দুঃখিত সাজি।

আজ দেরী করে ফেরায় লেখার সময় পেলাম না। কাল ঠিক ঠাক লিখে ফেলব।

এই যে নিয়ম করে সেই করুন ইতিহাস পঠন, সাথে থেকে প্রেরণা দেওয়া, এরচে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে আমার জানা নেই।

২১. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৬০

ফিউশন ফাইভ বলেছেন: মুক্ত বয়ান বলেছেন: এটা ব্যক্তি কথন হয়ে যাচ্ছে। ইতিহাসের পাতায় কপচানি দেখার চেয়ে কারো চোখে ইতিহাস দেখা অনেক আগ্রহোদ্দীপক।

ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। প্রথম লাইনে বলছেন, এটা ব্যক্তিকথন হয়ে যাচ্ছে। আবার পরের লাইনে বলছেন, ইতিহাসের পাতায় কপচানি দেখতে চান না। স্ববিরোধিতা হয়ে গেল না? বরং আমার তো মনে হয়, অনর্থক ইতিহাস না কপচিয়ে ব্যক্তি কথনের মধ্য দিয়ে স্মৃতিচারণটা এগিয়ে যাচ্ছে বলে সেটা বরং বেশি ভালো লাগছে।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৬০

লেখক বলেছেন:

অল্প বয়েস, অথচ পন্ডিতসঙ্গে পড়ে ভারী ভারী কথা বলে! ওকে স্বশরীরে দেখেছি বলে কিঞ্চিৎ অবাক হয়েছি!

২২. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৩০

মুনশিয়ানা বলেছেন: এই পোষ্টের শুরুর থেকে যারা পাঠক হিসাবে সাথে আছেন, তাদের অনুভুতির কথা জানাচ্ছেন, আমার বিশ্বাস তারা কেউই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কিছু কম জানেন বা কম পড়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তো এমন কোন বিরল বস্তুও নয়।

এই পোষ্ট শুরু থেকেই অনন্যসাধারন, যে অর্থে ইউনিক, তা হলো বাড়ন্ত বয়সের এক কিশোর তার চোখ দিয়ে কিভাবে মুক্তিযুদ্ধকে দেখেছে, অংশ নিয়েছে আর এখন পরিনত বয়ষে তার সেই দেখা অভিজ্ঞতার বিবরন প্রত্যাক্ষদর্শীর মতো আমাদের জানাচ্ছে। পুরো পোষ্টটাই তো দাড়িয়ে আছে ব্যাক্তিকথনের উপর। আমরা এখানে কেউ ইতিহাস শিখতে আসিনি, বরং এত দিনের শেখা ইতিহাস কে এক কিশোরের চোখ দিয়ে দেখে যাচাই করে নিচ্ছি।

আমি এখনও আসলেই জানি না, মুক্ত বয়ান মুলত কি বলতে চেয়েছিলেন। মুক্ত বয়ান আর একবার যদি আমাদের খোলসা করে বুঝিয়ে বলতেন… ভূল বোঝাবুঝিটা মেটাতে পারতাম।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১১০

লেখক বলেছেন:

“এই পোষ্ট শুরু থেকেই অনন্যসাধারন, যে অর্থে ইউনিক, তা হলো বাড়ন্ত বয়সের এক কিশোর তার চোখ দিয়ে কিভাবে মুক্তিযুদ্ধকে দেখেছে, অংশ নিয়েছে আর এখন পরিনত বয়ষে তার সেই দেখা অভিজ্ঞতার বিবরন প্রত্যাক্ষদর্শীর মতো আমাদের জানাচ্ছে। পুরো পোষ্টটাই তো দাড়িয়ে আছে ব্যাক্তিকথনের উপর। আমরা এখানে কেউ ইতিহাস শিখতে আসিনি, বরং এত দিনের শেখা ইতিহাস কে এক কিশোরের চোখ দিয়ে দেখে যাচাই করে নিচ্ছি।”

অনেকক্ষণ খটরমটর করে যা বোঝাতে চাইছিলাম তা আপনি কয়েক লাইনেই বিস্ময়কর ভাবে বুঝিয়ে দিলেন। অভিনন্দন রইল মুনশিয়ানা।

২৩. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪২০

ত্রিশোনকু বলেছেন: আপনার লেখাটা পড়ার আশায় থাকি। না লিখলে ভাল লাগেনা এক্কেবারে।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৭০

লেখক বলেছেন:

স্যরি স্যার। কাল কুলিয়ে উঠতে পারিনি। বাসায় ফিরতে ফিরতে সেই রাত প্রায় এগারটা!

পনেরতম পোস্ট আজ দিয়েছি ।

২৪. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৭০

নাজমুল আহমেদ বলেছেন: জানি প্রতিদিন নিয়ম করে এত দীর্ঘ টাইপ করা একসাথে বিরক্তিকর এবং কষ্টকর কিন্তু এই পাঠকমন তা মানতে নারাজ।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২০০

লেখক বলেছেন:

কষ্ট খুব একটা না, সমস্যা ছিল সময়। কাল সময়ই পাইনি। লেখাটা শুরু করতেই আধাঘন্টা লাগে। চোখ বন্ধ করে অতীতে ঘুরে আসতে হয়…তারপর লিখতে লাগে প্রায় আড়াই ঘন্টা। আরও আধাঘন্টা লাগে প্রুফ দেখতে। আরও পনের মিনিট লিঙ্ক দিতে.. মোট লেগে যায় প্রায় চার ঘন্টা!

অশেষ ধন্যবাদ নাজমুল।

২৫. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৫০

মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: পড়ছি। অসাধারন।

মেজর জলিলের যুদ্ধ সম্পর্কে অনলাইনে কোন ডকুমেন্ট কি কোথাও আছে? থাকলে কষ্ট করে একটু জানাবেন।

ভাল থাকুন।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৫০

লেখক বলেছেন:

আপাতত আমার কাছে নেই সৌরভ। দেখি খুঁজলে পাব হয়ত। পেলে আপনার ব্লগে দিয়ে আসব।

আপনিও ভাল থাকবেন

২৬. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৪০

নির্ঝরিনী বলেছেন: এই বিহারীরা কি সব জায়গাতেই মানুষ খুন করার কসাইয়ের কাজ করেছিলো নাকি!!!!!!!!!!

মার মুখ থেকে শোনা মায়ের গ্রামেও এক ভয়ংকর মন্তাজ বিহারী ছিলো, যে মানুষকে বিশেষ করে হিন্দুদের ধরে কালীঘরে নিয়ে যেয়ে ব্ড় চাকু দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে হত্যা করতো…

যুদ্ধের সাথে সাথে কৈশোরের হাতছানিতে মাছ ধরা, পাখি শিকারও চলছে…

পরের পর্বের অপেক্ষায়…

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৪০

লেখক বলেছেন:

বিহারীরা পাকিস্তানী সেনা আসার পর নিজেদের দন্ডমুন্ডের কর্তা ভেবে বসে। তাদের প্রতি ৪৭ এর পর থেকে বাঙালিদের অপ্রচ্ছন্ন অবহেলার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নিজেরাই কসাই হয়ে ওঠে! বিহারীদের পেশার ভেতর প্রধান ছিল, রেলে চাকরি, ওয়ার্কসপ, দোকানদারী, কসাই, পরিষ্কার কর্মি, ড্রাইভার, এই সব। এর মধ্যে কসাইরাই মানুষ হত্যার অধিকার পেয়ে যায়।

যদিও সেই বিহারীদেরকে এখনকার জেনেভা ক্যাম্পের বিহারীদের সাথে কিছুতেই মেলানো যাবে না।

অবাধ্য কৈশোর কারো মানা মানে না!

২৭. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫১০

ফেরারী পাখি বলেছেন: কি করে লেখেন এসব? এত আবেগঘন লেখা পড়ে মনটা কেমন হয়ে যাচ্ছে। কত স্মৃতি আপনার!

স্যালুট আপনাকে।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৮০

লেখক বলেছেন:

আপনি সম্ভবত পঞ্চম পর্বটা মিস করেছেন।

ওই পর্বটা হচ্ছে এই ইতিহাসের টানিং পয়েন্ট।

অনেক শুভেচ্ছা ফেরারী পাখি।

ভাল থাকুন।

২৮. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪০০

যীশূ বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধকে দেখছি………..।

২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৫০

লেখক বলেছেন:

আমাদের প্রায় বিস্মৃত মুক্তিযুদ্ধ!

২৯. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২৭০

রাজর্ষী বলেছেন: সাথে আছি।

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০৯০

লেখক বলেছেন:

নিশ্চই রাজর্ষী

৩০. ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৪০

শিপন আবদুর রাজ্জাক বলেছেন:

“রেল বাজারের ফজল বিহারী হয়েছে খুন করার কসাই।”

মুক্তিযুদ্ধকালীন বিহারীদের ভূমিকা সম্পর্কে নানাভাবে আমরা জানতে পাই । ফজল বিহারীর মতো বিহারীদের যুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশে কেমন ট্রিট দেয়া হয়েছিল, আপনার এ লেখাতেই তা পাবো বলে আশা করছি ।

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৫০

লেখক বলেছেন:

শেষ দিকে আসবে।

৩১. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০৭০

শ।মসীর বলেছেন: নানা মুখী কারনে অনেকদিন মিস হয়ে গেল…………।

এই পর্বে বারে বারে পেলাম শৈশবের চিরচেনা সব কৌতুহল গুলোকে…….।সাথে যুদ্ধদিন …

আচ্ছা গোলাবারুদ গুলো সব (রাইফেল গ্র্যানেড সব) আসত কোথা থেকে…শুধু ভারতীয় বাহিনী না অন্য কোন সোর্স ও ছিল ।

কেমন আছেন আপনি।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১৭০

লেখক বলেছেন:

আমি ভাল আছি।

গোলাবারুদগুলো ইপিআররা পালানোর সময় কিছু নিয়ে গেছিল, আর তা বাদে সব ভারতীয় বাহিনীর দেওয়া।

আশা করি আপনার ঝামেলা কমেছে…..।
Top of Form

আপনার মন্তব্য লিখুন

কীবোর্ডঃ  বাংলা                                    ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয় ভার্চুয়াল   english

নাম

       

Bottom of Form

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s