এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি [১৮] ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুমিছিল

Litle figher

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৫ |

ফিরে এলাম আমার বাড়ি। আমার যুদ্ধ,ভয়,ত্রাস, আতংক নিয়ে আমার যে সংসার , সেখানে। কি যে আনন্দ হলো বলে বোঝানো যাবে না। আমার ক্যাম্প, ফ্রন্ট, এসএলআর, সেই জিপ, মাটির ধুলোওড়া পথ সব আমার নিজের যেন। আবার আমি আমার মত করে থাকতে পারব সেই আনন্দ। বাবা-মা, বোন আর যুদ্ধ শেষে দেশে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে আবার আমার পুরোনো সময়ে ফিরে এলাম। আবার সেই নিয়ম করে ক্যাম্পে ডিউটি, হাসপাতাল তাবুতে কাকাকে সাহায্য করা, নতুন আহতরা এলে তাদের সেবা করা, ক্যাম্প খালি হয়ে গেলে রাতে পাহারার কাজ করা, বাড়ি ফেরার সময় অত্যাবশক ভাবে ক্যাপ্টেন সাহেবের তাবুর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাটারির খোঁজ করা, সারা দিন কি কি হলো তা মায়ের কাছে রিপোর্ট করা, রাতে ফিতা দিয়ে বোনদের চুল বেঁধে দেওয়া….সবই আগের নিয়মে চলছিল। এর কয়েকদিন পর আবার বাবার ডাক এলো সাতক্ষীরা যাওয়ার। পর দিন বাবা ব্যাগ গুছিয়ে চলেও গেলেন। এখন আর বাবা চলে গেলে অতটা খারাপ লাগে না। মনে হয় সবই যেন নিয়মের ভেতর পড়ে গেছে। এখন আগের চেয়ে একটু বেশি শীত পড়ছে। মনে হয় শীতকাল শুরু হয়ে গেছে। শীত এলে দেশে থাকতে যা যা হতো এখানে তো তার কোন সুযোগই নেই, তবুও সকালে খেজুরের রস খাওয়ার সেই লোভ সামলাতে পারিনি। খুঁজে খুঁজে কাকভোরে খেজুরের রস নিয়ে আসতাম। মা নিষেধ করতেন, কারণ বাহুল্য টাকা খরচের উপায় ছিল না। মাঝে মাঝে মা বেশ রেগেও যেতেন। মনে করিয়ে দিতেন আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি, আমরা শরণার্থী! মনে হয় মা আমাকে সেই ছোট্টটিই ভাবতেন, তাই যুদ্ধদিনের কথা মনে করিয়ে সাবধান করতেন। বেশ কয়েক দিন কোন বড় ধরণের ঘটনাহীন কাটার পর হঠাৎ নতুন এক ঘটনা ঘটে গেল।

পাক বাহিনী এই সময় হঠাৎ তাদের অত্যাচারের ধরণ পাল্টে দিল। আগে তারা সীমান্তের কাছের গ্রামগুলোতে এসে যারা যারা মুক্তিবাহিনীকে থাকতে দিত, সাহায্য করত তাদের খুঁজে খুঁজে ধরে নিয়ে যেত। মেয়েদের ধরে নিয়ে ধর্ষণ করত সবাই মিলে। সে জন্য প্রায় বাড়িতেই বয়ষ্করা ছাড়া সব যুবতী মেয়েদের হয় এপারে না হয় অন্য কোথাও পাঠিয়ে দিত তারা। প্রায় কোন বাড়িতেই যুবক-যুবতী ছিল না। এটা কিছুদিন আগের কথা। এখন তারা এসে ধরে নেওয়ার মত কাউকে পেলে ধরে নেয়, আর তা না পেলে সেই সব বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছিল। যে সব বয়ষ্ক মানুষদের ভারতে আসার কোন দরকার ছিল না, তারাও এই সময়ে ঘর-বাড়ি পুড়ে যাওয়ার পর ভারতে চলে আসতে শুরু করে। আমাদের গ্রামের পুব দিকে দুইটা খালের মোহনায় যে নতুন শরণার্থী শিবির আগেই হয়েছিল, সেখানে এখন নতুন করে আরো ঘর উঠতে থাকল। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন পরিবার পালিয়ে চলে আসছে। প্রথম দুই তিন দিন তাদের ভীষণ কষ্ট হতো। এসেই রেশন, খাবার এইসব পেত না। তখন তারা দলে দলে ক্যাম্পের কাছে ভিড় করত। আমাদের নতুন দায়িত্ব হলো সেই লোকদের প্রথম প্রথম কয়েকদিন খাবারের ব্যাস্থা করা। আমরা দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করতাম। সকালে এগার-বারটার দিকে একবার আর রাত হওয়ার আগেই সন্ধ্যায় একবার তাদের মাঠে বসিয়ে খাবার দেওয়া হতো। কয়েকদিন পর তারা বেতাই লঙ্গরখানা থেকে খাবার আর রেশন পেত। আমাকে তখন ফ্রন্টে না পাঠিয়ে সারাক্ষণ এই কাজই করানো হতো। কাজটা যুদ্ধের চেয়েও কঠিন মনে হতো, কারণ লাইন দিয়ে বসানোর সময় কেউ আমার কথা শুনত না। শুনবেই বা কেন? এতটুকু ছেলের কথা কেনই বা শুনবে বয়ষ্ক মানুষগুলো? আগে যে সাত-আটজন রাজাকার আমাদের দলে যোগ দিয়েছিল তারা তখন আমাকে নিয়ে সেই খাওয়ানোর কাজ করছিল। একদিন একটি মেয়ে আসল, একা। তাকে প্রায় মাস খানেক বন্দি করে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছে। মেয়েটির কেউ ছিলনা বলে তাকে কোন ঘর দেওয়া হয়নি। প্রথম রাতে ক্যাম্প থেকে আমাকে বলে দেওয়া হলো আমি যেন তাকে দুই একদিন আমাদের বাড়ি নিয়ে রাখি। সেই মেয়েটি তিন-চার দিন ছিল আমাদের বাড়িতে। তারপর আর একটি পরিবার যারা দুজন বুড়োবুড়ি, তাদের সাথে মেয়েটিকে থাকতে দেওয়া হলো। এই সব নাম না জানা মানুষদের কেউ কেউ যখন আমাকে বাবা, সোনা, মানিক বলে ডাকত তখন কি এক অণ্যরকম ভাললাগায় ভাসতাম সেটা কাউকে বলে বোঝাতে পারতাম না। কখনো কোন ঘটনা ছাড়া একটি বা দুটি দিন কাটলেই বরং আমরা অবাক হতাম! মা বলতেন-বড় ধরণের কিছু হবে দেখিস! দেখা যেত ঠিকই তার পর তিন-চার দিন টানা গোলাগুলির পর ইয়াসিন কাকার তাবু ভরে গেছে, অথবা সকালে কোন এক কমান্ডার রিপোর্ট করছে- ‘থ্রী ক্যাজ্যুয়ালিটি’!

বাবা না থাকায় মা আমাকে ফ্রন্টের টিমে যেন না যাই সেটা বলে দিলে কাকারাও সেই মত আমাকে ফ্রন্টে পাঠাচ্ছিল না। আমি রোজকার মত ক্যাম্পেই সারাটা দিন কাটিয়ে রাতে বাড়ি ফিরছিলাম। একদিন সকালে ক্যাম্পে আসার জন্য বের হব, দেখি আমাদের বাড়ির পাশের বাড়িতে ঝুনঝুনি আর খোমক বাজিয়ে কারা যেন গান গাইছে…..। আমি ক্যাম্পে না এসে বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়েই থাকলাম। কিছুক্ষণ পরে ওরা আমাদের উঠোনে এলো। তিনজন মহিলা। এদের দুইজন প্রায় আমার মা’র বয়সী। আর একজন সেই যে আমাদের সাথে মুর্শীদাবাদ পর্যন্ত গেছিল যে মেয়েটি, সেই ‘বুড়ির’ বয়সী। তার বয়স ষোলও হতে পারে, আবার উনিশ-কুড়িও হতে পারে। হলুদ শাড়ি লাল পাড়, প্যাঁচ দিয়ে পরা। আমার মা যেভাবে পরেন সেভাবে না। এরা কেউ মায়ের মত ব্লাউজও পরেনি। গলায় বইচি ফলের মালা একেবারে গলার সাথে আঁটো করে বাঁধা। কপালে চন্দনের টানা টিপ কপাল থেকে চুল পর্যন্ত উঠে গেছে। তার দুপাশে আরো চন্দনের দাগ। মাথার একেবারে উপরে খোঁপা করে চুল বাঁধা। আর শাড়ি উঠে আছে প্রায় হাঁটুর কাছে। আমাদের স্কুলে একবার অ্যানুয়াল ফাংশনে উপরের ক্লাসের দুইটা ছেলে এই ড্রেস পরে সেজেছিল। শুনেছিলাম তারা বৈরাগী । আমি থ হয়ে দাঁড়িয়ে ওদের দেখছিলাম। ওরা এসেই আমাদের বারান্দার পাশে দাঁড়িয়ে মা’কে বলল-‘ অতিতি বিদেয় করো গো ঠাকরুন’ মা কাছে যেয়ে বললেন-‘আমরা তো মুসলমান মা, আর আমরা শরণার্থী, তোমাদের কি দেব বলো’? অশ্ব-বিশ্ব’র মা এসে আমার মায়ের কানে কানে বলে বলে গেল-‘ও দিদি একমুঠো চাল দিয়ে বিদেয় করো, তা না হলি ইরা উঠপিনানে’। মা তা-ই করলেন। চাল নিয়েই তারা গান শুরু করল। আমরা চার ভাই বোন বারান্দায় বসে পড়লাম। বয়ষ্ক মহিলা দুজন গান গাইছে আর কম বয়সী সেই মেয়েটি ঘুরে ঘুরে নাঁচছে। তার এক পায়ে মল, আর এক পা খালি। এক হাতে খঞ্জনী আর এক হাত খালি। সে নেঁচে-গেয়ে চলেছে……‘রাই জাগো রাই জাগো সতী, ঘুমায়োনা আর…..’ শেষে ..‘প্রভাত ও সমীরে সতীর আঙ্গিনা মাঝে গৌরচাঁদ নাঁচিয়া বেড়ায় গো…..( বড় হয়ে জেনেছি এই গানটি অমর পালের গাওয়া)….প্রভাত ও সমীরে এই গানটি যেন আর শেষ হচ্ছে না….. গান শেষ হলে ওরা তিনজনই এসে আমাদের চার ভাই বোনকে মাথায় হাত ঠেকিয়ে কি কি যেন বলল। মা এসে বললেন-‘থাক লাগবে না, তোমরা যাও’।

আমি ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য ওদের সাথে সাথেই বেরিয়ে এলাম, কিন্তু কখন যে ক্যাম্পে না যেয়ে ওদের সাথে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াচিছ সেটা খেয়ালই নেই। ওরা এবাড়ি ওবাড়ি ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে ভিক্ষে করছে। কেন যেন আমার কাছে এই ভিক্ষে করা খুব ভাল লেগে গেল! আমিও ওদের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছি! কোন কষ্ট নেই, দুঃখ নেই, যুদ্ধ নেই চাকরি করার ঝামেলা নেই, পড়াশুনা নেই, খালি গান গেয়ে ঘুরে বেড়াও! একবাড়িতে ভিক্ষে নেওয়া শেষ হলে আর এক বাড়ি যাওয়ার আগে সেই মেয়েটি পুটপুট করে আমাকে নাম-ধাম জিজ্ঞেস করছে, আমার ঘাড়ে হাত দিয়ে হাঁটছে, আমি মুখ উঁচু করে তার মুখের দিকে চেয়ে কথা বলছি আর হাঁটছি। একসময় বয়ষ্ক দুই মহিলা আমাকে চলে যেতে বলায় মেয়েটি বলল-‘ থাক না, কি করবি যেইয়ে, ঘুরচে, ঘুরুক না’। ওরা এসছে শান্তিপুর থেকে। নদীয়া শান্তিপুর। আমাদের চুয়াডাঙ্গায় পাশের বাড়িতে একটা পরিবার ছিল শান্তিপুরের, তারা তাদের রাজা নামের মেয়েকে ডাকত-‘আজা’ বলে। আমরাও তাকে আজা ডাকতাম। পরে জেনেছিলাম তার নাম আসলে রাজা! এই মেয়েটিও খুব সুন্দর করে কথা বলে, এত মিষ্টি লাগে! আমি হাঁটতে হাঁটতে দিদি বলে ডাকলেই বলে-‘কি গো গুসাই কি বলচ, হাঁটতি কষ্ট হচ্চে না কি গো’? প্রায় দুপুর পর্যন্ত ওদের সাথে সাথে থাকলাম। দুপুরের দিকে ওরা এই গ্রামের শেষ বাড়িতে ভিক্ষে নিয়ে মেঠো পথের আলের উপর দিয়ে পাশের গ্রামে চলে গেল। আমি আর গেলাম না। ওখানে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম। কেন ছিলাম জানিনা, তবে মনে হচ্ছিল ওদের সাথে চলে যাই! মনে মনে ঠিক করলাম বড় হয়ে বাউল হব, বৈরাগী হব! তারপর ভিক্ষে করে বেড়াব! রাতে আবার সেই ইচ্ছা মা’কে বলার পর মা প্রথম হাসলেও পরে কড়া ভাষায় সাবধান করে দিলেন-ওরা নাকি তুকতাক যাদু মন্তর জানে, ভুলিয়ে ভালিয়ে ছেলে ধরে নিয়ে ভিক্ষে করায়! বৈরাগী মেয়েটির নাম মনে করতে পারি না!

সাতক্ষীরা থেকে বাবা ফিরলেন দশ-বার দিন পরে। ফিরলেন একগাদা খারাপ খবর নিয়ে। বশির হাটের কোন এক বর্ডারে বাবা ছিলেন। ওই এলাকায় খুলনা থেকে আসা লোকজন বেশি। তারা সবাই সাতক্ষীরা দিয়ে সীমান্ত পার হয়েছে। বাবার সাথে খুলনার কয়েকজনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তাদের একজন আমাদের পাশের রামমাঝি গ্রামের। তার কাছেই সেই খারাপ খবর পেয়েছেন বাবা। খুবই খারাপ খবর, অথচ বাবা কেমন যেন স্বাভাবিক ভাবেই বলছিলেন- আমার সেজ চাচা মারা গেছেন। গ্রামে ভোটের সময় চাচা নাকি মুসলিম লীগের কোন প্রার্থীর পোস্টার মান্দার গাছে লাগানো ছিল সেটা ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। তার পর মুসলিম লীগ না কোন পার্টির মার্কা ছিল হুক্কা। চাচা নাকি সেই হুক্কা নিয়ে কি একটা খারাপ কথা লেখা পোস্টার গাছে গাছে লাগিয়েছিলেন। তাই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মুসলিম লীগের এক নেতা (যে আমাদের একটু দূরের চাচা) আমার চাচাকে তাড়া করে বিলের মধ্যে ফেলেছিল। চাচা ঠান্ডা পানিতে দুই তিন দিন ভেসে থেকে তারপর মরে গেছেন! আমার এই চাচা আওয়ামী লীগ করতেন। তার বড় ছেলেটি আমার চেয়ে তিন চার বছরের বড়। চাচা মারা যাওয়ার পর আমার আটজন চাচাতো ভাই বোনদের এতই নাকি খাওয়ার কষ্ট হয়েছে যে তারা দিনের পর দিন শাকপাতা খেয়ে দিন কাটাচ্ছে! মেঝ চাচা যক্ষারুগী ছিলেন। সারা দিনরাত ঘরে শুয়ে শুয়ে কাশতেন। তার বড় ছেলে আশরাফ ভাইকে আমরা দাদা বলতাম। এই দাদা আমাদের বংশের ভাইদের মধ্যে সবার বড়। যশোরে ইউনাইটেড বা এইরকম নামের এক ব্যাংকে চাকরি করতেন। দাদার বিয়ে ঠিক হয়েছিল, সেটা আমরা চুয়াডাঙ্গা থাকতেই জেনেছিলাম। বিয়ের সময় আমরা গ্রামে যাব সেরকম ঠিকঠাকও হয়েছিল। আর সেই বিয়ে হয়নি। দাদাকে যশোরে মেইন রোডের উপর শুইয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় থাকতেই বাবা তাকে বাড়ি চলে যেতে বলেছিলেন, কিন্তু দাদা চাকরি ছেড়ে যাননি। ভাইেয়ের মৃত্যু নয়, এই দাদার মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে বাবা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিলেন। আমরা সকলেই কাঁদছি…… ছবির মত সব কিছু মনে পড়ে গেল! আমরা গ্রামে গেলে দাদা (তখনো চাকরি ধরেননি) আমাকে নদীতে নিয়ে সাঁতার শেখাতেন। তখন খুব বেশি হলে আমার বয়স চার কি পাঁচ! আমার বুকের কাছে এক হাত আর কোমরের কাছে আর এক হাত রেখে দাদা আমাকে পানিতে ভাসিয়ে রাখতেন, আর বলতেন হাত-পা চালা, দাপাদাপি কর……আমি যখন একটু একটু ভেসে থাকা শিখলাম তখন আমাকে অনেক দূরে পানিতে ছুঁড়ে দিতেন। আমি খাবি খেতে খেতে ডুবে যাচ্ছি দেখলে তারপর তুলতেন। তার পর নাওয়া শেষে আমাকে ঘাড়ে নিয়ে বাড়িতে দিয়ে যেতেন। সেই দাদা নেই! বাবা একটু থেমে থেকে একে একে আরো মৃত্যুর খবর শোনাতে লাগলেন। আর আমাদের ঘরে যেন তাজা মৃত্যু নেমে এলো! ছোট বোনেরা পর্যন্ত কার মৃত্যু, কেমন মৃত্যু, মৃত্যু কি তা না জেনেও বাবা-মা আর আমার কান্না দেখে তারাও কাঁদছে। বাবা আরো আত্মিয়দের মৃত্যুর খবর বলে যাচ্ছেন…..

আমার কানে ঢুকছে না! আমার কানে কেবলই বেজে চলেছে দাদার টুকরো টুকরো সব পুরোনো কথা, পুরোনো স্মৃতি….. এই দিন প্রথম আমার মনে হলো আমরা কি আর কখনো দেশে ফিরতে পারব? ফিরে কি সবাইকে জীবীত পাব? আমি আর এই সময় মৃত্যুর সংখ্যা মনে রাখতে পারছিলাম না…..শুধু একটি কথাই মনে হচ্ছিল-ক্যাজ্যুয়ালিটি!!

চলবে………..

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতিকিশোর মুক্তিযোদ্ধামুক্তিযুদ্ধবাঙ্গালীবাংলাদেশীবাংলাদেশ১৯৭১৭১৭১মনজুরুল হকস্মৃতিকথাগেরিলাপাকিস্তানপূর্ব বাংলাবিহারী197171’71bangladeshfreedom fighterliberation warbangladeshibanglaeast pakistanwest pakistan…. ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধস্মৃতিকথা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:১৭ |বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

৩৭২ বার পঠিত১৪৭১৭

 

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

 

৪৭টি মন্তব্য

১-২৪

১. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪১০

ফারহান দাউদ বলেছেন: অনেক বেশি ক্যাজ্যুয়ালটি।

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৫০

লেখক বলেছেন:

এ পর্যন্তই অনেক। সামনে আরও আছে! ওয়ান বাই ওয়ান ক্যাজ্যুয়ারটি ঘটতেই থাকল। জানাজা, মাটি দেওয়া এবং অনিবার্য বাস্তবতায় ভুলে যাওয়া!! কি নির্মম বাস্তবতা!!

২. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৮০

মুনশিয়ানা বলেছেন: মাঝে মাঝে ভাবি, যে মুল্য দিতে হয়েছে– তার সমমুল্যের স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি কিনা…

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৯০

লেখক বলেছেন:

এই মনজুরুল হকের বর্ণনায় যে পরিমান মূল্যের কথা উঠে আসছে তার সাথে দেশের হাজারো মনজুরুল হকদের কথা একসাথে করলে মনে হবে একটা সীমানা ঘেরা জমি আমাদের বলে মনে করেছি, পেয়েছি বটে, চূড়ান্ত বিচারে তা আমার নয়, আমাদের নয়।

বর্গীর চেহারা আর ধরণ বদলেছে মাত্র!!

৩. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৫০

ফিউশন ফাইভ বলেছেন: ১৬ থেকে ১৮ পর্ব একটানা পড়ে ফেললাম। এভাবে পড়তেই ভালো লাগে, তাতে খেই হারিয়ে ফেলি না। চলুক।

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১০০

লেখক বলেছেন:

এটা ভাল পদ্ধতি।

আমারও ইচ্ছা হয় পুরোটা একবারে লিখে ফেলি, কিন্তু সারাদিন ভূতের খাটনি খেটে রাতে আর আঙ্গুল চলেনা!

৪. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৮০

ম*বলেছেন: আমি সবগুলো এক সাথে পড়বো বলে … বসে আছি …

সিরিজ শুরুর সময় ভাবিনি এরকম’টা আগাবেন … এককথায় অনবদ্য …

এবং সিরিজের প্রথম পোস্টের কমেন্টটা ভুল ছিল …

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৫০

লেখক বলেছেন:

আচ্ছা ঠিক আছে।

শরীর আর পিসি ভাল হয়েছে তোমার?

৫. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৮০

রাগিব বলেছেন: অনেক মূল্য দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা। জাতি হিসাবে শহীদদের এই আত্মত্যাগের প্রতিদান আমরা আজো দিতে পারিনি।

সময় পেলে এখানে দেখে আসবেন একটু ?

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৪০

লেখক বলেছেন:

দেখে এলাম রাগিব। ওখানে আমার কমেন্ট এক্তিয়ার নেই। তাই কোন কমেন্টও করিনি।

নির্মাণ ব্লগে এই নিয়ে বিশাল কাজ হচ্ছে । আমার সময়াভাবে সেখানেও পার্টিসিপেট করতে পারছি না।

তারপরও দেখি কিছু করতে পারি কিনা।

৬. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৪৬০

শ* বলেছেন: হঠাৎ ঐ বৈরাগী পিছু করাটা কি সাময়িক অস্থিরতার ফসল ছিল?

অটঃ সিলেটে কথা হয়েছে । রাজি । কিন্তু বড়দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে । অবশ্য তার আগেও ঐ ইনফরমেশনটা পেয়ে যেতে পারি ।

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৭০

লেখক বলেছেন:

সাময়ীক অস্থিরতা মনে হয় না। মনে হয় ভাললেগে গেছিল! আজও ভাল লাগে!!!

প্রভাত ও সমীরে সতীর আঙ্গিনা মাঝে গৌরচাঁদ নাচিয়া বেড়ায় গো………………

কী নিরুদ্বেগ এক জীবন! এখন বুঝি কত কষ্টে আর অনিশ্চয়তায় তাদের দিন কাটে।

অ.ট. ঠিক আছে। তাই সই। অপেক্ষায় থাকলাম।

অ.ট. পোস্ট আসল! বলেছিলাম না নির্লজ্জ!!!

৭. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৩৪০

ফিরোজ-২ বলেছেন: অনেক মূল্য দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা। জাতি হিসাবে শহীদদের এই আত্মত্যাগের প্রতিদান আমরা আজো দিতে পারিনি।

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৯০

লেখক বলেছেন:

৩৮ বছরেও পারলাম না! আর কবে পারব?

আমার মনে হয় এখন আর কেউ প্রতিদানের আশা করেও না।

ভাল থাকবেন।

৮. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৪২০

শ*বলেছেন: অটঃ ডাক পরখ করবেন ।

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৩০

লেখক বলেছেন:

পরখকৃত।

৯. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২৯০

ত্রিশোনকু বলেছেন: “আমি ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য ওদের সাথে সাথেই বেরিয়ে এলাম, কিন্তু কখন যে ক্যাম্পে না যেয়ে ওদের সাথে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াচিছ সেটা খেয়ালই নেই। ওরা এবাড়ি ওবাড়ি ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে ভিক্ষে করছে…..মনে মনে ঠিক করলাম বড় হয়ে বাউল হব, বৈরাগী হব! তারপর ভিক্ষে করে বেড়াব!”

-ছোট বাচ্চা আর কাকে বলে?

“আমার কানে ঢুকছে না! আমার কানে কেবলই বেজে চলেছে দাদার টুকরো টুকরো সব পুরোনো কথা, পুরোনো স্মৃতি….”

  • কি কষ্টকর অনুভূতি।

আপনার এই পোষ্টটার অপেক্ষায় থাকি রোজ।

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৮০

লেখক বলেছেন:

“আপনার এই পোষ্টটার অপেক্ষায় থাকি রোজ।”

নিরুপায় হয়ে আজ আবার গ্যাপ দিতে হলো। অনেকগুলো বছর যে মামা-মামীর কাছে ছিলাম সেই মামী ভীষণ অসুস্থ্য। কালই তাকে এ্যাম্বুলেন্সে করে সিএমএইচ-এ আনা হচ্ছে! সেখানে ভর্তি করানো না গেলে পিজি অথবা বারডেম।

ICU তে রাখতে হচ্ছে এমনই খারাপ অবস্থা। ঘন্টায় ঘন্টায় মামা ফোন দিচ্ছেন…

খুব চিন্তায় আছি।

১০. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৬০

যীশূ বলেছেন: শ্রদ্ধা সকল শহীদের প্রতি……..।

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫১০

লেখক বলেছেন:

হাজারো নাম না জানা, সবার অলক্ষে আত্মবিসর্জন দেওয়া সেই সব শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

১১. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৮০

নাজমুল আহমেদ বলেছেন: এই সিরিজের প্রথম দিকে আপনার কৈশরের বাড়ন্তপনা দেখে অবাক হয়েছিলাম। আবার কোন কোন পর্বে ঠিক কৈশরে যা হবার কথা তা হতে দেখে ভাবি এই রকমইতো কৈশরে হওয়ার কথা। আমিও ছোট্টবেলায় বাড়িতে গান বাজনার দল আসলে তাদের সাথে পুরা গ্রাম ঘুরতাম। দূরন্ত কৈশর সে তো কোন কিছুর বাঁধাই মানে না।

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৪০

লেখক বলেছেন:

“দূরন্ত কৈশর সে তো কোন কিছুর বাঁধাই মানে না।”

ঠিক তাই নাজমুল। মাঝে মাঝে নিজেকে পরিনত মানুষের মতই মনে হতো। আবার পরক্ষণেই ডুবে যেতাম আমার আপন ভূবনে, যেখানে আমাকে মানায়,

সেই পথের ধারে মার্বেলে, খাল পাড়ের মাছ ধরায় বা বৈরাগীর পিছে পিছে গ্রামময় ঘুরে বেড়ানো…

১২. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২০০

সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: চলুন মঞ্জুর ভাই– আপনার এই পথ চলায় আমি আছি নিরন্তর।

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৩০

লেখক বলেছেন:

নিরবিচ্ছিন্নভাবে সেই প্রথম থেকেই সাথে থেকে যে অনুপ্রেরণা দিলেন তা এই লেখকের লেখার স্পৃহা হয়েই থাকবে।

ভাল থাকুন।

আজ ১৯ পর্বটা লিখতে পারলাম না। অনেকগুলো বছর যে মামা-মামীর কাছে ছিলাম সেই মামী ভীষণ অসুস্থ্য। খুলনা থেকে কালই তাকে এ্যাম্বুলেন্সে করে সিএমএইচ-এ আনা হচ্ছে! সেখানে ভর্তি করানো না গেলে পিজি অথবা বারডেম।

ICU তে রাখতে হচ্ছে এমনই খারাপ অবস্থা।

১৩. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৩০

শ* বলেছেন: বুঝলাম। আজকেও ফাকি  ।

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৭০

লেখক বলেছেন:

এটাকে ফাঁকি বললে লেখকের শরীরের ভেতরে যে মানুষটি আছে তার প্রতি অবিচার করা হয়। ৯ আর ১২’র উত্তর দেখুন।

মামা ঘন্টায় ঘন্টায় ফোন দিচ্ছেন। মামার তিনটি ছেলে মেয়ের একটি লন্ডনে। সে সেখান থেকে ফোন দিচ্ছে। এই তিনটিই আমার কোলে কোলে বড় হয়েছে………

১৪. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩১০

শ* বলেছেন: ওপস । ভীষন দুঃখিত

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৪৫০

লেখক বলেছেন:

ইটস ওকে।

দেখি কাল সন্ধ্যার মধ্যে না আসলে হয়ত পরশু আসবে।

এদের সাথে আমার এই ১৮ তম পর্বের একটা যোগাযোগও আছে।

আমার যত কাজিন আছে সবাই আমাকে ভাই, ভাইজান, ভাইয়া বলে,

কিন্তু এই তিন ভাই-বোন বলে দাদা!

শুধু এরাই। সেই দাদা একাত্তরে মারা যাবার পর মামা তার ছেলে-মেয়েকে দাদা বলতে শিখিয়েছিলেন।

এখন ঘুমাতেও পারছি না। লন্ডনের বোনটাকে কিছুতেই বোঝানো যাচ্ছে না। সে সবার ছোট!

১৫. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২৭০

নাজমুল আহমেদ বলেছেন: মামী সুস্থ্য হয়ে উঠুক জলদি সেই কামনা করি।

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৪০

লেখক বলেছেন:

মামীকে আজ রাত ১১ টায় সিএমএইচ এ আইসিইউ তে রেখে এসেছি। মামীর ভাই আর ছেলে আছে সাথে।

১৬. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৬০

সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: আপনার মামী সুস্থ্য হয়ে উঠুক এই দোয়া করি। আমি কাল থেকে বেশ কিছুদিন বাইরে থাকবো তাই ব্লগে আসতে পারবো না। যখন নেট এ বসবো তখন সব এক সাথে পড়বো। ভালো থাকুন ভাইয়া।

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৬০

লেখক বলেছেন:

প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে গেছি। আর হয়ত গোটা তিনেক পর্ব হতে পারে। এসে সব একসাথেই পাবেন আকিদা।

ভাল থাকুন।

১৭. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৩০

ত্রিশোনকু বলেছেন: আপনার মামী দ্রুত সু্স্থ্য হয়ে উঠুক। এতে দুটো লাভ:

১। মামীর সুস্থ্যতা।

২। দৈনিক কিস্তি।

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৮০

লেখক বলেছেন:

যা অবস্থা দেখলাম তাতে আশাবাদী হতে পারছি না। দেখা যাক। এই মামীর সাথে আমার মায়ের স্বত্তা আধাআধি। গতকাল ভীষণ মন খারাপ ছিল। আজ হাসপাতালে নিতে পেরে একটু রিলিফ পেলাম মনে হচ্ছে।

১৮. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪১০

পল্লী বাউল বলেছেন: জানি, অনেক ঝামেলায় আছেন। মনের অবস্থা যে ভাল নেই তাতো জানিই। তবুও বলবো …. চালিয়ে যান বস। যত কষ্টই হোক কারন এই ইতিহাস জানা আমাদের ভীষন ভীষন প্রয়োজন।

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৯০

লেখক বলেছেন:

নাহ্ আর গ্যাপ হবে না। আর অল্পই আছে। এটুকু টানা শেষ হয়ে যাবে।

আপনি ভাল আছেন তো? দেখা কিন্তু হলো না!!

১৯. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৭০

ত্রেয়া বলেছেন: আমি আর এই সময় মৃত্যুর সংখ্যা মনে রাখতে পারছিলাম না…..শুধু একটি কথাই মনে হচ্ছিল-ক্যাজ্যুয়ালিটি!!

এই ক্যাজ্যুয়ালিটি কথাটির অর্থ যে এত কলিজা ছেড়া কষ্টের এত নির্মম হতে পারে এ লেখা না পড়লে হয়ত কখনোই জানা হতো না!!

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৪০

লেখক বলেছেন:

কতগুলো শব্দের মানে আমি জানতাম না। পরে বড় হয়ে জেনেছি। “ক্যাজ্যুয়ালিটি”

“স্যাকরিফাইস” এই শব্দদুটোর মানে জানতাম না।

২০. ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৬০

সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:

খুব মন খারাপ……।

এত মৃত্যু……..

এত ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের স্বাধীনতা!

মামী আশাকরি ভালো আছেন।

দোয়া থাকলো।

শুভেচ্ছা।

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৪০

লেখক বলেছেন:

না সাজি,

মামী ক্যান্সারকে জয় করতে পারলেন না।

আমিও পরাজিত হলাম আর একবার।

বড্ড অসময়ে আমার মামী-মা-বন্ধু আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলেন!

২১. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২১০

মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:

কেউ কি দেখেছে এমন মৃত্যু…

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৫০

লেখক বলেছেন:

জীবনের জরায়ূতে বেড়ে ওঠা মৃত্যু….

২২. ০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:১৬০

আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

ক্রমশ মৃত্যুরা তাদের আপন করে নিয়েছিলো…

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৩৯০

লেখক বলেছেন:

তারা মৃত্যুকে জয় করে বাঁচার চেষ্টা করে যাচ্ছিল…..

২৩. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৪৫০

ফেরারী পাখি বলেছেন: আপনার এই ঘটনাবহুল অসাধারণ জীবনের কাছে, আমার জীবন-বাস্তবতা খুবই ম্যাটমেটে, অতি সাধারণ। তবুও একটা ঘটনা শেয়ার না করে পারছি না। দয়া করে আমার এই দৈন্যতাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

সালটা ৮৭. আমরা তখন গুরুদাসপুরে। সেবার ভয়ানক বন্যা হল। আমি সবে ক্লাস সেভেনে উঠেছি। আমার বাবা আমাকে বল্লেন, সরকারী ত্রাণ বিলি করতে। নৌকা নিয়ে শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত সারাদিন ঘুরেছি। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও গলা পানি ঠেলে আশ্রয় শিবির গুলোতে গিয়েছি। ইশ! মানুষের কত দূরাবস্থার যে সঙ্গী হতে পেরেছিলাম। নিজেকে অনেক কিছু মনে হত। মনে হত অনেক কিছু করতে পারা মানুষ। তখন কত বয়স্ক/অচেনা মানুষ বাবা-সোনা করে ডাকত।

একদিন সন্ধ্যায় আমার সঙ্গে যে দুজন সরকারী পিওন সাহায্য করবার জন্য ছিলেন, তাদের একজন এসে বল্লেন, আপা অমুক আশ্রয় কেন্দ্র কিছু মানুষ নতুন আশ্রয় নিছে–সেখানে চাল-ডাল দিতে যেতে হবে।

আমি দৌড়ে গেলাম। দেখি ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ, তার পরনে শততালি দেওয়া একটা ছিন্ন-ভিন্ন লুঙ্গি সেটাও শুধু কোমড় থেকে উরু পর্যন্ত ঢেকে আছে। উদোম গা।

আমি যেই চাল-ডাল মেপে ওঁর হাতে দিলাম, তিনি একদম সেজদার ভঙ্গিতে আমার পায়ে পড়লেন-হাতজোড় করে।

পায়ের উপরেই খানিক কাঁদলেন আর আমার মঙ্গল কামনা করলেন। আমি যারপর নাই বিব্রত এবং লজ্জিত। পরে জানলাম তিনি তিনদিনের উপর না খেয়ে আছেন।

সেই আবছায়া অন্ধকারে সেই বৃদ্ধের কান্না আমি আজও ভুলতে পারিনি।

আমিও আপনার মত হেমামালিনীর নাম প্রথম শুনেছি, আমাদের বাড়িতে কর্মরত ছিলেন, পিওন মহসীন। যিনি আমাকে ত্রাণ দিতে সাহায্য করতেন। নৌকায় ঘুরতে ঘুরতে তার কাছে এসব গল্প শুনতাম।

১০ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০৫০

লেখক বলেছেন:

এই গুরুদাসপুরে আমারও অনেক স্মৃতি ধরা আছে। আপনার সময় হলে ওই খানকার আরো কিছু বিষয়(সেই সময়কার) নিয়ে আলোচনা করলে অনেক ভাল লাগবে।

শৈশব যদি এমন কর্মযজ্ঞের হয়, তাহলে সেই শৈশব নিয়ে বারে বারে লেখা যায়। আর একবার লিখুন। আমরা প্রাণ ভরে সেই সময়ে ফিরে যেয়ে দেখে আসি আর গায়ে মেখে আসি মানবতার অমর বাণীগুলো….

ভাল থাকুন ফেরারী পাখি।

২৪. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৫৮০

ফেরারী পাখি বলেছেন: তখন গুরুদাসপুরে কোন ভালো রেষ্ট হাউজ ছিল না। তো বড় বড় সরকারী কর্মকর্তা বা মন্ত্রী-টন্ত্রী এল আমাদের বাড়িতেই খাওয়া দাওয়া করতেন, কেউ কেউ থাকতেন। একবার এক ম্যাজিস্ট্রেট রাজশাহী থেকে এলেন, ত্রাণ দেবার জন্য। তিনি আমাদের বাড়িতে থাকলেন ক’দিন, মা নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ালেন।

ত্রাণ দেবার বেলায় তার বদলে বাবা যখন আমাকে পাঠালেন, তখন মা খুব একটা রাজী হচ্ছিলেন না আমাকে পাঠাতে।

তখনকার কিছু কথপোকথন আমি আজও পরিষ্কার মনে করতে পারি, মা- বল্লেন, ” উনি এসেছে উনি যাক ত্রাণ দিতে, আমার মেয়েটাকে পাঠাচ্ছ কেন? বাবা বল্লেন, ও অর্দ্ধেক ত্রাণ দেবে আর অর্দ্ধেক নিজে সরিয়ে ফেলবে। ওকে আমি ঠিক মত ধরতেও পারবো না। আমার মেয়ের সে সম্ভাবনা নাই।”

সেই অফিসার পরে বড় মন্ত্রী হয়েছিলেন। অনেক বড় বড় কুকীর্তি তার আছে।

আর বাবার কোনদিন কিছু হয়নি।

না উন্নতি, না অন্য কিছু

 

Top of Form

আপনার মন্তব্য লিখুন

কীবোর্ডঃ  বাংলা                                    ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয় ভার্চুয়াল   english

নাম

       

Bottom of Form

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s