এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি [২০] শুরু হলো মরণপণ লড়াই

Litle jpg

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৫ |

ঘুটঘুটে অন্ধকারে অন্ধের মত পানির জন্য হাতড়ে বেড়ালাম, পানি নেই! অন্ধকারে এক হাত দূরেও কিছু দেখা যাচ্ছেনা। আন্দাজের উপর বাঙ্কারের দেওয়াল ধরে এগুচ্ছি, হাতে কেবলই বাধছে গুলির বাক্সো, রাইফেল, পিট-টু, র‌্যাকস্যাক এই সব, কিন্তু একটাও ওয়াটার বটল পাচ্ছিনা! অনেকক্ষণ পরে এক কোণায় একটা বটল পেলাম! তাড়াতাড়ি মুখ খুলে উপড় করে ধরলাম! এক ফোঁটাও পানি নেই! বুকের ছাতি ফাটা কষ্টটা আরো বেড়ে গেল। এখন মনে হচ্ছে মুখের লালাও শুকিয়ে গেছে! মাটির দেওয়ালে হেলান দিয়ে হাঁটুর উপর থুতনি ঠেকিয়ে বসে বসে কাঁদতে লাগলাম। বাইরে তখন যেন রোজ কেয়ামত নেমে এসেছে! বিরতিহীন গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে। ক্রমাগত কটকট আর থেকে থেকে বুমমম শব্দে গোলা ফাটছে। যে বার সারারাত বাঙ্কার পাহারায় ছিলাম সেদিনের মত আজ ভূতের ভয় করছে না। মনে হচ্ছে না কোন একটা ঝোঁপ হেঁটে হেঁটে আসবে, কোন এক সাদা শাড়ি পরা নারী হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে উড়ে আসবে। কেবলই মনে হচ্ছে কোনও ভাবে যদি একটু পানি পেতাম! এই চরম খারাপ সময়েও কেমন যেন ঘোর ঘোর লেগে আসে! মনে হচ্ছে ঘুম পাচ্ছে। কাত হয়ে শুলেই মনে হয় ঘুমিয়ে পড়ব। ওই কাকা যে কেন আমাকে এখানে ফেলে গেল! ওদের কাছে পানি আছে। ‘ওদের কাছে পানি আছে’ মনে পড়তেই ভাবলাম পানি তো খালেও আছে। আচ্ছা খাল কত দূর? খালটা কোথায়? খালের কথা মাথায় আসতেই বাঙ্কার থেকে বেরিয়ে এলাম। বাইরে অতটা অন্ধকার নেই। কুয়াশা থাকলেও আকাশে আলো আলো একটু ভাব আছে। বাঙ্কার থেকে বেরিয়েই কোন কিছু না ভেবে পেছন দিকে হাঁটতে শুরু করলাম। সোজা পেছনে হাঁটছি আর মাঝে মাঝে পেছন ফিরে দেখছি। মেহেরপুরের দিকের আকাশ আলো হয়ে বোমা ফাটছে, আর তার পর পরই টানা সেই নতুন কাপড় ছেঁড়ার শব্দের মত মেশিনগানের গুলির শব্দ ভেসে আসছে। কতদূর হেঁটেছি জানিনা, একসময় খালটা পেলাম। অনেক পরিচিত সেই খাল। হাঁটু পানিতে নেমে খালের ময়লা পানিতে মুখ ডুবিয়ে ঢক ঢক করে পানি খেয়ে পেট ভরে গেল। কেন জানি না খুব মা’র কথা মনে পড়ল। মা হয়ত এখন বোনদের নিয়ে গরম কম্বলের নীচে ঘুমাচ্ছে। অথবা গুলির শব্দ শুনে থেকে থেকে কেঁপে উঠছে অজানা আশঙ্কায়। তার দু’জন আপন মানুষ যুদ্ধের ফ্রন্টে।

খাল থেকে উঠে আস্তে আস্তে বাঙ্কারের কাছে ফিরে এলাম। একবার মনে হলো বাড়ি ফিরে যাই! এত রাতে ফিরতে পারব কি-না তা ভাবনায়ও এলো না। কেন যেন আজ কিছুতেই ভূতের ভয়টয় করছে না। হাফ প্যান্টের উপর সার্ট, তার উপর কাকাদের একটা খাকি রঙের সোয়েটার। বড়দের সোয়েটার আমার গায়ে ঢলঢল করছে। হাতা দুটো অনেক লম্বা হয়ে নেমে গেছে। সোয়েটারের ঝুল নেমেছে প্রায় হাঁটুর কাছে। কোমরে ইপিআরদের চওড়া কালো বেল্ট ছোট করে নিয়ে কষে আটকানো। মাথা নিচু করে কাঁপতে কাঁপতে বাঙ্কারে ফিরলাম। খালে নামার পর থেকেই শীত লাগছিল খুব। বাঙ্কারে ঢুকতে ইচ্ছে করছিল না, তবুও ঢুকলাম, কারণ আর কিছুই তো করার নেই। আমাদের পুরো বাহিনী কতদূরে চলে গেছে জানি না। গুলির শব্দ ঠিক আগের মতই থেমে থেমে আসছে। আবার সেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে বাঙ্কারের ভেতর ঢুকে দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসে থেকে এক সময় ওই প্রচন্ড গোলাগুলির শব্দেও ঘুমিয়ে পড়লাম।

ভোর না সকাল বুঝতে পারছি না, তখনো অন্ধকার। একসাথে অনেক মানুষের চিৎকারে ঘুম ভেঙ্গে গেল। এদের মধ্যে বাবাও আছেন। চোখ ডলতে ডলতে উঠে বাঙ্কারের মুখের কাছে আলো দেখে বাইরে চলে এলাম। বেরোনোর সময় বাবার ধমক কানে এলো। বাবা জানতেন আমি বাড়ি ফিরে গেছি, কিন্তু আমাকে বাঙ্কারে দেখে তিনি বকতে লাগলেন। আমি সোজা বেরিয়ে এলাম। তখনো সূর্য ওঠেনি, কেবল পুব আকাশ লাল হয়ে উঠেছে। আমি এদিক ওদিক দেখছি। এখন আর কোন গুলির শব্দ নেই। ভীষণ শান্ত চারদিক। হঠাৎ চোখ গেল বাঙ্কারের ঢালে! ছয় সাত জন মানুষ শুয়ে আছে! না! তারা মরে পড়ে আছে। সেই লাশগুলোর পাশে কয়েকজন বসে আছে। একজন আপন মনে বিড়ি টানছে। তাকে আমি চিনি। তার পাশে গিয়ে বসলাম। কিছুই বললেন না। আমাকে দেখে আবার বিড়ি টানতে লাগলেন। সেই ছয় সাত জনের সাথে একজন একটু নড়ে উঠল। আমি তাড়াতাড়ি সেই চেনা লোকটিকে বললাম-‘কাকা উনি তো বেঁচে আছেন’! তিনি ঠান্ডা গলায় বললেন-‘জানি’। আহত লোকটির পেটের কাছে গামছা দিয়ে পেচিয়ে বাঁধা। লাল গামছা রক্তে ভরে গেছে। খুব আস্তে আস্তে লোকটি বলল-‘একটু পানি’….. আমি দৌড়ে বাঙ্কারের দিকে যেতে চাইলে তিনি হাত তুলে থামালেন। ‘পানি দেওয়া যাবে না’। অনেকক্ষণ এক ভাবে বসে আছি আমরা। কেউ কিছু করছে না। শুধু বাঙ্কারের ভেতর থেকে কথা ভেসে আসছে। আরো কিছুক্ষণ পর বাবা এসে বললেন-‘চলো, আমরা ক্যাম্পে ফিরছি’। এই টিমে এখনও প্রায় আঠারো উনিশ জন আছে,অন্য টিম অন্য দিক দিয়ে ফিরবে। তারা কয়েকজনে সেই লাশ আর আহত মুক্তিযোদ্ধাকে কাঁধে তুলে নিল। আমরা হাঁটতে থাকলাম। আমার ঘাড়ে এখন মোট চারটে এসএলআর। ভারে হাঁটতে পারছিলাম না, তবুও পা টেনে টেনে হেঁটে চলেছি। ক্যাম্পে ফেরার পর বাবা আমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। বাড়ি ফিরতেই মা একসাথে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে চলেছেন…..আমি মা’র কাছে মিথ্যে বললাম- ‘ক্যাম্পে ছিলাম’। আমি টের পেলাম না, কিন্তু মা ঠিকই সোয়েটারে কাদা দেখে বুঝে নিলেন। মায়েরও প্রায় অভ্যেস হয়ে গেছিল। মা জানতেন বাবার কিছু হলে আমি বাড়ি ফিরেই মা’কে বলব। কিছু বললাম না দেখে মা’ বুঝে নিলেন বাবা ঠিক আছেন। মা চুলো ধরিয়ে রুটি বানাতে বানাতে জিজ্ঞেস করলেন-‘কেউ মারা গেছে’? আমি উত্তর না দেওয়ায় মা আবার জিজ্ঞেস করলেন। ‘ছয় জন’ শুনে মা খানিকক্ষণ চুপ করে থাকলেন। তারপর আবার রুটি বেলা শুরু করলেন। একেবারে ছোট বোনটি ঘুম থেকে উঠে আমার পাশে এসে বসে থাকল।

বিকেলে সেই আহত মুক্তিযোদ্ধাও মারা গেলেন। মোট সাতটা কবর খোঁড়া হলো পাটক্ষেতের পাশে। ক্যাজ্যুয়াল্টি! সব কবরের মাথার কাছে একটা বাঁশের চটা গেঁড়ে দেওয়া হলো। এদিনের পর আর ভলিবল খেলা হলো না। আগে ক্যাম্পে যেমন সবাই বেশ আমোদ-ফূর্তিতে কাটাতো, এদিনের পর আর তেমন কিছুই নেই। সবাই কেমন যেন গুম ধরে থাকল। যথারীতি রোজকার নিয়মে পেট্রোল টিম চলে যায়। রাতে প্রায় সবাই ফ্রন্টে চলে যায়। দুপুরে খাওয়ার জায়গাটায় আগের মত খাওয়া নিয়ে কোন হাসি ঠাট্টা হয়না। সকালে-দুপুরে কোন ট্রেনিং নেই। এবং এর পর টানা কয়েকদিন কোন গোলাগুলির শব্দও শোনা যায় না।

নভেম্বরের শেষ দিকে ভারতীয় আর্মির ক্যাম্পে আরো নতুন নতুন সৈন্য আসল। বড় বড় ট্রাক বোঝাই করে অস্ত্র আসল। ট্রাকের উপর বসানো অনেকগুলো মোটা লম্বা নলের কিছু কামান এলো যা আমি আগে দেখিনি। ওই কামান থেকে নাকি অটোমেটিক গোলা বের হয়। সেরকম তিনটে ট্রাক আসল। ওদের সেই কামান, রকেট লান্সার, মর্টার, মেশিনগান সব সাজাতে সাজাতে একেবারে আমাদের কাম্প পর্যন্ত এসে গেল। এখান থেকে দুই-তিন মাইল দূরে আমাদের যে টিমগুলো পেট্রোলে যেত তারাও ক্যাম্পে জড়ো হতে থাকল। আগে যারা গেছে তারা বাদে নতুন কোন গেরিলা টিম আর ভেতরে ঢুকল না। সারা ক্যাম্প জুড়ে কানাঘুসা, সামনে বড় ধরণের এ্যাটাক হতে যাচ্ছে। একদিন দুপুরে বাবার কাছে শুনলাম- আমরা এবার মরণকামড় দেব! যুদ্ধটা আমার কাছে এখন কেমন যেন ভয় ভয় মনে হচ্ছে। আগে যেটা অনেকটা রুটিনের মত ছিল এখন তা মনে হচ্ছে ভয়ংকর কিছু।আমার পাড়ার বা গ্রামের যে ছোট ছোট ঘটনা তা এখন প্রায় বন্ধ। মাছ মেরে আনা, পাখি মারতে যাওয়া, ধনে পাতা তুলে আনা, সেগুলো পাটায় বেটে চাটনি বানানো, অচেনা পাখি মেরে রান্না করে খাওয়া, খালের ধারে বসে পুটি মাছ মারা, গাছে উঠে পুরোনো ডালপালা ভেঙ্গে রান্নার কাঠ যোগাড় করা আর পাড়ায় এবাড়ি ওবাড়িতে মাঝে মাঝে যে ঘোরাঘুরি ছিল তা সব বন্ধ হয়ে গেল। ক্যাম্পের সবার মত আমারও মনে হচ্ছিল এবার বড় ধরণের কিছু একটা ঘটবে। কি সেই ‘বড় ধরণের ঘটনা’ সেটা বুঝতে পারতাম না বলে ভেতরে ভেতরে ভয় লাগত। এই সময় মনে হতো, আমি বা বাবা যদি মরে যাই! যদি আমাদের লাশ ওভাবে ঘাড়ে করে এনে মাটি দিয়ে একটা বাঁশের চটা পুঁতে দেয়!

এই সময় আমি দেখলাম ক্যাম্পে আমার কোন কাজ নেই! কেউ আমাকে কোন কাজে বলছে না। সব কিছুর মধ্যেই একটা সিরিয়াস ব্যাপার এসে গেছে যেন। রাতারাতি সেই আনন্দ যেন উঠে গেছে। ক্যাম্পের এই গুমোট ভাব আমার ভাল লাগছিল না। আমি ইয়াসিন কাকার মেডিকেল তাবুতে কিছু সময় কাটিয়ে আবার বাড়ি চলে আসছিলাম। অনেক দিন পর সাইকেল নিয়ে বেতাই বাজারে গিয়ে সেই নিরঞ্জন কাকার দোকানে বসে থাকলাম। দোকানের একটু সামনে একটা জটলার মাঝখানে একজন খোমক বাজিয়ে গান গাইছে-‘গোলেমালে গোলেমালে পিরিত কৈরো না’। তারও এক পায়ে মোটা একটা মল বাঁধা, সেই বৈরাগী মেয়েটির মত। বগোলে খোমক চেপে ধরে ঘুম ঘুম করে বাজাচ্ছে আর নেঁচে নেঁচে গান গাচ্ছে। একটু পরই টাকা ওঠাবে। আরো একটু দূরে কলের গানে বাজছে –‘আমার তিন তিনটি শালী, মুখে দিলো চুনকালি, রোজই ওদের নামে নালিশ আসে…..’। এই গানটা এবং এরকম আরো কিছু গান প্রায় বাজারে আসলে শুনতাম। নিরঞ্জন কাকু মিষ্টির দোকান থেকে জিলাপী এনে দিলেন। দোকানের এক কর্মচারী জয় বাংলার, মানে আমাদের দেশের। সে আমাদের মত কাগজে পেচিয়ে মালামাল বাঁধত, অনেকটা পুরিয়ার মত করে। তাকে নিরঞ্জন কাকু আর পুরোনো এক কর্মচারী ওদের মত বাঁধা শেখাচ্ছে। ওরা কেমন একটা চার কোণা কাগজে কিছু জিনিসপত্তর রেখে অদ্ভুত ভাবে গোল করে ঠোঙার মত করে বাঁধে। বাব্বা! ঠোঙা বাঁধায়ও দুই রকম! আমার কিছু কেনাকাটা ছিল সেগুলো নিয়ে নিলাম। কাপড় কাঁচা সোডা, মুগের ডাল, ম্যাচ, মোমবাতি এইসব। নিয়ে আবার সাইকেলে উঠব এমন সময় একটা ছেলে দৌড়ে পাকা রাস্তার মাঝখানে এসে এক গাদা লিফলেট ছুঁড়ে দিয়ে আবার দৌড়ে পালিয়ে গেল। ভয়ে সবাই হুড়মুড় করে কুড়োয় না। আমিও ভয়ে ভয়ে একটা লিফলেট তুলে পকেটে রেখে বাড়ি ফিরলাম। এই রকম অনেক লিফলেট জমে গেছিল আমার। লিফলেট ভরা একই মাপের অনেক লেখা সব পড়ি না। শুধু মোটা করে যেগুলো লেখা থাকত সেগুলো আগে পড়তাম। এটায় লেখা ছিল-‘তেলেঙ্গানার বীরদের কাছে শিক্ষা নিন, মুক্তাঞ্চল গড়ে তুলুন’। একেবারে নীচে মোটা করে লেখা ছিল-‘কেননা জেলখানাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়’, আর ‘দিকে দিকে গণযুদ্ধ ছড়িয়ে দিন’। এই সময় প্রায় প্রায়ই জগন্নাথকে বাড়ি পেতাম না। কোথায় যেন চলে যেত। মাসীমা বলতে পারত না। আবার কয়েক দিন পরে ফিরত। একদিন আমাকে ডেকে বলল-‘যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে, এটা তোমাদের মত যুদ্ধ নয়’আবার আমার মাথাটা গুলিয়ে ওঠে! তাহলে কোন যুদ্ধ? যুদ্ধ কত রকম?

ডিসেম্বর মাস শুরু হয়ে গেছে। শীত আরো বেড়েছে। আমাদের বাড়িতে একটাই কম্বল। তাতে শীত মানাচ্ছিল না। আমি বলে কয়ে ক্যাম্প থেকে আর একটা কম্বল ম্যানেজ করলাম। কম্বলটা দেওয়ার সময় সেকেন্দার কাকা বলেছিল তুই চাইছস, তরে না দিয়া কি করি! না দিলে তুই তো এ্যামনেই লইয়া যাইবি! এরই মধ্যে একদিন সকালে মা পাটায় ভেজা চাল বেটে চিতোই পিঠা বানালেন। দেশে থাকার সময় এই চিতোই পিঠা নারকেল আর দুধ দিয়ে খেজুর রসে ভেজানো হতো। রাতভর রসে ভিজে পিঠেগুলো ফুলে মোটা হয়ে উঠত। খুব সকালে সেই পিঠে খেতে গেলেই দাঁতে দাঁত বাড়ি খেত। ঠক ঠক করে কাঁপতে কাঁপতে পিঠে খেতাম। এখানে রস নেই। থাকলেও মনে হয় কেনার মত পয়সা হতো না। তাই শুধু শুধুই পিঠা খাওয়া। মা ফেরিওয়ালার কাছ থেকে ঝোলাগুড় রেখেছিলেন। সেই ঝোলাগুড় দিয়ে পিঠে খেলাম। এই রকম সময় এলেই মা মন খারাপ করে নিঃশ্বাস ফেলতেন।

কেন যেন ডিসেম্বর মাস শুরু হতেই রোজ রাতে নিয়ম করে ভারতীয় আর্মি কামানের গোলা ছুঁড়ত। প্রায় এক-দুই ঘন্টা ধরে একটার পর একটা গোলা ছুঁড়ত। ঠিক রাত এগারটা-বারটার দিকে শুরু হতো গোলা ছোঁড়া। রোজ। এই গোলায় ওপারে মেহেরপুরে কি কি ক্ষয়ক্ষতি হতো তা আমরা জানতে পারতাম না। তবে গোলা ছোঁড়া শুরু হলেই মনে হতো আমরা জিতে যাচ্ছি……ডিসেম্বরের তিন বা চার, নাকি পাঁচ তারিখ ঠিক মনে পড়ে না, সারা দিন ধরে ক্যাম্পে সাজ সাজ রব রব। সবাই নিজ নিজ হাতিয়ার রেডি করছে। পিঠে ব্যাগ বেঁধে ইপিআররা তৈরি হচ্ছে। যারা পাবলিক মুক্তিযোদ্ধা তারা কেউ কেউ খাকি কাপড়ের ব্যাগে গ্রেনেড, গুলি নিচ্ছে, আবার কেউ কেউ ইপিআরদের মত শক্ত ক্যানভাসের ব্যাগও নিচ্ছে। বিকেলের দিকে শুনলাম কয়েকজন বাবুর্চি ছাড়া আর কেউ থাকবে না। সবাই চলে যাবে। এমন কি ইয়াসিন কাকাও তার জিনিসপত্তর নিয়ে তৈরি হচ্ছে। বাবা আমাকে কাছে ডেকে বার বার বুঝিয়ে বলে দিলেন, কোন ভাবেই আমি যেন না যাই। অলআউট এ্যাটাক হবে। আমি বা আমার চেয়ে আর একটু বড় যারা তাদের ফ্রন্টে নেওয়া হবেনা। আমার চেয়ে বড় ছিল মাত্র দুই জন। তাদের বয়স আঠারো থেকে উনিশ-কুড়ি হবে।, কিন্তু এক সময় দেখলাম তারাও তৈরি হয়ে নিল। সন্ধ্যা লাগার সাথে সাথে এক বিরাট বাহিনী যাত্রা করল।

আগে এত লোক দেখিনি আমি। অনেকগুলো তাবুও খুলে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটা শুধু টাঙ্গানো থাকল। আজ আর রাত নয়, সন্ধ্যায়ই ভারতীয় আর্মিরা তাদের গাড়ি কামানের উপর উঠে গেল। মর্টারের পাশে চার-পাঁচ জন করে দাঁড়িয়ে গেল। আমি বাড়ি গিয়ে মা’কে বলে এলাম যে আমাকে বাবা যেতে দেননি, আমি যাচ্ছি না। একে একে সব দল ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেল। ক্যাম্পে থেকে গেলাম আমি আর দুই তিন জন বাবুর্চি। বাবুর্চিদের পাশে বসে ওদের গল্প শুনছি, কে কি ভাবে চাকরিতে এসেছে সেই গল্প। সবাই রাতের খাবার খেয়েই গেছে। তার পরও অনেক খাবার পড়ে আছে। আজ হিসাব করে অনেক বেশী রান্না হয়েছিল। একজন বাবুর্চি বলল-ভাতিজা বাড়িতে ভাত লইয়া যাইও, ম্যালা বাইচা রইছে। আমি ভাত না নিয়ে একটা হাড়ি ভর্তি করে তরকারী নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য উঠেছি, এমন সময় আমাদের জিপটা হর্ণ মারতে মারতে ফিরে এলো। এসেই তাড়াহুড়ো করে কয়েক সসপ্যান খাবার তুলে নিল জিপে। আর্মার তাবুতে কয়েক বাক্সো ভর্তি গুলি ছিল, কুড়িয়ে কাড়িয়ে তাও নিয়ে আবার চলে যাবে……আমি জিপের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। জিপে ড্রাইভারের পাশে বসা লোকটা আমাকে দেখছে…..হঠাৎ তাকে চিনতে পারলাম! এই লোকটিই আমাকে সেদিন বাঙ্কারের মধ্যে ঠেলে ফেলে দিয়েছিল। তিনি খুদাহাফেজ বলেই হেসে ফেললেন। তারপর আবার আমার দিকে তাকিয়ে বললেন-‘কি, যাবা’? বাবা যে সাবধান করে গেছেন সেটা মনে পড়ল একমুহূর্ত, তারপর আর ভাবাভাবি নেই লাফ দিয়ে উঠে গেলাম হুড খোলা জিপের পেছনে। প্রচন্ড শব্দ করে জিপটা ছেড়ে দিল। বিএসএফ ক্যাম্প পার হয়ে মাইল খানেক যেতে না যেতেই শুরু হয়ে গেল পেছন থেকে ভারতীয় আর্মির সেই গাড়িকামানের গোলা বর্ষণ…..মনে হলো আমাদের জিপের ঠিক উপর দিয়ে সাঁই সাঁই করে গোলা উড়ে যাচ্ছে….অন্য দিনের সেই উত্তেজনা নেই, কি এক অজানা আশঙ্কায় জিপের পেছনে বসে ছুঁটে চলেছি…..কি হবে আজ? আজ কি ভয়ংকর কিছু ঘটবে………… 

চলবে……..

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতিকিশোর মুক্তিযোদ্ধামুক্তিযুদ্ধবাঙ্গালীবাংলাদেশীবাংলাদেশ১৯৭১৭১৭১মনজুরুল হকস্মৃতিকথাগেরিলাপাকিস্তানপূর্ব বাংলাবিহারী197171’71bangladeshfreedom fighterliberation warbangladeshibanglaeast pakistanwest pakistan…. ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধস্মৃতিকথা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:১৯ |বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

৩৩৪ বার পঠিত৩৪৪১৪

 

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

 

৪৪টি মন্তব্য

১-২১

১. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৬০

খারেজি বলেছেন: আর একটা অসাধারণ পর্ব।

বই মেলায় পাচ্ছি তাহলে মনজু ভাই!

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৮০

লেখক বলেছেন:

হ্যাঁ পাচ্ছেন, যদি কোন প্রকাশক এগিয়ে আসেন,

অথবা বন্ধুবর পি.মুন্সী ব্যবস্থা নিলে। তিনি কথা দিয়েছেন।

ভেবেছিলাম ডিসেম্বরেই শেষ করব, হলো না। একটা মৃত্যু পিছিয়ে দিল।

২. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৭০

দ্রোহি বলেছেন:

আপনার লেখায় নতুন করে বলার কিছু নেই।

আগের পর্বগুলি পড়া হয়নি। সবগুলো’র সংকলন কি বের হচ্ছে? অথবা একটা পিডিএফ ভার্সন??

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৬০

লেখক বলেছেন:

বই বের করার ইচ্ছা এবং চেষ্টা আছে,

তাই পিডিএফ ফর্মেটে যাচ্ছিনা আপাতত।

ধন্যবাদ দ্রোহি।

৩. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১২০

আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

পি মুন্সি সাহেব কথা দিয়েছেন , কাজ কি আগাচ্ছে না এখনও ?

সময়তো খুব বেশী নেই আর ।

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪১০

লেখক বলেছেন:

কাল পরশুই মুন্সীর সাথে যোগাযোগ করব। আসলে বই ছাপানোর ব্যাপারে আমি বরাবরই অমনোযোগী। দেখি কি হয়….

সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে….

৪. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০৯০

রাজর্ষী বলেছেন: মনে হচ্ছে মুভির শেষ দৃশ্যে চলে এসেছি।

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪৩০

লেখক বলেছেন:

হ্যাঁ রাজর্ষী, প্রায় শেষ প্রান্তে এসে গেছি…..

৫. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩৭০

ত্রেয়া বলেছেন: এই পর্বটাও খুব ভালো লাগলো।

আপনার লেখনী আসলেই খুব ভালো।

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪৬০

লেখক বলেছেন:

ব্যক্তি আমি এখানে একেবারেই গৌণ…..

৬. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:২৫০

ফিরোজ-২ বলেছেন: আর একটা অসাধারণ পর্ব

খুব ভালো লাগলো।+++++++++

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪৭০

লেখক বলেছেন:

আবারো আপনাকে ধন্যবাদ ফিরোজ-২।

৭. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৪৪০

শ* বলেছেন: খুব তারাহুরা করে এই পর্বটা আগালো

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০২০

লেখক বলেছেন:

তাড়াহুড়া? কি জানি, হবে হয়ত…..

৮. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:২৯০

বৃ* বলেছেন: মনজু ভাই এমন জায়গায় বিরতি টানলেন… দম বন্ধ করে অপেক্ষায় আছি…

মহা অফঃ- এইটা আমার ৫০০০তম কমেন্ট…

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৬০

লেখক বলেছেন:

এমনিতেই এই পর্বটা বেশ লম্বা হয়ে গেল।

তাই বিরতি টানলাম ওখানেই।

আজ আরো পরে পোস্ট করব। হয়ত ভোর হয়ে যাবে।

আর এটা হবে শেষের আগেরটা।

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৭০

লেখক বলেছেন:

পঞ্চাশ’শ কমেন্টের ঝাজাবাদ বৃত্ত।

৯. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪০০

ত্রিশোনকু বলেছেন: টানটান উত্তজনার মধ্যে শেষ করলেন। অনেকদিন অপেক্ষায় ছিলাম।

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৮০

লেখক বলেছেন:

আপনি জানেন। আপনি খুব কাছে থেকে জানেন, কত কষ্ট করে এই পর্বটা লিখতে পেরেছি! আমার এই সিরিজে আপনার যে অকৃত্তিম ভালবাসা আর প্রেরণা যুগিয়ে গেছেন সেটা আমার তিলক হয়ে থাকবে।

নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

১০. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৮০

যীশূ বলেছেন: অস্থির অপেক্ষায় রাখলেন…..।

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪৬০

লেখক বলেছেন:

আর মাত্র দুটি পর্ব যীশূ!

অপেক্ষার পালা শেষ।

১১. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২৪০

নির্ঝরিনী বলেছেন: এই পর্বটা পড়ে নিঃশ্বাস আটকে পরের পর্বের অপেক্ষা করছি….

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৯০

লেখক বলেছেন:

আমারো নিঃশ্বাস আটকে আসে

আমিও দম বন্ধ করে মাথা গুঁজে লিখে যাই….

এইতো, শেষ প্রায়।

১২. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২০০

নাজমুল আহমেদ বলেছেন: অপেক্ষায় থাকাটা উসুল হল..

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৫৭০

লেখক বলেছেন:

ওই দুর্ঘটনাটা না ঘটলে ডিসেম্বর শেষ হওয়ার আগেই সিরিজটা শেষ হয়ে যেত। একটু পিছিয়ে পড়লাম।

নববর্ষের শুভেচ্ছা।

১৩. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৫০

নাজমুল আহমেদ বলেছেন: হেপ্পি নিউ ইয়ার

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৫৮০

লেখক বলেছেন:

আমাদের সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনুক….

১৪. ০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৬০

দীপান্বিতা বলেছেন: আমারো আপনার সাথে যুদ্ধে যেতে ইচ্ছে করছে…

নতুন বছরের শুভেচ্ছা

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০১০

লেখক বলেছেন:

আমার ছোট বোনটিও এমনি করে বলত……

আপনাকেও নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

অন্তহীন ভাললাগায় কেটে যাক সারাটা বছর……

১৫. ০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৪৭০

আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

ইস ! ডিসেম্বরের ছয় তারিখে এসে গেছেন ।

আর মাত্র ১০দিন পরই বিজয় । পড়তেই উত্তেজিত বোধ করছি ।

এই বইটা বের করবার প্রতি উদাসীন হলে চলবে না মনজু ভাই ।

০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২০০

লেখক বলেছেন:

বইটার ব্যাপারে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি, দেখি কি হয়।

যিনি কথা দিয়েছেন আপাতত তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষাতেই বসে আছি।

১৬. ০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫৬০

ত্রিশোনকু বলেছেন: কমপিউটার খুলেই আপনার ব্লগে ঘুরে গেলাম।

০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৪৮০

লেখক বলেছেন:

আপনার এই অকৃত্তিমতা চিরদিন স্মরণে থাকবে দাদা।

পরের পর্ব পোস্ট হয়ে গেছে।

এটাই শেষের আগের শেষটা।

১৭. ০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৫৪০

ফারহান দাউদ বলেছেন: অনেকে একসাথে যায়, কেউ ফিরে আসে, কেউ ফিরে আসে না, যারা যায় তারাও জানে না ফিরে আসার দলে তারাও থাকতে পারে, সেটাই সত্য। কি ভাবতো সেই মানুষগুলো? আর কেনই বা যেত?

০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:০৩০

লেখক বলেছেন:

অনেক চিন্তাভাবনা করে দেখেছি, পরিপুরক কোন উত্তর খুঁজে পাইনি। শেষে আমার মনে হয়েছে যুদ্ধ এক ভয়ংকর নেশা!!

১৮. ০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:২২০

রোবোট বলেছেন: যাই হোক, বই বের করেন। নো ধানাই পানাই। 

অস্বীকার করবো না, বেশীরভাগ পর্বই পড়া হয়নি। হয়ত হবেও না। কিন্তু বই বের করলে কিনে পড়বো।

৭১ নিয়ে বেশীর ভাগ লেখায় ডিটেইলিংএর অভাব আছে। ব্লগে হয়ত ডিটেইলিং পড়া হয়ে উঠে না। কিন্তু বইতে ডিটেইলিং ভালো লাগে। এজন্য যতবার পড়ি জাহানারা ইমামের “একাত্তরের দিনগুলি” কখনো পুরোনো হয় না।

০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:০৭০

লেখক বলেছেন:

বইয়ের ব্যাপাটা এই ব্লগেরই এক বন্ধুর প্রতিশ্রুতিমতে ধারণ করে আছি। আশা করছি হয়ত বই বের হবে।

ধরে নিন যে কোন মূল্যে বই হচ্ছে……

ধন্যবাদ রোবোট।

১৯. ০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:০৯০

মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: দারুণ সংবাদ…আপনার স্মৃতিকথার বই বেরুচ্ছে। আজকের দিনের সবচে’ ভাল খবর।

মনজুর ভাই, দয়া করে আপনার ই-মেইল আই.ডি জানাবেন? আমারটাmostafizripon@gmail.com

শুভাশিষ রইল।

০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫০০

লেখক বলেছেন:

বই আকারে না বেরুনো পর্যন্ত আমি নিশ্চিত বলতে পারছিনা। তবে আশাবাদী আমি।

মেইল আইডিঃ monjuraul@gmail.com

ধন্যবাদ রিপন।

২০. ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:২৩০

সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:

“যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে, এটা তোমাদের মত যুদ্ধ নয়’। আবার আমার মাথাটা গুলিয়ে ওঠে! তাহলে কোন যুদ্ধ? যুদ্ধ কত রকম?”

মাথা গুলাবারই কথা মাসিমার এমন কথায়!

ভালো থাকবেন ………

অনেক শুভকামনা…..

সাথে আছি মনজুরুল ভাই।

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৩০

লেখক বলেছেন:

অনেক পরে অনেক বেশী মূল্য দিয়ে বুঝতে হয়েছে, যুদ্ধ আসলে অনিবার্য, যুদ্ধ লাগাতার, যুদ্ধ টিকে থাকার শর্ত।

অনেক ধন্যবাদ সাজি।

২১. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:১৪০

সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: উৎকন্ঠা উদ্বেগ ও উত্তেজনা নিয়ে পরের পর্বে যাচ্ছি।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৩০

লেখক বলেছেন:

আগামী পর্বটায় জমজমাট লড়াই………

 

Top of Form

আপনার মন্তব্য লিখুন

কীবোর্ডঃ  বাংলা                                    ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয় ভার্চুয়াল   english

নাম

       

Bottom of Form

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s