সারা বিশ্বের কত কি বদলে গেল! বদলালো না শ্রমিকের হাতের সেই সনাতনী কাস্তে-হাতুড়ি আর জন্ম জন্মান্তরের শ্রম শোষণ!

may-labour-day 524034_10150908100011451_174389400_n 548766_307021309408448_1141527552_n 11010572_772404929504291_737564842233821271_n 59015_1492231838178_1605504024_31157054_4132529_n

৩০ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:১১ |

বছর ঘুরে আবারো খেটে খাওয়া মানুষের স্বপ্ন সার্থকতার দিন মহান মে দিবস এসেছে। তবে আর দশ-পাঁচটা দিবসের মত আপামর বাঙালির জীবনে এ নিয়ে তেমন কোনো উচ্ছ্বাস নেই। থাকার কথাও নয়। এখানে মে দিবস আসে নেহায়েত ৩০ এপ্রিলের পরের দিন ১লা মে, সেই হিসেবে। ওই দিন সরকারি ছুটি থাকে বলে মধ্যবিত্ত বাঙালিরা বউ বাচ্চা নিয়ে একটু ঘুরতে টুরতে বেরোয়। পয়লা বৈশাখের মত পান্তা ইলিশের জবজবানি নেই। ভ্যালেন্টাইন দিবসের মত রংচঙা কাপড় চোপড় পরে একে অপরকে খামোখা ভালোবাসার ছেনালি দেখাবার সুযোগও নেই।

আর বছরের মত এবারও এই দিনটিতে সরকার প্রধান, মন্ত্রীবর্গ, রাষ্ট্র প্রধান, প্রধান বিরোধী দল, ছাও পোনা বিরোধী বা সহমতের দলগুলো বাণী দেবে। খুব সকালে পরিবহন শ্রমিকরা মাথায় লাল পট্টি বেঁধে বিনা ভাড়ার বাসে-ট্রাকে মিছিল করে হৈহুল্লোড় করবে। নেতা-নেত্রীরা এখানে ওখানে ভাষন টাষন দেবেন। মিডিয়ায় দিন ভর আরোপিত শ্রমিক দরদি কাসুন্দি বেটে দর্শককে খাওয়ানো হবে। রাতে তাবড় তাবড় সব বিদ্ব্যৎজনেরা স্টুপিড বাক্সো গরম করে ফেলবেন। বেসুরো হেঁড়ে গলায় এক স্বখ্যাত বিপ্লবী ‘জন হেনরী’ গান গেয়ে বাবরি চুল ঝাঁকিয়ে মাতম করবেন। পত্রিকাঅলারা প্রথম পাতার কোণায় এক ইট ভাঙ্গা শ্রমিকের বা নারী শ্রমিকের ছবি ছেপে ক্যাপশন লিখবে…..‘আজ ঐতিহাসিক মে দিবস’! ‘আজও কি শ্রমিকের মুক্তি এসেছে?’ এবং রাত ফুরোলেই ওই মহান মে দিবসের যবনিকা টেনে দেয়া হবে।

কিন্তু, যে শিশু শ্রমিকটি বাসা বাড়িতে অগুনতি ঘণ্টা ধরে গাধার খাটনি খেটে চলেছে, খুব ভোরে উঠে যার দিন শুরু, আবার রাতে সবার খাওয়া দাওয়া শেষ হলে যার ঘুমোনোর সময়, তার জন্য কোন আট ঘণ্টার মহান মে দিবস নেই। সে জানেও না আট ঘণ্টা মানে কত ঘণ্টা? ট্যানারির নাড়িভুড়ি বেরিয়ে যাওয়া গন্ধময় পরিবেশে যে শ্রমিকরা কাজ করছে, তাদের সাথে যে শিশু শ্রমিকরা নোংরা ময়লা ঘেটে জীবনের সুকুমার শৈশবকে মাটি চাপা দিচ্ছে, বয়লারের পাশে গনগনে আগুনের পাশে দাঁড়ানো যে শ্রমিকটির মুখ সারাক্ষণই লাল হয়ে জ্বলছে, শহরের বাইরে মায়ের সাথে ইট ভাঙ্গছে যে কচি শিশুটি তার কাছেও মে দিবস কোন গুরুত্ব বহন করে না। সে জানে তার হাতে ধরা হাতুড়ি একটু বেসামাল হলেই আর এক হাতে পড়বে! চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাবে। 
সায়েবদের বাজার বয়ে বয়ে বাড়ি পৌছে দেয়া শত শত কচি ছেলে মেয়েগুলো সেই কাক ডাকা ভোরে উঠে বাজারে আসে। ওখানেই খায়, ওখানেই ঘুমায়। ডাইং ফ্যাক্টরিতে যারা কাজ করে তাদের কারো হাতে গ্লাভস নেই। কস্টিক সোডা, ব্লঙ্কা ফল, এসিটিক এসিড, রেজিন, ব্লিচিং পাউডার আর এমন হরেক রকম জটিল রাসায়নিকে ভিজে তাদের হাতগুলো থ্যাকথেকে সাদা সাদা হয়ে আছে। সেই দগদগে ঘা কখনোই শুকোয় না। ঝাল মরিচে রান্না তরকারি দিয়ে ভাত খেতে গেলই অন্তরাত্মা পর্যন্ত জ্বলে উঠে। চোখের পানি গাল বেয়ে ঠোঁটের কোণা দিয়ে মুখে চলে যায়। ওভাবেই দিন শুরু আর দিন শেষ! দয়াগঞ্জ ব্রিজের দুপাশে দাঁড়ানো যে শিশুরা তাদেরও জীবন শুরু হয় খুব ভোরে। বোঝাই রিকসা ঠেলে ঠেলে ব্রিজ পার করা তাদের কাজ। এখানে আট ঘণ্টা নামক কোনো ব্যাপার নেই। সারা ঢাকা শহরে শকুনের মত শ্যেন দৃষ্টি মেলে আরো হাজার হাজার শিশুর দিন শুরু হয়। তারা কাগজ কুড়োয়। এক হাতে পলিথিনের বস্তা আর এক হাতে ক্রমাগত কাগজ কুড়িয়ে চলে। ওদেরও শ্রম দিবস মানে বার থেকে ষোল ঘণ্টা।
এই মহানগরীতে ঠিক কত লাখ শ্রমিক এবং সেই সব শ্রমিকের কত লাখ অপ্রাপ্ত বয়সের শিশু শ্রমিক তার কোন খতিয়ান মহান রাষ্ট্রের কোন দপ্তরে নেই। ঠিক কত লাখ ‘কাজের মেয়ে’ এই মহানগরীতে শ্রম শোষণের শিকার, কত লাখ নারী-পুরুষ বাসা বাড়িতে যৌন হয়রানির শিকার, কত লাখ অপরিণত বয়সী মেয়ে বাড়ির কর্তা, দারোয়ান, গ্রামের আত্মিয়, ড্রাইভার আর এই টাইপ অফিসিয়াল ধর্ষকের দ্বারা ধর্ষিত তারও কোন অথেনটিক স্ট্যাটাস সরকারের হাতে বা তথাকথিত মানবাধীকার সংগঠনগুলোর কাছে নেই। এদের কেউ তার কর্ম জীবনে আট ঘণ্টা বলে যে একটা শব্দ আছে সেটাই জানেনি। বোঝেনি। তাদের জানতে বা বুঝতে দেয়া হয়নি।

শ্রম শোষণ বা শ্রম চুরির মত একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয় নিয়ে এই রাষ্ট্র, সরকার, বিরোধী দল, ছোট বড় হেন-ত্যান দল এবং বুদ্ধিব্যাপারিদের কোন চিন্তা নেই। এ নিয়ে সংবিধান সংশোধনও হবে না, সংসদে কোনো বিলও পাশ হবে না। অথচ সারা দেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি গতরখাটা শ্রমিকের সিংহভাগই শ্রম শোষণের শিকার। সেই অজ পাড়াগাঁ থেকে শুরু করে এই তিলোত্তমা মহানগরীতে বেশুমার সেই শ্রম শোষণ আর শ্রমচুরি চলছে। এদেশে যে কোটি কোটি ক্ষেতমজুর সারা দিনমান শ্রম দিয়ে চলে তারা অফিসিয়ালি শ্রমিক নয়! সরাসরি এই চুরির সাথে জড়িত এ দেশের প্রায় সকল বিত্তবান, মধ্যবিত্ত এবং ক্ষুদে বিত্তের মালিকগণ। 
‘এই দেশে গার্মেন্ট এসে কাজের বুয়া পাওয়া যায় না, তাদের এখন বেজায় দেমাগ, বাসায় কাজের চেয়ে তারা গার্মেন্টে কাজ করে যুৎ পায়’, এই টাইপ ‘হতচ্ছাড়াদের’ কারণে এই মহানগরীর তামাম গৃহবধূ বিরক্ত, রুষ্ঠ! যে মেয়েটি বাসায় কাজ করার বদলে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে কাজ করে সে মনে করে এখানে বার ঘণ্টা কাজ করলেও সকাল-বিকাল মালকিনের লাথি গুতো নেই। কিন্তু লাথি গুতো যাদের নিত্যসঙ্গি তারা পার পাবে কি করে? গার্মেন্টেও ওদের ছোট ছোট শরীরের ওপর বড় বড় শরীর রাত বিরেতে উঠে পড়ে। ‘না’ করতে পারে না। ‘না’ বললে চাকরি থাকবে না। ওই অপারেটারদের ভেতর থেকেই কোনো কোনো মেয়েকে যারা দেখতে একটু ভালো তাদের ডাক পড়ে মালিকের খাস চেম্বারে। ওই সব মালিকরা বেশ তৃপ্তি সহকারেই বলেন- ‘বাজারের অসুখ বিসুখঅলাদের চেয়ে এরাই ভালো!’

ওই যে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি গতরখাটা শ্রমিকের প্রায় এক তৃতীয়াংশই শিশু শ্রমিক। বিশ্বের আর কোথাও বিভিন্ন বিপজ্জনক সেক্টরে এত শিশু শ্রমিককে দিয়ে কাজ করানো হয় না। এখানে হয়, কারণ এখানকার শিল্পপতি থেকে শুরু করে হালের মডার্ণ আইটি স্পেশালিস্ট, টেকনোলজিস্ট, সিভিল ব্যুরোক্র্যাট, মিলিটারি ব্যুরোক্র্যাট, বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত নিয়মর্ডানিস্ট, একেবারে হালের তরুণ প্রজন্ম সবাই সেই পিতৃপুরুষের এস্তেমালের সামন্তবাদে আক্রান্ত। ভীষণভাবে আক্রান্ত। সামন্ত প্রভুদের জুতো মোজা খুলে দেয়ার জন্য, অজুর পানি দেয়ার জন্য, মাথায় ছাতা ধরার জন্য, ভেতর বাড়ি থেকে পানটা সুপারীটা এনে দেয়ার জন্য একটা ‘পিচ্চির’ দরকার হয়। অথচ পুঁজিবাদে সক্ষম এবং স্কিল্ড শ্রমিক একটা এ্যাসেট। পুঁজিবাদ সেই এ্যাসেটকে বাঁচিয়ে রাখে, তাকে দিয়ে আগামী দিনেও যেন কারখানার চাকা চালু রাখা যায়। সে কারণে পুঁজিবাদের চরম উৎকর্ষেও স্কিল্ড শ্রমিকের চাহিদা ফুরোয় না।

কিন্তু সামন্তপ্রভুরা জানেন, ওদের না বাঁচলেও চলবে, কারণ কালই আবার ঝাঁকে ঝাঁকে পয়দা হতে থাকবে। সামন্তপ্রভুর কাছে শ্রমের বিনিময় মূল্য স্রেফ পেটেভাতে! পেট পুরে ভাত দেয়া হয়, এটাই সামন্তবাদের মহান বদান্যতা! আর বছর বছর জিডিপি নিয়ে রেমিট্যান্স নিয়ে ভেরেন্ডাভাজা আমলা-চামচাদের চিৎকার চেচামেচির পরও, লাখ লাখ শ্রমিক বিদেশে কাজ করে কড়কড়ে কারেন্সি নোট কামাই করে আনলেও, আইটি দিয়ে ডিজিটাল সিস্টেমে দেশ ভরিয়ে দেয়ার কেতাবি ঘোষণার পরও এদেশে যথাযথ পুঁজিবাদী সংস্কৃতি গড়ে উঠল না। অনুদান দেয়া আমেরিকা মাঝে মাঝে শিশু শ্রম নিয়ে, কল কারখানায় বিশেষ করে গার্মেন্ট কারখানায় শ্রমিকদের সিবিএ বা বার্গেনিং অথোরিটি করার হুমকি টুমকি দিলে এদেশী চামচারা এক গাল হেসে দিয়ে বলেন- ‘স্যার ও দেখতে ছোট, কিন্তু লইতে পারে’! সাদা সায়েবরা এই জঘণ্য কুৎসিত ইঙ্গিত বোঝেন না। তারা ভাবেন গ্রোথ কম! তারা টিক মার্ক দিয়ে দেন। শিশুরা শ্রমিক ‘শ্রম বঞ্চিত’ হয় না! অর্থাৎ শিশুদেরও কাজের সুযোগ দেয়া হলো! এই আধা সামন্তবাদী- আধা পুঁজিবাদী জগাখিঁচুড়ি পাশবিক বণিক সমাজে তাই মে দিবস এবং সেই সেই দিবসের প্রতিপাদ্য এটুকুই যে দিনটি শ্রমিকদের দিন!

ইতিহাসের মে দিবসঃ
অগাস্ট স্পীজসহ ১৮ জন শ্রমিকের আত্মাহূতির বিনিময়ে আট ঘণ্টা কাজের অধিকার পাওয়ার পর পেরিয়ে গেছে একশ পনের বছর। সেই ১৮৮৬ সালের পয়লা মে শিকাগোর হে মার্কেটের শ্রমিকদের জীবনের মূল্যে যে আট ঘণ্টা শ্রমের দাবি তা আজও বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বাস্তবায়ন হয়নি। এই একশ পনের বছর পৃথিবী তার কক্ষপথে নিয়ম করে ঘুরেছে। দেশে দেশে শ্রমিক শ্রেণীর সরকার কায়েম হয়ে আবার পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে রূপান্তর ঘটেছে। গোলার্ধের এমাথা থেকে ওমাথা পর্যন্ত এখনো ন্যুনতম শ্রমের মজুরির দাবি উপেক্ষিত। এখনো শ্রমিককে তার সেই আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন করতে হয়। এখনো শ্রমিককে আট ঘণ্টার বদলে দশ ঘণ্টা এমনকি বার ঘণ্টা কাজ করিয়ে সেই আট ঘণ্টার হিসেবেই মজুরি দেয়া হয়। এত কিছুর পরও বছরের এই একটি দিন, পহেলা মে, এই দিনটি যেন শ্রমিকদের বিজয়ের দিন! এই একটি দিনেই যেন সারা বিশ্বের শ্রমিক তার মুক্তির দিন মনে করে ক্ষণিকের উল্লাস করে। আসলেই কি শ্রমিকের মুক্তি ঘটেছে? শ্রমিক কি তার প্রাপ্য মজুরি পেয়েছে, বা পাচ্ছে? বিশ্বের অন্যান্য দেশের কথা নয়, এই বাংলাদেশে কি শ্রমিক আজও তার ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে? না। পাচ্ছে না। আজ থেকে একচল্লিশ বছর আগে এই দেশটি যখন পাকিস্তানের উপনিবেশ ছিল তখনও পায়নি। একাত্তরে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার একচল্লিশ বছর পরও শ্রমিক আজও এই দেশের সবচেয়ে অবহেলিত, সবচেয়ে নিগৃহীত এক জনগোষ্ঠি বিশেষ। আমাদের শ্রমিকদের হাল সাকিন জানার আগে দেখে নেয়া যাক মে দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ 

১৮৮৬ সালের ১লা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে ৮ ঘন্টা শ্রমদিনের দাবীতে আন্দোলনরত শ্রমিকের ওপর পুলিশ গুলি চালালে ১১ জন শ্রমিক শহীদ হন। এই ঘটনার আগে শ্রমিকদের প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘন্টা আর সপ্তাহে ৬ দিন শ্রম দিতে হতো। বিপরীতে মজুরী মিলত নগন্য, এবং সেই কম মজুরি দিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হতো তাদের। কোথাও কোথাও তা দাসবৃত্তির পর্যায়ে পড়ত। ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের একদল শ্রমিক দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজ করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন, এবং তাদের এ দাবী কার্যকর করার জন্য তারা সময় বেঁধে দেন ১৮৮৬ সালের ১লা মে। কিন্তু কারখানা মালিকগণ এ দাবী মেনে নেয়নি। ৪ঠা মে ১৮৮৬ সালে সন্ধ্যাবেলা হালকা বৃষ্টির মধ্যে শিকাগোর হে-মার্কেটে শ্রমিকরা মিছিলের উদ্দেশ্যে জড়ো হন। আগস্ট স্পীজ নামে এক নেতা জড়ো হওয়া শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন। হঠাৎ দূরে দাড়ানো পুলিশ দলের কাছে একটি বোমার বিস্ফোরন ঘটে, এতে এক পুলিশ নিহত হয়। এবং সাথে সাথে পুলিশবাহিনী শ্রমিকদের উপর অতর্কিতে হামলা শুরু করে। হামলায় ঘটনাস্থলেই ১১ জন শ্রমিক শহীদ হন। আবার পুলিশ হত্যা মামলায় আগস্ট স্পীজ সহ আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়। এক প্রহসনমূলক বিচারের পর ১৮৮৭ সালের ১১ই নভেম্বর প্রকাশ্যে ৬ জন শ্রমিকের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। লুইস লিং নামে একজন একদিন পূর্বেই কারাভ্যন্তরে আত্মহত্যা করেন, অন্য একজনের পনের বছরের কারাদন্ড হয়। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে আগস্ট স্পীজ বলেছিলেন, “আজ আমাদের এই নি:শব্দতা, তোমাদের আওয়াজ অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হবে”। শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের “দৈনিক আট ঘন্টা কাজ করার দাবী সরকারিভাবে স্বীকৃতি পায়। আর পহেলা মে বা মে দিবস প্রতিষ্ঠা পায় শ্রমিকদের দাবী আদায়ের দিন হিসেবে।

বাংলাদেশে সরকারি আধা সরকারি কল কারখানাগুলোতে যেখানে শিফ্ট চালু আছে সেখানে কোথাও কোথাও দিনে আট ঘণ্টা কাজের নিয়ম পালিত হলেও সারা দেশে লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে দশ-বার ঘণ্টা, কোথাও কোথাও ষোল ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হয়। অফিসিয়ালি বলা হয়, অতিরিক্ত শ্রম ঘণ্টার জন্য ওভারটাইম দেয়া হয়। কিন্তু যে সব সেক্টরে শ্রমিকদের বার্গেনিং এজেন্ট বা সিবিএ আছে সেই সব সেক্টর ছাড়া আর কোথাও ওভারটাইমের টাকা যথাযথভাবে আদায় করা যায় না। বাংলাদেশে গার্মেন্ট চালু হওয়ার আগে দুএকটা বড় বড় কল কারখানায় যে শিল্প শ্রমিকরা কাজ করত তাদেরই ধরে নেয়া হতো দেশের সবচেয়ে সংগঠিত শিল্পীয় শ্রমিক। গার্মেন্ট চালু হওয়ার পর এখন এটাই সবচেয়ে শ্রমঘন সেক্টর। বাইশ থেকে পচিশশ’ গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার লাখ শ্রমিক কাজ করে। এবং বিস্ময়করভাবে এই সেক্টরে শ্রমিকদের দাবি আদায়ের জন্য কোনো সিবিএ বা বার্গেনিং এজন্ট নেই। তার বদলে বিভিন্ন নামে সরকারি ছত্র ছায়ায় এবং কয়েকটি বিরোধী দলীয় সমর্থনপুষ্ট শ্রমিক সমিতি আছে যারা মাঝে মাঝে মালিক পক্ষের সাথে দেন-দরবার করে তাদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করে। এবং অবধারিতভাবে তাদের দাবি আদায় তো হয়ই না, বরং সেই দাবি আদায়ের পদ্ধতিকে দেশের তামাম বুজর্গ, বুদ্ধিজীবী, বিদ্যাজীবী এবং রংবেরঙের সুশীল সমাজপতিরা হঠকারি আখ্যা দিয়ে এর বিপক্ষে দাঁড়ায়।

এটা অনেকটা নিয়মের মতই হয়ে গেছে যে, শ্রমিকরা তাদের বেতন ভাতা, বোনাস, ওভারটাইমের দাবিতে কর্মবিরতী করবে, কারখানা গেটের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করবে। এক সময় পোশাক শ্রমিকদের জন্য হিংস্রভাবে গড়ে তোলা বিশেষ পুলিশ আসবে, র‌্যাব-বিডিআর আসবে, বিশেষ বাহিনী আসবে। এবং নির্বিচারে শ্রমিকদের উপর নির্মম নির্যাতন চালাবে। ঘটনাস্থলেই কিছু শ্রমিক মারা যাবে। হাসপাতালে এবং পথে ঘাটে আরো কিছু মারা যাবে। কিছু শ্রমিককে মালিকের পোষা গুণ্ডারা পিটিয়ে হত্যা করবে। কিছু শ্রমিকের লাশ ওই বিশেষ বাহিনী গুম করে দেবে। চূড়ান্ত বিচারে দেখা যাবে দশ-পনের হাজার নাম না জানা শ্রমিকের বিরুদ্ধে অমুক থানায় হত্যা, অগ্নিসংযোগ এবং লুটতরাজের মামলা দেয়া হবে। ওই মামলায় এর পরে যাকে তাকে ধরে আসামি বানিয়ে দেয়া হবে। আর এই শ্রমিক নিধনের নির্লজ্জ খেলাটা প্রকাশ্যে এদেশের বিশেষ বাহিনী মালিক পক্ষের সহায়তায় সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে খেলবে। এবং এটা প্রায় রোজকার নিয়ম। 

এর পরও যদি শ্রমিকরা তাদের দাবি টাবি নিয়ে আরো একটু স্বোচ্চার হতে চায় তাহলে তাদেরকে কারখানার ভেতরে রেখে বাইরে থেকে দরোজা জানালা বন্ধ করে মেইন গেটে তালা দিয়ে চাবি নিয়ে পালিয়ে যাবে সিকিউরিটি গার্ড নামক পোষা চামচারা। তারপর খুব ঠাণ্ডা মাথায় কারখানায় আগুণ ধরিয়ে দেয়া হবে। জ্যান্ত পুড়ে মরবে ডজন ডজন হতভাগা শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা দিন শেষে প্রতিবেদন দেবে-‘সর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে’! সরকার এবং মালিক পক্ষ তিন বা চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করবে। সেই কমিটি দিন সাতেক বা দিন দশেক পরে একটা তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে। যা কোনো দিনও আলোর মুখ দেখবে না। মোদ্দা কথা হচ্ছে এই সেক্টরে যে হতভাগা শ্রমিকরা কাজ করে তারা নির্ভেজাল দাস। সেই দাসদের যতদিন সম্ভব শ্রম শুষে নিতে হবে। যখন তার শ্রম সসীম হয়ে যাবে, অর্থাৎ তাকে দিয়ে আর আগের মত গাধার খাটনি খাটানো যাবে না তখন তাকে বা সেই শ্রমিক গোষ্ঠিকে হয় ছাঁটাই করা হবে, নয়ত বাড়াবাড়ি করলে স্রেফ পুড়িয়ে মারা হবে। এবং বছরের পর বছর এই ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড ঘটে চলেছে বাংলাদেশের গার্মেন্ট সেক্টরে। এ নিয়ে এই দেশের তাবড় তাবড় জ্ঞানীগুণী বুদ্ধিব্যাপারিদের কোনোও মাথা ব্যথা নেই। যে সব শ্রমিক নেতারা এই শ্রমিকদের পক্ষে কিছু বলতে চাইবে তাদের ‘পাশ্ববর্তী দেশের চর’ বা ‘বিদেশী ষড়যন্ত্রকারিদের চক্রান্ত বাস্তবায়নকারি’ আখ্যা দিয়ে ধরে ধরে জেলে পোরা হবে, নির্যাতন করা হবে।

এই সেক্টরের বাইরে সারা দেশ নয়, শুধু মাত্র ঢাকা শহরেই প্রায় চার থেকে সাড়ে চার লাখ শিশু শ্রমিককে দিয়ে অমানবিক কাজ করানো হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস তাদের অমানবিকতার বিরুদ্ধে কোনো বার্তা বয়ে আনে না। ঢাকাতে সব চেয়ে বেশি শিশু শ্রমিক কাজ করে বাসা বাড়িতে আর হোটেল রেস্তোরাগুলোতে। বাসা বাড়িতে যারা কাজ করে তাদের কোন শ্রম ঘণ্টা নেই। ভোর থেকে শুরু করে রাত বারটা একটায় ঘুমানোর আগ পর্যন্ত তাদের শ্রম ঘণ্টা।খাওয়া-পরা সমেত বেতন এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। খাওয়া পরা বাদে বেতন দেড় হাজার থেকে দুই হাজার। হোটেল রেস্তোরাগুলোয় যে শিশু শ্রমিকরা কাজ করে তাদের বেতন আরো কম। খুব ভোর থেকে শুরু করে হোটেল রেস্তোরা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত এদের কাজ করতে হয়। নোংরা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, গুমোট গরমে সেদ্দ হয়ে সারা রাত ঘুমোতে না পারা এই সব ক্রমিকরা জানেও না শ্রম দিবস কি, বা মে দিবস কি? শুধু যে এদের শ্রম শোষণ করা হয় তা নয়। এদের সাথে আরো জঘণ্য কর্মকাণ্ড করা হয়। সিনিয়র শ্রমিক বা হেড বেয়ারা যারা আছে তারা এই সব শিশু শ্রমিকদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। এবং প্রায় সবাইকেই কোনো না কোনো সময় বলাৎকারের শিকার হতে হয়।

একানব্বই সালে ক্রেমলিনের চার দেয়াল ভেদ করে পুঁজিবাদী দানব বেরিয়ে এসে সমগ্র পৃথিবীকে আবার নতুন করে গ্রাস করে ফেলার পরও এ দিন মস্কোর রেড স্ক্যয়ারে অশতিপর বৃদ্ধ বৃদ্ধারা লাল পতাকা নিয়ে হাজির হবেন। অপসারিত লেনিনের মুর্তির পাদদেশে ক্ষণিক তাকিয়ে থাকবেন। ১৯১৭ সালের পর এই রেড স্ক্যয়ারে মে দিবসে কি কি ঘটত সে সব ধূসর হয়ে যাওয়া স্মৃতি মন্থণ করবেন। তার পরও তারা সারা দিন ওই রেড স্ক্যয়ারে পড়ে থাকবেন। প্যারিসের ল্যূভার স্ক্যয়ারে, স্পেনের রাজ প্রাসাদের বাইরে, বনের ফ্রিডম স্ক্যয়ারে, তিরানার হোক্সা এভেন্যুতে, চীনের তিয়েনআনমেন স্ক্যয়ারে, ভিয়েতনামের হো চি মিন স্ক্যয়ারে, হাভানার চে স্ক্যয়ারে হাজার হাজার শ্রমিক এ দিনও সমবেত হবেন। হয়ত নতুন করে শ্রমিকের মুক্তির শপথ নেবেন। হয়ত কিছুই করবেন না। হয়ত সারা দিন দাঁড়িয়ে বা বসে সেই সব পুরোনো স্মৃতি হাতড়ে হাতড়ে একরাশ হতাশা বুকে নিয়ে আবার ঘরে ফিরে যাবেন। ইউরোপের দেশে দেশে গত এক দশক ধরে নতুন করে যে বিক্ষোভ দানা বেঁধে পাথরের মত শক্ত হতে শুরু করেছে। সেই পাথরের দৃঢ়তা নিয়ে তারা আরো একটু এগুতে চাইলে হয়ত পুলিশ গুলি ছুড়বে। হয়ত এই মে দিবসেই সারা বিশ্বে পুলিশের গুলিতে আরো শত শত শ্রমিকের মৃত্যু ঘটবে! তার পরও, এত সব হতাশার খণ্ডচিত্রের পরও সারা বিশ্বের শ্রমিক এ দিন তাদের মত করে পৃথিবীকে আরো একবার যাচাই করে দেখে নিতে চাইবে। নতুন একজন অগাস্ট স্পীজ তাদের সামনে এসে না দাঁড়ালেও তারা এই আশায় আবারো বুকের গহিনে বজ্র নিনাদ শুনবে। এক সময় মনের গহিনে ক্ষীণ হলেও সেই আশার সঞ্চার ঘটিয়ে ঘরে ফিরবে- একদিন এই পৃথিবীটা আমাদের জন্য বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। একদিন আমরাই এই পৃথিবী থেকে মানুষে মানুষে শোষণ বঞ্চণা দূর করে বৈরী দয়ামায়হীন পৃথিবীটাকে সব মানুষের জন্য বাসযোগ্য করে তুলব। কেননা একমাত্র শ্রমিকরাই পারে একটি সোনালী আগামীর জন্ম দিতে। এবং তারা তা দেবেনও। আজ বা কাল। 

১৯৬৬ সালে মে-দিবসে মস্কোর রেড স্ক্যয়ার।

তুরষ্কের ইস্তাম্বুলে মে-দিবসের বৃহত্তম জমায়েত।

ইন্দোনেশিয়ার মহান নেতা সুকর্ণর উপস্থিতিতে মে-দিবসের সমাবেশ।

এই সকল বৃদ্ধরা আজও মস্কোর রেড স্ক্যয়ারে সমবেত হন।

রাজনীতি,মার্কসবাদী দর্শন, সাহিত্য, সমাজ চেতনা ও মুক্তচিন্তার অল্টারনেটিভ ব্লগ

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মে-দিবসশ্রমিকআন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসবাংলাদেশের শ্রমিকশ্রম শোষণগার্মেন্ট শ্রমিকশিশু শ্রমিক ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

 

 

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

২৫৪ বার পঠিত২১৩৭

 

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

 

১৩টি মন্তব্য

১-৭

১. ৩০ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:৫০০

সমাধানদাতা বলেছেন: কম্যুনিজ্‌ম নিপাত যাক

২. ৩০ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:৫৬০

সত্যান্বেষী বলেছেন: আপনার পোস্ট দেখে লগ-ইন করলাম। ছবিগুলির মধ্যে একটি অন্ত:মিল খুঁজে পেয়ে ভাল লাগল। সমাজতন্ত্র, একমাত্র তন্ত্র যা শ্রমিক তথা মানুষকে শ্রমদাসে পরিণত হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারে, তার ঝান্ডাবাহী লোকগুলির ছবি – সবগুলি।

যাই হোক, মে মাস আসার লগ্নে কিন্নর কন্ঠে ‘শ্রমিক’ ‘শ্রমিক’ উচ্চারণ শুনা যায় চারপাশে। আমি শ্রমমন্ত্রনালয়ের কিছু কর্মচারীকে চিনি। তারা বেশ ব্যস্ত থাকেন পুরো এপ্রিল জুড়ে। মে দিবসকে নিয়ে সরকারী আয়োজন বলে কথা! আমার একটা ইচ্ছা ছিল যে সরকার এই দিনটি সাড়ম্বরে পালন করবে, সভায় সভায় গলা ফাটাবে শ্রমিক শ্রমিক বলে এই সরকার গত একটা বছর শ্রমিকদের কি কি সর্বনাশ করেছে তার একটি তালিকা দিয়ে একটি পোস্ট দিতে। কিন্তু পত্র-পত্রিকা ঘেটে সেই রিসার্চ করার সময় ছিল না হাতে। তবে বেতনাদি নিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সাথে রাস্তায় পুলিশের ব্যপক সংঘর্ষ, শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলার মতো ভয়াবহ অপরাধে মিশুকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন, চিটাগাং ইপিজেডে পাখির মতো গুলি করে পুলিশ তথা সরকার কর্তৃক শ্রমিক হ্ত্যা এগুলো মনে করার জন্য রিসার্চের প্রয়োজন পড়েনি।

০১ লা মে, ২০১১ রাত ১২:০৭০

লেখক বলেছেন: লিখতে পারতেন। আপনারা সবাই যদি লেখালিখি বন্ধ করে দেন তাহলে সামহোয়্যারে ভালো পোস্টের আকাল থেকেই যাবে। আপনার লেখা অনেক তেজদীপ্ত, অথচ শুধু মাত্র আলসেমী করে লেখেন না!

আজ না হোক, কাল কিংবা পরশু লিখে ফেলুন।

এখানে একটি প্রসঙ্গ বাদ পড়েছে; প্রবাসী শ্রমিকদের কথা আসেনি। এমনিতেই লেখাটা অনেক বড় হয়ে গেছে, তাই ওই দিকটি আনা সম্ভব হলো না।

ধন্যবাদ সত্যান্বেষী।

৩. ০১ লা মে, ২০১১ রাত ১২:৩৯০

ক্যালিপসো বলেছেন: “একদিন আমরাই এই পৃথিবী থেকে মানুষে মানুষে শোষণ বঞ্চণা দূর করে বৈরী দয়ামায়হীন পৃথিবীটাকে সব মানুষের জন্য বাসযোগ্য করে তুলব। কেননা একমাত্র শ্রমিকরাই পারে একটি সোনালী আগামীর জন্ম দিতে। এবং তারা তা দেবেনও। আজ বা কাল।”

০১ লা মে, ২০১১ ভোর ৪:৩১০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ক্যালিপসো।

নিশ্চই একদিন তারা পৃথিবীটা বদলে দেবে।

৪. ০১ লা মে, ২০১১ রাত ১২:৫৬০

মশিউর মামা বলেছেন: সমালোচনার কারণে নয় , নিরপেক্ষ ভাবে বলতে গেলে শ্রমিকদের অধিকার নামক বস্তুটি বইয়ের পাতায় যত মনোমুগ্ধকর , বাস্তব ক্ষেত্রে ততটা সহজ নয় | শ্রমিকদের অধিকার এবং মানবাধিকার এই দুটি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত | আর মানবাধিকার বাস্তবায়ন , রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্ত ভিত্তির উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল | এই কারণে মানবাধিকার নিয়ে পশ্চিমা দুনিয়ায় যত মাতামাতি , অর্থনৈতিক ভাবে অনগ্রসর দেশগুলোতে তত মাথাব্যথা নেই | কাজেই যতদিন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি না আসবে ততদিন মানবাধিকারের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হবেনা আর শ্রমিকদের অধিকারের ও প্রয়োগ ঘটবেনা |

০১ লা মে, ২০১১ রাত ২:০৩০

লেখক বলেছেন: অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ কিন্তু এখন অনেক বেশি স্ট্যাবল। অন্তত স্বাধীনতা পূবর্কালিন অবস্থা বিচারে। কিন্তু সেই সময় শ্রমিকদের যেটুকু স্বাধীনতা, মর্যাদা, শ্রমের মূল্য দেয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধান, তার কোন কিছু কি এখন অবশিষ্ট আছে? নেই। এটা কেবলই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রশ্ন নয় মশিউর মামা। প্রশ্নটা শাসক শ্রেণী এবং গাভার্নিং শ্রেণীর শোষণ, নিপীড়ন।

মানবাধিকার দরকার নেই। শুধু এতটুকু নিশ্চিত হতে হবে যে শ্রমিক কলের চাকা ঘোরাবে, সুতরাং তাকে বেঁচে থাকার ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। তাকে বাঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তোলায় আপনাকে ধন্যবাদ।

৫. ০১ লা মে, ২০১১ দুপুর ১২:১১০

আরিফ রুবেল বলেছেন: সবার আগে চাই সর্বহারার একনায়কত্ব।

সোজা প্রিয়তে।

০১ লা মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৬০

লেখক বলেছেন: সবার আগে চাই সর্বহারার একনায়কত্ব।

আর সে লক্ষ্যে শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের ঐক্য সুদৃঢ় হোক। বেগবান হোক জনপথের সংগ্রাম। জ্বলে উঠুক দিকে দিকে যুদ্ধ জয়ের বাতিঘর।

৬. ০১ লা মে, ২০১১ দুপুর ১:৩২০

প্রতিবাদী কন্ঠস্বর বলেছেন: ১৮৮৬’র ১লা মে শিকাগোর হে মার্কেটে

শ্রমিকের তাজা খুনে ভেসে গেল খোলা রাজপথ

প্রথম শহীদ হল মজুর

লাল সালাম,লাল সালাম

রক্তে ধোঁয়া মে তোমায় সালাম।।

নীপিড়িত জনতার প্রথম ভাঙাল ওরা ঘুম

বিপ্লবী মজুরের হাতে দিল খোলা তলোয়ার।।

ওরা শিকাগোর মেহনতি মজদুর

ওরা মজদুর দুনিয়ার সূর্য

ওরা সত্য, ওরা ধন্য

ওরা বিপ্লবী পৃথিবীর মন্ত্র

Long Live Revolution…..

শোষণের শৃঙ্খলে প্রথম দিয়েছে ওরা টান

মালিকের মুনাফায় প্রথম হেনেছে পদাঘাত।।

ওরা পৃথিবীর মেহনতি মজুদর

ওরা মজলুম দুনিয়ার সাক্ষ্য

ওরা সত্য, ওরা ধন্য

ওরা বিপ্লবী পৃথিবীর মন্ত্র

Long Live Revolution…..

০১ লা মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪৮০

লেখক বলেছেন: তুমি মনে করে এইসব অগ্নিগর্ভ কবিতা পোস্ট করে এই পোস্ট এবং পোস্টের বক্তব্য সমৃদ্ধ করছ।

কংগ্রাচ্যুলেশন কমরেড।

৭. ০৬ ই মে, ২০১১ রাত ৩:১৬০

খারেজি বলেছেন: দায়িত্বপূর্ণ একটা লেখার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ মনজু ভাই।

শুধু ভাবছি, দুই বছর আগে মে দিবসের লেখায় সাড়া দিয়ে সামুর মানটা বোঝা যেত। আজকের সামুতে লেখকও নাই পাঠকও নাই।

যা আছে তা বলার অযোগ্য।

তার মাঝে মনজু ভাইয়ের মত একজন বুক টানটান করে দাড়িয়ে আছেন, যাস্ট এটুকুর জন্যই সামুর গারদে মাঝে মাঝে আসা যায়।

১০ ই মে, ২০১১ বিকাল ৩:৪৭০

লেখক বলেছেন: এই যে দেখেন, সেই ১ তারিখের পর আর ঢুকলাম।

শত শত গঞ্জনা আক্রমণ আর গালাগলি হজম করে লজ্জা-ঘেন্নার নাড়ি ধুয়ে আবারো এসছিলাম। আপনাকে অনুরোধ করে এনেছিলাম। আরো কিছু সুলেখক বন্ধুকে আনার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ফলাফল কি? থোড় বড়ি খাড়া-খাড়া বড়ি থোড়!

গ্রাম্য মেলার কথা মনে পড়ে খারেজি? রাতে মেলা শেস হবার পর ইস্তত বিক্ষিপ্ত মিষ্টির মালসা, ছেড়া পদ্মপাতা, ভাঙ্গা হাড়িকুড়ি, দড়াদড়ি এসব পড়ে থাকে…দুচারটে কুকুর উচ্ছিষ্ট খাবারের খোঁজে ইতস্তত ঘুরে বেড়ায়……

এটার ঠিক সেই দশা হয়েছে! এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য যা যা করার দরকার তা করার কে আছে? কর্তৃপক্ষ ভাবছে বিপুল পরিমান লগড ইন হয়ে আছে, সুতরাং চলছে তো বেশ!

আর আমাদেরকে যদি সেই পূর্বাবস্থায় নেয়ার দায়িত্ব নিতে হয় তা হবে ভীষণ কষ্টসাধ্য আর প্রায় দুষ্কর। আর কেনই বা আমরা সেটা নিতে যাব, যদি কেউ না চায়?

একটা পরিশ্রমি লেখায় কেউ সমর্থন না করুক, অন্তত পড়বে তো? তাও কি হচ্ছে? কোন সমালোচনা হচ্ছে? না। যা দিয়ে পাতা ভরা থাকছে তা কি পাঠযোগ্য? না। তাহলে কেন রাতের পর রাত জেগে এই বিরান ভূমিতে ফসল ফলানোর অপচেষ্টা করে যাব? কেন? জবাব পাইনা।

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s