“চাইনা তোর ১২শ কোটি টাকার ফ্লাইওভার! ফিরিয়ে দে আমাদের সম্পূর্ণ রাস্তা”

এরকম একটা শিরোনাম দিয়ে নিবন্ধ লেখার ইচ্ছেটা গলাটিপে মারলাম। কী হবে? কে শুনবে? যদি তাদের কানে কোনো শব্দ প্রবেশ করত কিংবা চোখে কোনো দৃশ্য ধরা পড়ত তাহলে পেটের সাথে নাক আর পিঠের উপর চোখ বসাবে কেন?
মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নিয়ে বিটিভিতে কর্মকর্তাগণের সাফাই পর্ব চলছে…। তারা প্রমাণ করতে চাইছেন ফ্লাইওভারে সিগনাল বাতি পৃথিবীর আরও অনেক দেশে আছে! অবাক হবেন না, এটাই নিয়ম। বিশ্বের কোথায় কোথায় খারাপ আছে তার তুলনা হবে সবার আগে, কিন্তু ভালো যা আছে তা চোখেও দেখবেন না এরা।
এই ফ্লাইওভারের সবচেয়ে ব্যস্ত দিক কাকরাইল থেকে শান্তিনগর মালিবাগ মৌচাক হয়ে মগবাজার সাতরাস্তা বা মগবাজার বাংলামটর। অথচ মৌচাক থেকে শান্তিনগর ডাউন পয়েন্ট শেষ হল কোথায়? কর্ণফুলি শপিংমলের সামনে। এবং ওখানেই ইউটার্ন! যেহেতু বেইলিরোড ওয়ানওয়ে, সেহেতু শান্তিনগর থেকে হাজার হাজার যানবাহন সেক্রেটারিয়েট রোড ধরে ভেতরে ঢোকে। তাই শান্তিনগর এবং ফ্লাইওভার থেকে গাড়িগুলো কর্ণফুলির সামনে নেমেই ইউটার্ন নিতে গিয়ে বিরাট জট বাধাচ্ছে। একই সাথে কাকরাইলের দিকে ছুটছে এবং একই সাথে ইউটার্ন নিচ্ছে! উচিৎ ছিল ফ্লাইওভার আরও দুশ গজ সামনে গিয়ে কাকরাইল মোড়ে শেষ হওয়া। তাহলে সেখানে চৌরাস্তায় ইউটার্ন নিলেও জট লাগত না।
আবার রামপুরার দিকে ড্রাগন সোয়েটারের ঠিক সামনে শেষ হয়েছে, যেখানে বিশ্বরোড ধরে আসা হাজার হাজার যানবাহন আগেই জায়গা সরু হয়ে যাওয়ায় জট পাকিয়ে রেখেছে! সেখানেই ফ্লাইওভার থেকে আরও গাড়ি নেমে টোটাল জটে পড়ছে। উচিৎ ছিল আরও একশ গজ বাড়িয়ে আবুল হোটেল ক্রস করে শেষ করা।
এরকম একই টেকনিক্যাল ফল্ট রয়েছে বাংলামটর প্রান্তে এবং হলিক্রস প্রান্তে! হলিক্রস প্রান্তে ফ্লাইওভার পুরো রাস্তা মেরে দিয়ে মাত্র ১০/১২ ফুট রাস্তা বাকি রেখেছে। এখানে একটি বিশাল ফিলিং স্টেশন। সেখানে দিন রাত কমপক্ষে ২০/৩০ টা গাড়ি লাইনে দাঁড়ানো থাকে। সেই জায়গাটা অকুপাই হওয়ার পর বাকি থাকে মাত্র একটি সরু লেন, যে লেন দিয়ে বড় বাস বা ট্রাক যেতে পারবে না। তাদেরকে যদি ইসকাটনেও যেতে হয় তবুও ফ্লাইওভারে উঠে সাতরাস্তায় নেমে ইউটার্ন নিয়ে ঘুরে ফের মগবাজার মোড়ে নিচের দিকে আসতে হবে!
বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট, কুয়েট এর শত শত বিশেষজ্ঞগণ এসব টেকনোলজি নিয়ে আকসার বিশেষজ্ঞের মতামত দিয়ে চলেছেন। তাদের কারো মাথায়ও এই সরল বিষয়গুলো ঢোকেনি। তাদের বিবেচনাতেও এত বড় নির্মাণত্রুটি ধরা পড়েনি। তারা শুধু ফ্লাইওভারে সিগনাল বাতি দেয়ার সমারোচনা করেই দায়িত্ব শেষ করেছেন।
শুধু বাংলাদেশে নয়, এরকম আহম্মকি ডিজাইনের ফ্লাইওভার সারা বিশ্বে নেই। এটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলা যায়। এই ১২শ কোটি টাকার ফ্লাইওভার আর তার উপকারিতা দেখতে এখানে একটি যাদুঘর বানানো দরকার যাতে সারা দেশের মানুষ এই অভিনব বিকলাঙ্গ নির্মাণশৈলী দেখে নয়ন মন সার্থক করতে পারে!

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s