কার্যত অনলাইন-অফলাইনে আমরা ত্রস্তই থাকি সারাক্ষণ!

হার্টে তোলপাড় হওয়ার সিম্পটম একটু আগে-ভাগে বুঝতে পেরেছিলাম বলে হয়ত এখনো বেঁচে আছি। অ্যাটাকটা বিস্তৃত হতে পারেনি। এরপর রিং লাগানোর পর পই পই করে ডাক্তার বলে দিয়েছিল রক্তচাপ বেড়ে যায় এমন কিছু করা যাবে না। পরের বছর ব্যাঙ্গালোর-এ নারায়ণা থেকে ওই একই কথা- বি রিল্যাক্স ম্যান! কলকাতার রবীন্দ্রনাথে সুন্দর করে বলল- বললেই তো হল না, চাপ নিতে হয় না, এসে যায়। তবে চেষ্টা করবেন হাসিখুশি থাকতে।

ঘুলুটটা এখানেই। ‘হাসিখুশি’ থাকতে বলা হল যাকে সে যেখানে বসবাস করে সেখানে হাসিখুশি থাকা যায় না। কেউ কেউ অবশ্যি পারে, তারা পাগল, নির্বোধ অথবা জোকার।

আমরা যেখানে বসবাস করি সেখানে আপনি ঘুম থেকে উঠে আবার ঘুমুতে যাওয়া পর্যন্ত যা যা করবেন, যার যার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, যেখানে যেখানে যাবেন, যেভাবে বিচরণ করবেন, যা যা দেখবেন, শুনবেন, ভাববেন, অনুভব করবেন তার সব কিছুই আপনাকে মুহূর্মূহ টেনশন দেবে। আপনি বাড়তি স্ট্রেস নিতে বাধ্য হবেন।

আপনি সেই শহরটিতে বসবাস করছেন; যে শহরটি আনন্দদায়ী হিসেবে শূণ্য পয়েন্ট পেয়েছে। নোংরা-আবর্জনাময় হিসেবে অনেক বার প্রথম-দ্বিতীয় হয়েছে। চরম অনিশ্চিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, হেভি ক্রাউড, পলিউটেড ট্রাফিক, পলিউটেড অ্যাটমোস্ফীয়ার, অপ্রতুল এবং চড়া দামের খাবারের ব্যবস্থায় প্রথম দিকেই থেকেছে। সর্বোপরি বসবাসের অনুপোযুক্ত শহর হিসেবে পর পর চার বছর এক নম্বর হয়েছে! এরকম একটি শহরের প্রায় দুই কোটি কিলবিল করা মানুষদের একজন আপনি, যিনি চেষ্টা করছেন হাসিখুশি থাকার!

এই শহরের এই দেশের সকল ‘প্রধান’দের (প্রধানমন্ত্রী, পুলিশ প্রধান, সচিব প্রধান.. এইরকম আর কি) বক্তব্য, বিবৃতি, ভাষণ শুনলে আপনার ধমণীতে যদি সত্যিকার মানুষের রক্ত থাকে তাহলে তা উত্তপ্ত হবে। এক সময় চাপ বেড়ে তেতে তেড়ে পুঁড়ে ওপরে উঠবে। মেইন আর্টারি ধরে ভাল্বকে আঘাত করে হড় হড় করে ভেতরে ঢুকে যাবে। সেখান থেকে আরও বেগবান হয়ে মস্তিষ্ক অভিমুখে যাত্রা করবে……এন্ড অব দ্য ফ্লারিশ আপনি নিজেকে আবিষ্কার করবেন হুইলচেয়ারে অথবা গ্রেভইয়ার্ডে।এইরকম ভয়াবহ সিচ্যুয়েশনে আপনি যখন বিকল্প স্বস্তিদায়ক কোনো কিছুর সন্ধান করছেন, তখন দেখলেন আপনি সেই সন্ধানকম্মটি এমনই এক মাধ্যমে করছেন যেখানে আপনার রিলিফের বদলে ফলডাউনের প্রব্যাবলিটি বেশি। আপনি অনলাইনে, মানে ফেসবুকেই আপনার দ্রোহ, বিদ্রোহ, রাগ-অনুরাগ, বিপ্লব-সংগ্রাম, প্রেম-ভালোবাসা, কাব্য-সাহিত্য সব করছেন। আসলে কি করছেন? না। আপনি আসলে প্রতি মুহূর্তে শঙ্কিত থাকছেন। রাগান্বিত থাকছেন। সন্দেহবাতিকগ্রস্থ থাকছেন। কোন কমেন্টে কখন কোন ‘বন্ধু’ রুষ্ঠ হয়! কোন লেখাটি কোন সমগোত্রীয়দের বিরুদ্ধে যায়! কোন কথাটি সহযোদ্ধাদের বিগড়ে দেয়! কোন লাইকটি আরেকজনকে হার্ট করে! কোন কবিতাটির প্রশংসা না করায় কবি বিরুপ হন! কোন লেখাটি সবার জন্য সহনীয় করে লিখতে গিয়ে বিবেকের দহনে দহিত হন….. এইসব দিগুলো স্লাইডক্যালিপার্স দিয়ে মেপে মেপে আপনাকে চলতে হয়।

আর আপনি বলছেন; সদা হাসিখুশি থাকব। স্ট্রেস নেব না। অযথা চাপ নেব না। রিল্যাক্স থাকব???

[লেখাটি ভীতিকরভাবে বড় হয়ে যাচ্ছে…]

এই অত্যন্ত জরুরি ব্যাপারগুলো আমার পশ্চিমবঙ্গের বন্ধু Soumik Dutta Majumdar চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার কথাগুলো পড়েই মনে হল; আরে! আমি তো এরকমই কিছু একটা ভাবতে চেয়েছিলাম!

সৌমিক লিখেছেনঃ

যতটা কম পারবেন  টেনশন মুক্ত থাকার চেষ্টা করবেন। যদিও চিন্তাশীল মানুষদের জন্য এটা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। তারপরেও বাঁচার জন্য সেই চেষ্টা করতেই হবে দাদা। কারণ আপনাদের বেঁচে থাকাটা খুবই প্রয়োজন এই মুহুর্তে। আর পারলে পারলে ফেসবুকে কম  পোস্ট (দৈনন্দিন ইস্যুভিত্তিক)করুন। পোস্টে  বিতর্ক এড়িয়ে চলুন। কারণ দিনশেষে ফেসবুকের এসব লিখার মাধ্যমে তেমন কোন কাজ (চিন্তার মৌলিক পরিবর্তনে) হয় বলে মনে করিনা। তবে জরুরী যেটা তাহলো যতদিন বেঁচে আছেন, এই সময়টা পরিবার ও চিন্তার(লেখালেখি) জগৎকে আরও প্রসারিত করার কাজে ব্যয় করুন। রাজনীতি, দর্শন,সাহিত্য ও ইতিহাস নির্ভর  লিখার কথা বলছি, যে লিখাগুলো সুদীর্ঘ সময় পরেও প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে (এমন কিছু কাজ আপনি ইতিমধ্যে করেছেন,যা আপনার পোস্ট মারফত জেনেছি,যদিও আমি আপনার কোন বই পড়িনি,কলেজস্ট্রিটে পাওয়া গেলে খোজ করে সংগ্রহ করে নেব)। ভাল থাকুন দাদা। আর আমার কথা গুলোকে” উপদেশ” মনে করবেন না আশাকরি।কারণ আমি আপনার বয়সে অনেক ছোট হব তাই উপদেশ দেবার মত “জ্ঞান  ও যোগ্যতা ” আমার নেই,আছে শ্রদ্ধা, ভালবাসা আর বিনয়।শুভকামনা।

সৌমিক যে দরজাটা খুলে দিয়েছে সেখান দিয়ে বাইপাস করতে পারব কিনা সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

মে ৩১, ২০১৮

ঢাকা

 

 

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s