পা বাড়ালেই মড়ার খুলি …

 

পা বাড়ালেই মড়ার খুলি। থিকথিকে গলিত মাংস। চারিদিক রক্তাক্ত। খন্ড খন্ড মাংসের দলা এখানে ওখানে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত থ্যাকথেকে ছড়ানো। এখান থেকে মাইল মাইল দূরে কোনো মন্ত্রপাঠরত সাধক যেন দিব্যদৃষ্টিতে দেখেন এইসব স্বর্গীয় দৃশ্যাবলী! অভুক্ত শিশুদের আহাজারি, রুগ্ন মায়ের শুকিয়ে যাওয়া স্তন থেকে শত চেষ্টায়ও এক ফোঁটা দুধ না বেরোনো। বাবাদের কঙ্কালসার শরীর থেকে ঘামও আর বেরোয় না।

এখানে নারীদের সর্বাঙ্গে যোনী। হাতে-পায়ে, মাথায়ও। উত্থিত শিশ্নধারী পুরুষের কামনার বলি চার বছরের শিশু। শিশুদেরও সারা শরীরময় যোনী! এখানে চাষারা মাটি কর্ষণ করে ফসল তুলে এনেছে। তারপর ফসলে আগুন দিয়েছে। কারখানায় কালিমাখা মুখে এক চিলতে হাসি, তার মেয়েটা প্রথম দিন ইশকুলে যায়…..বাড়িতে বউটার মুখ বিভৎস-তার মেয়েটার শরীরে কামার্ত কুকুর উপগত হয়েছে। তাকে রক্তাত্ব করেছে।

এখানে মখমলের জায়নামাজে মানুষরূপী ইতরের আসন পাতা। মায়ের জরায়ুমুখে শুয়োরের বীজ। শহুরে প্যারাসাইটগুলো মিছেমিছি শুয়োর-কুকুর খেলে। নাম দেয়-সংস্কৃতি। আরও দূরে দূরে নদীতে নাইতে নামা গ্রাম্য কিশোরীর জরায়ুতে দশটা শিশুভ্রুণ গেঁথে দিয়ে গণ্যমাণ্য মানুষেরা তাম্বুলরাগে চর্চিত মুখে হায়নার হাসি হাসে। রাজদণ্ড হাতে বেহুশ ক্ষমতাদর্পী মানুষেরা নোংরা আবর্জনা সরিয়ে নিজেদের খাবার টেবিল সাজায়। এমাথা থেকে ওমাথা ঘুরে একজন চশমার ফেরিঅলা চশমা বেঁচতে চায় এই অন্ধের দেশে।

এখানে শিক্ষিতজনেরা ওপরের সরটা তুলে নেয়, ননীবিহীন মাঠা পড়ে থাকে মানুষের জন্য। সেই সব মানুষ যাদের শিশুরা কাটা মুন্ড দিয়ে রান্নাবাটি খেলে। সেই সব মানুষ যারা মাটি খুঁড়ে তুলে আনা ফসলে নিজের ভাগ নিশ্চিত করতে পারে না শিক্ষা আর ক্ষমতার অভাবে। আর এই সব কিছু দেখে আরও নিখুঁত মাপের শুয়োরের বাচ্চারা ফর্দ হাজির করে…শাহী এলান…. তুমি এবং তোমরা আজ থেকে তিনটি প্রশ্ন করতে পারবে না। পারবেই না…… কী, কেন এবং কীভাবে?…… তোমদের সেই অধিকার হরণ করা হলো।

তারপরও প্যারাসাইট ইতরের বাচ্চারা এই বধ্যভূমিতে স্বপ্ন দেখানোর নামে স্বপ্ন বেঁচে। আশাবাদের কনডমে বিভৎসতার শিশ্ন ঢুকিয়ে মাতৃযোনীতে নির্গলিত ঘৃণা আর জিঘাংসা ঢেলে দেয়। জন্ম নেয় আর এক বিকৃত মানুষ- এই আমরা যার পরম্পরা। এই আমরাই যার বাইপ্রডাক্ট।

আমাদের রাজনীতিকরা রাজ দরবারে ভাঁড় হয়ে বসে আছে। কবি-সাহিত্যিকেরা সাহিত্যহাটে বিক্রি হবে বলে ন্যাংটো। বুদ্ধিব্যাপারিরা বুদ্ধি বেঁচে সেই টাকায় বুদ্ধি ধার করে। রাজ দরবারে বাকি সকলে জ্বি-আজ্ঞা, ঠিক ঠিক মহারাজা ঠিকই তো- বলে আকর্ণবিস্তৃত হাসি দিয়ে পাপস্খলন করে। কোথাও কোনো আশা নেই। শ্রমিকের কৃষকের, মজুরের, কারও কোথাও কোনো আশা নেই। এত এত মানুষ এক অনতিক্রান্ত গড্ডালিকা প্রবাহে ধেয়ে চলেছে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে…….

সেই সময়ে আমি তবুও নববর্ষ বলি; কারণ শুয়োরের সাথে সহবাসে অস্বীকৃতি জানিয়েছি সেই এগারতে। তাই এতকিছুর পরও সবাইকে নতুন বাংলা বছরের আহ্বান- ঘুম তো অনেক হলো এবার জাগুন। চোখ মেলে দেখুন এই যে আপনি এখানে! এই মহাবিশ্বের অতীব ক্ষুদ্র এক প্রাণি! কোনও টেলিস্কোপেও আপনি-আমি, আপনারা-আমরা দৃশ্যমান নই! তার পরও কিসের এত অহংকার আমাদের?

১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

2 responses to “পা বাড়ালেই মড়ার খুলি …

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s