ফ্যাক্টফাইল রোহিঙ্গা- এথেনিক ক্লিঞ্জিং ইউথ দ্য ডার্টি ন্যাশনালিজম!

বিশ্ব এখন ঘোরতর সংকটে। খাদ্য সংকট? সে তো আছেই। আছে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার সংকট। সবচেয়ে বড় সংকট-বেঁচে থাকার সংকট। আরও নির্দিষ্ট করে বেঁচে থাকতে পারার সংকট। ভীতিকর বিস্ময় হলো এই যে ডজন ডজন গুরুতর সব সংকটে পৃথিবী জেরবার, তার মধ্যে কোনো সংকটই ভয়াবহতার দিক থেকে রিফিউজি সংকটকে ছাড়াতে পারছে না। এ এক চলমান সংকট। আজ এক হাজার জন রিফিউজির সংকট সমাধান হল কালই দু’হাজার জন নতুন রিফিউজি তৈরি হচ্ছে। এই মুহূর্তে সারা বিশ্বে যত রিফিউজি আছে তা যে কোনো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জনগণের চেয়ে বেশী! এই মহূর্তে সারা বিশ্বে প্রায় ২ কোটির বেশী মানুষ দেশহীন। ভিটেহীন। আজকের প্লানেট- দ্য প্লানেট অব রিফিউজি! এই ২ কোটি রিফিউজির প্রায় ১০/১১ লাখ রিফিউজি বাংলাদেশে। রোহিঙ্গা নামের এই দেশচ্যুত শরণার্থীরা এদেশে আসা শুরু করে ২০১৫ সাল থেকে। সে সময় একটানা ২ লাখ মত আসে। এর পর গ্যাপ দিয়ে ফের শুরু হয় ২০১৭ সালে। এবার আসে নাফ নদীর বানের মত। একসঙ্গে এদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ৭ লাখ শরণার্থী।

 

 

 

এই অসহায় মানুষগুলো নির্মম ঘৃণ্য জিও পলিটিক্সের শিকার!

 

 

 

 

 

রোহিঙ্গা নির্যাতনের দুই বছর পূর্ণ হলো গত রোববার ২৫ আগস্ট। সেই উপলক্ষে রোহিঙ্গারা উখিয়ার কুতুপালং ডি-৪ ক্যাম্প মাঠে এক বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করেছিল। সেখানে নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণাও দেন নেতারা। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটির চেয়ারম্যান মাস্টার মুহিব উল্লাহ, আব্দুর রহিম, মোহাম্মদ ইলিয়াছসহ অন্য নেতারা। বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে আসা রোহিঙ্গাদের পদচারণায় কানা কানায় পরিপূর্ণ হয় সমাবেশস্থল।

 

সে সময় মানবিক কারণেই দেশের মানুষ উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে আশ্রয় দেয়ার জন্য সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করে। যাদের মনে আছে তারা একাত্তরে আমাদের দেড় কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নেওয়ার কথা স্মরণ করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে দাবী তোলে। সরকার সেই দাবী মেনে তাদের আশ্রয় দিয়েছে তেমন ভাবার কারণ নেই। সরকার তখন টেকনিক্যাল কারণে তাদের পুশব্যাক করতে পারেনি। তা ছাড়াও আরও কয়েকটি কারণ ছিল। এক. আন্তর্জাতিক মহল সরকারকে চাপ দিচ্ছিল। তারা আশ্বস্ত করেছিল তারা পর্যাপ্ত সাহায্য-সগযোগিতা করবে। দুই. দেশের ভেতরকার বিশাল ধর্মাশ্রয়ী মতলববাজ রাজনীতিক এবং পাওয়ার বেল্টের সাথে সম্পর্কীত মহলের চাপ। তিন. সরকারের ভেতরকার একটা মহল মনে করেছিল রোহিঙ্গা ইস্যুটা সাফল্যজনকভাবে মোকাবেলা করতে পারলে দেশ তথা দেশের নেতা বিশ্বের কাছে অধিকমাত্রায় গ্রহণযোগ্য হবেন, বিশ্বেনেতা হবেন। চার. সরকারের দায়িত্বশীল মহল ভেবেছিল; শরণার্থী সমস্যাটা সাময়ীক। কয়েক মাসেই মিটে যাবে। বিদেশের অনুদান দিয়ে অর্থাভাব মেটাতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না। উপরন্তু দেশর সুনাম বয়ে আনবে।

 

বলা বাহুল্য এই সব আশাবাদের কোনোটিই কার্যকর হয়নি। মায়ানমার আন্তর্জাতিক মিনমিনে চাপে এক পর্যায়ে শরণার্থী ফেরৎ নিতে রাজি হলেও এমন সব শর্ত দেয় যাতে করে রোহিঙ্গারা যেন নিজেরাই ফিরতে না চায়। এখন চলছে চাপান-উতোর খেলা।

 

 

“কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রবিবার (২৫ আগস্ট) বিশাল রোহিঙ্গা সমাবেশের বিষয়ে সরকার আগে থেকে কিছু জানতো না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সোমবার (২৬ আগস্ট) শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ’প্রকৃতপক্ষে আমরা টেলিভিশন দেখে এ তথ্য পেয়েছি। আমরা জেনেছি তারা দোয়া করার জন্য এই সমাবেশ করেছে। সেজন্য আপত্তি করা হয়নি। সেখানে অনেক দাবি-দাওয়া এসেছে। এখন আমরা নতুন করে চিন্তাভাবনা করবো কীভাবে ইস্যুটা মোকাবিলা করা যায়।“

 

 

জীবন হাতে করে এভাবেই ওরা এসেছিল। এখন বসবাস করছে মানবেতর পরিবেশে।

 

 

 

 

কী চমৎকার বান মাছের বাউলি কেটে বেরিয়ে যাওয়া! কেন এত বড় একটা প্রকাশ্য ঘটনা দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানবে না? এই না জানার বিচ্যুতিতেই তো ওদের শো-কজ করা যায়!

 

এখন জনসারেণর জাত্যাভিমানী অংশের কাছে এই সমাবেশ নিয়ে আরও যে সব কথাবার্ত উঠেছে তা হলো- এক. একাধিক এনজিও তাদের এক্তিয়ারের বাইরে রোহিঙ্গা ইস্যু উসকে দিচ্ছে। আর তা সরকারের জ্ঞাতসারেই। দুই. সরকারের ধর্মশ্রয়ীঁ অংশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারকে কঠোর হতে বাধা দিচ্ছে। আর সেটা সরকার মেনেও নিয়েছে। তিন. পাহাড়ি অধিবাসীরা প্রথম থেকেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার বিরোধীতা করে এসেছে। তারা এখন সরকারের নতজানু মনোভাবকে সমালোচনা করছে। তাদের আশঙ্কা সরকার রোহিঙ্গাদের পুশব্যাক করছে না রোহিঙ্গা মুসলিমদের দিয়ে পাহাড়িদের ‘শায়েস্তা’ করার জন্য। চার. বিরোধী দল এবং ব্যাপক সাধারণ মানুষ মনে করছে সরকার কূটনৈতিকভাবে এই সমস্যার মোকাবেলা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। পাঁচ. জনগণের এই উগ্র জাতীয়তাবাদী অংশ চাইছে যে কোনো মূল্যে রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া করতে। তাদের আশঙ্কা- রোহিঙ্গারা ফেরোশাস। তারা বিপজ্জনক। এখানে গেঁড়ে বসে আমাদের চরম দুর্ভোগের কারণ হবে।

 

এই অনুসঙ্গগুলো হোক বা অন্য যে কোনো কারণে হোক সরকার যে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে শাখের করাতের নিচে আছে তাতে কোনো সন্দেহ নাই।

 

এবার আসুন দেখা যাক রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিছক শরণার্থী সমস্যা না এর ভেতর আরও কিছু আছে? পথমতঃ আমলে নিতে হবে বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী’ বলা হয় না। বলা হয়- ‘রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী’। এখানে ‘মুসলিম’ শব্দটা পাঞ্চ করা নিছক বাত কি বাত নয়। এর পেছনের গুঢ় রহস্য হলো আন্তর্জাতিক মিডিয়া বোঝাতে চাইছে- রোহিঙ্গারা মুসলিম, তাই ৯৮ ভাগ বৌদ্ধ অধ্যুষিত মায়ানমারে তারা সংখ্যালঘু। এবং তারা আদতে বাংলাদেশেরই মুসলিম অধিবাসী। মায়ানমারে মুসলিম থাকার ঐতিহাসিক দলিলাদি নেই। তাই ‘আশ্রিত’ মুসলিম মাইগ্রান্টদের দেশ থেকে ‘নিজ দেশে’ পুশব্যাক করে মায়ানমার খুব একটা অন্যায় করেনি। এই ‘খুব একটা অন্যায় করেনি’ টেম্পলেট এর আবরণে এবার বাকি সব আন্তর্জাতিক পেরিফেরিগুলো মেলানো যাক।

 

 

পুড়িয়ে দেওয়ার রোহিঙ্গা বসতিগুলোর স্যাটেলাইট চিত্র

 

 

 

 

রাখাইন প্রদেশে যেখানে রোহিঙ্গাদের বসবাস ছিল সেই অঞ্চলটা খনিজ সম্পদে পূর্ণ। তার উপর বঙ্গপোসাগর এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলের জলসীমায় দখলিসত্ত্ব কায়েম এবং খবরদারি করার জন্য চীন , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত সবারই কমন আকাঙ্খা আছে। সেখানে ‘পুরোনো বন্ধুত্ব’ এবং বিপুল অংকের অস্ত্র-বিশেষজ্ঞ-ট্রেনিং এর ব্যবসা আছে চীনের। দীর্ঘদিনের সামরিক শাসকের সাথেও চীনের দহরম-মহরম। আং সান সুকী সেই দহরম-মহরম বন্ধ তো করেনইনি, উল্টো আরও বাড়িয়েছেন। এবং এটাই তার ক্ষমতারোহনের অন্যতম শর্ত। এ ছাড়া আরও অনেক বাণিজ্যিক লাভের প্রশ্নে চীন শতভাগ মায়ানমারের স্টান্ডকে সমর্থ করেছে। ভারতেরও বাণিজ্য চিন্তা আর আঞ্চলিক মাস্তানি চিন্তা থেক মায়ানমারকে দরকার। তাই তারাও প্রকারন্তরে মায়ানমারের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। রাশিয়া করেছে ভারত-চীনকে নিয়ে তাদের যে পাঁচ জাতি জোট আছে তার শর্তানুযায়ী। পরাশক্তির মধ্যে বাকি রইল যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন। এরা দুই ‘ভায়রাভাই’ একবার মায়ানমারকে চাপ দেয়, আবার বাংলাদেশকে হুমকি দেয়। অর্থাৎ রোহিঙ্গা প্রশ্নে এই দুই দেশ সরাসরি মায়ানমারের পক্ষে না থাকলেও জোরালভাবে বিপক্ষেও না।

 

জিও পলিটিক্সের ধারণাটা কেমন?

 

Why do China, India back Myanmar over the Rohingya crisis?

 

Heavy investments in Rakhine state have seen the two countries take a markedly different approach to the Western powers leaning on Suu Kyi’s beleaguered government

 

 

তাহলে কী দাঁড়াল? রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানবতাবাদী কিছু দাতব্য ভূমিকা ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের পক্ষে কেউ নেই! সে কারণে মাঝে মাঝে বংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আক্ষেপ করে বলতে হয়- জাতিসংঘের কী দায়-দায়িত্ব নেই? অন্য কারো কি নেই? সব সমস্যা বাংলাদেশকে কেন মেটাতে হবে? এই অভিমানগুলো আমরা মিডিয়ার সামনে দেখতে পাই। পররাষ্ট্র কূটনীতিতে ব্যর্থতা। সেই ব্যর্থতা যেহেতু জনসমক্ষে আসে না, তাই তা নিয়ে নিরাপদেই থাকেন মন্ত্রণালয়ের আমলাবৃন্দ।

 

 

রাখাইনে এরকম একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করবে চীন। সব ঠিকঠাক। সেটি নির্মাণের আগে শিল্পীর তুলিতে চীনা বন্দর।

 

 

 

 

বাংলাদেশের জন্য এতটুকুই আশার কথা যে দেশগুলো কিছু কিছু শরণার্থী আশ্রয় দেবার কথা, তারা তা দিয়েছে এবং যাদের অর্থ সাহায্য করার কথা, তারা তা করেছে।

 

সমাবেশ এর মূল কারিগর কে? কে এই মুহিবুল্লাহ যার ডাকে ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা একত্র হয়ে সমাবেশ করলো? ২০১৭ সালের রোহিঙ্গাদের সাথেই তিনিও আসেন বাংলাদেশে। কিছুদিন আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে দেখা করে এসেছেন। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে শরণার্থী আমেরিকা গেল কি ভাবে? পাসপোর্ট পেল কোথায়? তাকে ট্রাম্প পর্যন্ত পৌঁছালো কারা? রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এতগুলা ডিজিটাল ব্যানার আসে কি ভাবে?

 

মহিবুললা রোহিঙ্গা শিবিরে ১৫ জন রোহিঙ্গা নিয়ে গঠন করেনArakan Rohingya Society for peace & Human rights নামক একটি সংগঠন।

 

তারপর আরও ৩০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেন। তাদেরকে দিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে লিফলেট বিলি করেন রোহিঙ্গা শিবিরে যাতে লেখা ছিল কেউ ফেরত যাবেন না। আমাদের দাবি পুরণ হলে তারপর আমরা ফেরত যাব। এছাড়াও মুঠোফোন, হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে লোকজন একত্র করে সমাবেশ করেন।

 

মুহিবুল্লাহ’র সাথে সরাসরি যোগাযোগ জাতিসংঘের UNHCR সংগঠনের।

 

এই সংগঠনের কর্মীরাই তাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দেয়।

 

এই সংগঠনের ৫টি দাবী- ১. স্থানীয় আদিবাসী এবং ন্যাটিভ স্ট্যাটাস দিয়ে সংসদে আইন পাস ও তার আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি৷

 

২. নাগরিকত্ব: আরাকান রাজ্যে, বাংলাদেশের ক্যাম্পে, একই সাথে বিশ্বের যাবতীয় জায়গায় থাকা রোহিঙ্গাদের লোকাল সিটিজেনশিপ দিতে হবে।

 

৩. পুনর্বাসন: দখলকৃত জমিজমা ক্ষতিপূরণসহ ফেরত দিতে হবে৷

 

৪. নিরাপত্তা: পুলিশ বাহিনীর সাথে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

 

৫. জবাবদিহিতা: বার্মার স্থানীয় আদালতের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচার করতে হবে।

 

সূত্র: বিবিসি, ২০ আগষ্ট ২০১৯

 

যতগুলো এনজিও কাজ করছে এরে নিয়ে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী টাকা ব্যয় করছে পাকিস্তানের এনজিও “আল-খিদমত” অসমর্থথিত সূত্রমতে রোহিঙ্গা শোডাউনের সব খরচের জোগান দিয়েছে তারা।

 

আবার সব আয়োজনের পরেও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার কার্যক্রম ভেস্তে যাওয়ার পর এ ঘটনার পেছনে বাংলাদেশকেই দায়ী করেছে মিয়ানমার। যদিও রোহিঙ্গারা বলছেন তাদের নাগরিকত্বসহ বেশ কয়েকটি দাবি না মেনে নিলে তারা ফিরবেন না।

 

 

বলা হচ্ছে এইসব দেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের মোট জনসংখ্যার খবরই যখন কেউ জানে না তখন কত পার্সেন্ট শরণার্থী আর কত পার্সেন্ট দেশে টিকে আছে কে বলতে পারবে? বিভিন্ন দেশের আশ্রয়ের খতিয়ানও কি সঠিক?

 

 

 

 

বাইরের দিক থেকে এই শরণার্থী ক্যাম্প আপাতত শান্ত মনে হলেও ভেতরে-ভেতরে অস্থিরতা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।এর মধ্যে বহুমুখি দ্বন্দ্ব-সংঘাত আর সমস্যার পর সমস্যা দেখা যাচ্ছে। রয়েছে রোহিঙ্গাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, প্রশাসনের দুশ্চিন্তার চাপ, এনজিও কর্মীদের উদ্বেগ এবং সে মত এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ, স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ…। সবকিছু মিলিয়ে এ এক ভয়াবহ সংকট। যা রাজধানী শহরে বসে দৃশ্যত অনুভব করা গেলেও উপলব্ধি করা যাবে না। এই সংকট বাংলাদেশকে যেমন বিপদে ফেলেছে, তেমনি সুযোগও করে দিয়েছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি এবং ভূমিকা রাখার সক্ষমতা প্রদর্শনের। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশ সরকারের দুর্বল অপেশাদার পররাষ্ট্রনীতি এবং কর্মকর্তাদের দক্ষতার অভাবে সে সব ভেস্তে গেছে। এখন ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ দশা! আচ্ছা, আমরা চীন ভারত, রাশিয়া, আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানি, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মুসলিম ভাতৃত্বের তবারক ফেরি করা সৌদি আরব এরা কি এই সংকটের সমাধান করবে? আমরা প্রমাণ পেয়েছি, তারা তা করেনি, করবেও না। তাহলে কে করবে? নাকি আদৌ কেউ করার মত নেই?

 

 

General Min Aung Hlaing the most powerful man of the land!

 

 

 

 

না। আছে। মায়ানমারের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর এক জেনারেল আছেন। এই জেনারেল মিন অং হালাইং লোকটিই পারে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে! ভাবতে খটকা লাগে না? ঘটনা সেরকমই। এমনকি আন্তর্জাতিক মহল অর্থাৎ মায়ানমারে যারা বাণিজ্য, পোর্ট, দূর্গ, বাজার, শ্রমবাজার, সমুদ্রবন্দর এইসব করে যাদের দীর্ঘমেয়াদের স্বার্থ রয়েছে সেই দেশগুলোর ডেলিগেটরাও এই জেনারেলের সঙ্গে কথা বলে। আং সান সুকী ওখানে জাস্ট পুডল!

 

Here’s the one man in Myanmar who can end Rohingya misery

 

General Min Aung Hlaing is arguably ‘the most powerful man in the land’. Even foreign governments – including China and the US – appear unwilling to stand in his way

 

আমরা কি এখন মিঃ জেনারেল Min Aung Hlaing এর মুখ চেয়ে বসে থাকব, কবে তার মর্জি হয়?

 

 

মনজুরুল হক

 

২৯ আগস্ট, ২০১৯

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: