Joseph Stalin and his daughter Svetlana, Moscow, 1933

| বিশ্ব সর্বহারা শ্রেণির মহান নেতা কমরেড যোসেফ স্তালিনকে জন্ম দিনে রেড স্যালুট |
আমরা এতটুকুই পারি কমরেড! আমাদের লাইফ কনভয় থেকে লড়াই থেমে গেছে। আমরা পুঁজিবাদী বুর্জোয়াদের লাথি-গুঁতো খেয়ে কেঁচোর মত গুটিয়ে আত্মমেহন করতে থাকি….এই শোষকদের লাথিটা আগের শোষকদের মত কী-না সে তুলনা করে নিজেকে প্রবোধ দিই। আমরা আমাদের শ্রেণির জনগণকে জাগাতে পারি না, বাঁচাতে পারি না, তাই নিজেরাও বাঁচতে পারি না।

এখন রাশিয়াতে তাঁর জন্মবার্ষির্কী নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ হচ্ছে। তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে হাজার হাজার মানুষ রেড স্ক্যয়ারে ছুটে যাচ্ছ গত কয়েক বছর ধরে। এটা যে তাঁকে সত্যি সত্যিই শ্রদ্ধা করে কিংবা আদর্শ নেতা মেনে করা হচ্ছে তেমন কোনো শক্ত প্রমাণও নেই। হতে পারে নব্য জাতীয়তাবাদী রাশিয়া সোভিয়েতের শক্তিমত্তাকে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। হতে পারে বিশ্বকে লুটপাট করা আমেরিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লুটপাট করতে চাইছে রাশিয়া!

এতকিছুর পরও খোদ রাশিয়ায়, যেখানে স্তালিনকে ত্যাগ করা হয়েছিল সেখানেই তিনি কিছুটা হলেও স্বমহিমায় প্রত্যাবর্তন করেছেন। অথচ আমাদের দেশের একপেশে ইতিহাস জানা কমিউনিস্টরা জেনে-না জেনে ভোল পাল্টানোর মচ্ছবে আশির দশকে স্তালিনকে ‘ত্যাগ’ করেছে। তাদের কাছে সেই ‘ত্যাগের’ শক্তিশালী কোনো ‘কারণ’ও নেই! তার বিরুদ্ধে অভিযোগেরও কোনো শক্ত প্রমাণ নেই। তার পরও সেই ত্রিশের দশকের ইবলিস বুর্জোয়াদের মত এরাও ঢালাওভাবে স্তালিনের বিরোধীতা করে চলেছেন। এবং এটা এক ধরণের ‘ফ্যাশন’ এর মত! যেন স্তালিনের বিরোধিতা না করলে আপটুডেট থাকা যাবে না!

আজকের অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে সোভিয়েত আমলের সমস্ত গোপন নথিপত্রই ঘেঁটে দেখে খুব সহজেই বের করা সম্ভব, ঠিক কতজন সেদিন সোভিয়েত ইউনিয়নে বন্দী ছিলেন, কে কত বছর সেখানে বন্দিশালায় কাটিয়েছেন, কতজন বন্দী অবস্থায় মারা গেছেন, বা ঠিক কতজনকে সেদিন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রকৃত সংখ্যা জানার ক্ষেত্রে আজ আর কোনো বাধা নেই। কিন্তু কী পাওয়া গেল সেখানে? দেখা গেল, এতদিনের বহুল প্রচারিত গল্পের সাথে প্রকৃত সত্যের মিল নেই। কারা এই গল্পগুলো রটিয়েছিল তা খুঁজলে দেখা যাবে, হিটলার থেকে হার্স্ট, কনকোয়েস্ট থেকে সোলঝেনিৎসিন, সকলেই এর সঙ্গে যুক্ত। হালে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান CIA স্বীকার করেছে যে স্তালিনকে কালিমালিপ্ত করে নিশ্চিহ্ন করার জন্য তারা কোটি কোটি ডলারের ফান্ড পেয়েছিল এবং বিশ্বজুড়ে সেই টাকা খরচ করে দালাল এবং ভাঁড় কিনে তাদেরকে দিয়ে স্তালিনের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা হয়েছিল।

১৯২০ সালের কাছাকাছি যখন বার্ট্রান্ড রাসেল ঝটিকা সফর সেরে “দ্য থিয়োরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব বলশেভিজম” নামে একটি সমালোচনামূলক বই লিখেছিলেন, তখন সেই বইটির পর্যালোচনা করতে গিয়ে সুপরিচিত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক কার্ল র্যায়ডেক লিখেছিলেন, যখন সোভিয়েত জনগণ ও তাঁদের নেতৃবৃন্দ সমস্ত অসুবিধাকে জয় করে কঠিন কাজ করে চলেছেন তখন রাসেলের পক্ষে খুবই সহজ ও স্বাভাবিক, দেশে ফিরে গিয়ে নিজের বাড়ির ঘরের মধ্যে চুল্লির উত্তাপের সামনে আরামে বসে হাতে তৈরি পানীয়র পাত্র নিয়ে পাইপ টানতে টানতে বলশেভিকদের দুষ্কর্মের রোমন্থন করা। এমনকি যদি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সাবেক আমলের ইট দিয়ে সাহসী নতুন বিশ্বকে গড়ে তুলতে হয় সেখানে বলশেভিকদের কাছে পরিপাটি করে কাজ করা সম্ভব ছিল না। লেনিনের মৃত্যুর পর স্তালিন যিনি ট্রটস্কি ও জিনোভিয়েভের মতো নন, লেনিন ও তাঁর শিক্ষার প্রতি সর্বদাই বিশ্বস্ত ছিলেন, খুব দ্রুতই সমকক্ষদের মধ্যে প্রথম স্থানে উঠে যান।

এমনকি আইজাক ডয়েটশার কখনো কখনো স্তালিনকে ভেবেছেন ‘প্রাচ্য জাতীয়’ ধূর্ততায় সজ্জিত এক গভীর প্রতারণাপূর্ণ রাজনৈতিক চালক, যিনি অসীম ধৈর্যের সঙ্গে একজনকে আরেকজনের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন এবং অবশেষে শীর্ষ অবস্থানে উঠে গেছেন। তিনিও স্তালিনের বিরুদ্ধাচারণ করার পেছনে কোনো নিরেট যুক্তি হাজির করতে পারেননি।

অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শত্রুতার বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে এবং সোভিয়েত রাষ্ট্রকে যতটা সম্ভব গড়ে তুলেছিলেন ও সংহত করেছিলেন। স্তালিনই সমাজতান্ত্রিক শিল্পায়ন ও কৃষির খামারিকরণের লাইনকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে সোভিয়েত পার্টি ও জনগণকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আবার, স্তালিনই পরে পার্টি ও জনগণকে নেতৃত্ব দিয়েছেন যখন সোভিয়েত লাল ফৌজ এক অকল্পনীয় কঠিন লড়াইয়ে (১৯৪১-৪৫) জয়ী হয়েছেন এবং ভয়ংকর ফ্যাসিস্ট অক্ষশক্তিকে পরাজিত করে এক বিশ্বব্যাপী ঐতিহাসিক বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। এই দায়িত্ব পালনের মধ্যবর্তী সময়ে স্তালিনই পার্টিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন যখন পার্টি সর্বপ্রকার সুবিধাবাদ ও বিকৃতিবাদ-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, ট্রটস্কি, জিনোভিয়েভ ও কামেনেভ এবং পরে বুখারিন ও রাইকভ পরিচালিত গোষ্ঠীর কার্যত পরাজিত মনোভাব ও বিভেদকামী কার্যকলাপকে উচ্ছেদ করে মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে রক্ষা ও বিকশিত করেছে। সাফল্যের এই প্রেক্ষাপটে কেউ কেউ সমাজতন্ত্রের বিজয়ের সঙ্গে একীভূত হয়ে তাঁর নাম হৃদয়ে ও ঠোঁটে নিয়ে যোদ্ধারা স্তালিনগ্রাদে, বার্লিনের মুখে এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সমস্ত ফ্রন্টে ফ্যাসিস্ট হিটলারের বাহিনীর কণ্ঠনালি ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে।

স্তালিনবিরোধী এইসব রূপকথার গল্পের প্রধান উপজীব্য ছিল গুজব, পরনিন্দাচর্চা এবং অসমর্থিত জনশ্রুতি। একটা বিপুল সমর্থিত জনশ্রুতি আছে ইতিহাস নিয়ে। “ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক ইতিহাস লেখা যায় না যতক্ষণ ইতিহাসবিদ কোনো না কোনোভাবে যার বিষয়ে বা যাকে নিয়ে লিখছেন তার সাথে মনস্তাত্ত্বিক যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন।”
আর নির্মম সত্য হচ্ছে অধিকাংশ মানুষ এই পরামর্শটি অবজ্ঞা করেন!

স্তালিনকে নিয়ে লক্ষ লক্ষ পৃষ্ঠা নিন্দা, বিষোদগার, হিংসা বর্ষণ, সমালোচনা করা হয়েছে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে কোনো একজন মানুষকে নিয়ে এত এত নিন্দুকের তীর ছুটে গিয়েছে যা রীতিমত অভূতপূর্ব। স্তালিন পার্টিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার পরও তাকে নিয়ে কমিউনিজমবিরোধীরা এতটা সরব ছিল না। কিন্তু স্ত্যালিনের হাতে জার্মানির পতন হলে সকল কৃতিত্ব স্ত্যালিনের হাতে ওঠাটা মেনে নিতে পারেনি রুজভেল্ট, চার্চিলরা। জার্মান অগ্রগামী বাহিনী যখন মস্কো দখলের জন্য তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে তখনো প্রতিআক্রমণের বদলে ‘কৌশলগত পশ্চাদপসারণের’ নাটক করতে চেয়েছে রুজভেল্ট, চার্চিল।

বিশ্বযুদ্ধের আয়ুষ্কাল ৫ বছর ৮ মাস। এই দীর্ঘ সময়ে একের পর এক জনপদ দখল করে নিয়েছিল জার্মান বাহিনী। প্রায় ৬ কোটি মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছিল। যার মধ্যে ৬০ লাখ মানুষকে বন্দিশিবিরে প্রাণ দিতে হয়েছিল। একদিকে জার্মান বাহিনীর অগ্রাভিযান অন্যদিকে জাপানের অগ্রাভিযান। বিশ্বের দুই প্রান্ত থেকে দখলদারিত্ব কায়েম হতে থাকলে সে সময়কার ব্রিটিশ শাসনাধীনের ভারতকেও ২৫ লাখ সৈন্য সরবরাহ করতে হয়েছিল ইয়োরোপ, এশিয়ায়। তাদের মধ্যে অনকে বাঙালিও ছিল। পুঁজিবাদীরা সোভিয়েত ইউনিয়ন আর সমাজতন্ত্রের সবকিছুর বিরোধিতা করলেও এটা স্বীকারে কুণ্ঠাবোধ করে না যে বিপুল বিক্রমে অগ্রসর হওয়া জার্মান বাহিনীর হাতে রাশিয়ার পতন হলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের অর্ধেকটা হিটলারের অধীনে চলে যেত এবং বিশ্বের মানচিত্র নতুনভাবে আঁকতে হতো। সেই ভয়াবহ বিপদ থেকে বিশ্বকে রক্ষা করেছিলেন জোসেফ স্তালিন। তার বিচক্ষণ আর সাহসী নেতৃত্বে জার্মান বাহিনীর অগ্রাভিযান রুখে দিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের লাল ফৌজ।

ইয়োরোপ-আমেরিকা যুদ্ধজয়ের এবং আত্মত্যাগের যে বড়াই করে সেটিও বাতিলযোগ্য, কারণ ওই যুদ্ধে সোভিয়েত সৈন্য মারা গিয়েছিল প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ! তার বিপরীতে বাকি মিত্র বাহিনীর নিহত সৈন্য সংখ্যা মাত্র ১০ লাখ!
কিন্তু স্তালিনের সেই কৃতিত্বকে খাটো করে তারা কেবলই পশ্চিমা কৃতিত্ব দেখে। কখনোই আসল বীরত্ব দেখে না। এমনকি কখনো কোনো আলোচনায় সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা বলা হলেও স্তালিনের অবদানের প্রসঙ্গ কৌশলে বাদ দেয়া হয়। স্তালিনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জন্য রীতিমত আমেরিকা ব্রিটেনে ফান্ড তৈরি করা হয়েছিল। শত শত লেখক, সাংবাদিক, ইতিহাসবিদ ভাড়া করা হয়েছিল। তাদের একমাত্র কাজ ছিল যে যেখান থেকে পারে স্তালিনবিরোধী নোট, ঘটনাবলির বর্ণনা, বিবরণ, দলিল, চিঠিপত্র যোগাড় করে তার সাথে মনের মাধুরী মিশিয়ে রূপকথার গল্প তৈরি করে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেয়া।

এই জন্মদিনের লেখায় স্তালিনের অবদানের যে বিশাল ভাণ্ডার তা পুরোপুরি বলা যাবে না। তাই সংক্ষেপে-

সমাজতান্ত্রিক শিল্পায়নে লেনিনের কর্মসূচি বাস্তবায়িত করে সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেকে একটি পশ্চাৎপদ কৃষিপ্রধান দেশ থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী শিল্প-সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরিত করেছিল।

ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছড়িয়ে থাকা কৃষকদের একক জমিজমাকে বৃহৎ যন্ত্রচালিত সমাজতান্ত্রিক খামারে ঐক্যবদ্ধ করার লেনিনের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করা হয়েছিল।

মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বিকাশে স্তালিনের অনেকগুলো তাত্ত্বিক রচনা খুবই উল্লেখযোগ্য ছিল। এইসব রচনায় তাঁর চিন্তার-পাণ্ডিত্যের তুলনাহীন সহজ সরল প্রকাশ, অগ্রণী শ্রমিকদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক চেতনা সঞ্চারে এবং সমগ্র কমিউনিস্ট প্রজন্মকে গড়ে তোলার কাজে বিপুল অবদান রেখেছিল।

জাতি-সম্পর্কিত সমস্যা প্রসঙ্গে লেনিনের শিক্ষাকে স্তালিন আরও ব্যাপক ও উন্নত করেছিলেন। জার শাসনে নিপীড়িত জাতিসমূহ নবজীবনে জেগে উঠেছে; প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটিয়েছে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নকে জাতিসমূহের একটি পরিবারে পরিণত করেছিল।

স্তালিনের শিক্ষা বলে, শান্তি তখনই সুরক্ষিত হতে পারে যদি বিশ্বের জনগণ শান্তির স্বার্থ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ও তার জন্য লড়াই করে এবং সারা বিশ্বজোড়া লক্ষ লক্ষ শান্তিকর্মীদের এক নতুন যুদ্ধের প্ররোচনাকারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে চালিত করে। সোভিয়েত ইউনিয়নই হলো আজ শান্তি ও জনগণের মধ্যে মৈত্রীর দৃঢ় রক্ষক।
খুবই কঠিন এক ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে সমাজতন্ত্রের নির্মাণ প্রক্রিয়ায় ১ মে, ১৯৪৫ কমরেড স্তালিনের নেতৃত্বে সোভিয়েত লালফৌজ বার্লিনের রাইখ্স্ট্যাগে রক্তপতাকা উড়িয়ে মানবজাতির চরমতম শত্রু ফ্যাসিবাদের পরাজয় ঘোষণা করেছিলেন।

ফ্যাসি-বিরোধী যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল প্রথম স্থানে। এই যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছিলেন ২ কোটি সোভিয়েতবাসী। যুদ্ধের সময় শিশুসহ ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে জার্মানিতে দাস শ্রমিক হিসেবে বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যুদ্ধ চলাকালীন সোভিয়েতে ৫৩ লক্ষ যুদ্ধবন্দির মধ্যে যুদ্ধের শেষে মাত্র ১০ লক্ষকে জীবিত পাওয়া গিয়েছিল। ফ্যাসিস্টদের আক্রমণে চরম ক্ষতি স্বীকার করতে হয়েছিল সোভিয়েতের ছোট-বড় মিলিয়ে ১ হাজারেরও বেশি শহরকে, ৭০ হাজার গ্রামকে, ৩২ হাজার শিল্প সংস্থাকে এবং ৯৮ হাজার যৌথ ও রাষ্ট্রীয় খামারকে। কমরেড স্তালিনের সুযোগ্য নেতৃত্বে সমস্ত যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রমাণ করে দিয়েছিল তার সমাজতান্ত্রিক দৃঢ়তা। শুধু তাই নয়, পূর্ব ইয়োরোপের সদ্য মুক্ত হওয়া দেশগুলোতে সমাজতান্ত্রিক গঠনকার্যেও সোভিয়েত তার সমগ্র শক্তিকে ব্যবহার করেছিল। এইভাবে যুদ্ধে বীভৎসতা কাটিয়ে কমরেড স্তালিনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে দুনিয়ার তাবৎ শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছিল।

এর পরের ইতিহাস পৃথিবীকে বারে বারে চমকে দেয়ার ইতিহাস। গোটা বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে দেখল এক অকুতোভয় যোদ্ধা জাতি কী বিপুল বিক্রমে পৃথিবীকে রক্ষা করল। গোটা পৃথিবীকে এক রক্তপিপাসু জাতির দাসত্ব করা থেকে বাঁচাল রেড আর্মি, বিশেষত কমরেড স্তালিনের তীক্ষ্ণ ক্ষুরধার বুদ্ধি, অকপট দেশপ্রেম আর জনগণের ওপর অগাধ বিশ্বাস।

জানা যায় যুদ্ধে তাঁর প্রিয় পুত্রকে বন্দী করে জার্মানরা। বন্দী বিনিময় করতে চায় তাদের ফিল্ড মার্শাল ফ্রেডরিখ পউলাসের সাথে। তিনি রাজি হননি! এই একটি ঘটনাই প্রমাণ করে দেয় স্তালিনের কাছে দেশ আর নিজের সন্তানের মধ্যে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ? লাল ফৌজের সর্বাধিনায়ক স্তালিন বললেন : I will not trade a Marshal for a Lieutenant!

তাঁর সমালোচকরা অবশ্য কল্পনাও করতে পারবেন না যে দেশের জন্য স্তালিন উৎসর্গ করে দেবেন নিজের ছেলেকেই!

দুনিয়ায় শ্রেণিহীন সমাজ গঠনের সংগ্রাম যতদিন ধরে চলবে, নিপীড়িত হৃদয়ের প্রতি স্পন্দনে অনুপ্রেরণার স্ফুলিঙ্গ হয়ে রইবেন কমরেড স্তালিন।

তথ্য সূত্রঃ “স্তালিন মিথ্যাচার এবং প্রাসঙ্গিকতা” – মনজুরুল হক, ঐতিহ্য প্রকাশন, ঢাকা, ২০১৭

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s