বিশ্ব সর্বহারা শ্রেণির মহান নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন-এর ৯৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

বিশ্ব সর্বহারা শ্রেণির মহান নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন-এর ৯৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ। মাত্র ৫৩টি বছর স্বশরীরে আমাদের সাথে ছিলেন তিনি। এর পর থেকে চেতনায় আছেন এবং থাকবেনও। আজ বিশ্বের সকল সর্বহারার জন্য বেদনার্ত দিন। সেই সঙ্গে নতুন করে শপথ নেবারও দিন। এ দিনে কবি সুকান্তর মত জনে জনে ধ্বনি হোক- বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই লেনিন!

লেনিনের অন্যতম শিক্ষা ছিলঃ কোন ব্যক্তি, বিষয়, আন্দোলন অথবা কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন পর্যালোচনা করতে হলে তৎকালীন বাস্তব পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় অবস্থা, শ্রমিকশ্রেণীর অবস্থান, শোষকশ্রেণী ও শোষিত শ্রেণীগুলোর পারস্পরিক শক্তির অবস্থা এবং সর্বহারা শ্রেণীর চরম লক্ষ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা বিষয়ের তৎকালীন আশু কর্মসূচীর বিশ্লেষণ করতে হবে। এই ধরনের বিচারেই সঠিক মার্কসবাদী মূল্যায়ন বা পর্যালোচনা বেরিয়ে আসে। ইতিবাচক ও নেতিবাচক কতগুলি ঘটনার যোগ ও বিয়োগ ফলের দ্বারা তা হয় না। মার্কসবাদী দৃষ্টিতে একটা সামগ্রিক, সার্বিক ও অখণ্ড চিন্তা বেরিয়ে আসবে, নতুবা খণ্ডিত বা আংশিক বিচার হয়ে যায়।

রাশিয়ার বুকে জার স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বলশেভিক পার্টি গড়ে তোলা, শোষিত শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে সফল করে তোলবার জন্য সংগ্রাম, ট্রটস্কিবাদের বিরুদ্ধে তীব্র আদর্শগত সংগ্রাম, বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতিতে সোভিয়েত সমাজতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখবার সংগ্রাম। স্তালিন যুগ শুরু হওয়ার আগে চরম বৈরী পরিবেশে বিপ্লব রক্ষা করার কাজে জীবন উৎসর্গ করেছেন লেনিন।

কমরেড স্তালিনই সর্বপ্রথম কমরেড লেনিনের শিক্ষা ও তত্ত্বগুলোকে সূত্রবদ্ধ করে সৃষ্টি করেন —‘লেনিনবাদ’। এর সংজ্ঞা নির্ধারিত করে তিনি বলেছিলেন : লেনিনবাদ হলো সাম্রাজ্যবাদ ও শ্রমিক-বিপ্লবের যুগের মার্কসবাদ। আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, লেনিনবাদ হলো সাধারণভাবে শ্রমিক-বিপ্লবের মতবাদ ও রণকৌশল এবং বিশেষভাবে এ হলো শ্রমিকশ্রেণীর মতবাদ ও রণকৌশল।

মাওবাদ নিয়ে অনেকের বিরূপ মতামত থাকলেও মার্কসবাদ-লেনিনবাদ নিয়ে কারো ‘দ্বিমত’ নেই। লেনিনকে নিয়ে কমিউনিস্ট, বামপন্থী, প্রগতিশীলদের উপলব্ধি যা-ই থাকুক সাধারণ মানুষ এবং মতলববাজ মূর্খ মিডিয়ার ভূমিকা তীব্র বিরোধীতাকারী। বাংলাদেশের তথাকথিত ‘বিবেকের কণ্ঠস্বর’ মিডিয়া যে কতটা নোংরা এবং মূর্খ তার কয়েকটি নমূনা দেখা যাকঃ

১। ‘বামপন্থী’ মতিউর রহমানের প্রথম আলো ৬ মে ২০১২ তারিখ লিখছেঃ “স্ট্যালিনের বিষে লেনিনের মৃত্যু!” শিরোনামে জঘন্যতম নিউজটির ভেতরে লিখেছে- “গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, যৌনবাহিত সিফিলিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান লেনিন।”
_’গণমাধ্যমসূত্র’! কী স্বাস্থ্যবান সাংবাদিকতা!

২। ‘মহান’ বাংলা উইকিতে লেখা হয়েছে- “বিশ্বব্যাপী লেনিন একজন বিতর্কীত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিগণিত।”
_ বাংলা উইকি কারা পরিচালনা করেন সেটা গন্ধ শুকেই বোঝা যাচ্ছে।

৩। ২৯ অক্টোবর ২০১৭ ইত্তেফাক লিখছে- “গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই লেনিনের লাশ কবর দেয়া নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকে। অনেকেই মনে করেন, সোভিয়েত রাষ্ট্রের পতনের পর বলশেভিক নেতার লাশ সংরক্ষণ করা বা শেষকৃত্য না করে জনসমক্ষে প্রদর্শন কোনো কাজের কথা নয়।”

৪। বাংলাদেশের জাতীয় প্রকাশনা স্তরে লেনিনকে নিয়ে কোনো গ্রন্থ নেই। বাংলা একাডেমিরও নেই! এই শূণ্যতা পুরণের জন্য কয়েকটি প্রকাশনী লেনিনের রচনাবলী ভেঙ্গে ছোট ছোট পুস্তিকা প্রকাশ করেছে। দামও বেশি নয়। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে এইসব পুস্তিকায় লেনিনকে অসমাপ্ত খন্ডিত বিকৃত করা হয়েছে! লেনিনের বলশেভিক পার্টি যে তীব্র সশস্ত্র দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ করেই শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে এই সাধারণ তথ্যটিও চেপে যাওয়া হয়েছে! এই সব পুস্তিকা পড়লে মনে হবে লেনিন এক ‘সান্তাক্লস’! এই কাজ শুধু ভুল নয় রীতিমত অপরাধ।

এরকম ভন্ডদের যুগে আমরা সেই লেনিনকে স্মরণ করব, যে লেনিন তীব্র বল প্রয়োগের মাধ্যমে রাশিয়ার জনগণকে সামন্ত নিগড় থেকে মুক্ত করেছিলেন।
এরকম বৈরী পরিবেশে বিশ্ব সর্বহারার মহান নেতা কমরেড লেনিনকে স্মরণ করাটাও আজ ‘শত্রু বেয়োনেট রুখে দাঁড়ানোর মত!

…………………..
২১ জানুয়ারী, ২০২০

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s