লোপ্পা ক্যাচ ফেলে দিলে আমরা বলতাম; ‘লম্বা সময় ধরে প্রাকটিস না করলে এরম ক্যাচ ছাড়া যায় না!’ ঠিক তেমনি আপনি যদি পণ না করে বসেন, কোভিড১৯ এ আপনার মৃত্যু হবে না। কীভাবে? স্টেপ বাই স্টেপ বলে যাচ্ছি…

আমরা কোন পরিবেশে বসবাস করি? যেখানে ভয়ঙ্কর সব ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, জীবানু, এন্টি ড্রাগ এলিমেন্টস গিজগিজ করছে। তার পরও আমরা আক্রান্ত হচ্ছি না। কেন? কারণ আমাদের শক্তিশালী ইমিউনিটি সিস্টেম আমাদের প্রটেক্ট করছে। ইমিউনিটি সিস্টেম কী? ব্রিটিশ গবেষক লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন ও ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক মার্টিন হিববার্ড এর দাবি, ‘হার্ড ইমিউনিটি (Herd Immunity)-র মাধ্যমে এই মহামারির মোকাবিলা সম্ভব।’

হার্ড ইমিউনিটি এর সাহায্যে অন্ত্রে এক ধরনের ইমিউনোগ্লোবিন সৃষ্টি হয়, যা রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে এবং একজনের শরীর থেকে অন্যের শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাস-সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে।

এখন আমরা জেনে গেছি, নোবেল করোনাভাইরাসের প্রতিশেধক নেই। তাহলে তাকে ঠেকাব কি করে? সিম্পল। আমরা আমাদের ইমিউনিটি শক্তিশালী করেই এই মারণব্যাধিকে রুখে দেব। এখন দেখা যাক ইমিউনিটি পাওয়ার কি করে বাড়ানো যায়।

১। পর্যাপ্ত রেস্ট নিন। ফুরফুরে মেজাজে থাকুন। সব সময় পজেটিভ ভাবুন। পৃথিবী আসলেই খুব সুন্দর।

২। নিয়মিত ব্যায়াম। হার্ড এক্সারসাইজ না। হাল্কা। হাঁটা এবং যেটা আপনার কম্ফোর্ট লাগে সেটা। ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ। বুকডন বা ইয়োগা টাইপ।

৩। যে কোনো ব্রান্ডের একটা মাল্টিভিটামিন নিন। সাথে ভিটামিন-সি আছে এরম ফলমূল, শাক-সব্জি বেশি বেশি করে খান।

৪। নিয়মিত গরম পানি খান। একটা ফ্লাস্কে পানি কুসুমগরম করে রাখুন। মাঝে মাঝে চা-খাওয়ার মত করে খান। এতে গলা খুসখুস করলে তা কমবে এবং ইমিউনিটি বাড়তে থাকবে।

৫। এবার কমন বিষয়গুলো ফলো করুন। বাইরে না যাওয়া। ঘরের ভেতর থাকা। মাস্ক ব্যবহার করা (রোজ রোজ এত মাস্ক কোথায় পাবেন? একটা মাস্কই ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। ২/৩ ঘন্টা চড়া রোদে ভাইরাস মরে যায়)।

৬। যে কোনো মানুষের থেকে অন্তত ১ মিটার দূরত্ব রেখে চলুন। বাজারে, দোকানে, ব্যাংকে, বাড়িতে সবখানে এটা করুন। মুখে, নাকে, চোখে হাত দেবেন না। আর ২/৩ ঘন্টা পর পর সিম্পল খারযুক্ত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।

৭। খাবারের লিস্ট থেকে কার্বো বাদ দিন। মাছ-মাংশও তেমন দরকার নেই। প্লান্ট প্রোটিন নিন। শাক-সব্জি, ফল-মূল থেকে প্রোটিন নিন। দুরকম ডাল আর চাল দিয়ে সব্জি খিচুড়ি পাতলা করে তৈরি করে নিলে সারা দিন খেতে পারবেন। এটা হাই প্রোটিন। সস্তাও। গ্যাসের রুগি হলে কম খাবেন।

৮। প্রতিদিন বাড়ির সকলের টেম্পারেচার মেপে দেখবেন। তাতে মনে জোর পাবেন- আমরা সবাই সুস্থ্য আছি এটা ভেবে।

এই হলো আপনার ইমিউনিটি বাড়ানোর মেডিসিন। সিম্পল না? এবার বিকেলে বিকেলে একটু খোলা হাওয়ায় হাঁটুন। হাঁটলে শরীরে বাড়তি ফুয়েল স্টোর হয়। সেই ফুয়েলই আপনাকে পর দিন চালিত করবে। ভালো করে ঘুমান। ছোট ছোট পরিশ্রমের কাজ করুন। এ্যালকোহল, নিকোটিন আপাতত অফ রাখুন। “প্রত্যেকটা দ্রব্যে ভাইরাস লেগে আছে?” এরকম ভীতি থেকে সরে আসুন। মনে রাখবেন ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া ছাড়া জীবন হয় না। আমাদের চার পাশে লক্ষ লক্ষ ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে আছে। তার পরও আমরা দিব্যি বেঁচে আছি ৪০ লক্ষ বছর ধরে।

এখন যে ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে সেটা বেশি দিন থাকবে না। আমাদের দেশে যত খারাপ চিকিৎসা ব্যবস্থাই হোক সাকুল্যে মৃত্যু হতে পারে ২/৩ হাজার মানুষের। এই ধাক্কাটা সামলে দিতে পারলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকবে। এপ্রিলের মাঝামাঝি ক্যাজ্যুয়ালটি অর্ধেকে নেমে আসবে। মে-জুনে এখনকার চার ভাগের এক ভাগও থাকবে না। এভাবে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পৃথিবী থেকে নোবেল করোনাভাইরাসের বিদায় ঘটবে।

বাঁচার চেয়ে আনন্দ কিছুতে নেই।
তার পরও ভয় লাগলে, মন খারাপ হলে শ্রীকান্ত আচার্যর এই গানটি শুনুন-

….পথে পথে চলতে চলতে হঠাৎ একদিন থেমে যাবো
মেঘলা রাতে লুকিয়ে থেকে রূপোর আলোয় জ্যোস্না পাবো…

[অধ্যাপক মার্টিন হিববার্ড-এর জার্নাল এবং কলকাতার এক ডাক্তারের পরামর্শ থেকে লেখা]

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s