“চরমপন্থিদের ধরতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী (র‌্যাব-পুলিশ) কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গুলি খাবে?”

ca848-gun

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৭ |

২০০৬ সালের শেষের দিকে যখন আওয়ামী লীগ “হরতাল” কর্মসূচীর বদলে “অবরোধ” পালন করছিল, সে সময় প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কোথাও না কোথাও পুলিশের ব্যাপাক “শৃঙ্খলা আনয়ন কর্মসূচী” মানুষের চোখসওয়া হয়ে উঠেছিল। একটি অবরোধের কথা মনে আছে, সেই অবরোধের ডাক দেওয়ার পরেরদিনই পুলিশ বেধড়ক গণগ্রেফতার শুরু করে। পথে-ঘাটে একটু মলিন-রুক্ষ্ণ চেহারা দেখলেই কট!রাতারাতি নাজিমুদ্দিন রোডের হলুদ দালানটি ভরে ওঠে! পরদিন খবর ছাপা হয়..”পুলিশের গণগ্রেফতারের পর জেলখানায় বন্দিদের ঠাঁই হচ্ছেনা! গ্রেফতারকৃতদের ছাড়িয়ে আনতে জেল গেটে লম্বা লাইন! শুরু হয়েছে গ্রেফতার বাণিজ্য”! সেই সাথে আরো একটি ছবি ছাপা হয়। ছবিতে দেখা যায়…………. একটি দড়িতে ১০/১৫ জনকে বেঁধে রাজপথ দিয়ে হাঁটিয়ে নেওয়া হচ্ছে! এই “অপার মহিমান্বিত” দৃশ্যটি দেখে তা নিয়ে এক কলাম লেখক তার নিয়মিত কলামে প্রতিবাদী কলাম লেখেন। সেই দিনই তোফায়েল আহমেদ, যুব মহিলা লীগের নাজমা বেগম সহ আরো বেশ ক’জন আওয়ামী লীগ নেতা ওই কলাম লেখককে ফোন করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মধ্যে এডভোকেট সাহারা খাতুনও ছিলেন কি?
হবেওবা। সাহারা খাতুন কি রাজপথে একাধিকবার বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডের বিরোধীতা করেননি? সেই সাহারা খাতুন এখন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।

এখন তিনি কি ভাষায় কথা বলছেন দেখুনঃ

“আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৈরি করা তালিকা ধরেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থি ও সন্ত্রাসী দমনে অভিযান চলছে, তবে এক্ষেত্রে বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটছে না। চরমপন্থিদের ধরতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী (র‌্যাব-পুলিশ) কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গুলি খাবে?’ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে না। যারা মারা যাচ্ছে, তারা পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধেই মারা যাচ্ছে।’ 
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেশ অবনতি হয়েছে। চরমপন্থি সংগঠনগুলোর তৎপরতায় খুনোখুনি বেড়ে যাওয়ায় র‌্যাব ও পুলিশ ওই অঞ্চলে অভিযানে নেমেছে।
 
কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরে রোববার ভোররাতেও কথিত বন্দুকযুদ্ধে দু’জন নিহত হয়। দুই সপ্তাহে কুষ্টিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের সংখ্যা ৬। ‘দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থিরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই অঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশ ও র‌্যাব প্রধান ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি দেখে এসেছেন।’ ‘চরমপন্থি, সন্ত্রাসী, জঙ্গিদের দমন করতেই হবে এবং এজন্য যে কোনো ধরনের ব্যবস্থা তারা (বাহিনী) নেবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তালিকা ধরেই অভিযান চালানো হচ্ছে।’
 
‘চরমপন্থি সংগঠনগুলোর সঙ্গে জড়িতদের তালিকাভুক্ত করতেই হবে।’
 
‘চরমপন্থি ও সন্ত্রাসীরা তাদের কৌশল পাল্টাচ্ছে। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও প্রক্রিয়া পরিবর্তন করতে হবে।”
 

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার বলছে, গত আগস্ট মাসে দেশে র‌্যাব ও পুলিশের ‘ক্রসফায়ারে’ ১৯ জন নিহত হয়। বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন চরমপন্থি সংগঠনের সদস্য। এঘটনাগুলোকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বলে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাকালেও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের ব্যাপক সমালোচনা করেছিল।

র‌্যাবের এক পরিসংখ্যানে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ র‌্যাব গঠিত হওয়ার পর থেকে গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৪৭২টি ঘটনায় ৫৭৭ জন ‘ক্রসফায়ারে’ মারা গেছে। 

অথচ এই সাহারা খাতুন, এই আওয়ামী লীগ চার দলীয় জোট সরকারের আমলে রেব এর বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ড নিয়ে খুব জোরালো ভাবে সোচ্চার ছিল। তাদের নির্বাচনী মেনিফেস্টেও বলা ছিল- আমরা ক্ষমতায় গেলে রেব,পুলিশের সকল বিচারবর্হিভূত হত্যা বন্ধ করব। কিছু গড়বুদ্ধির মানুষ এতে বিস্মিত হলেও রাজনৈতিকভাবে সচেতন লোকদের জন্য এতে বিস্ময়ের কিছু নেই, এর মধ্যে তাদের আশাভঙ্গেরও কিছু নেই। উপরন্তু তারা এসব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং অঙ্গীকারের চরিত্র সঠিকভাবে উপলব্ধির কারণে এর যে পরিণতি বিষয়ে তারা নিশ্চিত ছিলেন সেটাই হয়েছে। আগের সরকারগুলোর মতো বাংলাদেশের শোষক-নির্যাতক-শাসক শ্রেণীর পূর্ববর্তী দলগুলোর ঐতিহ্য অনুসরণ করে অন্য অনেক কিছুর মতো পুলিশ ও র‌্যাবের ক্রসফায়ার হত্যাকাণ্ড আগের মতোই, এমনকি তার থেকেও ব্যাপকভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নতুন সরকারের আমলে ক্রসফায়ারে হত্যাকাণ্ড চলতে থাকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হলে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রসফায়ার বন্ধের অঙ্গীকার সত্ত্বেও এটি তাড়াতাড়ি বন্ধ করা সম্ভব নয়, কারণ এ দেশে ক্রসফায়ারের ঐতিহ্য খুব শক্তিশালী। এই ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করে রাতারাতি ক্রসফায়ার বন্ধ করা সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছিলেন, ক্রসফায়ার হচ্ছে তবে তা নিষ্প্রয়োজনে হচ্ছে না। অর্থাৎ ক্রসফায়ারের প্রয়োজন আছে! তিনি অবশ্য একথা খুলে বলেননি যে, পূর্ববর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ও সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত পরবর্তী সরকার যে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করত, সেই একই প্রয়োজনে তাদের আওয়ামী লীগ সরকারও ক্রসফায়ার চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে উল্লেখ করা দরকার, নির্বাচনের পর ‘চমক’ সৃষ্টির চেষ্টায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী যেসব নতুন মুখ মন্ত্রিপরিষদে আমদানি করে তাদের ‘দিনবদলের’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন, উপরোক্ত দুই মন্ত্রীই হলেন সেই নতুন মুখদের অন্যতম!

প্রত্যেক ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রেই বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে এবং সেই যুদ্ধে সন্ত্রাসী ও চরমপন্থিদের নেতা নামে কথিত লোকরাই নিহত হচ্ছে, অন্যরা পালিয়ে যাচ্ছে! রেব আর পুলিশের কয়েকজন আহত হচ্ছ। যারা এভাবে নিহত হচ্ছে তাদের অনেককেই আগে ঢাকা অথবা অন্য কোথাও গ্রেফতার করে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মোফাখখার চৌধুরী ও ডাক্তার মিজানুর রহমান টুকুকেও এভাবে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছিল।
একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, র‌্যাব ও পুলিশ যে ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে সেগুলোর বিপুল অধিকাংশই গ্রামাঞ্চলে কোনো না কোনো রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের বামপন্থি, কমিউনিস্ট ইত্যাদি নামে অভিহিত করে থাকেন। সরকারি হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এ দলগুলোর উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মীদের প্রায় সবাইকেই ইতিমধ্যে একের পর এক সরকারের আমলে খতম করা হয়েছে।

এখন যে নতুন খেলা চলছে তা হলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রিমিনাল সন্ত্রাসী, খুন-জখম করা লোক, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ এবং সরকারের ক্ষমতাশালী ‘গডফাদার’ নামক ক্রিমিনালদের সঙ্গে সম্পর্কিত লোকজন হত্যা। এদের ক্রসফায়ার করে এখন চক্রান্তমূলকভাবে রাজনৈতিক চরিত্র প্রদান করা হচ্ছে।
কিছু বিভ্রান্ত বামপন্থি নেতাকর্মী সন্ত্রাসের আশ্রয় নিতে পারেন, কিন্তু তারা সরকারের টাউট ও গডফাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ইত্যাদি করবেন, এটি মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। আসলে এসব কাজ যারা করছে তারা সরকারি নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা প্রকার সন্ত্রাসী ক্রিমিনাল। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে র‌্যাব ও পুলিশ কর্তৃক ক্রসফায়ারের গল্প তৈরি হচ্ছে তাতে হত্যাকাণ্ডের নাম হচ্ছে ‘ক্রসফায়ার’ এবং এই ক্রিমিনাল সন্ত্রাসীদের নাম হচ্ছে ‘চরমপন্থি’। এভাবে এদের চরমপন্থি নামকরণ করে আওয়ামী লীগ দল ও সরকারের লোকজনের সঙ্গে সম্পর্কিত লোকদের আসল পরিচয় আড়াল করার জন্যই তাদের ‘চরমপন্থি’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

এই অবস্থায় আমাদের কিছু মানবতাবাদী সংগঠন যাদেরকে মানবতাবাদের সোল এজেন্টও বলা যেতে পারে, কেননা এরা এদের “মানবতা” শ্রেণীভেদে ভাগ ভাগ করেই দেখাতে সচেষ্ট হন। এরা কিছুদিন নমঃ নমঃ করে মাখো মাখো মোলায়েম কথায় এই হত্যাকান্ডের “মৃদু সমালোচনা” করেন বটে, তবে যখনই সরকার আর এক প্রস্থ বানোয়াট বিবৃতি দেয় তখন আর এদের সাড়াশব্দ মেলে না! এরাই বা কি করবে? সাম্রাজ্যবাদী নীলনক্সা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে সব সরকারই সেই সাম্রাজ্যবাদেরই দাসত্ব করে যাচ্ছে। দেশের তামাম জনগণকে “সল্পবুদ্ধি”বা তিমির হা ভেবে যা খুশি ছাই পাশ গিলিয়ে দিচ্ছে! আর সাম্রাজ্যবাদের লোকাল এজেন্ট কর্পোরেট কারবারীরা শনৈ শনৈ সরকারের এসকল কর্মকান্ডকে বাহবা দিয়ে যাচ্ছে। এগুলো যদি ফ্যাসিস্ট আচরণ না হয় তাহলে কাকে ফ্যাসিস্ট আচরণ বলে আমাদের জানা নেই। নরমাল ফ্যাসিজমের সাথে “নিরঙ্কুশ” শব্দটা যোগ হওয়ায় কি ফ্যাসিজম এখন নতুন এক আগ্রাসী মাত্রা পেয়েছে?

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী ;
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রবন্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:০৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর…

এডিট করুন | ড্রাফট করুন | মুছে ফেলুন

৬৪৯ বার পঠিত৪৫৩১৩

মন্তব্য দেখা না গেলে – CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্সক্রোমঅপেরাইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

৫৩টি মন্তব্য

১-২৮

১. ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩০০

দেশী পোলা বলেছেন: আমি তো আগেই কইলাম, ফ্যাসিজম জিন্দাবাদ, বামপন্থীরা এড়াইয়া গেলে কি হবে, ফ্যাসিজম বামপন্থীদের ছাড়বে না

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০১০

লেখক বলেছেন:

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আর ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে নিশ্চিন্তে থাকার জন্য সাম্রাজ্যবাদের গোলাম হলে বাই ডিফল্ট ফ্যাসিজম আবির্ভূত হয়। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

 

৩. ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৭০

অ্যামাটার বলেছেন: অনেক গুলো অবজেক্ট কাজ করছে,

খালি চোখে ‘মানবাধিকারের’ লঙ্ঘন মনে হতেই পারে, তবে…

প্রথমত, আমাদের সামাজিক অবস্থা অতটা স্থিতিশীল না, যে আইন থাকলেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে, লোকজন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না, সুতরাং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হলে কঠোর অবস্থানে যেতেই হবে।

বিগত বিএনপি-জামাত জোট একটা গুরুতর ভুল করেছিল, সেটা হচ্ছে দেশে জঙ্গিবাদ নাই বলে প্রকারান্তে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দিয়েছিল, ফলস্রুতিতে ভেতরে ভেতরে এরা এতটাই শক্তি অর্জন করেছিল, যে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার পর সকলের ঘুম ভাঙ্গে। বর্তমান সরকার চরমপন্থীদের সে’ভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেওয়াই অবশ্যই সাধুবাদ পাবার যোগ্য।

আর একটা বিষয় সচেতনভাবেই মনেহয় এড়িয়ে যাচ্ছেন, সেটা হল গত কিছুদিন চরমপন্থীরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। টেন্ডারবাজিতে শো-ডাউন করার জন্য প্রতিপক্ষের মাথা কেটে সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসগুলোতে ফেলে যাচ্ছিল, এ’দের সাথে কি আপোষ করতে বলেন?!

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৮০

লেখক বলেছেন:

টেন্ডাবাজী কারা করছে সেটা দিবালোকের মত পরিষ্কার। সেই টেন্ডারবাজদের একটিকেও “ক্রসফায়ারে” মারা হয়েছে ? দেখাতে পারেন? তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী অভিমান করে ছাত্রলীগ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করেছেন!

কয়েকদিন আগে তারাব/ভুলতা এলাকায় ৮/৯ জন রেব সদস্যকে গ্রামবাসী কেন সারারাত ঘেরাও করে রেখেছিল, সেই খবরটা পড়েছিলেন কি?

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে বলেছিলেন- “আমরা ক্ষমতায় গিয়ে রেব কে দিয়ে দুর্নীতি দমন করব”। গত নয় মাসে তেমন কোন আলামত কি দেখেছেন?

৪. ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫১০

নাজিম উদদীন বলেছেন: যে যায় লন্কায় …….

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩১০

লেখক বলেছেন: ……সেই হয় প্রধানমন্ত্রী!

৫. ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২২০

ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: লেখক বলেছেন: প্রত্যেক ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রেই বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে এবং সেই যুদ্ধে সন্ত্রাসী ও চরমপন্থিদের নেতা নামে কথিত লোকরাই নিহত হচ্ছে, অন্যরা পালিয়ে যাচ্ছে! রেব আর পুলিশের কয়েকজন আহত হচ্ছ। যারা এভাবে নিহত হচ্ছে তাদের অনেককেই আগে ঢাকা অথবা অন্য কোথাও গ্রেফতার করে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সময় হইছে পুলিশ বাহিনীতে কিছু গল্পকার নিয়োগ দেয়ার। এক গল্প আর কতো শুনাবে? পুলিশ বাহিনীর ফারজানা শাকিলের থেইকা সাহিত্যিকের বেশি প্রয়োজন।

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৯০

লেখক বলেছেন:

কসমেটিক কোম্পানীগুলো একই সাবান তিন যুগ ধরে বিক্রি করে। সাবান তো আর শ্যাম্পু হয়ে যায় না, তাই মাঝে মাঝেই “আরো এ্যাক্টিভ” “নতুন মোড়কে”, “অমুক সমৃদ্ধ”, “ভিন্ন ভিন্ন সাইজে” বলে চালাতে হয়। এরা সেটাও অনুসরণ করে না! তাই ঘুরে ফিরে সেই পুরোনো ডিস্কই ঘুরে চলে…..

৬. ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৪০

জাতি জানতে চায় বলেছেন: ফ্যাসিস্টরা স্ববিরোধীতা নিয়া কখনই চিন্তা করে সময় নষ্ট করে না!! রাজনীতি আর ক্ষমতার জন্য যখন যেটা প্রয়োজন সেটা তারা করবেই, সেটা এমনকি রাতের আঁধারে ধর্মীয় দলের সাথে চুক্তি বা রাজাকারদের মন্ত্রীর অফারই হোক না কেন!!! ফ্যাসিজমে আলীগ বরাবরই সেরা!

তয় শুধুমাত্র ক্রসফায়ারের উপর নির্ভর কইরা অন্যান্য দূর্ণীতি চালায়া গেলে, র‌্যাবও একসময় অকার্যকর হয়ে পড়বে!! মানবাধিকার সংগঠন বইলা কিছু নাই, এদের কে দিয়াই বহিঃশক্তি আমগো রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করে!! আর আলীগের মূলা রাজনীতি থেকে মূলা ছাড়া আর কিছু আশা করার নাই!!

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৯০

লেখক বলেছেন:

এখানে একটি দল, তা সে আওয়ামী লীগ না বিএনপি, নাকি জাতীয় পার্টি, সেটি বিবেচ্য নয়। মূল কথা হলো ক্লাস। শ্রেণী। এরা সকলেই একই শ্রেণীভুক্ত মানুষ। এদের উপরিকাঠামোহত চরিত্র যাই হোক না কেন, অভ্যন্তরীণ চরিত্রগুলো একই। এরা নিজেরা কখনোই স্বশাসিত নয়। আর তাই শাসন ব্যাপারটা হাড়েমজ্জায় বুঝিয়ে দিতে যতরকম কুপদ্ধতি আছে সবই এ্যাপ্লাই করে।

৭. ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:২৯০

এস বাসার বলেছেন: লেখক@এখন যে নতুন খেলা চলছে তা হলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রিমিনাল সন্ত্রাসী, খুন-জখম করা লোক, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ এবং সরকারের ক্ষমতাশালী ‘গডফাদার’ নামক ক্রিমিনালদের সঙ্গে সম্পর্কিত লোকজন হত্যা…..

ভাই দেশে চাদাবাজ, ক্রিমিনাল সন্ত্রাসী, খুনী এদের বিচার হয়না, সুতরাং………..ক্রস খারাপ না, রাস্তাঘাটে সাধারন মানুষ কিন্তু এটাকে সমর্থন দিচ্ছে।

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৩০

লেখক বলেছেন:

তাহলে তো যারা এই খুনি, সন্ত্রাসীদের বিচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, বিচার না করে “ক্রসফায়ার”কে “জায়েজ” করে তাদেরই আগে “ক্রসফায়ারে” দেওয়া উচিৎ! কি বলেন?

৮. ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০২০

অরণ্যচারী বলেছেন: যে যায় লঙ্কায় সেই হয় প্রধানমন্ত্রী।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৫০

লেখক বলেছেন: অথবা প্রধান উপদেষ্টা!

৯. ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১৫০

কঁাকন বলেছেন: যে যায় লংকায় সেই হয় রাবন

@ ভানঘআ পেন্সিল

যে গল্প শোনায় ঐটাও হিন্দি সিনেমা ক্রান্তি থিকা ধার করা

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৭০

লেখক বলেছেন: কাঁকনের দেখি ভালই মনে আছে! সময় করে এবার নানা’র কিছু ডায়লগ বলে ফেলুন। জোশ হবে!!

১০. ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:২২০

বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: লেখক বলেছেন:

এখানে একটি দল, তা সে আওয়ামী লীগ না বিএনপি, নাকি জাতীয় পার্টি, সেটি বিবেচ্য নয়। মূল কথা হলো ক্লাস। শ্রেণী……..

======================

বামপন্হী প্রায় ১ ডজন মন্ত্রী এমপি এখন ক্ষমতাসীন দলের ফেন-কুড়া চাটতেছে, কই হেরাতো টু শব্দটাও করতাছে না…….??

কিসের ক্লাস, শ্রেণী……..???

আর কত ভাওতাবাজী করবেন, ক্লাস আর শ্রেনী শত্রুর নামে……???????????

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৬০

লেখক বলেছেন:

আপনি এমনিতেই “রণে ক্লান্ত” তাই আরো ক্লান্ত না করি… আপনার আপার চেম্বারে গ্রেম্যাটার যথাযথ পরিমানে থাকলে “ভাওতাবাজী” শব্দটা ব্যবহার করতেন না। আমি সরকারের কেউ নই যে ভাওতাবাজী করে আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুন্ন করব!

ক্লাসের কথায় বলা হয়েছে আ.লীগ এর যায়গায় বিএনপি/জামাত থাকলেও ব্যাপারটা এমনই হতো। না বোঝা দোষের কিছু নয়, উল্টো বোঝা বিপজ্জনক।

১১. ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩৯০

শ* বলেছেন: টিভি চ্যানেল গুলোয় ইদানিংকালে ফেইক চরমপন্থিদের সাক্ষাতকারগুলি দেখেছেন ? এমন হাসি পায় । রিপোর্টাররা কি ভাবে সবাইকে ??

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১২০

লেখক বলেছেন:

হাসির কি আছে? উল্টো দেশের উল্টো রাজার বরকন্দাজ হিসেবে এই সকল সুমহান দৃশ্যাদি আমাদিগকে অবলোকন করিয়া যাইতে হইবে…………

১২. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৪০

চানমেয়া বলেছেন: ঠিক।

দাড়ায়া থাকনডা ঠিক না।

তয় ভারসাম্য রাখলে মন্দ হৈত না। অপরাধী কতটা ভয়ানক তা বুঝতাম যুদি ফলাফলে এট্টা ভারসাম্য মতন থাকত।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১০০

লেখক বলেছেন:

এইখানে আসিয়া গল্পকার বেকায়দায় পড়িয়াছেন! গত পাঁচটি বছর ধরিয়া কোন একজন নিজ সদস্যকে হাসপাতালে লইতে পারে নাই! কোন একজনের গুলি খাওয়া চেহারা মুবারক দূরদর্শনে প্রদর্শন করিতে পারেনাই! উহাদের রেকর্ডখানি বোধ হয় বদলাইয়া দেবার সময় আসিয়াছে!!!

১৩. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩২০

বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: লেখক বলেছেন:

ক্লাসের কথায় বলা হয়েছে আ.লীগ এর যায়গায় বিএনপি/জামাত থাকলেও ব্যাপারটা এমনই হতো। না বোঝা দোষের কিছু নয়, উল্টো বোঝা বিপজ্জনক

==========

আসল কথাটা পাশ কাটাইলেন:

বামপন্হী প্রায় ১ ডজন মন্ত্রী এমপি এখন ক্ষমতাসীন দলের ফেন-কুড়া চাটতেছে, কই হেরাতো টু শব্দটাও করতাছে না…….??

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৬০

লেখক বলেছেন:

পাশ কাটানোর কিছু নেই। যে এক ডজন মন্ত্রীকে আপনি বামপন্থী বলছেন, তারা হয়ত বামপন্থী, কিন্তু কমিউনিস্ট নয়, ক্ষমতার লোভে চরিত্র বিসর্জনকারী। যাদের “ক্রসফায়ারে” মারা হচ্ছে তাদের অনেকও কমিউনিস্ট নয়। যদি ওই এক ডজন মন্ত্রী কমিউনিস্টই হতো তাহলে আর যাই হোক একবার বিএনপি, একবার আ,লীগ করত না। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হলে জামাতের সাথে নিকাহ বসত না। জামাতের হায়া-লজ্জা থাকলে মুক্তিযোদ্ধা জিয়ার দলে ঘোমটা খুলে খ্যামটা নাচতে আসত না। আ. লীগ সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হলে ব্লাসফেমি চালু করতে চাওয়া খেলাফতের সাথে পিরিত করতে যেত না। আর…………………

আপনার মত মানুষদের নিকট আত্মিয় “ক্রসফায়ারে” মারা গেলে এই সব প্যাচাল পাড়তেন না।

কিছুটা কি ক্লিয়ার করতে পারলাম ?

১৪. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৩০

ম* বলেছেন: “কিছু গড়বুদ্ধির মানুষ এতে বিস্মিত হলেও রাজনৈতিকভাবে সচেতন লোকদের জন্য এতে বিস্ময়ের কিছু নেই, এর মধ্যে তাদের আশাভঙ্গেরও কিছু নেই। উপরন্তু তারা এসব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং অঙ্গীকারের চরিত্র সঠিকভাবে উপলব্ধির কারণে এর যে পরিণতি বিষয়ে তারা নিশ্চিত ছিলেন সেটাই হয়েছে।”

    • প্রশ্নত্তোরের এক পোস্টে কমেন্ট করেছিলাম “রাষ্ট্র কখনোই সভ্য হতে পারেনা যদি না তার নাগরিকগুলো সভ্য হতে পারে” আমরা সভ্য হইনি এখনো … এবং অনেক দেরি আছে । নিশ্চিত জেনেও আমরা তাই করছি যা আমাদের করা উচিত নয় … হয়তো বিকল্প’টা এখন’ও তৈরি হয়নি … ক্যানো হয় নি … আমরাই হতে দিচ্ছিনা … বা আমরা বিকল্পটা স্বউদ্দোগে তৈরি করছিনা …

“চলছে চলুক” … “নিয়তি ধরে নিচ্ছি” … এভাবে হয় না ।

“নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আর ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে নিশ্চিন্তে থাকার জন্য সাম্রাজ্যবাদের গোলাম হলে বাই ডিফল্ট ফ্যাসিজম আবির্ভূত হয়। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।”

    • স্যালুট টু দিস কমেন্ট …

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৮০

লেখক বলেছেন: এতরাতে আর লিখতে ভাল লাগছে না। কাল তোমার এই কমেন্টের বিষয়ে বিস্তারিত লিখব।

১৫. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৭০

বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: লেখক:

আপনার মত মানুষদের নিকট আত্মিয় “ক্রসফায়ারে” মারা গেলে এই সব প্যাচাল পাড়তেন না।

============

ব্যাক্তিগত ভাবে এটার কত বড় ঘোর বিরোধী আমি সেটা বলে বুজানো যাবে না আপনাকে| ভাবছি একটা পোষ্ট দিব|

আমার বক্তব্য: কি বাম, কি কম্যুনিষ্ট সব গুলা বড় দুই দলের উচ্ছিষ্ট ভোগের কা;গাল|

না হলে ক্রশ ফায়ার বন্ধে কার্যকর কোন আন্দোলনতো দেখি না!

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৫৩০

লেখক বলেছেন:

সেটা হলে তো ভাল হয়। পোস্ট দিন।

যখন দেখি এক একটি হত্যাকান্ডের পর মানুষ মিষ্টি বিলায়, আনন্দমিছিল করে, খোঁড়া যুক্তিটুক্তি দিয়ে সমর্থনের সাফাই গায়, তখন মনে হয় এই মানুষদেরকেই কি আবেগপ্রবণ বাঙ্গালী বলে? এই মানুষরাই কি প্যালেস্টাইনের মুসলিম ভাইদের রক্তক্ষরণে ব্যথিত হয়?!

অবাক লাগে। হিসেব মেলে না।

১৬. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:১৩০

অপ্‌সরা বলেছেন: ভাইয়া ভাঙা পেন্সিলকে পুলিশে যোগ দিতে বলো। তারপর ও গল্প লিখবে ওদেরকে নিয়ে।

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৪০

লেখক বলেছেন:

পুলিশ কোন ভাল গল্পকার নেবে না! ওদের দরকার বস্তাপচা গল্পকার। অতএব ভাঙ্গা পেন্সিলের চাকরি হলো না!!

১৭. ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫২০

মনজুরুল হক বলেছেন:

মহাজোট সরকার নতুন করে ক্ষমতা নিয়ে কি করবে সেই অনিশ্চয়তায় প্রথম মাসে “বন্দুকযুদ্ধের” সংখ্যা একটু কম ছিল, যেই স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং হাইকমান্ড থেকে গ্রীণ সিগনাল মিলে গেল ওমনি বিপুল বিক্রমে আবার চালু হয়েছে বুর্জোয়ার অক্ষমতার পাপমোচন-ক্রসফায়ার!!

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৮০

লেখক বলেছেন: প্রতি দিনই দু’চার জন করে হত্যা হচ্ছে! সংখ্যাটার বোধ হয় কোন একটা মাজেজা কিছু আছে….

১৮. ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৩০

প্রশ্নোত্তর বলেছেন: ক্রসফায়ার ধাঁচের আইনি কর্তৃপক্ষের হাতে নাগরিক হত্যার একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে একে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলা। লক্ষ্য করুন, সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। এই সন্ত্রাসীরা কোত্থেকে আসছে? রাজনৈতিক দলগুলো থেকেই। দেশের বৃহৎ দু’টো রাজনৈতিক দল দেশের কমপক্ষে ৯০% সন্ত্রাসীর আশ্রয়স্থল! এরাই লালন-পালন করছে এই ধ্বংসাত্মক কালচার।

দেখুন এ পোস্টে অনেকের সুরই এক – সন্ত্রাসীর হাত থেকে বাঁচতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কাছে আশ্রয় চাইছে। অথচ ভেবে দেখছে না, এ-ও আরেক রূপে সন্ত্রাসই।

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪২০

লেখক বলেছেন:

নারায়নগঞ্জের ডেভিড আপনার এই কথার জলজ্যান্ত উদাহরণ!

প্রথমেই এই সিলেক্টিভ কিলিংয়ের বিরোধীতা করা উচিৎ ছিল বিচারপতিদের, কারণ তারাই এদেশের বোনাফাইড কেয়ারটেকার অব কন্সটিটিউশন। অথচ তারা নিঃশ্চুপ! আপনার মন্তব্য পুরোটাই যথাযথ। তার পরও এটুকু যোগ করি…

এই ঠান্ডামাথার হত্যাকান্ডের পেছনে আরো একটা পরিকল্পনা আছে, মানুষকে ভয় দেওয়া। প্রচন্ড ভয়ে যেন মানুষ কুঁকড়ে থাকে। মানুষ যেন বোঝে-কোন কিছুই আইন এবং নিয়মের ভেতর হবে না! সুতরাং সে ধরা পড়া মানেই এই নয় যে যাবজ্জীবন কারা ভোগ করে হলেও বেরুতে পারবে। সে ধরা পড়া মানেই স্রেফ প্রতিকারহীন মৃত্যু। এবং এমন মৃত্যু যা নিয়ে কোন শোক সভা হবে না। যা নিয়ে অ্যাকুজ হবে না। যা নিয়ে কোথাও অভিযোগ করা যাবে না! এই কয়েকটি বিষয় যার মাথায় থাকবে তার কাছে ওই কালো পোশাকধারীরা নিঃসন্দেহে “পয়গম্বরের” সাথে তুল্য হবেন।

একটু খতিয়ে দেখলেই দেখা যাবে ম্যাস কিলিং সত্যিকার অর্থে সামাজিক সন্ত্রাস কমাতে পারেনি। পারবেও না। ভারতেও পারেনি। ফিলিপাইনেও পারেনি। এফবিআইও পারেনি। এর জন্য টোটাল সোসাইটিকে সেক্রিফাইস করতে হয়!

আমাদের দেশে এখন ত্যাগ বা স্যাকরিফাইস বলতে বোঝায় মল ত্যাগ আর মুত্র ত্যাগ!!

১৯. ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২২০

প্রশ্নোত্তর বলেছেন: এর নাম ‘শক ডক্ট্রিন’। আর্জেন্টিনা, চিলি, ইন্দোনেশিয়াসহ আরো অনেক দেশে এর সফল প্রয়োগ হয়েছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনেক ক্ষেত্রেই শক ডক্ট্রিন যাদুর মত কাজ করেছে।

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৬০

লেখক বলেছেন:

এই বিষয়ে আমার একমাত্র বইতে একটা প্রবন্ধ আছে…”শকুমেন্টারী শকোথেরাপী এবং কর্পোরেট ডেমোক্রাসি” নামে।

হিউম্যান বিঙকে ধরে ধরে শক্ দেওয়াই এখনকার নিওডেমোক্রাসির নয়া ফ্যালাসী!

২০. ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৭০

শ*  বলেছেন: তার মানে সরকারের আরও অন্য ধরনের ব্যপক প্ল্যান আছে?? @ লেখক এবং প্রশ্নোত্তর

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১২০

লেখক বলেছেন:

সরকারের ভুল আর পাব্লিকের ভুলের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য আছে।

২১. ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৯০

প্রশ্নোত্তর বলেছেন: একে ঠিক সরকারের পরিকল্পনা বলাটা মনে হয় ভুল হবে। এটি ‘রাষ্ট্র ব্যবস্থার’ টিকে থাকার এবং ডমিনেশন বজায় রাখার একটি বিশেষায়িত কৌশল। একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন, স্বাধীনতা উত্তর সরকার থেকে শুরু করে মিলিটারি সরকার, কিংবা হালের বিএনপি-আওয়ামীলিগের মত তথাকথিত ‘জনপ্রতিনিধিত্বকারী’ সকল সরকারই নানা খোলসের আড়ালে ব্যপকভাবে এধরণের বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড পরিচালনা করেছে, রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে শত্রু নিধন করেছে।

গত কয়েক দশকে এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ধরণ-ধারণ-চেহারা পরিবর্তিত হয়েছে। একসময় মানুষ রক্ষীবাহীনির কার্যকলাপ ঘৃনা করত। এখন র‌্যাবের কার্যকলাপ বেশি না হলেও বেশ অনেক মানুষই সমর্থন করে। ঘটনার আড়ালে থেকে যাচ্ছে মূল বেনিফিশিয়ারীরা। মানুষকে কখনও বোঝানো হয়েছে এটি স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দরকার, কখনও বা সন্ত্রাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে দরকার। প্রসঙ্গতঃ একই প্রক্রিয়ায় আমেরিকায় এসেছে হৌমল্যন্ড সিকিউরিটি আইন।

কোথাও কিন্তু নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেনি। এই পরিকল্পনা যাদের তারাই মোটা দাগে ঠিক করে দেয় কখন কোথায় কে সরকারি গদির মালিক হবে।

২২. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪১০

মনজুরুল হক বলেছেন:

হ্যাঁ স্টাবলিশমেন্টই ঠিক করে দেয়। স্টাবলিশমেন্ট কোন নিদৃষ্ট গন্ডি ধরে চলেনা। রুলিং ক্লাসের এক একটি পার্ট একে ডোমিনেট করে মাত্র। রাষ্ট্র সর্বদাই খুনি। অর্থাৎ রাষ্ট্র চালায় যে শ্রেণী তারা সর্বদাই খুনি। কখনো নিজের শ্রেণীকে কখনো বিরুদ্ধমতাবলম্বিকে খুন করে। আর সকল খুনই লেবাসিত হয় “জননিরাপত্তা” মোড়কে।

ইন্টারেস্ট টু সোসাইটি!!!

২৩. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫৬০

প্রশ্নোত্তর বলেছেন: বর্তমান পরিস্থিতিতে র‌্যাবের কার্যক্রমকে কেন দেশের মোস্ট ওয়ান্টেড কিলারদের মত করে দেখা হবে সেটাই আপাতত মানুষকে বোঝানো দরকার। এক্স ওয়াই যেড সন্ত্রাসী যেভাবে যে কোন সময় এসে যে কাউকে হত্যা করছে, র‌্যাবও তা-ই করছে। এবং সেটা করছে সরকারীভাবে!!!

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০২০

লেখক বলেছেন:

এই সরল কথাটিই হাঁদারামরা বুঝতে চাচ্ছেনা। যে পুলিশের কর্মকান্ড নিয়ে খোদ পুলিশের বড়কর্তারা রিটায়ামেন্টের পরপরই কলাম-টলাম লিখে সাধু সাজেন, পুলিশের নিন্দা করেন, সেই পুলিশের আধিক্য নিয়ে গড়া একটি বাহিনী নিখুঁতভাবে বেছে বেছে শুধুই “সন্ত্রাসী” মারছে!! তাও আবার এই বাংলাদেশে ? যেখানে সাদা মাইক্রোবাসে যখন-তখন যে কাউকে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা হয়! তা আবার কাগজে নিউজ হয়, এবং বেহায়ার মত তারা বলে “ওটা দু-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা”!!

২৪. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০০০

রিফাত হাসান বলেছেন: সম্প্রতি ক্রসফায়ার এবং সীমান্তে বিএসএফ এর খুনোখুনি নিয়ে কাজ করা সংগঠন অধিকার‘র কর্মকাণ্ডও এ সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। এ ব্যাপারটি কি খেয়াল করেছেন?

“নরমাল ফ্যাসিজমের সাথে “নিরঙ্কুশ” শব্দটা যোগ হওয়ায় কি ফ্যাসিজম এখন নতুন এক আগ্রাসী মাত্রা পেয়েছে?”..

ভাল প্রশ্ন। আমিও সে প্রশ্নটিই করেছিলাম

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১০০

লেখক বলেছেন:

এধরণের বুর্জোয়া স্টেটকে তাদের কায়েমিস্বার্থ টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই ম্যাস কিলিং বা সিলেক্টিভ কিলিং করতে হয়। নিরংকুশের বিপদ হলো বিরুদ্ধমত তো থাকেই না, উপরন্তু নিজ শ্রেণীরও যে একটা দ্বান্দ্বিক বিরুদ্ধ পক্ষ থাকে, তারাও শক্তিহীন হয়ে যায়। ফলত কোন ক্ষেত্রেই ক্ষোভ দেখানো ছাড়া আর কোন কার্যকর প্রতিবাদ হয়না। ঠিক এমনই এক সিস্টেমের জালে জড়িয়ে আছে বর্তমানের বাংলাদেশ।

আপনার পোস্টে একটু পরে মন্তব্য করব। দেখে এলাম শুধু।

২৫. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৪০

রিফাত হাসান বলেছেন: “নিরংকুশের বিপদ হলো বিরুদ্ধমত তো থাকেই না, উপরন্তু নিজ শ্রেণীরও যে একটা দ্বান্দ্বিক বিরুদ্ধ পক্ষ থাকে, তারাও শক্তিহীন হয়ে যায়।”

সেটাই।

২৬. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২০০

শ* বলেছেন: রাস্ট্রযন্ত্রের কলকব্জাতে দেখি বিশাল ঘিরিঙি লুকানো আছে ।

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৬০

লেখক বলেছেন:

রাষ্ট্রযন্ত্র নিজেই একটা ঘিরিঙ্গি!

সম্রাট শাহজাহানকে স্বীয় কন্যার সাথে দৈহিক সম্পর্কের অভিযোগ তোলে তারই পুত্র অউরঙ্গজেব। বিষকন্যা দিয়ে নিজের আপন ভাইকে হত্যা করে সম্রাট হতে চাওয়ার সেই কালো অধ্যায় থেকে খুব কি এগিয়েছে বর্তমানের ক্ষমতাগ্রহণের রাজনীতি?

ম্যাসিভ কিলিংগুলো মডার্ণ ফর্মে হওয়া ছাড়া আর কোন মৌলিক পরিবর্তন আমি দেখি না।

২৭. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৩০

জাতি জানতে চায় বলেছেন: শুধু ক্লাস দিয়ে কি বুঝাইলেন ঠিক বুঝলাম না!! সমস্যাটা বরং কথিত ক্লাসের বাইরেই বেশি!! কারন ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ পাবলিক বুঝে না, ব্যাপারটা সেরকম মনে হয় না, পাবলিক শুধু চায় ব্যক্তিগত স্বার্থ সিদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তি!! ক্ষমতাসীনরা নিজেদের স্বার্থের পাশাপাশি বৃহৎ স্বার্থ বাদ দিয়ে পাবলিকের এই ক্ষুদ্র স্বার্থের দিকে খেয়াল রাখে!! এছাড়াও বিভিন্ন শক্তির পালিত লেখক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবি আছেন যাদের কাজই পাবলিককে বিভিন্ন রকম দ্বন্দে নিমজ্জিত করা!! এর জন্য রাজনীতি এখন পাবলিকের বিনোদন, এখানে কোন রাজনীতিবিদ বা দল কি ওয়াদা করল সেটা ধর্তব্যের বিষয় না, বিনোদনই মুখ্য!! তাই সরকার গুলোকে বিভিন্ন শ্রেণীর পাবলিকের (ধনী, গরীব, ঘুষখোর, সুবিধাবাদী, চোর, ডাকাত, সন্ত্রাসী) দিকে খেয়াল রেখে দূর্নীতি, সন্ত্রাসী লালন করার পাশাপাশি র‌্যাবের কার্যক্রমও বহাল রাখতে হয়!!!!! যে দেশের মানুষ যেরকম তাদের প্রাপ্তিও সেরকম!!!!

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫০০

লেখক বলেছেন: আপনি কি বললেন তা শুধু আপনিই বুঝলেন! আমার স্বল্পবোধে এলো না। স্যরি।

২৮. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৪০

প্রতিবাদী কন্ঠস্বর বলেছেন: +

১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৯০

লেখক বলেছেন:

আপনার নিক প্রফাইলের ছবিটা দেখলেই হারানো দিনের কথা মনে পড়ে যায়…কত শত শত বার ওভাবে হাত মুষ্ঠিবদ্ধ হয়েছে! কত শত শত বার গগনবিদারি শ্লোগানে আমরা প্রকম্পিত হয়েছি…
Top of Form

আপনার মন্তব্য লিখুন

কীবোর্ডঃ  বাংলা                                    ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয় ভার্চুয়াল   english

নাম

       

Bottom of Form

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s